শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 369

দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় হার্ডলাইনে বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় একটি পক্ষের তৎপরতা নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে বিএনপি।

দলীয় হাইকমান্ডকে না জানিয়ে ২০১৯ সালে কথিত এই ‘তৃতীয় পক্ষের’ সঙ্গে সমঝোতা করে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। সম্প্রতি তারা আবারও তৎপর বলে তথ্য রয়েছে দলটির নীতিনির্ধারকদের কাছে।

বিশেষ করে দলের নির্দেশ অমান্য করে ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে ২৭ মার্চ ঢাকায় ‘পেশাজীবী সমাবেশ’ এবং নেপালে গোপন বৈঠক হয়। বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আবারও নড়চড় শুরু হয়েছে।

এসব বিষয়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ইতোমধ্যে শওকত মাহমুদের কাছে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে দলটি। এছাড়া সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে পদাবনতি করে নির্বাহী কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে ওই তৎপরতার সঙ্গে জড়িত এমন অন্তত ২০ নেতাকে নজরদারিতে রেখেছেন হাইকমান্ড। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের বহিষ্কার অথবা পদাবনতি করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, দীর্ঘদিন থেকে বিএনপির মূল নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে দলে এবং জোটে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এতে নানা কারণে ক্ষুব্ধ ও হতাশ নেতাদের যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের নানা টোপ দেওয়া হচ্ছে। দল ও জোটের এমন অন্তত ৪০ নেতার সঙ্গে বিভিন্ন সময় নেপাল ও ব্যাংককে বৈঠক হয় এই মহলের সঙ্গে।

২০১৯ সাল থেকে ওই তৎপরতা শুরু হয়। সর্বশেষ গত মাসেও দেশের বাইরে এমন বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনেরও অন্তত ১৪ নেতা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা তলব করে আমাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ৫ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। আমি যেহেতু দল করি তাই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই চিঠির লিখিত জবাব দেব।

এ বিষয়ে অন্য কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, একটা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী কখনই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারে না। দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, সে বিষয়ে গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে।

নীতিনির্ধারকরা জানান, নজরদারিতে থাকা নেতাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, বিএনপির ভেতরে থেকে দলের ক্ষতির চেষ্টা করছেন তারা। বিশেষ একটি গোষ্ঠীর পক্ষ হয়ে তারা ‘সরকার পতন’র পাশাপাশি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘মাইনাস’ করে বিএনপির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

বিশেষ করে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত নেতারা বিভিন্ন ব্যানারে সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, আলোচনা সভা ও গোপন বৈঠকসহ বেশ কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। তাদের ধারণা, ১/১১-এর সময়ে যেসব নেতা দলের মূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে সংস্কার প্রস্তাব এনেছিলেন তাদের বড় একটি অংশ এবং সাবেক ছাত্র নেতাদের একটি অংশ এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত।

সূত্র জানায়, বিএনপির পাঁচজন ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা চারজন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, এক শিক্ষক নেতা, একজন আইনজীবী নেতা, সংরক্ষিত আসনের সাবেক একজন এমপি, ঢাকা মহানগরের তরুণ দুই নেতাসহ ২০ নেতার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখছে হাইকমান্ড। এরমধ্যে একজন গত এক বছরে অন্তত ৩০টি জেলা সফর করেছেন।

দলটির একজন নীতিনির্ধারক জানান, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি যাচাই ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা তৈরির এজেন্ডা নিয়ে ওই তরুণ নেতা জেলাগুলো সফর করেন। এ নিয়ে তরুণ নেতাকে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা কয়েকবার ডেকে ওই প্রক্রিয়া থেকে বের হওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন। কিন্তু তিনি কথা শুনেননি।

সর্বশেষ ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির’ দাবিতে ২৭ মার্চ বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশ হয়। ‘পেশাজীবী সমাজ’র ব্যানারে এই সমাবেশ থেকে সরকার পতনের ডাক দেন আয়োজক শওকত মাহমুদ।

রাজনীতিবিদরা যদি ব্যর্থ হন, তাহলে পেশাজীবীরা গণঅভ্যুত্থানের দায়িত্ব নেবেন বলে বক্তব্য দেন তিনি। শিগগিরই পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দেবেন জানিয়ে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান।

