রবিবার ,১৭ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 532

নাঈম কেন একাদশে, বলতে চান না প্রিন্স

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ দল, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে।

নিউজিল্যান্ডের করা ৫২১/৬ রানের জাবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি ও কাইল জেমিসনের গতির মুখে পড়ে ইনিংসের শুরু থেকেই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

২৭ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ইয়াসির আলী রাব্বি ও নুরুল হাসান সোহান জুটিতে তুলে ৬০ রান। একটা সময়ে ৫ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮৭ রান। এরপর আবারও ব্যাটিং ধস। শেষদিকে ৩৯ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানেই অলআউট বাংলাদেশ।

দলের হয়ে ইয়াসির আলি রাব্বি আর নুরুল হাসান সোহান ৫৫ ও ৪১ রান করেন। দুই অঙ্কোর ফিগার রান করতে পারেননি বাকি ৯ ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৫ উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট, তিন আর দুই উইকেট নেন টিম সাউদি ও কাইল জেমিসন।

ক্রাইস্টচার্চে অভিষেক হওয়া জাতীয় দলের ওপেনার নাইম শেখ ফেরেন শূন্যরানে। প্রশ্ন উঠেছে জাতীয় লিগে দুর্দান্ত পারফর্ম করা ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে রেখে কেনো নাইমকে ওপেনিং করানো হলো?

এ ব্যাপারে ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স বলেন, আমি তো নির্বাচক প্যানেলের কেউ নই। এই প্রশ্নের উত্তর নির্বাচক প্যানেল থেকে পেতে পারেন। নাঈমও তো একজন ওপেনার, যদিও টি-টোয়েন্টিতে। সেখানে তো সে ভালোই করেছে।

‘মুমিনুল, সৌম্য, সাব্বিররা আমার হাতে গড়া’

প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশ দলের নির্বাচকের ভূমিকা পালন করছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। তবে নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়কের হাত ধরেই জাতীয় দলে একঝাঁক খেলোয়াড় এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, আবুল হাসান রাজুর মতো প্রতিভাবানরা।

নান্নু বলেন, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে কোচিংয়ে ছিলাম। তখন খেলোয়াড় তৈরি করেছি। দেখুন ২০০৯-১০ সালে আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচ ছিলাম। সেই ব্যাচের ১৬ জন জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছে। মুমিনুল আমার ব্যাচের খেলোয়াড়। সৌম্য, সাব্বির, বিজয়, রাজু- সবাই আমার হাতে গড়া।

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের ভূমিকা পালন করে যাওয়া নান্নু আরও বলেন, কোচিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আমি কাটিয়েছি। কোচ হিসেবে আমি যখন কাজ করেছি তখনকার পাইপলাইনের সব খেলোয়াড়ই কিন্তু এখন জাতীয় দলে। এখানে একটা তৃপ্তি অবশ্যই আছে।

কোচিং রেখে নির্বাচকের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের মুখোমুখি হওয়া সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার বলেন, নির্বাচক হয়ে কাজ করা- এটা বিরাট ক্ষেত্র। এখানে একা কোনো কাজ করা যায় না। টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কাজ করতে হয়, কোচ-অধিনায়কের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে হয়। আমি মনে করি বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য যতটুকু কাজ করা দরকার তা আমরা ভালোই করেছি।

ব্রিজের অভাবে ৮ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়ার ৯নং ওয়ার্ডের ধলিবিলা-আঁধারমানিক সংযোগ সড়কে হাঙ্গরখালে একটি ব্রিজের অভাবে এলাকাবাসী ও ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ব্রিজ না থাকায় তাদের প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

হাঙ্গরখালের উত্তরপাড়ে ধলিবিলা মঈনুল উলুম রহমানিয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, ধলিবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বান্দরবান সদরের আলী নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আর দক্ষিণ পাড়ের আঁধারমানিক পি.ডি.সি উচ্চ বিদ্যালয়, আঁধারমানিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আঁধারমানিক বিদ্যা কানন একাডেমি, শাহ মজিদিয়া মদিনাতুল উলুম হেফজখানা ও এতিমখানা এবং শাহ মজিদিয়া ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে।

