শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 722

ভাইরাল হওয়া ‘আসমানী’কে এসপির ঈদ উপহার

আশি-নব্বইয়ের দশকে পাঠ্যবইয়ে কবি জসিম উদ্দীনের লেখা ‘আসমানী’ কবিতার মতোই বৃদ্ধ মেনাজ গাজীর দুর্বিষহ জীবন। পরিত্যক্ত জলাশয়ের পাশে নড়বরে ঘরটির এক চালা টিনের ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির জল গড়িয়ে ঘরটি কাদামাটিতে একাকার।

জলের মধ্যে ঘরে মেঝেতে পলিথিন বিছিয়ে খালি গায়ে শুয়ে আছে বাপ-মেয়ে। দৃশ্য দেখে মনে হয়-বৃষ্টির জলের ফোটায় যেন নতুন জীবনের আবছা আলো খুঁজছে। সাজ সকালে বর্ষণের আদ্রতায় পুরনো চাদর জড়িয়ে আছে দুজনে। চোখে যেন ফুটে ওঠে সহস্র দারিদ্র জনগোষ্ঠীর সরলতা আর আকুতি।

সৃজনশীল সভ্যতার সমাজে এমন দৃশ্য পাওয়া যায় পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে ১০ মিনিটের পথ সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের তেলীখালী গ্রামে। স্থানীয়রা এই বৃদ্ধকে আসমানী রূপে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি যেন বিংশশতাব্দীর আসমানী।

থরথর অসার অঙ্গের হাড়গুলো গুনতে কারও বেগ পেতে হবেনা। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ভাবেও অক্ষম। মহাসড়কের পাশে বাঁশের ফ্রেমে টিন বিছিয়ে ৫ বছরের একমাত্র শিশুকন্যা কুলসুমকে নিয়ে বাস করেন ৮১ বছরের এই বৃদ্ধ। শরীরে জড়ানোর মতো পরের দেয়া একটি জামা আছে কুলসুমের। তাই জামাটি নতুন রাখতে খালি গায়েই কাটায় কুলসুম। কখনো ছেড়া কাপর জড়িয়ে থাকে।

বৃদ্ধ মেনাজ গাজীও তার মেয়ের মতো অন্যের দেয়া পাঞ্জাবিটাও কাপড়ের পোটলায় ভরে বাঁশের আরায় ঝুলিয়ে রাখেন, নতুন রাখতে। খালি গায়ে থাকার কারণ জানতে চাইলে মেনাজ গাজী বলেন, মানে একটা জামা দেছে, পুরান অইলে গায় দিমু কি। বাপের মত মেয়েরও একি কথা। কুড়িয়ে পাওয়া ছেড়া কাপর শরীরে জড়িয়ে কাটিয়ে দিন চলে যায় বাপ-মেয়ের। খাবার পেলে খায়, না পেলে জল খেয়ে দিন পার করে তারা!

সম্প্রতি বাপ-মেয়ের দুর্বিষহ জীবন ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ফেসবুকে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয় পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় গাড়ি পাঠিয়ে মেনাজ গাজী ও মেয়ে কুলসুমকে তার কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাকে চাল, ডাল, তেল, চিনি সেমাই, বিস্কুট এবং নগদ টাকা দেয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে বাপ-মেয়ের পছন্দমত বস্ত্র কিনে দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহাফুজুর রহমান ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ফেসবুকে বৃদ্ধ মেনাজ গাজী ও তার মেয়ে অবস্থা দেখে তাদের কার্যালয়ে আনা হয়। তাদেরকে ঈদ উপহারসহ চাল, ডাল, তেল, চিনি সেমাই, বিস্কুট এবং নগদ টাকা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আরও সাহায্য করা হবে। মেনাজ গাজীর সংকট মেটাতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেয় তিনি।

এমন দুর্বিষহ বর্ণনা শুনে প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন সদর ইউএনও লতিফা জান্নাতি।

পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের পটুয়াখালী থেকে লেবুখালী ফেরিঘাটের পথে তেলিখালী ব্রিজ অতিক্রম করে শরীফবাড়ি স্ট্যান্ডের পাশেই ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো রকম একটি টিনের চালা বিছিয়ে তাদের ঘর। কুলসুমের মা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি অনেক আগেই স্বামী-সন্তান ফেলে পিত্রালয়ে থাকে। শিশু কুলসুম তার বাবার সঙ্গেই থেকে যায়। বাড়ির পাশের একটি পাঠশালায় ক্লাস ওয়ানে কুলসুম পড়ালেখা করলেও রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। ভিক্ষাবৃত্তি করে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটে তাদের।

