সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 684

মহাসড়কও ডুবল তিস্তার পানিতে, পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ভারতের কালিম্পং ও গ্যাংটক এলাকার মহাসড়কের কোনো কোনো জায়গা তিস্তার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন জায়গায় সড়কে ধস নেমেছে।

পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংসহ ওই এলাকা। সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বুধবারও সকাল থেকে ওই এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে।

বুধবার সকালে নতুন করে দার্জিলিং জেলার ধোতরে, মানেভঞ্জন, রিমবিক, গোক, বিজনবাড়ি এলাকা থেকে ধসের খবর এসেছে। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি।

প্রবল বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে জলপাইগুড়ির বহু এলাকা। বহু জায়গায় নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামের মধ্যে পানি ঢুকেছে। জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

এদিকে, পর্যটনের মৌসুমে এবার ব্যাপক ভিড় হয়েছে দার্জিলিংসহ পশ্চিমবঙ্গের ওই এলাকায়। সেখানকার বাসিন্দা বা পর্যটকদের এলাকা না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপার।

বাগডোগরা থেকে বিমান চলাচলেও টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। মঙ্গলবার বাগডোগরা বিমানবন্দরে ৩৩টি বিমান আসা-যাওয়ার কথা ছিল। ১৯টি বিমানই খারাপ আবহাওয়ার জন্য বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ধসের কারণে আপ এবং ডাউন টয় ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ণ ঘটছে। দার্জিলিংগামী ট্রেন থামানো হয় রংটং স্টেশনে। শিলিগুড়িমুখী ট্রেন কার্শিয়াং থেকে দার্জিলিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যা বলল উত্তর কোরিয়া

জাপান সাগরে সাবমেরিন থেকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উত্তর কোরিয়া। এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলেও দাবি করেছে দেশটি। বিবিসি বুধবার এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, ২০১৬ সালে যে সাবমেরিন থেকে পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল উন্নত প্রযুক্তির এই ক্ষেপণাস্ত্র সেই একই সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন উপস্থিত ছিলেন কী সে ব্যাপারে কেসিএনএ কিছু জানায়নি।

এর আগে পিয়ংইয়ং জাপান সাগরে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছিল দুই প্রতিবেশী দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টার দিকে সিনপো শহরের কাছাকাছি এলাকা থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলের কাছের সাগরে ছোড়া হয় বলে দক্ষিণের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) নিশ্চিত করেছিল।

সিনপোতেই পিয়ংইয়ং তাদের সাবমেরিন এবং সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) ছোড়ার সরঞ্জামাদি রাখে। উত্তর কোরিয়া ওই এলাকা থেকে অন্য ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রও ছোড়ে।

এ ব্যাপারে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছিলেন, তারা দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর কোরিয়া যে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তা খুবই দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এমন একসময়ে পিয়ংইয়ং জাপান সাগরে এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল যখন সিউলে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধানদের বৈঠকের একটি খবর চাউর হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি একটি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ বৈঠকের কথা জানিয়েছিল।

একটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীর (এডিএএক্স) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরাও এখন সিউলে জড়ো হয়েছেন।

নাম পরিবর্তন করছে ফেসবুক!

নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক। ‘মেটাভার্স’ নির্মাণ চেষ্টার অংশ হিসেবে রিব্রান্ডিং এর জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই নাম নাম পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

অক্টোবরের ২৮ তারিখে ফেসবুকের বার্ষিক কানেক্ট সম্মেলনে মার্ক জাকারবার্গ এই নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনার ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে ভক্স মিডিয়া পরিচালিত মার্কিন প্রযুক্তিবিষয়ক ব্লগ দ্য ভার্জ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ শিগশিগই এই পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ করবে বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই ফেসবুক দায়িত্বশীলভাবে ‘মেটাভার্স’ গড়তে পাঁচ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল।

