বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 744

সোনারগাঁওয়ে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরিদর্শনে এমপি খোকা

সোনারগাঁও উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকায় মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার গৃহহীনদের আশ্রয়ন প্রকল্পের নবনির্মিত সেমিপাকা ঘর সোমবার বিকেলে পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সভাপতি লিয়াকত হোসেন খোকা।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল জাব্বার, কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির প্রচার সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুম, মাহবুবুর রহমান কামাল, জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুর রহমান বাবু প্রমুখ।

সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা এ সময় আশ্রয়ন প্রকল্পের নবনির্মিত সেমিপাকা ঘরের কাজের গুনগত মান দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিটেমাটিহীন অসহায় মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য ঘর উপহার দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, হতদরিদ্র অনেক পরিবার প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আজ আনন্দে আত্মহারা। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। অনেক ভিটে মাটিহীন পরিবার উপহার হিসেবে সেমিপাকা নতুন ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাণখুলে আজ দোয়া করছেন।

গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে পুড়ল বসতঘর, আহত ২

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে দুটি বসতঘর পুড়ে গেছে।

সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বরইয়া গ্রামের দারবক্স ভূঁইয়া বাড়ির সুলতান আহম্মদের রান্না ঘর থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। এসময় আগুন থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রক্ষা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন দুজন।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- দারবক্স ভূঁইয়া বাড়ির সুলতান আহমদের ছেলে মিজানুর রহমান ও মোরশেদ আলম।

ক্ষতিগ্রস্ত মিজানুর রহমান বলেন, রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাগজপত্রসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এছাড়াও আমার দাদা সুলতান আহমদ ও চাচা মোরশেদ আলম আহত হয়েছেন। আগুনে কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।

ধারণা করা হচ্ছে, রান্না ঘরের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ইউরো জিতেছে কোন দল?

লন্ডনের ওয়েম্বলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা জিতেছে ইতালি।

সদ্য শেষ হওয়া ইউরোর ৫৩ বছর আগে ১৯৬৮ সালে শেষবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি।

তবে ১৯৬০ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত প্রথমবার ইউরো কাপের ফাইনালে উঠতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড।

প্রথমবারের মতো ইউরোর ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি তারা। রানার্সআপ হয়েই ইংলিশদের সন্তুষ্ঠ থাকতে হয়।

ইতালির মতো দুইবার ইউরো খেতাব জিতেছে ফ্রান্স। তারা ১৯৮৪ ও ২০০০ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়।

তবে সবচেয়ে বেশি তিনবার করে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জার্মানি ও স্পেন।

১৯৭২, ১৯৮০ ও ১৯৯৬ সালে ইউরোপ সেরা হয়েছিল চার বারের বিশ্বজয়ী দল জার্মানি। অন্যদিকে ১৯৬৪, ২০০৮ ও ২০১২ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।

একবার করে ইউরো কাপ জিতেছে রাশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, গ্রিস ও পর্তুগাল।

‘ইতালিয়ান ফুটবলের পুনর্জাগরণ’

লন্ডনের ওয়েম্বলিতে রোববার স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে ৩-২ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইউরো শিরোপা জিতেছে ইতালি।

এর আগে ১৯৬৮ সাল তথা ৫৩ বছর পূর্বে প্রথমবার ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি।

ইতালির এই জয়ে অনন্য অবদান রাখেন অভিজ্ঞ দুই সৈনিক কিয়েল্লিনি ও বোনুচ্চি।

খেলা শেষে বোনুচ্চি বলেন, এটা অবশ্যই ইতালিয়ান ফুটবলের পুনর্জাগরণ। আমি নিশ্চিত, এই দল ও কোচ সামনে অনেক খবরের শিরোনাম হবেন। আমরা স্পেশাল, কারণ যেদিন আমরা একসঙ্গে হয়েছি সেদিন থেকেই বিশ্বাস রেখেছি যে আমরা পারব।

৩৬ বছর বয়সী কিয়েল্লিনি বলেন, শিরোপা জয়ের পর আমি আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। এই সাফল্য আমাদের প্রাপ্য। এই বয়সে আমরা আরও বেশি করে বুঝতে পারি যে এরকম একটি ট্রফি জয়ের অর্থ কী।

তিনি আরও বলেন, মে মাস থেকেই আমরা বলাবলি করছিলাম, এবার যেন আবহই কেমন জাদুকরি, বাতাসেই কিছু যেন আছে। সময়ের সঙ্গে তা বেড়েছে। এবার অন্যরকম একটা আবহ ছিল। এটা অবিশ্বাস্য যে, দিনের পর দিন একসঙ্গে কাটিয়েও আমরা পরস্পরের সংস্পর্শে ক্লান্ত হইনি।

আর অপেক্ষা না করে স্কুল খুলে দিতে বলল ইউনিসেফ-ইউনেস্কো

টিকার জন্য আর অপেক্ষায় না থেকে অবিলম্বে স্কুল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো।

সোমবার ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর এবং ইউনেস্কোর মহাপরিচালক অড্রে অ্যাজুল এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

তারা বলেন, সংক্রমণ কবে শূন্যের কোঠায় নামবে, সেজন্য আর অপেক্ষায় থাকা যায় না। এটা প্রমাণিত যে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো সংক্রমণ ছড়াতে মুখ্য ভূমিকা রাখছে না। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উপযুক্ত কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি সামাল দেওয়া সম্ভব। স্কুল খুলে দেওয়া বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে এবং যে কমিউনিটিতে স্কুল অবস্থিত, সেখানকার মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুলে যেতে না পারার কারণে শিশু এবং তরুণ জনগোষ্ঠী যে ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তা হয়তো কখনোই পুষিয়ে নেওয়া যাবে না। শেখার ক্ষতি, মানসিক সংকট, সহিংসতা ও নির্যাতনের সম্মুখীন হওয়া থেকে শুরু করে স্কুলভিত্তিক খাবার ও টিকা না পাওয়া বা সামাজিক দক্ষতার বিকাশ কমে যাওয়া—শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাগত অর্জন এবং সামাজিক সম্পৃক্ততায় এর প্রভাব দেখা যাবে।

ইউনিসেফ ও ইউনেস্কো বলছে, বৈশ্বিক পর্যায়ে টিকার ঘাটতি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে। এ অবস্থায় টিকাদানের ক্ষেত্রে সম্মুখসারির কর্মী ও মারাত্মক অসুস্থ ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

এ পরিস্থিতিতে স্কুল খুলে দেওয়ার জন্য ‘সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে টিকা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা যায় না’ মন্তব্য করে বিবৃতিতে বলা হয়, স্কুলে প্রবেশের আগে টিকাদান বাধ্যতামূলক না করে সব স্কুলের উচিত যত দ্রুত সম্ভব ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে- সেই ব্যবস্থা করা।

করোনা মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাব্যবস্থা মেরামতে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার জাতিসংঘের উদ্যোগে বৈশ্বিক শিক্ষা বৈঠক নামে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দুই সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেস্কোও সেই বৈঠকে অংশ নেবে। তার আগের দিন সোমবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল সংস্থা দু’টি।

হঠাৎ খিঁচুনি থেকে রক্তবমি, জবি ছাত্রীর মৃত্যু

হঠাৎ খিচুনি দিয়ে রক্তবমি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু। রোববার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওই ছাত্রীর নাম রাহাত আরা রিমি (২০)। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর কাজী ফারুক হোসেন সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফারুক হোসেন বলেন, রিমি অসুস্থ ছিলেন। রোববার হঠাৎ তার খিঁচুনি ওঠে। সঙ্গে ছিল শ্বাসকষ্ট। এ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন। সেখান প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। পথে তার রক্ত বমি শুরু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রিমির সহপাঠীরা জানান, গতকাল রাতেই রিমির মরদেহ তার নানির বাড়ি বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে আজ সকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পর্তুগালে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিক্ষোভ সমাবেশ

পর্তুগালে অভিবাসীদের অধিকার আদায়ের সংগঠন সলিদারীদাদ ইমিগ্র্যান্টের উদ্যোগে এবং কাজা দো ব্রাজিল দে লিসবোয়া, অ্যাসোসিয়েশন অল্হো ভিবো, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের অনিয়মিত অভিবাসীদের দ্রুত নিয়মিত করার দাবিতে রোববার বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানী লিসবনের প্রাসা দো কমার্সিয়ো প্রাঙ্গণে বিকাল ৪টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতাধিক বিক্ষোভকারী একত্র হন। বিক্ষোভকারীরা আর অপেক্ষা নয়, সকলের জন্য রেসিডেন্ট কার্ড ইত্যাদি স্লোগান মুখরিত করে রাখেন। তারা পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের বর্তমান প্রচলিত নিয়মের প্রতি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন কেননা অনেকে এক থেকে দুই বছর যাবত অপেক্ষা করছেন অথচ কবে নাগাদ রেসিডেন্ট কার্ড পেতে পারেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে আয়োজকদের একজন মুখপাত্র জুলিয়েট ক্রিস্টিনা বলেন, বর্তমান মহামারির মাঝেও আমারা এই সমাবেশ করতে বাধ্য হচ্ছি, কারণ আমরা ক্লান্ত। আমরা শ্রমজীবী কোনো অপরাধী নই। আমরা সরকারকে ট্যাক্স প্রদান করি। সুতরাং আমাদের বিষয়টি খেয়াল করতে হবে। অ্যাপয়েনমেন্ট নেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে থাকা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, পর্তুগালে রেসিডেন্ট কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে জমা করতে হয়। অতঃপর ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিচার-বিবেচনা করে ইমেইলে অনুমোদন প্রদান করেন যা প্রায় বর্তমান সময়ে এক বছরের মতো লেগে যাচ্ছে কিন্তু সবচেয়ে অসন্তোষের বিষয় হচ্ছে ফাইল অনুমোদন এর পরেও পাওয়া যাচ্ছে না ইমিগ্রেশন এর অ্যাপোয়েন্টমেন্ট তথাপি উক্ত অ্যাপয়নমেন্ট নিয়ে রয়েছে এক ধরনের অনৈতিক অভিযোগও।
কেননা বছরে মাত্র তিন থেকে চারবার স্বল্প সময়ের জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট খোলা হয়ে থাকে তাই নির্দিষ্ট সময় না জানার কারণে অনেকের পক্ষেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সম্ভব হয় না।
বিক্ষোভকারীরা এ ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ক্রমান্বয়ে অতি দ্রুত সময়ে প্রয়োজনে অনলাইনের মাধ্যমে সকলের রেসিডেন্ট কার্ড প্রদানের আহ্বান জানান। দ্রুত সময়ে ফাইলের অনুমোদন এবং ইমেইল অনুমোদনের সময় থাকে নিয়মিত নাগরিক হিসেবে গণ্য করার আহ্বান জানান।
অবশ্যই ইতিমধ্যে পর্তুগিজ সরকারের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী এদোয়ার্দো কাব্রিতা ইতিপূর্বে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ধরনের দুর্নীতির বিষয় থাকলে তার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং স্বয়ংক্রিয় অ্যাপয়েন্টমেন্টের বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন। অপরদিকে বিভিন্ন অনিয়ম জটিলতার কারণে পর্তুগিজ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য ইতিমধ্যে পর্তুগিজ সংসদে অনুমোদন হয়েছে যা কার্যকর হলে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতার অবসান ঘটবে।

ঘরে ফিরল চীনের সেই দলছুট ভবঘুরে হাতি

গত বছর বসন্তকালে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমে শিশুয়াংবান্না ন্যাশনাল নেচার রিজার্ভ সংরক্ষিত অরণ্য এলাকা বেরিয়ে পড়া হাতির দলের মধ্য থেকে দলছুট এক হাতিকে আবার সেখানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অবশ্য তাদের দলের অন্য হাতিগুলো এখনো যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় দুই টন ওজনের ওই পুরুষ হাতিটি লোকালয়ের কাছে চলে যাওয়ায় মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই তাকে অজ্ঞান করে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই হাতির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না বলে ইউয়ান সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

ওই দলের অন্য হাতিরা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের যে জঙ্গলে মূল আস্তানা ছিল, সেখান থেকে তারা এখন দীর্ঘ প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ফেলেছে।

চীনের সঙ্গে মিয়ানমার ও লাওস সীমান্ত এলাকার কাছের সংরক্ষিত বন থেকে তারা চীনের উত্তর দিকে চলতে শুরু করে এবং গত কয়েক মাসে দেখা গেছে দেশটির বেশ কিছু গ্রাম, নগর ও শহরের মধ্যে দিয়ে তারা হেঁটে চলেছে।তাদের উপর নজর রাখছে প্রশাসন৷ কেন এই হাতির দল নিজেদের আবাস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে তা নিয়ে চলছে গবেষণা৷

স্যাটেলাইট ও টিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে তাদের যাত্রাপথের নানা ঘটনা। সম্প্রতি ওই হাতির দলের ঘুমিয়ে পড়ার ছবি নেটমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস যেভাবে এলো

প্রতি বছর ১১ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জনসংখ্যা দিবস। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে উত্থাপিত বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা। চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল দেশ।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘অধিকার ও পছন্দই মূল কথা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার প্রাধান্য পেলে কাঙ্ক্ষিত জন্মহারে সমাধান মেলে। বিধি-নিষেধ মেনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এরপর সারা বিশ্বের জনমানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি হয়। ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পরিষদ এই দিবসটি প্রতিষ্ঠা করে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা। যদিও জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা তৈরি দিবসটির মূল লক্ষ্য হলেও গত বছর থেকে তা পূরণ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, চলতি বছর ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার। এর মধ্যে নারী ৮ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার, পুরুষ ৮ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার।

এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত বছর প্রতি হাজার মানুষের মধ্যে ৫ দশমিক ১ জন মারা গেছে। তবে শিশু মৃত্যুহার অপরিবর্তিত আছে। বর্তমানে প্রতি হাজারে ২১ শিশু মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ১ দশমিক ৬৩ জন হয়েছে, যা আগের থেকে কমেছে। আগের বছর এই হার ছিল ১ দশমিক ৬৫ জন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী আরও জানা যায়, ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৮২ লাখ। দেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ৭২ বছর ৮ মাস। এর মধ্যে পুরুষের গড় আয়ু ৭১ বছর ২ মাস, নারীর ৭৪ বছর ৫ মাস। এর আগে ২০১৯ সালে দেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর ৬ মাস।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, দেশে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আগামী দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণপ্রধান দেশে পরিণত হতে পারে। এর ফলে অর্থনীতিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ বাংলাদেশে কমে আসছে। বাংলাদেশ প্রবীণপ্রবণ সমাজে পদার্পণ করবে ২০২৯ সাল নাগাদ। এরপর প্রবীণপ্রধান সমাজ হিসেবে পরিণত পাবে ২০৪৭ সালে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার কিছুটা কমে ১ দশমিক ৩০ জন হয়েছে। আগের বছর এ হার ছিল ১ দশমিক ৩২ জন। এই জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ গ্রামে আর ৪৫ শতাংশ শহরে বাস করছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে জন্মহার ছিল (প্রতি হাজারে) ১৮ দশমিক ১ জন।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, সাত বছর ও তার চেয়ে বেশি জনসংখ্যার শিক্ষার হার এখন ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ। আর ১৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী জনসংখ্যার শিক্ষার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযাযী, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৭০ কোটিতে পৌঁছায়। এটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ সালে ৮৫০ কোটি, ২০৫০ সালে ৯৭০ কোটি এবং এবং ২১০০ সালে গিয়ে ১০৯০ কোটিতে পোঁছাতে পারে বলে জাতিসংঘ অনুমান করছে।

২০৫০ সালের মধ্যে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, তার অর্ধেকের বেশি সংঘটিত হবে ৯টি দেশে; এগুলি হল ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিশর এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৭ সাল নাগাদ ভারত চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

জীবনের শ্রেষ্ঠ দশদিন

অর্থনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ হল, ‘দেয়ার ইজ নো সাচ এ থিং অ্যাজ এ ফ্রি লাঞ্চ’। সোজা বাংলায় যাকে বলে ‘কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হয়’।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর মু’মিন বান্দাদের পুরস্কারস্বরূপ বছরের দুইটি শ্রেষ্ঠ দিন দিয়েছেন। ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহা। আমরা সবাই একথা জানি যে ঈদ মানে আনন্দ এবং ঈদ মানে খুশি। আসলেই কি তাই? সবাই কি ঈদের দিন সেই আনন্দ ও খুশি হৃদয়ে অনুভব করি? এই আনন্দই বা কিসের আনন্দ? কোথায় এই খুশির উৎস?

এই খুশি বা আনন্দ হল- নিজের করা ইবাদাত কবুল হওয়ার আনন্দ! নিজের জানা-অজানায় করে ফেলা গোনাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার খুশি। তাই ঈদের সত্যিকারের খুশি পেতে হলে ইবাদাতের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।

কোরআনে উল্লেখিত প্রায় সব বিষয়ই হচ্ছে শর্ত সাপেক্ষ (Conditional)। অর্থাৎ প্রত্যেক কাজের ফলাফল (প্রতিক্রিয়া) তার ক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। চেকলিস্ট ফুলফিল করলেই কেবলমাত্র ফলাফল পাওয়া যাবে। এই সিস্টেমের ব্যতিক্রম একমাত্র আল্লাহ্‌র রহমত ও ক্ষমা, যা কিনা যাবতীয় শর্তের ঊর্ধে (unconditional)। তাহলে ঈদের দিনে মনে আনন্দ বা খুশি অনুভব করার পূর্বশর্ত কী?

মুসলিমদের জন্যে দুই ঈদ হলো মূলত ইবাদাতের দুই ভরা মৌসুম। ঈদ-উল-ফিতরের আগে রয়েছে বছরের শ্রেষ্ঠ দশ রাত। আর ঈদ-উল আযহার আগে রয়েছে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়- বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন।

ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যার আমল জিলহজ্জ মাসের এই দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়। সাহাবায়ে কিরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? রাসূলুল্লাহ বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে যুদ্ধে বের হল এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফেরত এলো না (তার কথা ভিন্ন)।’ [বুখারী : ৯৬৯; আবূ দাউদ : ২৪৪০; তিরমিযী : ৭৫৭]

রামাদান মাস যেমন বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাস তেমনি জিলহজ্জের এই দশদিন হচ্ছে বছরের শ্রেষ্ঠ দশ দিন। সকল মুফাসসির এ ব্যাপারে একমত যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনুল কারীমের সূরা ফাজরে যে দশ দিনের শপথ করেছেন তা জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন।

আমাদের কাছে জীবনের সেরা দিন কোনটি? কারো কাছে বাবা-মা হওয়ার দিনটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। আবার কারো কাছে গ্রাজুয়েট হওয়ার দিন কিংবা স্বপ্নের চাকরি প্রাপ্তির দিনটি তার জীবনের সেরা দিন। আর হাদীসে এসেছে, দুনিয়ার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশদিন হচ্ছে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিন! আর তাই বছরের শ্রেষ্ঠ এই দশ দিনের ইবাদাত আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভঃ ঈমান(কালেমা), নামায, যাকাত, রোজা, এবং হজ্জ। বছরে মাত্র একবার এই পাঁচটি ইবাদাতের চমৎকার সমন্বয় ঘটে কেবলমাত্র জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে। বছরের অন্যান্য দিনের মতো এই সময় আমাদের ঈমান থাকে। আবার অন্যান্য সময়ের মতো এই দশ দিন নামায ও যাকাত আদায় করা যায়। এছাড়া আরাফার দিনের বিশেষ রোজা ছাড়াও হাদিসে এই দশ দিনের প্রতিদিন রোজা রাখার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ রয়েছে। ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ্জ এই সময়েই আদায় করা হয়। কোরবানী আদায় করা হয় এই দশকে। অর্থাৎ ইসলামে বর্ণিত ইবাদাতের পাঁচটি স্তম্ভ ছাড়াও আরো অনেক ইবাদাত এই দশদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেজন্যেই আল্লাহর কাছে এই দশ দিনের মাহাত্ম্য অনেক বেশি।

রামাদানের শেষ দশ রাতে যেমন রয়েছে হাজার মাসের থেকেও উত্তম রজনী শবে-কদর। তেমনি, জিলহজ্জ মাসের দশ দিনের মধ্যে রয়েছে আরাফার দিন। যে দিন আল্লাহর কাছে থেকে ক্ষমা ও মাগফিরাত পাওয়ার দিন। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার দিন। জিলহজ্জ মাসের গুরুত্বের জন্যে এক আরাফার দিন থাকাই যথেষ্ঠ ছিল। সেই সাথে এই দশকেই আছে কোরবানীর দিন। একেবারে ইবাদাতে পরিপূর্ণ দশটি দিন।

আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এই দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই। তাই তোমরা এ সময়ে তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাকবীর (আল্লাহু আকবার) ও তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) বেশি বেশি করে পড়।” [মুসনাদ আমহদ : ১৩২; বাইহাকী, শুআবুল ঈমান : ৩৪৭৪; মুসনাদ আবী আওয়ানা : ৩০২৪]

বছরের শ্রেষ্ঠ দশদিনের মাস- ”জিলহজ্জ” বাংলাদেশে চলতি জুলাই মাসের ১১ তারিখ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) আজ রবিবার মাগরিবের পর থেকে শুরু হবে। এই দশদিন তওবা এবং দোয়া করার সুবর্ণ সময়। আমাদের উচিত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ এই ইবাদাতের মৌসুমকে স্বাগত জানাতে সুন্দর করে প্রস্তুতি নেয়া।

হাদীসে এই দশদিনের করণীয় ও বর্জনীয় ইবাদাত সম্পর্কে বিস্তারিত বলা আছে। এই দশদিনে একমাত্র বর্জনীয় কাজ হল- শরীরের চুল, লোম, এবং নখ না কাটা। বিশেষ করে যারা কোরবানী দিবেন। যাদের চুল, নখ কাটার প্রয়োজন জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার আগে কেটে নিলে উত্তম এবং খুব বেশি অপারগ না হলে এই ১০ দিন আর চুল, নখ কাটা যাবে না। হানাফি মাজহাব মতে যদি বড় হয়ে যায় তবে কাটতে পারেন।

সামর্থবানদের এই সময় হজ্জ এবং উমরা পালন করতে বলা হয়েছে।

যারা হজ্জ এবং উমরা পালন করতে পারবেন না তাদের উচিত এই শ্রেষ্ঠ দশদিনে যত বেশি সম্ভব রোজা রাখা। হাদিসে জিলহজ্জ মাসের এক তারিখ থেকে নয় তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে আরাফার দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। কেননা, আরাফার দিনের রোজা বিগত ও অনাগত দুই বছরের গুনাহের কাফফারা হিসেবে কবুল হয়ে থাকে।

এছাড়া, বছরের অন্যান্য সময় আমরা যেসব ইবাদাত করে থাকি, যেমন- পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা, যাকাত দেয়া, দান-সাদাকা করা ইত্যাদি ইবাদাত এই সময়ে আরো বেশি মনোযোগ ও সুন্দর করে করা। বিশেষ করে বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা এবং দোয়া করা। দোয়া কবুলের জন্যে এর চেয়ে ভালো দিন আর হয় না।

জিলহজ্জের প্রথম দশদিন ব্যাপকহারে তাকবীর পড়া সুন্নত। বিশেষভাবে আরাফা দিন ফজরের পর থেকে মিনার দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ যেদিন মিনায় পাথর নিক্ষেপ শেষ করবে সেদিন আসর পর্যন্ত প্রত্যেক সালাতের পর তাকবীর পাঠ করার জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তাকবীর হলঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”

জিলহজ্জ মাসের দশম দিনে সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্যে কুরবানী করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। সূরা আল- কাউসারের দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন, ‘আপনি আপনার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন ও কোরবানী করুন।’

বছরের অন্যান্য সময়ের মতো এই সময়ও গুনাহ থেকে দূরে থাকতে সদা সচেষ্ট থাকা উচিত। এসময় তওবা কবুলেরও শ্রেষ্ঠ সুযোগ। তাই এসময় বেশি বেশি করে নিজের জানা ও অজানায় করা গুনাহের জন্যে তওবা করা উচিত।

এছাড়াও, এই দশদিন বেশি বেশি করে কোরআন তেলাওয়াত করা উচিত। পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের হক আদায় করা, প্রতিবেশির হক আদায় করাসহ বেশি বেশি সৎ ও ভালো কাজ করা উচিত।

জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত আর রোজা আরম্ভ হবে আজ থেকে। বছরের শ্রেষ্ঠ এই ১০ দিনের আমল করার আগে খুব ভালো হয় যদি সবাই সূরা হাজ্জের অনুবাদ তাফসীরসহ পড়ে নেন। তাহলে এটা অনুধাবন করতে পারবেন- কী করছেন, আর কেনই বা করছেন?

এই সময়ে নবীদের পিতা, স্বয়ং আল্লাহ্‌ তায়ালার বন্ধু- হযরত ইব্রাহীম (আ.) সম্পর্কে জানার, পড়ার চেষ্টা করুন। যার করা প্রতিটি দোয়ার উত্তর হচ্ছে আজকের ইসলাম! কোরআনে বর্ণিত ইব্রাহীম (আ.) দোয়াগুলো নিয়ে চিন্তা করলেই দেখবেন মূলত তাঁর করা দোয়াগুলোর উত্তর হিসেবে ইসলামের বিধানসমূহ- নামায, হজ্জ আর কোরবানীর বিধান এসেছে। একটা মানুষ কেমন করে আল্লাহ্‌র এতো প্রিয় হলেন যে তাঁকে আল্লাহ্‌ নিজের বন্ধু করে নিলেন? আবার তাঁর করা সমস্ত দোয়াগুলোকে পরবর্তী জাতিদের (খ্রিস্টান, ইহুদী, মুসলিম) জন্য পালন করার বিধান হিসাবে কবুল করে নিলেন? জানতে হলে পড়তে হবে ইব্রাহীম (আ.) এর জীবনী আর তাঁর করা দোয়াগুলো।

“আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে কখনো (কোরবানির) গোশত ও রক্ত পৌঁছায় না। বরং তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়াটুকুই পৌঁছায়……।” [সূরা আল হাজ্জঃ ৩৭]

প্রশ্ন হল, তাকওয়া কী? তাকওয়া শব্দের অর্থ খোদাভীতি। এই শ্রেষ্ঠ দশদিনের ইবাদাত মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তায়ালাকে যেভাবে ভয় করা উচিত সেভাবে ভয় করার যোগ্যতা অর্জন করা উচিত। আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সবাইকে ইবাদাতের এই ভরা মৌসুমে তাঁর পছন্দের বান্দা হওয়ার সামর্থ্য দান করেন। আমীন।