এর আগে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহানা হোসেন মিকি ও দখিনা কবিয়ালের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীর হোসাইন মানিক তাদের সহায়তা করেন।

 

যে কারণে জাপানে পরমাণু বোমা হামলার হুমকি দিল চীন

তাইওয়ান নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জাপানের উপর পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি।

এক ভিডিও বার্তায় চীন জানিয়েছে, তাইওয়ানকে সাহায্য করলে জাপানের উপর পরমাণু হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না চীন। ওই ভিডিওতে আরও বলা হয়েছে, তাইওয়ান চীনের অংশ। দ্বীপরাষ্ট্রটিকে মুক্ত করার অভিযান চালাবে বেজিং। আর সেই কাজে বাধা দিলে যুদ্ধ হবে। তার ফল ভোগ করতে হবে টোকিওকে।

তাইওয়ান নিউজ জানিয়েছে, রোববার ইউটিউবের মতো চীনের নিজস্ব ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ‘শিগুয়া’তে ওই ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওতে বলা হয়েছে, জাপান যদি তাইওয়ানকে সাহায্য করে তাহলে পরমাণু বোমায় তার জবাব দেওয়া হবে। চীন যদিও যুদ্ধে ফার্স্ট নিউক্লিয়ার স্ট্রাইক’ বা প্রথম আণবিক হামলা না চালাতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু জাপান এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

প্রসঙ্গত, তাইওয়ান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে বিরোধ চলছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে হাইতির নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ

প্রেসিডেন্ট জোভোনিল মোইসিকে গুলি করে হত্যার দুই সপ্তাহের মাথায় নতুন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিয়েছে দেশটি। ক্যারিবিয়ান দেশটিতে চলমান তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যারিয়েল হেনরি।

রাজধানী পোর্টো প্রিন্সে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হেনরি।প্রয়াত প্রেসিডেন্ট মোইসির স্মরণে ওইদিনই আনুষ্ঠানিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কয়েকজন কূটনীতিক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হেনরিকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ক্লদ জোসেফ জানিয়েছিলেন, জাতির ভালোর জন্য তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন।

৭১ বছর বয়সী সাবেক মন্ত্রী হেনরি পেশায় একজন নিউরোসার্জন। রাজনৈতিক স্থিরতা ফিরিয়ে আনতে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করবেন বলে শপথ অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন হেনরি।

প্রসঙ্গত, ৭ জুলাই নিজ বাড়িতে ক্যারিরীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির প্রেসিডেন্ট মোইসিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গুলিতে ফার্স্টলেডি গুরুতর আহত হন।

ফার্স্টলেডি বলেন, চোখের পলকে ঘাতকেরা আমার ঘরে ঢুকে পড়ে। এর পর বুলেট দিয়ে তারা আমার স্বামীর বুক ঝাঁজরা করে ফেলে। তাকে একটা কথা বলারও সুযোগ দেয়নি।

এর আগে পুলিশ জানায়, প্রেসিডেন্টকে হত্যায় অন্তত ২৮ জন জড়িত ছিল। এর মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ান এবং দুজন হাইতি বংশোদ্ভূত আমেরিকান।

পুলিশপ্রধান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আমরা ১৫ কলম্বিয়ান এবং দুই আমেরিকানকে গ্রেফতার করেছি। তিন কলম্বিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আটজন পলাতক রয়েছে।

এর আগে বুধবার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হাইতির প্রেসিডেন্টের সন্দেহভাজন চার খুনিকে হত্যার কথা জানানো হয়েছিল। তবে চার্লস এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে প্রস্তুত ট্যানারি মালিকরা

মহামারির মধ্যে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। চলছে পশু কুরবানি। আর দেশে বছরজুড়ে যে পরিমাণ চামড়া পাওয়া যায় তার অর্ধেকের বেশি আসে এসব কুরবানির পশু থেকে। তাই এ সময়ের অপেক্ষায় থাকেন ট্যানারি মালিকরা। আর গত দুবছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন।

চামড়া সংগ্রহে নিজেদের প্রস্তুতির কথা এভাবেই জানান বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ।

মো. শাহীন বলেন, কুরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, লবণ মজুদ ও কর্মী-শ্রমিক প্রস্তুত রয়েছে। মাঠ পর্যায় থেকে ট্যানারিগুলো মূলত ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করবে। এ জন্য এসব এলাকার মাদরাসাভিত্তিক যেসব উদ্যোক্তা চামড়া সংগ্রহ করবেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আর্থিক যোগান দেওয়া হয়েছে।

‘এবার সবমিলিয়ে প্রায় ৯০ লাখ চামড়া সংগ্রহ করার চেষ্টা থাকবে। ইতোমধ্যে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আসা চামড়া প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজনীয় লবণ এবং কর্মী-শ্রমিকদের প্রস্তুত করা হয়েছে’, যোগ করেন মো. শাহীন।

ঢাকাভিত্তিক ট্যানারিগুলো পরে দেশের অন্যান্য আড়ত থেকে আসা লবণ দেওয়া চামড়া সংগ্রহ করবে।

চামড়া শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন থেকে জড়িত পুরান ঢাকার নবাবপুরের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, আমরা প্রস্তুতি মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগেই শেষ করেছি। বুধবার আগে ট্যানারিতে যাব। এরপর ট্রাকে করে পুরান ঢাকার দুইটা মোবাইল সেন্টার থেকে আমরা চামড়া সংগ্রহ করব।

এবার আড়ত ও ট্যানারিগুলোর জন্য ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দর ৪০ থেকে ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বছর এই দর ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরু বা মহিষের চামড়ার দাম হবে ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা, গতবছর যা ২৮ থেকে ৩২ টাকা ছিল।

এছাড়া দেশে লবণযুক্ত খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৫ থেকে ১৭ টাকা, আর বকরির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১২ থেকে ১৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গতবছর খাসির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকায় বেঁধে দিয়েছিল সরকার

সড়কে যানজট, দুঃখ প্রকাশ করে যা বললেন ওবায়দুল কাদের

ঈদুল আজহা উদযাপনে বাড়িতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যানজটের কারণে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঘরমুখী যাত্রীদের। এ ভোগান্তিতে পড়া যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার মন্ত্রীর বাসভবনে অনলাইনে ব্রিফিংকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, লকডাউনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে এবারের ঈদে পণ্যবাহী ট্রাক, লরি এবং কাভার্ডভ্যান চলাচল করছে। তাই যানবাহনের চাপ বেশি। যারা ঈদযাত্রায় ভোগান্তির মুখে পড়েছেন তাদের প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঈদের এ আনন্দ ভ্রমণ যেন কান্নায় রূপ না নেয়। সেজন্য নিজেকে সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রাখতে হবে এবং নিজে ও অন্যকে সতর্ক রাখতে হবে।

‘ঈদের আগের দিন হওয়ায় মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ আরও বাড়তে পারে। এ জন্য হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে’, যোগ করেন মন্ত্রী।

করোনার এ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই অসতর্ক হওয়া যাবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণের উচ্চমাত্রার এমন পরিস্থিতিতে অসতর্ক হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মহামারির মধ্যে আরও একটি ঈদ

২০১৯ শেষ করে নতুন বছর ২০২০ বরণ করে নিয়েছে বিশ্ব। আয়োজন করে নতুন বছর বরণে কমতি নিশ্চয়ই ছিল না। কিন্তু এ উৎসবের মধ্যে ছোট্ট একটি খবর ছড়িয়ে গেল। যার জন্য প্রস্তুত ছিল না কেউই।

চীনের উহানে মানুষের শরীরে প্রাণঘাতী একটি ভাইরাস শনাক্ত হয়। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় মহামারিতে। দেখতে দেখতে বাংলাদেশেও ২০২০ সালের মার্চে এ ভাইরাস থাবা বসায়।

কোভিড-১৯ নাম পাওয়া এ মহামারি আজ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিশ্বের সবখানে। দুটি ঈদুল ফিতর এবং একটি ঈদুল আজহা পেরিয়ে মহামারির মধ্যে এলো আরও একটি ঈদ, মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।
উৎসব এলেও সবকিছুর মধ্যে একটা ভয় লুকিয়ে আছে। অদৃশ্য একটা শত্রু সবাইকে তাড়া করে ফিরছে।

যা ঈদের আমেজকে করেছে ম্রীয়মান। ঈদের মাঝে লুকিয়ে থাকা আমেজ বলতে গেলে গিলে খেয়েছে এ মহামারি। অত্যধিক মাত্রায় সংক্রমণশীল এ ভাইরাস দ্রুতই রূপ বদলেছে, বাড়িয়েছে মানুষের বিপদ। প্রাণ তো কেড়েছেই নিঃস্ব করে ছেড়েছে কোটি কোটি মানুষকে।

তবে পরিস্থিতি আগের মতো না থাকলেও কিন্তু ধর্মীয় এ উৎসব উদযাপনে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুসারীদের চেষ্টার কমতি দেখা যাচ্ছে না বললেই চলে।

ঈদুল-আজহা ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কুরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এ আদেশ ছিল ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে বেঁধে যখন জবাই সম্পন্ন করেন, তখন চোখ খোলার পর দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কুরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই ইব্রাহিম (আ.)-এর ওয়াজিব হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কুরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কুরবানি করা ওয়াজিব।

ধর্মীয় এ নির্দেশ পালনে চেষ্টার কোনো ঘাটতি রাখতে চান না মুসলমানরা। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই করোনাভাইরাস। এবার গ্রামে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের আতঙ্ক। এরইমধ্যে মহামারির কারণে কিছুটা কম হলেও সারা দেশে বিরাজ করছে ঈদের আমেজ।

করোনারভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়। এরপরই রাজধানী ছাড়তে শুরু করে মানুষ। এরমধ্যে প্রায় প্রতিদিন দেশের সবখানেই কুরবানির পশুর হাটগুলোতে ছিল চোখে পড়ার মতো ভিড়। কোনো ক্ষেত্রেই মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন বলে মনে হয়নি।

গাদাগাদি করে ঈদযাত্রা, পশুর হাটে ভিড় সামগ্রিকভাবে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাই উৎসব উদযাপনের মধ্যেও সতর্ক থাকা চাই। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নামাজ আদায় করতে যাওয়া থেকে শুরু করে পশু কুরবানি, মাংস বিতরণ, দাওয়াতে অংশ নেওয়াসহ সব ক্ষেত্রেই মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি।

সর্বোপরি ত্যাগের মহিমায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পবিত্র ঈদুল আজহায় সৃষ্টিকর্তার কাছে করোনামুক্ত বিশ্ব প্রার্থনা করবেন মুসলমানরা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মহামারির মধ্যে ত্যাগের এ ঈদ বয়ে আনুক স্বস্তি, দূর হোক অদৃশ্য ভাইরাসের দাপট। ঈদ মোবারক।

 

ঈদগাহ মাঠে জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘাটাইল ও কালিহাতী উপজেলার ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে ঈদুল আযহার দিন ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন এ আদেশ জারি করেন।

আদেশে বলা হয়েছে, ঘাটাইল উপজেলা ভোজদত্ত গ্রাম ও কালিহাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী বীরবাসিন্দা গ্রামের অবস্থান। এই দুই গ্রামের সীমানা সংলগ্ন ভোজদত্ত ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ আদায় নিয়ে উভয় গ্রামের লোকজনের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

দুই গ্রামের বিরোধের কারণে ২১ জুলাই ঈদুল আজহার দিন ভোর ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৪ ধারা জারি থাকবে।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ঈদগাহ মাঠের ৪০০ গজের মধ্যে সব প্রকার সভা, সমাবেশ, শোভাযাত্রা, স্লোগান, লাঠিসোটা বহন, মাইক্রোফোন ব্যবহার, পিকেটিং, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারজানা ইয়াসমিন ও কালিহাতী থানার ওসি মোল্লা আজিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঈদের দিন যেমন থাকতে পারে আবহাওয়া

পবিত্র ঈদুল আজহার দিন ঢাকার আকাশ থাকতে পারে মেঘলা। সামান্য বৃষ্টিও হতে পারে।

বুধবার সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান।

এ আবহাওয়াবিদের মতে, ঢাকায় ঈদুল আজহার দিন খুব বেশি পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সকাল থেকে ঢাকার আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন। দিনে খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে মাঝে মধ্যে সামান্য বৃষ্টি হতেও পারে। তবে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের সই করা আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে।

পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

ঈদুল আজহার নামাজ শেষে যা বললেন মেয়র তাপস

ঈদুল আজহা স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বুধবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ঈদুল আজহার নামাজে অংশ নেন। নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নগরবাসীর প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।

দ্রুত সময়ের মধ্যে কুরবানির বর্জ্য অপসারণে এসময় তিনি নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় সারাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। দেশবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানাই। ঢাকাবাসীর কাছে নিবেদন আপনারা অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহা উদযাপন করুন। একই সঙ্গে কুরবানির বর্জ্য আমাদের নির্ধারিত স্থান ও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে দিন, যেন আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে পারি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠে কাজ করবেন বলে জানান মেয়র।

আঙুরের কিছু অজানা গুনাবলী

আমাদের দেশের ফলের বাজারগুলোতে অনেক বেশি দেখা মেলে এমন একটি ফল হচ্ছ আঙুর। এ ফলটি অনেকেরই পছন্দে তালিকায় থাকে প্রথম দিকেই। অতি সুস্বাদু এ ফলটির উপকারি প্রভাবও কম নয়। এটি আপনার মস্তিষ্ক, হার্ট, ত্বক, এমনকি আপনার কোমরের জন্যেও অনেক উপকারি।

অন্যান্য সব ফলের মধ্যে আঙুরকে একটু অভিজাত বলে গণ্য করা হয়। এই ফল দিয়ে ওয়াইন, বিভিন্ন জুস এবং জেলি-জ্যাম ইত্যাদি তৈরি করা ছাড়াও নানারকম মুখরোচক রান্নাতেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর এ ফলটি শুকিয়েই বানানো হয় কিশমিশ, যেটি ছাড়া অনেক শৌখিন খাবার দেখায় বেমানান।

স্বাদের পাশাপাশি আযুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মেলে বি১, সি, কে-এর মত ভিটামিন। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম ও খনিজ পদার্থ ম্যাঙ্গানিস থাকে এতে। আর শুকনো আঙুর বা কিশমিশে থাকে ৬০ শতাংশ ফ্রুকটোজ।

এ ফলটির অনেক স্বাস্থ উপকারিতা রয়েছে। তাবে এর বিজ্ঞানসম্মত কিছু গুণাবলী রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। জানুন এমন কিছু অজানা গুণাবলী-

১. ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে

বিছানায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েকটি আঙুর খেলে সেটি আপনার আরও ভালো ঘুম হতে সহায়তা করতে পারে। এই ফলের রসে মেলাটোনিন থাকার কারণে এটি ভালো ঘুম হতে সহায়তা করে। মেলাটোনিনকে স্লিপ হরমোন হিসাবে বলা হয়ে থাকে যেটি মস্তিষ্কের পাইনাল গ্রন্থি দ্বারা উত্পাদিত হয়। আর আঙুর খেলে এডিটর উৎপাদন আরও ভালোভাবে হয়ে থাকে।

২. কোলনের জন্য উপকারি
আঙুর খেলে সেটি একটি নির্দিষ্ট জিনের ভাবকে কমাতে সাহায্য করে। আর এই জিনটি কোলন টিউমার বৃদ্ধির জন্য দায়ী হয়ে থাকে। গবেষণা বলছে, এমন না যে আঙুর কোলন ক্যান্সারের চিকিত্সা করবে, তবে এটি কোলনের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

৩. কেমোথেরাপির লক্ষণগুলি কমাতে সহায়তা করে
কেমোথেরাপির গ্রহণ করার ফলে কিছু লোক মুখের ঘা হওয়া, মুখ শুকিয়ে থাকা বা বমি বমি ভাব হয়ে থাকে। এসময় আঙুর খেলে এ সমস্যাগুলো থেকে স্বস্তি পাওয়া যায়।

৪. শিশুদের জন্য খাবারের ভালো বিকল্প
শিশুরা অনেক সময় খাবার খেতে চায় না। এমন ক্ষেত্রে তাদেরকে আঙুর খাওয়াতে পারেন বিকল্প হিসেবে। শিশুরা সাধারনত আঙুর খেতে পছন্দ করে থাকে। তাই এটি তাদেরকে খাবারের বিকল্প হিসেবে দেয়া যেতে পারে। তবে, আপনার শিশুর বয়স পাঁচ বছরের কম হলে তাদেরকে টুকরো করে খেতে দিতে হবে। নইলে এটি শিশুদের গলায় আটকে যেতে পারে।