খালের দুই পাশের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২ হাজার ছাত্রছাত্রী এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে। এছাড়াও খালের উত্তর পাড়ের ধলিবিলা এলাকার হাফেজার বর পাড়া, মধ্যম ধলিবিলা, চৌধুরী পাড়া, হানিফার চর, সেনার চর, মালিচাঁন পাড়া, চাঁন্দার পাড়া ও হাঙ্গর খালের দক্ষিণ পাড়ের বিবিজান বিবির পাড়া, আশা বিবির পাড়া, নুরজাহান বিবির পাড়া, আলী বিবির পাড়া, সাতঘর পাড়া, শীল পাড়া, পাল পাড়া, আওয়াল পাড়া, দীঘির পাড়ার প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের পথ এই নড়বড়ে সাঁকো। আঁধারমানিক পিডিসি উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের অর্থায়নে এ সাঁকো প্রতিবছর নির্মাণ করা হয়।

এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের দাবি এই স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করলে তাদের দুর্ভোগ দূর হবে।

আঁধারমানিক পিডিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মর্জিনা আক্তার, তানিয়া সুলতানা, আয়েশা বেগম ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. মিনহাজ জানান, বর্ষাকালে খালে পানি বৃদ্ধি পেলে হাঙ্গর খালের ওপর নির্মিত সাঁকোটি পানিতে ডুবে যায়। তাই চার কিলোমিটার দূরে মাঝের দোকান হয়ে তাদের স্কুলে যেতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ হলে তাদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে সহজ হয়।

আঁধারমানিক বিদ্যাকানন একাডেমির শিক্ষক মোহাম্মদ জাহেদ জানান, সাঁকোটি দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী চলাচল করে। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি আঁধারমানিক ধলিবিলা সংযোগ সড়কে হাঙ্গর খালের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে যাতায়াতে কষ্ট দূর হবে।

কৃষক আহমদ উল্লাহ জানান, ব্রিজ না থাকায় হাঙ্গর খালের দুই পাশে উৎপাদিত নানা কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাছাড়াও বর্ষাকালে সাঁতরে খাল পার হতে গিয়ে প্রায় প্রতি বছর কেউ না কেউ ভেসে গিয়ে মারা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলমগীর জানান, ওই স্থানে হাঙ্গর খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হবে। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মুহাম্মদ ইফরাদ বিন মুনির জানান, এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করলে ব্রিজের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান হাবিব জিতু বলেন, আঁধারমানিক-ধলিবিলা সংযোগ সড়কে হাঙ্গর খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ খুবই জরুরি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

দুই কূলই হারালেন রীনা

মাধবপুরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে গিয়ে জেলা পরিষদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফাতেমা তুজ জোহরা রীনা। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে যান তিনি।

উপজেলার একমাত্র চেয়ারম্যান নারীপ্রার্থী ছিলেন রীনা। ৫ম ধাপের নির্বাচনে ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। শক্তিশালী বিদ্রোহী থাকায় দলীয় অধিকাংশ নেতাকর্মী নৌকা ছেড়ে বিদ্রোহী শহিদ উদ্দিনের আনারস প্রতীকে প্রচারণায় ছিলেন।

রীনা নৌকা প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৯০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সংরক্ষিত নারী আসন থেকে নির্বাচিত হন। ৫ম ধাপে নির্বাচনে তিনি ছাতিয়াইন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে জেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন।

অবশেষে দুই কূলই হারালেন। এই ইউনিয়নে ৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বিএনপির মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিকটতম আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৮০ ভোট।

কাবুল জুড়ে ব্যানার, নারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা তালেবানের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দেয়াল ও গাছ ছেড়ে গেছে তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি নৈতিকতা ও পাপ প্রতিরোধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ব্যানারে। ওই সব ব্যানারে নারীদের হিজাব পরার ব্যাপারে সুপারিশ করা হয়েছে। আফগানিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যম খামা নিউজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

হিজাব ছাড়া নারীদের গণপরিবহণে না তোলার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়ার কয়েকদিন পরই নতুন নির্দেশনা জারি করল তালেবান।

