শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 726

যে কারণে মোশাররফ করিমের নামে মামলা

কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নাট্য অভিনেতা মোশাররফ করিমসহ চারজন ও একটি টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বৈশাখীতে টিভিতে ‘হাই প্রেসার-২’ নামের একটি নাটকে অ্যাডভোকেটদের হেয় প্রতিপন্ন করায় এ মামলা হয়।

রোববার দুপুরে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬নং আমলি আদালতে ৫০ কোটি টাকার এ মানহানির মামলাটি করেন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম হোসাইনী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ‘হাই প্রেসার-২’ নাটকটি বৈশাখী টিভির অনলাইনেও প্রচারিত হয়। এতে আইন পেশাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। তাই এ মামলায় অভিনেতা মোশাররফ করিম, অভিনেতা জামিল হোসেন, ফারুক আহমেদ, আদিবাসী মিজান ও বৈশাখী টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম হোসাইনী জানান, বিষয়টি আইন পেশার জন্য কটাক্ষ ও মানহানিকর। তাই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথ মামলাটি তদন্ত সাপেক্ষে আগামী ১৮ আগস্ট রিপোর্ট দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশে দিয়েছেন। আশা করি আমরা ন্যায় বিচার পাব।

টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার যানজট

আসন্ন ঈদ কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষ ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার ভোর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।

যানজটের কারণে চালক, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বেশি।

জানা যায়, সোমবার সকালে মহাসড়কের রসুলপুর, পৌলি, এলেঙ্গা, আনালিয়াবাড়ী ও জোকারচর এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়। উত্তরবঙ্গমুখী গাড়ি আটকে রয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার বিপিএম বলেন, টাঙ্গাইল অংশে যানজট নিরসনের জন্য ৬০৩ জন পুলিশ মহাসড়কের কাজ করছে। এর বাইরেও প্রায় ২০০ হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।

বাঘা-চারঘাটে পদ্মার ভাঙন পরিদর্শন করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাজশাহী-৬ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম পদ্মার ভাঙন পরিদর্শন করেছেন।

রোববার দুপুরে বাঘা ও চারঘাটের নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন।

এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর কমবেশি বন্যা হয়। এই বন্যায় নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে করে আতঙ্কে রাত কাটান নদী এলাকার মানুষ। আমি তাদের কথা ভেবে চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর থেকে বাঘার গোকুলপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি রেখেছিলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

সেই আলোকে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকসহ কয়েকজন বিভাগীয় প্রকৌশলী সরেজমিন নদী এলাকা পরিদর্শন করে সাড়ে ৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পটি অনুমোদন দেন। তবে চারঘাট সীমানার মধ্যে ১৫ শতাংশ কাজ বৃদ্ধি করা হবে বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, আমার পরিকল্পনা রয়েছে এই বাঁধ এলাকায় চারটি টি-বাঁধ নির্মাণসহ একাধিক বসার স্থান নির্মাণ করা। এর মাধ্যমে নান্দনিক (স্পট) তৈরি হবে; সেই সঙ্গে তৈরি করা হবে নদীতে নামার জন্য অত্যাধুনিক সিঁড়ি। যাতে করে ভ্রমণপিপাসীরা নদী এলাকায় ঘুরতে এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।

পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মীরগঞ্জ বিজিপি ক্যাম্পের পাশে মীরগঞ্জ বাজার পরিদর্শন করেন এবং বাজারটি উন্নয়ন করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, চারঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকরুল ইসলাম, বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা, চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা, বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল, দুই থানার ওসি নজরুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর আলম, পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ ও মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ।

 

কক্সবাজারে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা যুবক নিহত

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দকযুদ্ধে’ করিম ওরফে কলিমুল্লাহ (৩২) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন।

র‌্যাবের দাবি, নিহত রোহিঙ্গা করিম ওরফে কলিমুল্লাহ ডাকাত গ্রুপের প্রধান। তিনি উল্লাহ লম্বাশিয়া ক্যাম্পের নির আহমেদের ছেলে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

সোমবার ভোরে উপজেলার কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ক্যাম্পে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার র‍্যাব-১৫ এর উপ-অধিনায়ক তানভীর হাসান।

