বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 756

বিএসএমএমইউর হেমাটোলজি বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান সালাহউদ্দীন শাহ্

আগামী তিন বছরের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেমাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হয়েছেন অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন শাহ্। আগামী ১১ জুলাই (রোববার) থেকে অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন শাহ্ দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এবিএম আব্দুল হান্নানের স্বাক্ষরে মঙ্গলবার জারি হওয়া আদেশে এসব তথ্য জানানো হয়।

অধ্যাপক ডা. সালাহউদ্দীন শাহ্ ১৯৯১ সালে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপর তিনি হেমাটোলজি বিষয়ে উচ্চতর এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে এমসিপিএস এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিসিপি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশ হেমাটোলজির সাথে সম্পর্কিত অনেক বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: মো: সালাহ্উদ্দীন শাহ্ রাজশাহী বোর্ডের অধীনে চিরিরবন্দর পাইলট বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

২০০০ সালে কর্ম জীবনের শুরুতে তিনি তৎকালীন বগুড়া মেডিকেল কলেজে কিউরেটর প্যাথোলজী পদে নিযুক্ত হয়ে সরকারি চাকরি শুরু করেন। এরপর তিনি ২০০৫ সালে পিএসসির নিয়োগে ঢাকা মেডিকেল কলেজে সহকারি অধ্যাপক পদে নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে একই সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগ পেলে তিনি সরকরি চাকরি ছেড়ে বিএসএমএমইউতে হেমাটোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। ২০২০ সালের আগস্টে হেমাটোলজি বিভাগে অধ্যাপক পদে পদন্নোতি পান।

তিনি ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার চ্যাপেল হিল থেকে কোগুলেশন ডিজঅর্ডারের উপর ‘ইন্টারন্যাশনাল হিমোফিলিয়া ট্রেইনিং সেন্টার ফেলোশিপ’ সম্পন্ন করেন। তিনি বনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন এবং স্টেম সেলের ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন মেয়াদে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন যার মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভারত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বনম্যারোা ট্রান্সপ্লান্টেশন ও স্টেম সেলের উপর অস্ট্রেলিয়া থেকে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।

তিনি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আমেরিকান সোসাইটি অব হেমাটোলজি’ কর্তৃক ভিজিটর ট্রেইনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে ফ্লোসাইটোমেট্রি, হেমাটোপ্যাথোলজি, মলিকুলার মেথডোলজিস এবং ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রির উপর প্রশিক্ষণ নেন। তার দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন দেশে হেমাটোলজি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক কনফারেন্সগুলোতে অংশগ্রহণ করে উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।

তিনি সহকারি অধ্যাপক থাকা অবস্থায় নিজস্ব প্রচেষ্টায় এবং তৎকালীন বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচটিসি ক্লিনিক চালু করেন এবং তিনি এই ক্লিনিকের ডিরেক্টর হিসেবে পরিচালনা করছেন। যা এখন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার অর্ন্তভুক্ত হয়েছে এবং এখানে ওয়ার্ল্ড ব্লিডিং ডিজ্অর্ডার রেজিস্ট্রি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনটি তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগমের তত্ত্ববধানে এবং টিমের অন্যান্য সকলের আন্তরিক সহযোগিতায় তিনি সফলতার সাথে বনম্যারো প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেন।

অধ্যাপক ডা. মো. সালাহ্উদ্দীন শাহ্ বাংলাদেশের রক্তরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি হেমাটোলজি সোসাইটি অব বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেন এবং সফলতার সাথে সম্পন্ন করেন।

তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন আমেরিকার সোসাইটি অব হেমাটোলজি, বৃটিশ সোসাইটি ফর হেমাটোলজি, ইউরোপিয়ান হেমাটলজি অ্যাসোসিয়েশন, ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়া, থ্যালাসেমিয়া ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশনসহ অনেক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করে যাচ্ছেন।

অধ্যাপক ডা. মো. সালাহউদ্দীন শাহ্ পেশাগত জীবনে সফলতার পাশাপাশি তিনি রক্তরোগীদের জন্য অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থেকে রক্তরোগীদের স্বল্প খরচে অলাভজনকভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য কাজ করছেন। তিনি রোটারী ইন্টারন্যাশনাল, অলাভজনক ফাউন্ডেশন এবং কল্যাণ সমিতির সাথে যুক্ত হয়ে রোগী ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন প্রকার সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাটার্ড ওয়ান স্টপ হেমাটোলিজি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। সর্বোপরি এসএসএমএমই পূর্ণাঙ্গ বোনম্যারু ট্রান্সপ্লানটেশন চালুর ব্যাপারে তার দৃঢ় প্রত্যায় করেছেন।

