শুক্রবার ,১৪ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 356

অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো: মন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনের সঙ্গে আমরা একমত নই বরং অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলায় পাম ভিউ রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরাম আয়োজিত ‘মাহে রমজান ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনা ও ইফতারে যোগদানের পূর্বে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ প্রতিক্রিয়া জানান।

ড. হাছান বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার প্রতিবেদনটি আমি দেখেছি। আমরা এই রিপোর্টে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নই। আমরা মনে করি, এ রিপোর্টের তথ্য-উপাত্ত নির্দিষ্ট কিছু সূত্র থেকে সংগ্রহ করা হয় এবং সেই সূত্রগুলো একপেশে ও অনেক ভুল তথ্য সরবরাহ করায় রিপোর্টটি এমন হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে সবক্ষেত্রে না হলেও অনেকক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের গুয়ান্তামো বে-তে যেভাবে মানুষকে নির্যাতন করা হয়, সে ধরনের কোনো কারাগার আমাদের দেশে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে যেভাবে জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের দেশে কখনো এ ধরনের হত্যাকাণ্ড হয়নি। মার্কিন পার্লামেন্টে যেভাবে হামলা করে চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, স্পিকারের চেয়ারে দুষ্কৃতকারী বসেছিল, এমন কোনো ঘটনা আমাদের দেশে ঘটেনি।’

‘যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ হিসপানিক ও ১২ শতাংশ ব্ল্যাক হলেও গত দশ বছরের পরিসংখ্যানমতে পুলিশের গুলিতে নিহতদের অধিকাংশই এই ৩০ শতাংশের অন্তর্ভুক্ত’ বলে উল্লেখ করেন তথ্যমন্ত্রী।

মার্কিন এই প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘দেশে বিচার বিভাগ অত্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করে।সে কারণেই সরকারের বিরুদ্ধে রায় হয় ও সরকারি দলের এমপিরা জেলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। মানবাধিকার রিপোর্টে যে নিরাপত্তা বাহিনীর কথা আছে, সেই নিরাপত্তা বাহিনীও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা পাচ্ছে। এ কারিগরি সহায়তাসহ অন্যান্য বিষয়ে সহায়তার মাধ্যমে আমাদের যদি কোনো ত্রুটিও থেকে থাকে- তা ভবিষ্যতে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে বলে আমি মনে করি।’

এ সময় অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে চলতি বছর দেশের অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির আভাস দিয়েছে। করোনা পরবর্তীতে যে আমাদের অর্থনীতি সুদৃঢ়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, সেটিও বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা রাত-বিরাতে সমালোচনা করেন, আমি আশা করব তারা এই রিপোর্টের পর বিরূপ সমালোচনা বন্ধ করবেন।’

বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো. মকবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সিনিয়র সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা বাংলা নববর্ষ ১৪২৯ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে টিকিট বিক্রি।

তবে অগ্রিম টিকিট দেওয়া শুরু হলেও বাস কাউন্টারে নেই মানুষের ভিড়। ২ মে ঈদের দিন ধরে টিকিট দেওয়া শুরু করেছে বাস কোম্পানিগুলো।

পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় সবাই একেবারে শেষ দিকে বাড়ি যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ৩০ এপ্রিল ও ১ মের টিকিটের বেশি চাহিদা থাকবে। অনলাইনে ৩০ শতাংশ টিকিট কেনার সুযোগ থাকায় মানুষ সেদিকে বেশি আগ্রহী বলে জানান তারা।

এদিকে বাসের মালিকপক্ষ জানায়, টিকিট বিক্রির জন্য সব পরিবহণের আলাদা কাউন্টার খোলা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের জেলার বাসের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। বাস কাউন্টার ও অনলাইন থেকে কয়েকটি পরিবহণের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা। গাবতলী, সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর, আসাদগেট, আরামবাগ ও মৌচাকে বিভিন্ন আন্তঃজেলা বাসের কাউন্টার থেকে আগাম টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হবে আগামী ২৩ এপ্রিল থেকে। টিকিট স্টেশনে কাউন্টারের পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি হবে।

ভোটার হতে লাগবে না দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ: ইসি

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপসহ কয়েকটি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার হতে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়া লাগবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে। এর ফলে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেওয়া বাংলাদেশিদের ভোটার হওয়ার পথ সহজ করা হল।

বুধবার ইসি থেকে উপজেলা/থানা নির্বাচন পর্যায়ের রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের কাছে ‘দ্বৈত নাগরিক ও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জনকারী বিদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তকরণ প্রসঙ্গে’ একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়।

ইসির সহকারী সচিব মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রের আলোকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিককে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তের জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দাখিলের প্রয়োজন হবে না।

এছাড়া হংকং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাগরিকত্ব গ্রহণকারী বাংলাদেশের নাগরিককেও এমন সনদ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

তবে বিয়ে সূত্রে বাংলাদেশি নাগরিত্ব নেওয়া বিদেশিদের এ দেশে ভোটার হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাগরিকত্ব সনদ দিতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে মাঠ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরু হয়। এসময় ভোটার তালিকাভুক্ত নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হয়।

অন্তত ২০টি নাগরিক সেবা পেতে এনআইডি লাগছে ভোটারদের। কিন্তু শুরু থেকেই প্রবাসীদের ভোটার তালিকাভূক্ত হতে নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগ আসছে।
এরইমধ্যে প্রবাসীদের ভোটার তালিকাভুক্ত করতে বিগত তিনটি কমিশনই নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়েও এসেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দ্বৈতনাগরিকদের নাগরিক সনদ দেওয়ার কথা থাকলেও বিষয়টি এড়িয়ে অনেকে ভোটারও হয়ে যান। সেই সঙ্গে বিদেশে নাগরিকত্ব নেওয়া অনেক বাংলাদেশি নাগরিককের দেশে সম্পত্তিসহ নানা ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ভোটার তালিকাভুক্ত করারও বিধান রয়েছে। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনেকেই ভোটার হতে হয়রানিরও শিকার হয়ে থাকে।

ভোটার হওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনও ২০১৮ সালে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার কথা বলেছিল।

আগের স্মারকটি কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বাতিল করল।

রমজানুল মোবারক: প্রার্থনাকারীকে ক্ষমা করে দেন আল্লাহ

আজ রমজানের ১১তম দিন। শুরু হলো মাগফিরাতের দশক। প্রথম দশকে আল্লাহতায়ালা রহমত ও করুণার দ্বার খুলে দিয়েছিলেন। এ দশকে তিনি অবারিত করে দিয়েছেন তাঁর মাগফিরাত অর্থাৎ ক্ষমার ভাণ্ডার। দয়াময় তিনি ক্ষমার পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

অগণিত, অসংখ্য পাপী-তাপীকে তিনি মাগফিরাত নামের মহাসাগরে ভাসিয়ে পৌঁছে দেবেন তার কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে-মুক্তির মোহনায়। দয়াময় মানুষকে সৃষ্টি করেছেন প্রেম আর ভালোবাসা দিয়ে। তিনি চান না তাঁর কোনো বান্দা জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হোক, তিনি চান তাঁর প্রত্যেক বান্দাকে এ রমজানের দ্বিতীয় দশকে মাগফিরাতের মধুর ঝরনা ধারায় স্নান করাতে।

তিনি প্রতিদিন সেহরির আগ মুহূর্তে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমান থেকে দরদভরা ঘোষণায় আহ্বান করতে থাকেন, ‘আছো কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী! ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ হাদিসে এসেছে, শেষ রজনীতে আল্লাহর রহমতের সাগরে জোয়ার সৃষ্টি হয়, যার ফলে সে সময় প্রতিটি ক্ষমা প্রার্থনাকারীকে তিনি ক্ষমা করে দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ দয়াময়-ক্ষমাশীল, তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন।