তিনি বলেন, উপজেলার কুতুপালংয়ের লম্বাশিয়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গা ডাকাত গ্রুপের অবস্থানের খবর পেয়ে সেখানে অভিযানে যায় র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের অবস্থান টের পেয়ে গুলি করে তারা। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ওই স্থান তল্লাশি করে কলিমুল্লার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএসই’র প্রধান সূচকে ইতিহাস

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এরমধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে ডিএসই’র প্রধান মূল্যসূচক।

এদিনের লেনদেনের শুরুতেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও এদিন বেশি দাপট ছিল মিউচ্যুয়াল ফাণ্ডের। ৩৭টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র একটির দরপতন হয়েছে। বাকি ৩৪টির দাম বেড়েছে।

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ২১০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের। দাম কমেছে ১৫০টির। ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিন শেষে ডিএসই’র প্রধান সূচক ডিএসই-এক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৩৬৫ পয়েন্টে উঠে এসেছে, যা ডিএসই’র ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল সূচকটি। ওই দিন সূচকটি ৬ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে ছিল।

প্রধান মূল্যসূচকের রেকর্ডের দিনে বেড়েছে ডিএসই’র অপর দুই সূচকও। এরমধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক দশমিক ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই’র শরিয়াহ্ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৭৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

একইসঙ্গে ডিএসইতে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। এদিন লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৯৩ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৭৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ফলে লেনদেন বেড়েছে ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা।

ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৫২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এস এস স্টিলের ৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফু-ওয়াং সিরামিক।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, ফাস্ট বাংলাদেশ ইনকাম ফান্ড, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, অ্যাক্টিভ ফাইন, ফরচুন সুজ এবং পাওয়ার গ্রিড।

অন্যদিকে শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৬০ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া ৩২০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭০টির দাম বেড়েছে। দাম কমেছে ১৩৭টির। ১৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঈদের আগের দিনও যেসব ব্যাংকের শাখা খোলা রাখতে হবে

কোরবানির ঈদের আগের দিন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাট এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের সব শাখা-উপশাখা সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগের দিন ১৯ জুলাই খোলা রাখতে হবে বিকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

রোববার এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এতে বলা হয়েছে- কোরবানির পশুর হাটগুলোতে অধিকসংখ্যক ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়ে থাকে। ফলে হাটগুলোতে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

কোরবানির পশুর হাটগুলোর নিকট দূরত্বের ব্যাংক শাখা/উপশাখা তাদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। হাটগুলোর নিকটবর্তী এসব ব্যাংক শাখা/উপশাখা ব্যবহার করে কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরা তাদের পশু বিক্রির অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।

তাছাড়া পশুর হাটে ব্যাংকের অস্থায়ী বুথ খোলা হলে পশু ব্যবসায়ীরা উক্ত বুথে অর্থ লেনদেনে ব্যাংকের সহায়তা গ্রহণ করতে পারেন।

তাই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোরবানির পশুর হাটের (তালিকা সংযুক্ত) নিকটতম শাখা/উপশাখা বিবেচনায় নির্বাচন করে উক্ত শাখা/উপশাখাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় ১৯ জুলাই বর্ধিত সময় বিকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার এবং ঈদুল আজহার জন্য ঘোষিত ছুটির ১ম দিন অর্থাৎ ঈদুল আজহার পূর্বের দিন ২০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হলো।

এছাড়া আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতাসহ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা/উপশাখা/বুথগুলোতে অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা প্রদান করার বিষয়েও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান কাদেরের

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশের সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আসন্ন ঈদে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ও করোনা সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। সচিবালয়ে তার দফতর থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লাখ লাখ মানুষ এখন ঘরমুখো, এ ভিড়ে কে কখন ভাইরাস বহন করছে তা জানি না। সচেতনতার সর্বোচ্চ মাত্রা অনুসরণ না করলে এ ঈদ উৎসব যাত্রা জীবনে ভয়ানক দুঃসংবাদ হয়ে আসতে পারে। আসুন এ অবস্থায় প্রত্যেকেই নিজের ও পরিবারের জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাস, লঞ্চ টার্মিনাল, ফেরিঘাট,ট্রেন স্টেশন ও পশুর হাটে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি যথাযথ নিয়মে মাস্ক পরিধানের মাঝেই রয়েছে করোনা থেকে নিষ্কৃতির একমাত্র পথ।

ঈদুল আজহায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ অপরাপর কথাসর্বস্ব এবং দায়িত্বহীন কিছু রাজনৈতিক দলের মতো ভোগের রাজনীতি নয়, আওয়ামী লীগ ত্যাগের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। করোনা সংক্রমণের উচ্চমাত্রার এ সময় এসেছে ত্যাগের মহিমায় সমুজ্জ্বল ঈদুল আজহা। আওয়ামী লীগের রাজনীতি ত্যাগের সোনালি অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুই আমাদের শিখিয়েছেন জনমানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে। দুর্যোগ ও সংকটে জনমানুষের পাশে থাকাই বঙ্গবন্ধু এবং তার কন্যা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক শিক্ষা।

সেতুমন্ত্রী বলেন, করোনার পাশাপাশি এখন কোথাও কোথাও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সচেতনতা এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মধ্য দিয়ে মশকবাহিত এ সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পেতে হবে।

মন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ সারাদেশের অন্যান্য কর্পোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রদের মশকনিধনে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাসিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ।

গণপরিবহণ ও পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করুন: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, গণপরিবহন আর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না হলে আনন্দের ঈদ জাতির জন্য ভয়াবহ দুঃসংবাদ ডেকে আনবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরো কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

রোববার এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, করোনার ঊর্ধমুখী সংক্রমণ আর ক্রমবর্ধমান মৃত্যুহারের মধ্যেই সারা দেশে কোরবানির জন্য পশুর হাট জমে উঠেছে। পছন্দের পশু কিনতে প্রতিটি হাটেই প্রতিদিন ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, পশুর হাটে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার নেই বললেই চলে। আবার প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই ছুটছেন বাড়ির পথে। সেখানেও উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। লঞ্চ, বাস ও অন্যান্য যানবাহনে গাদাগাদি করে ছুটছেন মানুষ। শারীরিক দূরত্ব বা করোনা সচেতনতার অভাবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ঈদের পর দুই দিনে আবারো কর্মস্থলে ফিরবেন সবাই। সাত দিন ধরে যারা বাড়ি গিয়েছেন, তারা দুই দিনে কর্মস্থলে ফিরতে গেলেই সৃষ্টি হবে মারাত্মক জটলা। তাই করোনা সংক্রমণ রোধ করতে পশুর হাট ও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রণালয়-সচিবদের মনোভাব বদলে ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রীর

মহামারির মধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গায় থেকে সাহসী ভূমিকা রাখায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহের ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং ‘এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২১’ এ অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় পুরনো নেতিবাচক মনোভাব বদলে আরও বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করায় সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশংসা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন সরকারে এসেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য সেবক হিসেবে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রিত্ব আমার জন্য কোনো কিছু নয়, শুধু একটা সুযোগ মানুষের জন্য কাজ করার, তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করার এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’

‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল’ এমন মনোভাব এখন সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে তেমনটা নেই জানিয়ে তাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে প্রত্যেকেই নিজ নিজ কাজটাকে নিজের বলে গ্রহণ করছেন। আপনার দায়িত্বটা আপনি নিজে গ্রহণ করছেন এবং সেটা আপনি বাস্তবায়ন করার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছেন। আসলে এটাই হচ্ছে সব থেকে বড় কাজ, আমি মনে করি।

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রান্তে এই সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাকালে তার সরকারের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যাতে কোনো রকম কষ্ট না পায়। তাদের খাদ্যের চাহিদা পূরণ, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অর্থাৎ তাদের করোনা থেকেও যেমন মুক্তি দেওয়া, তেমনি আর্থিকভাবেও সহযোগিতা করা। যে কারণে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার ২৮টি প্রণোদনা প্যাকেজ সরকার ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের এ কাজে সহায়তা করায় সব মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সচিবদের তিনি ধন্যবাদ জানান।

 

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শামসুল আলম

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদ্য সাবেক সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের গ্যালারি হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ পড়ান।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী আছেন ২৫ জন। এছাড়া ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। শামসুল আলমের শপথের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০। সংসদ সদস্য না হওয়ায় তিনি মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে জায়গা পাচ্ছেন।

তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক এ বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩০ জুন তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। শামসুল আলম পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৫ বছর অধ্যাপনার অভিজ্ঞতা শেষে প্রেষণে ছুটিতে যান।

২০০৯ সালের ১ জুলাই পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। তার কর্মজীবনে তিনি দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র, শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যানসহ নানা পরিকল্পনা প্রণয়ন করার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে একুশে পদক লাভ করেছেন তিনি।