বুধবার ,৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 661

জবাবদিহিতা নেই বলেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: মির্জা ফখরুল

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার নির্বাচিত নয় বলেই সংসদ কিংবা জনগণের কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না। তাই যা ইচ্ছা তাই করছে সরকার। নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য, ব্যবসা করার জন্য সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের কালীবাড়ির নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মোটর শ্রমিক সংগঠনের দেওয়া কর্মসূচির সমর্থন দেন মির্জা ফখরুল।

সরকারের আশ্রয়ে দলীয় নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জ্বালানি তেল, গ্যাস এসব কারা আমদানি করে। এতে সব ধরনের দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ সরকার বিবর্তনমূলক, দমনমূলক আচরণ করছে।

বিএনপি মনে করে এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাহিরে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জেলা বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম, ওবায়দুল্লাহ মাসুদসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কথামালার চাতুরী দিয়ে জনগণের মন জয় করা যায় না: কাদের

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আসলে কথামালার চাতুরী দিয়ে জনগণের মন জয় করা যায় না, এ কথা বিএনপি বুঝেও বুঝতে চায় না।

তিনি বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মানুষ দেখতে চায় পলাতক তারেক জিয়া আগে দেশে ফিরে আসুক, তারপর দেখা যাবে বিএনপি’র মরা গাঙে ঢেউ আসে কিনা।

তারেক জিয়া দেশে আসবে কোন বছর- এমন প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এই বছর না ওই বছর, দেখতে দেখতে ১৩ বছর চলে গেলেও তারেক জিয়া দেশে আসার সৎ সাহস দেখাতে পারছেন না।

গত কয়েক বছর ধরে গণঅভ্যুত্থান, মুক্ত খালেদার চেয়ে বন্দি খালেদা অনেক শক্তিশালী, নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের গল্প, আওয়ামী লীগের ৩০ আসন না পাওয়ার গল্পসহ বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এসব বক্তব্যে কী হয়েছে, দেশের জনগণ তা দেখেছে।

পরে সেতুমন্ত্রী টাঙ্গাইলের ভাতকুড়া করোটিয়া-বাসাইল- সখিপুর সড়কের ওপর প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৯ মিটার নাঙ্গালিয়া সেতুর উদ্বোধন করেন।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে দেশে আসুন, আমি দেখব: প্রবাসীদের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের বেশ কয়েকটি লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে বাংলা‌দে‌শের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনা।

বৃহস্পতিবার লন্ডনের কুইন এলিজাবেথ সেন্টারের চার্চিল হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১ : বিল্ডিং সাসটেইনেবল গ্রোথ পার্টনারশিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠা‌নে
প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘… জ্বালানি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইল, হালকা প্রকৌশল, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, সমুদ্র অর্থনীতি, পর্যটন, জ্ঞান ভিত্তিক হাইটেক শিল্প, আইসিটি খাত বিদেশি বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে, ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীরা এর মধ্যে যে কোনো একটি এবং এর বাইরেও বেছে নিতে পারেন’।

ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বাংলাদেশে আসার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা সব সুযোগ পাবেন, আর কোনো বাধা থাকলে আমি তা দেখব। ’

এ ছাড়াও প্রিন্স চার্লস এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের একটি পূর্বে রেকর্ডকৃত ভিডিও বার্তা অনুষ্ঠানে প্রচার করা হয়। ব্রিটিশ বাণিজ্য নীতি প্রতিমন্ত্রী পেনি মর্ডান্টও এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন।

শেখ হাসিনা একক অর্থনৈতিক অঞ্চলেরও প্রস্তাব প্রদান করেন, যেখানে একটি নির্দিষ্ট দেশের কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের একটি অঞ্চল নিজেদের জন্য নিতে পারেন।

প্রায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২৮টি হাইটেক পার্ক বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যার সুফল এবং বিনিয়োগকারীরা যাতে প্রতিযোগিতামূলক দামে দক্ষ মানবসম্পদ পায়- তা নিশ্চিতের ওপর আমাদের দৃষ্টি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটিসহ আমাদের সরকারি সংস্থাগুলো আপনাদের জন্য একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, তার সরকার ব্রিটিশ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম সম্ভাব্য সুফলের জন্য যথেষ্ট সুযোগ দেবে।

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি প্রধান ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সফলভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, আমি এইভাবে আরও কোম্পানিকে স্বাগত জানাতে চাই- যাতে তারা এগিয়ে আসে এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে নতুন জাতির জন্মের পর থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য সর্বোত্তম সম্পর্ক উপভোগ করছে এবং প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাজ্য যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে উদার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি নেতৃস্থানীয় দেশ ছিল। আর এইভাবে আজ যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী।

