রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 533

চালক ও সহকারীদের থাকতে হবে টিকা সনদ

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে সর্বপ্রকারের যানবাহনের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে টিকা সনদ বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

সোমবার মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না। আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

এছাড়া সর্বপ্রকার যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিকভাবে কোভিড-১৯ টিকা সনদধারী হতে হবে।

এছাড়া ১৩ জানুয়ারি থেকে রেস্তোরাঁয় খেতে হলে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে , করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কাৰ্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

হোটেলে থাকতে ও খেতে টিকা সনদ বাধ্যতামূলক

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এরমধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার লক্ষ্যে সব জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।

এছাড়া ১৩ জানুয়ারি থেকে রেস্তোরাঁয় খেতে হলে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার সনদ প্রদর্শন করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করাসহ ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ নির্দেশনায় বলা হয়, গণপরিবহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার ৫০ শতাংশের বেশি যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না। আগামী ১৩ জানুয়ারি থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে , করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও দেশে এ রোগের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৩ জানুয়ারি ২০২২ তারিখ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক কাৰ্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রে বছরের প্রথম তুষারপাতে বিপর্যস্ত জনজীবন

চলতি বছরের প্রথম তুষারপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জনজীবন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (জানুয়ারি ৬) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া তুষারপাত চলে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত। নিউ ইয়র্কসহ পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ১০-১২ ইঞ্চির বেশি বরফের স্তরে ঢেকে যায় রাস্তাঘাট। হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা প্রবাহিত হওয়ায় মানুষের স্বভাবিক চলাচলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

দশ ঘন্টার লাগাতার তুষারপাতে ইতিমধ্যে অন্তত শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। রাস্তায় যানবাহন আটকে আছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস বন্ধসহ বহু বিমানের সময়সূচি বাতিল করা হয়েছে। চলতি বছরে এটাই প্রথম বড় তুষারপাত বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেছেন।

ভয়াবহ এই তুষারপাতের পূর্বাভাসের পরই বিভিন্ন নগরের মেয়ররা নানা দিক নির্দেশনা জারি করেন। তারা বলেন, ‘সবাই ঘরে থাকুন। রাস্তাকে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন, যাতে জরুরি সেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। কোনো ভুল করবেন না।
তুষারপাতের সঙ্গে কনকনে ঠাণ্ডা বাতাস অধিকাংশ বাসিন্দাকে ঘরের মধ্যে বন্দি করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেছে।তুষারপাত চলাকালে তাপমাত্রা ছিল অনেক কম। তবে বাতাসের কারণে এই ঠান্ডা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই সময়ে বাতাসের গতিবেগ সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ৫০ মাইল।

ইসলামে প্রতিবন্ধীদের অধিকার

মানুষ আল্লাহতায়ালার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। উত্তম আকৃতি দিয়ে মানুষকে আল্লাহ পাক সৃষ্টি করেছেন। কিছু মানুষকে আল্লাহতায়ালা জন্মগতভাবে সৃষ্টিগত কিছু ত্রুটি দিয়ে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন অথবা কেউ জন্মের পর কোনো দুর্ঘটনায় তার অঙ্গহানি বা শারীরিক কোনো সমস্যায় পতিত হন। যাকে আমরা প্রতিবন্ধী বলে অবহিত করি। বাস্তবে এদের এমন সৃষ্টির পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ও মহান রহস্য একমাত্র তিনিই জানেন। তবে কিছু কারণ অনুমান করা যেতে পারে যেমন : বান্দা যেন মহান আল্লাহর একচ্ছত্র ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে যে, তিনি সব বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি যেমন স্বাভাবিক সুন্দর সৃষ্টি করতে সক্ষম, তেমন তিনি এর ব্যতিক্রমও করতে সক্ষম।

আল্লাহ যাকে এ আপদ থেকে নিরাপদে রেখেছেন সে যেন নিজের প্রতি আল্লাহর দয়া ও অনুকম্পাকে স্মরণ করে। অতঃপর তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কারণ আল্লাহ চাইলে তার ক্ষেত্রেও সে রকম করতে পারতেন। এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যেন আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থেকে আখেরাতের মহাসফলতা অর্জন করতে পারেন।

