সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 680

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই দল ছাড়লেন জয়াবর্ধনে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বের আগে দাপট দেখিয়েছে শ্রীলংকা।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৭৭ বল বাকি থাকতেই জয় পেয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করেছে কুশল পেরেরার দল।

আগামী ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মূলপর্বের লড়াই শুরু করবে শ্রীলংকা।

আর এর আগেই দল ছাড়ছেন শ্রীলংকা দলের পরামর্শদাতা মাহেলা জয়াবর্ধনে।

দীর্ঘ কয়েক মাস জৈববলয়ে থাকায় ক্লান্ত হয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ২০০৭ বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

জয়াবর্ধনে দলের অনেক আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দ্য হান্ড্রেডে সাদার্ন ব্রেভের কোচের দায়িত্ব পালনের কারণে বহুদিন ধরে দেশের বাইরে তিনি।

বেশ কয়েক মাস ধরে নিজের দেশ ও পরিবারকে মিস করছেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্রীলংকান কিংবদন্তি জানান, ‘এটা ভীষণ কষ্টকর। হিসাব করে দেখলাম জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৫ দিন আমি জৈববলয় এবং নিভৃতবাসে কাটিয়েছি, আমি ক্লান্ত। তবে ওদের (শ্রীলংকা দল) বিষয়টাও আমি বুঝতে পারছি। ওদের জানিয়েছি যে, বর্তমানে যে প্রযুক্তি রয়েছে তাতে যোগাযোগ করা অসম্ভব কিছু নয়। একজন বাবা হিসাবে নিজের মেয়ের সঙ্গে এতদিন দেখা না করার যন্ত্রণা আশা করছি সবাই বুঝতে পারবে। আমার বাড়ি ফেরাটা জরুরি।’

২৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ খেলবে বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভে

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৬ দলের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে নামিবিয়ার অবস্থান সবার পেছনে। ১৯তম দল তারা।

কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে র‌্যাংকিংকে কেবল সংখ্যায় পরিণত করেছে দলটি। ক্রিকেটের সব হিসাব-নিকাশ পালটে দিয়ে নতুন ইতিহাস লিখল আফ্রিকার দেশটি।

প্রথমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে এসেই টানা দুই ম্যাচে নেদারল্যান্ডস ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিল সুপার টুয়েলভ পর্বে।

কৌতূহল জাগতেই পারে, ক্রিকেটকে কতটা ভালোবাসে নামিবিয়ার জনগণ? তাদের ক্রিকেট ফ্যান কত? নিশ্চয়ই এ সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে!

কিন্ত না, সমর্থকদের সংখ্যা কোটি ছাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। কারণ দেশটির জনসংখ্যাই ২৫ লাখের বেশি নয়। সে অর্থে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার চার ভাগের একভাগও না। ক্রিকেটও খেলে অল্প কিছু মানুষ সেখানে। খেলাটির পেছনে তেমন একটা অর্থ খরচ করে না দেশটি। কিন্তু প্রথম পর্বের বাধা পেরিয়ে আফ্রিকার সেই দেশটিই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল।

শুক্রবার শারজাহে টেস্ট খেলুড়ে আইরিশদের ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশটি।

ম্যাচ শেষে নামিবিয়া অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাসের গর্বিত উচ্চারণ, ‘আমরা খুব ছোট দেশ, ক্রিকেট খেলা মানুষের সংখ্যা আরও কম। নিজেদের নিয়ে আমরা গর্ব করতেই পারি।’

এমন নামিবিয়া দেখে বিস্মিত ক্রিকেটপ্রেমীরা। ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপে নাকাল হয়ে বিদায় নেয়া দেশটির এতোটা উন্নতি!

ওই বিশ্বকাপে একটা লজ্জার রেকর্ড আছে নামিবিয়ার। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল দলটি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে যা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ওই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাকগ্রা নিয়েছিলেন ৭ উইকেট।

নিজেদের গ্রুপে নামিবিয়াকে পেয়ে মশকো করেছিল ভারত। সৌরভ গাঙ্গুলী, শচীন টেন্ডুলকাররা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন নামিবিয়ার বিপক্ষে।

আর এবার সেই নামিবিয়া পড়ল ভারতের গ্রুপেই। কিন্তু গত ১৮ বছরে ক্রিকেটে ব্যাপক উন্নতি সাধন করেছে দলটি।

তাই এবার প্রশ্ন উঠতে পারে, বিরাট কোহলি তার অগ্রজদের মতো মশকরা করবেন কী? সেটাই দেখার বিষয়।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস লিখে বিজিবি সদস্যের আত্মহত্যা

ময়মনসিংহে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে শুক্রবার দিবাগত রাত ৮টা ৩ মিনিটে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এরপর রাত ৯টায় ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় অবস্থিত ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পে তিনি নিজেই গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহত সিপাহীর নাম সোহরাব হোসাইন চৌধুরী (২৩)। তিনি ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বাশ পাদুয়াগ্রামের আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি ৩৯ ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক ইউনুস আলী।

এদিকে নিজের বেতনের টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হওয়ায় তিনি ক্ষোভে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্টাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম নিয়ে ভালো কিছু আশা করা মহাপাপ। নামে সরকারি চাকরি কিন্তু বেতনটা ওই নামের ওপরই। সাত বছর চাকরি এখনও বাড়িতে গেলে ঠিকমতো একটু কোথাও যাওয়া হয় না ছুটির সময়টাও চোরের মতো থাকতে হয়। গত কিছুদিন আগে আম্মু খুব অসুস্থ হয়ে পড়লো মায়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলাম পরীক্ষা নিরক্ষার পর মায়ের জন্য ওষুধ কিনবো সে টাকা আর হাতে নেই পরে মামার কাছ থেকে ধার নিয়ে মাকে কিছু ওষুধ আর গাড়ি ভাড়া দিলাম।

এমনটা প্রতিমাসেই হতে থাকে; না পারি নিজের খুশি মতো একটা জিনিস কিনতে কিনবা একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভালো কিছু খেতে। না পারি পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে। তার মধ্যে বর্তমান বাজারের যা পরিস্থিতি এতে বাজার করা কিনবা সংসার চালানো কতটা কঠিন বুঝানোর মতো না। ছোট ভাইটা শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম তার জন্য কিছু করবো তার সুযোগ হয়নি এই জীবনে।

এমন পরিস্থিতি মানুষ প্রশ্ন করে বিয়ে করি না কেন? কিন্তু মানুষকে তো আমার সরকারি চাকরির ভেতরটা দেখাতে পারি না আমার বেতন আমার সুযোগ সুবিধা সেভিংস এই সব কিছুতে অন্য একটা মানুষকে আনা আমার জন্য মরার ওপর খাঁড়ার খাঁ। তাই বিয়ের চিন্তা করিওনা। শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি এমন চাইলাম তাও আর হয়ে উঠলো না। সাতটা বছর মানসিক যন্ত্রণা আর অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে সত্যি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এইবার একটু রেস্ট দরকার।

আমার পরিবার সহকর্মী সিনিয়র জুনিয়র আমার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি এই নিকৃষ্ট কাজের জন্য পারলে ক্ষমা করবেন এই ছাড়া বিকল্প কোনো পথ আমার ছিল না।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে রাতেই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিজের বন্দুকের গুলিতেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন বলেন, আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুক পেইজে একটি স্ট্যাটাস লিখে গেছেন। সেখানে চাকরিজীবন নিয়ে নানা অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন।

লঞ্চের কেবিনে অজ্ঞাত নারীর লাশ

পটুয়াখালীর একটি লঞ্চ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার সকালে ডবল ডেকার ‘সম্রাট-৭’ লঞ্চের স্টাফ কেবিন থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানায় পুলিশ।

সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী লঞ্চটি ঘাটে পৌঁছানোর পর নিচতলার স্টাফ কেবিনে ওই নারী লাশ দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিলে নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

দুর্ঘটনার শিকার ল্যাম্বরগিনি পড়ে আছে রাস্তায়, মালিক খুঁজছে পুলিশ

ল্যাম্বরগিনি স্পোর্টস কারের জগতে অন্যতম আইকনিক একটি নাম। এগুলোর দামও আকাশচুম্বী। তাই দুর্ঘটনার শিকার হলে কেউ এই গাড়ি ফেলে যাবেন সড়কে এটা অস্বাভাবিক বটে। কিন্তু যখন এরকম ঘটনা ঘটবে তা সবার নজর কাড়বে এটিই স্বাভাবিক।

সম্প্রতি কানাডার মন্ট্রিলে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে। যার ভিডিও নজর কেড়েছে সবার। খবর এনডিটিভির।

একটি নীল রংয়ের ল্যাম্বরগিনি স্পোর্টস কার দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো— দুর্ঘটনার পর বিলাসবহুল ও দামি এ গাড়িটি তার মালিক রাস্তায় ফেলে চলে গেছেন।

পুলিশ বর্তমানে দুর্ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এ গাড়ির মালিককে খুঁজছে।

এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, সড়ক বিভাজকে পড়ে রয়েছে গাড়িটি। গাড়ির একপাশ বেশ ভালোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, খুলে গেছে গাড়ির একটি চাকা।

ভিডিওটি ইউটিউবে ভাইরালহগ নামে একটি চ্যানেলে পোস্ট করা হয়। এরপর এটি দ্রুত ছড়িয়ে যায়।

মন্ট্রিল পুলিশ জানায়, তারা গত সপ্তাহের মধ্যরাতে একটি দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত হন।

সিটিভি নিউজকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তার কর্মক্ষেত্রের সামনে দিয়ে রাত ১০টার দিকে এই গাড়িটি যেতে দেখেছেন তিনি।তখন চালককে দেখে গাড়িটি চালানোর ক্ষেত্রে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছিলেন’ বলে মনে হয়নি।

বাংলাদেশিসহ ৫ মুসলিম বিজ্ঞানীকে পুরস্কৃত করল ইরান

বাংলাদেশের পদার্থ বিজ্ঞানী ড. এম জাহিদ হাসানসহ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পাঁচ মুসলিম বিজ্ঞানীর কাছে মুস্তাফা (সা.) পুরস্কার হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রত্যেককে পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা এবং একটি করে ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে। খবর প্রেসটিভির।

তেহরানে মুস্তফা (সা.) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ উপলক্ষে শুক্রবার ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুই বছর পরপর বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এ পুরস্কার দিয়ে আসছে ইরান ভিত্তিক এই ফাউন্ডেশন।

শ্রেষ্ঠ প্রবাসী মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে এবার যৌথভাবে বিজয়ী হয়েছেন, বাংলাদেশের পদার্থ বিজ্ঞানী ড. এম জাহিদ হাসান ও ইরানের বিজ্ঞানী কামরান ওয়াফা।

জাহিদ হাসান যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। ইরানের কামরান ওয়াফা অধ্যাপনা করছেন হার্ভার্ডে।

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী জাহিদ হাসান ও তার সহযোগীরা পরীক্ষাগারে গবেষণা করে ‘ভাইল ফার্মিয়ন কণা’র খোঁজ পেয়েছেন। এ আবিস্কারের মাধ্যমে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে অনেক বড় অবদান রেখেছেন।

ইরানি বিজ্ঞানী কামরান ওয়াফা এফ-থিউরির উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। এছাড়াও এবার স্বদেশে বসবাসকারী শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানী হিসেবে যৌথভাবে বিজয়ী হয়েছেন মরক্কোর ইয়াহিয়া তিয়ালাতি, লেবাননের মুহাম্মাদ সানেগ ও পাকিস্তানের মুহাম্মাদ ইকবাল চৌধুরী।

এর আগে আরও তিন দফায় ৯ জন শ্রেষ্ঠ মুসলিম বিজ্ঞানীকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। তারা ছিলেন ইরান, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও জর্ডান থেকে।

ইকবালের বিষয়ে ফখরুলের কাছে তথ্য আছে: ওবায়দুল কাদের

ইকবালের বিষয়ে ফখরুলের কাছে তথ্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেফতার ইকবাল হোসেনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে অনুমান হয় যে, তার কাছে অধিকতর তথ্য রয়েছে।

শনিবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে বিএনপি মহাসচিবের কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি আরও জানতে চান, আপনিই তথ্য প্রমাণ দিয়ে বলুন, এ কয়দিন ইকবাল কোথায় ছিল?

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত হওয়া কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরিফ রাখা ইকবাল হোসেনের গ্রেফতারে যখন সবাই স্বস্তি প্রকাশ করছে তখন বিএনপি মহাসচিব প্রশ্ন তুলেছেন গ্রেফতার হওয়া যুবক এতদিন কোথায় ছিল? আসলে যে কোনো অর্জন বা সাফল্যকে বিতর্কিত করা বিএনপির স্বভাব।

তিনি বলেন, প্রতিটি বিষয়ে সন্দেহ করার বিরল প্রজাতির ভাইরাসে আক্রান্ত বিএনপি।

অবস্থাদৃষ্টে জনমনে প্রশ্ন ও সন্দেহ দেখা দিয়েছে যে, বিএনপির এই অতিপ্রতিক্রিয়া বা আগবাড়িয়ে কথা বলা তাদের নিজেদের অপরাধ লুকোনোর কৌশল কিনা, এমনটা মনে করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির দ্বিচারিতা সম্পর্কে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। তারা চোরকে বলে চুরি কর, আর গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকো।

বিএনপি হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সবসময় প্রতিপক্ষ ভেবে আসছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছে আর হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মায়াকান্না করছে।

বিএনপি মহাসচিবের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে আপনাদেরকে ভোট না দেওয়ার কথিত অপরাধে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলেন কেন? কেন ঘরবাড়ি পুড়িয়েছিলেন, সম্পদ লুট করেছিলেন? নারীরা কেন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল?

এখনই সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের বলেছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিন্দা জানাচ্ছে। তাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। যারা সংখ্যালঘুদের শক্র, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। দেশের মানুষ ধর্মের নামে আর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস দেখতে চায় না। তাই এখনই সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে সম্প্রীতি সমাবেশে তিনি শুক্রবার এ কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপির সভাপতিত্বে এ সমাবেশে জিএম কাদের বলেন, কারা ও কেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চাইছে তা বের করতে হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে একজন প্রতিমন্ত্রী কেন রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মানি না বলে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করে ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্তরে আঘাত করেছেন তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, উসকানিমূলক হামলা থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘর রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যর্থতা হচ্ছে সরকারেরই ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার দায় সরকারকে নিতেই হবে। বক্তৃতায় সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, পল্লিবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের জন্য পৃথক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছিলেন। শুভ জন্মাষ্টমীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ের পানি ও বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করেছিলেন। তিনি সব ধর্মের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন।

সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, উপদেষ্টা জহিরুল আলম রুবেল, ভাইস চেয়ারম্যান সালমা হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, ফখরুল আহসান শাহজাদা, যুগ্ম-সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আকতার হোসেন দেওয়ান, এমএ সোবহান, মাশুকুর রহমান, সম্প্রীতি সমাবেশে সঞ্চালনা করেন যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়, উপদেষ্টা হারুন আর রশীদ, যুগ্ম-মহাসচিব বেলাল হোসেন, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নির্মল চন্দ্র দাস, এনাম জয়নাল আবেদীন, এমএ রাজ্জাক খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক নূরুল হক নূরু, সমরেশ মন্ডল মানিক, কেন্দ্রীয় সদস্য শামসুল হুদা মিয়া, রমজান আলী ভুইয়া, মেহেদী হাসান শিপন, কাওছার আহমেদ, মাওলানা খলিলুর রহমান সিদ্দিকী, আব্দুস সালাম লিটন প্রমুখ।

সেই ইকবাল ৭ দিনের রিমান্ডে

কুমিল্লায় নানুয়ার দিঘিরপাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একই ঘটনায় আরও তিনজনকেও রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মিনিটে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিথিলা জাহান নিপার আদালতে তাদের তোলা হয়। এরপর তাদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন কতোয়ালী থানার এসআই মফিজুল ইসলাম।

শুনানি শেষে আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ।

ইকবাল ছাড়া অন্য তিনজন হলেন— দারোগাবাড়ি মাজারের সহকারী খাদেম হুমায়ুন কবির ও ফয়সাল আহমেদ এবং ইকরাম হোসেন।

এ দিকে এ ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এর আগে শুক্রবার বিকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন রাখার কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার ইকবাল হোসেন। পুলিশের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দলের জিজ্ঞাসাবাদে কেন ও কার নির্দেশে সে এ কাজটি করেছে-এ বিষয়েও তথ্য দিয়েছে ইকবাল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ইকবালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঢাকা থেকে আসা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এছাড়া জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুহান সরকারের নেতৃত্বে একটি দল কক্সবাজার গিয়ে সড়কপথে তাকে কুমিল্লায় নিয়ে আসে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে আনা হয়।

বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানে প্রশংসা করেছে ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেছেন, আগামী দুবছর পর দেশে নির্বাচন। এর আগে দেশকে অস্থীতিশীল করতে একটি গোষ্ঠী মাঠে নেমেছে। সেই লক্ষ্যেই রোহিঙ্গা হত্যা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের চেষ্টা করছে তারা। এসব গোষ্ঠীকে মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রীতি নষ্ট করতে যারা চেষ্টা করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে তাতে প্রতিবেশী ভারত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছে।

শনিবার সকালে সিলেট ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (ইমজা) কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিককের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সকালে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নগরীর জিন্দাবাজারে ইমজা কার্যালয় পরিদর্শনে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

এ সময় ইমজা নেতারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছ জানান। এ সময় ইমজা কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ স্থানীয় টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আল আজাদ, সিটি কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির, ইমজার সভাপতি বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আনিস রহমানসহ সিলেটের টেলিভিশন সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কুশল বিনিময় শেষে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে সেই সম্প্রতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখছেন। এসব ঘটনা খুব দুঃখজনক।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ২ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আমরা বিভিন্ন রকমের ষড়যন্ত্রের শিকার আমরা হবো। বর্তমান সরকার দেশের সব শ্রেণির মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এই মঙ্গল অর্জন করতে হলে দেশের সব মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার।

তিনি বলেন, দেশে বড় বড় উন্নয়ন হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু দুষ্ট লোক এসব বাধাগ্রস্থ করতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছে।

আব্দুল মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি চিরঞ্জীব। সব ধর্মের লোক সমান সুযোগ সুবিধা পান। তা শুধু রাষ্ট্র নয়, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তা হৃদয়ে ধারণ করে। সম্প্রীতি যারা নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।