তিনি বলেন, এরপর থেকে এই সম্পর্ক দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই এই রোড শো ব্যবসা এবং বিনিয়োগ থেকে উচ্চ সুফলের পুরস্কারসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনা প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রেরণা জোগাবে। বাংলাদেশ আজ একটি পরিবর্তিত দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক দশকে আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং ‘রূপকল্প ২০২১’ বাস্তবায়নে সরকারের প্রচেষ্টার কারণে জাতিসংঘ বাংলাদেশকে ‘ভিশন ২০৪১’ পূরণ করে একটি উন্নত দেশ হতে এগিয়ে যাওয়া এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য ঘোষণা করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এডিবি আউটলুক ২০১৯ অনুযায়ী এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশ সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। তিনি বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুশাসন, স্থিতিশীল সরকার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুষ্ঠু সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং সঠিক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সুবাদে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে এডিবি উল্লেখ করেছে।
ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ পিপিপির ভিত্তিতে বিশ্বের ৩১তম বৃহত্তম অর্থনীতি।

শেখ হাসিনা বলেন, দ্রুত নগরায়ন, ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের ব্যবহার, মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ সম্প্রতি বিনিয়োগের একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে; যোগাযোগ সংযোগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং রেল যোগাযোগসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে উপেক্ষিত দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সংযোগ স্থাপনকারী রেলপথ বিশিষ্ট পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে।বাংলাদেশ খুব শিগগিরই মেট্রোরেল যুগে প্রবেশ করছে। শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের উৎপাদন ইতোমধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই উৎপাদন লক্ষমাত্রা ৪০ হাজার মেগাওয়াট, ২০৪১ সাল নাগাদ ৬০ হাজার মেগাওয়াট নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘আমরা ক্রমাগত আমাদের আইনি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করছি। বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং বিদেশী বিনিয়োগ সংসদের আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির দ্বারা সুরক্ষিত।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের আইসিটি খাত এখন দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। ৬০টি দেশে এক বিলিয়ন ডলারের আইসিটি পণ্য রপ্তানি করছে, এটি ৫ গুণ বেড়ে ২০২৫ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন ডলার দাঁড়াবে। ফ্রিলান্স আইটি প্রফেশনালদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ৬ লাখ। আইটি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সঠিক জায়গা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ, সবজি উৎপাদনকারী হিসেবে তৃতীয় অবস্থানে, অভ্যন্তরীণ মৎস উৎপাদনে তৃতীয়, ইন্টারনেট ফ্রিলান্সিংয়ে তৃতীয় এবং ধান উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে।

অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে সারা দেশে গণপরিবহণ ধর্মঘট

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে পরিবহণ খাত। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার যাত্রী পরিবহণ সংগঠনগুলোর নেতারা তাদের এ অনানুষ্ঠানিক এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পণ্য পরিবহণের একটি সংগঠন। বৃহস্পতিবারই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়। নৌপথের লঞ্চ চলাচল বন্ধ না হলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বৈঠক ডেকেছেন মালিকরা। এ দাবি আদায়ে তারাও ধর্মঘটে যেতে পারেন বলে জানিয়েছেন একাধিক মালিক। এভাবে তেলের দাম বাড়ানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরও জানা যায়, তেলের বাড়তি দাম প্রত্যাহার অথবা বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সরকারকে চিঠি দিয়েছেন পরিবহণ মালিকরা। তারা করোনা পরিস্থিতিতে পরিবহণ খাতের লোকসান, যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে দু-একদিনের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বসার আলোচনা চলছে।