বিএনপির নেতারা বলছেন, পেশাজীবী সমাজের ব্যানারে ওই সমাবেশের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বরং দলের নীতিনির্ধারকদের অজান্তে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন এবং সরকার পতনের ডাক দেওয়া নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তথ্য আছে, দলকে বাইরে রেখে ‘ক্ষমতার পটপরিবর্তন’ হতে পারে কোনো কোনো মহলের এমন আশ্বাসে দলের অনেকে নানামুখী তৎপরতায় যুক্ত। সরকার পতনের ডাক দিয়ে হঠাৎ রাস্তায় জমায়েত-এমন তৎপরতারই অংশ বলে সন্দেহ করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিএনপি রাজপথে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, হঠাৎ রাস্তায় সরকার পতনের ডাক দিয়ে এ ধরনের তৎপরতা ঐক্য প্রক্রিয়াকে বিভক্ত ও বিনষ্ট করার একটি চক্রান্ত।

সূত্র জানায়, এর আগে দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে ২০১৯ ও ২০২০ সালের ডিসেম্বরেও ঢাকায় এ ধরনের দুটি বড় জমায়েত করে রাস্তায় নেমেছিল জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও পেশাজীবী পরিষদ। যার জের ধরে ‘দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড’র অভিযোগ এনে ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ ও শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। অবশ্য ২৭ মার্চের সমাবেশে হাফিজউদ্দিন আহমদ ছিলেন না। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ কোনো নেতাকেও দেখা যায়নি। তবে লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীর অংশগ্রহণ অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে।

২০ দলীয় জোটের শরিক দলের একজন শীর্ষ নেতা যুগান্তরকে জানান, তৃতীয় পক্ষের এমন তৎপরতার পেছনে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা মাসুদ করিম নামের এক ব্যক্তি। যিনি বেশ কয়েকবার বাংলাদেশে এসেছেন। এছাড়া বেশিরভাগ সময় লন্ডনে থাকেন। তিনি বিএনপি, ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ, হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি দলের নেতাদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই ব্যাংকক ও নেপালের কাঠমান্ডুতে বৈঠক করেন।

সম্প্রতি নেপালেও এক বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি, ২০ দলসহ আরও কয়েকটি দলের অন্তত ৪০ জন নেতা। ব্যাংকক ও কাঠমান্ডুর বৈঠকে মাসুদ করিমের সঙ্গে পশ্চিমা একটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সদস্যও ছিলেন বলে সূত্র জানায়।

এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচন চাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার পর যারা আন্দোলন করেছে, তাদের নিয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চাই।

রাশিয়া নিয়ে রেজুলেশনে ভোট দেয়নি বাংলাদেশ

জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে রাশিয়ার সদস্যপদ স্থগিত বিষয়ক এক রেজুলেশন ভোট দানে বিরত থেকেছে বাংলাদেশ। ভারত-পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে সাতটি দেশও এ ভোট দানে বিরত ছিল।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবটি ভোট দেওয়া দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন পাওয়ায় রাশিয়াকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়, রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছে ৯৩টি দেশ, বিপক্ষে ২৪টি দেশ ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশসহ ৫৮টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল।এতে ভোটদানে বিরত দেশগুলোকে গণনা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার আনা রেজুলেশনের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ, ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে রাশিয়া, চীন, বেলারুশ, কিউবা, ইরানসহ আরও কয়েকটি দেশ।

দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। অন্যদিকে আফগানিস্তান অনুপস্থিত ছিল। এর আগে প্রথম রেজুলেশনে বাংলাদেশ ভোট দানে বিরত থাকলেও দ্বিতীয় রেজুলেশনে পক্ষে ভোট দেয়।

এর আগে ২ মার্চ ইউক্রেনে আগ্রাসন সংক্রান্ত রেজুলেশনে ১৪১টি পক্ষে, পাঁচটি বিপক্ষে এবং ৩৫টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল। অন্যদিকে ২৪ মার্চ ইউক্রেনের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আনা একটি রেজুলেশনে ১৪০টি দেশ পক্ষে, পাঁচটি বিপক্ষে এবং ৩৮টি দেশ ভোট দানে বিরত ছিল।

হেরোইন-ইয়াবাসহ ৫২ জনকে গ্রেফতার

হেরোইন, ইয়াবা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার একই সময় পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৬৫৩৪ পিস ইয়াবা বড়ি, ২.৫ গ্রাম হেরোইন, ১৯ কেজি ৯৩৫ গ্রাম গাঁজা ও ২০ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতার ৫২ জনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪০টি মামলা করা হয়েছে