৪৩তম বিসিএস প্রস্তুতি: ইংরেজির কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

বিসিএস স্বপ্নসারথিরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে অনেকেই কী পড়বেন কী ছাড়বেন এ নিয়ে সংশয়ে থাকেন। সংশয় ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। গুছানো প্রস্তুতির বিকল্প নেই।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অনেকেরই ইংরেজি ভীতি কাজ করে। আজ ইংরেজি বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নপত্র দেওয়া হলো।

14. HasnathKarim is not good – foreign policy.

a. in b. of

c. for d. at

15. He’s very jealous – his brother.

a. to b. by

c. of d. from

16. Be careful not to – your money.

a. lost b. lose

c. loose d. loss

17. Which one is incorrect?

a. Rizad is the largest city in Soudi Arabia.

b. Salam speaks neither English nor French.

c. I set my watch by the radio news.

d. He pointed the map on the wall.

18. This is an exception – the rule.

a. of b. to

c. in d. by

19. The statue is made – marble.

a. of b. from

c. by d. in

20. Jaman talks as if he – everything.

a. know b. knew

c. known d. knows

21. I’m anxious – her to do as little as possible.

a. about b. with

c. for d. by

22. Their house is opposite – ours.

a. for b. from c. by d. to

23. The jar was full – oil.

a. of b. with c. in d. up

24. Please remind me – that later.

a. with b. in c. of d. none

25. Would you please get rid – that filthy couch already?

a. in b. from c. of d. with

26. My sister is taller than – .

a. me b. my c. I d. myself

27. Choose the correct sentence:

a. A friend of him told us the news.

b. Shafiq was standing just besides me.

c. The Japanese have strange customs.

d. Don’t accuse him for lying without any evidence.

28. She remained indifferent – their proposal.

a. in b.for

c. by d. toward

29. Which one is incorrect?

a. He might come in the morning.

b. The book which I lost was new.

c. I bought an English book to read.

d. Is the room enough large for you?

30. Children depend – adults for food and shelter.

a. on b. from c. to d. with

31. The teacher spoke – bad habits.

a. about b. for c. to d. from

32. He also seemed to boast – his knowledge in boats.

a. for b. of c. about d. in to

33. I prefer milk – tea.

a. from b. to c. of d. by

34. Which one is correct?

a. Don’t approach to that house

b.They attacked against the enemy.

c. I wear my clothes in the morning.

d. You do not play the game as I do.

Answers : 14d, 15c, 16b, 17d, 18b, 19a, 20b, 21c, 22d, 23a, 24c, 25c, 26c, 27c, 28d, 29d, 30a, 31a,

32b, 33b, 34d.

মাস্কে ঢাকা পড়লো মোনালিসার হাসি!

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির আঁকা পোট্রেট মোনালিসা সম্ভবত বিশ্বের সবেচেয়ে আলোচিত চিত্রকর্ম।

পাঁচশ বছর আগে আঁকা এই পোট্রেটে মোনালিসার মুখে রয়েছে এক রহস্যময় হাসি। সেই রহস্যময় হাসির মানে আজও খুঁজে চলেছে মানুষ। তবে সম্প্রতি মোনালিসার সেই ভুবন ভুলানো রহস্যময় হাসি ঢাকা পড়েছে মাস্কের আড়ালে।

ভারতীয় এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার ব্যাপারে সচেতনতা তৈরি আর ভ্যাকসিন নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ভারতের নাগপুর পুলিশ মোনালিসার ছবিতে পরিয়ে দিয়েছেন মাস্ক।

একইসঙ্গে ছবির মোনালিসার হাতে দেওয়া হয়েছে করোনার ভ্যাকসিন।আরেকছবিতে মোনালিসার হাতে দেখা গেছে স্যানিটাইজার। ওইসব ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন তারা। শেয়ার করার পর তা ভাইরাল হয়।

এদিকে নাগপুর পুলিশের এই উদ্যোগের বেশ প্রশংসা করেছেন নেটিজেনরা। সচেতনতা ছাড়া কিছুতেই করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

পানির নিচে শহুরে সুবিধা নিয়ে বিশ্বের গভীরতম সুইমিংপুল!