মেটাভার্স হলো ভার্চুয়াল জগৎ। এখানে ব্যবহারকারীরা যার যার চেহারার সঙ্গে মিল রেখে অ্যাভাটার তৈরি করতে পারবেন। তারাই অ্যাভাটারগুলো নিয়ন্ত্রণ করবেন। তারা নিজের ঘরে হাঁটলে, ভার্চুয়াল জগতের অ্যাভাটারও হাঁটবে। হাত নেড়ে কথা বললে, অ্যাভাটারও তাই করবে। অর্থাৎ, মেটাভার্স হচ্ছে এমন একটা অনলাইন জগৎ, যেখানে ভার্চুয়াল দুনিয়ার মধ্যেই গেমিং, অফিসের কাজ এবং যোগাযোগের সবকিছুই করতে পারবেন ব্যবহারকারী। ফেসবুক এরই মধ্যে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ও অগমেন্টেড রিয়ালিটিতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। তৈরি করেছে অকুলাস ভিআর হেডসেট। কাজ করছে ‘এআর গ্লাসেস’ ও ‘রিস্টব্যান্ড’ প্রযুক্তি নিয়েও।

ফেসবুকের নতুন বিনিয়োগটি হবে ‘এক্সআর কর্মসূচি’ ও ‘রিসার্চ ফান্ড’কে ঘিরে। দুই বছর জুড়ে বৈশ্বিকভাবে গোটা অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে মেটভার্সের প্রযুক্তি ‘ব্যাপকতা ও ক্ষমতায়নের পন্থায়’ তৈরি। -জানিয়েছে ফেসবুক। এক প্রতিবেদন বলছে, গবেষকদের সঙ্গে ডেটা গোপনতা ও সুরক্ষাসহ চার খাতে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেসবুকের। মেটাভার্সে ব্যবহারকারীরা অস্বস্তিকর অনুভব করছেন এমন কিছু দেখার পর যাতে সাহায্য নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করবে এটি।

এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, সব ব্যবহারকারীর জন্য প্রবেশযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রযুক্তি কীভাবে তৈরি করা যায়, তা-ও গবেষণা করে দেখবে ফেসবুক। ‘প্রতিযোগিতায় উৎসাহ’ জোগাবে উন্নয়নশীল শিল্পেও। সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিসরে নানাবিধ ইন্টারনেট সমস্যা নিয়ে তোপের মুখে পড়েছে ফেসবুক। এ রকম সমস্যার মধ্যে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে কিশোর বয়সিদের ওপর সামাজিক মাধ্যমটির নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের মতো বিষয়াদিও রয়েছে। ফেসবুকের নতুন মেটাভার্স তহবিলের প্রাথমিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটি, দক্ষিণ কোরিয়ার সিওল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ হংকং।