রোববার কাবুলে প্রথম এই ধরনের ব্যানার দেখা যায় বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ওইসব ব্যানারে ছবির সাহায্যে হিজাব ও আবাইয়ার পার্থক্য বোঝানো হয়েছে। আবাইয়া হলো আফগানিস্তানের ঐহিত্যবাহী পোশাক, যেখানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত নীল রঙের বোরকায় আবৃত থাকে। চোখও ঢাকা থাকে সূক্ষ জালের মতো কাপড় দিয়ে।

তালেবান জানিয়েছে, নারীদের শুধু হিজাব পরার সুপারিশ করা হয়েছে। নারীদের হিজাব পরার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। হিজাব পরার ক্ষেত্রে নারীদের কেউ বাধ্য করলে সেটা বরদাস্ত করা হবে না বলেও তালেবান জানিয়েছে।

তালেবান ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ মাস হয়ে গেছে। কিন্তু তালেবানের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পায়নি কোনো নারী। এমনকি উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নারীদের এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য তালেবার সব সময়ই দেশের নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে দায়ি করে আসছে।

মাসুদের সঙ্গে বৈঠকে যা বললেন তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আফগানিস্তানে তালেবান বিরোধী নর্দান অ্যালায়েন্সের নেতা আহমেদ মাসুদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি । ইরান সফররত মুত্তাকি সোমবার সেখানে আহমেদ মাসুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় হেরাত প্রদেশের সাবেক গভর্নর ইসমাইল খান উপস্থিত ছিলেন। আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তালেবানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিষয়টি টুইটারে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাসুদ ও ইসমাইল খানকে আফগানিস্তানে নিরাপদে ফিরে আসার ব্যাপারে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য তালেবানের একটি প্রতিনিধি দল স্থানীয় সময় শনিবার রাতে তেহরানের উদ্দেশে কাবুল ছাড়েন।

এ ব্যাপারে তালেবানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হাফিজ জিয়া আহমেদ জানান, এই সফরে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতসহ আফগান শরণার্থী ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা হবে।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর কট্টরপন্থী এই সংগঠনের বিরুদ্ধে পাঞ্জশির প্রদেশ থেকে লড়াই চালিয়ে আসছিলেন মাসুদবাহিনী। পরে এক সময় তার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসে।

অন্যদিকে হেরাত পতনের পর সেখানকার তৎকালীন গর্ভনর ইসরাইল খান আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ইরানে আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে।

উচ্চ খেলাপি ঋণ ও জালিয়াতিতে অস্বস্তি

দেশের নয়টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের ঋণ জালিয়াতির কারণে সার্বিকভাবে এ খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। জালিয়াতির অর্থ আদায় না হওয়ায় প্রায় সব প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের মোটা অঙ্কের অর্থ আটকে রয়েছে। এগুলোর বিপরীতে কোনো আয় হচ্ছে না। উলটো এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও আইনি কাঠামোতে খরচ বাড়ছে। এসব মিলে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে আর্থিক খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্র জানায়, ৩৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক সংকটের কারণে ১১টিই আমানতকারীদের অর্থ সময়মতো ফেরত দিতে পারছে না। একদিকে আগের ঋণ আদায় করতে না পারা, অন্যদিকে নতুন আমানতের প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় তহবিল সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে কমে গেছে বিনিয়োগ। গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অনাস্থা। কমে যাচ্ছে গ্রাহক। বিভিন্ন সূচকে নেতিবাচক অবস্থা দেখা দিয়েছে। এসব মিলে অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান কমে গেছে, যা নিয়ে শঙ্কিত নীতিনির্ধারকরা।

করোনার আগে ও পরে নানা ধরনের সুবিধা দিয়ে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর কারণ অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গবেষণায় দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ঋণের একটি অংশ আসত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। এ খাতের জোগান কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে ঋণ প্রবাহ বাড়ছে না।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় খেলাপি ঋণ বেড়েছে মাত্রাতিরিক্ত হারে। খেলাপির কারণে প্রভিশন খাতে আটকে গেছে বিপুল অঙ্কের অর্থ। ওইসব অর্থ থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। বেড়ে গেছে নন-পারফর্মিং লোন বা অকার্যকর ঋণ। এতে একদিকে আয় কমেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ব্যয়।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নজিরবিহীন দুর্নীতির কারণে আমানতকারীদের অর্থ ঋণের নামে গায়েব করে দেওয়া ও গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে না পারায় গ্রাহকদের আস্থায় চিড় ধরেছে। এ কারণে গ্রাহকরা নতুন আমানত রাখা কমিয়ে দিয়েছেন। ঋণগ্রহীতারাও চাহিদামতো ঋণ বা লিজ না পেয়ে ব্যবসা গুটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। এতে এ খাতের ব্যবসা কমে যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে অবদান কমছে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, আর্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোয় আমানত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ছিল ৪৩ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। ওই সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তা কমে হয়েছে ৪২ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা। ওই সময়ে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে আমানত কমেছে ৫৩১ কোটি টাকা। আমানতের প্রবৃদ্ধি কমেছে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ওই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সব খাতের আমানত কমেছে।

২০২০ সালে সেপ্টেম্বরে ঋণ বা লিজ বিতরণের স্থিতি ছিল ৫৫ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ওই সময়ে ঋণ প্রবাহে প্রবৃদ্ধি কমেছিল ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে ঋণ বা লিজ বেড়ে হয়েছে ৫৬ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ঋণ বাড়লেও প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের প্রায় অর্ধেকই বিতরণ করে শিল্প ও ভোক্তা খাতে। এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি বড় অংশ আসে শেয়ারবাজার থেকে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমেছিল ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে কমেছে ২ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিনিয়োগ কমায় আয় কমে গেছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোয় গ্রাহকদের বিনিয়োগ হিসাবও কমেছে। গত মার্চে ঋণ হিসাব ছিল ১ লাখ ৯২ হাজারটি। গত সেপ্টেম্বরে তা কমে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪০০তে দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে ঋণ হিসাব কমেছে দেড় শতাংশ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালের জুন থেকে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়েছে ১৫ দশমিক ০১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নেতিবাচক হয়েছে ১৫ দশমিক ০৪ শতাংশ। নতুন বিনিয়োগ কমা ও আগের বিনিয়োগ খেলাপি হওয়া এবং করোনার কারণে ঋণ আদায় স্থগিত থাকায় দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়েনি। বরং অনেক খাতে কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সার্বিক সূচকে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার মাত্রাতিরিক্ত বাড়ায় মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসাবে দেখা দিয়েছে।

এফএএস ফাইন্যান্সের পর্ষদের আদালত কর্তৃক নিয়োজিত চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, একবার দুর্নাম হয়ে গেলে গ্রাহকরা আর টাকা রাখতে চায় না। বেশকিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হয়ে গেছে। যে কারণে মানুষ টাকা রাখতে চাচ্ছে না। যদিও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ভালো চলছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণ বা লিজের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ঋণ জালিয়াতির অর্থ আদায় না হওয়ায় খেলাপি হতে শুরু করায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর খেলাপি ঋণ এক লাফে বেড়ে ১০ হাজার ২৫০ কোটি দাঁড়ায়, যা মোট ঋণের সাড়ে ১৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে সামান্য কমে ১০ হাজার ৬ কোটি টাকা হয়। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাময়িক হিসাবে তা আরও বেড়ে ১০ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা হয়েছে, যা মোট ঋণের প্রায় ১৬ শতাংশ। পৌনে তিন বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে দ্বিগুণ।

ঋণ জালিয়াতি হওয়া সাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের ৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৭৫ শতাংশ। এফএএস ফাইন্যান্সের ১ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্সের ৮০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯৬ শতাংশ। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের ৬৬০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬২ শতাংশ। ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের ৪৮০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫০ শতাংশ। ফার্স্ট ফাইন্যান্সের ২৮০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২ শতাংশ। পিপলস লিজিংয়ের ৭৮৮ কোটি টাক, যা মোট ঋণের ৬৮ শতাংশ। অর্থাৎ ৭টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। বাকি ২৬টি প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা খেলাপি। অর্থাৎ মোট খেলাপি ঋণের ৮২ শতাংশই রয়েছে ৭ প্রতিষ্ঠানে। বাকি ১৮ শতাংশ ২৬ প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের (পিএফআই) ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় তাদেরও খেলাপি ঋণ বেড়েছে।

