সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 264

কক্সবাজারে উপাচার্যদের ‘প্রমোদ ভ্রমণ’

সারা বছর কী কার্যক্রম পরিচালনা করবে-সেই সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়।

এর নাম বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ)। অধীনস্থ সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে সচিবালয়েই মন্ত্রণালয়গুলো এই চুক্তি করে থাকে। কিন্তু কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ইউজিসি অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।

বুধবার সকালে এটি হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টে শুরু হয়েছে। সেখানে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আরও ৩ থেকে ৫ জন যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ গেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। ঢাকায় যে অনুষ্ঠান করা যেত, তা এভাবে আয়োজন করা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

একে তারা উপাচার্যদের ‘প্রমোদ ভ্রমণ’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ বিদ্যমান বৈশ্বিক সংকটের (করোনার প্রভাব ও ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সব ক্ষেত্রে কৃচ্ছ সাধন নীতি অনুসরণ করছেন।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান জানান, এপিএ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই চুক্তি অনুষ্ঠানের জন্য ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। যার মধ্যে এই অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তাছাড়া এটি প্রথমবারই নয়। এর আগে কুমিল্লায়ও একইভাবে এপিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মূল অনুষ্ঠান শুরু হলেও অনেকে সোমবারই সেখানে পৌঁছে গেছেন। উপাচার্যদের সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং ফোকাল পয়েন্টের (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) এতে যোগ দেওয়ার কথা। এছাড়া ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে কেউ কেউ পরিবারের সদস্য আবার গাড়ি ও ড্রাইভার নিয়েও গেছেন। জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী হোটেলে থাকা, আপ্যায়ন, পরিবহণ, অংশগ্রহণকারীদের সম্মানি সব কিছুর ব্যয় ইউজিসি বহন করছে। শুধু ভ্রমণভাতা (টিএ) এবং দৈনন্দিন ভাতা (ডিএ) সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ব্যয় হবে। ফলে খরচ শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখের মধ্যে থাকছে না বলেই মনে করে সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য ইউজিসির সচিব বলেন, উপাচার্য, রেজিস্ট্রার আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাইরে কেউ এলে বা নির্ধারিত দিনের বেশি অবস্থান করলে সেই খরচ সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, যেই অনুষ্ঠান ঢাকায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলাদা বা একসঙ্গে ইউজিসির মিলনায়তনে কিংবা একটি হল ভাড়া করেই সম্পন্ন করা যেত সেটা এত দূরে কেন? এপিএ’র মূল উদ্দেশ্য শুদ্ধাচার ও সততার চর্চা। এভাবে অর্থ বরাদ্দ করে ব্যয় করা হলে তা এপিএর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন-এপিএ’র জন্য এ খাতে এভাবে বরাদ্দ রাখাটা নৈতিক ও যৌক্তিক কিনা। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় আর ইউজিসি হবে সমাজে নৈতিকতা ও সততা চর্চার দৃষ্টান্ত। তাদের কর্ম থেকে সমাজ ও ব্যক্তি উৎসাহিত হবে। সেখানে এভাবে নামকাওয়াস্তে অনুষ্ঠানের নামে প্রমোদ ভ্রমণ করে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি সরকারপ্রধানের নির্দেশনারও পরিপন্থি। কেননা জাতীয় অর্থ সাশ্রয়ে মিতব্যয়িতার নির্দেশনা আছে। সেখানে এভাবে আয়োজন অপ্রয়োজনীয় ও কাম্য নয়।

জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে গেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক আমন্ত্রিত আছেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েক কর্মকর্তা যোগ দেন।

জানা গেছে, এই এপিএ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ইউজিসি গত মাসে অস্ট্রেলিয়াতেও আরেকটি ভ্রমণ আয়োজন করেছিল। ইউজিসির এপিএ হলেও তাতে শিক্ষা সচিবের পিএসসহ ডজনখানেক কর্মকর্তা তালিকাভুক্ত ছিলেন। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার সব দপ্তর ও সংস্থানে ব্যয় সংকোচনের নীতি নিয়েছে। যে কারণে শেষপর্যায়ে এসে ওই ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আরও জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও এ ধরনের ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ আছে। বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কর্মকর্তাদের বছরে একাধিকবার ‘সঞ্জীবনী’ কর্মসূচির নামে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণে যেতে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এপিএ বাস্তবায়নের নামে জনগণের অর্থের এ কোন অপচয়?