তেলের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে পরিবহণ নেতারা বলেন, হঠাৎ করেই একসঙ্গে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ঘটনা এটাই প্রথম। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু ও মুক্তারপুর সেতুর টোল ২৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এতে বাস ও ট্রাকের প্রতি ট্রিপেই খরচ বেড়ে গেছে কয়েক হাজার টাকা। এর মাশুল গুনতে হবে সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের। এদিকে হঠাৎ করে গণপরিবহণ বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। শুক্রবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। এসব পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের যারা রাজধানীতে এসেছেন, তারা গণপরিবহণ বন্ধ থাকলে ফিরতে পারবেন না। আবার যারা সকালে গণপরিবহণে আসার পরিকল্পনা করেছেন, তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা যুগান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণে গণপরিবহণ তিন মাস বন্ধ ছিল। ওই লোকসান এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে হঠাৎ প্রতি লিটারে ১৫ টাকা দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে মালিকদের মাথায় বজ্রপাতের মতো হয়েছে। তারা এটা সহ্য করতে পারছেন না। তিনি বলেন, এভাবে দাম বাড়ানোর কারণে প্রতি ট্রিপে কয়েক হাজার টাকা বাড়তি ব্যয় হবে। এর প্রতিবাদে মালিকরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা জানি না। তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দুটি সেতুর টোল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পণ্য পরিবহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ট্যাংকলরি প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। তেজগাঁও সংগঠনের কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় নেতারা বলেন, দুই বছর করোনার দীর্ঘ মেয়াদের প্রভাবের কারণে বেশির ভাগ পরিবহণ বন্ধ ছিল। এর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না উঠতে তেলের দাম বাড়িয়ে পরিবহণ মালিকদের ব্যবসায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু ও মুক্তারপুর সেতুর টোল ২৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কয়েকগুণ বাড়বে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য পণ্য পরিবহণ বন্ধ রাখা হবে। সভায় সংগঠনের আহ্বায়ক রুস্তুম আলী খান, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও মো. তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, সদস্য সচিব তাজুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে বাস মালিকরা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ধর্মঘট ডাকা না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মালিকরা ফোন করে তাদের বাস বন্ধ রাখতে শ্রমিকদের নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, আমরা ধর্মঘট ডাকিনি। তেলের দাম বাড়ায় বাস চালিয়ে লোকসান হবে বলে মনে করছেন মালিকরা। তারা বাস চালাতে রাজি নন। তবে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিইনি।

এদিন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যালয়ে সংগঠনের সিনিয়র নেতারা বৈঠক করেন। সেখানে অনানুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়- শ্রমিকরা আজ কোনো বাস-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চালাবেন না।

এদিকে বাংলাদেশ লঞ্চ মালিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সরকার যেভাবে তেলের দাম বাড়িয়েছে তাতে ব্যবসা করা যাবে না। আগের তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছি। এর মধ্যে আবার তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হলো। এভাবে জ্বালানি খরচ বাড়ালে লঞ্চ চালানো কি সম্ভব? তিনি বলেন, আজ বিষয়টি নিয়ে মালিকরা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে।

চট্টগ্রামে গাড়ি না চালানোর ঘোষণা : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে আজ সকাল থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ও গণপরিবহণ না চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক গ্রুপের মহাসচিব গোলাম রসুল বাবুল যুগান্তরকে বলেন, ‘এর আগে দেওয়া আমাদের বেশ কয়েকটি দাবি সুরাহা না করে ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় গাড়ি চালালে মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। লাভ তো দূরে থাক, উল্টো পকেট থেকে টাকা দিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। গণপরিবহণের বেশিরভাগই তেলে চলে। গ্যাসে চলে এক থেকে দুই শতাংশ গাড়ি। তাই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয়ভাবে সারা দেশে পণ্যবাহী গাড়ি ও গণপরিবহণ না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করেছি। চট্টগ্রামেও গাড়ি চালাবেন না মালিক-শ্রমিকরা।’ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মো. মুসা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।’

রাজশাহী বিভাগে যানবাহন চলাচল বন্ধ : রাজশাহী ব্যুরো জানায়, শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বিভাগীয় পরিবহণ মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন। রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিক নেতা ছাড়াও জেলা ট্রাক-লরি ও কাভার্ডভ্যান মালিক ও শ্রমিকরা বক্তৃতা করেন। রাজশাহী বিভাগীয় পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি সাফকাত মঞ্জুর বলেন, আকস্মিকভাবে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানো হলেও পরিবহণ ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। এর প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগের এক জেলা থেকে আরেক জেলায় পরিবহণ চলাচল বন্ধ রাখা হবে। এ সময় মোটর শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবেন। জ্বালানির বাড়তি দামের সঙ্গে পরিবহণ ভাড়া সমন্বয় না করা হলে অনির্দিষ্টকাল কর্মবিরতি ও পরিবহণ চলাচল বন্ধ রাখা হবে।

সিলেটে বিক্ষোভ : সিলেট ব্যুরো জানায়, পরিবহণ ধর্মঘটের সমর্থনে সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পরিবহণসংশ্লিষ্টরা। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালস্থ প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি আবুল কালাম। সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. জিয়াউল কবির পলাশের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন- সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম, সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সহসভাপতি সেলিম আহমদ, মো. হেলাল উদ্দিন, মোক্তার আহমদ, রিয়াদ আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমদ রাজন, শাহ নুরুর রহমান, আব্দুল গণি চৌধুরী শাহান, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন প্রমুখ।