সূর্য উঠার আগে

হঠাৎ দেখে চমকে নির্বাক হয়ে গেছি থমকে, মনে হলো দেখে তারে অনেক দিনের চেনা। পুরনো প্রেমিককে বহু বছর পর হঠাৎ দেখলে এমনটি মনে হয়। হবে না কেন ত্রিশ বছর আগে শেষ হয়ে যাওয়া সম্পর্ক মুহূর্তে একেক করে মনের দুয়ারে এসে হাজির হয়ে গেল।

লেনা আমাকে দেখেনি, ভাবলাম একটু সারপ্রাইজ দিই। পেছন থেকে জড়িয়ে ধরতেই ভয়ে চিৎকার করে উঠতেই নজরে পড়ল আমাকে। প্রথম দেখাতেই বলল- আরে তুমি? হঠাৎ? কেমন আছো? কোথায় আছো? কী করছো? কোথায় যাবে? বলতে বলতে জড়িয়ে ধরল আমাকে। আমার বলার কিছু ছিল না। বেশ কিছুক্ষণ কল্পনার রাজ্য থেকে বের হয়ে বললাম চলো কফি হাউসে বসি। কাজ শেষে একটু শপিং করতে এসেছিলাম, বাসায় ফিরতে দেরি হবে।

এক্সপ্রেসো হাউসে ঢুকে দুই কাপ কফি অর্ডার দিয়ে বসলাম। হলো কিছুক্ষণ স্মৃতিচারণ অতীত এবং বর্তমানকে নিয়ে। শেষে বিদায়ের পালা, যাবার বেলা লেনা শুধু বলল- আমাকে ফেলে সেই যে চলে গেলে আর একবারও যোগাযোগ করলে না! তা হঠাৎ কেন আমাকে দেখে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলে? আমি বললাম ফেলে ঠিক নয়, তবে চলে গিয়েছিলাম। সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম হৃদয়ে তোমাকে এবং তোমার ভালোবাসাকে, তাইতো আজ তোমাকে দেখে চিনতে একটুও দেরি হয়নি। বিদায় বেলা লেনা তার বিজনেস কার্ডটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো যদি মন চায় ফোন কর। যাবার বেলা বললো বাসায় যেতে হবে তাড়া আছে, আশা করি আবার দেখা হবে।

এদিকে আমারও বাসায় আসতে বেশ দেরি হয়ে গেল। বাসায় ঢুকে দেখি আমার স্ত্রী বেশ মন খারাপ করে বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার মন খারাপ কেন? সে বললো তুমি ভুলে গেছো আজ আমার জন্মদিন? গতকাল বলেছিলে বাইরে ডিনারে নিয়ে যাবে।

আমি বললাম সমস্যা কোথায় রাত তো বেশি হয়নি, একটু ফ্রেশ হয়ে চল বাইরে যাই?
কারিনা প্রথমে যেতে রাজি না হলেও পরে রাজি হয়ে গেল। ডিনারে যে রেস্টুরেন্টে ঢুকেছি সেখানেই লেনা এসেছে তার স্বামীর সঙ্গে ডিনারে। ওয়াট অ্যা কোইনসিডেন্স!

লেনা আমাকে দূর হতে দেখেছে। নতুন করে অল্প সময়ের মধ্যে আবারও দেখা! পরিচয় করিয়ে দিল লেনার স্বামী পিটারকে। আমি পরিচয় করে দিলাম কারিনাকে। পিটার বললো, চল আমরা এক টেবিলে বসি। কারিনার চোখে চোখ পড়তেই সে রাজি হয়ে গেল। পিটার খুব মজার মানুষ, অল্প সময়ের মধ্যে আমাদেরকে আপন করে নিয়েছে। পিটার, লেনার চেয়ে বয়সে বেশ বড়। রিয়েল স্টেটের ব্যবসা করে, মানে দেশের ধনীদের মধ্যে একজন। ছেলেমেয়ে হয়নি তাদের। লেনার সঙ্গে বিয়ের পর লেনা লিভমডার্ন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং তাদের আর কোন সন্তান হবে না এমনটি ডাক্তারি রিপোর্টে জানানো হয়। এ সময় লেনার মাথার চুল পড়ে যায়, চেহারার এই বিকৃতি অবস্থায় অন্য কোন ছেলে হলে হয়তবা তাকে ছেড়ে চলে যেত, কিন্তু না পিটার তা করেনি। বয়সে বড় হলেও ভালোবাসা দিয়ে আকড়ে ধরে আছে সেই থেকে লেনাকে। অনেক কিছুই জানা হলো, অনেক কথা বলা হলো। বিদায় বেলা লেনা কানের কাছে ফিস ফিস করে বলে গেল, আবার হবে তো দেখা? এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো!

