শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 370

বেনজেমার হ্যাটট্রিকে চেলসিকে উড়িয়ে সেমির পথে রিয়াল

করিম বেনজেমার হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ আটের প্রথম লেগে ঘরের মাঠেই রিয়াল মাদ্রিসের কাছে বিধ্বস্ত হলো চেলসি। শেষ ষোলোয় পিএসজিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া বেনজেমা চেলসির বিপক্ষে ছিলেন আরও ধারালো। বেনজেমাকে আটকানোর কোনো কৌশলই যেন জানা ছিল না চেলসির।

৩-১ গোলের এই জয়ে গত মৌসুমে চেলসির কাছে হারের প্রতিশোধও নিয়েছে রিয়াল।

চেলসির মাঠ স্ট্যাম্পফোর্ড ব্রিজে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে দ্রুত মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রেসিং করে খেলতে শুরু করে রিয়াল। আর চেলসি নির্ভর করে প্রতি আক্রমণের ওপর। ম্যাচের ১০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণে গোল করার সুযোগ এসেছিল রিয়ালের সামনে। কিন্তু ডিবক্সের ভেতরে জায়গা তৈরি করে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। রিয়াল গোল না পেলেও আক্রমণাত্মক ফুটবলে দুদলই জমিয়ে তোলে লড়াই।

তবে ২১ মিনিটে আর ভুল করেননি দুর্দান্ত ছন্দে থাকা করিম বেনজেমা। ভিনিসিয়াসের ক্রসে দারুণ এক হেডে লক্ষ্যভেদ করেন এই ফরাসি স্ট্রাইকার। এই গোলের রেশ কাটার আগে ফের জ্বলে উঠেন বেনজেমা। এবার লুকা মডরিচের ক্রসে দ্বিতীয়বার হেড দিয়ে গোল করেন বেনজেমা।

দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় রিয়াল। অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা চালিয়ে যায় চেলসি। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ঠিকই ব্যবধান কমায় চেলসি। প্রথমার্ধে ২-১ ব্যবধানের লিড নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় কার্লো আনচেলত্তির দলকে।

বিরতির পর পরই চেলসি গোলরক্ষকের ভুলে বল পেয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করে নেন বেনজেমা। সেই সঙ্গে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ৩-১ গোলে। চেলসি ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ভাঙতে পারছিল না রিয়ালের রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো দল গোল না পেলে বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেলসি।

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ জার্সির দাম ৪৫ কোটি!

আর্জেন্টিনাকে ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতানোর মূল নায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ওই বিশ্বকাপে সবচেয়ে আলোচিত ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে তার করা একটি গোল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৫১ মিনিটে হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা, যা ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিত। এই গোলের জন্য এই ফুটবল কিংবদন্তি নন্দিত ও নিন্দিত দুই-ই হয়েছিলেন।

অনেকের কাছে এটি বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সেরা মুহূর্ত, অনেকের কাছে আবার কলঙ্কের। খেলার ৪ মিনিট পরেই ছয় ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ম্যারাডোনা করেন অবিস্মরণীয় গোল, যা বিংশ শতাব্দীর সেরা গোলের স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রয়াত ম্যারাডোনার সেই ম্যাচের জার্সি নিলামে উঠতে যাচ্ছে। আগামী ২০ এপ্রিল অনলাইনে শুরু হবে জার্সির নিলাম। বিষয়টি আজ নিশ্চিত করে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জার্সিটি অন্তত ৪ মিলিয়ন পাউন্ড বা ৪৫ কোটি টাকায় বিক্রি হবে।

নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘সোদিবাই’-এর কর্মকর্তা ব্রাহাম ওয়াখটার বলেছেন, ‘ম্যারাডোনার হ্যান্ড অব গড গোলের জার্সিটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ক্রীড়া সামগ্রীর ছোট্ট তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। কারণ সেটি ক্রীড়াঙ্গনের আইকনিক মুহূর্ত।’