মানুষ ভুল করবে, গোনাহ করবে, এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু রাসুল (সা.) বলেন, তবে উৎকৃষ্ট হলো ওই ব্যক্তি, যে পাপ করা মাত্রই ক্ষমা প্রার্থনা করে। অন্য হাদিসে আছে, মানুষ গোনাহ করলে তার অন্তরে একটা কালো দাগ পড়ে, আর তওবা করলে সে দাগ মুছে যায়; তা না হলে সে দাগ থেকে যায়। এভাবে দাগ পড়তে পড়তে তার অন্তর রাজ্য অন্ধকারে ভরে যায়, সেখানে আলো বলতে আর কিছুই থাকে না; ফলে ওই ব্যক্তি তখন পাপকে আর পাপ মনে করে না। ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহতায়ালা সীমাহীন খুশি হন। এ খুশির ফল হিসাবে তিনি সে বান্দাকে মাফ করে দেন এবং তাকে অনেক বেশি কাছে টেনে নেন।

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করবে আল্লাহর পক্ষ থেকে শত অভাবেও তার জন্য রাস্তা খুলে যাবে, তার দুশ্চিন্তা দূর হবে আর সে এমনভাবে রিজিক প্রাপ্ত হবে, সে কল্পনাও করতে পারবে না। ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে আল্লাহ গোনাহতো মাফ করেনই, অধিকন্তু এতে তার মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়।

লেখক : শায়খুল হাদিস, খতিব, প্রবন্ধকার

২০৩০ সালে দুইবার আসবে পবিত্র রমজান

মুসলিমদের অন্যতম বরকতময় মাস পবিত্র মাহে রমজান ২০৩০ সালে দুইবার আসতে পারে বলে ভবিষ্যতবাণী করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, ২০৩০ সালে রমজান মাস দুইবার আসবে। প্রথমবার জানুয়ারিতে, পরের বার ডিসেম্বরের শেষের দিকে। এই ঘটনা ১৯৯৭ সালে সর্বশেষ ঘটেছিল। ওই বছরও দুইবার পবিত্র রমজান মাস পালন করেছিল মুসলিম বিশ্ব।

প্রতিবছর রমজান মাস পরিবর্তিত হওয়ার কারণ মুসলমানরা রোজা রাখে হিজরি বর্ষের ওপর ভিত্তি করে। হিজরি বর্ষ চন্দ্র চক্রের ওপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। ফলে প্রতিবছরই এই সময় পরিবর্তিত হয়।

সাধারণত প্রতি ৩০ বছরে একবার বছরে দুইটা রমজান মাস আসে। কারণ চন্দ্র ক্যালেন্ডার সৌর ক্যালেন্ডারের চেয়ে ১১ দিন ছোট হয় বলে সৌদি আরবের জ্যোতির্বিজ্ঞানী খালেদ আল-জাকাক টুইটারে ব্যাখ্যা করেছেন।

কানাডায় প্রবাসী বাঙালিদের ইফতার আয়োজন

মাল্টিকালচারালিজমের দেশ কানাডায় বিভিন্ন দেশের লোক এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এর মধ্যে প্রচুরসংখ্যক মুসলমানও রয়েছেন।

কানাডায় গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ইফতারের ব্যাপক আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে। কানাডার আলবার্টায় করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং সামাজিক দূরত্ব, ও মাস্ক ব্যবহারের ওপর বাধ্যতামূলক শিথিল করায় পুরো আলবার্টা যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। শুধু আলবার্টা নয়- এ চিত্র এখন পুরো কানাডার।

ইতিমধ্যেই মসজিদ, মন্দির ও গির্জাসহ ধর্মীয় উপসানালয়গুলোতে প্রচুরসংখ্যক লোকের সমাগম ঘটেছে। একে অপরের সান্নিধ্যে এগিয়ে আসছেন, বিনিময় করছেন কুশলাদি।

রমজানের প্রথম শুক্রবারের জুমার নামাজে গিয়ে দেখা গেছে প্রচুর সংখ্যক মুসল্লির সমাগম ঘটেছে মসজিদে। মুসুল্লিরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করছেন। মসজিদ গেটের সামনে রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে পসরা সাজিয়ে বসেছে আতর আর জায়নামাজের দোকানগুলো। মাসব্যাপী রোজা রাখার সময়সূচি সম্বলিত রমজানের ক্যালেন্ডারও অনেকের হাতে।