৪২ হাজার ২৯৮টি পদ বিলুপ্ত

করোনাকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ সংস্থার ৪২ হাজার ২৯৮টি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলের ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন পদ রয়েছে। এসব পদ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার জনবল কাঠামোতে থাকলেও দীর্ঘদিন অকার্যকর ছিল। তাই লোকবল নিয়োগ দেওয়া হতো না। অর্থ মন্ত্রণালয় এসব পদ বিলুপ্তির প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিলুপ্ত করা হয়েছে রেল মন্ত্রণালয়ের। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজস্ব খাতের পদ বিলুপ্তির কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অনুবিভাগ। জানতে চাইলে ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শুলেখা রানী বসু যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্প শেষে অনেকে আদালত থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তর নির্দেশ নিয়ে আসেন। এ কারণে তাদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়। তাই পূর্বের পদগুলো বিলুপ্ত করে নতুন পদ সৃজন করা হয়। এছাড়া দীর্ঘদিন খালি আছে এমন পদে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। তাদের দেওয়া প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে অর্থ বিভাগ পদ বিলুপ্তিতে সম্মতি দিয়ে থাকে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে কিছু পদ আছে যেগুলোতে দীর্ঘদিন নিয়োগ দেওয়া হয় না। অকার্যকর পড়ে আছে পদগুলো। এ কারণে পদগুলো বিলুপ্ত করা হয়। এছাড়া অনেক সংস্থা, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর বিলুপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সব পদ বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি কিছু পদের পরিবর্তন হয়। যেমন আগে সরকারি অফিসে পিয়ন পদ ছিল। এখন সে পদটি নেই। এ ধরনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়। আর পদ বিলুপ্ত হলে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় হয়ে থাকে।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ বিলুপ্তির মধ্যে ১৮৫টি ক্যাডার পদ স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্প থেকে আসা ৫ হাজার ২৭৮টি পদ অস্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে এসব পদ বিলুপ্ত হয়েছে। এছাড়া ১৯৫টি রয়েছে অন্যান্য ক্যাডার পদ। বাকি ৩৬ হাজার ৬৪০টি পদ রয়েছে বিভিন্ন ধরনের।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, এক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অফিস সহায়ক পদ ছিল। কম্পিউটার অপারেটর পদ পৃথক ছিল। এখন দুটি পদকে একটি করে অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি অফিসে পিয়ন পদ ছিল। এখন সেটি তুলে দেওয়া হয়েছে। ফরাস নামে একটি পদ ছিল। এ পদটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকারের কিছুটা আর্থিক সাশ্রয় হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, প্রতি বছরই লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিছু পদ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে থাকে যেগুলোতে নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকে। মন্ত্রণালয়গুলো এ ধরনের পদ বিলুপ্তির প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে দিয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি পদ বিলুপ্তির আরও একটি কারণ হলো-বিভিন্ন বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থায় লোকবল কাঠামোতে পুনর্বিন্যাস করা। যে কারণে পুরোনো অনেক পদ বিলুপ্ত করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, রেলওয়েকে আধুনিক করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় গত বছর রেল মন্ত্রণালয়ে অনেক পদের বিলুপ্তি করা হয়। রেলওয়েতে মুঞ্জরিকৃত ৪০ হাজার ২৭৫টি চাকরির পদ রয়েছে। এর বিপরীতে ২৪ হাজার ৫৭৩ জন কাজ করছে। রেল মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ২০১০ সালে নিয়োগের পর আর নিয়োগ হয়নি। কিন্তু রেলওয়ের সংস্কার প্রকল্প কর্তৃক সুপারিশকৃত ক্যাডার কম্পোজিশন ও অন্যান্য দাপ্তরিক পুনর্গঠনের প্রয়োজন। পাশাপাশি অনুমোদিত কাঠামো মোতাবেক জনবল নিয়োগের দরকার। সে লক্ষ্যে ২০২০ সালের আগস্টে রেলওয়ের বিভিন্ন পদ বিলুপ্ত করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি নেওয়া হয়েছে। এখন বিলুপ্ত পদগুলোর বাইরে নতুন পদ সৃজন করে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ বিলুপ্তির আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিলুপ্তিযোগ্য পদ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে সেটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়। সেখান থেকে অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হয়। অর্থ বিভাগ সেটি ব্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অনুবিভাগের কাছে পাঠায়। সেখানের সম্মতি পাওয়ার পর সুপারিশের জন্য পাঠানো হয় প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির কাছে। এরপর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক জিও প্রস্তুত করে কার্যকরের জন্য পাঠানো হয় অর্থ বিভাগে।

উন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের গুরুত্ব দিচ্ছে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জরুরি সহায়তার প্রয়োজনকে ‘গুরুত্ব দিচ্ছে না’। ‘সারশূন্য’ প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বিশ্ব নেতাদের কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে তিনি এ কথা বলেন। চলতি মাসের শেষে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এর আগে এই নিবন্ধ প্রকাশ হলো।

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘অপ্রিয় সত্য হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর পদক্ষেপ যখন সবচেয়ে জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে এবং সেটা সম্ভবও। কিন্তু দেশগুলো কার্বন নির্গমনের পরিমাণ দ্রুত কমিয়ে আনছে না।’