সুইমিং পুলের নিচে যেন রয়েছে আস্ত একটা শহরের সুযোগ-সুবিধা। দানবীয় এক ঝিনুকের আদলে তৈরি ১৯৬ ফুট (৬০ মিটার) গভীর পুলের একবারে উপর থেকে শেষ তল পর্যন্ত আছে ১ কোটি ৪০ লাখ লিটার স্বচ্ছ পানি।

পুলে ডুব দিয়ে সাঁতারুরা এ ঘর থেকে ও ঘরে যেতে পারবেন। সুইমিং পুলের নিচে রয়েছে আধুনিক সব রকম ব্যবস্থা। রয়েছে বিলিয়ার্ড খেলার জায়গা, লাইব্রেরি, রেস্টুরেন্ট, কনফারেন্স কক্ষসহ বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা।

বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গভীর সুইমিং পুল ডিপ ডাইভ দুবাই এর কথা।৭ জুলাই এই সুইমিং পুলের উদ্বোধন করেন দুবাইয়ের রাজকুমার শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ এল মাকতুম। টুইটারে সেই সুইমিং পুলের ভিডিও শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘সমগ্র বিশ্বকে স্বাগত জানাতে ডিপ ডাইভ দুবাই অপেক্ষা করে আছে।’

দুবাইয়ের নাদ অল শেবা এলাকায় এই পুলটি তৈরি করা হয়েছে। তবে গতানুগতিক সুইমিং পুলের চেয়ে ডিপ ডাইভ কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা।

সুইমিং পুলের ভিতরে ৫৬টি ক্যামেরা রয়েছে। যেকোনো অ্যাঙ্গেল থেকে পুলের নিচের সব দৃশ্য ধরা পড়বে। রয়েছে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম।
পানির স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি ৬ ঘণ্টা পর পর সিলিসিয়াস আগ্নেয় পাথরের মাধ্যমে তা ফিল্টার করা হয় বলে ডিপ ডাইভের আয়োজকরা জানিয়েছেন। নাসা এই ফিল্টার প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

বিলাসবহুল এই সু্ইমিং পুল জুলাইয়ের শেষের দিকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ১০ বছরের বেশি বয়সিরা এই পুলে প্রবেশ করতে পারবেন।সাঁতারুদের সাহায্য করবেন আন্তর্জাতিক মানের ডাইভিং বিশেষজ্ঞদের একটি দল।

চলতি বছরের শেষে পুলের নিচে খুলে দেওয়া হবে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন দোকান। তবে এই পুলে ডুব দিতে গেলে পকেট কিন্তু বেশ ভারিই হতে হবে।

আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না: খন্দকার

সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।তিনি বলেন, গত ১২ বছর যারা ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে আছে, শুধু ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য তারা এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং স্বাধীনতার ৫০ বছরের ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে বিকৃত করে জনগণকে ও এই প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।

বুধবার বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ অভিযোগ করে বলেন, আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের তাদের ত্যাগ, তাদের সাহসিকতাকে আমরা বার বার শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই এবং তাদের সেই প্রেরণা নিয়ে আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর, স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে চাই- এটাই হোক আমাদের শপথ।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা যখন প্রকৃত ইতিহাসের কথা বলি তখন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসে। কারণ তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্ম জানে, যদি ৫০ বছরের স্বাধীনতার ইতিহাস জানে আওয়ামী লীগের এদেশে রাজনীতি করার কোনো ক্ষেত্র থাকবে না। আওয়ামী লীগের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। সেজন্য তারা মুক্তিযুদ্ধে ইতিহাসকে বিকৃত করছে।

তিনি বলেন, বিএনপি যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের ঘোষকের দল, মুক্তিযোদ্ধাদের দল, যেহেতু গণতন্ত্রের পক্ষে দল, যেহেতু আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা এদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন। সেজন্য বিএনপির এটা দায়িত্ব প্রকৃত ইতিহাসকে সামনে তুলে এনে নতুন ভবিষ্যত সৃষ্টি করার জন্য আজকের প্রজন্মকে পথ দেখানো।

জেডফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমানসহ এই বিগ্রেডের সব সেনা কর্মকর্তা, সৈনিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান খন্দকার মোশাররফ।

জেড ফোর্সের অন্যান্য সেনা কর্মকর্তা অলি আহমেদ, সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল হালিম, হুমায়ুন হাই, মইনুল হোসেন চৌধুরী, জিয়াউদ্দিন, সাফায়েত জামিল, আবু জাফর মো. আমিনুল হক, বজলুল গনি পাটোয়ারি, মাহবুবুর রহমান, হাফিজ উদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, শমসের মবিন চৌধুরী, মহসিন উদ্দিন আহমেদ, আশরাফুল আলম, আনোয়ার হোসেন, আকবর হোসেন, মহসিন উদ্দিন, এসআইএম নুরুন্নবী খান, খালিকুজ্জামান চৌধুরী, মোদাচ্ছের হোসেন খান, মাহবুবুল আলম, ওয়াকার হাসান প্রমুখের নামও স্মরণ করেন খন্দকার মোশাররফ।

তিনি ক্ষমতাসীন দলের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আজকে যারা ক্ষমতায় গায়ের জোরে আছেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছেন আরও ক্ষমতায় থাকার জন্য ইতিহাসকে বিকৃত করছেন। জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর বলছেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না বলেছেন। যদি তাই হয় এই জেড ফোর্সের কমান্ডার জিয়াউর রহমানের অধীনে যারা বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছিলেন, তারাও কি পাকিস্তানের চর ছিল কি না- তা এই সরকারকে জনগণের কাছে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে।

এই ব্যক্তিরাসহ জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্সে যারা সাহসিকতার সঙ্গে ভূমিকা রেখে দেশকে মুক্ত করেছেন এবং পরবর্তিকালে বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তারা কি কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। যদি তাই হয় তাহলে আমরা বলব, যারা আজকে জিয়া্উর রহমানকে মুক্তিযোদ্ধা মানতে রাজি নন, স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি নন, প্রথম রি-বোল্টকারী হিসেবে মানতে রাজি নন, জেড ফোর্সের কমান্ডার হিসেবে মানতে রাজি নন তারা এই সব মুক্তিযোদ্ধাদের অস্বীকার করছেন, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করছেন। এটা যতই চেষ্টা করা হোক না কেন ইতিহাস মেনে নেবে না। হয়ত সরকারে থেকে রচনা লেখা যায় কিন্তু ইতিহাস লেখা যাবে না।

বিএনপির স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী মুক্তিযোদ্ধাদের সন্মাননা কমিটির উদ্যোগে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্স গঠন উপলক্ষে এই আলোচনা হয়। ১৯৭১ সালের ৭ জুলাই মুক্তিবাহিনীর প্রথম সামরিক ব্রিগেড জেড ফোর্স গঠন করা হয়। এই পদাতিক ব্রিগেডের নেতৃত্বে দেন এক নাম্বার সেক্টার কমান্ডার জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। জিয়াকে ব্রিগেড কমান্ডারের দায়িত্ব প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে তাকে লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ১১ সেক্টরেরও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জেড ফোর্সের অন্যতম সেনা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, জিয়াউর রহমানকে আমরা সবাই একজন মহান রাষ্ট্রপতিরূপে জানি, তিনি যে কত কৌশলী সমরনায়ক ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সামরিক অঙ্গনে তিনি যে একজন তেজদীপ্ত একজন কমান্ডার ছিলেন। আজকে বিনা ভোটের এই সরকারের কারণে ক্রমাগতভাবে সেই ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি আমার কমান্ডার শহিদ জিয়াউর রহমানকে।

তিনি বলেন, জেড ফোর্স ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম ব্রিগেড। কিন্তু এটি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড। অন্য দুইটি যে ব্রিগেড ছিল কে ফোর্স এবং এস ফোর্স সেখানে দুইটি করে পদাতিক ব্যাটেলিয়ন ছিল। কিন্তু জেড ফোর্সে তিনটি পদাতিক ব্যাটেলিয়ন ছিল। এই জেড ফোর্স ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তিশালী একটি ব্রিগেড যারা রণাঙ্গনে অনেক গৌরব দীপ্ত ভূমিকা রেখেছে। জেড ফোর্স স্বাধীনতা যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সাহসিকতা পদক অর্জন করেছে এই ফোর্স এবং আত্মদানে ও শহিদের সংখ্যাও সবচাইতে বেশি এই জেড ফোর্সে।

দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী মুক্তিযোদ্ধা সন্মাননা কমিটির আহ্বায়ক মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুস সালাম, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান প্র্রমুখ বক্তব্য দেন।

ভয়াবহ দুর্যোগও মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মনে রাখতে হবে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন একটি লোকও অনাহারে থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগকেও আমরা মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।

