মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় ফিরেই যুদ্ধ থামানোর ব্যবস্থা নেবেন। সেই লক্ষ্যে তিনি ইতোমধ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, এই আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সব ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপে এই সংকট নিরসনে সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, যুবরাজ যেকোনো শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবেন।
তবে রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো এই যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী নয়। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, জার্মানি ও ফ্রান্স ২০১৪-১৫ সালের মিনস্ক চুক্তি লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করেছে, যা ইউক্রেন সংকট নিরসনে ব্যর্থতার প্রমাণ। ব্রিটেন ২০২২ সালে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় যেতে নিরুৎসাহিত করেছিল বলে দাবি করেছে মস্কো।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে সামরিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধের কারণে এই তথ্য বিনিময় বন্ধ ছিল। জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়, তবে রাশিয়া এখনো এই পরিকল্পনা নিয়ে ‘গুরুতর প্রশ্ন’ রাখছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে রাশিয়া। এ যুদ্ধের কারণে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ও ইউরোপে জ্বালানি সংকটসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে শান্তি আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।