২০১৫ সালে প্যারিস সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে চুক্তিবদ্ধ হন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিও হার প্রাক শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি যেন না হতে পারে, সেজন্য নিঃসরণের মাত্রা সম্মিলিতভাবে কমিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয় সেই চুক্তিতে। সেই লক্ষ্যে কোন দেশ কতটা কী করল, তা পাঁচ বছর পরপর জানানোর কথাও ওই চুক্তিতে ছিল। কোভিড মহামারির কারণে এক বছর পিছিয়ে গিয়ে এবারের সম্মেলকে সেসব পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি জমা হওয়ার কথা রয়েছে।

নিবন্ধে শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ প্রতি বছর হিমালয়ের বরফজমা স্বাদু পানির ওপর নির্ভর করে, কিন্তু উষ্ণতা বাড়ায় সেখানকার পরিবেশ অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। দক্ষিণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি প্রকট হয়ে উঠেছে। সেখানে ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়া হবে আরেকটি ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন। বাংলাদেশ যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, তাতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য আমাদের খুব সামান্যই দায়ী করা যেতে পারে। তার পরও আমরা এর সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটা কেবল এ কারণে নয় যে, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবকে এড়াতে চাই; এর সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ও আছে। কার্বন-শূন্য উৎপাদনে বিনিয়োগের মাধ্যমে পুরো অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান তৈরি করাই সর্বোত্তম পন্থা এবং এর মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের সমৃদ্ধিও নিশ্চত হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘অন্য কোনো দেশের সাহায্য ছাড়াই বাংলাদেশ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এই বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে পারে। কিন্তু প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রাক শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে যা প্রয়োজন, সেটা হলে, আমাদের (বাংলাদেশ) জলবায়ু সমৃদ্ধির পরিকল্পনার একটি আন্তর্জাতিক সংস্করণ।’

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ-২৬ সম্মেলনকে সেই পরিকল্পনা তৈরির ‘সবচেয়ে সেরা সুযোগ’ বলে মনে করলেও তার সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও প্রকাশ পেয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর লেখায়।

তিনি লিখেছেন, ‘অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তিন দশক আগে রিও আর্থ সামিটে উন্নত দেশগুলো পৃথিবীকে জলবায়ু এবং পরিবেশ সংকট থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা সম্মিলিতভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমিয়েছে সাত ভাগের এক ভাগেরও কম। এটা তো নেতৃত্ব নয়। সবচেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রয়োজনকেও তারা কখনো গুরুত্বের সঙ্গে নিতে চায়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লোকসান এবং ক্ষতির মুখে পড়া সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়নের খবর নেই। যদিও সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যরা কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় নীতি তারা নেয়নি, যা থাকলে ভরসা পাওয়া যেত যে, প্রতিশ্রুতি তারা সত্যিই পূরণ করতে যাচ্ছে। জলবায়ু তহবিলে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি তারা ১২ বছরেও পূরণ করেনি।’

শেখ হাসিনা লিখেছেন, ‘কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনতে যে পরিমাণ অর্থ দরকার, সেই তুলনায় ১০ বিলিয়ন ডলার খুবই সামান্য। সরকারি-বেসরকারি দুই দিক থেকেই এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগের আগ্রহ আছে, কিন্তু কোভিড সম্পর্কিত দেনার মধ্যে সেটা আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। উন্নত দেশগুলো যদি সত্যিই সহায়তা করতে চায়, তাদের এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। তহবিলের খরচ কমিয়ে আনলে বিশ্বের দক্ষিণের দেশগুলোতে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যাতে সারাবিশ্বই লাভবান হবে। পশ্চিমা নেতারা যদি এই যুক্তিটা ধরতে না পারেন, নিজেদের ঘরের উদাহরণই তাদের সেটা বুঝতে সহায়তা করতে পারে। উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ায় চরম দাবানল কিংবা জার্মানির ভয়াবহ বন্যা-এসব কি জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ীদের অঞ্চলে বেজে ওঠা সতর্ক ঘণ্টা নয়?’