বৃহস্পতিবার সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত শহিদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে করোনাকালীন কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার মানবিক খাদ্য সহায়তা প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাহী কর্মকর্তা বশির আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে- জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক চৌধুরী রওশন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে সদর পৌরসভা ও সদর উপজেলার ৯টি সংগঠনের ৬৭৫ জন পরিবহণ শ্রমিক, অটোরিকশাচালক, নরসুন্দর, হোটেল শ্রমিক, ধোপা, হরিজন সম্প্রদায় এবং স্বর্ণ ও স্টুডিও কর্মচারীদের প্রতিজনকে নগদ ৫শ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার উপহারের আম পেয়ে আপ্লুত মমতা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো আম পেয়ে আপ্লুত হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার এক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শেখ হাসিনাকে পাঠানো চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘আপনার পাঠানো আম পেয়ে আমার খুব ভাল লেগেছে। ওই আমের মধ্যে আপনার যে স্নেহ এবং বাংলাদেশের যে সৌরভ মিশে আছে তাকে আমি সম্মান জানাই। আমি সত্যিই আপ্লুত।’

গত ৪ জুলাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ৬৫ মণ আম উপহার হিসেবে পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ২৬০ কার্টন আম বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।

সে সময় বেনাপোল নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতে নিযুক্ত কলকাতা কনস্যুলেটের প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) সানিউল কাদের উপহারের ২৬০০ কেজি (২৬০ কার্টন) আম গ্রহণ করেন।

উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিল ছাড়ের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু তহবিল ছাড় করতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ‘ভি২০ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফাইন্যান্স সামিট’ উদ্বোধন করে এই আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীরা ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে।

কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের জন্য প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার দিতে যে ঐকমত্য এসেছিল, তা ছাড় করার উপর আমরা নির্ভর করছি। একই সাথে ঢাকা-গ্লাসগো ঘোষণা অনুযায়ী কপ ২৬ ও সিভিএফের একটি যৌথ প্রকল্প নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় পাঁচটি প্রস্তাবও সম্মেলনে দেন শেখ হাসিনা।

এগুলো হলো, ১. বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বছরে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখতে প্রতিটি দেশেরই গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে লক্ষ্যমাত্রা আবশ্যিকভাবে নির্ধারণ।

২. সিভিএফ-ভি২০ দেশগুলোর সবুজ পুনরুদ্ধারে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো।

৩. তহবিল ছাড় ক্রমবর্ধমনভাবে বাড়ানো। উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল বরাদ্দ ও ছাড়ে একটি সহজ প্রক্রিয়া গ্রহণ।

৪. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ থেকে রক্ষায় সিভিএফ-ভি২০ রাষ্ট্রগুলোকে ধনী রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা বাড়ানো।

৫. ঝুঁকিতে থাকা সব দেশই ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’র মতো ‘জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে।

জলবায়ু ক্ষতি কাটানোর অর্থায়নে উদ্ভাবনী সমাধান খুঁজতে সম্মেলনে অংশ নেওয়া অর্থমন্ত্রী, উন্নয়ন সহযোগী, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সিভিএফ-ভি২০ভুক্ত ৪৮টি দেশে বৈশ্বিক দূষণের মাত্র ৫ শতাংশের জন্য দায়ী। কিন্তু তারাই এই মানবসৃষ্ট সঙ্কটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী।

কোভিড-১৯ মহামারীর এই সময়ে বিশ্বের সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়কে আমাদের জনগণের ঝুঁকি, আমাদের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রয়োজনীয়তা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও কোভিড ১৯ মহামারির প্রভাব মোকাবেলায় অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।

শেখ হাসিনা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং উন্নত দেশগুলোকে তাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন এবং নৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করা উচিৎ।

জলবায়ু ক্ষতি শিকার হওয়ার পরও তা মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া নানা উদ্যোগও সম্মেলনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

নতুন মায়েদের ৩ প্রশ্ন, সহজ সমাধান

নতুন মায়েদের খুব কমন প্রশ্ন, বুকের দুধ খেয়ে বাচ্চার পেট ভরছে কিনা বুঝব কীভাবে? এক্ষেত্রে আমরা মায়েদের কাউন্সেলিং করে থাকি। একজন মায়ের জমজ বাচ্চা থাকলেও ছয় মাস পর্যন্ত তাদের বুকের দুধই খাওয়াতে হবে এবং সে ক্ষমতা মায়ের থাকে। তাহলে একজন মা কীভাবে বুঝবে তার বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে কিনা?

