বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 761

একটি পোড়া আলুর দাম দুই ডলার

রঙ্গমঞ্চের পেছন দিয়ে একটা পথ নেমে গেছে নিচের দিকে। পথের দুই ধারে শুধু উপহার সামগ্রীর দোকান আর রেস্টুরেন্ট। দোকানে থরে থরে সাজানো জিনিসপত্রের সবই লুফে নিতে ইচ্ছা করে। রেস্টুরেন্টের প্রধান খদ্দের পর্যটক।

সান্ধ্যকালীন আড্ডায় প্রতিটি রেস্টুরেন্ট যেন একেকটা মিলনমেলা। ফুটপাথের দখল ব্ল্যাক মং নারীদের হাতে। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বাজার বন্ধ হয়ে গেলে তারা এই ফুটপাথে দোকান বিছিয়ে বসে। ফাঁকে ফাঁকে কিছু খাবারের দোকানও বসেছে। হাঁটতে হাঁটতে খাবারের দোকানগুলোর মধ্য থেকে বেছে বেছে চোখ গিয়ে পড়ল একটা মিষ্টি আলুর দোকানে। কাঠকয়লার আগুনের উপর শিকের তাওয়ায় পোড়ানো হচ্ছে বড় আকারের মিষ্টি আলু। দাম শুনে মাথায় হাত, প্রতিটি পোড়ানো আলু বিক্রি হচ্ছে দুই ডলার! এক সময় বাংলাদেশে এর ব্যপক উৎপাদন হতো এবং প্রধান ভোক্তা ছিল গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ। বর্তমানের চিত্র ভিন্ন হলেও প্রতি কেজি বোধহয় ত্রিশ টাকার বেশি হবে না। খদ্দেরের ভিড় দেখে মনে হলো ভিয়েতনামে মিষ্টি আলুর কারবার করলে মন্দ হয় না।

ফিরে এলাম শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে। ঠিক মাঝখানে স্থাপিত ফুলগাছের একটি সুন্দর বিন্যাস দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। একটা কাঠামোর শরীরে ফুল গাছের টবগুলো এমন করে স্থাপন করা হয়েছে; তাকে পর্বত চূড়া না ভেবে উপায় নেই। পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের স্বার্থে পশেই স্থাপিত আছে একটা সাইনবোর্ড। এমন সাইনবোর্ড কমবেশি সবখানেই দেখা যায় কিন্তু সেগুলোর থেকে এর তফাৎ অন্য জায়গায়। খামাখা আদেশ, নিষেধ, পরামর্শ, হুঁশিয়ারি, সাবধান বাণী ইত্যাদির আলোকপাত না করে উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ছয়টি লাইন। তার মধ্যে দুইটি লাইন আমার অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয় বলে মনে হলো। অনুরোধ সূচক চিহ্ন ব্যবহার করে লেখা লাইন দুটির সারকথা হলো, স্থানীয় শিশু বা লোকেদের অযথা ক্যান্ডি জাতিয় জিনিস অথবা টাকা-পয়সা দেবেন না, তাতে ভিক্ষাবৃত্তি উৎসাহিত হয়ে সা পা’র ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে; লোকালয়ের স্থানীয় হস্তশিল্পের বাজার থেকে পণ্য কিনে তাদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে সহায়তা করুন। এমন সুন্দর এবং যুযোপযোগী লেখা স্থানীয় সার্বিক ব্যবস্থাপনার একটা পরিচায়ক বলে মনে হলো।

 

দুপুরের খাবারের পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, পেটের মধ্যে তা যেন আস্তই রয়ে গেছে। সুতরাং, রাতে বেশি কিছু খেতে পারবো বলে মনে হলো না। চত্বরে হালকা পায়চারী করতে করতে কিছু খাবার সংগ্রহ করে ফেললাম। বিক্রি হচ্ছে তাজা ফল, দামে খুব সস্তা। ভ্রমণে ফল সব থেকে নির্ভরযোগ্য এবং উপাদেয় খাবার। সেই ভাবনা থেকে কিছুটা ফল কিনলাম। দেখতে আপেলে মতো তবে আপেল নয়। নাম কি তাও জানি না কিন্তু স্বাদে বেশ ভালো। একটা বেকারীর দোকান থেকে লম্বা কয়েকটা পাউরুটিও কিনে নিলাম। প্রতি পিস রুটি ছয় হাজার ডং। এখানে টাকা তেজপাতা। এক বোতল পানি কিনতেও পকেট থেকে হাজার হাজার বেরিয়ে যায়। এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ ডং এর নোট পেলাম। জানি না এর উপর দিয়ে আরও বড় কোনো কিছু আছে কি না। দশ বিশ ডং এর তো চেহারাই দেখলাম না।

রাত পেরিয়ে হাজির হলো আরেকটা নতুন দিন। ঘর থেকে বের হতেই মেঘ এসে মুখমণ্ডলে নরম পরশ ছুঁয়ে দিলো। ঘুম থেকে উঠেই প্রকৃতির পক্ষ থেকে এমন একটা সম্ভাষণ এবং ঠিক তারপরই এক পেয়ালা পানীয় পান করে শরীর ও মন উভয়ই চনমনে হয়ে গেল। বড় ফ্লাস্কে চব্বিশ ঘণ্টা ভেষজ পানীয় পরিবেশন করা থাকে, অতিথিরা যখন খুশি ঢেলে নিয়ে পান করতে পারে। সকালবেলা আমার একক আসরে বিনয়ের সঙ্গে যোগ দিলেন একজন পর্যটক। হোস্টেলের পক্ষ থেকে অতিথিদের জন্য সকালের নাস্তা কমপ্লিমেন্টারি। নাস্তা খেতে খেতেই তার সঙ্গে একটা নাতিদীর্ঘ আড্ডা হয়ে গেল। আড্ডাজুরে বিষয়বস্তু হিসেবে প্রাধান্য পেল ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও পরবর্তী পরিকল্পনা। দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছরের জীবনে ঘুরে দেখেছেন পৃথিবীর অনেক জায়গা। একজন অর্থনীতিবিদ হওয়ার কারণে তার আলোচনা শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থেকে বের হতে পারল না। সেটা অবশ্য আমার কাছে ভালো লেগেছে। তাতে আমার জানার থলিতে যুক্ত হয়েছে বেশকিছু নতুন তথ্য। প্রসঙ্গক্রমে মাউন্ট ফান্সিপানের কথা উঠে আসায় নিজ ব্যাগ থেকে একটা মানচিত্র এনে বিছিয়ে ধরল। বৃষ্টির কারণে ট্র্যাকিং করে আরোহণ করা অসম্ভব। বিকল্প হিসেবে আছে ক্যাবলকার। সেক্ষেত্রে কোনো ভ্রমণ পরিবেশক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। অথবা একটা ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করে রওনা দিতে হবে। অধিকন্তু, বিকল্প হিসেবে আছে পদযুগল।

 

মাথার উপর ছাতা মেলে ধরে রওনা দিলাম ফান্সিপানের উদ্দেশ্যে। হোস্টেলের রাস্তাটাই উঠে গেছে ক্যাবলকার স্টেশনের দিকে। অচেনা পথ, বৃষ্টি ঝড়ছে তার আপন খেয়ালে। খানিকটা শীতও পড়েছে। কোনো পথিকের সম্ভাবনা নেই। হঠাৎ দু’একটা গাড়ি ছুটে চলছে সানন্দে। হালাকা ঢালু উর্ধ্বমুখী পথ ক্রমেই উঠে গেল লোকালয় ছেড়ে পাহাড়ের নির্জনতায়। দুই ঘণ্টা পর উপস্থিত হলাম সুবিস্তৃত এক সমতল প্রাঙ্গণে। ঢালাই করা প্রাঙ্গণের দূর প্রান্তে মেঘের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে একাকি একটা লাল রঙের বাস। অপর প্রান্ত থেকে সুরম্য পথ এগিয়ে গেছে অজানার উদ্দেশ্যে। পথের মুখে আরোহীদের জন্য অপেক্ষা করছে চারপাশ খোলা একটা ছোট্ট কোস্টার গাড়ি। পর্যটকদের কেবলকার স্টেশনের বাকি পথ এই গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। পছন্দ মতো একটা আসনে বসে পড়লাম। অন্য কোনো যাত্রী না থাকায় দশ মিনিট পর আমাকে একা নিয়েই গাড়িটা ছেড়ে দিলো। পুরো গাড়িতে একা যাত্রী হয়ে রওনা দিলাম। পথের দুই ধারে ফুলগাছ। গাছে গাছে ফুটে আছে লাল, হলুদসহ হরেক রঙের অজস্র ফুল। দশ মিনিটের মধ্যে পথের শেষ হলো। নামিয়ে দেয়া হলো কৃত্রিম পর্বত চূড়াসদৃশ্য একটা স্থাপনার কিছুটা আগে। এখান থেকে আবারও পায়ে হেঁটে স্টেশন। এই পথটুকুর দৈর্ঘ্য আধা কিলোমিটার। ফুল আর পাতাবাহার গাছে এত সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা, যেন অনন্তকাল ধরে হাঁটলেও ক্লান্তি অনুভব হবে না। চোখের সামনে ধরা দিলো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আর একটা প্রাঙ্গণ এবং তার শেষ প্রান্তে পর্বতের কিনারে বৃহৎ দালান। এগিয়ে যেতে যেতে বিলীন হয়ে গেলাম মেঘের পড়তের মধ্যে। দালানের সম্মুখভাগের দেয়ালে সাজিয়ে রাখা ফুলে ফুলে পূর্ণ গাছগুলো অনুক্ষণ শোভা ছড়াচ্ছে।

যথারীতি টিকিট কাটতে হলো। মূল্য সাত লাখ ডং। দীর্ঘ চলন্ত সিঁড়ি ধরে কয়েক তলা নিচে নেমে ক্যাবলকারে আরোহণ করতে হলো। প্রতিটি কারে বিশ-পঁচিশ জনের মতো বসার ব্যবস্থা। কিন্তু আরোহী আমিসহ মাত্র পাঁচজন। কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পর থেকে শুরু হলো এক বিষম উর্ধ্বগতি যাত্রা। সবুজ প্রকৃতির উপর দিয়ে চলতে চলতে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আস্ত কারটি হারিয়ে গেল মেঘের দুনিয়ায়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সম্পূর্ণ পথে যা কিছু আছে তার সব দেখা যায়। বিপরীত দিক থেকে ছুটে আসা লাল, সাদা আর হলুদ রঙের কারগুলো নিকটে এলে তবেই দেখা গেল। আকাশের এতটাই কাছাকাছি চলে গেলাম যে, নিজের অবস্থানকে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো জায়গায় মনে হলো।

 

আধাঘণ্টা রোমাঞ্চকর একটা উড়াল শেষে অবতরণ করলাম অপর প্রান্তের স্টেশনে। এখান থেকে এঁকেবেঁকে প্রায় ছয়শ সিঁড়ি ও একাধিক সমতল চত্বর পেরিয়ে গেলে পা পড়বে ফান্সিপান শীর্ষে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আছে উর্ধ্বমুখী ট্রেন। এই পথটুকু কেউ চাইলে টিকিট কেটে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারে। এক কামরার ছোট্ট ট্রেন, সুরসুর করে এগিয়ে চলে। মাত্র কয়েক মিনিটেই পৌঁছে দেয়। স্টেশনের ভিতর একটা ফুডকোর্ট। অনেক পর্যটকের সমাগম। কেউ সিঁড়ি ভেঙে উপরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তো কেউ ফিরে এসে খাবার খাচ্ছে। আবার অনেকেই জমে তুলেছে আড্ডার তুফান। আমি বরং এক মগ গরম কফি পান করে পূর্ণ প্রস্তুতির সঙ্গে যাত্রা করলাম। মাত্র চল্লিশটি সিঁড়ি অতিক্রম করেছি অমনি শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি। ভরসা হিসেবে আমার সঙ্গের সাথী ছাতা তো আছেই। তাতে খুব একটা কুলানো গেল না। আমার দুর্গতি দেখে একজন সামিট ফেরৎ পশ্চিমা নারী তার ব্যাগ থেকে পুটলি করে রাখা পাতলা পলিথিনের ওয়ানটাইম রেইন কোর্ট আমাকে দান করে দিলো। তার আগে ভদ্রতাস্বরূপ সে তার দুর্গতির কথা তুলে ধরল, যাতে আমি আবার অপমান বোধ না করি। এমন সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বিদায় নিলাম। (চলবে)

টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ম্যাচ

আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়ার মধ্যকার কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল গড়াচ্ছে টাইব্রেকারে। ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে যায় খেলা। কোপার চলতি আসরের নিয়মানুযায়ী অতরিক্ত সময় খেলা হবে না।

বুধবার (৭জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় খেলাটি শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি শেষ হয় ১-১ গোলে।

 

শুরুর বাঁশি বাজার তখনো ৭ মিনিটও যায়নি। কলম্বিয়ার পেনাল্টি এরিয়াতে মেসির পাস যায় মার্টিনেজের কাছে। বল পেয়ে মার্টিনেজ লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করেননি। ফাইনালের পথে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ৬১ মিনিটের সময় লুউইস দিয়াজের গোলে সমতা নিয়ে আসে কলম্বিয়া।

মার্টিনেজকে দিয়ে গোল করিয়ে এক অনন্য রেকর্ডে নাম লেখান মেসি। এই নিয়ে কোপার চলতি আসরে এটি মেসির পঞ্চম অ্যাসিস্ট। এর আগে কোনো ফুটবলার ৪টির বেশি অ্যাসিস্ট করেননি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল, পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তির বিষয়ে মঙ্গলবার (৬ জুলাই) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে ভর্তির জন্য অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনপত্র পূরণ কার্যক্রম শুরু হবে ৮ জুলাই। চলবে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত। নির্ধারিত তারিখের পর কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না।

বিস্তারিত জানতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট www.nu.ac.bd/admissions অনুসরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উচ্চমাধ্যমিকের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত

২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সারাদেশে ১৪ জুলাই পর্যন্ত কঠোর লকডাউন কার্যকর থাকায় এদিন পর্যন্ত অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) মাউশি থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

মাউশির আদেশে বলা বলছে, করোনা সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের ধারাবাহিকতায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এর আগে গত ১ জুলাই থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি-এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত করে।

জানা গেছে, চলমান কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে না পারায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষার পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক পুনর্বিন্যাসকৃত পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমে পুরোপুরি সম্পৃক্তকরণ ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের আওতায় আনতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন অ্যাসাইনমেন্ট প্রণয়ন করা হয়েছে।

জীবনে কাউকে শত্রু ভাবিনি: হাবীবুল্লাহ সিরাজী

কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী। ষাটের দশকে কাব্যচর্চার সূচনা। লেখালেখির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন আমৃত্যু। তাঁর কবিতায় রয়েছে বিষয়ভাবনার সুগভীর বৈচিত্র্য। মানুষ, মানুষের সংগ্রামের ইতিহাস, লোকসমাজ এবং প্রগতির অভিযাত্রা উপজীব্য করে ব্যক্তির একান্ত মানস কিংবা নৈর্ব্যক্তিক ব্যঞ্জনা নির্মাণে পারঙ্গম কবি গদ্য রচনাতেও সমান সিদ্ধ। সদ্য প্রয়াত কবি-স্মরণে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলো। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ কথাসাহিত্যিক হারুন পাশা।

হারুন পাশা: ষাটের দশক আপনার কাব্যচর্চার সূচনা কাল। সে-সময় বাংলাদেশে কাব্যচর্চার পরিবেশ কেমন ছিল?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: বাংলাদেশ তো না, তখন পূর্ব-পাকিস্তান। ষাটের দশক রাজনৈতিকভাবে উত্তাল সময়। এই উত্তালের ভেতরেই সাতচল্লিশ পরবর্তী দেশবিভাগের পর আমাদের কবিতায় একটা অন্য হাওয়া লাগে। সেই হাওয়াটা কেমন? পঞ্চাশের লেখকেরা ঢাকা এলেন। তারা নতুন চিন্তা-ভাবনা করলেন। একটি অংশ চলে গেল পাকিস্তানি কিংবা ইসলামী মতাদর্শের দিকে আবেগ থেকে; নতুন রাষ্ট্র হয়েছে। এরপর আঘাত এলো যখন ভাষা আন্দোলন শুরু হলো। আমরা নতুন অভিঘাতের দিকে গেলাম। যার শুরু ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ থেকে।

হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় একটি সংকলন হলো। সেখানে প্রকৃতপক্ষে আমাদের সাহিত্যের, বিশেষভাবে আমাদের কবিতার অংশটুকু নতুনভাবে উন্মোচিত হলো। ষাটে এসে আমরা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করার চেষ্টা করি। বাংলা কবিতা নতুন একটি মোড় নেয় ষাটের দশকে। বিশেষ করে ছেষট্টি সালের ছয় দফার পর থেকে আন্দোলন, সংগ্রাম আমাদের চেতনার ভেতরে নতুন একটি বোধ দিয়ে গেল। ফলশ্রুতিতে কবিতার গায়ে একটা নতুন রঙ লাগল।
তবে ষাটের দশকে আমি অন্তত যা দেখেছি, যাঁরা লেখালেখিতে এসেছিলেন তাদের নিষ্ঠা, তাদের পাঠ এবং চর্চায় অসম্ভব যত্নবান ছিলেন। এখনো তাদের ভেতর থেকে যারা লিখছেন তারা ধারাবাহিকতায় বাংলা কবিতার সঙ্গে পরম্পরায় আছেন। এরকম একটা পরিবেশের ভেতর আমরা কাব্যচর্চা শুরু করি।

হারুন পাশা: আপনি কখন স্থির করলেন কবিতা লিখবেন?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: ৬৬ সাল থেকে ভাবলাম কবিতা সিরিয়াসলি লিখবো এবং কবিতার সঙ্গে থাকবো। একুশের সময় প্রচুর সংকলন বের হতো। এবং এই সংকলনে সারা বছরের কবিতা প্রায় জড়ো করে রাখা হতো ওই সময়ে ছাপার জন্য। সাহিত্য পত্রিকা যা ছিল তাতে লেখালেখি হতো। ‘আজাদ’, ‘সংবাদ’, ‘সমকাল’ ছিল। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের ‘কণ্ঠস্বর’ ছিল। এছাড়াও ভালো কিছু লিটলম্যাগ ছিল। বলা যায় একটি কাগজে লেখা ছাপা হলে সেই কাগজ কয়েকদিন কাছে রাখতেই পছন্দ করতাম।

হারুন পাশা: বুয়েটে সাহিত্যবন্ধু পেয়েছিলেন? সেখানে সাহিত্যচর্চার জন্য কেমন পরিবেশ ছিল?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: বুয়েট থেকে আগে প্রতিবছর টেকনিক্যাল জার্নাল বের হতো। আমি ১৯৬৮-৬৯ সালে বুয়েটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য সম্পাদক ছিলাম। টেকনিক্যাল জার্নাল যেহেতু হতো, আমি বাংলায় একটি পত্রিকা করি। বুয়েটের হলগুলোতে বাৎসরিক সাহিত্য প্রতিযোগিতা হতো। সেখানে মৌলিক লেখালেখি, গল্প, কবিতার পাশাপাশি আবৃত্তি, এমনকি কোনো কোনো হলে সংগীতের চর্চা হতো। সংগীত প্রতিযোগিতা হতো। পরিবেশ ছিল। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যে, সুষ্ঠু, সুন্দর যদিও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সঙ্গে বুয়েট সবসময়ই জড়িত ছিল, তবুও তার ভেতর দিয়ে মৌলিক একটা চিন্তা, সুন্দর একটি স্বপ্ন দেখার আগ্রহ বুয়েটের যারা ছাত্র ছিল তারা সব সময় রাখতো।

আর ‘বন্ধু’ শব্দটি বড় আপেক্ষিক। আমার নিজের একটি কবিতার বই আছে ‘আমার একজনই বন্ধু’। প্রথম লাইনটি এরকম: ‘আমার একজনই বন্ধু তার নাম হাবীবুল্লাহ সিরাজী’। বন্ধু এবং শত্রু দুটি শব্দ যদিও মনে হয় বিপরীতমুখি, কিন্তু একসঙ্গে চলে। তাই যে শব্দটি বন্ধু বললেন তাকে স্বজন হিসেবে, শরিক হিসেবে বিবেচনা না করে আমি অস্বীকার করবো না যে আমার লেখালেখির ৫৫ বছরের জীবনে কেউ নেই। প্রচুর আছে। এখনো যাদের সঙ্গে চলাফেরা করি, কথা বলি তাদেরকে শরীক হিসেবে বিবেচনা করি, বন্ধু হিসেবে না আনলেও। আমি জীবনে কাউকে শত্রু ভাবিনি। এটা আপনাকে নিশ্চিত বলতে পারি।

হারুন পাশা: আলোচনার এ পর্যায়ে একটা প্রশ্ন রাখি- কবিতা আপনার ভেতর কীভাবে তৈরি হয়?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: একেক জনের প্রক্রিয়া একেকভাবে কবিতা লেখার ক্ষেত্রে বিবেচিত হয়। আপনি যেতে যেতে একটা ফুলের ঘ্রাণ পেলেন। ফুলের ঘ্রাণের সঙ্গে দেখলেন যে নিচে একটি কীটও পড়ে আছে। আপনার ভেতর হয়তো কুড়িয়ে পাওয়ার মতো ঐ ঘ্রাণ এবং কীট একসঙ্গে এলো। আপনি সেটাকে কবিতায় স্থাপন করলেন। কবিতা তার নিজস্ব ভাষায়, নিজস্ব রঙে এবং নিজস্ব দর্শনে চলে। কোনটি পদ্য এবং কোনটি গদ্য তা পৃথক করতে গিয়ে আমরা কোনো কোনো লেখাকে কবিতা এবং কোনো কোনো লেখাকে গদ্য বলছি। এ বলার মধ্য দিয়ে যে রূপটি প্রকাশিত হয়, যে ছবিটি চোখে ভাসে, গদ্যের একটি মোটামুটি প্রচলিত রীতি আমাদের চোখে ঠাসা থাকবে। লাইনগুলো টানা থাকবে। কবিতায় লাইনগুলো হয়তো একটু ভাঙা থাকবে। অবশ্য গদ্য কবিতার কথা অনেকে বলে থাকেন কিংবা বাইবেলিক ভার্সনের কথা বলেন, যে তার শরীর দেখে বোঝা যায় না। তবে কবিতার ভেতরে এমন একটি জিনিস থাকে যে জিনিসটি কবিও হয়তো অনেক সময় জানেন না, কখন সেই জিনিসটি সেখানে রেখেছেন। এমন কোনো মুক্তো থাকে ঝিনুকও জানে না, এটি তার পেটের ভেতরে আছে। সেই ফুলও জানে না তার এমন সৌরভ আছে যা পথিককে আকৃষ্ট করে। সেই কীটও জানে না তার এমন বিষ আছে যা একজনের জীবন হরণকারি হতে পারে।

কবিতা অদ্ভুত এক বিষয়! কবিতা আশ্চর্য এক অবয়ব যা ভেতরে শব্দ থাকে, বর্ণ থাকে, গন্ধ থাকে এবং সর্বোপরী জীবনের একটা স্বপ্ন থাকে, বিশ্বাস থাকে, ধ্বংস থাকে আর আমরা এইসব কিছু নিয়েই কবিতাকে কখনো কবিতা হিসেবে চিহ্নিত করি। কখনো তারও বাইরে গিয়ে অন্য কিছু হিসেবে যার নাম আমি জানি না হয়তো; চিহ্নিত করি।

হারুন পাশা: আপনার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ১৯৭৫ সালে। প্রথম বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী : তিক্ত, ভালো- কোনোটাই নয়। বইয়ের পাণ্ডুলিপি বহুবার তৈরি করেছি। বহুবার বাতিল করেছি। আবার তৈরি করেছি। আমি কবি শামসুর রাহমানের ওখানে যেতাম। তিনি তখন ‘দৈনিক বাংলা’য় নিয়মিত বসতেন। একদিন তাঁকে বললাম, তিনি পাণ্ডুলিপি দিতে বললেন। দিলাম। তিনি বললেন দুইদিন পরে মতামত দেবেন। দুইদিন পরে তিনি কিছু না বলে আমাকে সরাসরি পাণ্ডুলিপি হাতে তুলে দিলেন এবং তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মুখটি প্রসন্ন। কিন্তু তিনি কিছুই বললেন না। আমিও তাঁকে কিছু বলিনি। তবে নিজের ভেতরে অভিমান জন্মালো কিছু বলতে পারতেন শামসুর রাহমান। তখন ‘দৈনিক বাংলা’র বিল্ডিংয়ের চারতলায় আহসান হাবীব বসেন। তিনি সাহিত্য সম্পাদক। হাবীব ভাইকে পাণ্ডুলিপিটি দিলাম। বললাম এখানে আমার কিছু কবিতা আছে। বই করতে চাই। আপনি যদি পছন্দ-অপছন্দ কলম দিয়ে একটু টিক দিয়ে দেন।

সাত কি দশদিন পরে গেলাম। পাণ্ডুলিপির পাতা উলটিয়ে দেখি অধিকাংশ কবিতাই টিক দেওয়া। এবারে মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিলাম বই করবো। প্রকাশক দরকার। কথায় কথায় প্রকাশনার কথাটি আবদুস সাত্তারকে বললাম। আবদুস সাত্তার তখন ‘পূর্বাচল’ পত্রিকার সম্পাদক। এটি সরকারি সাহিত্যের কাগজ। বের হতো তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা দপ্তর থেকে। তার মাধ্যমেই ‘মুক্তধারা’ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ। প্রথম কবিতার বই প্রকাশের অভিজ্ঞতা আমার ভালোই এবং আজও সেই স্মৃতি মনে পড়লে আনন্দ হয়।

হারুন পাশা: আপনার কবিতায় একটা গল্প থাকে …

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: প্রত্যেক কবির কবিতায় গল্প থাকে। কখনো নৈর্ব্যক্তিক, কখনো সরাসরি। আমার গল্পটি এমন যে আমি একটি সূত্র ধরে এগোই। আমি একখানে খুঁটি পুতি এবং একটি সুতোর বল সেই খুঁটির সঙ্গে একমাথা বেঁধে বলটি ছেড়ে দেই। আমি জানি এই বলটি কতোদূর যেতে পারে এবং তাকে যাওয়ার অবকাশ দেই। দেয়ার পর আমার কাজ হলো বলটি যতো দূরে যাক না কেন সে যেন বুঝতে পারে আমি ঐ খানে বাঁধা আছি। এটি আমার গল্প। কথার কথা, আমি একটি কবিতা লিখছি লাইটার নিয়ে। আমি জানি যে এর দেহের ভেতরে কিছু জ্বালানি আছে এবং সেই জ্বালানি জ্বালানোর জন্য একটি আঘাত দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এভাবে একটি জ্বালানি আঘাত দেওয়ার ব্যবস্থা, শরীরের গঠন সব কিছু মাথার ভেতরে নিয়ে আমি লেখাটি শুরু করতে চাই। তবে দেখা যায় শুরু এবং শেষ সব সময় এক থাকে না। ঐ সুতোর বলের কথা বললাম, মাঝে মাঝে সেটা বাধাপ্রাপ্ত হয়। কেউ কাঁচি দিয়ে কেটে দেয়। কোনো ফড়িং তার উপরে বসে নষ্ট করে যাত্রাপথ, তা হয়। তবুও মোটামুটিভাবে গল্পটিকে টেনে নেওয়ার জন্য গল্পটিকে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি প্রক্রিয়া শেষ অবধি খেলা করে।

হারুন পাশা : একটা কবিতায় বলেছেন ‘ইতিহাস বদমাশ হ’লে মানুষ বড়ো কষ্ট পায়’- এটা কেমন?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: খুব সরল সাপটা লাইন। ইতিহাস যদি বদমাশ হয় মানুষের বড়ো কষ্ট হয়। আমাদের যে ইতিহাস লেখা হয়েছে তা শাসকের ইতিহাস। কখনো ভূমির ইতিহাস লেখা হয়নি। কখনো ফসলের ইতিহাস লেখা হয়নি। কল্যাণের ইতিহাস লেখা হয়নি। এখন পর্যন্ত যতো ইতিহাস লেখা হয়েছে শাসক তার প্রয়োজন মতো ইতিহাস লিখিয়েছেন। এখানে তার প্রশংসা, কর্মযোগ, কর্মফল লেখা হয়েছে। তার যুদ্ধের কথা আছে। তার কল্যাণের কথা আছে। কিন্তু ঘামে ভেজা একজন মানুষ, রোদে পোড়া একজন মানুষ এবং তার পরিপার্শ্বের কথা ইতিহাস কখনো বলেনি। আমরা ইতিহাসের নামে আমাদের প্রবঞ্চনা করেছি। এটুকুই আমি বলতে চেয়েছি। ইতিহাস যখন বদমাশ হয় তখন মানুষের বড়ো কষ্ট হয়।

সভ্যতা এমনই একটি জিনিস যার হাতে রচিত হয় সেভাবে তা বিকশিত হয়। হ্যাঁ, সভ্যতা যদি মানুষের হাতে রচিত হয়ে আসতো সারাজীবন, তাহলে সভ্যতার চিহ্ন অন্যরকম হতো। ইতিহাসও যদি মানুষের হাতে রচিত হতো, কিন্তু ইতিহাস মানুষের হাতে রচিত হয়নি। ইতিহাস তোষামোদকারীর হাতে রচিত হয়েছে, ইতিহাস অন্নভোগী মানুষের হাতে রচিত হয়েছে। পরান্নভোগী মানুষের হাতে রচিত হয়েছে। এই কথাটি আমি এই কবিতায় বলেছি।

হারুন পাশা: ‘যমজ প্রণালি’ কবিতার বইয়ের নামকরণ কেন এমন?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: আমার সঙ্গে আরেকটা আমি। আমার ছায়ার সঙ্গে আরেকটি কায়া। কায়াটি যদি আমি হই, ছায়াটি আমার সঙ্গে যায়। আমরা একে অপরের সঙ্গে যাচ্ছি। এটা একটি গেল। আরেকটি ব্যাপার হলো- একটি নয় দুটি প্রণালি যায়। লোকটি বড়ো হয় না। ছায়াটি কখনো বড়ো হয়, কখনো ছোটো হয়- এই। দার্শনিকভাবে অতো কিছু না।

