শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 365

নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে

১০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের ব্যাপক চাহিদা থাকে প্রতি বছর। চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে দ্রুততম সময়ে বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ১০ টাকার নোট সরবরাহ করা হবে।

বিদ্যমান ১০ টাকা মূল্যমান নোটের সম্মুখভাগের ইন্টাগ্লিও (অসমতল ছাপা) মুদ্রণ ব্যতীত বঙ্গবন্ধুর ছবি ও গভর্নর ফজলে কবিরের স্বাক্ষর সংবুলিত ১০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোট মুদ্রণ করা হয়েছে।

রোববার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকে ইস্যু করা হবে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন প্রচলিত এ নোটটিতে বিদ্যমান ১০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের মূল রং, ডিজাইন ও আকার অপরিবর্তিত রয়েছে। নোটের সম্মুখভাগে উপরে বাম কোণে মুদ্রিত ‘১০’ ও মাঝখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখাটি ‘লালচে’ এর পরিবর্তে ‘সাদা’ এবং গভর্নর এর স্বাক্ষর কালোর পরিবর্তে লালচে-খয়েরি রঙে মুদ্রিত হয়েছে।

এছাড়া নোটের সম্মুখভাগের অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য (নিরাপত্তা সুতা, জলছাপ, মাইক্রোটেক্সট ইত্যাদি) এবং নোটের পেছনভাগের অফসেট মুদ্রণ অপরিবর্তিত রয়েছে। ইন্টাগ্লিও মুদ্রণ ব্যতীত মুদ্রিত বর্ণিত নোটের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলনে থাকা ১০ টাকা মূল্যমানের অন্যান্য নোটও বৈধ ব্যাংক নোট হিসেবে যুগপৎ চালু থাকবে।

‘একটা মানুষ মারতে কয়টা গুলি করা লাগে’

গুম-খুন হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারকে নিয়ে ইফতার করেছেন বিএনপি সিনিয়র নেতারা। শনিবার ইস্কাটনের লেডিস ক্লাবে এ ইফতার পার্টির আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। এতে ?সংগঠনটির পক্ষ থেকে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের ৫০ পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে অশ্রুভেজা কণ্ঠে মুনিয়া আক্তার বলেন, ‘আচ্ছা, একটা মানুষকে মারতে কয়টা গুলি করা লাগে? তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নুরুজ্জামান জনি খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু শুধু তার বুকেই ১৬টি গুলি করা হইছে। এরপর তার পায়ে, ঘাড়ে গুলি করা হইছে। আপনারাই বলেন, একটা মানুষ মারতে কয়টা গুলি করা লাগে?’

৭ বছর আগে নুরুজ্জামান জনিকে হত্যা করা হয়েছিল। বিচার না পাওয়ার কথা জানিয়ে তার স্ত্রী মুনিয়া আরও বলেন, ‘আমি তখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলাম। আমার বাচ্চার বয়স এখন ৭ বছর চলছে। সে এখন ক্লাস ওয়ানে পড়ে। এখন আমার বাচ্চাকে বাবার নাম লিখতে লেট (মৃত) নুরুজ্জামান লিখতে হয়। বাচ্চা আমাকে প্রশ্ন করে, মামনি আমার ফ্রেন্ড আমাকে প্রশ্ন করেছে, ওর বাবার নামের আগে লেট নেই, আমার বাবার নামের আগে লেট কেন?’ মুনিয়া আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, এ দেশে বাবা-ভাইয়ের হত্যার বিচার হচ্ছে। আমরা কী বিচার পাব না?’

অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রায় ১০ বছর আগে এপ্রিলে গুম হওয়া বিএনপির নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর। তিনি বলেন, এ ১০ বছরে আমরা বহুবার, বহু জায়গায়, বহু মাধ্যমে কথা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে কথা বলাটা খুবই কষ্টের। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমার কোনো দাবি নেই। যারা নিজেরাই খুনের সঙ্গে জড়িত, তারা কখনোই এর বিচার করবে না। গুম কী জিনিস, তারা সেটা স্বীকার করে না। কারণ, এটা তাদের সৃষ্টি। প্রত্যাশা করি, আগামীতে আমরা নিশ্চয়ই এ গুম ও খুনের বিচার পাব।

অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ছাত্রদল নেতা মাহফুজুর রহমানের (সোহেল) মেয়ে সাফা, নুরুল আলম নুরের মেয়ে উম্মে হাবিবা, সাজেদুল ইসলামের বোন আফরোজা ইসলামসহ অনেকে নিখোঁজ বাবা, ভাই ও সন্তানের জন্য আকুতি জানান। তারা সবাই গুম হওয়া ব্যক্তির সন্ধান চান, ফিরে পেতে চান হারানো স্বজনদের।

ইফতার পার্টিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে গুমের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারকে নিয়ে কৃষক দল ইফতার পার্টির আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ।

এ অপরাধ আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক বছর ধরে করছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তারা রাজনৈতিক নেতাকর্মী, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রামকারীদের গুম করছে, খুন করছে, হত্যা করছে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী প্রায় ১০ বছর নিখোঁজ।