এ ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নাঈমা সুলতানা। আসুন জেনে নিই বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসকের গুরুত্বপূর্ণ নানা পরামর্শ।

প্রথম কথা হলো, মা নিজেই খাওয়ানোর সময় এটি বুঝতে পারবেন। এরপরও দুধ টানার সময় বাচ্চা টিপটিপ হাসি দিলে বুঝতে হবে সে তৃপ্ত অর্থাৎ তার পেট ভরছে। দ্বিতীয় কথা হলো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটা বাচ্চা ৬-৮ বার প্রস্রাব করলে বুঝতে হবে সে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাচ্ছে। অবশ্য অতিরিক্ত গরমে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। গরমে বাচ্চাদের প্রস্রাব কম হয়। এর কারণ হলো, নিঃশ্বাস ও চামড়ার সাথে আমাদের শরীর থেকে কিছুটা পানি ও বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যায়। তীব্র গরমে বাচ্চা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রস্রাব কম করবে, এতে উদ্বেগের কিছু নেই। দিনে ৬-৮ বার প্রস্রাব করলে তাকে অন্য কোনো তোলা খাবার দেয়ার দরকার নেই। এমনকি এক ফোঁটা পানিও না। আমি আবারো বলছি, ছয় মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

বাচ্চা প্রস্রাব ঠিকঠাক করলেও ঘনঘন কান্না করছে। এতে নতুন মায়েদের মনে বাচ্চার ক্ষুধা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। এমন সন্দেহ হলে বাচ্চার ওজন তদারকি করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে একবার ডিজিটাল মেশিনে বাচ্চার ওজন মেপে রেকর্ড রাখতে হবে। একটি বাচ্চার প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪০ গ্রাম ওজন বাড়বে। এভাবে প্রতি সপ্তাহে ১৫০-২৫০ গ্রাম পর্যন্ত বাচ্চার ওজন বাড়ে, তাহলে বুঝতে হবে বাচ্চাটি পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের দুধ পাচ্ছে।

নতুন মায়েদের আরেকটি প্রশ্ন, তাদের বাচ্চা সারা দিনই ঘুমায় কেন? আমাদের বুঝতে হবে, একটা বাচ্চার দিনে ১৮ ঘণ্টা ঘুমানো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিছু কিছু বাচ্চা এর থেকেও বেশি ঘুমায়। নবজাতকরা ১৮ ঘণ্টা বা তার চেয়ে কমবেশি ঘুমালে চিন্তার কিছু নেই।

নতুন মায়েরা আরেকটি প্রশ্ন করেন, তাদের বাচ্চা বেশি বেশি পায়খানা করছে। এটি ক্ষতির কিনা? এক্ষেত্রে আমরা জিজ্ঞেস করে থাকি, দিনে বাচ্চা কতবার পায়খানা করছে? মায়েরা বলেন থাকেন, খাওয়ানোর কিছুক্ষণ পরই পায়খানা করে। এমন হলে কিছু বিষয় খেয়াল করতে হবে। তাহলো, বাচ্চা ঠিকঠাক হাসে কিনা, মায়ের দুধ টেনে খায় কিনা, দিনে ৬-৮ বার প্রস্রাব করে কিনা ইত্যাদি। এগুলো ঠিক আছে এবং শরীরে জ্বর না থাকলে বাচ্চার জন্য তা সাধারণ ব্যাপার। এক্ষেত্রে বাচ্চা দিনে ১৫-২০ বার পায়খানা করলেও তা তার জন্য স্বাভাবিক।

শুধু দুটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। তাহলো, বাচ্চার ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কি না এবং সে দিনে কতবার প্রস্রাব করছে? ওজন ও প্রস্রাব ঠিক থাকলে, বাচ্চা স্বাভাবিক খেলাধুলা করলে এবং অন্য কোনো উপসর্গ যদি না থাকে, তাহলে মা-বাবার দুশ্চিন্তার দরকার নেই। করোনা মহামারির মধ্যে বাচ্চাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে ছুটে আসার প্রয়োজন নেই।

সূত্র: ডক্টর টিভি

কোন মাথাব্যথা বিপজ্জনক, কী করবেন?

মাথাব্যথা একটি পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক সময় আমরা এটিকে গুরুত্ব দিই না। কিছু মাথাব্যথা জটিল রোগের উপসর্গ। গুরুত্ব না দিলে এটি মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) হিসাব মতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক বয়স্ক লোক বছরে একবার মাথা ব্যথা অনুভব করে। এ নিয়ে মাথা ব্যথার কোনো কারণ নেই। শতকরা ৯০ভাগের বেশি মাথাব্যথা (benign) জটিলতাহীন বা ক্ষতিকর নয়।

২০০এর বেশি ধরনের মাথাব্যথা আছে, যার বেশিরভাগই ক্ষতিকর নয়, কিন্তু কিছু কিছু মাথা ব্যথা আবার মারাত্মক ও জীবনের ঝুকিপূর্ণ।

কোন মাথাব্যথা বিপজ্জনক এবং এতে করণীয় কী সেই সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বরিশালের সাবেক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রবিউল ইসলাম।

International Headache Society মাথাব্যথাকে দুটি গ্রুপে ভাগ করেছেন।

Primary মাথাব্যথা ও Secondary মাথাব্যথা।

Primary Headache : সকল মাথাব্যথার শতকরা ৯০ ভাগই Primary মাথাব্যথা (Headache), যা সাধারণত জটিলতাহীন এবং বার বার হয়। অদ্যাবধি Primary মাথা ব্যথার কোনো কারণ জানা যায়নি,বা অন্য কোন রোগ বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গাঠনিক সমস্যার জন্য সৃষ্টি নয়।

Common Primary Headacheগুলি হলো- Tension type headache, Migraine, Cluster headache, Chronic

daily headache

অন্যান্য Primary Headache খুবই কম উপলব্ধি হয়, যেগুলো হলো-

Primary stabbing headache, Primary cough headache, Primary exertional headache, Primary sex

headache

Primaryheadache-এ প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য বিরক্তিকর মাথা ব্যথা হতে পারে, তবে এগুলো মারাত্মক নয়।

Secondary Headache : মাথা বা ঘাড়ের রোগের কারণে হয়। যেমন- সংক্রমণ (infection), মাথায় আঘাত পেলে (head

injury), মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা মস্তিষ্কের টিউমার ইত্যাদি।

কিছু Secondaryheadache আবার মারাত্মক নয়। যেমন- Medicine overuse headache বা cervicogenic headache.

Secondary Headache এর মারাত্মক কারণ গুলো হলো-

মস্তিষ্কের বাইরের পর্দার প্রদাহ (meningitis), মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (intracranial hemorrhage), মস্তিস্কের বাইরে রক্তক্ষরণ (Subarachnoid hemorrhage), মস্তিষ্কের টিউমার (Brain tumor), Temporal arteritis, Acute close angle

glaucoma (চোখের প্রেসার), Postictal headache (খিচুনি পরবর্তী মাথা ব্যাথা)।

কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ আছে যা দিয়ে আমরা এই মারাত্মক Secondary কারণগুলো ধারণা করি এবং দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করতে পারি। সে গুলোকে red flags বলে, যেমন-

* ৫০ বছরের পর নতুন করে মাথা ব্যথা

* হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা

* পূর্বের চেয়ে ঘন ঘন অধিকতর তীব্র মাথাব্যথা

* জ্বর, rash ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া

* HIV বা ক্যান্সার রোগীর নতুন করে মাথা ব্যথা

* হাঁচি বা কাশিতে মাথা ব্যথা

* হাত বা পা অচল হওয়া

* মাথায় আঘাতের পর তীব্র মাথা ব্যথা

common headacheগুলো নিয়ে আলোচনা করব।

Tension type headache : Tension headache সবচেয়ে বেশি কমন যা ২১শতাংশ লোকই উপলব্ধি করে।

আগে ধারণা করা হতো, এ ধরনের মাথাব্যথা মাংসপেশিতে tension-এর কারণে হয়। তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে ধারণা করা হয়, মাথা ও ঘাড়ের মাংসপেশির স্নায়ু কর্মতৎপর (activation) হয়ে ওঠার জন্য হয়।

প্রকৃত কারণ জানা না গেলেও কিছু উত্তেজক (trigger factor) এই মাথাব্যথার জন্য দায়ী, যেমন-

* মানসিক চাপ (stress)

* অনুপযুক্ত ভঙ্গিমা বা অবস্থান (posture)

* অপর্যাপ্ত ঘুম

* চোখের ক্লান্তি

* পানিশূন্যতা (dehydration)

* রক্তের কম শর্করা

Tension headache সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতা নিয়ে মাথার উভয় পাশে ব্যথা করে। মাথার উপরে চাপ, উভয় পাশে চাপ বা ফিতা দিয়ে মাথার চার পাশে চাপ অনুভূত হয়। এ মাথাব্যথা ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও থাকতে পারে।

প্রতিকার

* রোগীকে শিক্ষা এবং পরামর্শ (education and counseling)