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ৫০ বছর আগে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল, রক্ত আর বেদনায় জর্জরিত সেই জন্ম। আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার স্মরণে আমরা আমাদের জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার নাম দিয়েছি মুজিব পরিকল্পনা। তার সময়ে তিনি যেসব সমস্যার মোকাবিলা করেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন সে তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রম। এ বিষয়টি মোকাবিলায় মনোবল, কল্পনাশক্তি, আশা এবং নেতৃত্ব প্রয়োজন।’

তিনি লিখেছেন, ‘পশ্চিমা নেতারা যদি কর্ণপাত করেন, বিষয়টি অনুধাবন করে তাদের কাছে বিজ্ঞান যা দাবি করছে সে অনুযায়ী যদি তারা সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে কপ-২৬ কে সফল করে তোলার জন্য এখনো সময় আছে এবং এটা খুবই জরুরি।’

ভয় নেই আমরা পাশে আছি

উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এ প্রতিশ্রুতি দেন।

তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। এ দেশে তাদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। বাংলার মাটিতে তাদের ঠাঁই হবে না। আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে থাকবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তারা বলেন, আপনারা আমাদের ভাই; আপনাদের ভয় নাই, শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছে, আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে আছে। সমাবেশ শেষে দীর্ঘ শোভাযাত্রা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সম্প্রীতি সমাবেশ শুরু হয় বেলা ১১টায়। এতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই অপশক্তি প্রতিরোধ করব। হিন্দু ভাইদের বলব, আপনাদের ভয় নাই, শেখ হাসিনা আপনাদের সাথে আছে, আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে আছে।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে ট্রাকের ওপর অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশ শেষে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট, শিক্ষা ভবন, দোয়েল চত্বর হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। দীর্ঘ শোভাযাত্রার সামনের অংশ বেলা ১২টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পৌঁছলেও পেছনের অংশ তখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই ছিল। এদিকে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় জনসমাগমের কারণে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আশপাশের সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানজটের প্রভাব পরে আশপাশের এলাকাগুলোতেও।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ- এগুলো ২০০১ সালে বিএনপি সরকার যে নির্যাতন চালিয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি।

আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, বিএনপি আজ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উসকে দিয়ে সাম্প্র্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। আবার নতুন করে সম্প্রদায়িক হামলা-সন্ত্রাস শুরু করেছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে প্রত্যেকটি দুর্গাপূজায় হাজার হাজার মণ্ডপে পূজা চলেছে। কোনো ঘটনা ঘটেনি। আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা শুরু হয়েছে।

সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়ে নাই। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা বাংলাদেশে আজ সম্প্রীতি সমাবেশ হচ্ছে, শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতে মুসলমান আছে, তাদের জানমালের কথাও আমাদের ভাবতে হবে। হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, তাতে ভারতের একটা বড় অংশ মুসলমানদের জীবনকেও বিপন্ন করে ফেলছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মোকাবিলা করে তাদের ‘সমুচিত জবাব’ দিতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সারাদেশে ‘প্রস্তুত আছে’।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখবই। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। যারাই সন্ত্রাস করবে তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে। জবাব দিতে হবে তাদের, কেন তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করছে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সাম্প্রদায়িক এই হামলায় যারাই জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অসাম্প্রদায়িক এই বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, তারা (বিএনপি-জায়ামাত) জানে ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারবে না। এজন্য ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুউল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা দেখার জন্য আমরা যুদ্ধ করিনি। এই বাংলাদেশ দেখার জন্য ৩০ লাখ শহিদ আত্মাহুতি দেননি।