এ অনুষ্ঠানে আরও অনেকে আছেন, ছোট ছোট বাচ্চা ৮-১০ বছর ধরে তাদের বাবাকে খুঁজছে। এ রকম প্রায় ৬০০ পরিবার আছে। কিন্তু তারা প্রিয়জনকে পাচ্ছে না। এটা প্রমাণিত সত্য-তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং তারা গুম হয়েছেন।

এ কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা র‌্যাবের ওপর এসেছে এবং অনেক কর্মকর্তার ওপরে এসেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি এ সরকারকে সরাতে না পারি, আওয়ামী লীগকে যদি সরাতে না পারি, তাহলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব থাকবে না।

অত্যাচার-নির্যাতন, হত্যা-গুম-খুন সবকিছু বন্ধ করতে হলে প্রথম এ ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা আন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে করতে হবে।

আসুন এ দোয়া করি, যে শিশু তার বাবাকে খুঁজছে, যে স্ত্রী তার স্বামীকে খুঁজছেন, যে মা তার সন্তানকে খুঁজছেন-আল্লাহ যেন পরিবারের মাঝে তাদের ফিরিয়ে দেন। আর এ ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে দেশে যেন আমরা গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে পারি সে শক্তি যেন আমাদের দেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, একদিন তাদের (গুম-খুনের শিকার হওয়া ব্যক্তি) প্রতি করা অন্যায়ের বিচার হবে। এ সরকারের অবসান হবে। খুব বেশি দিন লাগবে না, যত অত্যাচার করেছে, একটার পর একটা ঘটনার মধ্য দিয়ে তারা ধরা পড়ছে।

এটা আরও বেশি প্রকাশিত হবে। তিনি বলেন, এত বড় বড় প্রকল্প দেখায়, ব্রিজ দেখায়, ফ্লাইওভার দেখায়, পদ্মা ব্রিজ দেখায়, এখন দেখা যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে-এক বছর পর থেকে যে সুদ দিতে হবে, সেই সুদের টাকা পর্যন্ত নেই।

দেখা যাচ্ছে-প্রতিবছর বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধ করার মতো টাকা দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে। সবদিক থেকে ধাওয়া খাওয়ার পর এমন পরিস্থিতিতে এ সরকার যাবে যে নিজের জায়গা থেকে একদম সামনে-পেছনে, ডানে-বাঁয়ে কোনো দিকে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।’

কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান, নিতাই রায় চৌধুরী, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, মশিউর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

ছয় সভাপতি-সম্পাদক পদে আগ্রহী দুই শতাধিক নেতা

চট্টগ্রামে যুবলীগের তিনটি সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ছয়টি পদের জন্য দুই শতাধিক আগ্রহী নেতা বায়োডাটা জমা দিয়েছেন। যুবলীগের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি গঠনে বায়োডাটা জমা নেওয়া হলেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। মে মাসের শেষের দিকে এ সম্মেলন হবে।

পদপ্রত্যাশী নেতারা জানান, কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি যেভাবে ‘চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে’ তেমন কোনো কমিটি যুবলীগে হোক- তা চান না সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তারা বলেন-এমন কমিটি হলে ত্যাগী নেতারা বাদ পড়বেন। টাকার বিনিময়ে পদ কেনা-বেচা হলে সংগঠনের প্রতি নেতাকর্মীরা আস্থা হারাবেন।

জানা গেছে, আগে সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে যারা নেতৃত্বে ছিলেন না তাদের বায়োডাটা জমা দেওয়ার সুযোগ এবার রাখা হয়নি। এ কারণে গণহারে বায়োডাটা জমা পড়েনি। আবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর নতুন করে কেউ বায়োডাটা জমা দেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন না। বর্তমান নেতৃত্বের এমন কঠোর মনোভাবের কারণে আগামীতে যুবলীগে যোগ্য নেতৃত্ব উঠে আসবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রায় এক হাজার বায়োডাটা জমা পড়েছিল। কোনো দিন স্বেচ্ছাসেবক লীগ করেননি, আবার কখনও সংগঠনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন না-এমন ব্যক্তি নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন। এ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই চট্টগ্রামে যুবলীগের তিন সাংগঠনিক ইউনিট থেকে নেতাদের বায়োডাটা আহ্বান করার পর থেকে সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে তিনটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহীদের বায়োডাটা আহ্বান করে কেন্দ্রীয় যুবলীগ। ২ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তিন দিনে দুই শতাধিক বায়োডাটা জমা পড়েছে। মহানগর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ১০৮ নেতা বায়োডাটা জমা দেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৩৫ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৭৩ জন বায়োডাটা জমা দেন। দক্ষিণ জেলায় সভাপতি পদে ১৩ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৩৯ জন বায়োডাটা জমা দেন। একইভাবে উত্তর জেলায় সভাপতি পদে ৯ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২২ জন বায়োডাটা জমা দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই শতাধিক নেতা বায়োডাটা জমা দিলেও প্রতিটি ইউনিটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিযোগিতা হবে। ত্যাগী নেতারা প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে থাকবেন।

চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের শীর্ষ দুই পদে বায়োডাটা জমা দেওয়া উল্লেখযোগ্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-সভাপতি পদে এম আর আজিম, সুমন দেবনাথ, হাসান মুরাদ বিপ্লব, দিদারুল আলম, আবদুল মান্নান ফেরদৌস, শেখ নাছির আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ইঞ্জিনিয়ার আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, দেবাশীষ পাল দেবু, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সাজ্জাত হোসেন, নুরুল আজিম রনি, ফজলে রাব্বি সুজন, মাহবুব আলম আজাদ প্রমুখ।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলায় সভাপতি পদে রয়েছেন-নুরুল মোস্তফা মানিক, ইঞ্জিনিয়ার হাসান মুরাদ, এস এম রাশেদুল আলম, নাসির হায়দার বাবুল, মজিবুর রহমান স্বপন, আবুল বশর, গোলাম কিবরিয়া, রাজিবুল আহসান সুমন। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন-আবু তৈয়ব, রাশেদ খান মেনন, এসএম আল নোমান, মুজিবুল হক স্বপন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলায় সভাপতি পদে রয়েছেন-সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ ফারুক, পার্থসারথী চৌধুরী, নাসির উদ্দিন মিন্টু, মাহবুবুর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন- মর্তুজা কামাল মুন্সী, আখতার হোসেন, সাইফুল ইসলামসহ ২৬ জন সিভি জমা দিয়েছেন।

নগরে সভাপতি পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমন দেবনাথ যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্র থেকে কিছু নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়ায় গণহারে কেউ বায়োডাটা জমা দিতে পারেননি। এটা সংগঠনের জন্য সুখবর। সুস্থ প্রতিযোগিতার ধারা সৃষ্টি করতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে উদ্যোগ নিয়েছে তাকে সবাই একবাক্যে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

নগরে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, অতীতে যুবলীগ নিয়ে সারা দেশে অনেক সমালোচনা ছিল। টাকা দিয়ে কমিটি বেচা-কেনার খারাপ নজিরও ছিল। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে যুবলীগের যে মানবিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনকি গতিধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে-তাতে মনে হয় না কমিটিতে কালোবাজারিদের কারও ঠাঁই হবে। অথবা পেছনের দরজা দিয়ে কেউ ভিন্ন উপায়ে পদ বাগিয়ে নেবে। বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি সবার আস্থা আছে। সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি হবে তা মেনে নিতে সবাই প্রস্তুতও আছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণে সভাপতি পদপ্রার্থী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফারুক যুগান্তরকে বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। আগামীতে দলকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারবেন এমন সব ব্যক্তিকেই নেতৃত্বে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস। দুঃসময়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের হাতে নেত্বত্ব আসবে বলে বিশ্বাস করি।

নিরাপদে যাত্রী পারাপার করাই বড় চ্যালেঞ্জ

শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও শিমুলিয়া বাংলাবাজার এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ঈদযাত্রী নিরাপদে পারাপার করার ব্যবস্থা করাই অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম মাওয়া ও পাটুরিয়া অঞ্চলের এসব রুটে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি ও শিমুলিয়া বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। মাঝিরকান্দিতে মাত্র একটি ফেরিঘাট রয়েছে। নেই পার্কিং ইয়ার্ড। ঈদের আগে সেখানে আরেকটি ফেরিঘাট ও পার্কিং ইয়ার্ড নির্মাণ করা না হলে যাত্রী ও গাড়ি পারাপারে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে এমন আশঙ্কা করে বিআইডব্লিউটিএকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