প্রবাসী মুসলিম বাঙালিরা কানাডায় থাকলেও ভুলে যায়নি তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতির কথা। তার প্রতিফলন ঘটে তারাবির নামাজের সময় যখন ছোট ছোট শিশু-কিশোররা অভিভাবকদের সাথে মসজিদে আসে। স্বাস্থ্যবিধির শিথিলতার কারণে এ বছর নতুন করে জেগে উঠেছে মুসল্লিদের তারাবির নামাজ।

কানাডার টরেন্টো প্রবাসী বাঙালি এ আলী তালুকদার জানান, গত দুই বছরের বন্দি জীবন থেকে বেরিয়ে এসে এ বছর বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজদের নিয়ে বাড়িতে ইফতার করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র রমজান মাসে সারা বিশ্বের উম্মাহর যেন হেফাজত দান করেন এবং আগের মতো রমজান পালন করার তৌফিক দান করেন এমনটাই আমার প্রত্যাশা।

ক্যালগেরির উৎসব সুইটস এন্ড রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী ইরফান আরিফ জানান, আমাদের রেস্টুরেন্টে ইফতার আইটেমের সহ সব ধরনের আইটেম রয়েছে। আপনাদের সেবায় আমরা নিয়োজিত।

বারাকা অ্যাপারেলের স্বত্বাধিকারী আরিফা রব্বানী জানান, আমরা ইফতারিতে বাংলাদেশের স্টাইলে শাহী হালিম, শাহী জিলাপি, বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, ছোলা এবং অন্যান্য আইটেমসহ বাহারি রকমের ফল ও শরবতের ব্যবস্থা রাখি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সবাই মিলে যখন ইফতারি করি তখন বাবা-মাসহ শৈশবের সেই ইফতারির দিনগুলোকে খুব মিস করি।

উৎসব সুইটস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের অন্যতম স্বত্বাধিকারী খায়রুল বাশার বলেন, পবিত্র রমজান মাসে আমরা সবাই একত্রিত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ইফতার ও নামাজ আদায় করতে পেরে খুবই আনন্দিত। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা করি যেন সারা পৃথিবীতে শান্তি বর্ষিত হয়।

সিয়াম সাধনার মাসে সংযম আর আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে যাবতীয় ভোগবিলাস, অন্যায়, অপরাধ, হিংসা, বিদ্বেষ, সংঘাত পরিহার করে ব্যক্তিগত ও সমাজ জীবনে বয়ে নিয়ে আসবে শান্তির বার্তা— কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের এমনটাই প্রত্যাশা।

মালয়েশিয়ায় দুর্ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশির মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় ভবন নির্মাণ কাজে দুর্ঘটনায় পড়ে এক প্রবাসীর বাংলাদেশির মৃত্যু ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তার নাম – মমিনুল হক মজুমদার টিটু। নিহত প্রবাসীরর বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার এনায়েরপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মজুমদার বাড়ির মৃত দলিলুর রহমান মাস্টারের ছেলে। তিনি তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট। মমিনুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের সময় মঙ্গলবার ভোর ৭ টায় তিনি মালয়েশিয়ার ডোরাঙ্গানো নামক স্থানে মারা যান। বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন তার আত্মীয় শফিকুর রহমান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মমিনুল হক ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় যান। গত রোববার সকালে মালয়েশিয়ার ডেরঙ্গানু এলাকায় বিল্ডিং কন্সট্রাকশনের কাজ করতে যান। সেখানে কাজ করতে গিয়ে একটি লোহার পিলারের ফরমা গায়ে পড়ে মারাত্মক আহত হন। পরে তাকে তার বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

টিটুর মৃত্যুর খবর হাজীগঞ্জের এনায়েতপুর মজুমদার বাড়িতে আসলে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে রাফা ইসলাম ও মাদ্রাসা পড়ুযা ছেলে সাইফুল ইসলাম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্ত্রী হাসিনা স্বামী শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকের মরদেহ ফেরত চাওয়া হচ্ছে।

অসময়ে চুল পাকা থেকে মুক্তি পেতে কী করবেন?