মানুষ হিসাবে আল্লাহর কাছে নারী-পুরুষ, দুর্বল-সবল প্রতিবন্ধী-সুস্থ সবাই সমান। একে অপরের ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কেবল আল্লাহ ভীতিকেই আল্লাহতায়ালা শ্রেষ্ঠত্বের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন। পবিত্র কুরআনে তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট সেই সর্বাধিক সম্মানিত যে সর্বাধিক পরহেজগার এবং আল্লাহভীরু।’ (সূরা হুজুরাত-১৩)। একজন প্রতিবন্ধী মুত্তাকি মুমিন শতসহস্র সুস্থ-সবল কাফের খোদাদ্রোহীর চেয়ে উত্তম। প্রতিবন্ধীরা মানবসমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা আমাদেরই পরিবারের সদস্য। সমাজ ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও ন্যায্য পাওনা সম্পর্কে ইসলাম গুরুত্ব প্রদান করেছে। তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। ইসলাম প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইসলাম প্রতিবন্ধীদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে মানুষকে কর্তব্য সচেতন হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করেছে। কারণ প্রতিবন্ধীরা শারীরিক, মানসিক কিংবা আর্থসামাজিক অক্ষমতা বা অসুবিধার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে সক্ষম হয় না।

প্রতিবন্ধী যেমনই হোক সে আল্লাহর সৃষ্টি, আল্লাহর বান্দা। ইসলামের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা, সাহায্য-সহযোগিতা এবং তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া অবশ্য কর্তব্য। বিপদাপদে প্রতিবন্ধীর পাশে দাঁড়ানো মানবতার দাবি এবং ইমানি দায়িত্ব। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধী, অসহায়দের সঙ্গে অসদাচরণ বা তাদের সঙ্গে উপহাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা ঠাট্টা-মশকারা করা হারাম। এতে আল্লাহর সৃষ্টিকে অপমান করা হয়।

প্রতিবন্ধীর প্রতি দয়া-মায়া, সেবা-যত্ন সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করা মুসলমানদের ওপর একান্ত কর্তব্য। মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম মৌলিক অধিকারগুলো তাদেরও ন্যায্য প্রাপ্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের (বিত্তবানদের) সম্পদে বঞ্চিত ও অভাবীদের অধিকার রয়েছে। (সূরা জারিয়াহ-১৯)।

তাফসিরে তবারিতে বলা হয়েছে, এক যুদ্ধে মুসলমানরা বিজয়ী হয় এবং গনিমতের সম্পদ লাভ করে। তখন ওই আয়াত অবতীর্ণ হয়। রাসূল (সা.) গনিমতের সম্পদের একটি অংশ অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধীদের নামে বিলিয়ে দিতে বলেন। (তাফসিরে তবারি ২৬/১৫৮)।

অন্যত্র নবি (সা.) বলেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্থকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নাও এবং বন্দিদের মুক্ত করে দাও। (সহিহ বুখারি-৫০)।

নবি কারিম (সা.) প্রতিবন্ধীদের সর্বদাই অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) কে নবি কারিম (সা.) অপার স্নেহে ধন্য করেছেন। যখনই তাকে দেখতেন, বলতেন, স্বাগত জানাই তাকে যার সম্পর্কে আমার প্রতিপালক আমাকে ভর্ৎসনা করেছেন। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি কারিম (সা.) এ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সাহাবিকে দুবার মদিনার অস্থায়ী শাসক নিযুক্ত করেন। (মুসনাদে আহমাদ; হা. নং ১৩০০০)। যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক দুর্লভ ঘটনা। নবিজি মদিনার বাইরে কোথাও গেলে তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করে যেতেন। এ জন্য প্রতিবন্ধীকে ভালোবাসা, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করা নবি (সা.)-এর অনুপম সুন্নাত বটে।

শারীরিক অক্ষম ও প্রতিবন্ধীরা রাষ্ট্র, সমাজ ও ধনীদের থেকে সাহায্য সহযোগিতা, ভালোবাসা ও রহমত পাবে। হাদিসে এসেছে, রাসূল (সা.) বলেছেন : ‘আল্লাহ দয়ালুদের ওপর দয়া ও অনুগ্রহ করেন। যারা জমিনে বসবাস করছে তাদের প্রতি তোমরা দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। যে লোক দয়ার সম্পর্ক বজায় রাখে, আল্লাহও তার সঙ্গে নিজ সম্পর্ক বজায় রাখেন। যে লোক দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সঙ্গে দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, ইসলামের ছায়াতলে প্রতিবন্ধীরা সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক দিগবিজয়ী এবং বিখ্যাত ব্যক্তি আছেন যারা তাদের পুণ্যময় কীর্তির কারণে পৃথিবীতে চিরদিনের জন্য ভাস্কর হয়ে আছেন। যারা শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন।

প্রতিবন্ধীদের ইসলামের বিধান পালনের শিথিলতা করা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা কাউকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজ দেন না।’ (সূরা বাকারা-২৮৬)। অন্যত্র বলেন, ‘দুর্বল, রুগ্ণ, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোনো অপরাধ নেই। (সূরা তাওবা-৯১)।

আল্লামা কুরতুবি (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ আলজামে লি আহকামিল কুরআনে ওই আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, আয়াতটি (শরয়ী বিধান) পালনে অক্ষম ব্যক্তি থেকে (বিধান) রহিত করার মূলনীতি। সুতরাং যে ব্যক্তি যে বিধান পালনে অক্ষম হয়ে যাবে, সে বিধান তার থেকে রহিত হয়ে যাবে। (তাফসিরে কুরতুবি ৪/৫৪৮)।

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধের পরিবর্তন হচ্ছে। সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন দেশ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর নানাবিধ কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিবন্ধীবিষয়ক বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণের অঙ্গীকার প্রদান করছে। এটা খুবই ভালো খবর।

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, শুধু আইনি সুরক্ষা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমাজে সহজগম্যতা বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির প্রতি আমাদের সমাজে বিদ্যমান নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করা। ইসলাম তাদের যেভাবে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে তা সবার মনে রাখা দরকার। আল্লাহর কাছে তাকওয়া ছাড়া শারীরিক অবকাঠামোর কোনো মূল্য নেই। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। আর আল্লাহ পুরো মানব জাতিকে সম্মানিত করেছেন।

কুরআনের বর্ণনায় দিগ্বিজয়ী আলেকজান্ডার

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সেই জুলকারনাইন ছিলেন একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তবে তিনি কে, কোন যুগের এ নিয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। তিনি কী নবি, না নবি নন, এ নিয়েও নানা বিতর্ক রয়েছে। আল কুরআনের সূরা কাহাফ-এ বর্ণিত জুলকারনাইনের বিষয়ে প্রাচীন তাফসিরবিদদের মধ্যে ইমাম রাজি (রহ.)-এর মত হলো-জুলকারনাইনের প্রকৃত নাম সিকান্দার। যিনি মূলত আলেকজান্ডার নামে পরিচিত। তিনি দারা ইবনে দারাকে একাধিকবার পরাজিত করেছেন। এ তাফসিরবিদ আরও লিখেছেন, ‘এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, জুলকারনাইন হলেন বাদশাহ সিকান্দার ইবনে ফিলিবুস ইউনানি।’ (আততাফসিরুল কাবির)।

অনেক মুফাসসির বলেছেন, জুলকারনাইন একজন নবি ছিলেন। বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ পর্যালোচনা করলে জানা যায়, প্রাচীনকালে আরব উপদ্বীপে এ নামটি একজন উচ্চক্ষমতাধর ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। আর ওই ব্যক্তি ছিলেন গোটা দুনিয়ার বাদশাহ। তিনি অল্প বয়সেই এত প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী হয়েছিলেন। পবিত্র কুরআন যেমন তার নবি হওয়ার ব্যাপারে কিছু বলেনি, তেমনি তিনি যে নবি নন এ কথাও বলেনি। শুধু বলা হয়েছে, আল্লাহতায়ালা তাকে সব বিষয়ে দিকনির্দেশনা বা কার্যোপকরণ দান করেছেন এবং তিনি দুটি পথ অনুসরণ করলেন। এর মধ্যে এক পথে গিয়ে তিনি ইয়াজুজ-মাজুজের হাতে অত্যাচারিত এক জাতিকে দেখতে পেলেন। তিনি ওদের অত্যাচারের হাত থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য গলিত তামা দিয়ে একটি প্রাচীর বানিয়ে দিলেন।

জুলকারনাইন বা ‘দুই শিংবিশিষ্ট’ ব্যক্তি সম্পর্কে সূরা কাহাফের ৮৩-৮৬ নম্বর আয়াতের আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা আপনার কাছে জুলকারনাইন সম্পর্কে জানতে চায়। আপনি বলুন, আমি তোমাদের কাছে তার কিছু অবস্থা বর্ণনা করব। আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আর প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণও দান করেছিলাম। অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অনুসরণ করলেন। তিনি যখন সূর্যের অস্তাচলে পৌঁছলেন সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন। আর সেখানে এক সম্প্রদায়কেও দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে জুলকারনাইন, তুমি তাদের শাস্তি দিতে পার। আবার তাদের সদয়ভাবে গ্রহণও করতে পার।’

মজলুম ও নিপীড়িত মানুষদের জালেম শাসকদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আল্লাহর এ অনুগত বান্দা জুলকারনাইন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াতেন। সূরা কাহাফের ৯৩ থেকে ৯৮নং আয়াতে জুলকারনাইন অরুণাচলে বা যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে যে দেওয়ালের কথা উল্লেখ আছে তা ইয়াজুজ-মাজুজের অত্যাচার থেকে জনগণকে হেফাজতের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল। যে স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে।

এ প্রাচীর নির্মাণের ঘটনা প্রমাণ করে, ওই জাতি ধাতুর ব্যবহার জানত। ফলে তারা ফুঁক নল দ্বারা বায়ু প্রবাহিত করে ধাতুকে উত্তপ্ত করে গলাতেও পারত। তাই তারা লোহার পিণ্ড ও গলিত তামা দিয়ে প্রাচীর নির্মাণের কাজটি সহজে সম্পন্ন করতে পেরেছিল। জুলকারনাইন তাদের এ প্রতিরোধ প্রাচীর তৈরির সব উপাদান ও শ্রম সরবরাহ করতে বললেন। তারা নিজেরাই জুলকারনাইনের পরামর্শ অনুযায়ী সেই দুই পর্বতের মাঝে শক্ত লোহার প্রাচীর তৈরি করল। জুলকারনাইনের পরামর্শে নির্মিত সেই প্রাচীরটি আসলে কোথায় তা সঠিকভাবে কেউই বলতে পারে না। তবে উপরিউক্ত প্রাচীরের বর্ণনার সঙ্গে মিল রেখে এমন একটি দেওয়াল রয়েছে কাসপিয়ান সাগরের উপকূলে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ ধরনের একটি দেওয়াল তৈরি করেছেন আলেকজান্ডার। এটি তৈরি করতেও লোহা ও তামার ব্যবহার হয়েছে। একটি তোরণও রয়েছে সেখানে; যা ‘কাসপিয়ান গেট’ বা ‘আলেকজান্ডারের গেট’ নামে পরিচিত। যার ব্যাপ্তি দারিয়াল ও দারবেন্ত নামে দুটি শহরের মাঝে। দারিয়াল রাশিয়া ও জর্জিয়ার সীমান্তে অবস্থিত। এটিকে বলা হয় কাজবেক পাহাড়ের পূর্ব প্রান্ত। দারবেন্ত রাশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত একটি শহর। কাসপিয়ান সাগরের দক্ষিণপূর্ব উপকূলে নির্মিত এ দেওয়ালটি তৈরি করা হয়েছে দুটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকে; যা পৃথিবীর উঠান নামেও প্রসিদ্ধ। এ দেওয়ালের উচ্চতা ২০ মিটার আর প্রস্থ ৩ মিটার।

মজলুম মানুষের বন্ধু এ ন্যায়বান শাসক গোটা মানবকুলের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে আছেন। কারণ পৃথিবীর এ চাকচিক্য কারও জন্যই স্থায়ী নয়। সবাইকে একদিন শূন্য হাতে ফিরে যেতে হবে। পাড়ি জমাতে হবে সেই অনন্ত পথের দিকে। সেখানে আল্লাহ ছাড়া মানুষের সহায়ক আর কেউ হবে না। দুনিয়ার নেক আমলগুলো শুধু উপকারে আসবে। তাই তিনি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করে বলেছিলেন, আমার মৃত্যুর পর যেন আমার দুই হাত কাফনের বাইরে বের করে রাখা হয়। তার কাছে এর কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, শান-শওকত, ধনসম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি কত কিছু ছিল আমার। এখন কিছুই আমি সঙ্গে নিতে পারছি না। খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক

স্মার্টফোনের ধারণাই বদলে দেবে ‘পাই’

স্মার্টফোন বলতেই চোখের সামনে কী ভাসে? সব কাজের কাজি আর আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ-তাই তো? বলতে গেলে হেন কিছু নেই, যা করা যায় না। কিন্তু এরপরও কোথাও তো থামতে হচ্ছে, অর্থাৎ কিছু সীমাবদ্ধতা তো রয়েছেই। এবার সেটিও দূর করতে মাঠে নেমেছেন প্রযুক্তি খাতের নামি উদ্যোক্তা ‘ভিনগ্রহের মানুষ’খ্যাত ইলন মাস্ক। তার প্রতিষ্ঠান টেসলা এমন ‘সুপার ফোন’ আনছে-যাতে ‘স্মার্টফোন’ নিয়ে আপনার ধারণাই বদলে যেতে পারে। প্রযুক্তি বাজারে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জন সত্যি কি না-এবার সেটিই দেখার অপেক্ষা। দ্য গার্ডিয়ান।

 

পরবর্তী প্রজন্মের এ ডিভাইসটির নাম ‘পাই’ (টেসলা মডেল পাই)। ফাইভজি প্রযুক্তির ফোনটি চলবে স্যাটেলাইটেও। অর্থাৎ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সংকেত ব্যবহার করেই এটি কাজ করবে। সেটি হলে পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই হবে প্রথম স্মার্ট স্যাটেলাইট মোবাইল ফোন।

স্যাটেলাইট দুনিয়ায় এমনিতেই রাজত্ব টেসলারের। আর তাদেরই নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের সংকেত মঙ্গলগ্রহেও মিলবে বলে এ ফোন ব্যবহার করা যাবে মঙ্গলেও। আর পৃথিবীর বুকে যেখানেই হোক কথা বলা যাবে নির্বিঘ্নে। বন, পাহাড়, সাগর যে কোনো দুর্গম এলাকায় এটি থাকবে সক্রিয়। স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না বলে দিনরাত ঝড়-বৃষ্টির তফাতেও কোনো হেরফের হবে না এ যোগাযোগে। এমনকি বাজ পড়লেও সচল থাকবে নেটওয়ার্ক। ২১০ এমবিপিএস পর্যন্ত ডাউনলোড সুবিধা মিলবে এ ফোনে।

ফোনটিতে থাকতে পারে নিউরালিংক প্রযুক্তিও। নিউরালিংক হচ্ছে মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ। অর্থাৎ এ প্রযুক্তি থাকলে অনেক কাজের জন্য কেবল চিন্তা করেই নির্দেশ দেওয়া যাবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, কেউ চাইল ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় কাটাবেন-এজন্য হাতে অপারেট করতে হবে না, ইউটিউব চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেই ফোনে চলতে থাকবে।

টেসলার মডেল পাই সুদর্শন। এর ওপর ফোনটির শরীরে এমন একটি বিশেষ আবরণ আছে, যা পরিবেশ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মিল রেখে রং পরিবর্তন করবে। চার্জ হবে সূর্যকিরণে। এর চার হাজার রেজুলেশনের সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লের স্ক্রিনটি হবে সাড়ে ৬ ইঞ্চির। ফোনের স্টোরেজ বা মেমোরি হবে ২ টেরাবাইট! মোটামুটি গড়পড়তা বলা যায় দুটি কম্পিউটারের সমান স্মৃতিশক্তি থাকবে ফোনটিতে। এতে প্রসেসর হিসাবে থাকছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগনের ৮৯৮ বা তার চেয়ে বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন চিপসেট।

পাই ফোনের পেছনে থাকবে ৪ লেন্সের ১০৮ মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। বিশেষ ক্ষমতার এ ক্যামেরায় তারাভরা আকাশের ছবি তোলা যাবে কোনো ধরনের লং এক্সপোজার ছাড়াই। এমনকি মহাকাশে ছায়াপথের ছবি তোলাও এর কাছে নস্যি। তাই জ্যোতির্বিজ্ঞানমনস্ক কিংবা শৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি হবে ‘হাতের মুঠোয় সোনার হরিণ’।