আমি কারিনাকে নিয়ে বাড়ি আসার পথে ভাবছি, জানিনা লেনা এখন কার কথা এবং কী কথা ভাবছে! পুরনো প্রেমের উদয় হলো নাতো? এমনটি প্রশ্ন ভাবনায় ঢুকেছে।

চলছে দিনকাল, কাজ আর বাসা। এদিকে সামনে বড় দিনের ছুটি, কারিনার সখ একটি ভালো ক্যামেরা কিনবে। ভাবলাম তাহলে আমি বড় দিনের উপহার হিসাবে একটি ক্যামেরা কিনি, যেই ভাবনা সেই কাজ। বাড়িতে এসে উপহারটি কারিনার হাতে তুলে দিলাম। উপহারটি পেয়ে সে তো মহাখুশি।

তাড়াহুড়ো করে সেও আমার হাতে তার কেনা উপহারটি দিল। খুলে দেখি এক বিস্ময়কর মহাকাব্য, যার কথা শুনেছি কিন্তু চোখে দেখিনি এর আগে। হতভম্ভ হয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে বইটি দেখছি, দেখছি বইয়ের ভেতর এবং বাইরে। আশ্চর্য কিছুই তো বুঝতে পারছি নে? কি হবে এ বই দিয়ে যদি পড়তেই না পারি? ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে কোনো এক ব্যক্তি এক উদ্ভট অক্ষরে মিরাকেল এই কাব্য লিখেছিল। শুনেছি স্বপ্নকে বাস্তবে রুপান্তরিত করা যায় এমন ধরনের তন্ত্র মন্ত্র রয়েছে এই বইয়ের মাঝে। আজ আমার হাতে সেই বই, ভাবতেই গা শিউরে উঠছে!

রাতে কারিনাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কীভাবে এই বই পেল?

উত্তরে সে বললো মিসর সফরে যখন গিয়েছিলাম তখন এক বৃদ্ধ লোক ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে বলেছিল এই বইটি সম্পর্কে। তখন তোমার কথা মনে পড়ে যায়।
কি কথা?
তুমি বলেছিলে আমাদের প্রথম পরিচয়ে, আমি স্বপ্নের রাজ্যে বাস করি তবে স্বপ্নের সত্যি কখনো অনুভব করিনি। জীবনের সখ যদি এমন কোন কাব্য থাকত তাহলে যত টাকা হোক না কেন কিনতাম।

বৃদ্ধ বেচারা যখন বললো ভাবলাম খুব বেশি নয় সামান্য পয়সার বিনিময়ে বইটি বিক্রি করতে চায়, কি আসে যায় যদি তার কথা সত্যি না হয়! খুব তো বেশি টাকা নয়, কিনি বইটি। বেচারার দিনটি ভালো যাবে আমারও একটি স্মৃতি থেকে যাবে, সঙ্গে তোমাকে বড় দিনে উপহারটি দিতে পারব।

মহাকাব্য আমার হাতে, তবে সত্য কিনা বা কি লিখা এ তো জানার কোন উপায় নেই! বেশ ভাবনায় পড়ে গেলাম! লেনা পেশাগতভাবে আর্কিওলজিস্ট হিসাবে কাজ করে, ভাবলাম তাকে ফোন করলে হয়তবা কোন তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পরের দিন সকালে লেনাকে ফোন করলাম এবং বিষয়টি সম্পর্কে বললাম। লেনা আমার কথা শুনে টেলিফোনেই একজন প্রবীণ আর্কিওলজিস্টের ঠিকানা দিলো। স্টকহোমের পুরনো শহরের একটি কর্ণারে দুই তলার উপর এক ভয়ংকর আকৃতির চেহারার মানুষ দেখে নিজেই একটু ঘাবড়ে গেলাম। তবুও এসেছি যখন তাকে বইটি দেখালাম।

বড় এক লেন্স চোখের সামনে ধরে কিছুক্ষণ পরই একটু উত্তেজিত স্বরে জিজ্ঞেস করল, কোথায় পেলে এই মহাকাব্য? ঘটনা খুলে বললাম যা শুনেছি কারিনার থেকে। বৃদ্ধ আর্কিওলজিস্ট শুধু বললো না এ কাজ আমি করতে পারব না।

কি কাজ তুমি করতে পারবে না আমি প্রশ্ন করলাম? উত্তরে বললো, তোমাকে এ ভাষা শিখাতে পারব না কারণ তুমি এই কাব্যের রহস্য জানতে পারলে এর ওপর এক্সপেরিমেন্ট চালাবে তখন মিরাকেল ঘটনা ঘটবে যার সঠিক কারণ কেউ পৃথিবীতে দিতে পারবে না।