অপরদিকে আরিচা ফেরিঘাটের পার্কিং ইয়ার্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে গরু বিক্রির হাট হিসাবে। শিমুলিয়ার দুটি ফেরি রুটে বড় গাড়ি পারাপার বন্ধের জেরে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়া এসব রুটে চলাচলকারী সানকেন (নিমজ্জিত) ডেক বিশিষ্ট ছোট আকারের লঞ্চে যাত্রী নিয়ন্ত্রণ করাও বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলো। যদিও সম্প্রতি এক সভায় এসব লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও নৌ পরিবহণ অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচ কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই সব কর্মকর্তা জানান, করোনা মহামারির রেশ কেটে যাওয়ায় এবার ঈদে এসব নৌরুটে যাত্রীর ঢল নামবে-এমনই ধারণা করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সামাল দিতে নৌবন্দরগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম রাখা হবে। ঈদের আগেই শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে রাতেও ফেরি চলাচল শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে লঞ্চের পাশাপাশি ফেরিতে যাত্রী বহনেরও চিন্তা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ সভা ডেকেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ পারাপারের চ্যালেঞ্জ জানতে চাইলে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঈদ হলেও নদীতে প্রবাহ বাড়েনি। এটি কিছুটা হলেও স্বস্তির। তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে, ঈদযাত্রীরা অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি রওয়ানা হলে তা বিড়ম্বনা ও ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ কারণে আমরা ঈদের আগেই বেশকিছু নির্দেশনা দিতে যাচ্ছি। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ভ্রমণ পরিকল্পনা করতে যাত্রীদের অনুরোধ জানাচ্ছি। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও আরামদায়ক করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করব।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের আজকের বৈঠকের কার্যপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বৈঠকে যাত্রীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব রাখা হয়নি। তবে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে ১৩টি, যাত্রী নিরাপত্তায় ১৪টি, নৌরুট ব্যবস্থাপনায় ৬টি, নৌযান পুনর্বিন্যাসে ৩টি, কো-অর্ডিনেশনে ৭টি ও বিবিধ ৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কার্যপত্রে ঈগের আগে ৪ দিন ও পরে ৫ দিন লঞ্চে মোটরসাইকেল ও মালামাল পরিবহণ বন্ধ রাখা, ঈদের আগ মুহূর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দিনে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ, নৌপথে চাঁদাবাজি ও ডাকাতি বন্ধে পদক্ষেপ এবং নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রীবহন বন্ধের কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কার্যপত্র ছাড়াও কর্মকর্তাদের আলোচনায় অনেক বিষয়ে উঠে আসবে। তখন সেগুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ফেরিঘাটের সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক যুগান্তরকে বলেন, ঘাট সমস্যা নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির একাধিক চিঠি পেয়েছি। এসব বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত রয়েছে। মাঝিরকান্দিতে আরেকটি ফেরিঘাট ও একটি পার্কিং ইয়ার্ড করার বিষয়টি জমি পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সেতু বিভাগ জমি দিলেই আমি ঘাট তৈরি করে দেব। আরিচার পার্কিং ইয়ার্ডে গরুর হাট বসানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ওই জায়গা অব্যবহৃত থাকায় জেলা প্রশাসন সেখানে বাজার ইজারা দিয়েছে। প্রয়োজন হলে সেটি আমাদের আওতায় নিয়ে আসব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে দেশের বরিশাল ও খুলনা বিভাগ এবং ফরিদপুর অঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা যাতায়াত করেন। পদ্মা সেতুতে বারবার ফেরির ধাক্কার কারণে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। বর্তমানে সেটি চালু হলেও শুধু দিনে সীমিত আকারে চলছে। শনিবার এ রুটে মাত্র দুটি ফেরি চলাচল করেছে। অপরদিকে শিমুলিয়া-মাঝিরকান্দি রুটে তিনটি ফেরি চলাচল করছে।

তবে সমস্যা হচ্ছে মাঝিরকান্দিতে ফেরি ভেড়ার জন্য একটি ঘাট রয়েছে। মূল সড়কের সঙ্গে এ ঘাটের সংযোগ সড়কটি খুবই সরু। সেখানে গাড়ি পার্কিং করার মতো কোনো ইয়ার্ড নেই। নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে এ দুটি রুটে ফেরি বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করা হবে। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে সারা রাত ফেরি চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ রুটের তিনটি ফেরি বেগম রোকেয়া, ফরিদপুর ও ক্যামেলিয়া মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে রয়েছে। তবে ঈদে এ দুটি রুটে বড় আকারের বাস পারাপার করবে না। শুধু ছোট গাড়ি পার হবে। অপরদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং পাটুরিয়া-কাজিরহাট রুটে বর্তমানে ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদে সেই সংখ্যা ২০টিতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। লঞ্চের ওপর যাত্রী চাপ কমাতে এবারও ফেরিতে যাত্রী পরিবহণ করা হবে।

ঈদের কেনাকাটা করা হলো না বাবা-ছেলের

চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ার পথে লরিচাপায় বাবা-ছেলে নিহত ও স্ত্রী এবং অপর ছেলে আহত হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রাক্টর উল্টে তিনজন নিহত হয়েছে। এছাড়া রংপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বগুড়ায় আইনজীবী, পটুয়াখালীতে শিশু, টাঙ্গাইলে তরুণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে দুই শিক্ষার্থী, বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতা, রাজবাড়ীতে অটোচালক এবং রাজশাহীতে প্রভাষকের প্রাণ গেছে। ব্যুরো প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর –

চট্টগ্রাম ও রাউজান : শিশু মোবিনের বাবার ইচ্ছে ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ঈদের কেনাকাটা করার। আর তাই সবাইকে নিয়েই মার্কেটে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে দুর্ঘটনায় তছনছ হয়ে গেল ঈদের সব খুশি। লরিচাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেন বাবা-ছেলে। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন তার স্ত্রী ও আরেক ছেলে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর ইপিজেড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আবু সালেহ (২৮) ও তার ছেলে আবদুল্লাহ আল মোবিন (৯ মাস)। আহত স্ত্রীর নাম মনিরা আক্তার কলি ও অপর ছেলের নাম আবদুল্লাহ আল মাহির (৪)। আবু সালেহ ইপিজেডের এইচকেডি গার্মেন্ট চাকরি করতেন। তাদের গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা এলাকায়। পরিবার নিয়ে বন্দরটিলা আকমল আলী রোডের মনির বিল্ডিংয়ে থাকতেন তিনি। অপরদিকে রাউজানে শুক্রবার টমটম উল্টে নিহত হয়েছে স্কুলছাত্র শহিদুল ইসলাম রাফি (১৪)। সে নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও নোয়াপাড়া কলেজের প্রভাষক ইয়াছিনের ভাইপো।

কুমিল্লা ও মুরাদনগর : মুরাদনগরে ট্রাক্টর খাদে পড়ে চালক শ্রমিকসহ তিনজন নিহত ও একজন আহত হয়েছে। শনিবার ভোরে উপজেলার নবীপুর শ্রীকাইল সড়কের মোচাগড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- উপজেলার বাখরনগর বল্লবভবাড়িয়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে ট্রাক্টর চালক বাবলু মিয়া (২২), একই এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে শ্রমিক টুটুল মিয়া (২২) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে মো. হাসান মিয়া (২৩)।

