সোমবার ,১৮ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 265

মেগা ৮ প্রকল্পে খরচ ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা

আগামী ২৫ জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এটিসহ সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে থাকা মেগা ৮ প্রকল্পের গড় ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প।

এছাড়া কম অগ্রগতি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে। প্রকল্পগুলোর অনুকূলে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। তবে এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।

গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফাস্টট্র্যাক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে-পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্প।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডি সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘ফাস্টট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলো প্রতি চার মাস পরপর সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এটা শক্তিশালী মনিটরিং কার্যক্রমের একটা অংশ। এ প্রতিবেদনটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়। সেখান থেকে ফাস্টট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্সের কাছে পাঠানো হয়। টাস্কফোর্সের সভায় এগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। ফলে বোঝা যায় প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন কী অবস্থায় আছে। আইএমইডি সব প্রকল্পই মনিটরিং করে। কিন্তু এগুলোর প্রতি আলাদা গুরুত্ব থাকে।’

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।

কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। প্রকল্পের আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে এখন আরও দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে।

গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ব্যয় হয়েছে ২৭ হাজার ৩৪০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৫৫ শতাংশ। পুরো প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ।

২৫ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে সেতুটি। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটির বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৬ সালের জুলাই মাসে।

মেয়াদ শেষ হবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫১ হাজার ২৯২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

মেট্রোরেল প্রকল্পটি ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। শুরু থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৭ হাজার ৮৪৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৮১ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ শতাংশ। তবে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশ পরবর্তীতে যোগ হওয়ায় এ অংশ নির্মাণে প্রকল্পটি সংশোধন করার কারণে ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা।

পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পটি ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

গত এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৮০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৫৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এটি। ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা।

এপ্রিল পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৩৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পটি ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে।

১৩২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্ট (রামপাল) বিদ্যুৎকেন্দ্র। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৪০১ কোটি টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি ৪ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ১৬২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৮৫ শতাংশ।

দোহাজারী-রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমারের কাছে ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পটি ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এটি ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনে (চলতি মাসে) শেষ হওয়ার কথা। গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৩ কোটি ৫৩৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭০ শতাংশ।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মফিজুর রহমান এর আগে যুগান্তরকে বলেন, ‘৬ মাস আগে থেকেই প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশনে সেটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। আশা করছি, ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ থাকাকালেই সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হবে।’

রেমিট্যান্স কমার কারণ স্বর্ণ সিন্ডিকেট

রেমিট্যান্স কমার পেছনে স্বর্ণ সিন্ডিকেট দায়ী। ব্যাগেজ রুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিন্ডিকেট প্রবাসীদের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এর পরিবর্তে স্বর্ণালঙ্কার ও স্বর্ণের বার দিয়ে দিচ্ছে।

সেই স্বর্ণ সিন্ডিকেটের এ দেশীয় এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করেই প্রবাসীরা টাকা পেয়ে যাচ্ছে। মূলত চক্রটি বাংলাদেশে আগত প্রবাসীদের বাহক হিসাবে ব্যবহার করছে।

এ কাজে উৎসাহিত করতে নানা প্রলোভন দেওয়া হয়। কখনো বিমান টিকিট, কখনো কমিশন, আবার কখনো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্যের চেয়ে বাড়তি টাকা দেওয়া হয়। সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্যাগেজ রুল অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি বিদেশ থেকে দেশে আসার সময় ১০০ গ্রাম (সাড়ে ৮ ভরি) ওজনের স্বর্ণালঙ্কার আনতে পারেন, এক্ষেত্রে শুল্ক-কর দিতে হয় না। এছাড়াও ২৩৪ গ্রাম (২০ ভরি) ওজনের স্বর্ণ বার আনতে পারেন, এক্ষেত্রে ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকা করে শুল্ক দিতে হয়।

সে অনুযায়ী স্বর্ণের বার আনলে ৪০ হাজার টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১০০ গ্রামের (সাড়ে ৮ ভরি) অলঙ্কার আনার ক্ষেত্রে ব্যাগেজ রুলে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা না থাকায়, অনেক যাত্রী শুল্ক-কর দিয়ে বাড়তি অলঙ্কার সঙ্গে করে নিয়ে আসছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিদেশ থেকে স্বর্ণ আনতে প্রবাসে কর্মরত একটি সংঘবদ্ধ চক্র বা সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরত আসার সময় প্রবাসী শ্রমিকরা ক্যারিয়ার গ্রুপ হিসাবে সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে স্বর্ণ বহন করে। অথবা সিন্ডিকেট প্রবাসীদের কাছ থেকে ডলার তুলনামূলক বেশি দামে কিনে নিয়ে ওই দেশেই স্বর্ণের দেনা পরিশোধ করে এবং বাড়তি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাগেজ রুলের আওতায় স্বর্ণ নিয়ে দেশে ফিরতে উৎসাহিত করছে।

এতে আরও বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স না পাঠিয়ে স্বর্ণ আনলে প্রবাসীরা কয়েকভাবে লাভবান হচ্ছে। প্রথমত, কম দামে স্বর্ণ এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে ব্যাংকের চেয়ে বেশি দাম পাচ্ছে। তৃতীয়ত, রেমিট্যান্সের অর্থ পেতে প্রবাসীকে কোনো খরচ করতে হচ্ছে না। সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ ক্যারেট প্রতিভরি স্বর্ণের দাম দেশ ভেদে ৫৮ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। বিমানবন্দরে ২ হাজার টাকা শুল্ক দেওয়ার পর স্থানীয় বাজারে সেই স্বর্ণ প্রতিভরি ৭২ থেকে ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি ভরিতে মুনাফা হচ্ছে প্রায় ১০-১৫ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এ অঙ্ক আগের এপ্রিলের চেয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার কম। এপ্রিলে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০১ কোটি ৮ লাখ ডলার। আর আগের বছরের মে মাসের তুলনায় এবার ২৮ কোটি ৫৭ লাখ ডলার কম এসেছে। গত বছর মে মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স সবচেয়ে বেশি কমেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, ২৫ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, কাতার থেকে ৫০ দশমিক ৭১ শতাংশ, কুয়েত থেকে ১৬ শতাংশ কমেছে। এসব দেশ থেকেই বেশি স্বর্ণ আসছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে ৪৩ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ৫৭ শতাংশ রেমিট্যান্স কমেছে। এ দুটি দেশ থেকেও স্বর্ণ আনার ঘটনা ধরা পড়েছে।

ব্যাগেজ রুল সংশোধনের সুপারিশ করে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ব্যাগেজ রুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রবাসীরা বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স না এনে স্বর্ণ নিয়ে আসার ফলে অফিসিয়াল চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসা কমছে বা কমতে পারে। অন্যদিকে স্বর্ণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার হয়ে থাকে। উভয় ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকেন্দ্রিক একটি স্বর্ণ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এছাড়াও ব্যাগেজ রুলের সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার হয় গুঁড়া দুধ, ডায়াপার, নামি-দামি ব্র্যান্ডের কসমেটিক্স আনার ক্ষেত্রে, এসব পণ্য মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়। ব্যাগেজ রুলের ফাঁকফোকর বন্ধে গত বছরের শুরুতে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রুলের খসড়া কাস্টম হাউজগুলোকে পাঠিয়ে মতামতও চাওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে দেড় বছর পার হলেও সেই রুল আলোর মুখ দেখেনি।

খসড়া ব্যাগেজ রুল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে স্বর্ণালঙ্কার আনায় লাগাম টানা হয়েছে। একজন মহিলা যাত্রী ১১৭ গ্রাম (১০ ভরি) ওজনের স্বর্ণালঙ্কার এবং ২০০ গ্রাম ওজনের রুপার অলঙ্কার শুল্ক-কর ছাড়া আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। আর যাত্রী পুরুষ হলে ২৩ গ্রাম (২ ভরি) ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও ১০০ গ্রাম ওজনের রুপার অলঙ্কার শুল্ক-কর ছাড়া আনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর বেশি অলঙ্কার আনা হলে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়।

শুধু তাই নয়, শুল্ক দিয়ে রুলে স্বর্ণের বার আনার অবাধ সুযোগও সীমিত রাখা হয়েছে। একজন যাত্রীর জন্য বছরে একবারই ২৩৪ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের বার আনার সুযোগ করা হয়। এক্ষেত্রে ভরিপ্রতি ২ হাজার টাকা শুল্ক-কর ধার্য করা হয়। ২৩৪ গ্রাম ওজনের বেশি স্বর্ণের বার আনলে বা বছরে একবারের বেশি স্বর্ণের বার আনলে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয় নতুন বিধিমালায়।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ব্যাগেজ রুলে শিথিলতার কারণে বিদেশ থেকে স্বর্ণের বার আনার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন একটি খসড়া করা হয়েছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে ব্যাগেজ রুল সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে।

প্রথমবারের মতো হারলেন সাক্কু

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) আরফানুল হক রিফাতের কাছে হেরেছেন গত দুই মেয়াদের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু।

বুধবার রাতে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলে রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি প্রতীক) পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট। এ ছাড়া অপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৯ ভোট।

বুধবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টায়। উৎসবমুখর পরিবেশেই স্থানীয় সরকারের এই ধাপের নির্বাচন হয়েছে। দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থাপিত ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণা শুরু হয়। এই নির্বাচনে মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি, ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন।

ভোটগ্রহণ শেষে সাক্কু গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ খুবই সুন্দর হয়েছে। ইভিএমের কারণে ভোট কাস্টিং কম হয়েছে। অনেকে ভোট দিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। আমি তো মনে করেছিলাম, ইভিএম শুধু জাতীয় নির্বাচনের জন্য। কিন্তু সিটি নির্বাচনের মাত্র একশ কেন্দ্রেই যে জটিলতা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে তো হাজার হাজার কেন্দ্র থাকবে। এটা ইভিএমে যদি হয়, তাহলে কী হবে তা এখনই বুঝা যাচ্ছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) গত দুইবারের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু ২০০৫ সাল থেকে কোনো নির্বাচনেই হারেননি।

১৬২ বছর আগে পৌরসভা হওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পায় ২০১১ সালে। তার আগে থেকেই মনিরুল হক সাক্কু এ শহরের জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

২০০৫ সালের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন সাক্কু। ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন পৌর মেয়র। এরপর ২০১২ এবং ২০১৭ দুইবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র হন। চলতি বছরের ১৬ মে পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

সাক্কু ১৯৯৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি ২০০৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এ ছাড়া ২০১০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ছিলেন তিনি।

সাক্কু সব সময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন না। কখনো প্রত্যক্ষ এবং কখনো পরোক্ষভাবে বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তবে এবার নির্বাচন করতে নেমে দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন কোনো নির্বাচনে হার না মানা সাক্কু।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী (ধানের শীষ) হয়ে। সে সময় কুমিল্লার আওয়ামী লীগ নেতা আফজল খানের মেয়ে বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টানা দ্বিতীয়বার মেয়র হন সাক্কু।সীমা ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

এর আগে ২০১২ সালে স্বয়ং আফজল খানকে হারিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র হন সাক্কু।

নির্বাচন কমিশন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই দেশ এখন আর কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয়। দেশকে বর্বর, অসভ্য রাষ্ট্রে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ।

বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার নির্বাচন নিয়ে ফখরুল বলেন, এখানে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যকে কুমিল্লা থেকে বের করতে না পেরে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে কমিশন। তাহলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচন কী হবে? বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রথমেই নির্বাচন কমিশন দেখাল তার ক্ষমতা নেই। সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপিসহ কোনো রাজনৈতিক দল। বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়াস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী তো অনেক কিছুই করছেন। যেগুলোর সঙ্গে আইন, সংবিধান, নৈতিকতার কোনো সংযোগ নেই। তিনি পাচার করা টাকার বৈধতা চেয়েছেন পার্লামেন্টে। তারাই টাকা পাচার করছেন আবার তা ফিরিয়ে আনতে আইন তৈরি করছেন। দেশটার সব সম্পদ লুটপাট করছে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, তথ্যমন্ত্রীর কথা তো আর আইন না। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, নির্বাচনের দিনে ওই এলাকায় কোনো সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন না। এখানে মন্ত্রী সাহেব কী করেছেন সেগুলোর সঙ্গে আইন, সংবিধান, নীতি-নৈতিকতা তার কোনো সংযোগ নেই। তারা সব নির্বাচনে বরাবরই যে কাজটা করে আসছে। তা হলো প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন শুধু নয়, সারা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সেটাকে তারা সম্পূর্ণভাবে এই সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন যে প্রতিষ্ঠান সেটাকেও তারা ধ্বংস করে ফেলেছে। তিনি বলেন, এটা শুধু আমাদের কথা নয়। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও অন্য মানুষদের নিয়ে তারা কয়েকদিন আগে একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে সবাই বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশের যে নির্বাচনি সংস্কৃতি সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং এখানে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার খুব বেশি প্রয়োজন। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। সেটার ফলাফল যাই হোক আমরা যাব না। সে বিশ্বাস শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষের উঠে গেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে তারা এমন জায়গায় নিয়ে গেছে এখানে তো মানুষ ভোটই দিতে পারে না। ভোটকেন্দ্রে যেতেও পারে না। ভোটকেন্দ্রে যদি যেতে না পারে তাহলে আর কী করবে। ভোট দিতে পারলেও তা তাদের পক্ষে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাকে এই সরকার এমন জায়গায় নিয়ে গেছে যে, মানুষ এখন ভোট দিতে পারে না। ভোট দিলেও এখন গণনার সময় ফলাফল পরিবর্তন হয়ে যায়। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি, আপত্তি জানাচ্ছি, না শুনলে তো আমরা আন্দোলনে যাব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাফরুল্লাহ, উপজেলা বিএনপির নেতা আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনানসহ দলটির নেতাকর্মীরা।

কক্সবাজারে উপাচার্যদের ‘প্রমোদ ভ্রমণ’

সারা বছর কী কার্যক্রম পরিচালনা করবে-সেই সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়।

এর নাম বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ)। অধীনস্থ সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে সচিবালয়েই মন্ত্রণালয়গুলো এই চুক্তি করে থাকে। কিন্তু কয়েক লাখ টাকা ব্যয়ে ইউজিসি অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।

বুধবার সকালে এটি হোটেল রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্টে শুরু হয়েছে। সেখানে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আরও ৩ থেকে ৫ জন যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ গেছেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। ঢাকায় যে অনুষ্ঠান করা যেত, তা এভাবে আয়োজন করা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

একে তারা উপাচার্যদের ‘প্রমোদ ভ্রমণ’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ বিদ্যমান বৈশ্বিক সংকটের (করোনার প্রভাব ও ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সব ক্ষেত্রে কৃচ্ছ সাধন নীতি অনুসরণ করছেন।

ইউজিসির সচিব ড. ফেরদৌস জামান জানান, এপিএ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই চুক্তি অনুষ্ঠানের জন্য ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। যার মধ্যে এই অনুষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। তাছাড়া এটি প্রথমবারই নয়। এর আগে কুমিল্লায়ও একইভাবে এপিএ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মূল অনুষ্ঠান শুরু হলেও অনেকে সোমবারই সেখানে পৌঁছে গেছেন। উপাচার্যদের সঙ্গে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং ফোকাল পয়েন্টের (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা) এতে যোগ দেওয়ার কথা। এছাড়া ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তবে কেউ কেউ পরিবারের সদস্য আবার গাড়ি ও ড্রাইভার নিয়েও গেছেন। জানা গেছে, দুই দিনব্যাপী হোটেলে থাকা, আপ্যায়ন, পরিবহণ, অংশগ্রহণকারীদের সম্মানি সব কিছুর ব্যয় ইউজিসি বহন করছে। শুধু ভ্রমণভাতা (টিএ) এবং দৈনন্দিন ভাতা (ডিএ) সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ব্যয় হবে। ফলে খরচ শেষ পর্যন্ত ১৫ লাখের মধ্যে থাকছে না বলেই মনে করে সংশ্লিষ্টরা।

অবশ্য ইউজিসির সচিব বলেন, উপাচার্য, রেজিস্ট্রার আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বাইরে কেউ এলে বা নির্ধারিত দিনের বেশি অবস্থান করলে সেই খরচ সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন।

এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে, যেই অনুষ্ঠান ঢাকায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলাদা বা একসঙ্গে ইউজিসির মিলনায়তনে কিংবা একটি হল ভাড়া করেই সম্পন্ন করা যেত সেটা এত দূরে কেন? এপিএ’র মূল উদ্দেশ্য শুদ্ধাচার ও সততার চর্চা। এভাবে অর্থ বরাদ্দ করে ব্যয় করা হলে তা এপিএর মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন-এপিএ’র জন্য এ খাতে এভাবে বরাদ্দ রাখাটা নৈতিক ও যৌক্তিক কিনা। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয় আর ইউজিসি হবে সমাজে নৈতিকতা ও সততা চর্চার দৃষ্টান্ত। তাদের কর্ম থেকে সমাজ ও ব্যক্তি উৎসাহিত হবে। সেখানে এভাবে নামকাওয়াস্তে অনুষ্ঠানের নামে প্রমোদ ভ্রমণ করে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এটি সরকারপ্রধানের নির্দেশনারও পরিপন্থি। কেননা জাতীয় অর্থ সাশ্রয়ে মিতব্যয়িতার নির্দেশনা আছে। সেখানে এভাবে আয়োজন অপ্রয়োজনীয় ও কাম্য নয়।

জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা থেকে গেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবু বকর ছিদ্দীক আমন্ত্রিত আছেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের আরও কয়েক কর্মকর্তা যোগ দেন।

জানা গেছে, এই এপিএ বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ইউজিসি গত মাসে অস্ট্রেলিয়াতেও আরেকটি ভ্রমণ আয়োজন করেছিল। ইউজিসির এপিএ হলেও তাতে শিক্ষা সচিবের পিএসসহ ডজনখানেক কর্মকর্তা তালিকাভুক্ত ছিলেন। করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার সব দপ্তর ও সংস্থানে ব্যয় সংকোচনের নীতি নিয়েছে। যে কারণে শেষপর্যায়ে এসে ওই ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আরও জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়েও এ ধরনের ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ আছে। বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কর্মকর্তাদের বছরে একাধিকবার ‘সঞ্জীবনী’ কর্মসূচির নামে কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণে যেতে দেখা গেছে। প্রশ্ন উঠেছে, এপিএ বাস্তবায়নের নামে জনগণের অর্থের এ কোন অপচয়?

উল্লেখ্য, ইউজিসির এ ধরনের বিলাসী ভ্রমণ এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ ও ২৮ ডিসেম্বর বান্দরবান জেলার ভেনাস রিসোর্টে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে তখন প্রায় ৩০ লাখ টাকা খরচ হয় বলে জানা গেছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বন্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিরোধিতাকারীরা যাতে কোনোরকম ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে সেজন্য সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনীকে সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো এত বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছি। কিন্তু, যারা সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করেছিল তাদের একটা উদ্দেশ্য রয়েছে।

যার কিছু কিছু তথ্যও আমরা পেয়েছি। আমরা জানতে পেরেছি, এমন একটা ঘটনা ঘটানো হবে যাতে ২৫ তারিখে আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে না পারি। বিরোধিতাকারীরা কী করবে তা কিন্তু আমরা জানি না।

শেখ হাসিনা বুধবার সকালে তার কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন বাহিনী প্রধান, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং আনসার ও ভিডিপির প্রধানদের উদ্দেশ করে বলেন, আমাদের সবাইকে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে।

পুরো বিষয়টাই একটু রহস্যজনক। এজন্য সবাইকে বলব, সতর্ক থাকতে হবে এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে। সেগুলোর নিরাপত্তা দিতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এ দেশের ব্যক্তিবিশেষের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে তার সরকার নিজেদের অর্থায়নে করার ঘোষণা দিয়েছিল।

তার সরকার সেই পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থে নির্মাণ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন-রেলে আগুন, লঞ্চে আগুন, ফেরিতে আগুন এমনকি সীতাকুণ্ডে যে আগুনটা সেটা একটা জায়গা থেকে লাগতে পারে, কিন্তু বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটা জায়গায় আগুন লাগে কীভাবে।

আর রেলের আগুনের বিষয়ে একটি ভিডিও পাওয়া গেছে যেখানে দেখা গেছে-রেলের চাকার কাছে আগুন জ্বলছে, সেটা কী করে সম্ভব সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এসএসএফের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান স্বাগত বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিকে মানুষের নাগালের মধ্যে এনে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু এসবের সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাস বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টির অপপ্রয়াস সম্পর্কেও সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এই ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেমন একদিকে আমাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করেছে, অপরদিকে এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই সন্ত্রাসী এবং জঙ্গিগোষ্ঠী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।

সেজন্য তার সরকার আধুনিক বিশ্ব এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফসহ অন্য বাহিনীগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমাদের বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকেও দমন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকার প্রযুক্তি শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন,? হাইটেক পার্ক করে দিচ্ছে, কম্পিউটার ল্যাব করে দিয়ে প্রযুক্তি শিক্ষার দিকে নজর দিয়েছে। পাশাপাশি স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছে।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে, রাজধানীবাসীর চলাচল সুবিধার জন্য মেট্রোরেল প্রকল্পও আজ দৃশ্যমান। এছাড়া এক্সপ্রেসওয়ে করে দিচ্ছে, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায়ও ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারপ্রধান বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে একটা মিথ্যা অপবাদ আমাদের দিয়েছিল। দুর্ভাগ্য, আমাদের একজন স্বনামধন্য মানুষ, যাকে আমি সবচেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলাম, সেই ড. ইউনূস বেইমানি করেছেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে থাকতে না পেরে তিনি এ কাজ করেছেন। তিনি তার বন্ধু তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের স্বামীর ক্লিনটন ফাউন্ডেশনে তিন লাখ ডলার ডোনেশনও দিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, হিলারি ক্লিনটন তাকে ফোন করেছেন। তার কাছে ধরনাও দেন এবং যাকে তিনি আইনের কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে বলে তারা বিশ্বব্যাংকের কাছে বারবার মেইল পাঠিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম যে, দুর্নীতি প্রমাণ করতে হবে। পরে কানাডার আদালতে এটা ভুয়া প্রমাণ হয়েছে। কিন্তু ড. ইউনূসের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায়।

আমরা বলেছিলাম, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করব। কাজেই খুব স্বাভাবিকভাবে অনেকেই ভেবেছিল এটা বোধহয় আমরা কোনোদিন করতে পারব না। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা কিন্তু সেটা করে ফেলেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, গুলি ও বোমার মুখে পড়েছি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। হয়তো আল্লাহ আমাকে দিয়ে কোনো কাজ করাবেন, এজন্যই বাঁচিয়ে রেখেছেন।

বাংলাদেশে যেসব বিদেশি অতিথি আসেন তারা এসএসএফের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তিনি নিজেও তাদের পারদর্শিতায় গর্ববোধ করেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এটাই সব সময় মাথায় রাখতে হবে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি চারিত্রিক দৃঢ়তা, সততা, শৃঙ্খলা সবকিছু মেনেই চলতে হবে এবং আমাদের এসএসএফ সে ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন।

তিনি বলেন, আমি সব সময় যখন দোয়া করি আমি আমার ছেলেমেয়ের জন্য যেমন দোয়া করি, নাতি-পুতির জন্য যেমন দোয়া করি তেমনি ঠিক সেই রকমভাবে আমার সঙ্গে যারা কাজ করেন প্রত্যেকের জন্য আমি দোয়া করি।

এসএসএফের জন্য বিশেষ করে দোয়া করি। আমার নিরাপত্তা দিতে গিয়ে যেন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা সব সময় আমি চিন্তায় রাখি।

তিনি বলেন, জাতির পিতার করে দেওয়া পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়,’ এই নীতি নিয়েই বাংলাদেশ আগামীতেও সামনে এগিয়ে যাবে।

পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকে কমপক্ষে একটি করে গাছ লাগান : এদিকে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৩ মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সরকারের পাশাপাশি তার দল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব থেকে পরিবেশ ও মানুষকে রক্ষায় যথাযথ ও সময়মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং তিনি প্রত্যেককে একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের যার যতটুকু জায়গা আছে, তার ততটুকু জায়গার মধ্যে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আপনারা যারা বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন তারা ছাদে বা আপনাদের বাসার ব্যালকনিতে টবে গাছ লাগাতে পারেন। সরকারি অফিসের ছাদে বিভিন্ন ছাদ বাগান করা যেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৃক্ষরোপণ প্রচারণার প্রথম উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন।

এ সময় তিনি গণভবন প্রাঙ্গণে ছাতিম, সফেদা ও হরতকি গাছ রোপণ করেন। ১৯৮৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের কৃষিজীবী শাখা প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে।

পবিত্র কাবার আলিঙ্গন

…আশরাফুল মাখলুকাত!
তোমার পবিত্র কাবায় আজ হাজির
শূন্য থালায় নেই কোন মোর নাজির,
তোমার করুণার চাঁদরে ঢাকো কাজির
মনের মণিকোঠায় গেঁথে দাও ফাঁতির।
…আশরাফুল মাখলুকাত!
আঁকাবাঁকা পথ হেঁটে এসেছি বহুদূর
সকল মানব প্রেমে মজিয়া রোদ্দুর,
একাই পাপি আগুনে পুড়ে নেই ভোর
খোল দোয়ার লুটে-পুটে ধরবো নুর।
…আশরাফুল মাখলুকাত!
পাখি হয়ে আবাবিল অনন্ত প্রহরী
মুহাম্মদ (সা.) উম্মত হয়ে শূল চড়কি,
ক্ষমা করো মোর শত ভুল আরতি
তাওহিদের আদরে কূলে নাও বারতি।
…আশরাফুল মাখলুকাত!
তোমার রহমতের সাগরে এত মধুর
প্রতিটি সিজদায় পেয়েছি রত্ন সূদুর,
কাবার আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয় প্রাচীর
দো-জাহানে রেখো মোরে শুল্ক বাছির।

যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বাংলাদেশ সেন্টার নির্বাচনে রেকর্ড

যুক্তরাজ্যের সান্ডারল্যান্ড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ইলেকশন ২০২২-২৪ নির্বাচন বিপুল উৎসাহের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সান্ডারল্যান্ড বাংলাদেশ সেন্টার নির্বাচনে আওয়াজ গ্রুপের পূর্ণ প্যানেল বিজয়ী হয়েছে।

১২ জুন রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুটি প্যানেলে প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং ভোটাররা তাদের পছন্দমতো প্রার্থীদের ভোট প্রদান করেন।

এতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ মোসাদ্দিক আহমদ, সেক্রেটারি মো. শাহিন আহমেদ ও ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন আতাউর রহমান মতলিব।

সান্ডারল্যান্ড বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ইলেকশন ২০২২-২৪ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী সৈয়দ মোসাদ্দিক আহমদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৬৮৪। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ খালিদ মিয়া ওলিদ পান ৬২১ ভোট ।

সেক্রেটারি প্রার্থী বিজয়ী মো. শাহিন আহমেদের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৭১২। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সৈয়দ শহিরুল বারী জিয়াউলের প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৫৬৮।

ট্রেজারার প্রার্থী বিজয়ী আতাউর রহমান মতলিব মিয়ার প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ছিল ৭৪০। তার নিকটতম প্রার্থী হাসান আহমদ হাসনুর প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ৫২৯।

‘নিরাপদ প্রত্যাবর্তনেই রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান’

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত যাতে দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবর্তন ব্যবস্থার দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে- সেই আহ্বান জানালেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তার জন্য রাখাইন রাজ্যে কর্মসূচি বাড়াতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ জুন) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ দূত ড. নোলিন হাইজারের ব্রিফিংয়ের পর প্রদত্ত বক্তব্যে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, জীবন বাঁচাতে নিজভূমি থেকে রোহিঙ্গাদের পলায়নের পর পাঁচ বছর কেটে গেছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বৃহৎ জোরপূর্বক নির্বাসনের ঘটনা। কিন্তু তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই রয়ে গেছে। এ পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত যায়নি। বাংলাদেশে মানবিক আশ্রয়ে থাকা ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছে। যেসব রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে যেতে পারেনি তারা হয় আইডিপি ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছে অথবা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও নিরাপত্তাহীনতার অব্যাহত হুমকির মধ্যে রয়েছে।

সংকটের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের মাধ্যমে এর পুনরাবৃত্তি রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা যাতে দীর্ঘদিনের এই সমস্যর সমাধান হয়। রোহিঙ্গাদের খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা প্রদানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি প্রত্যাবাসন উপযোগী সঠিক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে আরও এগিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, শুধু আমাদের একক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। জোরপূর্বক বাস্ত্তচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ ভূমি মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে প্রয়োজন যথোপযুক্ত পদক্ষেপ ও কর্মসূচি। আর এটাই সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত টেকসই সমাধান; যা রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের লালিত আকাঙ্ক্ষা।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মিয়ানমারের সমস্ত লঙ্ঘন ও অপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং ওআইসির পক্ষে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গাম্বিয়ার করা চলমান মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত আদালত জারিকৃত অস্থায়ী ব্যবস্থার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমার সরকার তার ক্ষমতার সবকিছুই করছে। আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ওআইসি) এবং মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত প্রক্রিয়ার (আইআইএমএম) সব প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা রোহিঙ্গা মুসলমানদের ন্যয়বিচার নিশ্চিত এবং এই ঘটনার ভবিষ্যত পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সকল দেশকে, বিশেষ করে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এ সংক্রান্ত চলমান জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থায় সহযোগিতা প্রদান ও তাদের প্রবেশাধিকার প্রদানে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

আসিয়ান ও মিয়ানমারের মধ্যে সমাপ্ত পাঁচ দফা ঐকমত্যের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়নসহ মিয়ানমারের সংকটের সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা গ্রহণের জন্য আসিয়ানের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আসিয়ান সদস্য দেশ এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলির সাথে সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার জন্য মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বিশেষ দূত তার ব্রিফিংয়ে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ পরিস্থিতি রোহিঙ্গা মুসলিমসহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। তিনি বাংলাদেশ সরকারের উদারতার স্বীকৃতি জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের প্রতি তাদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি মিয়ানমারে তার ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন যার মাধ্যমে শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবিক কাজের সাথে যুক্ত সকল পক্ষকে এ সঙ্কটের সমাধানে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাবেন মর্মে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ের পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো প্রদত্ত বক্তব্যে বিশেষ দূতের প্রচেষ্টার পাশাপাশি আসিয়ানের পরিপূরক ভূমিকার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশ সরকারের অনুকরণীয় মানবিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস মন্মথ বাড়ৈ চাকরিচ্যুত

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের তৎকালীন সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। অসদাচরণ ও পলায়নের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের এই কর্মকর্তাকে।

বিভাগীয় মামলার পর দীর্ঘদিন ধরে যাচাই-বাছাইসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষে সোমবার মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈকে চাকরিচ্যুত কা হয়। সোমবারই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈ ২০২০ সালের ১২ এপ্রিল থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব না দেওয়ায় বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। তদন্তে মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ তার স্থায়ী ও কর্মস্থলের ঠিকানায় পাঠানো হলে ‘প্রাপক দেশে নেই’ বলে ডাক বিভাগ খামের গায়ে লাল কালি দিয়ে লিখিতভাবে জানায়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যেহেতু মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাই বিধি অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত বছর পদায়নের ৯ মাস পরও কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ এনেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।