উল্লেখ্য, ইউজিসির এ ধরনের বিলাসী ভ্রমণ এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর বান্দরবান জেলার ভেনাস রিসোর্টে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে তখন প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয় বলে জানা গেছে।

কানে ভোঁ-ভোঁ শব্দ হয় কেন, কী করবেন?

কানের ভেতর নানা কারণে শব্দ হতে পারে। অনেক সময় গোসলের সময় পানি গিয়েও ভোঁ ভোঁ শব্দ হতে পারে। কী কারণে কানে কম শুনছেন এর চিকিৎসা করতে হবে। অনেক সময় কানের শ্রবণশক্তি ঠিক থাকলেও কানের ভেতর শব্দ হয়।

কানে কেন শব্দ হয় এবং এর চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন নাক কান ও গলারোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহির আল-আমিন।

যারা কানে কম শুনেন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের এ শব্দটা হয়। কেউ যদি কানে কম শুনে তবে দেখতে হবে কেন কম শুনেন। কারণ দূর করার পরও যদি রোগী ঠিকমতো না শোনেন তবে একটা মেশিন হেয়ারিং এইডের প্রয়োজন হতে পারে। তার আগে

* কানের ভোঁ-ভোঁ শব্দের দিকে বেশি নজর দেবেন না। মনে রাখবেন আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান থেকে সিগন্যাল মস্তিষ্কে যায়। মস্তিষ্ক এ তথ্য পর্যালোচনা করে এবং যদি মনে করে এটি প্রয়োজনীয় কেবল তখনই এর দিকে নজর দেয়। আপনি যদি সব সময় কান খাড়া করে বাইরের বিভিন্ন শব্দ শোনার চেষ্টা করতে থাকেন তবে এটা থেকে মুক্তি পাওয়া দুষ্কর। এর দিকে নজর দেবেন না দেখবেন শব্দ হয়তো থাকবে কিন্তু এটা আপনাকে বিশেষ কষ্ট দেবে না।

* আশপাশে কোনো গান বা সিডি বা অন্য কিছু ছেড়ে রাখুন, অন্য কোনো শব্দ থাকলে আপনি আপনার কানের শব্দ কম শুনতে পারবেন।

* কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রাখুন, দেখবেন আপনার কানে শব্দ কম সমস্যা সৃষ্টি করবে।

* মনে রাখবেন, ডাক্তার আপনার সমস্যা বের করার জন্য উপযুক্ত পরীক্ষা করেছে। আপনার কোনো মারাত্মক সমস্যা নেই জেনে নিজেকে উৎফুল্ল রাখুন। কারণ এ শব্দ আপনাকে বেশি কষ্ট দিতে পারবে না।

* অনেক সময় চিকিৎসকরা এর জন্য কিছু ওষুধ দেন বা কানের টিনিটাস মাস্কার নামে এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেন।

* মনে রাখবেন আপনার মনকে বোঝানোর দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আপনার। অতিমাত্রায় যন্ত্রনির্ভর বা ওষুধনির্ভর না হয়ে যদি পারেন তো নিজের মনের রাশ টেনে ধরুন। এতে আপনি অনেক বেশি উপকৃত হবেন। একটা কথা অবশ্যই মনে রাখবেন উপযুক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি আপনার কান, স্নায়ু বা মস্তিষ্কে কোনো সমস্যা না থাকে তবে আপনিই হবেন আপনার রোগের ডাক্তার।

কানের সমস্যা থেকে মাথা ঘুরানো

আমাদের অন্তঃকর্ণের ভেসটিবুল ও সেমি সার্কুলার ক্যানাল, শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করার প্রধান অঙ্গ। বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণের অনেক সমস্যা থেকে কানের ভেতরে ভারসাম্য রক্ষার পদ্ধতিতে সমস্যা হতে পারে, যার ফলে মাথা ঘুরাতে পারে।

কানের থেকে মাথা ঘুরানো

* কানের ভেতরে ময়লা জমে গেলে।

* বহিঃকর্ণের ইনফেকশন।

* মধ্য কর্ণের ইনফেকশন যা নাকের পেছন দিয়ে কানের ভেতরে যায়।

* কানের পর্দা না থাকা।

* ঘনঘন কান পাকা।

* কোলেস্টিয়াটমা ও কানের মধ্যে পানি জমে থাকা।

* ঘনঘন অথবা বেশি মাত্রায় সর্দি-কাশি হয়ে ইউস্টিশিয়ান টিউবের কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে মাথা ঘুরানো হতে পারে।

* নাকের হাড় বাঁকা থাকা।

* সাইনাসের দীর্ঘদিনের ইনফেকশন সমস্যা থেকেও মাথা ঘুরানো হতে পারে।

এ ছাড়া অন্তঃকর্ণের কিছু সমস্যার জন্য মাথা ঘুরাতে পারে, তার মধ্যে প্রধান হলো অন্তঃকর্ণের ভেতরে ভাইরাল ইনফেকশন। এটা সাধারণত কমন কোল্ড অথবা প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দিয়ে হয়ে থাকে। এ ছাড়া চিকেন পক্স, মিজেলস থেকেও কানের ভাইরাল ইনফেকশন হতে পারে।

কান ও আশপাশের কিছু জটিল রোগের জন্য মাথা ঘুরাতে পারে যেমন-

* অটোস্কোরোসিস : কানের ভেতর হাড় শক্ত হয়ে যাওয়া।

* মেনিয়ার্স ডিজিজ : অন্তঃকর্ণের প্রেসার বেড়ে গেলে।

* কানের ভেতর টিউমার বা ক্যানসার হলে।

* নাকের পেছনে ক্যানসার হলে।

মাথা ঘুরালে করণীয়

* মাথা ঘুরার সমস্যা বেশি থাকলে একা একা চলাফেরা ঠিক নয়। একিউট অবস্থাতে একা একা চলাফেরা পরিত্যাজ্য, এ অবস্থাতে বিশ্রাম জরুরি এবং অন্যান্য কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

* ঘনঘন বমি হলে শরীরের ভেতরে পুষ্টি, লবণ ও পানির ঘাটতি যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একিউট অবস্থাতে স্টিমিটিল বা সিনারন জাতীয় ট্যাবলেট খাওয়া যেতে পারে। দিনে তিনটা করে খাবেন অথবা প্রয়োজনে স্টিমিটিল ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে। এরপরও সমস্যার উন্নতি না হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

চলছে ‘মান-অভিমান’

মিউজিক্যাল চেয়ার খেলায় মুখোমুখি বীথি আর ফারিয়া। মিউজিক বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে বীথি চেয়ারে বসতে গেলে তাকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয় ফারিয়া।

এবার ওই চেয়ারে ফারিয়া বসতে গেলে বীথি সেটা সরিয়ে নিজে বসে যায় আর ফারিয়া নিচে পড়ে কোমরে প্রচণ্ড ব্যথা পান। পুরস্কার হিসেবে বীথির হাতে আসে রাহাতের বাড়ির চাবি।

বীথি কি পারবে ফারিয়ার চক্রান্তের বিরুদ্ধে রানুকে ঠিকমতো চাবিটা বুঝিয়ে দিতে? এভাবেই নানা ঘটনায় এগিয়ে যাচ্ছে ‘মান-অভিমান’ নাটকের গল্প।