বগুড়া : বগুড়ায় আদালতে যাওয়ার পথে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত সিনিয়র আইনজীবী মাহবুবর রহমান ফারুক (৬৫) জেলা আইনজীবী বার সমিতির সিনিয়র সদস্য। শনিবার কাহালু উপজেলার বিবিরপুকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গলাচিপা ও পটুয়াখালী দক্ষিণ : গলাচিপায় ট্রাক্টরচাপায় নিহত রিয়াদুল হাওলাদার (১২) উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের কাশেম হাওলাদারের ছেলে। শনিবার দুপুরে উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের ২নং ওয়ার্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মধুপুর (টাঙ্গাইল) : বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই তছনছ হয়ে গেছে সব। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী বারুক সাংমা (২২) নিহত হওয়ায় বিয়ের আয়োজন থেমে গেল। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকার চাড়ালজানী বন গবেষণা কেন্দ্রের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তি এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্রাকচাপায় নিহত মাদ্রাসাছাত্র মো. হেদায়েত উল্লাহ (১৪) চুন্টা ইউনিয়নের ভুইশ্বর গ্রামের ঈদন মিয়ার ছেলে।

বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) : বাকেরগঞ্জে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জব্বার হাওলাদার (৪৮) উপজেলার কলসকাঠী ইউনিয়নের মৃত কাঞ্চন আলী হাওলাদের ছেলে। তিনি কলসকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশা চালক রজব বেপারি (৪০) উজানচর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মঙ্গল বেপারির ছেলে।

বাগমারা (রাজশাহী) : বন্ধুর জানাজায় যাওয়ার পথে ভটভটির সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষক ইসাহাক আলী (৪৫) রাজশাহী দারুস সালাম ফাযিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।

পীরগঞ্জ (রংপুর) : পীরগঞ্জে ট্রাকচাপায় নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান দুলু (৬৭) উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। শনিবার দুপুরে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে সকালে মেয়েজামাইয়ের বাড়ি একই উপজেলার বড়দরগা ইউনিয়নে যাওয়ার পথে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন।

লিভারে অতিরিক্ত চর্বি কেন জমে, কী করবেন?

ফ্যাটি লিভার বর্তমান সময়ের একটি জটিল রোগ। লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমলে সেটিকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। যাদের ওজন বেশি, ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে, তাদের এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. ফারুক আহমেদ।

মানবদেহে যকৃত বা লিভার একটি অত্যাবশ্যকীয় গ্রন্থি যা পেটের ডানপাশের উপরিভাগে বুকের খাঁচার নিচে অবস্থান করে। লিভার আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্পন্ন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রক্তের বিষাক্ত পদার্থগুলো পরিশোধন করা, পিত্তরস তৈরি ও নিঃসরণ করা যা ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাবার হজম ও খাদ্যনালি থেকে শোষণপ্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, আমিষ তৈরি করা, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে, রক্তের ঘনত্ব ও জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া অক্ষুণ্ন রাখে ইত্যাদি।

লিভারের কোষগুলোতে শতকরা পাঁচ ভাগের মতো চর্বি থাকে, যা স্বাভাবিক, কোনো কারণে অতিরিক্ত চর্বি জমা হলে তাকে ফ্যাটি লিভার রোগ বলা হয়। ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের হয়, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এ এফ এল ডি) যা দীর্ঘদিন ধরে অধিক পরিমাণে মদ্যপানের ফলে ঘটে ও সঠিক পদক্ষেপ (বিশেষত মদ্যপান থেকে বিরত থাকা) না নেওয়া হলে এটি থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগ অর্থাৎ লিভার সিরোসিস হতে পারে।

অন্যটি হলো নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (এনএএফএলডি)। যার সঙ্গে সাধারণত ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির আধিক্য ইত্যাদি রোগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকে। এই রোগগুলোকে একত্রে মেটাবলিক সিনড্রোম বলা হয়। মেটাবলিক সিনড্রোম না থাকলেও কারও শুধুমাত্র স্থূলতাই বাড়িয়ে দিতে পারে ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা। স্থূলতা পরিমাপ করার জন্য বিএমআই বা বডি মাস ইনডেক্স ব্যবহার করা হয়।

একজন ব্যক্তির ওজন কেজিতে এবং উচ্চতাকে মিটার-এ নিয়ে, উচ্চতার বর্গ দ্বারা ওজনকে ভাগ করলে বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই পাওয়া যায়। বিএমআই ১৮.৫ এ নিচে হলে তাকে কম ওজন বলা হয়, ১৮.৫-২৪.৯ হলে তা স্বাভাবিক ওজন, ২৫-২৯.৯ হলে তা অতিরিক্ত ওজন এবং বিএমআই ৩০-এর বেশি হলে তা অতিস্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা বলা হয়। প্রযুক্তির প্রতি অতি নির্ভরশীলতা, শারীরিক পরিশ্রম এর ঘাটতি ও প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ ইত্যাদিকে স্থূলতার কারণ হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।