আমি বৃদ্ধ লোকটিকে বহু অনুরোধ করার পর বৃদ্ধ লোকটি কাব্যের রহস্য আমাকে জানাল এবং পড়া এবং বোঝার টেকনিক শিখিয়ে দিল।

বৃদ্ধ আর্কিওলজিস্টকে বিদায় দিয়ে বাড়িতে আসতেই টেলিভিশনের পর্দায় রাতের খবরে জানতে পারলাম কয়েক ঘণ্টা আগে এ যুগের সবচেয়ে পুরোনো আর্কিওলজিস্টের মৃত্যু হয়েছে। (কোনো দেশ বা মহাদেশের নির্দিষ্ট বিলুপ্ত সভ্যতার সামাজিক স্থিতি, রীতি-নীতি, সংস্কৃতি, বিবর্তন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও নিয়মমাফিক পদ্ধতিতে কাজ করার বিষয়কে সাধারণত আর্কিওলজি বলা হয়। এর পাশাপাশি শুধুমাত্র পুরনো সভ্যতার অংশবিশেষ, নিদর্শন, স্থাপত্য, ভাস্কর্য পুনরুদ্ধারই নয়, সেগুলোকে সংরক্ষণ করে সামাজিক স্তরে মানুষের কাছে সেই ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা এবং তথ্য তুলে ধরার দায়িত্বও থাকে আর্কিওলজিস্ট অর্থাৎ প্রত্নতাত্ত্বিকদের)।

আমার মনটা বেশ খারাপ হয়ে গেল, কারো সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার না করে রাতের ডিনার সেরে বিছনায় চলে গেলাম।

কারিনা জিজ্ঞেস করল, শরীর খারাপ করলো কিনা! উত্তরে বললাম না, তবে একটু ক্লান্ত মনে হচ্ছে।

ঘুম আসছে না তো গুণগুণ করে গান করতে শুরু করলাম- জানি না এখন তুমি কার কথা ভাবছ/আনমনে কার ছবি চুপি চুপি আঁকছ?

কারিনার দেওয়া মহাকাব্যটি একটু পড়তেই কখন ঘুমিয়ে গেছি মনে নেই। তবে সকালে ঘুম থেকে উঠে রাতের স্বপ্নের কথাগুলো বেশ মনে পড়ছে। এ স্বপ্ন আগের মতো না? এ যেন সত্যিকার ঘটনার অভিজ্ঞতা।

হঠাৎ দেখি লেনা ফোন করেছে, ফোনটি ধরে হ্যালো বলতেই বলল তোমার সঙ্গে দেখা করব, খুবই জরুরি। অফিসে লাঞ্চের সময় আসবে কিন্তু?

আমি শুধু বললাম, মনটি তোমার কেন দুরু দুরু কাঁপছে? সে বললো না ঠিক আছে পরে দেখা হবে।

লাঞ্চে লেনার সঙ্গে দেখা হতেই বলতে শুরু করল- আমি পিটারকে ভালোবাসি, সে আমার জন্য অনেক কিছু করেছে তাকে ছেড়ে তোমাকে নতুন করে বরণ করতে পারব না। তাছাড়া তুমি কি পারবে তোমার সংসার, ছেলে-মেয়ে, কারিনাকে ছেড়ে আমার সঙ্গে থাকতে?

আমি একটু অবাক হলাম প্রথমে, পরে একটুও দেরি হলো না তার সব কথা বুঝতে। রাতে তো আমি লেনাকেই স্বপ্নে দেখেছি এবং তার সঙ্গে কিছুটা মনের বদল হয়েছে। এ স্বপ্ন শুধু আমার একার নয়, যাকে নিয়ে ভাবছি তারও। সেক্ষেত্রে আমি যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি সেও সে স্বপ্নের অংশীদার হয়ে যায়। মহাকাব্যে এমনটি তন্ত্র-মন্ত্র রয়েছে। গতকাল কিছুটা রিসার্স করেছিলাম কল্পনাতে, অথচ সেটা সত্যি সত্যি ঘটেছে, ভাবতেই অবাক লাগছে!