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এর আগে নতুন বছরের প্রথম পাঁচ কার্যদিবস শেয়ারবাজার টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকে। এতে বছরের প্রথম সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ২৩০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। আর বাজার মূলধন বাড়ে ১৫ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৪ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৯৩২ পয়েন্টে নেমেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৫৭৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৬৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৪৬১ কোটি ৮ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় এক হাজার ৬৮৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ২২২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বাজারটিতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪৮টির। আর ৩২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হলেও চারটি কোম্পানির চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। এ চার কোম্পানির মধ্যে রয়েছে- খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, বসুন্ধরা পেপার মিল, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং রংপুর ফাউন্ড্রি। এ চার প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম দিনের লেনদেন শুরুর অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যায় এবং লেনদেনের শেষ পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। ফলে লেনদেনের প্রায় সম্পূর্ণ সময় ধরেই এ চার কোম্পানির বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য পড়ে থাকে।

এদিকে সূচকের বড় পতনের বাজারে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১০৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ৮০ কোটি ৫৫ লাখ এবং তৃতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০ কোটি ১৯ টাকা। এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে-লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, পাওয়ার গ্রিড, ফরচুন সুজ, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সাইফ পাওয়ার টেক এবং পেনিনসুলা চিটাগাং।

একইদিন অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৮৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে।

সরকারের পতন না হলে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়: আফরোজা আব্বাস

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি বেগম আফরোজা আব্বাস বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসার জন্য সর্বপ্রথম এ অবৈধ সরকারের পতন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের পতন না ঘটাতে পারলে আমরা আমাদের মায়ের সুচিকিৎসা দিতে পারবো না, মুক্তিও হবে না। সে জন্য মহিলা দলের নেতৃত্বে আগামী দিনের আন্দোলনে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সোমবার দুপুরে শহরের বজ্রাপুর এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল জামালপুর জেলা শাখার কর্মী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সভানেত্রী বেগম আফরোজা আব্বাস এসব কথা বলেন।

মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস আরও বলেন, সরকার বিএনপিকে ভয় পায় বলেই এখন কোথাও কোনো সভা, সমাবেশ করতে দেওয়া হয় না। কারণ তারা জানে যদি আমরা সভা-সমাবেশ করি তাহলে সরকারের সব অপকর্ম আমাদের সত্য কথার মাধ্যমে উঠে আসবে, তাদের মুখোশ জনগণের কাছে উন্মোচন হবে।

তিনি জানান, বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি ভয় পাই এ দেশের জনগণকে, দেশের নারীদের। কারণ এ অবৈধ সরকার সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে নারী সমাজকে। নারীরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত। সুতরাং এই সরকারকে আর কোনভাবেই সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি আগামী দিনে সরকার পতনের আন্দোলনে নারীদের সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহবান জানান।

জামালপুর জেলা মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাঈদা বেগম শ্যামার সঞ্চালনায় বিএনপির কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন প্রমুখ।

কর্মী সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে জামালপুর জেলা মহিলা দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সেলিনা বেগমকে সভাপতি, সাঈদা বেগম শ্যামাকে সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট দিলরুবা ও শামিমা বেগম রুবিকে সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী মহিলা দল জামালপুর জেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তৈমুরের নির্বাচনি সমন্বয়ক বিএনপি নেতা রবি আটক

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবিকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের হিরাঝিলে তার বাসা থেকে আটক করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

মনিরুল ইসলাম রবি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের সিদ্ধিরগঞ্জের নির্বাচনি সমন্বয়ক।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মনিরুল ইসলাম রবি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে। এরপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে রবির মুক্তির দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে আটক করা হয়েছে। কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়েছে।