যেসব মৌলবাদী, ধর্মান্ধ এখনো ধর্মের দোহাই দিয়ে একাত্তরের মতো সমাজে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে, যারা এখনো ঘরবাড়ি জ্বালাচ্ছে, তাদেরকে আমরা একাত্তরের মতোই প্রতিহত করে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ব। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর উপাসনালয়ে হামলা চালানো হয়েছে।

এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র আছে। আওয়ামী লীগ এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সারা দেশে সতর্ক রয়েছে। এই অপশক্তিকে উৎখাত না করা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংগ্রাম চলতে থাকবে।

সমাবেশে আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, মহিলা সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি প্রমুখ।

সম্প্রীতি সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় অংশ নিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন।

তাদের অনেকেই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে আসেন। এতে ‘ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার’

‘সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দাও’; ‘বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিস্টান, ‘বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙালি’- সহ নানা স্লোগান লেখা ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ সময় নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো গুলিস্তান এলাকা।

দোষারোপের রাজনীতি আ.লীগ-বিএনপিতে

দোষারোপের রাজনীতি করা যেন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কোনো একটি ঘটনার পরপরই একে অপরকে ঘায়েলের প্রতিযোগিতায় নামে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। সর্বশেষ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায়ও এর ব্যত্যয় ঘটেনি।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করে প্রতিদিনই বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দল দুটির নেতারা। ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্র খুঁজছেন তারা। এর আগে কক্সবাজারের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পরও একে অপরকে দোষারোপ করতে দেখা যায়। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের অনেকেই পার পেয়ে গেছে। এবারও এমন আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা।

তারা আরও মনে করেন, তদন্তের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাই স্পর্শকাতর এ ইস্যুতে একে অপরকে দোষারোপ না করে এসব দুর্বৃত্তদের চিহ্নিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে তাদের।

সম্প্রতি কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েক জেলায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়। এতে ঘটে প্রাণহানিও। সবশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উত্তপ্ত নোয়াখালীর চৌমুহনী, ফেনী, চাঁদপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

সাম্প্রদায়িক এ সহিংসতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ উত্তপ্ত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরকে বিষোদ্গারে ব্যস্ত। ঘটনার পর এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই দল দুটি পরস্পরকে দায়ী করেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনার পর থেকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে বলে আসছেন, বিএনপি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষক। দেশের সব অপকর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার জনক হচ্ছে এই দল। মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রায়’ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর-এগুলো ২০০১ সালে বিএনপি সরকার যে নির্যাতন চালিয়েছিল, এর পুনরাবৃত্তি। আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ বিএনপি আজ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উসকে দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে।’ অপরদিকে এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে ক্ষমতাসীনদের দায়ী করা হচ্ছে। সোমবার রাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বারবার বলছি-দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা ক্ষমতাসীনদের মদদ ছাড়া সম্ভব নয়। নিঃসন্দেহে যারা আক্রমণ চালিয়েছে, তারা কোনো বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী নয়।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে এসব অপকর্ম করছে। অর্থাৎ আগামী নির্বাচনে যাতে তারা পার পেয়ে যেতে পারে, সেজন্য বিভিন্ন রকমের অপকৌশল গ্রহণ করতে শুরু করেছে-এটা তারই একটা প্রমাণ।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দলগুলোর মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তা হতে হবে জনগণের স্বার্থে। কিন্তু আমরা বারবার দেখছি দেশের প্রধান দুটি দল সব সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের মাধ্যমে নিজেদের দায় এড়াতে ব্যস্ত। যার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, আমরা দোষারোপের রাজনীতি চাই না। আমরা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।

প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কুমিল্লার ঘটনার পরপরই আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, তারা প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে চায় না। প্রতিপক্ষ বিশেষ করে বিএনপিকে ঘায়েলই তাদের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় সহিংসতা হয়েছে সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা এমনকি তাদের আটক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু ঘটলেই সরকার বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করে।