চুল পাকা একটি বড় সমস্যা। বয়স হলে চুল পাকবে এটিই স্বাভাবিক। তবে অসময়ে চুলে পাক ধরলে অবশ্যই চিন্তার বিষয়। সঠিক নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে তা অনেকেরই অস্বস্তির কারণ হয়। বার্ধক্য এবং জিনগত কারণ ছাড়াও অতিরিক্ত স্ট্রেস এবং শরীরে পুষ্টির অভাব থেকেও চুল পেকে যেতে পারে তাড়াতাড়ি। নিয়মিত স্ট্রেস-রিলিফ এক্সারসাইজ করলে এবং প্রয়োজনমতো ভিটামিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেলে অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. আলমগীর মতি।

জেনে নিন ৯টি খাবারের কথা। এগুলো পাকা চুল রোধের পাশাপাশি স্ক্যাল্প ভাল রাখে এবং নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।

আখরোট : আখরোটে থাকে প্রচুর পরিমাণ কপার বা তামা। এই তামাই চুলে মেলানিন উৎপন্ন করে, যা থেকে চুল থাকে কালো।

শেলফিশ : যে কোনো সামুদ্রিক মাছ যেমন- অয়স্টার, চিংড়ি বা কাঁকড়ায় থাকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। ওমেগা-৩ চুলে পাক ধরা আটকায়।

লিভার : প্রাণিজ লিভার ভিটামিন বি-১২ সমৃদ্ধ হয়। এই ভিটামিনটি যেমন রক্তস্বল্পতা দূর করে তেমনি চুল পেকে যাওয়া প্রতিরোধ করে।

ব্রকোলি : চুলে পাক ধরা আটকাতে শরীরে প্রয়োজন পরিমিত পরিমাণ ফোলিক অ্যাসিড। যা প্রচুর অনুপাতে পাওয়া যায় ব্রকোলিতে।

সূর্যমুখী বীজ : সূর্যমুখী বীজের তেলে ভিটামিন-ই, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে। রান্নায় তাই সানফ্লাওয়ার অয়েল ব্যবহার করা ভাল। এছাড়া এই তেল দিয়ে বাদামের পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগালেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।

ডাল : ডালেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন বি১২ এবং বি৯। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একবাটি ডাল রাখা খুবই জরুরি।

কাবলি ছোলা : কাবলি ছোলা ভিটামিন বি সমৃদ্ধ একটি খাবার। রোজ না হলেও সপ্তাহে দুতিনদিন খেলেও উপকার হবে।

রোজায় ওষুধ সেবনে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

মানবশরীরের ভারসাম্য রক্ষায় রোজা বিশেষ ভূমিকা রাখে। শারীরিক এই ইবাদত মানুষকে স্রষ্টার সান্নিধ্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি দৈহিক প্রশান্তি এনে দেয়। সারা বছর সক্রিয় থেকে ক্লান্ত শরীরের অরগানগুলো দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পায়।

অসুস্থ ব্যক্তিদের রমজান মাসে ওষুধ সেবনে সতর্ক থাকতে হয়। এছাড়া ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি রোগীদেরও একটু বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ড. মো. আবু জাফর সাদেক।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। রক্তে শর্করা, কলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে, স্বাস্থ্যকর ওজন ব্যবস্থাপনায়, মানসিক উৎকর্ষ সাধনে এবং উচ্চরক্তচাপ কমাতে রোজার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

রোজাকালীন শরীর তার প্রয়োজনে যকৃৎ, মাংসপেশি এবং অন্যন্য চর্বি জাতীয় উৎস থেকে ক্যালোরির জোগান পেয়ে যায়। দীর্ঘসময় পানাহার বিরতি, প্রচণ্ড তাপ, বাতাসে জলীয়বাষ্পের কমতি, স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কাজকর্ম এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার কারণে মৃদু পানিস্বল্পতা হতে পারে যা ইফতারের মাধ্যমে তরল সেবনের পরপরই ঠিক হয়ে যায়।