নাটকটি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় দীপ্ত টিভিতে প্রচার হচ্ছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন- তোফা হাসান, সমাপ্তি মাশুক, ইফফাত আরা তিথি, শিবলী নওমান, শাকিলা আক্তার, কাজী রাজু, মিলি বাশার, ইমিলা হক, শাহ আল দুলাল, আইরিন তানি, মুনমুন আহম্মেদ, জেবুন্নেছা সোবহান, রীনা রহমান, তানজি রিয়াসহ অনেকে।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ে আগ্রহী ফেরদৌস আরা

প্রখ্যাত নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা গানের ভুবনে পথচলার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয়ের প্রস্তাব পান।

কিন্তু কখনই তাকে অভিনয়ের আঙিনায় দেখা যায়নি। ১৯৭৩-৭৪ সালে প্রয়াত পরিচালক আজমল হুদা মিঠু তাকে বিটিভিতে একটি অনুষ্ঠানে দেখে নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু ফেরদৌস আরা এবং তার পরিবার সেই বয়সে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা চিন্তাও করেননি।

ফেরদৌস আরা প্রস্তাব পেয়েছিলেন ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ চলচ্চিত্রের প্রধান একটি চরিত্রে অভিনয় করার। কিন্তু তাতেও অভিনয় করা হয়নি তার। কলকাতা থেকেও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন তিনি। সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাকে অভিনয় করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গান ছাড়া ফেরদৌস আরা আর কিছুই ভাবেননি কখনো। তবে ফেরদৌস আরা তার সিদ্ধান্তে এবার একটু পরিবর্তন এনেছেন। নাটকে নয়, চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ আছে তার।

ফেরদৌস আরা বলেন, নজরুল বিষয়ক কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে সেই চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকলে তাতে অভিনয় করার আগ্রহ আছে আমার। আমি জানিনা আমার এই ইচ্ছা পূরণ হবে কিনা। তবে আমার মনে হয় নজরুলের জীবন নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হলে তাতে অভিনয় করার সুযোগ পেলে আমি শান্তি পাব।

ফেরদৌস আরা ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৮৫ সালে সারগাম থেকে ১২টি গান নিয়ে প্রথম ক্যাসেট এবং এর পরপরই হারানো দিনের গানের ক্যাসেট-সিডি ‘আকাশের মিটি মিটি তারা’ ব্যাপক সমাদৃত হয়। উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর পঞ্চম ফোক উৎসবে ৫২টি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী শিল্পীদের মধ্যে ফেরদৌস আরা ‘দ্য বেস্ট ভোকালিস্ট’ হন। দীর্ঘদিন যাবত তিনি নজরুল ইনস্টিটিউটে একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ তিনি গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করেছেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্মিত ‘বাস্তবতা’ চলচ্চিত্রের সুরকার ও কম্পোজার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ফেরদৌস আরার একক কণ্ঠে হাজার গান প্রয়াসে ‘নজরুল সঙ্গীত সমগ্র’ শিরোনামে নিয়মিত অ্যালবাম প্রকাশ হচ্ছে; যা সংস্কৃতি অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখছে। ২০০০ সালে ফেরদৌস আরা তার নিজের উদ্যোগে সঙ্গীত একাডেমি ‘সুরসপ্তক’ প্রতিষ্ঠিত করেন। ‘সঙ্গীত ভুবনে নজরুল’ ও ‘সঞ্চিতার কথাবার্তা’ নামে তার দুটি বই রয়েছে।

উইন্ডিজ দলে ফিরলেন সেই ‘ভয়ঙ্কর’ সীমার

প্রথমে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে অনিশ্চিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ পেসার কেমার রোচ।

ইনজুরিকবলিত ছিলেন তিনি। প্রাথমিকভাবে তাকে ছাড়াই প্রথম টেস্টের দল ঘোষণা করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড।