বিস্ময়কর হলেও সত্যি, সেই ঐতিহাসিক জার্সি ম্যারাডোনা, তার পরিবার কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে নেই। জার্সিটি আছে ম্যানচেস্টারের ফুটবল জাদুঘরে। বর্তমানে এটির মালিক সাবেক ইংলিশ ফুটবলার স্টিভ হজ। ওই ম্যাচের পর ম্যারাডোনা যে হজের সঙ্গেই জার্সি বদল করেছিলেন।

লোহাগাড়ায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় তানজিনা নাছরিন কেমী (২০) নামে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার বিকেলে শ্বশুর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।তিনি উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ওয়াহেদের পাড়ার মো. এরশাদের স্ত্রী ও একই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নাফারটিলা সিকদার পাড়ার প্রবাসী জয়নাল আবেদীনের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে তারা প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়।৮ মাস আগে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম হয়।

নিহতের মা রুবি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামী তার মেয়েকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বিভিন্নভাবে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে।ঘটনার কয়েকদিন আগে মেয়ের স্বামী সরাসরি তার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। সাধ্যমতো কিছু টাকাও দিয়েছেন।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইশতিয়াকুর রহমান জানান, এক গৃহবধূকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনরা। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে নিহত গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের গলা ছাড়া শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুর্নীতির দায়ে খাদ্যগুদামের ওসিসহ ৩ জনকে প্রত্যাহার

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি এলএসডি) তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চিরিংগা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান খানকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে চট্টগ্রাম খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন মল্লিক যুগান্তরকে জানান, গত ২২ মার্চ রাত ১০টার দিকে বিএমচর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার জুবাইরুল ইসলামের গুদামে অতিরিক্ত চাল রাখার দায়ে কক্সবাজার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রূপান্তর চাকমা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেপি দেওয়ানের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ওই সময় গুদামে থাকা অতিরিক্ত ১৮০ বস্তা চাল জব্দ করে গুদামটি সিলগালা করা হয়। পরবর্তীতে চকরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন মল্লিক বাদী হয়ে গুদামে অতিরিক্ত ও নিম্মমানের চাল রাখার দায়ে ডিলার জুবাইরুল ইসলামকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

এ ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত এক সপ্তাহ তদন্তে ওই ঘটনায় চিরিঙ্গা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায়, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সুপারিশে চিরিংগা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমান খানকে প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তাপ্রহরী টিকলু চৌধুরীকে কুতুবদিয়া ও আলাউদ্দিনকে উখিয়া উপজেলায় শাস্তিমূলক বদলি করা হয়।

বিএমচর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার জুবায়ের জানান, চিরিঙ্গা খাদ্যগুদাম থেকে গত ১৭ মার্চ সংগ্রহ করা ৩৯১ বস্তা চাল তার নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘চাউল বিতান’ গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।

ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা ৩৯১ বস্তা চাল দেওয়ার কথা থাকলেও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমান খান তাকে নিম্নমানের চাল দেন।

ডিলার জুবাইরুল বিষয়টি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তপন মল্লিককে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০ মার্চ রাতে চিরিঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহমান খানের নির্দেশে খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা প্রহরী টিকলু চৌধুরী ও আলা উদ্দিন দুটি ট্রাকে করে ৩৮০ বস্তা ভিয়েতনামের চাল ডিলারের গুদামে রেখে আসে এবং সেখান থেকে একটি ট্রাকে করে ২০০ বস্তা নিম্নমানের চাল চিরিংগা খাদ্য গুদামে নিয়ে গেলেও আরও ১৮০ বস্তা চাল রাত বেশি হয়ে গেছে অজুহাতে গুদামে রেখে যায়। চালগুলো পরের দিন সকালে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যগুদামের ওসি ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিম্নমানের চাল বিতরণ করতে চাপ প্রয়োগ করেন ডিলারকে। ২২ মার্চ রাতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা গুদামে থাকা ১৮০ বস্তা অতিরিক্ত ও নিম্নমানের চাল জব্দ করেন।