লেনা লাঞ্চ শেষে বিদায় নিল, তবে লেনার চোখ দেখে মনে হলো সে বলছে- “কি চোখে তোমায় দেখি, বোঝাতে পারিনি আজও হয়তো, এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো”।

আমরা প্রতিদিনই স্বপ্নে দেখা করি, দেশ-বিদেশ ঘুরি। পাশে দুজন দুজনার সঙ্গীর সাথেই রাতে ঘুমোই, তবে ঘুমের ঘোরে নানা ধরনের ঘটনা ঘটে; যা ইদানীং কারিনা লক্ষ্য করছে। এমনকি আমার দেওয়া সেই ক্যামেরা দিয়ে রাতের স্বপ্নে যে আমি কথা বলি সবই সে রেকর্ড করে চলছে। পরে কোনো এক সময় আমাদের দুই পরিবারের মধ্যে পুনর্মিলন হয়। কারিনা এবং পিটার একে অপরের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আলোচনায় ঘটনাটি উঠে আসে। সময়ের সাথে সাথে কারিনা এবং পিটার মাঝে মধ্যে দেখা করে। এ দেখা সেই স্বপ্নে দেখা নয়। তাদের দেখা রিয়েল। আমি স্বপ্নের রাজ্যে লেনাকে নিয়ে ব্যস্ত, এদিকে আমার কারিনা লেনার পিটারকে নিয়ে নতুন ভালোবাসার রিয়েল কাব্য রচনা করেছে।

আর আমি “বসে আছি পথ চেয়ে, ফাগুনেরও গান গেয়ে, যত ভাবি ভুলে যাব, মনও মানে না”।

গল্পের আমি, নাম তার মাটস। মাটস ঘটে যাওয়া ঘটনাটি এভাবেই বর্ণনা করেছিল সেদিন রাতে। আমি বললাম তারপর কী হলো? মাটস শুধু বলল- তার আর পর নেই, আমি স্বপ্নের রাজ্যে বসবাস করছি সেই থেকে…।

যেসব কারণে মানুষের দোয়া কবুল হয় না

মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ একটি বিষয় দোয়া। একজন মুমিনের বিশ্বাস রয়েছে, পৃথিবীর সব প্রয়োজন একমাত্র আল্লাহ সুবহানুহু তায়ালাই পূরণ করতে পারেন।

দোয়া কখন কীভাবে আল্লাহর কাছে উপস্থাপন করতে হবে সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন রাজধানী ঢাকার ধানমণ্ডির ঐতিহ্যবাহী তাক্বওয়া মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাফিজ মারুফ।

মাহে রমজান উপলক্ষে যুগান্তর অনলাইনের এক বিশেষ আলোচনায় তরুণ এ আলেমে দ্বীন বলেন, আমাদের প্রয়োজনের কোনো সীমারেখা নেই। আর আল্লাহ সুবহানুহু তায়ালারও এসব প্রয়োজন পূরণ করতে কোনো ব্যর্থতা নেই। যেহেতু তিনিই আমাদের সব প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন সেহেতু আমাদের কর্তব্য হচ্ছে-তাঁর কাছে বারবার চাওয়া।

রাসূল (স)-এর হাদীসের উদৃতি দিয়ে হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাফিজ মারুফ আরও বলেন, দোয়া হচ্ছে, ইবাদতের মগজ। দোয়া একদিকে যেমন আমাদের প্রয়োজন পূরণ করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে এর মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে থাকি।

রমজান মাস পেয়েও হতভাগা যারা

রমজানুল মোবারক রহমত-বরকতের মৌসুম। এ মৌসুমে আল্লাহতায়ালার রহমত পরিপূর্ণরূপে বর্ষণ হয়। তাই এই মাসে সবাই আল্লাহতায়ালার কাছে বেশি-বেশি রহমত বরকতের প্রত্যাশা করা চাই।

রমজান মাসে বিশেষ কিছু ইবাদত করার অপার সুযোগ মেলে। তাই এটি ইবাদতেরও মাস। কেউ যদি এ মাসের ইবাদতসমূহ আদায়ে গাফলতি না করে বরং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যতের জন্য সকল ইবাদত-বন্দেগী তার অভ্যাসে পরিণত হবে।

তাই এ মাসের আমলগুলো খুব গুরুত্বসহকারে পালন করা চাই। আমরা যতটা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রভুকে ডাকবো, প্রভুও ততটুকুই এগিয়ে এসে সাড়া দেবেন।

এই মাসের ইবাদত-বন্দেগীর জন্য মহান প্রভু বান্দাদের জন্য বিশেষ অফার করেছেন। এই অফার গ্রহণ করে যারা তাদের দৈনন্দিন আমল পালন করে চলছে, মহান প্রভু তাদের পুরস্কৃত করবেন। পক্ষান্তরে যারা এই মাস পেয়েও এর যথাযথ কদর করেনি, তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ।

হাদিস শরীফে এমনটিই বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি রমজান মাসকে গুরুত্বসহকারে নেয়নি, বরং অবহেলা করে এর সময়গুলো নষ্ট করেছে, তার প্রতি মালিক অসন্তুষ্ট।

হজরত কাব বিন আজরাহ (রা.) বলেন, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত সাহাবিদের উদ্দেশে বললেন- তোমরা মিম্বরের কাছাকাছি হয়ে বসো। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সবাই কাছাকাছি হয়ে বসলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখেন এবং বলেন: ‘আমিন’। অতঃপর দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখেন এবং বলেন: ‘আমিন’। অনুরূপ তৃতীয় সিঁড়িতে পা রেখেও তিনি বলেন: ‘আমিন’।

বয়ান শেষে মিম্বর থেকে নবীজি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেমে আসলে কৌতূহলী হয়ে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, আপনাকে তো আগে কখনো এমন করতে দেখিনি। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি তখন হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম উপস্থিত হয়ে বললেন, যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েছে কিন্তু নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেনি সে ধ্বংস হোক। তখন আমি বললাম: ‘আমিন’।

অতঃপর যখন দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, যার নিকট আপনার নাম পেশ করা হয়েছে কিন্তু সে আপনার প্রতি দরূদ পড়েনি সে ধ্বংস হোক। তখনও আমি বললাম ‘আমিন’।

সর্বশেষ যখন তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখি, তখন জিবরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, যে ব্যক্তি তার পিতা মাতার কাউকে তাদের বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েছে, কিন্তু তাদের খেদমত, সেবা-যত্ন করে জান্নাতের মালিক হতে পারেনি সেও ধ্বংস হোক। তখনও আমি বললাম, ‘আমিন’। (বায়হাকী: ১৫৭২)

অনেকই হয়তো ভাবছেন, সবে মাত্র রমজানুল মোবারক শুরু হল। আর কিছু দিন না হয় যাক। পরে কোমর বেধে ইবাদতে নেমে যাবো। তখন তাহাজ্জুদের জায়নামাজে দাঁড়িয়ে কেদে কেদে সব গুনাহ মাফ করিয়ে নেবো। সন্তুষ্ট করে নেব প্রভুকে।

এরকম ধারনা আর স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে। কেননা, এটি চির শত্রু শয়তানের ধোকা। আমাদের ঈমান-আমল ধ্বংসের জন্য শয়তানের এই সুন্দর পরিকল্পনাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। বরং রমজানের আগে থেকেই আমরা যে পরিকল্পনা লালন করে আসছি, সে পথ ধরেই চলতে হবে। পৌঁছে যেতে হবে গন্তব্যে।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে পবিত্র রমজানের হক পরিপূর্ণরূপে আদায় করার তাওফিক দান করুন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভিসম্পাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

লেখক: তরুণ আলেম

ঈদে প্রাথমিকের ছুটি ১৪, স্কুল-কলেজে ১৭ দিন

স্কুল-কলেজে পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরে উপলক্ষে ১৭ দিন ছুটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এই ছুটি শুরু হয়ে ৭ মে শেষ হবে। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ দিন ছুটি থাকবে।

মাউশি মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী বুধবার গণমাধ্যমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিলের পরিবর্তে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লাশ হবে। তারপর ছুটি শেষে আগামী ৭ মে আবারো ক্লাশ শুরু হবে।

এদিকে ছুটির বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিনুল ইসলাম জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি আগের মতোই থাকছে। করোনায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ ঘাটতি পোষানোর লক্ষ্যে আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাশ হবে। সে হিসাবে এবার ১৪ দিন ছুটি থাকবে প্রাথমিকে।

উল্লেখ্য, অন্যান্য বছর পুরো রমজানজুড়ে প্রাথমিক ও স্কুল-কলেজ ছুটি ঘোষণা করা হতো। তবে গত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার রমজানেও ক্লাশ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

স্নাতক পরীক্ষা শেষে দুধ দিয়ে গোসল করলেন এই শিক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র স্নাতক পরীক্ষা শেষ করে দুধ দিয়ে গোসল করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে দুধ দিয়ে গোসল করেন এই শিক্ষার্থী।

গণিত বিভাগে অধ্যয়নরত (২০১৬-১৭ সেশন) ওই শিক্ষার্থীর নাম মো.আসাদ রেজা অনিক।

বুধবার স্নাতক ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষাশেষ হওয়ার পর দুধ দিয়ে গোসলের একটি ভিডিও সন্ধ্যায় তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলে মুহূর্তেই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি তার ফেসবুক ক্যাপশনে লেখেন- ‘আলহামদুলিল্লাহ, হাজার শুকরিয়া! পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষা শেষে দুধ দিয়ে গোসলের মাধ্যমে অর্নাস শেষ করলাম। স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

শিক্ষার্থীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে করোনাসহ নানা কারণে সেশন জটে পরীক্ষা বিলম্বিত হওয়া এবং অবশেষে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ায় আনন্দ এবং স্বস্তির প্রকাশ হিসেবে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।

রণবীরের বিয়েতে যাবেন? উত্তরে যা বললেন দীপিকা

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, আগামী ১৭ এপ্রিল বিয়ে করছেন বলিউডের লাভবার্ড রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট।

ভারতের চেম্বুরে পৈতৃক বাড়িতে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন তারা। বলিউডের এ জুটির বিয়েতে আমন্ত্রিতদের তালিকা নিয়েও জোর গুঞ্জন চলছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবার ও কিছু কাছের বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের আয়োজন শেষ করবেন দুই তারকা। তবে রিসেপশনে চাঁদের হাট বসতে চলেছে।

সঞ্জয়লীলা বানসালি, আদিত্য চোপড়া, শাহরুখ খান, অয়ন মুখোপাধ্যায়, আদিত্য রায় কাপুর, অর্জুন কাপুর, করণ জোহরের মতো বলিউড সেলিব্রেটিদের নাকি ইতোমধ্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো— এই বিয়েতে রণবীর কাপুরের ‘প্রাক্তন’ প্রেমিকা দীপিকা পাডুকোন কি যাবেন?

বলিউডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে রণবীর কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন দীপিকা। পরে কাপুর পরিবারের ছেলের বিরুদ্ধে সম্পর্ক ভাঙার অভিযোগ করেন তিনি। যদিও পরে তাদের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যায়। রণবীর কাপুরের সঙ্গে পরে ছবিও করেন দীপিকা ।

দীপিকা তরী ঘোরান আরেক রণবীরের দিকে। দীর্ঘ প্রেমের পর রণবীর সিংকে বিয়ে করেন তিনি। কিন্তু তাদের বিয়েতে যাননি রণবীর কাপুর। এ কারণেই রণবীর কাপুরের বিয়েতে সাবেক প্রেমিকা যাবেন কিনা সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

এর উত্তর দিয়েছেন বলিউডের পদ্মাবতী নিজেই। তবে স্পষ্ট করে কিছুই বলেননি।

দীপিকার ভাষ্য, অনেক দিন আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। সেই রিসেপশনের আগে আমাদের কথা হয়েছিল। এর পর আর হয়নি। আমি এখন আর অবাক হই না। এটাই আমাদের মধ্যে সম্পর্ক এবং এটাই আমাদের সম্পর্কের সৌন্দর্য।

শপথের পর ইলিয়াস কাঞ্চনের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করলেন রিয়াজ

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। বুধবার বিকালে শপথ নিয়েছেন তিনি। সমিতির স্টাডিরুমে তাকে শপথ পড়ান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন। শপথ নেওয়ার পরে ইলিয়াস কাঞ্চনের পায়ে হাত রেখে সালাম করেন এই চিত্রনায়ক।

রিয়াজ সমিতির সদস্য পদে চিত্রনায়িকা রোজিনার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। কমিটিতে কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত রিয়াজ। ‘শপথ নিলাম। এই কমিটি তাদের কার্যকরী পরিষদের সদস্যপদে আমাকে নিয়েছেন। এটি আমার জন্য অনেক সম্মানের। একটি চমৎকার প্যানেলের সঙ্গে আমি শপথ নিয়েছি।’

কমিটিতে রিয়াজকে পেয়ে আনন্দিত কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান রোজিনা। ২৬ মার্চ সমিতির প্রথম মিটিংয়ে রোজিনার পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হয়। এরপর গঠনতন্ত্র মোতাবেক রিয়াজকে ওই পদে নেওয়া হয়। আজ তাকে শপথ পড়ানো হলো।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অঞ্জনা, আরমান, অমিত হাসান, ফেরদৌস, শাহনুর, জাদু আজাদ, সাইমন সাদিক, কেয়া, ইমন কমিটির অনেকে। তবে মিশা-জায়েদ প্যানেলের অঞ্জনা ছাড়া বাকি কোনো বিজয়ী সদস্য শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।