স্থূলতা ও এনএএফএলডি বিগত দশকগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও স্থূলকায় মানুষের দেহেই ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বেশি দেখা দেয়, অনেক সময় রোগা ব্যক্তিরাও ফ্যাটি লিভার-এ ভুগে থাকেন। বিশেষ ধরনের কিছু ওষুধ, অ্যালকোহল, হরমোনজনিত কারণ ও উত্তরাধিকার সূত্রে রোগা ব্যক্তিদের ফ্যাটি লিভার রোগ হতে পারে।

অ্যালকোহল সেবনকারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। তবে গত কয়েক দশকে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত না হওয়া ও অস্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন করা।

নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা এনএএফএলডি কে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো সাধারণ ফ্যাটি লিভার যাতে লিভারে বাড়তি চর্বি থাকলেও পরীক্ষা নিরীক্ষায় লিভারে প্রদাহ বা ক্ষতির কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

অন্যটি হলো নন-অ্যালকোহলিক স্টেটো-হেপাটাইটিস বা ন্যাশ যাতে চর্বিজনিত কারণে লিভার প্রদাহ বা ক্ষতির ব্যাপারটি শারীরিক লক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে।

আমাদের দেশের একটি সমীক্ষায় প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষের দেহে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে মধ্যবয়স্ক নারীদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

ফ্যাটি লিভার নীরব একটি রোগ যা সাধারণত উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ তৈরি করে না। তবে ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভূত হতে পারে, কখনো কখনো পেটের ডানপাশের উপরিভাগে ভোঁতা ধরনের ব্যথাও হতে পারে। ফ্যাটিলিভারের রোগীদের মাঝে যাদের ডায়াবেটিস থাকে তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগের আশঙ্কা বেশি থাকে। আর যারা নন-অ্যালকোহলিক স্টেটো হেপাটাইটিস বা ন্যাশে ভোগেন তাদের দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহের একপর্যায়ে লক্ষণ প্রকাশিত হতে শুরু করে। ন্যাশে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশের মধ্যে লিভার সিরোসিস (লিভার সংকুচিত হয়ে কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় ও রক্তপ্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হওয়া) দেখা দিতে পারে।

তবে লিভার সিরোসিস হবার পরও প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত তা সহনীয় পর্যায়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ এই সময়ে রোগী ক্লান্তি, অবসাদ, দুর্বলতা অনুভব করলেও কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া ছাড়া লিভার তেমন কোনো জটিলতা ছাড়াই তার কার্যক্রম চালিয়ে নেয়।

এ পর্যায়ে অতিক্রান্ত হলে লিভার সিরোসিসের নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে, যেমন পেটে, পায়ে পানি আসা, খাদ্যনালিতে শিরা ফুলে গিয়ে স্ফীত শিরা ফেটে রক্তক্ষরণ হওয়া, মস্তিষ্ক ও কিডনির বৈকল্য দেখা দেয়।

এ অবস্থাকে Decompensated liver Cirrhosis বা লিভার সিরোসিসের অসহনীয় অবস্থা বলা হয়। এই অবস্থায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। লিভার সিরোসিসের এই পর্যায়ে রোগীর সাধারণভাবে দুই বছর আয়ুষ্কাল থাকে। বর্তমান বিশ্বে লিভার সিরোসিসের প্রধান কারণ হিসাবে ফ্যাটি লিভারকে গণ্য করা হয়। তবে, ফ্যাটিলিভারে আক্রান্ত রোগীদের কিছুসংখ্যকের লিভার সিরোসিস দেখা দেয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্তের পর সচেতনতার মাধ্যমে সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকতে পারেন।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রোগ শনাক্তকরণ

সাধারণত পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষা যেমন সিটি স্ক্যান, এম আর আই ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিস (এনএএফএলডি) শনাক্ত হয়।

ফ্যাটিলিভারের সঙ্গে ইনসুলিন প্রতিরোধের একটি সম্পর্ক থাকে। ইনসুলিন, যা রক্তের সুগারকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের বিপাক প্রক্রিয়ায়ও কাজ করে। আর এ রোগীদের ক্ষেত্রে লিভারের কোষগুলোতে ইনসুলিন প্রতিরোধের কারণে বিপাক প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে কাজ করতে না পারায়, ধীরে ধীরে লিভারের মধ্যে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। রক্তের সুগার ও ইনসুলিন এর মাত্রার পরিমাণ নির্ণয় করে ‘ইনসুলিন প্রতিরোধ’ শনাক্ত করা যায়।

রক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে প্রয়োজনীয় হচ্ছে লিভার এনজাইম যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, বিলিরুবিন, এলবুমিন, রক্তের চর্বির পরিমাণ, রক্তের সুগার; এ ছাড়াও হেপাটাইটিস বি, সি এর সংক্রমণ আছে কিনা তাও পরীক্ষা করতে হয়।

উল্লেখ্য ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তের চর্বির আধিক্য, স্থূলতার সঙ্গে ফ্যাটি লিভার ঝুঁকির পাশাপাশি হৃদরোগ, কিডনি ডিজিজ, মস্তিষ্কের শিরাজনিত রোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগগুলো শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হয় ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে হয়।

দীর্ঘমেয়াদি লিভার প্রদাহের ফলে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত লিভারজুড়ে আঁশ তৈরি হয় যাকে লিভার ফাইব্রোসিস বলা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে এই আঁশযুক্ত লিভারে অসংখ্য গুটি তৈরি হয়, এ অবস্থাকে লিভার সিরোসিস বলা হয়। লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস ও সিরোসিস শনাক্ত করার সর্বোত্তম পন্থা হলো লিভার বায়োপসির মাধ্যমে যেখানে একটি বিশেষ সুই এর দ্বারা লিভার হতে টিস্যু পরীক্ষা করে লিভারে সৃষ্ট ক্ষতি পরিমাপ করা যায়। তবে কিছু নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা দ্বারা লিভার বায়োপসি না করেও লিভারের চর্বির পরিমাণ ও ফাইব্রোসিসের মাত্রা নিরূপণ করা যায়, এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্রাইবোস্ক্যান। এ পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের অবস্থা চিকিৎসার আগে ও পরে অনুধাবন করা যায়।

ফ্যাটিলিভারের চিকিৎসা

এনএএফএলডি বা ফ্যাটিলিভারের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই। কোনো ওষুধ দ্বারাই সরাসরি লিভারের চর্বি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু ওষুধ ইতোমধ্যে গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে আছে। তবে অনুমোদিত ওষুধ না থাকলেও বেশ কিছু সমীক্ষা ও ট্রায়ালে দেখা গেছে কিছু ওষুধ যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগে ব্যবহৃত হয় ও কিছু ভিটামিন (যেমন ‘ই’ ভিটামিন) ফ্যাটিলিভারের প্রদাহ ও ফাইব্রোসিস কমাতে সাহায্য করে। এখন পর্যন্ত খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শরীরের ওজন কমানো (কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ) প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায়। এক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন খুবই জরুরি। শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, পাউরুটি, আলু ইত্যাদি পরিমাণে কম খেতে হবে। শাকসবজি, তাজা ফলমূল স্বাভাবিক পরিমাণে খেতে পারবেন।

পর্যাপ্ত মাছ (তৈলাক্ত অংশ ছাড়া) খেতে পারবেন তবে জাঙ্কফুড, তৈলাক্ত ও ভাজাখাবার, মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার ও কেক-পেস্ট্রি, আইসক্রিম ইত্যাদি ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকতে হবে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করতে হবে; অন্তত ৩০ মিনিট দৈনিক একটু জোরে হাঁটা কার্যকর একটি ব্যায়াম ওজন কমানোর জন্য পশ্চিমা বিশ্বে প্রয়োজনে ব্যারিয়াট্টিক অস্ত্রোপাচার করে পাকস্থলিকে ছোট করে দেওয়া হয়, আমাদের দেশে এটি এখনো প্রচলিত নয়।

ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, রক্তের কলস্টেরলের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা করতে হবে।

ফ্যাটিলিভারের কারণে যদি লিভার সিরোসিস ও এর জটিলতাগুলো দেখা দেয়, এ পর্যায়ে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনে লিভার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে একজন সুস্থ ব্যক্তির লিভারের অংশ রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাপন পুনঃনিশ্চিত করা যায়।

আমাদের দেশে ইতঃপূর্বে কয়েকটি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে শিগ্গির বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন পুরোদমে শুরু হবে বলে আমরা আশাবাদী। সুতরাং আশঙ্কা নয়, সচেতনতাই জরুরি। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে ওজন কমানো, চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ফ্যাটিলিভারের রোগীও সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন।

৩২ বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা হবে তিন ধাপে, সময় নির্ধারণ

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩, ১০ ও ১৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপাচার্য পরিষদ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার উপাচার্যদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর বলেন, উপাচার্য পরিষদের সভায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।আজকের সভায় শুধু ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় পরবর্তী প্রস্তুতি নেবে।

মোহাম্মদ নূর বলেন, এবার দেশের ৩২ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। আগামী ৩, ১০ ও ১৭ সেপ্টেম্বর- তিন ধাপে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া গুচ্ছ সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা আলাদা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পরীক্ষা আগামী সেপ্টেম্বর মাসের যে কোনো সময় নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।

এদিকে গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশের ৩২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে এ বছর নতুন করে গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবেন শিক্ষার্থীরা।

তিনটি গুচ্ছে হবে এই পরীক্ষা। এর মধ্যে নতুন তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় এবার প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

যে কারণে ৪১ দিন খালি পায়ে থাকবেন রামচরণ

বক্স অফিস তোলপাড় করে এগিয়েই চলেছে এস এস রাজামৌলির ‘আরআরআর’। সিনমোটি মুক্তির পর মাত্র ১৩ দিনেই ১,০০০ কোটির ব্যবসা করেছে।

বক্স অফিসের রেকর্ড নিয়ে বোধ হয় বিশেষ মাথাব্যথা নেই পরিচালক এস এস রাজামৌলী বা ছবির অভিনেতা রামচরণদের। আপাতত তারা ব্যস্ত জমিয়ে এ ছবির সাফল্য উদযাপন করতে।

রাজামৌলীর ছবিতে রামচরণ, জুনিয়র এনটিআর ছাড়াও স্বল্প সময়ের জন্য দেখা গেছে আলিয়া ভাট এবং অজয় দেবগানকে।

মূলত তেলেগু ভাষায় হলেও রাজামৌলি ছবিটি একসঙ্গে আরও পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছে। তেলেগুর পাশাপাশি তামিল, কন্নড়, মালয়ালম এবং হিন্দিতে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ে ‘আরআরআর’-এর সাফল্য উদ্যাপনে হাজির হয়েছিলেন জুনিয়র এনটিআর, রামচরণরা। হাজির ছিলেন বলিউডের তারকারাও।

আমির খান বা হুমা কুরেশিদের পাশাপাশি দেখা গিয়েছে জিতেন্দ্র, তুষার কাপূর, জনি লিভার, জাভেদ আখতার, রাখি সাবন্ত, করন জোহরের মতো তারকাদের।

তবে অনেকেরই নজর ঘুরছিল রামচরণের পায়ের দিকে। পুরোপুরি কালো কুর্তা-পাজামায় পার্টিতে এসেছিলেন তিনি। একমুখ গোঁফদাড়ি। কপালে তিলক। তবে ছিলেন খালি পায়ে? অনেকেই কৌতূহলী।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিকস টাইমস জানায়, হিন্দু দেবতা আয়াপ্পার ভক্ত রাম চরণ। কেরালা রাজ্যের শবরীমালা মন্দিরে পূজা দিতে যাবেন এই তারকা।

ফলে ৪১ দিন পর্যন্ত তাকে নিরামিষাশী থাকতে হবে। গোঁফদাড়ি কাটা বা জুতো পরা যাবে না। পরতে হবে কালো পোশাকও।

৪১ দিনের ব্রত শেষে শবরীমালা মন্দিরে যাবেন রামচরণ। এখন সেই নিয়ম মানছেন রাম চরণ, সে কারণে জুতা ছাড়া দেখা যাচ্ছে তাকে

২০ বছর পর আবারও ঘর বাঁধলেন লোপেজ-অ্যাফ্লেক!

সেই ২০ বছরের পুরনো প্রেম আরও একবার ধরা দিয়েছে মার্কিন তারকা জেনিফার লোপেজ ও বেন অ্যাফ্লেকের জীবনে। তারা আবারও বাগদান সেরেছেন।

এ নিয়ে লোপেজ নিজেই একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন তার ওয়েবসাইট অন দি জেএলও ডট কম এবং অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে। আর ভিড়িও বার্তার ক্যাপশনে জেনিফার বলেন, আমার একটি উত্তেজনাপূর্ণ এবং বিশেষ গল্প আছে শোনানোর জন্য। খবর এনডিটিভির।

এর আগে জেনিফার লোপেজ ও অ্যাফ্লেকের প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন ২০০২ সালে। সেই সম্পর্ক ভেঙে যায় দু বছরেই।

এর পর বেন অ্যাফ্লেক ও জেনিফার গারনার এবং জেনিফার লোপেজ ও মার্ক অ্যানথনি বিয়ে হয়ে। তাদের সংসার টিকেনি। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে দুজনেই ভিন্ন সম্পর্কে জড়ালেও সেগুলো ব্রেকআপ হয়ে যায় গত বছরে। এখন সেই ২০ বছর আগের প্রেমে আবারও এক হয়েছেন এই দুই মার্কিন তারকা।

জেনিফার লোপেজ অনেক গুণের অধিকারী। তিনি একইসঙ্গে গায়িকা, অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তাও। জেনিফার লোপেজকে শেষ দেখা গিয়েছিল ম্যারি মি ছবিতে। এর পরে তাকে আবার দেখা যাবে অ্যাকশন-কমেডি ছবি শটগান ওয়েডিং-এ। ছবিটিতে জোশ ডুহামেলের বিপরীতে অভিনয় করবেন জেনিফার। এ ছাড়া গত বছরে তিনি নিকি ক্যারো পরিচালিত দ্য মাদারের শুটিংও শুরু করেছিলেন।

সাকিব আল হাসানের শাশুড়ি আর নেই

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের শাশুড়ি এবং উম্মে শিশির আল হাসানের মা নার্সিগ বেগম শুক্রবার গভীর রাতে মারা গেছেন। সাকিব ও শিশিরের পারিবারিক সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন নার্গিস।

সাকিব আল হাসান জাতীয় দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থাকাকালীন তার শাশুড়ি বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। একই সময় সাকিবের মাও অসুস্থ ছিলেন। সেজন্য ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরে এসেছিলেন বাঁ-হাতি এই অলরাউন্ডার।

জানা গেছে, আজ গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে সাকিবের শাশুড়ির নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গত ১ এপ্রিল বড় মেয়েকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান সাকিব। কারণ আলাইনা হাসানের স্কুল খুলে যায়। কিন্তু মায়ের অসুস্থতা ও চিকিৎসাজনিত কারণে যেতে পারেননি তার স্ত্রী শিশির। ছোট মেয়ে ও ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে ছিলেন তিনি।

এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সাকিবের শ্বশুর মমতাজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান। সাকিব তখন দেশে ছিলেন। অসুস্থ শ্বশুরকে দেখার জন্য তড়িঘড়ি যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও শেষ দেখা পাননি।