চিরিংগা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তার অপরাধ কর্মের নীরব সাক্ষীদের তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম জাহাঙ্গীর আলম।

রাশিয়া হাজার হাজার মানুষকে হত্যার প্রমাণ লুকাচ্ছে: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিওপোলে হাজার হাজার মানুষকে হত্যার প্রমাণ রাশিয়া লুকাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

বুধবার তুরস্কের হ্যাবার্টক টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি এমন অভিযোগ করেছেন। খবর এএফপির।

সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, কেন আমরা মানবিক সহায়তা নিয়ে মারিওপোলে যেতে পারছি না, তার কারণ হলো ভয়। সেখানে কী ঘটছে তা বিশ্ববাসী দেখতে পাবে। আমি মনে করি শহরটি একটি ট্র্যাজেডি। সেটি নরক। আমি জানি যে, সেখানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।

রাশিয়া হত্যার প্রমাণ লুকাতে পারবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব ইউক্রেনীয় মারা গেছে এবং যারা আহত হয়েছে তাদের তথ্য লুকাতে পারবে না। এ সংখ্যা হাজার হাজার, এটা লুকানো অসম্ভব।

জেলেনস্কির অভিযোগ— রাশিয়া ইতোমধ্যে কিয়েভের বাইরে বুচা এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি শহরে সংঘটিত অপরাধের প্রমাণ গোপন করার চেষ্টা করেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনার বিষয়ে জেলেনস্কি আরও বলেন, যেভাবেই হোক এটি হতে হবে। আমি মনে করি এটি ছাড়া এ যুদ্ধ বন্ধ করা কঠিন।

তবে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় আসা কঠিন ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বুঝতে পারি যে আমরা কার সঙ্গে কাজ করছি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবে: রুশ রাষ্ট্রদূত

ইউক্রেনে সেনা অভিযানের ঘটনায় একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা রাশিয়া।

যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন বারবারই দাবি করে আসছে— মার্কিন মিত্রদের দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার তেমন কিছু হবে না।

তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বললেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা সরাসরি সাধারণ রুশ নাগরিকদের ওপর প্রভাব ফেলবে।

রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি অ্যান্তোভ এই মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ক্রমাগত আক্রমণ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তার দাবি, ঋণ শোধ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সুনাম নষ্ট করতে চাইছে।

সূত্র: আলজাজিরার।

এবার খোলা সয়াবিনে অসাধুদের ‘চোখ’

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের পরও ভোজ্যতেলের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। ফের মূল্যবৃদ্ধিতে বেসামাল হচ্ছে বাজার। গত কয়েকদিন কারসাজি বন্ধ থাকলেও আবারও একটি চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বোতলজাত তেলের গায়ে মূল্য লেখা থাকায় এবার খোলা সয়াবিনে অসাধুদের ‘চোখ’ পড়েছে। এই তেলের একটি বৃহৎ শ্রেণির ক্রেতা থাকায় সরবরাহ কমিয়ে বাড়ানো হয়েছে দাম। পরিস্থিতি এমন হয়েছে-রাজধানীর খুচরা বাজারে গত ১২ দিনে দুদফায় লিটার প্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চাইতে লিটারে ৩৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও চিনি, ডাল, পেঁয়াজ ও খেজুরের মূল্য বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে রোজায় এসব পণ্য কিনতে ক্রেতার নাভিশ্বাস বাড়ছে।

এদিকে আসন্ন রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সয়াবিন তেলের দাম সহনীয় রাখতে আমদানি, উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে মোট ৩০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন তেলে এ সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করেছে। একই সঙ্গে এলসি কমিশনও সর্বনিু পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এর প্রভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে আশা করা হয়েছে।

এছাড়া পণ্যের দাম কমাতে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ছাড়ের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে। সরকার থেকে এ ধরনের নানামুখী ছাড় ও পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো তেলের দাম কমতে শুরু করেনি। বরং দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম ১৫ টাকা বেড়েছে।

বুধবার রাজধানীর নয়াবাজার, জিনজিরা কাঁচাবাজার ও রায় সাহেব বাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর দুই সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের খুচরা মূল্য ১৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই দরে খোলা তেল পাওয়া যায়নি। সেক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে লিটার প্রতি প্রায় ৩৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার পাম অয়েল সুপার বিক্রি হয়েছে ১৪৬-১৫০ টাকা। যা এক সপ্তাহ আগে ১৪৪-১৪৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

জিনজিরা বাজারের খুচরা মুদি বিক্রেতা মো. সাক্কুর আলম যুগান্তরকে বলেন, বোতলজাত সয়াবিনের গায়ে মূল্য লেখা থাকায় সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খোলা তেলে কোনো দর লেখার সুযোগ নেই। আর এই খোলা তেলের একটি বৃহৎ শ্রেণির ক্রেতা রয়েছে। যারা দরিদ্র ও হতদরিদ্র তারা এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন একসঙ্গে কিনতে পারে না। ফলে তারা খোলা সয়াবিন ছটাক ধরে কেনে। তাই অসাধুরা এবার বাড়তি মুনাফা করতে খোলা তেলের দিকে নজর দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাইকারি আড়ত থেকে সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে দুই দফা দাম বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, ২৬ মার্চ পাইকারি বাজার থেকে ১৫৫ টাকা লিটার দরে খোলা সয়াবিন এনেছি। তিন দিন পর ২৯ মার্চ ১৬০ টাকায় আনতে হয়েছে। এখন ১৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ফলে পরিবহণ খরচ ও অন্যান্য খরচ ধরে ১৭৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে তেলের কোনো সংকট নেই। তারা ইচ্ছ করে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ফলে আমাদের বেশি দরে এনে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রাজধানীর মৌলভীবাজার পাইকারি ভোজ্যতেল বিক্রেতা মো. সালাউদ্দীন বলেন, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেনি। আমাদের বেশি দর দিয়ে এখনও আনতে হচ্ছে। পাশাপাশি এখন পাইকারি বাজারেই সরবরাহ কম। তাই দাম বেড়েছে। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, ভোজ্যতেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সার্বিক তদারকি করছি। কয়েকদিন পর পর কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের তলব করছি। কি পরিমাণে তেল আমদানি করছে, কত দরে করছে, সরবরাহ কত পরিমাণে করছে তা খতিয়ে দেখছি। তবে আবার কেন দাম বাড়ল ও কারা দাম বাড়াল আমরা তদারকি শুরু করেছি। মূল্য নিয়ন্ত্রণে তেল কোম্পানির প্রতিনিধিদের আবারও ডাকা হবে।

এদিকে বাজারে সরবরাহ সংকট না থাকলেও রোজায় অতি ব্যবহৃত পণ্য চিনি, সব ধরনের ডাল, পেঁয়াজ ও খেজুরের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া আটা-ময়দা, আদা-রসুন, জিরা, এলাচের পাশাপাশি ইফতার পণ্য-বেগুন, লেবু, শসা ও সব ধরনের ফল বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে এসব পণ্য কিনতে বর্তমানে ক্রেতার নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। বুধবার প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ৭৬-৮২ টাকা। যা দুই দিন আগে ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মসুরের ডাল (ছোট দানা) প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০-১৩৫ টাকা। যা ৫ দিন আগে ১১৫-১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হয়েছে ৫৫-৬৫ টাকা। যা ৪ দিন আগে ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৪০ টাকা বিক্রি হয়েছে। ৭ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকা। প্রতি কেজি সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হয়েছে ১৫০-৪০০ টাকা। যা ৪ দিন আগে ১৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বাড়তি ব্যয় ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং শিল্পের ঋণের সুদ ভর্তুকিতে সরকারের ২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।

এটি জাতীয় বাজেটের ৪১ শতাংশের সমান। বিপুল অঙ্কের মধ্যে টিকা কেনা ও বিতরণে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং তাদের বেতনভাতা জোগানে ৪১০ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

এছাড়া করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ বাবদ ব্যয় হয় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রণোদনার ঋণের যে সুদ, সেটির অর্ধেক সরকার বহন করতে গিয়ে ভর্তুকি গুনতে হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদন থেকে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, করোনা মোকাবিলায় কয়েকটি খাতে যে খরচ হয়েছে, সেটি না করে উপায় ছিল না। বিকল্প কোনো পথও ছিল না। ওই সময় জীবন রক্ষা করা জরুরি ছিল। ব্যবসায়ীদের জন্য যে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে, এতে তারা উপকৃত হয়েছে। যে কারণে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য দেশের তুলনায় অর্থনীতির ক্ষতি বাংলাদেশে কম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিল্প খাতে ঋণের সুদ ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ভালো। তবে আগামী দিনে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে হবে। সরকার অর্থের যে অতিরিক্ত জোগান দিয়েছে, পুনরায় কোনো ধরনের ধাক্কা না লাগলে পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারবে।

করোনাভাইরাস সবচেয়ে বেশি আঘাত হানে স্বাস্থ্য খাতে। এরপর ক্ষতির মুখে পড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় অনেক শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম। বৈদেশিক বাণিজ্যেও ভাটা নেমে আসে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যগত এবং অর্থনৈতিক মোকাবিলায় চারটি নীতি বা কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের ব্যয় বাড়ানো, প্রণোদনা প্যাকেজ গঠন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ ও অর্থের জোগান বৃদ্ধি।

করোনা স্বাস্থ্য খাতের মতো অর্থনৈতিক খাতে মারাত্মক আঘাত করেছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে নানা ধরনের ২৮টি আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। এটি জিডিপির ৬ শতাংশের সমান।

সূত্র জানায়, ২০টি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা সরাসরি দেওয়া হয়েছে চলতি বাজেট থেকে। অবশিষ্ট ৮টি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধমে। এ অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এসব অর্থ ঋণ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ২৪০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে। ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতনভাতাও পরিশোধ করা হয়েছে। সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৬ কোটি ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ২৬৯ জন উদ্যোক্তা (ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়)।

তবে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থের ঋণের যে সুদ আসছে এর ৫০ শতাংশ সরকার নিজেই ভর্তুকি হিসাবে পরিশোধ করছে। বাকি ৫০ শতাংশ পরিশোধ করছেন উদ্যোক্তারা। ফলে এ খাতে সুদ ভর্তুকি হিসাবে সরকারকে গুনতে হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা। এটিও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সরকারের একটি ব্যয়।

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রত্যেক মানুষের জন্য টিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মনে করেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সব ধরনের আর্থিক সহায়তা ও ছাড় করা হয়েছে। অর্থ সংকটে টিকা কেনায় যাতে বাধা না হয়, সেটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে ২৯ কোটি ৬৪ লাখ ৮৪ হাজার ১২০ ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এটি গত ১১ মার্চ পর্যন্ত ছিল ২২ কোটি ডোজ। এর মধ্যে কোভ্যাক্সের ২ কোটি ৯৭ লাখ ২০ হাজার, চীন থেকে ৭ কোটি ৭০ লাখ সিনোফার্ম ও ৭ কোটি ৫০ লাখ ১০ হাজার সিনোভ্যাক এবং ভারত থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, ২২ কোটি টিকা কেনা ও বিতরণে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট পুরোপুরি ফুটে ওঠে। সারা দেশে দেখা দেয় নার্স ও চিকিৎসকের সংকট। রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় হাসপাতালগুলোর। এ পরিস্থিতিতে ৪ হাজার চিকিৎসক, ১৪০০ মিডওয়াইফারি, ৮১২৮ জন সিনিয়র নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়।

এই মিডওয়াইফারি ও সিনিয়র নার্সদের বেতনভাতা চলতি জুন পর্যন্ত প্রয়োজন হবে ২১৬ কোটি টাকা। আর চিকিৎসকের বেতন বাবদ গুনতে হবে ২৯ কোটি ১১ লাখ টাকা, যা প্রতিমাসেই পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যয়সহ মোট প্রয়োজন ৪১০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

উল্লিখিত খাত ছাড়াও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক নিরাপত্তা খাত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আরও বেশি মানুষকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি খাতে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের সুবিধা।

কৃষকের সারের মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার পরও আগের দামেই সার দেওয়া হচ্ছে তাদের। সরকার এক্ষেত্রে বড় ধরনের ভর্তুকি পরিশোধ করছে। জ্বালানি তেলের মূল্য একদফা সমন্বয় করলেও আর নতুন করে বাড়েনি।

‘দক্ষিণ এশিয়া টালমাটাল, সতর্ক না হলে রাষ্ট্র বিপর্যয়ে পড়বে’

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, পরিবারতন্ত্র, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে শ্রীলংকা আজ দেউলিয়া হবার পর্যায়ে। স্বজনতুষ্টির নিরিখে ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ ও বেহিসাবি ঋণ গ্রহণে সরকারকে সতর্ক হতে হবে এবং অপচয়, দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ করতে হবে, নতুবা রাষ্ট্র বিপর্যয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা জনগণের ইচ্ছাধীন, সরকারের ইচ্ছাধীন নয়। ‘ক্ষমতা কারো জন্য সংরক্ষিত নয়’ এই মৌলিক সত্যকে মেনে নিতে হবে। গণতন্ত্রবিহীন, ভোটারবিহীন এবং আইনের শাসনবিহীন একটা রাষ্ট্র ক্রমাগত দীর্ঘস্থায়ী সংকটে নিপতিত হচ্ছে। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হলে জাতীয় এবং ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

বুধবার বিকালে হাজিরহাট উপকূল সরকারি কলেজ মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি কমলনগর উপজেলা আয়োজিত প্রতিনিধি সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ স ম রব এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার আত্মঘাতী মতলব থেকে সরকারকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন প্রধান এজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। এবার রাষ্ট্র মেরামত এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত করার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় সরকার। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন হবে জাতীয় সরকারের অধীন।

কমলনগর উপজেলা জেএসডির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল মোতালেবের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ বাবুল, মুক্তিযোদ্ধা আবু নুর সেলিম,

কেন্দ্রীয় যুব পরিষদের সহ সভাপতি ইউছুফ আলী মিঠু, খোরশেদ আলম মেম্বার, এ বিএম বাবুল মুন্সি, হারুন-অর-রশিদ ডিলার, আলমগীর হোসেন বাহার, মো. নুরুদ্দিন, হারুনুর রশিদ (মার্টিন), যুবনেতা মাহমুদুর রহমান বেলাল, এম এ এহসান রিয়াজ, আবুল বাসেদ খোকন, ছাত্রনেতা মো. তারেক রহমান তহা প্রমুখ।

এর আগে দুপুরে দৈনিক যুগান্তরের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ ও রামগতি উপজেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমানের বাবা মরহুম হাজী আলী আহমেদের কবরসহ দলীয় নেতাকর্মীদের কবর জেয়ারত দোয়া করেন আ স ম আবদুর রব।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরেছেন খালেদা জিয়া

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বুধবার বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বুধবার বিকাল পৌনে ৪টায় গুলশানের ‘ফিরোজা’ থেকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান বিএনপি চেয়ারপারসন।

সেখানে রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা, ইমেজিং, ব্লাড ও ইউরিন পরীক্ষা, লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, হার্টের টেস্ট প্রভৃতি নিরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

এর আগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৮০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এরপর দীর্ঘদিন সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।