রোজার কারণে পাকস্থলীর পিএইচ ও যকৃতের বিপাকক্রিয়ায় (ফেজ-২) কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। যা ওষুধের শোষণ, শারীরিক সরবরাহ, বিপাকক্রিয়া, কার্যকারিতা এবং নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করতে পারে।

তাই রোজাকালীন ওষুধ ব্যবহারে কিছুটা বাড়তি সতর্কতা দরকার; অতিমাত্রায় পিএইচনির্ভর (হাইপার-এসিডিটির ওষুধ, ব্যথার ওষুধ), শর্করা-সংবেদনশীল (ডায়াবেটিসের ওষুধ), স্যালাইভা পরিবর্তনকারী (এন্টিহিস্টামিন, বমির ওষুধ, এন্টিকোলেনারজিক ওষুধ), এন্টিসাইকোটিক, রক্তচাপ/হার্টরেট পরিবর্তনকারী, মূত্র বর্ধক, হরমোন জাতীয় এবং আরও কিছু বিশেষ গোত্রের ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কারণ রোজায় শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের ফলে এসব ওষুধের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। দৈনিক একবার খেতে হয় এমন ওষুধ রমজান মাসে সেবনে তেমন পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও দুই বা ততোধিক বার সেবনকারী ওষুধের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনার দরকার হয়।

অ্যালার্জি থেকে জিহ্বা ফোলা ও জ্বালাপোড়া, কী করবেন

অ্যালার্জির কারণে নানা উপসর্গ দেখা দেয় শরীরে। খাবার থেকে অনেক সময় অ্যালার্জি হয়ে থাকে। এই রোগের মূল উপসর্গ চুলকানি ছাড়াও চোখের প্রদাহ এবং জ্বালাপোড়া। অনেক সময় জিহ্বাও ফুলে উঠে।

অ্যালার্জি থেকে জিহ্বা ফোলা ও জ্বালাপোড়া হলে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. মো. ফারুক হোসেন।

অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশনের কারণে কিছু খাবার গ্রহণের পর মুখ, জিহ্বা এবং মাড়ি চুলকাতে থাকে। যদি চুলকানির পরিমাণ অল্প হয় এবং শুধু মুখে সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে এটিকে আমরা ওরাল অ্যালার্জি সিনড্রোম হিসেবে প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয় করি।

রোগীর সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ার কারণে হঠাৎ করে জিহ্বা ফুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অ্যালার্জিজনিত কারণ হলে দেরি না করে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ফোলাযুক্ত জিহ্বা ডাউন সিনড্রোম, সংক্রমণ, জেনেটিক, অচলাবস্থা, জিহ্বার ক্যান্সার, এনিমিয়া এবং লিউকেমিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। জিহ্বার টেস্ট বাডগুলোর প্রদাহের অন্যতম কারণ অসাবধানতাবশত জিহ্বার ওপর কামড়। যেসব খাবার এসিডিক, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত অথবা লবণাক্ত সেসব খাবারও জিহ্বায় টেস্ট বাডগুলোর প্রদাহ সৃষ্টি করে ফোলাভাব এনে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে জিহ্বায় ফোলাভাব থাকলে তা এক্রোমেগালি, সারকোমা, ওরাল ক্যান্সার অথবা ডাউন সিনড্রোমের কারণে হতে পারে।

যখন জিহ্বা ফুলে যায় তখন জিহ্বার প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং মাঝে মাঝে জিহ্বার স্বাভাবিক রঙের পরিবর্তন হয়ে থাকে। এর কারণে জিহ্বা খুব মসৃণ দেখা যেতে পারে।

যখন আমাদের শরীর যথাযথ কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১২ শোষণ করতে পারে না তখন পারনিসাজ রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে।

এ ধরনের রক্তস্বল্পতায় জিহ্বার প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। যদি কারো টুথপেস্টের প্রতি অ্যালার্জি থাকে তাহলে জিহ্বার প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া হতে পারে।

টুথপেস্ট ছাড়া মাউথওয়াশ, কৃত্রিম দাঁত ও কিছু ওষুধের কারণে অ্যালার্জিক রি-অ্যাকশনে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে।