খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে এবং ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।
আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৯৩তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
সংঘর্ষ ও তদন্ত কমিটি গঠন
গতকাল (১৮ ফেব্রুয়ারি) ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
এই ঘটনা তদন্তে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম. এম. এ. হাসেমকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গতকালের ঘটনায় জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এছাড়া, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হবে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
পাঁচ দফা দাবি
সংঘর্ষের পর রাতেই ক্যাম্পাসের মেডিকেল সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়—
1️⃣ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির সম্পৃক্ততা থাকলে আজীবন বহিষ্কার ও অধ্যাদেশ জারি
2️⃣ সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তি
3️⃣ ক্যাম্পাসের বাইরে সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন
4️⃣ আহতদের চিকিৎসার ব্যয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে
5️⃣ ব্যর্থতার দায় নিয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।