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার পর থেকেই সরকার বিএনপিকে জড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত। শুধু এখন নয়, যখনই দেশে কোনো ঘটনা ঘটে, তখনই সেখানে বিএনপিকে জড়ানোর চেষ্টা করে সরকার। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের নীতি আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান যুগান্তরকে বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কাজই হচ্ছে সম্প্রীতির বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিয়ে একটা ফায়দা হাসিল করা। দেশে এভাবে মানুষকে উসকে দিয়ে বিএনপি-জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে এমন কাজ করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সরকার সব সময় ব্যবস্থা নিয়েছে। এবারও নিচ্ছে। আমি মনে করি, বিএনপি-জামায়াতের এ দুষ্টামি, চালাকি চলবে না। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বন্ধে জনগণকে সচেতন করতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে, যা বর্তমান সরকার নিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনা জাগ্রত করতে হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ যুগান্তরকে বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অনাকাক্সিক্ষত ও দুঃখজনক। কোনো মুসলমানের পক্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো উচিত নয়। আমাদের ইসলাম ধর্মেও এ ধরনের ঘটনার কোনো অনুমতি দেয় না। আমরা সবাই এক রক্তের সন্তান।

তিনি বলেন, যে বা যারা এ কাজ করেছে, তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত। এটাকে নিয়ে রাজনীতি করার অর্থই হচ্ছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার ষড়যন্ত্র। রাজনীতি বন্ধ করে আইনকে তার নিজস্ব গতিতে, সত্যের পথে পরিচালিত করতে হবে। মিথ্যার আশ্রয় নিলে ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে। মিথ্যা কখনো মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। একে অপরকে দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনেই লাভ।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর বড় দুটি দল একে অপরকে দোষারোপ করছে। এতে প্রকৃত অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব যুগান্তরকে বলেন, দোষারোপের রাজনীতি অনেকটা দলীয় সরকারের মানসিকতা। কাউকে দোষারোপ করা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটা প্রতিহিংসামূলক আচরণ। দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে এমন দলীয় প্রতিহিংসামূলক আচরণ প্রত্যাশা করে না।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত দেশে সাম্প্রদায়িক যেসব সহিংসতা হয়েছে, এর কোনোটির সঠিক বিচায় হয়নি। বিচার না হওয়ার কারণে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, দোষারোপের রাজনীতির মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের রেহাই পাওয়ার একটা রাস্তা তৈরি হয়ে যায়। যারা এ কাজ করে, তারা প্রকৃতপক্ষে কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না। তারা একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যতটা আন্তরিক, এর চেয়ে বেশি পারস্পরিক দোষারোপের মাধ্যমে রাজনীতির ফায়দা লাভে বেশি উৎসাহী।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এটাকে আমরা হিন্দুধর্মের ওপর আক্রমণ বলছি না। এটা মানবসভ্যতার ওপর আক্রমণ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ধ্বংস করার পরিস্থিতি তৈরি হলে সেখান থেকে জাতিকে রক্ষার চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাধান্য হয়ে দাঁড়াচ্ছেন এখান থেকে কে কতটা ফায়দা তুলবে। ফলে তারা প্রত্যক্ষভাবে না হলে পরোক্ষভাবে এসব ঘটনার পেছনে উৎসাহ জোগায়।

২৬ জেলায় পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ জেলার পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। আর কোথাও যেন সহিংসতা না হয় সেজন্য নানা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেওয়া হয় বৈঠকে।

আগামী ১০ দিন এ বাড়তি সতর্কতা জারি থাকবে বলে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদে মিল্লাদুন্নবী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদে লক্ষ্মী পূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এই বাড়তি সতর্কতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ধাপে ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কমিয়ে আনা হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে না হলে সতর্কতার মেয়াদ আরও বাড়বে।

যেসব জেলাতে সতর্ক করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী। রাজশাহী বিভাগের রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা। খুলনা বিভাগের জেলা রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো: বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ।

কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও কক্সবাজার। ঢাকা বিভাগে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে কুমিল্লায় পবিত্র কুরআন অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে হামলার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন ইউনিট।