তবে ফোনটি কিনতে গাঁটের পয়সা ভালোই খরচ করতে পারে। প্রচলিত স্মার্টফোনের চেয়ে এর দাম একটু বেশিই পড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, এর দাম হবে ২৫০০ থেকে ৪০০০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় সোয়া দুই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা)। তবে ফোনটি নিয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেয়নি টেসলা। কবে বাজারে ছাড়া হবে, আসেনি সে তথ্যও। তবে নেটিজেনরা বলছেন এ বছরের মধ্যেই মানুষের হাতে আসবে তা।

শাম্মীস্ কিচেনের ২য় বর্ষপূর্তিতে সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

নরসিংদীর মাধবদীতে ‘সেরা রেসিপি নরসিংদীর তাজ-২০২২’ শীর্ষক সেরা রাঁধুনি প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে শাম্মীস্ কিচেনের ২য় বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে।

মাধবদীর পৌর শহরের ক্যাপ্টেন লাউঞ্জে শুক্রবার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্প্রতি দেশব্যাপী আয়োজিত রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘শেফ প্রিমিয়ার লীগ-২০২১’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন মাধবদীর শাম্মীস্ কিচেনের সিইও ফারজানা তাবাসসুম শাম্মী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও মাইটিভির পরিচালক তৌহিদ আফ্রিদি।

অনুষ্ঠানে বিচারক ছিলেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তাসনিম আশিক এবং নাহার কুকিং ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী ও প্রশিক্ষক রন্ধন বিশেষজ্ঞ হাসিনা আনছার।

মাধবদী থানা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. আল-আমিন সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি শেফ ছিলেন- ইন্টারন্যাশনাল করপোরেট এক্সিকিউটিভ শেফ মাস্টার শেফ ড্যানিয়েল সি গোমেজ, আন্তর্জাতিক রন্ধন সম্পর্কীয় ইনস্টিটিউটের এক্সিকিউটিভ শেফ রাজু ইভান গোমেজ, ইওএন গ্রুপের এক্সিকিউটিভ শেফ মো. আনোয়ার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ৯ প্রতিযোগী তাদের রান্না করা খাবার বিচারক এবং অতিথি শেফদের সামনে পরিবেশন করেন। বিচারক ও অতিথি শেফরা তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

বিজয়ীদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন ফামিয়া জাহান, দ্বিতীয় অনিতা শেখ এবং তৃতীয় হয়েছেন রিনা রহমান। পরে তাদেরকে গোল্ড ক্রাউন ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

পেপটিক আলসার কেন হয়, কী করবেন?

আলসার একটি জটিল রোগ। যেটি রোগীকে দীর্ঘসময় ভোগায়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এবং জীবন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনলে এই রোগ থেকে সহজেই পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের বৃহদান্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল হক।

গ্যাস্ট্রিক বা আলসার নামটির সঙ্গে পরিচিত নন এমন লোক খুঁজে বের করা কঠিন হবে। সাধারণ লোকজন গ্যাস্ট্রিক বা আলসার বলতে যা বুঝিয়ে থাকেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে পেপটিক আলসার বলা হয়।

পেপটিক আলসার কেন হয়

* রোগ-জীবাণু : হেলিকোবেক্টার পাইলোরি নামক এক প্রকার অনুজীব এ রোগের জন্য বহুলাংশে দায়ী।

* বংশগত : নিকটতম আত্মীয়-স্বজন এ রোগে ভুগে থাকলে তাদের পেপটিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও’ তাদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।

* ধূমপান : ধূমপায়ীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি।

* ওষুধ: ব্যথানাশক ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

সাধারণত যে কথাটা প্রচলিত ভাজা-পোড়া কিংবা ঝাল জাতীয় খাবার খেলে পেপটিক আলসার হয়। এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মেলেনি। যারা নিয়মিত খাবার খান না না কিংবা দীর্ঘ সময় উপোস থাকেন তাদের মধ্যে পেপটিক আলসার দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসা

*পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীদের অবশ্যই ধূমপান বন্ধ করতে হবে।

*ব্যথানাশক ওষুধ ও এসপিরিন জাতীয় ওষুধ সেবন থেকে যথা সম্ভব বিরত থাকতে হবে এবং নিয়মিত খাবার খেতে হবে।

*পেপটিক আলসারের রোগীরা সাধারণত এন্টাসিড, রেনিটিডিন, ফেমোটিডিন, ওমিপ্রাজল, লেনসো প্রাজল, পেনটো প্রাজল জাতীয় ওষুধ সেবনে উপকৃত হন।

*জীবাণুজনিত কারণে যদি এ রোগ হয়ে থাকে তবে বিভিন্ন ওষুধের সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজে অনুষ্ঠিত হলো রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী

ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রামপুরার আফতাবনগরে স্থায়ী ক্যাম্পাসে রজতজয়ন্তী ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির সদ্য বিদায়ী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে দুই যুগ আগের শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিলো অনুষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সূচনা বক্তব্যে অধ্যক্ষ আরিফ আহমেদ জানান শুরু থেকে আজ অবধি প্রতিষ্ঠানটি ধুমপান ও রাজনীতি মুক্ত এবং শিক্ষার গুনগত মান অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নিত করা হবে বলে।

অপর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাজহারুল ইসলাম জানান আমাদের ছাত্ররা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার এবং আমেরিকার নাসায় কর্মরত।

অন্যদিকে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মশিউর রহমান জানান জ্ঞান চর্চাই মানুষের সবচেয়ে বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি জানান ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজে শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতি চর্চায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাদের উদ্বোধনী সংস্কৃতি অনুষ্ঠানটি আমার হ্নদয় ছুঁয়েছে। তাছাড়া তিনি আরও জানান শিক্ষায় সকলকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

প্রতি মিনিটে গড়ে ৬৫৫ আবেদন

কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির লক্ষ্যে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শনিবার শুরু হয়েছে। সকাল ৯টায় সার্ভার খুলে দেওয়া হয়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২ লাখ ৭৫ হাজার ১২১ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। সেই হিসাবে প্রতি মিনিটে ৬৫৫টি আবেদন পড়েছে। একজন শিক্ষার্থী সর্বনিু ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ তালিকায় দিতে পারবে। কিন্তু গড়ে প্রতি শিক্ষার্থী ৫ দশমিক ৫১টি প্রতিষ্ঠান তালিকায় দিয়েছে। অর্থ্যাৎ উল্লিখিত সংখ্যক শিক্ষার্থী মোট ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৫টি কলেজ পছন্দ তালিকায় দিয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এদিকে একইসঙ্গে বিভিন্ন ডিপ্লোমা শিক্ষাক্রমেও ভর্তির আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এবারও সবধরনের কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শিক্ষার্থীদের আসন বণ্টন করা হবে। এদিন একইসঙ্গে চার্চ পরিচালিত ঢাকার চার কলেজেও অনলাইনে আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকার সেন্ট যোসেফ, হলিক্রস সেন্ট গ্রেগরি এবং নটর ডেম কলেজ আছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তি পরীক্ষা নেবে।

আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আবেদন নেওয়া হবে। পরে তিন ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। এবার শুধু অনলাইনে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির xiclassadmission.gov.bd শীর্ষক ওয়েবসাইটে যেতে হচ্ছে। আবেদন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং ভর্তির সাইটেও মিলছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যারা এসএসসি পাশ করেছে তারা আবেদন করতে পারবে। তবে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পাশ করা যে কোনো বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। আর যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও দাখিলের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেছে, তারা ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ভর্তির আবেদন করবে। এরপর ফল পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্টরা ২২ ও ২৩ জানুয়ারি আবেদন করতে পারবে। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হবে। আর ২৯ জানুয়ারি প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফি-সহ আবেদন করতে হবে। ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেওয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।

আবেদন ও নির্বাচন পর্ব শেষে ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। এবার আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। নীতিমালায় ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফিসহ সব ব্যয় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেটি অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, ঢাকা মহানগরের বাইরে ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার আর উপজেলা ও মফস্বলে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা যাবে। নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশনচার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে। উন্নয়ন ফি আদায় করা যাবে না।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড : এদিকে কলেজ-মাদ্রাসার মতো বুয়েটের কারিগরি সহায়তায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি টেক্সটাইল, কৃষি, ফিশারিজ, ফরেস্ট্রি এবং লাইভস্টক শিক্ষাক্রমেও শনিবার ভর্তি করা হচ্ছে। আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.btebadmission.gov.bd) পাওয়া যাচ্ছে।