আর ম্যাচের ঠিক আগের দিন ফিটনেস পরীক্ষায় উৎরে দলে ঢুকে পড়লেন এ পেসার।

বিষয়টি বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃসংবাদই বটে। কারণ নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশকে পেলেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেন রোচ। টাইগারদের বিপক্ষেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

টাইগারদের বিপক্ষে ৯ টেস্টে তিনবার ৫ উইকেটসহ রোচ নিয়েছেন ৩৪ উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে তার বোলিং গড় ২১.৪৭, উইকেটপ্রতি বল খরচ করেন মাত্র ৪৫টি। টেস্ট খেলুড়ে আর কোনো দলের বিপক্ষে এমন সাফল্য নেই রোচের।

যে কারণে টেস্ট সিরিজে দলের অন্যতম সেরা পেসারকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ক্যারিবীয় হেড কোচ ফিল সিমন্স।

তিনি বলেন, ‘টেস্ট শুরুর আগেই রোচ পুরোপুরি ফিট হয়ে গেছে। খুব ভালো লাগছে আমার। সে সবসময় তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।’

রোচ যে নিজের চেনা মাঠে তামিম-সাকিবদের উড়িয়ে দিতে মুখিয়ে রয়েছেন, তা বোঝা যাবে রেকর্ডের দিকে তাকালে। ৩৩ বছর বয়সি এ তারকা পেসারের সামনে রয়েছে টেস্টে ২৫০ উইকেট অর্জনের হাতছানি।

৭১ টেস্টে রোচের এখন সংগ্রহ ২৪২ উইকেটে।

ক্যারিবীয় কোচ বলেন, ‘আর মাত্র ৮ উইকেট শিকার করলে ২৫০ উইকেট হবে রোচের। শুধু মাঠ নয়, মাঠের বাইরেও দলের মধ্যে যে আবহ নিয়ে আসে রোচ- তাতে আমরা খুশি। তার নিয়মিত সাফল্য দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টেস্টের স্কোয়াড
ক্রেইগ ব্রাথওয়েট (অধিনায়ক), জার্মেইন ব্ল্যাকউড (সহ-অধিনায়ক), এনক্রুমান বোনার, জন ক্যাম্পবেল, জশুয়া ডা সিলভা, আলজারি জোসেফ, কাইল মায়ার, গুদাকেশ মোতি, অ্যান্ডারসন ফিলিপ, রেয়মন রেইফার, জেডেন সিলস, কেমার রোচ ও ডেভন থমাস।

তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো

বিশ্বকাপের আগে সুখবর পেল আর্জেন্টিনা

কাতার বিশ্বকাপ সামনে রেখে দারুণ সময় যাচ্ছে আর্জেন্টিনা দলের।

লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি এখন অপ্রতিরোধ্য। বাছাইপর্বে দারুণ পারফরম দেখিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট আগেই নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। গ্রুপ সিতে পোল্যান্ড, মেক্সিকো, সৌদি আরবের সঙ্গে লড়বেন স্কালোনির শিষ্যরা।

গত বছরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের মাঠ থেকে কোপা আমেরিকা শিরোপা ছিনিয়ে আনার পর থেকেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে গেছে আর্জেন্টিনা।

চলতি মাসেই ইতালির বিপক্ষে ফাইনালিসিমা জয়ের পর এস্তোনিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছেন আলবিসেলেস্তারা। এস্তোনিয়াকে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে মেসি একাই করেছেন ৫ গোল।

সব মিলিয়ে কাতার বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হয়েই মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা।

তবে বিশ্বমঞ্চে নামার অনেক আগেই দারুণ এক সুখবরে ভাসল লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন দল।

জানা গেছে, ফিফা র‌্যাংকিংয়ে আরও একধাপ এগোচ্ছে আর্জেন্টিনা। এ মুহূর্তে তারা রয়েছে চতুর্থ স্থানে। প্রথম স্থানে ব্রাজিল, তিন বছরের বেশি সময় ধরে শীর্ষস্থান ধরে রাখা বেলজিয়াম আছে দুয়ে। আর ফ্রান্স রয়েছে আর্জেন্টিনার আগে তৃতীয় স্থানে।

আর্জেন্টিনাভিত্তিক স্পোর্টস অনলাইন টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে র‌্যাংকিং প্রকাশ করবে ফিফা। তাতে আর্জেন্টিনা ফ্রান্সকে টপকে উঠে আসবে তৃতীয় স্থানে। আর উয়েফা নেশনস লিগে এখন পর্যন্ত বাজে পারফরম করায় তৃতীয় স্থান নিচে নেমে যাবে ফ্রান্স। তবে ব্রাজিল ও বেলজিয়ামের অবস্থানের নড়বড় হচ্ছে না। ব্রাজিল প্রথম ও বেলজিয়াম দ্বিতীয় স্থানেই থাকবে।

আগামী সপ্তাহে প্রকাশিতব্য ফিফা র‌্যাংকিংয়ের সেরা ১০
১. ব্রাজিল, রেটিং পয়েন্ট: ১৮৩৮
২. বেলজিয়াম, রেটিং পয়েন্ট: ১৮২২
৩. আর্জেন্টিনা, রেটিং পয়েন্ট: ১৭৮৪
৪. ফ্রান্স, রেটিং পয়েন্ট: ১৭৬৫
৫. ইংল্যান্ড, রেটিং পয়েন্ট: ১৭৩৮
৬. ইতালি, রেটিং পয়েন্ট: ১৭১৮
৭. স্পেন, রেটিং পয়েন্ট: ১৭১৭
৮. নেদারল্যান্ডস, রেটিং পয়েন্ট: ১৬৭৯
৯. পর্তুগাল, রেটিং পয়েন্ট: ১৬৭৯
১০. ডেনমার্ক, রেটিং পয়েন্ট: ১৬৬৫

তথ্যসূত্র: বলাভিআইপি ডক কম

ছেলের কোলে উঠে ভোট দিলেন ১০৭ বছরের কাজুলি

নাম তার কাজুলি বিবি। বয়স ১০৭ বছর। তিনি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুর চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

তিনি ১৫ জুন বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য কালামপুর আমাতন্নেসো উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে আসেন ছেলের কোলে ওঠে।

এ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

তিনি সুস্থ থাকলেও হাঁটতে পারেন না। তাই তার ছেলে মো. রজ্জব আলীর কোলে উঠে কালামপুর আমাতন্নেসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে মহাখুশি। ইভিএমে তার এটাই তার প্রথম ভোট। এর আগে কোনো দিন তিনি ইভিএমে ভোট দেননি। তাই ভোটকেন্দ্রে বুথে প্রবেশের পর ছেলের সহায়তায় তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।

ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় বলেন, জীবনে কোনো দিন এমন আজব যন্ত্রের সাহায্যে ভোট দিইনি। আজই প্রথম দিলাম। আর কোনো দিন ভোট দিতে পারব কিনা তা জানি না। তবে আমার পছন্দের প্রার্থী রোমা চৌধুরীকে আমার ভোটটি দিতে পেরে আমি খুবই শান্তি পেয়েছি। দেখতে আল্লাহর অশেষ রহমতে উনি ভোটে জিতবেন এবং চেয়ারম্যান হবেন। আমি মন খুলে তার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ করছি। আমি যদি বেঁচে থাকি তা হলে আবার আমার ভোট আমি রোমা চৌধুরীকেই দেব। কারণ উনার দাদা ৩২ বছর, বাবা ১৭ বছর ও নিজেও ৯ বছরের চেয়ারম্যান। ওরা মানুষের অনেক উপকার করে। আমি উনাদের ভালোভাবেই চিনি ও জানি। বুড়ি হয়েছি ঠিকই, কিন্তু আমি কোনো কিছুই ভুলিনি। কখন কি করেছি কি ঘটেছে না ঘটেছে সবই আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে। শুধু হাঁটতে পারি না। আর সবই আমার ঠিক আছে।

ছেলে রজ্জব আলী বলেন, আমি আমার মাকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। তাই বলেছিলাম কষ্ট করে ভোট দেওয়ার দরকার নেই। এতে মা-বেজার হলে নিরুপায় হয়ে তাকে কোলে করে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আমি তার মনের আশা পূরণের জন্য।

নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা বলেন, এ বৃদ্ধা নারী অবদান ও ভালোবাসার প্রতিদান কখনও দেওয়া যাবে না। তবে উনি যতদিন বেঁচে আছেন আমি ততদিন উনার খোঁজখবর রাখব এবং সাহায্য-সহযোগিতা করব।

আহ্বায়ক কমিটিতে আটকা রায়পুর ছাত্র-যুব ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ

আহ্বায়ক কমিটিতেই ঘুরপাক খাচ্ছে রায়পুরে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো। বছরের পর বছর গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না। এতে নতুন নেতৃত্বও তৈরি হচ্ছে। এতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে।

২০১৮ সালে কলেজ ও পৌরসভা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। গত বছর সাবেক সভাপতিকে আহ্বায়ক করে আবারও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। সময় দেওয়া হয় তিন মাস। বছর শেষ হলেও মূল কমিটির দেখা নেই।

সবশেষ ২০১৮ সালে রায়পুর পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। সেই কমিটি আজও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ২০১৬ সালে তিন মাসের সময় দিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি হয়। সেই তিন মাস আজও শেষ হয়নি!

সাড়ে ১৮ বছর পর গত ৩১ মে আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষে উপজেলার নতুন কমিটিতে স্থান পান স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগের ৫ নেতা।

এ সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন না হওয়ায় নতুন পদপ্রত্যাশীদের হতাশা বাড়ছে দিন দিন। কবে নাগাদ সম্মেলন হবে এবং কমিটি হবে সেটিও নিশ্চিত নয় কেউ। দলের এমন অবস্থায় হতাশ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ-অসন্তোষ।

ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি: তিন মাসের জন্য ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে শরিফ হোসেনকে আহ্বায়ক ও নিশানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের কলেজ শাখা কমিটি হয়। একই বছরের আগস্ট মাসে বর্তমানে পৌরসভার কাউন্সিলর রিজভিকে আহ্বায়ক ও রায়হানকে ১ম ও ফরহাদকে ২য় যুগ্মআহ্বায়ক করে ১৫ সদস্যের পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সাবেক সভাপতি পাবেল মাহমুদকে পুনরায় আহ্বায়ক ও কাউছার হোসেনকে ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক করে ১০ সদস্যের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

যুবলীগেরও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি: ২০১৬ সালের জুলাই মাসে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। এতে সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য মন্জুর হোসেন সুমনকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট ইউসুফ আজমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যের উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে জাতীয় কাউন্সিল উপলক্ষ্যে তার দুই মাস আগে জেলা পরিষদের সদস্য মামুন বিন জাকারিয়াকে আহ্বায়ক ও কৌসিক আহমেদ সোহেলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে পাল্টা আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি দেন জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি সালাহ উদ্দিন টিপু। পরে জেলা কমিটিই বিলুপ্ত করে সব কার্যক্রম মৌখিকভাবে স্থগিত করে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই থেকে পৌর ও উপজেলার কোনো কমিটি নেই ও কার্যক্রমও নেই। কিন্তু সুমন গ্রুপের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইউসুফ আজমকে সম্প্রতি নবগঠিত উপজেলা আ.লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।

তিন মাসের জন্য ২০১৮ সালের জুন মাসে পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটিও দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় এমপির শ্যালক আজম চৌধুরীকে আহ্বায়ক ও তানজিদ কামালকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে চার সদস্যের কমিটি দেওয়া হয়। কিন্তু আজও আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ
২০১৬ সালের আগস্ট মাসে তিন মাসের জন্য তানভীর হায়দার চৌধুরী রিংকুকে আহ্বায়ক ও স্থানীয় এমপির শ্যালক সফিউল আজম চৌধুরী সুমনকে ১ম যুগ্ম আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটি হয়। তারাও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। গত ৩১ মে উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে রিংকুকে নবগঠিত উপজেলা আ.লীগের কমিটির ২য় ও সুমন চৌধুরীকে ৩য় সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। গত সাত বছর পর আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে ২০২২ সালে ২০ মে মো. মমিনকে আহ্বায়ক ও রাসেলকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের পৌরসভা আহ্বায়ক কমিটি হয়।

আওয়ামী লীগের এ সহযোগী সংগঠনের কোনো নিজস্ব কার্যালয় নেই ২০ বছর। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকরা তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের দাবি, দীর্ঘদিনেও সম্মেলন না হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে না এ গুরুত্বপুর্ণ উপজেলায়। অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করার দাবি জানান।

জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন যুগান্তরকে বলেন, ৩১ মে রায়পুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ২৬টি পদ ঘোষণা করা হয়। এক মাস আগে পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটিও করা হয়। জেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হলেই রায়পুরসহ পাঁচ উপজেলার সব কমিটি গঠন করা হবে। কয়েক দিন পরই দলীয় কার্যালয়ও করে দেওয়া হবে

ফাউচি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সম্মুখসারির যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত দেশটির শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার শরীরের করোনার মৃদ্যু উপসর্গ দেখা গেছে। তিনি বাসা থেকেই কাজ করছেন বলে বুধবার জানিয়েছে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (এনআইএইচ)। খবর আলজাজিরার।

এক বিবৃতিতে এনআইএইচ জানায়, পরীক্ষায় ফাউচির কোভিড পজিটিভ এসেছে।

ফাউচি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা। সম্প্রতি ফাউচি প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসেননি বলে জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে এনআইএইচ বলেছে, ৮১ বছর বয়সী ফাউচি পূর্ণ টিকা নেওয়ার পাশাপাশি দুবার বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছা আইসোলেশনে আছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ফাউচি দীর্ঘ কাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের পরিচালক পদে আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে মহামারি চলাকালে তিনি হোয়াইট হাউসের করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের সদস্য ছিলেন। এই টাস্ক ফোর্সে তার ভূমিকার জন্য ফাউচি ক্রমেই জনপ্রিয় ও বিশ্বাসযোগ্য একজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

মাঙ্কিপক্সের নতুন নাম দেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বিজ্ঞানীদের আপত্তির ভিত্তিতে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিজ্ঞানীদের মতে, নামটি ‘বৈষম্যমূলক এবং অসম্মানজনক’ হওয়ায় একটি নতুন নাম রাখতে কাজ করছে সংস্থাটি।

বিবিসি জানায়, গত সপ্তাহে ৩০ জনের বেশি বিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে এক চিঠিতে এই ভাইরাস এবং এর কারণে সৃষ্ট রোগের জন্য ‘জরুরি ভিত্তিতে একটি অ-বৈষম্যমূলক এবং অ-কলঙ্কজনক’ নাম রাখার অনুরোধ করেন।

তারা বলেন, বর্তমানে ভাইরাসটির যে নাম আছে সেটা আফ্রিকাকে বোঝায়। যা ভুল এবং বৈষম্যমূলক। গত কয়েক সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১,৬০০ জনের মাক্সিপক্সে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মাঙ্কিপক্সের ছড়িয়ে পড়াকে আন্তর্জাতিকভাবে জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা (পাবলিক হেল্থ এমার্জেন্সি) ঘোষণা করা হবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ডব্লিউএইচও।

পাবলিক হেল্থ এমার্জেন্সি বা জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা ডব্লিউএইচও-র ঘোষণা করা জনস্বাস্থ্যের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা। এর আগে শুধু সোয়াইন ফ্লু, পোলিও, ইবোলা, জিকা ও কোভিডের বেলায় ডব্লিউএইচও জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল।