রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 702

আবারো বিজ্ঞাপনে শাহেদ

একজন মডেল হিসেবেই মিডিয়ায় যাত্রা শুরু হয় শাহেদ শরীফ খানের। মডেলিংয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার সময়টাতে অভিনয়েও যুক্ত হন তিনি। এরপর অভিনেতা হিসেবেও জনপ্রিয়তা পান শাহেদ। করোনার কারণে দীর্ঘ সময় মডেলিংয়ে বিরতি ছিল তার। কয়েক মাস আগে থেকে সেই বিরতি ভেঙেছেন শাহেদ। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন একটি টিভি বিজ্ঞাপনে আবারো মডেল হচ্ছেন তিনি।

চলতি মাসেই এটির শুটিং শুরু করবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে শাহেদ বলেন, বিজ্ঞাপনে কাজ করতে সব সময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কারণ এ বিজ্ঞাপনের মডেলিংয়ের কারণেই সবাই আমাকে প্রথম চেনেন। তাই নাটক সিনেমার অভিনয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিজ্ঞাপনে মডেলিং করতে আমার কোনো অনাগ্রহ নেই। মডেলিং এবং অভিনয় এই দুই মাধ্যমেই নিয়মিত কাজ করে যেতে চাই আমি। এজন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

এদিকে রফিকুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনায় ‘এই মন পাবে শুধু কষ্ট’ নামের একটি ছবিতে বর্তমানে অভিনয় করছেন শাহেদ। এটির কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। ছবিটিতে তার সহশিল্পী মৌসুমী। এছাড়া ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘অন্তরা’ নামের আরেকটি ছবির কাজ শেষ করেছেন কিছুদিন আগে।

দুর্গাপূজায় কী থাকছে স্টুডিও জয়ার আয়োজনে

প্রতি বছরই শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিনোদন ভুবনের সংশ্লিষ্টরা বাহারি আয়োজন সাজায় দর্শক-শ্রোতাদের জন্য। কিন্তু এবারের পূজা কিছুটা অন্যরকম। কারণ মহামারির কারণে দীর্ঘদিন স্থবির হয়েছিল পুরো দেশ। অধিকাংশ মানুষ ঘরবন্দি ছিলেন।

এখন দেশের করোনা পরিস্থিতি উন্নতি দিকে, তাই আসছে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টুডিও জয়া নিয়ে এসেছে বেশ কিছু নতুন মৌলিক গান ও মিউজিক ভিডিও; যা ইতোমধ্যেই প্রকাশ পাচ্ছে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্টুডিও জয়ার অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল, অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ, ওয়েবসাইটসহ স্টুডিও জয়ার সব ডিজিটাল প্লাটফর্মে উন্মুক্ত করা হচ্ছে নতুন গান ও মিউজিক ভিডিওগুলো। প্রতিবারের মতো এবারো দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পীদের গান থাকছে স্টুডিও জয়ার ব্যানারে।

এবারের দুর্গাপূজায় স্টুডিও জয়ার আয়োজন সম্পর্কে এর কর্ণধার সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাজন সাহা বলেন, বাঙালি উৎসবপ্রিয় জাতি, বাঙালির প্রতিটি উৎসবেই স্টুডিও জয়া চেষ্টা করে দেশবরেণ্য প্রবীণ এবং তরুণ শিল্পীদের কণ্ঠে নতুন কিছু মৌলিক গান দর্শক শ্রোতাদের উপহার দিতে।

এবারের দুর্গাপূজায় নিয়ে আসা নতুন মৌলিক গানগুলোর মধ্যে থাকছে- বাপ্পা মজুমদারের ‘নীল মাছি’, নবীণ শিল্পী মৌসুমী মিমের ‘আকাশ ছুঁতে চাই’ ক্লোজআপ তারকা নোলক বাবুর ‘তোমার দেয়া কষ্ট’, প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসের ‘সন্ধ্যাতারা’, ইউসুফ রিয়াদের ‘এখনো তোমাকে ভালোবাসি’ ও সাইফ শুভর ‘বেহিসেবি মন’।

উল্লেখ্য, সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাজন সাহা ২০১২ সালে এ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু থেকেই দেশীয় শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরের নন্দিত সঙ্গীতশিল্পীসহ নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশেও অনন্য অবদান রেখে চলেছে স্টুডিও জয়া।

3
Shares
facebook sharing buttonmessenger sharing buttonwhatsapp sharing buttontwitter sharing buttonlinkedin sharing button

ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের বিশাল জয়

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিটা দারুণভাবে সাড়ল বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ ভেন্যু ওমান গিয়ে তিনদিন প্র্যাকটিস করার পর ওমান ‘এ’ দলের বিপক্ষে টাইগারদের ব্যাটিং প্র্যাকটিসটা বেশ ভালোই হলো।

ওমান ‘এ’ দলের বোলারদের বিপক্ষে হেসে খেলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২০৭ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ তুলে বাংলাদেশ।

অথচ মিরপুর ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মন্থর গতির উইকেটে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে রান খরায় ভুগছিলেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটাররা।

ওপেনিংয়ে লিটন দাস-নাঈম শেখ আশানুরূপ জুটি গড়তে পারেননি। এমনকি সাকিব-মুশফিকরাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।

তবে ওমানের মাটিতে স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটিংয়ে নিজেদের খুঁজে পেয়েছে টাইগাররা।

শুক্রবার ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওমান ‘এ’ দলের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ একাদশ । আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৭ রান করে টাইগাররা।

জবাবে ওমান ‘এ’ দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৭ রানের বেশি করতে পারেনি। এ রান তুলতে ৯ উইকেট হারিয়েছে তারা।

ফলে ৬০ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ একাদশ।

২০৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামলে ওমান ‘এ’দলের দুই ওপেনারকে শুরুতেই সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের বোলাররা।

রানের খাতা না খুলেই নাসুমের স্পিনে বিদায় নেন ওপেনার অক্ষয় প্যাটেল। পৃথ্বিবী কুমার মাচ্চি ১ রানে বিদায় করেন মেহেদি হাসান।

এরপর চমৎকার হাল ধরেন শোয়াইব খান। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট চালিয়ে যান। কিন্তু অপরপ্রান্তের ব্যাটাররা কেবল আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলেন।

মুশফিকের দারুণ থ্রোতে শোয়াইবের উইকেট ভেঙে দেন সোহান। ৩৯ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৩ রানে থামে শোয়াইবের ইনিংস।

রউফ আতাউল্লাহ করেন ১৯ রান, মেহরান খান করেন ১৯ রান। শেষদিকে দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন টেলএন্ডার রাফিউল্লাহ। মাত্র ১৪ বলে ৪ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ৩১ রান করেন তিনি।

তবে তাতে কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমানো গেছে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের পেসে রাফিউল্লাহ বোল্ড হয়ে গেলে সমাপ্তি ঘটে ওমান ‘এ’ দলের যুদ্ধের।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পেসার শরিফুল ইসলাম। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সাইফউদ্দিন দুর্দান্ত বল করেছেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। নাসুম, মেহেদী ও আফিফ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে নিজেদের ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন বাংলাদেশ দলের লিটন, নাঈম, সোহান ও শামীম। উদ্বোধনী জুটিতেই ১০১ রান এসেছে। শুরু থেকে আগ্রাসী হয়ে খেলে লিটন ও নাঈম। পাওয়ার-প্লের ৬ ওভারে এ জুটি জমা করে ৪৮ রান। ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন লিটন। ৩৩ বলে শ্রীভাস্তাভের বলে কট এন্ড বোল্ড হওয়ার আগে করেন ৫৩ রান। যেখানে ৬টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মার রয়েছে।

তবে নাঈমকে আউট করতে পারেননি ওমানের বোলাররা। সতীর্থদের সুযোগ করে দিতে ৬৩ রানের সময় স্বেচ্ছায় অবসরে যান তিনি।

সতীর্থরাও নাঈমকে সম্মান জানিয়েছে। দুর্দান্ত ব্যাট করেছেন নুরুল হাসান সোহান ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী।

তবে ওমানে শুরুটা ভালো হয়নি সৌম্য, মুশফিকের। সৌম্য সরকার (৮) মুশফিকুর রহিম (০), আফিফ হোসেন (৬) রান করেন।

৫৩ বলে ৩টি চার ২টি ছয়ের সাহায্যে ব্যক্তিগত ৬৩ রানের সময় স্বেচ্ছায় অবসরে যান ওপেনার নাঈম।

শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সোহান ও শামীম। সোহান ১৫ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। শামীম পাটোয়ারী করেন ১০ বলে ১৯ রান।

ওমান ‘এ’ দলের হয়ে আমির কলিম ও সামায় শ্রীভাস্তাভ ২টি করে উইকেট নেন।

২৩৫ রান করেও আইপিএলকে বিদায় জানালো মুম্বাই ইন্ডিয়ানস

প্রায় অসম্ভব এক সমীকরণ নিয়ে হায়দরাবাদের বিপক্ষে শুক্রবার মাঠে নামে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। আগে ব্যাট করে ১৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেই কেকেআরকে হটিয়ে শেষ চারে খেলা নিশ্চিত হবে। তবে পরে ব্যাট করলে প্লে অফের স্বপ্ন শেষ।

যে কারণে টসভাগ্যটাও ছিল ম্যাচ জয়ের মতো। টসে জিতে প্রথম বাধা অতিক্রম করে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব শুরু করেন ওপেনার ইশান কিশান। ১৬ বলে ফিফটি তুলে নেন এই তরুণ ওপেনার।

মাত্র ৩২ বলে ১১টি চার ও চারটি ছক্কায় ৮৪ রান করে ফেরেন তিনি।

এরপর ব্যাটিং সুরাইয়া কুমার যাদবের ব্যাটিং তাণ্ডব শুরু হয়। ৪০ বলে ১৩টি চার ও তিন ছক্কায় ৮২ রান করেন সুরাইয়া।

ইশান কিশান ও সুরাইয়া কুমার যাদবের কল্যাণে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান করে মুম্বাই।

আর এমন বিশাল স্কোর গড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ৪২ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে মুম্বাই। এমন দুর্দান্ত জয় মুখে হাসি ফোটাতে পারেনি মুম্বাই শিবিরে। বিশাল স্কোর গড়েও আইপিএল-২১ মিশনে সমাপ্তি টানতে হলো তাদের।

শেষ চারে আর ওঠা হলো না।

কারণ ২৩৫ রান জমা করার পর প্লে-অফ নিশ্চিত করতে হায়দরাবাদকে ৬৫ রানের মধ্যে বেধে ফেলার চ্যালেঞ্জ ছিল মুম্বাইয়ের সামনে । কিন্তু সেটা করতে পারেনি তারা।

২৩৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে হায়দরাবাদের দারুণ শুরু করে। জেসন রয় আর অভিষেক শর্মা মিলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন। অভিষেক ৩৩ এবং জেসন রয় করেন ৩৪ রান। মানিস পান্ডে ৪১ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন। মিডল অর্ডারে প্রিয়াম গার্গ করেন ২৯ রান। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রান করে হায়দরাবাদ।

এই জয়ে পয়েন্টে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সমান (১৪) হলেও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় প্লে-অফ নিশ্চিত করতে পারল না মুম্বাই।

আগেরদিন রাজস্থান রয়্যালসকে ৮৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েই এবারের আইপিএলের প্লে-অফ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলল সাকিবের কলকাতা।

বিয়ে হলেও লেখাপড়া ছাড়েনি তারা

করোনাভাইরাসের কারণে দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার সুযোগে দুই-একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া টাঙ্গাইলের প্রায় প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই বিয়ের পরও নিয়মিত ক্লাস করছে। অ্যাসাইনমেন্টও জমা দিচ্ছে।

দারিদ্র্যতা, পারিবারিক ও সামাজিক অসচেতনার কারণে এসব বাল্যবিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিল। এর মধ্যে ভালো ছেলে পেয়ে অনেকেই তাদের মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়নি। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তারা শিক্ষকদের কিছু জানাননি।

তবে বাল্যবিয়ের শিকার অনেক শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে এবং পড়াশোনা করছে। বাল্যবিয়ে বন্ধে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ এবং এর কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে পারলে বাল্যবিয়ের সংখ্যা কমে আসবে।

ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী লাবণী সরকার বলে- পরিবারের ইচ্ছার কারণেই আমাকে বিয়ে করতে হয়েছে। তারপরও পড়াশোনা বন্ধ করিনি। নিয়মিত বিদ্যালয়ে গিয়ে পড়াশোনা করছি।

একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী জেসমিন জানায়, বাবা না থাকায় এবং পারিবারিক আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মজীবী এক ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। তবে বিয়ের পর তার লেখাপড়া বন্ধ হয়নি বলে জানায় সে।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, তারা দরিদ্র মানুষ। ভালো পাত্র পেয়েছেন তাই তাদের মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন।

করোনাকালে জেলায় অন্তত পাঁচ হাজার ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হলেও শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী টাঙ্গাইলে এক হাজার ২৪২ জন বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। বেশি বাল্যবিবাহের সংখ্যা জেলা শিক্ষা অফিসকে জানালে স্কুলের সমস্যা হতে পারে মনে করে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাল্যবিবাহের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ৭৯৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং কলেজ রয়েছে। জেলার ১২টি উপজেলায় করোনাকালে ১ হাজার ২৪২ জন শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ৮৮ জন, সখিপুরে ১৪৩ জন, ঘাটাইলে ৪৯ জন, গোপালপুরে ৫৬ জন, ভূঞাপুরে ১৪ জন, কালিহাতীতে ২২৯ জন, দেলদুয়ারে ২২৮ জন, বাসাইলে ৪৪ জন, নাগরপুরে ১১৪ জন, মির্জাপুরে ৬ জন, মধুপুরে ১১৮ জন, ধনবাড়ীতে ১৫৩ জন।

শিক্ষা অফিস তথ্য অনুযায়ী সদর উপজেলায় ৮৮ জন দেখালেও এ উপজেলার চরাঞ্চলের হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ জন ছাত্রী, মগড়া উচ্চ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩০ জন, পাকুল্যা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২২ জন, চৌধুরী মালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৫ জন, খাস কাকুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হয়েছে।

এছাড়াও টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় আরও অর্ধশত স্কুল রয়েছে। অপরদিকে ভূঞাপুর উপজেলায় বাল্যবিয়ের শিকার ১৪ জন দেখালেও চরাঞ্চল গাবসারা ইউনিয়নের রায়ের বাসালিয়ার কুলসুম জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ জন, চরগাবসারা দাখিল মাদ্রাসার ৩০ জন, টেপিবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৫ জন, গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শ্রেণিতে ২৫ জন ও রুহুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে অন্তত ৪০ জন ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।

উপজেলার অন্যসব স্কুলের চিত্রও একই রকম। জেলার অন্যসব উপজেলার প্রতিটি স্কুলের চিত্র এ দুটি উপজেলার মতো হবে। তাতে জেলায় কয়েক হাজার ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।

হুগড়া হাবিব কাদের উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আল মামুন জানান, গত বছর মার্চে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনুপস্থিত ছাত্রীদের মধ্যে প্রায় ৬০ জনের বাল্যবিয়ে হয়েছে। স্কুলটি চরাঞ্চলে হওয়ায় এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রবণতা আগে থেকেই রয়েছে। বিদ্যালয় খোলা থাকলে শিক্ষকরা মিলে ছাত্রীর বিয়ের উদ্যোগ বন্ধ করতেন। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১৮ বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে না দিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। করোনায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাদের বাল্যবিয়ে ঠেকানো যায়নি।

হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান জানান, সবাই করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে বেশি ব্যস্ত ছিল। এ সুযোগে অনেক অসচেতন অভিভাবক তার নাবালক মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে এত বেশিসংখ্যক বিয়ে হতো না। স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও বাল্যবিয়ে বন্ধে ভূমিকা রাখতেন।

মানব প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক মানবাধিকার কর্মী মাহমুদা শেলী জানান, শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী জেলায় এক হাজারের অধিক ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে। বাল্যবিয়ের শিকার এসব ছাত্রীদের চিহ্নিত করে স্কুলে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়াও কমবয়সী মেয়েদের যারা বিয়ের রেজিস্ট্রি করিয়েছেন সেসব নিকাহ রেজিস্ট্রারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম বলেন, বাল্যবিয়ের শিকার শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়াও তাদের গরমিল হিসাবের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ তিনি বলতে পারেননি।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সবাই ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে চরাঞ্চলের অসচেতন অভিভাবকরা স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের বিয়ে দিয়েছে, যা দুঃখজনক। তবে ওই সব শিক্ষার্থী যাতে আবার ক্লাসে আসতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হবে। বাল্যবিয়ের কুফলসহ প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক সভা করা হবে।

 

বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে গেলেন বর

ধুমধামে চলছে বিয়ের কাজ। বরসহ বর পক্ষও এসে গেছে। এমন সময় বিয়ের আসর ছেড়ে পালিয়ে গেলেন বর। শুক্রবার দুপুরে এমন ঘটনা ঘটেছে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায়।

ইন্দুরকানীতে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সেউতিবাড়ীয়া গ্রামের মোস্তাফা খলিফার মেয়ে খেজুরতলা এস দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়মের (১৪) বিয়ের আয়োজন করা হয়। ভুয়া জন্মনিবন্ধন করে ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হচ্ছিল।

এই সংবাদ পেয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার লুৎফুন্নেসা খানম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন বরসহ ছেলে পক্ষ পালিয়ে যায়। পরে মেয়েকে বাল্য বিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মেয়ের বাবাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং বিবাহের সব অনুষ্ঠান ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার লুৎফুন্নেসা খানম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বরপক্ষ পালিয়ে যায়। পরে মেয়েপক্ষকে বাল্যবিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে।

টিভি পর্দায় নারীদের চা ঢেলে দিতে পারবেন না পুরুষরা

টেলিভিশনের পর্দায় নারীদের পিজ্জা খাওয়ার দৃশ্য প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইরান। একইসঙ্গে নারীদের লাল রঙের কোমল পানীয় আর স্যান্ডউইচ খাওয়ার দৃশ্যও প্রদর্শন করা যাবে না বলে নীতিমালা জারি করেছে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)।

অবশ্য পুরুষদের জন্যও আছে নিষেধাজ্ঞা। পুরুষরা কর্মক্ষেত্রে নারীদের চা ঢেলে দিচ্ছেন এমন দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় প্রদর্শন করা যাবে না বলে নাট্যনির্মাতাদের নির্দেশনা দিয়েছে আইআরআইবি। এছাড়া নারীরা লেদারের গ্লাভস পরতে পারবেন না বলেও আইআরআইবির নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে।

এছাড়া ঘরোয়া পরিবেশে নারী-পুরুষরা একত্রে সমবেশ হয়েছে এমন ছবি বা দৃশ্য প্রচারের আগে আইআরআইবির কাছ থেকে ছাড়পত্র নিতে হবে বলে নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে।

দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এরই মধ্যে চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন ও নাট্য নির্মাতাদের এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছেন বলে ইরানের একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মুঘল আমলের হীরা-পান্নার চশমার দাম ২৯ কোটি!

মুঘল আমলের চশমার দাম ধরা হয়েছে ২৯ কোটি টাকা! এতো পুরোনো চশমার এতো দাম শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ চশমার ফ্রেমে রয়েছে হীরা ও পান্নার মতো দামি পাথর।

ভারতের নাম না জানা এক রাজকীয় কোষাগারে হীরা ও পান্না দিয়ে বানানো চশমা দুটি পাওয়া গেছে। চশমা দুটিকে চলতি মাসের শেষদিকে লন্ডনে নিলামে তোলা হচ্ছে।

চশমাগুলোতে হীরা ও পান্নার মুঘল আমলের ফ্রেমগুলোর সঙ্গে যে লেন্সগুলো আছে তা ১৮৯০ সালের কাছাকাছি সময়ে লাগানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিলাম সংস্থা সথেবি’স।

নিলামে চশমা দুটির প্রত্যেকটির দাম ২০ লাখ থেকে শুরু করে ৩৪ লাখ (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৯ কোটি টাকার বেশি) ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

নিলামের তোলার আগে অক্টোবরে চশমা দুটি হংকং ও লন্ডনে প্রদর্শিত হবে।

চশমাগুলো মুঘল আমলে বানানো বলে ধরে নেওয়া হলেও, কোন সম্রাটের শাসনামলে বানানো হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মুঘলরা ষোড়শ ও সপ্তদশ শতকে ভারত শাসন করেছিল। মুঘল শাসকরা শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্টপোষক ও অনন্য স্থাপত্য কৌশলের জন্য পরিচিত ছিল।

এ ধরনের চশমা বিশ্বে বিরল বলে সথেবি’স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। একটি চশমার দুটি লেন্সই বানানো হয়েছে আস্ত একটি হীরা কেটে। হীরাটি ভারতের গোলকন্ডার খনিতে পাওয়া গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর অশ্রুবিন্দু আকৃতির পান্নার চশমাটি তৈরি হয়েছে আস্ত একটি প্রাকৃতিক কলম্বিয়ান পান্না থেকে। পান্নার চশমাটির নাম গেইট অব প্যারাডাইস বা স্বর্গের দরজা, আর হীরারটির নাম হালো অব লাইট বা আলোর দীপ্তি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রত্নগুলোর মান ও বিশুদ্ধতা এবং আকৃতি দেখে সন্দেহের অবকাশ নেই যে, চশমাগুলো কোনো সম্রাটের রাজকোষেই ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ চশমার লেন্সের কাজ দৃষ্টিশক্তি বাড়ানো। তবে এই চশমার লেন্সগুলোর আধ্যাত্মিক শক্তি ছিল বলে বিশ্বাস করা হতো। হীরার চশমার আলোচিত করার শক্তি ছিল আর পান্নার চশমার খারাপ বিষয়গুলোকে দূর করার শক্তি ছিল বলে সে সময় ধারণা করা হতো।

 

কর্মসংস্থানের গতি শ্লথ কমেছে বিনিয়োগ

গত প্রায় দেড় বছর ধরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে শ্রমের বাজারে নতুন আসা কর্মীদের যেমন চাকরির সংস্থান হয়নি, তেমনি আগের চাকরিজীবীদের অনেকে কর্মচ্যুত হয়েছেন।

সব মিলিয়ে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ লাখ। এদের কর্মসংস্থানের জন্য যেভাবে বিনিয়োগ দরকার সেভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না। চাঙ্গা হচ্ছে না বেসরকারি খাতও।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম খান বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো হচ্ছে, প্রবাসীদের ঋণ দেওয়া হচ্ছে। শিল্প, কৃষি ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ বাড়ানো হচ্ছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আগামী জুনের মধ্যেই যারা চাকরি হারিয়েছেন তারা আগের কাজ ফিরে পাবেন। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানও স্বাভাবিক মাত্রায় হতে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কর্মসংস্থান বাড়ানোর নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যেই অর্থনীতিতে আরও গতি বাড়বে। ইতোমধ্যে অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে আমদানি, রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব সব খাতেই পড়বে।

গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংক সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনার কারণে অর্থনীতি যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। করোনার আর যদি নতুন কোনো আঘাত না আসে তবে ২০২৩ সালের মধ্যে অর্থনীতি গতিশীল হবে। এর আগে হবে না। আর নতুন করে করোনার আঘাত এলে অর্থনীতিতে গতি আসতে আরও বেশি সময় লাগবে। কেননা বেসরকারি খাত এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বাণিজ্য ও সেবা খাত স্বল্প পরিসরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। মৌলিক শিল্প খাতে এখনো আস্থাহীনতা বিদ্যমান। কেননা, করোনায় যেভাবে মানুষের আয় কমেছে, এখন তা বেড়ে আগের পর্যায়ে যায়নি।

সরকার করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে দুই দফায় প্রণোদনা প্যাকেজের আকার বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা করেছে। প্রণোদনার কারণে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত ৩ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় যেভাবে অর্থনীতিতে আঘাত আনার কথা সেভাবে আনতে পারেনি। সরকারের বহুমুখী তৎপরতার মাধ্যমে একদিকে যেমন শিল্প ও কৃষি খাতে কম সুদে ও সহজ শর্তে চলতি মূলধন, মেয়াদি ঋণের জোগান দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে অর্থের প্রবাহ বাড়িয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। তবে করোনাকালীন সময়ে নতুন বিনিয়োগ কম হয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বেশি কর্মসংস্থান হয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। সরকার এখন পর্যন্ত বড়দের নিয়েই বেশি কাজ করছে। কিন্তু ছোটরা ঋণ পাচ্ছে না। তাদের জন্য তহবিল বরাদ্দ করা হলেও তারা ব্যাংকে পৌঁছতে পারছে না। ছোট খাতকে ঋণ দিয়ে চাঙ্গা করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব সব খাতে পড়বে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট জনশক্তি ১৬ কোটি ৮২ লাখ। এর মধ্যে কর্ম উপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ৬ কোটি ৮ লাখ মানুষ। বাকি ৪ কোটি ১১ লাখ কর্মের বাইরে রয়েছেন। যারা কর্মে আছেন, তাদের মধ্যে কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত ২ কোটি ৪৭ লাখ। এদের বেশির ভাগই সারা বছর কাজ পান না।

শিল্পে নিয়োজিত ১ কোটি ২৪ লাখ এবং সেবা খাতে নিয়োজিত ২ কোটি ৩৭ লাখ। করোনার এই তিনটি খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি খাতের শ্রমিকরা নিজ কর্মে মৌসুমি ভিত্তিতে ফিরে যেতে পারলে সেবা ও শিল্প খাতের কর্মীরা সবাই কাজে ফিরে যেতে পারেননি।

বিভিন্ন সংখ্যার জরিপে বলা হয়েছে, বড় শিল্প ও সেবা খাতে কাজ সংখ্যা কম হলেও কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, ও মাঝারি শিল্প খাতের প্রায় ৩৬ শতাংশ কর্মী কাজ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ কাজে ফিরে যেতে পেরেছেন। বাকি ১৮ শতাংশ এখনো কাজ ফিরে পাননি।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মতে, বাংলাদেশে করোনায় ১৬ লাখ ৭৫ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন।

বিবিএসের হিসাবে প্রতি বছর গড়ে শ্রমের বাজারে যুক্ত হচ্ছে ২৪ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ। এ হিসাবে গড়ে দেড় বছরে শ্রমের বাজারে নতুন এসেছেন সাড়ে ৩৬ লাখ কর্মী। যাদের বেশির ভাগের পক্ষেই কর্মের সংস্থান করা সম্ভব হয়নি। কেননা করোনার কারণে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ যেমন কম হয়েছে, তেমনি সেরকারি খাতে নিয়োগ হয়নি বললেই চলে। ফলে ওই সাড়ে ৩৬ লাখের বেশির ভাগই বেকার। এছাড়া নতুন করে কাজ হারানোর তালিকায় আছেন ১৬ লাখ ৭৫ হাজার। এ দুটি মিলে শুধু করোনাকালীন সময়ে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩ লাখ।

বিবিএসের হিসাবে প্রতি বছর কর্মের বাজারে আসে ২৪ লাখের বেশি কর্মী। এর মধ্যে কাজের সংস্থান করতে পারেন মাত্র ৬ লাখ কর্মী। বাকি ১৮ লাখের মধ্যে কিছু নিজ উদ্যোগে ব্যবসাবাণিজ্য করেন। বাকিদের সামান্য অংশ বিদেশে যায়। আর সবই বেকার থাকে। এভাবে প্রতি বছরই বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এ হিসাবে দেশে বেকারের সংখ্যা ৩ থেকে সাড়ে ৩ কোটির বেশি হবে।

আইএলও এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি। করোনার কারণে তা দ্বিগুণ হয়ে ৬ কোটিতে দাঁড়াতে পারে। কেননা আগামী ২০২৩ সাল পর্যন্ত কাজের বাজারে করোনার প্রভাব থাকবে। এর মধ্যে নতুন কাজ মিলবে খুবই কম। বরং কাজ হারানোর সংখ্যা আরও বাড়বে। কমবে নতুন কর্মসংস্থানের হার। বাড়বে দারিদ্র্য।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিআইডিএস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক পাশ করা শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি জরিপ করে। গত ১০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বেকার। ৭ শতাংশ অন্য শিক্ষা নিচ্ছেন। ৩ শতাংশ নিজ উদ্যোগে কিছু করছেন। গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত তাদের অপর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণদের ৩৩ দশমিক ১৯ শতাংশই বেকার।

বিবিএসের জরিপেও দেখা যায়, দেশে স্নাতক বেকারের সংখ্যা বেড়েছে। এটি করোনার আগে থেকেই। করোনার কারণে এ খাতে এ খাতে বেকারত্ন আরও বেড়েছে। ২০১৫ সালে স্নাতক বেকার ছিল ৩২ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে বেড়ে ৩৯ শতাংশে, ২০১৭ সালে ৪১ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৪৩ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে এ হার আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ শতাংশে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, করোনার কারণে এখন এ হার ৮০ শতাংশের কাছাকাছি হবে।

বিবিএএসের তথ্য থেকে জানা যায়, প্রতি বছর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলে গড়ে সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষার্থী কর্মের বাজারে আসে।

বিশ্বব্যাংক সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, করোনার কারণে দেশের অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত ৩৭ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশের মোট জিডিপি প্রায় ২০ শতাংশ আসে এসএমই খাত থেকে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের জরিপে বলা হয়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আগে গত মার্চে নতুন দরিদ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ। অর্থাৎ তাদের বাসস্থান, খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার সামর্থ্য কমেছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে মানুষের সংখ্যা ২০১৯ সালে ছিল ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। করোনার কারণে এ হার বেড়ে প্রায় ৪১ শতাংশে চলে যাবে। কাজ হারানো, নতুন কাজের সংস্থান না হওয়া ও আয় কমার কারণে এমনটি হবে।

করোনার ক্ষতি মোকাবিলা করে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ হচ্ছে বেসরকারি খাতে, বাকি ২০ শতাংশ সরকারি খাতে। এ কারণে বেসরকারি খাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য মুদ্রানীতিতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাড়ছে না। শিল্প খাতে মেয়াদি ঋণের হার কমেছে ৬০ শতাংশ। বিদেশি বিনিয়োগ অর্থবছরে কমলেও চলতি অর্থবছরের জুলাই বেড়েছে ৯ কোটি ডলার।

তবে বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ না বাড়ায় ঋণের চাহিদা বাড়ছে না। এতে নতুন কর্মসংস্থানের গতিও শ্লথ হয়ে পড়েছে। এ খাতে গতি আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন উদ্যোক্তা চিহ্নিত করে তাদেরকে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত ১৭২ জন নিয়ে বিপাকে বরিশাল ছাত্রদল

কেউ থাকেন বিদেশে, আবার কেউবা অন্য জেলায়। চাকরির সুবাদে বেশ কয়েকজন বউ-বাচ্চা নিয়ে বহু বছর ধরে ঢাকায় থাকেন। ছাত্রলীগের কমিটিতেও কারো কারো নাম আছে। বরিশাল জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে ঢুকে পড়া এমন ১৭২ জনকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে ছাত্রদল।

গুরুত্বপূর্ণ পদে কি করে তারা ঢুকে পড়লেন এর কোনো ব্যাখ্যা কোথাও মিলছে না। ত্যাগী নেতাদের মধ্যে অনেকের বাদপড়া নিয়ে জবাবদিহি করতে ঘাম ছুটে যাওয়ার দশা স্থানীয় ছাত্রদল নেতাদের।

জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ‘টিম লিডারের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় এক নেতাসহ কয়েকজনের ঘুস বাণিজ্যে এমন ঘটনা ঘটে। বিপুল অর্থের বিনিময়ে জেলা কমিটিতে বিতর্কিত লোকজনকে ঢোকানো হয়েছে। এক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। বিষয়টি জানলেও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছুই বলতে পারছি না আমরা। কেননা কেন্দ্রীয় নেতাদের ক্ষেপিয়ে দলের রাজনীতিতে উপরে উঠা বা টিকে থাকা মুশকিল।

জানা গেছে, লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে বাধ্য হয়ে ১৭২ জনের তালিকা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের আশা শেষ পর্যন্ত তিনিই দেবেন এ সমস্যার সমাধান।

২০১৮ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। পাঁচ নেতার কমিটিকে জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অবশ্য করোনাভাইরাস মহামারিসহ নানা কারণে কমিটি গঠনের কার্যক্রম পিছিয়ে যায়। মাস ছয়েক আগে হঠাৎ বরিশাল জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য চিঠি পাঠায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৩১ সদস্যের কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়।

সপ্তাহ দেড়েক আগে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪৮৭ জন দেখা যায়। এ বিশাল কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। বরিশাল থেকে পাঠানো ৩৩১ জনের তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন বেশ কয়েকজন। আর কেন্দ্রের অনুমোদিত কমিটির ৪৮৭ জনের মধ্যে ১৭২ জনের নাম বরিশাল থেকে পাঠানো হয়নি।

দেখা গেছে- এ ১৭২ জনের মধ্যে ২১ জনকে সহ-সভাপতি, ৫৪ জনকে যুগ্ম সম্পাদক, ৩৭ জনকে সহ-সাধারণ সম্পাদক, ৩২ জনকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৯ জনকে সহ-সম্পাদক এবং ১৪ জনকে সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল আহসান বলেন, আমরা ৩৩১ জনের কমিটির প্রস্তাব পাঠিয়েছি। গত মাসে কেন্দ্র থেকে অনুমোদন হয়ে আসার পর দেখি মোট সদস্য সংখ্যা ৪৮৭। তাদের মধ্যে অনেককেই আমরা চিনি না। অনেকে আবার কখনোই ছাত্রদলে সক্রিয় ছিলেন না। তাদের মধ্যে এমন লোকজনও আছেন যারা বছরের পর বছর ঢাকা কিংবা বিদেশে থাকেন। তাদের নাম কি করে কমিটিতে এলো তা কেন্দ্রীয় নেতারাই ভালো বলতে পারবেন।

৪৮৭ জনের বিশাল কমিটিতে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়া নেতাদের মধ্যে সাইমন আহম্মেদ কালুর বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। অথচ তাকে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

একইভাবে ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনকে বরিশাল জেলার সহ-সভাপতি পদ দেয়া হয়েছে। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া জাহিদুল ইসলামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় হলেও তিনি বহু বছর ধরে আমেরিকাপ্রবাসী। হিজলা উপজেলার বাসিন্দা সহসাংগঠনিক সম্পাদক পদ পাওয়া আনোয়ার হোসেন চাকরি সূত্রে আছেন মালয়েশিয়ায়। সহ-সভাপতি পদ পাওয়া একই উপজেলার নূর হোসেনও থাকেন সেখানেই।

সিংগাপুরপ্রবাসী গাজী কামালকে সহ-সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। শুধু তারাই নন, ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা নেতাকেও জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। এরকম একজন সদস্য হলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সদস্য মাহফুজুর রহমান। আল নাহিয়ান জয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি হলে বাবুগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।

বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ মল্লিককে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য সচিব এসএম আরাফাতকে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক লেলিন খান মোর্শেদ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির পদ পেয়েছেন। এছাড়া পদপদবি পাওয়া অন্তত ৩-৪ ডজন আছেন যারা সংসার এবং চাকরির সুবাদে বহু বছর ধরে রাজধানীর বাসিন্দা।

জেলা ছাত্রদলের একাধিক নেতা যুগান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পি কমিটি গঠনের দায়িত্বে ছিলেন। টিম লিডার হিসাবে তিনিই মূলত কমিটি গঠনের পুরো বিষয়টি দেখভাল করেন। যতদূর জানি, বরিশাল থেকে পাঠানো কমিটিতে যাদের নাম ছিল না তারা বাপ্পির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক্ষেত্রে নানা অনৈতিক লেনদেনের বিষয়ও আমাদের কানে আসে। পরে দেখি ৪৮৭ সদস্যের বিশাল কমিটি। যেখানকার অনেককে আমরা চিনি না। বরিশাল থেকে পাঠানো কমিটিতে তাদের নাম ছিল না। বিশেষ কিছুর বিনিময় ছাড়া এভাবে গণহারে কমিটিতে ঢোকা অসম্ভব। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত আমরা।

বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাহফুজুল আলম মিঠু বলেন, কমিটি ঘোষণার পর খুব বিস্মিত হয়েছি। অনুমোদন দেওয়ার আগে জেলা নেতাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও করা হয়নি। এমন অনেকে কমিটিতে এসেছেন যারা নানাভাবে বিতর্কিত। মাদক ব্যবসায়ী আর ধর্ষণে অভিযুক্তরাও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছে।

মাহফুজুল মিঠু আরও বলেন, আমাদের পাঠানো কমিটির যাচাই-বাছাইকালে আমরা নানাভাবে কেন্দ্রকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। বিতর্কিত কাউকে কমিটিতে রাখার ব্যাপারে লবিং-তদবির কথা শোনামাত্র তাদের সম্পর্কে কেন্দ্রে আমরা বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছি। এমনকি অভিযোগের সাপোর্টিং ডকুমেন্টসও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও কি করে ১৭২ জন পদপদবি পেল তা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানোর পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হয়েছে। ১৭২ জনের পুরো তালিকা তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের মোবাইল ফোনে বহুবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি এবং খুদে বার্তারও সাড়া দেননি। সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল ফোন ব্যাক করার কথা বললেও তা করেননি। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদুল হাসান বাপ্পির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।