হারুন পাশা: আপনার পঞ্চপাণ্ডব সম্পর্কে জানতে চাই।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: আমার প্রথম দিককার বই ‘হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি’, এটা গতানুগতিকতার বাইরে এসে লেখা। আমি চেয়েছিলাম একটি নয় বিভিন্ন বিষয় এক বইয়ে রাখবো। কিন্তু তার ভেতরে যেন একটা যোগসূত্র থাকে কোনো শিরোনাম ছাড়া। এর ফলে নামটি খেয়াল করবেন ‘হাওয়া কলে জোড়া গাড়ি’। এই কলটা হলো হাওয়া কল। হাওয়া কলে গাড়িটা জুড়ে দিলাম। গাড়িটা হলো কবিতাগুলো। পঞ্চাশটি কবিতা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরে আরেকটি বই লিখি। সেটি ‘মুখোমুখি’। এখানে একটি প্রশ্ন আছে, একটি উত্তর আছে। এখানেও উদ্দেশ্য ছিল শিরোনামহীন জুড়ে দেওয়া। এরপর ‘যমজ প্রণালি’ এটাও জুড়ে দেওয়ার ব্যাপার। সঙ্গে আরেকটি গেঁথে দেওয়া। ভিন্ন ভিন্ন বিষয়কে একসঙ্গে গেঁথে দেওয়া। এই যে গাড়িটা আছে এটি মালগাড়ি, এটি মহিলাদের জন্য রিজার্ভ, এটি সেকেন্ড ক্লাস, এটি ফাস্ট ক্লাস, একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া। কিন্তু ইঞ্জিন একটি। মানে বইয়ের নাম একটি। গাড়িগুলো ভিন্ন। ‘সুভাষিত’ প্রায় তাই। ‘একা ও করুণা’ আরেকটি বই আমার। এটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে একটু ভিন্ন। একটু কাব্যনাটকের ফর্মে লেখা। তার ভেতর বাংলাদেশ আছে। বঙ্গবন্ধু আছে। গান্ধী আছে। পুলিশ আছে। চোর আছে। কিন্তু সব কিছুর নিয়ন্ত্রক দুইজন। সে কে? ‘একা’ একটি পুরুষচরিত্র। আর ‘করুণা’ একটি মেয়ে চরিত্র। এরা জীবনদর্শনের কথা বলছে। সৃষ্টির কথা বলছে। এরা কীভাবে এলো? এরা একদিকে থাকতো। একটি কাহিনিকে এভাবে কয়েকটি খণ্ডে জুড়ে দেওয়া। প্রতিটি খণ্ডের আগে কথামুখ আছে। আর প্রথম বই থেকে শেষ বই পর্যন্ত চল্লিশ বছরের ব্যবধান। এরা আমার পাঞ্চপাণ্ডব।

মাঝেমধ্যে অনেকেই আমাকে বলেছে লেখার বাঁক বদল করছি, মোড় ফেরাচ্ছি। এই বইগুলো কিন্তু মোড় ফেরানোর অংশ হিসেবে কাজ করেছি। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর কবিতার বই প্রকাশের ভেতর দিয়ে যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তা দিয়ে মহাকাব্য লিখতে পারবো না, সেই ক্ষমতা আমার নেই, এজন্য যে শক্তি বা মেধা দরকার বিবেচনা করি সেটাও আমার নেই। প্রয়োজনীয়তা মহাকাব্যের আছে কিনা তাও জানি না। তবে খণ্ড খণ্ড অংশের ভেতর যদি নিজেকে প্রকাশ করতে পারি, প্রকাশের অংশটুকু ছিন্ন করে ফেলে দিয়ে একটা অংশ নিলে বোঝা যায়, আবার সব একসঙ্গে করলেও বোঝা যায়- এই ভাবনা থেকেই এটি। মোদ্দাকথা, আমার পাণ্ডব সম্পর্কে আমার বলার অনেক, কিন্তু সব নির্ভর করবে পাঠকের গ্রহণযোগ্যতার উপর।

হারুন পাশা: আপনাকে আমরা ঔপন্যাসিক হিসেবেও দেখি। পদ্য এবং গদ্যের ফারাক আপনার কাছে বিষয়গুলো কেমন মনে হয়?

হাবীবুল্লাহ সিরাজী: পদ্য ও গদ্যের মাঝে যে ফারাকটি কাজ করে তা হলো- পেন্সিলকে পেন্সিল হিসেবে আপনি কখন চিহ্নিত করেন? একটি কাঠির ভেতরে একটি শিস ঢুকানো আছে, এটার কোনোরকম অর্থ দাঁড়ায় না। যখন আপনি কাঠিটি কেটে শিসটি বের করলেন তখন তাকে পেন্সিল বলে। আমি চিকন করে লিখবো তখন খুব মিহি করে কাটবো। যখন মোটা করে লিখবো তখন মোটা করে কাটবো। গদ্য এবং পদ্যের ভেতর আমার ফারাক হলো এই চিকন করে কাটা, না মোটা করে কাটা প্রয়োজনমতো। আমার গদ্য লেখার ব্যাপারটা পেন্সিল কাটার মতো। পদ্য লিখতে লিখতে একটুখানি গদ্য লেখার চেষ্টা করি। অতি সম্প্রতি আমি কিছু লেখালেখির চেষ্টা করেছি যাপিত জীবনের, আত্মজীবনী বা ভ্রমণ বিষয়ক।

বাংলায় একটি বাক্য লিখতে গেলে আমাদের সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণা দেয় ক্রিয়াপদ। তাকে কোথায় রাখি? যেমন, আপনি যখন প্রথম প্রথম বক্তৃতা দিতে ওঠেন তখন দুটি হাত কোথায় রাখবেন এ নিয়ে বড়ো বিপত্তি দেখা দেয়। হাত ঝুলিয়ে রাখবেন, না বুকে ভাঁজ করে রাখবেন? ক্রিয়াপদ এমনভাবে যন্ত্রণা দেয়। কিন্তু তাকে তো রাখতেই হবে। না রাখলে পরে বাক্য পূর্ণ হবে না। কোথায় রাখবো এই ব্যবহারটুকু শেখার জন্যই গদ্যে আসতে চেয়েছিলাম। কারণ ক্রিয়া পদ রাখার ব্যাপারটি কবিতায় এতো যন্ত্রণা দেয় না। ক্রিয়াপদ ব্যবহার না করেও আপনি কবিতা লিখতে পারবেন।

শুরুর দিকে আমি গল্প নয়, কাহিনি লেখার চিন্তা করেছিলাম। তারই অংশ হিসেবে দুই বছর আগে আমার একটি গল্প নামের গ্রন্থ বেরিয়েছে ‘আয় রে আমার গোলাপজাম’। যে কথাটি আমি বলতে চাই, গদ্যে সেই কথাটি বলা সহজ করে দিয়েছে, কেন জানি মনে হয় কবিতায় যতো আড়াল করে হোক কিংবা পরিষ্কার করে হোক বলতে পারি। গদ্যে বলতে পারি না।

লকডাউন: ষষ্ঠ দিনে ৪১৫ জনকে জরিমানা

কঠোর লকডাউনের ষষ্ঠ দিনে অকারণে ঘোরাঘুরি ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ৪১৫ জনকে জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার মঈন আলী বলেন, জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে অভিযানের সময় বিনামূল্যে মাস্ক এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তাদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধও করা হচ্ছে।

র‌্যাব জানায়, কঠোর লকডাউনে সারাদেশে ৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে র‌্যাব। ঢাকাসহ সারাদেশে ১৯১টি টহল ও ২০৭টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি চেকপোষ্টে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় এবং অকারণে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে এসব ব্যক্তিদের ২ লাখ ৩৭ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

লকডাউনের বাকি দিনগুলোতেও এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছে সৌদি আরব

দেশে পড়তে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফ্রি স্কলারশিপের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরবের কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

বৃত্তি আবেদনের জন্য কোনো ফি রাখা হয়নি। বিজ্ঞান, চারুকলা, মানবিক, ব্যবসায় প্রশাসন, প্রকৌশল ও কম্পিউটার প্রকৌশলসহ সব একাডেমিক প্রোগ্রামে বৃত্তি দেওয়া হবে। পিএইচডি করতে সময় লাগবে তিন বছর, স্নাতকোত্তর ডিগ্রির জন্য দুই বছর এবং স্নাতক প্রোগ্রামের জন্য চার বছর।

প্রস্তাবিত স্নাতক প্রোগ্রাম

হিসাবরক্ষণ, আরবি ভাষা, আর্কিটেকচার, ব্যবসা প্রশাসন, বায়োকেমিস্ট্রি, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, রাসায়নিক প্রকৌশল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান, অঙ্কন এবং শিল্প, পরিবেশ বিজ্ঞান, ইংরেজি ভাষা, অর্থনীতি, অর্থায়ন, ফরাসি ভাষা, ফ্যাশন ডিজাইন, ভূতত্ত্ব, ভূগোল, নগর পরিকল্পনা, সম্পদ এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন, ইতিহাস (ভ্রমণ গাইড), মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য ও হাসপাতাল পরিচালনা, জলবিদ্যুৎ সমীক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য পদ্ধতি, ইসলামিক আইন ও স্টাডিজ, শিল্প প্রকৌশল, অভ্যন্তরীণ নকশা, ভূদৃশ্য স্থাপত্য, আইন, বিপণন, মিডিয়াসহ আরও অনেক বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করতে পারবেন।

কিং আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি যেসব সুবিধা দেবে

১. বিমানের টিকিট (রিটার্নসহ)

২. পিএইচডি এবং মাস্টার পরীক্ষার্থীদের জন্য যথাক্রমে প্রায় ৪,০০০ রিয়েল এবং ৩,০০০ রিয়েল থিসিস প্রিন্টিং ভাতা।

৩. বই শিপিং ভাতা।

৪. খাবার ভাতা (প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে)।

৫. থাকার ব্যবস্থা।

৬. সব সফল প্রার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা।

৭. প্রস্তুতি ভাতা।

৮. মাসিক ভাতা।

বাদশাহ আব্দুল আজিজ বৃত্তির জন্য কিছু মানদণ্ড পূরণ করতে হবে

১. আবেদনকারীদের অবশ্যই একটি আকর্ষণীয় একাডেমিক রেকর্ড থাকতে হবে।

২.তাদের অবশ্যই আন্তর্জাতিক ছাত্র হতে হবে।

৩. তিন বছরের বেশি আগে অবশ্যই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্নাতক প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।

৪. আবেদনকারীদের বয়স ১৭-২৫ বছর হতে হবে।

৫. পিএইচডি প্রোগ্রামের আবেদনকারীদের অবশ্যই ৩০ বছরের কম বয়সী হতে হবে।

৬. তাদের অবশ্যই ভর্তির মানদণ্ড পূরণ করতে হবে।

৭. আরবি ভাষা, ইসলামিক আইন অধ্যয়ন, মনোবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞানের আবেদনকারীদের অবশ্যই আরবি ভাষায় দক্ষ হতে হবে।

আবেদনের শেষ তারিখ- ডিসেম্বর ৩১, ২০২১

আবেদন করতে ও বিস্তারিত জানতে- https://dsa-scholarships.kau.edu.sa/404.htm

শিক্ষার্থীদের রাতেই হল ছাড়া করেছে হাবিপ্রবি প্রশাসন

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) আবাসিক হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে রাতের মধ্যেই হল ছাড়া করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার (৫ জুলাই) রাতেই তাদের হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

নবনিযুক্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামানের মৌখিক নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই অবৈধভাবে হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা অবস্থান করায় সোমবার প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. খালেদ হোসেন ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মো. ইমরান পারভেজের নেতৃত্বে সন্ধ্যা থেকে হলগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় সব শিক্ষার্থীদের বের করে হলগুলো সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, বিভিন্ন সময়ে নোটিশ দিয়ে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী আদেশ অমান্য করে হলে অবস্থান করছে বলে আমরা জানতে পারি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা হলে অভিযান চালিয়েছি। যারা অবৈধভাবে হলে ছিল, তাদের বের করে দিয়ে হল সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. আবির জানান, সন্ধ্যার পরই অভিযান চালিয়ে হলে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাবিপ্রবির শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ শেখ রাসেল হলে দীর্ঘ দিন ধরেই প্রশাসনের আদেশ অমান্য করে বেশ কিছু শিক্ষার্থী অবস্থান করছিলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে করোনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং হলে অবস্থান না করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে হলে অবস্থানকারী এসব শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে পেরে রোববার ডিনদের সঙ্গে এক আলোচনা সভা শেষে নবনিযুক্ত উপাচার্য এবিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

৪০ দিনের মধ্যে বাইক ডেলিভারি দিচ্ছে আনন্দের বাজার

দেশে নতুন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘আনন্দের বাজার’। সম্প্রতি এই অনলাইন প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে দ্রুত মোটরবাইক ডেলিভারি দিয়ে ই-কমার্স সেক্টরে রেকর্ড গড়ে। আর তা নজর কাড়ে দেশের সকল অঞ্চলের মানুষের। আনন্দের বাজার-এর প্রতিশ্রুতি ছিল তারা ৪০ দিনের মধ্যেই মোটরবাইক ডেলিভারি করবে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মে আনন্দের বাজার ‘ইদ আনন্দের ঝড়’ ক্যাম্পেইনের ২য় দফায় ২৮ দিনে মোটরবাইক ডেলিভারি সম্পন্ন করে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪০ দিনের কম সময়ে মোটরবাইকের চাবি গ্রাহকদের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি।

সম্প্রতি ঢাকার তিনটি স্বনামধন্য মোটরবাইক শো-রুম থেকে গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় কাঙ্ক্ষিত মোটরবাইক। মোটরবাইক ডেলিভারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আনন্দের বাজার-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও এ এইচ খন্দকার (মিঠু) এবং হেড অব মার্কেটিং আতিক রহমান।

বাইক ডেলিভারি অনুষ্ঠানে আনন্দের বাজার-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এ এইচ খন্দকার (মিঠু) বলেন, আনন্দের বাজার সব সময় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। ‘ইদ আনন্দের ঝড়’ ক্যাম্পেইনে আমাদের প্রতিশ্রুতি ছিল ৪০ দিনের মধ্যেই আমরা সকল মোটরবাইক ডেলিভারি করব। আমরা আমাদের কথা রাখতে পেরেছি এবং ৪০ দিনের পূর্বেই বাইক ডেলিভারি করতে সফল হয়েছি। তিনি আরো বলেন, গ্রাহকের কাছে আস্থার আরেকটি নাম হচ্ছে ‘আনন্দের বাজার’।

প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং আতিক রহমান বলেন, ‘ইদ আনন্দের ঝড়’ ক্যাম্পেইনের সকল অর্ডারকৃত বাইকের ডেলিভারির তারিখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকল বাইক ৪০ দিনের মধ্যেই ডেলিভারি হবে। তাছাড়া বর্তমানে চলমান ক্যাম্পেইনের সকল বাইক ৪০ দিনের মধ্যেই ডেলিভারি করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুকজ্বালা এড়ানোর চার উপায়

আমাদের অনেকেরই মাঝেমধ্যে বুকজ্বালা হয়। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাবার খেলে, চর্বি/মসলাদার খাবার খেলে, খাবার খাওয়ার সময়সূচিতে পরিবর্তন আসলে ও কিছু ওষুধ সেবন করলে। এটাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়।

কিন্তু প্রতিসপ্তাহে দুইবার বা এর অধিক বুকজ্বালা করলে ধরে নিতে পারেন যে গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি/জার্ড) রয়েছে। জার্ড হলো এমন একটা অবস্থা যেখানে খাদ্যনালীর নিচের মাংসপেশি এত বেশি শিথিল হয় যে পাকস্থলি থেকে পরিপাক অম্ল উপরের দিকে ওঠে আসে, যার ফলে বুক জ্বলে। সময়ের আবর্তনে খাদ্যনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আলসার, স্কার টিস্যু (ধ্বংসপ্রাপ্ত টিস্যুর প্রতিস্থাপনে যে আবরণ সৃষ্টি হয়) ও ব্যারেট’স ইসোফ্যাগাসের মতো ক্যানসার-পূর্ব দশা হয়। এখানে বুকজ্বালা প্রতিরোধে কিছু কার্যকর উপায় সম্পর্কে বলা হলো।

উদ্দীপক খাবার কমিয়ে ফেলুন: যেসব খাবার খেলে বুকজ্বালা উদ্দীপ্ত হয় তা খাদ্যতালিকা থেকে কমানোর চেষ্টা করুন। বুকজ্বালার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু খাবার হচ্ছে- অম্লযুক্ত খাবার, চর্বিযুক্ত খাবার, মসলাদার খাবার, বুদবুদ ওঠে এমন পানীয়, অ্যালকোহল ও চকলেট। এছাড়া অন্যান্য খাবারও প্রভাবিত করতে পারে। থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটি হসপিটালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট অস্টিন চিয়াং বলেন, ‘খাবার সংবেদনশীলতা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি ভিন্ন হতে পারে।’ বুকে জ্বালাপোড়া অনুভব করলে উদ্দীপক খাবার শনাক্ত করতে কি কি খেয়েছেন তা লিখে ফেলুন। এবার প্রত্যেকটা খাবার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করলে নিজেই বুঝতে পারবেন যে আপনার বুকজ্বালার জন্য কোনটা উদ্দীপক খাবার।

অল্প খাবার খান: পেটপুরে খাবার খেলে পাকস্থলির অম্ল খাদ্যনালীতে ওঠে আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই খেতে বসলে অতিরিক্ত খাওয়ার লোভ সংবরণ করতে হবে। এছাড়া ধীরে ধীরে খেতে হবে, খাবারকে ভালোভাবে চাবাতে হবে ও পাকস্থলিকে খাবার হজমের জন্য সময় দিতে হবে। এই অভ্যাস ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ওজনে জার্ডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

খাবার খেয়েই ঘুম নয়: অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাওয়া মাত্রই ঘুমিয়ে পড়তেন তাদের মধ্যে বুকজ্বালার প্রবণতা বেশি ছিল। খাওয়ার পরপরই শুয়ে থাকলে পাকস্থলির অম্ল সহজেই খাদ্যনালীতে চলে আসতে পারে। তাই বিছানায় যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে খাবার খেয়ে নিন।

বিশ্রাম নিন ও শিথিল থাকুন: মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা এমনকিছু হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপনা যোগায় যা খাদ্যনালীকে জার্ডের উপসর্গের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে। শিথিলায়নের যে পদ্ধতি ভালো লাগে তা চর্চা করুন ও পর্যাপ্ত ঘুমান।গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের ঘাটতি জার্ডের উপসর্গকে তীব্র করতে পারে।