এক্ষেত্রে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তাদের তদন্ত চলছে। প্রথমত, দেশের একাধিক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল।

দ্বিতীয়ত, তৃতীয় কোনো শক্তি। এছাড়া বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধন আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে দফায় দফায় বৈঠক করছেন পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের হাইকমান্ডও বৈঠক করছে।

হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করতে পুলিশের সবকটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রতিমা ভাঙচুরের উসকানিদাতা ও হামলায় জড়িত শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। পুলিশের একজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, তদন্তে ইতোমধ্যে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে এসব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, গুজব রটানোর অভিযোগে ফেসবুকের দুইশ’ এডমিনের প্রোফাইল কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ।

এমনকি কয়েকজনের ভয়েস বার্তাও পেয়েছে পুলিশ। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সবকটি বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় কঠোর বার্তা পাঠানো হয়েছে।

‘দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারে প্রয়োজনে চিরুনি অভিযান’

দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার করতে প্রয়োজনে চিরুনি অভিযান চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর কসবা মাঝিপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘর-বাড়ি পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

পরে স্থানীয় বটেরহাট ডিএস দাখিল মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সহসাই তাদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। যারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে, যারা হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয় কিংবা ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেয়, ভোট আসলেই যারা ভারতবিরোধী স্লোগান দেয় তারাই এ সমস্ত ঘটনা ঘটিয়েছে। এই বিএনপি-জামায়াত ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর চক্র তারাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

পীরগঞ্জের হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ৭১-এর রাজাকারেরা যেমন করত, তাদেরই পরবর্তী বংশধর এরা। আর এদের লালন করে, পোষণ করে বিএনপি-জামায়াত। সুতরাং এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- অ্যাডভোকেট হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শফিক। এ সময় রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বাদল মাস্টারসহ জেলা, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও ৫ হাজার করে নগদ টাকা বিতরণ করা হয়।

ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হওয়া এ দেশ সবার। কিন্তু ওই সময় একটি চক্র স্বাধীনতার বিরোধিতা করে। তারা এ দেশের সম্প্রীতি পছন্দ করে না। যারা দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও অগ্রগতি রোধ করতে চায় তারাই দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টানের এ দেশ সবার।

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৮ পদে নিয়োগ

জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিকদের এসব পদে আবেদন করতে বলা হয়েছে। বুধবার থেকেই অনলাইনে করা যাবে আবেদন।

যেসব পদে নিয়োগ—

১. প্রধান প্রকৌশলী, ১ জন
২. পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), ১ জন
৩. সহকারী অধ্যাপক, ১৪ জন
৪. সহকারী পরিচালক (হিসাব), ১ জন
৫. সহকারী রেজিস্ট্রার/সমমান, ১ জন
৬. প্রভাষক, ১৬ জন
৭. মেডিকেল অফিসার, ২ জন
৮. সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ১ জন
৯. সহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রিক্যাল),১ জন
১০. সহকারী ডাটাবেজ প্রোগ্রামার, ১ জন
১১. উন্নয়ন কর্মকর্তা, ১ জন
১২. শাখা কর্মকর্তা/ সমমান, ১ জন
১৩. হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ২ জন
১৪. উপসহকারী প্রকৌশলী, ১ জন
১৫. প্রশাসনিক কর্মকর্তা/ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৩ জন
১৬. পিএ টু ভিসি/ সমমান, ১ জন
১৭. নার্স বা ব্রাদার্স, ২ জন
১৮. ইমাম, ১ জন

এসব পদের প্রতিটির জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা আবেদনের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও বয়সসীমা। নিয়োগের বিস্তারিত জানা যাবে বিজ্ঞপ্তিতে। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

 

আবেদনের নিয়ম
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফরম https://kau.edu.bd/ -এ থেকে চাকরির আবেদন ফরম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: এসব পদে আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র করা যাবে।