* জীবনধারা পরিবর্তন- নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো (lifestyle modify)

* উত্তেজক (trigger factor) বর্জন

* মেডিকেশন- প্যারাসিটামল, NSAID (Naproxen, Ibuprofen), Aspirin, Amitriptyline

মাইগ্রেন

মাইগ্রেন দ্বিতীয় common headache। মাঝারি থেকে তীব্র মাথাব্যথা হয়। ২০ শতাংশ মহিলা এবং ৬ শতাংশ পুরুষ Migraine মাথাব্যথায় ভোগে। মাথাব্যথার সঙ্গে ২০ শতাংশ লোকের sensory উপসর্গ (Aura) থাকে। Aura সাধারণত চোখের সামনে তারা জ্বলজ্বল করে বা পর্দার মতো পড়ে। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। এরপর মাথার একপাশে ছটকানো (pulsatile /throbbing) মাথাব্যথা হয়, যা ৪ ঘণ্টা থেকে ৩ দিন স্থায়ী হতে পারে। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব, আলো ও শব্দ সংবেদনশীলতা থাকে। Migraine-এর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। পূর্বে রক্তনালির প্রসারণকে দায়ী করা হতো। বর্তমানে মস্তিষ্কের স্নায়ু বিকলতা (Dysfunction)কে দায়ী বলে ধারণা করা হয়। তবে কিছু উত্তেজক (trigger) Migraine মাথাব্যথাকে ঘটায়। এগুলো হলো-

* চকলেট, পনির, প্রক্রিয়াজাত মাংস, সিম, বাদাম, দুধ, মাখন ও ঘি

* আলোর ঝলকানি

* তীব্র শব্দ

* তীব্র ঘ্রাণ

* অতিরিক্ত ঠাণ্ডা ও গরম

প্রতিকার

* উত্তেজক এড়িয়ে চলা

* মাথাব্যথা কমানোর জন্য মাঝারি ব্যথায় প্যারাসিটামল, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রফেন ব্যবহার করা যায়। সঙ্গে বমির জন্য ডমপেরিডন খাওয়া দরকার। তীব্র ব্যথা হলে ট্রিপটেন জাতীয় ওষুধ যেমন- almitriptane, rizatriptane খেতে হবে।

* মাথাব্যথা যদি মাসে দুবারের বেশি হয়, ১২ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় বা তীব্র মাথাব্যথা হয়, তাহলে প্রতিরোধের জন্য বিটাব্লকার, এমিট্রিটাইসিন বা anticonuvlsant (valproate, topiramate) ব্যবহার করা যায়।

* Biofeedback, চিকিৎসকের পরামর্শ।

Cluster headache

Cluster headache-এ তীব্র মাথাব্যথা হয়। এ ধরনের মাথাব্যথা খুব কম হয় (rare). Cluster headache দিনের নির্দিষ্ট সময় এক পাশের চোখের চতুর্দিকে তীব্র ব্যথা হয়। ব্যথার সঙ্গে চোখ ও একই পাশের নাক দিয়ে পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়। ব্যথা ১৫ মিনিট থেকে ১৮০ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। দিনে ১-২ বার হতে পারে। এমনই করে একনাগাড়ে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ হতে পারে। তারপর কয়েক মাস বা বছর ভালো থাকে।

প্রতিকার

* চর্মের নিচে Sumatriptan ইনজেকশন বা ১০০ শতাংশ অক্সিজেন

* প্রতিরোধ Lithium, verapamil বা Steroid

Chronic daily headache

তিন মাসের বেশি সময় ধরে যদি মাথাব্যথা মাসে ১৫ দিন বা তার অধিক সময়কাল হয়ে থাকে তাকে Chronic daily headache বলা হয়। ৪ ধরনের প্রাইমারি headache-এ এরকম হতে পারে। যেমন-

* Chronic migraine

* Chronic tension headache

* New daily persistent headache

* Hemicranias continua

Sinus Headache

Sinus Headache সাইনাস প্রদাহের ফলে হয়। গালের উঁচু স্থানে, নাকের গোড়া ও কপালে সার্বক্ষণিক মৃদু ব্যথা এবং সঙ্গে জ্বর সর্দি থাকে।

Medication Overuse Headache

মাথাব্যথার জন্য যদি কেহ সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন বা মাসে ১০ দিনের বেশি মাথাব্যথার ওষুধ খায়, তবে এ ধরনের মাথাব্যথা হতে পারে।

মাথাব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শই উত্তম।