অপরদিকে কর্মসূচির সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ট্যাংক লরি প্রাইম মুভার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ সিলেট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি পুলক কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়জুল ইসলামের পরিচালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. মুজিবুর রহমান, শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, সহসভাপতি জুবের আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আমির উদ্দিন, মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক নাজির আহমদ স্বপন, জাকির আহমদ তালুকদার প্রমুখ।

খুলনায় প্রতিবাদ : খুলনা ব্যুরো জানায়, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, খুলনা জেলা শাখার নেতা এম হুমায়ুন কবির, আনোয়ার হোসেন, বরকত আলী, সুভাষ সাহা, সোয়েব শেখ, হংস শুভ্র হালদার বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতারা বলেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য প্রতি লিটারে ৫০ টাকার নিচে ছিল, তখন সরকার তেলের মূল্য না কমিয়ে প্রতি লিটারে ৩০ টাকা বেশি মুনাফা করেছে। সেই হাজার হাজার কোটি টাকার মুনাফা জনগণের পকেট থেকে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এখন সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে জ্বালানিতে মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে চাল-ডাল-আটা-চিনি-ভোজ্য তেল ও রান্নার গ্যাসের দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধিতে শ্রমজীবী মানুষেরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই মুহূর্তে পুনরায় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীনভাবে আরও বৃদ্ধি পাবে। নেতারা অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে নির্মাণের সম্মুখ সৈনিক – বোরহানউদ্দিন চৌধুরী মুরাদ

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় পাথরঘাটাস্থ জুপিটার হাউজ থেকে সংগ্রাম কমিটির
কর্মকান্ড পরিচালিত হত। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা চট্টগ্রামে আসার পর জুপিটার হাউজ থেকে
সাইক্লোস্টাইল করে প্রচার করা হয়। তাঁর বাসা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রসহ
সব জায়গায় পাঠানো হয়। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ভারতে গমন করেন এবং সেখানে
প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন
কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন, বাংলাদেশের পক্ষে
জনমত গঠন ছিলো তাঁর মূল লক্ষ্য।

রাজনীতিতেই নয়, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পদ্যোক্তা ছিলেন। স্বাধীনতার
পূর্বে তিনি বাটালী রোডে রয়েল ইন্ডাস্ট্রি নামে একটি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সাথে তিনি বড় ভাইয়ের
কারখানাগুলোও দেখাশোনা করতেন। পরবর্তীতে আখতারুজ্জামান বাবু আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল,
আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল, বেঙ্গল সিথেটিক প্রোডাক্ট ইত্যাদি
প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ভ্যানগার্ড স্টিল মিল, সিনথেটিক রেজিন প্রোডাক্ট ক্রয় করে স্বাধীনতা উত্তর
বাংলাদেশের প্রথম দু’দশকে জামান শিল্পগোষ্টির গোড়াপত্তন করেন। তিনি বিদেশী মালিকানাধীন আরামিট মিল
ক্রয় করে সেটিকে সুদৃঢ় ভিত্তিক উপর দাঁড় করান। বাংলাদেশে বেসরকারি ব্যাংকিং সেক্টর প্রতিষ্ঠায় তিনি
পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশে দ্বিতীয় প্রাইভেট ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড
(ইউসিবিএল) এর উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত

এ দায়িত্ব পালন করেন। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দেশের ব্যবসায়ী সমাজের মুখপাত্র ও ব্যবসায়ী নেতা
হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৯৪৫ সালে আনোয়ারা হাইলধর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তাঁর পিতার নাম
নুরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি ছিলেন আইনজীবী এবং জমিদার। তাঁর মাতার নাম খোরশেদা বেগম। তিনি বাংলাদেশের
স্বনামধন্য শিল্পপতি, চট্টগ্রামের বোয়ালখালির জমিদার ইসলাম চৌধুরীর কন্যা নুর নাহার জামানের সাথে
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ব্যক্তি জীবনে ৩ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তানের জনক। আখতারুজ্জামান চৌধুরী
বাবু ১৯৫৮ সালে পটিয়া হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে এই বছরই ঢাকা নটরডেম কলেজে ভর্তি হন।
ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে পড়ার সময় তিনি বৃত্তি পেয়ে আমেরিকার ইলিনয় ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড
টেকনোলজিতে ভর্তি হন। পরে তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভর্সিটিতে বিজনেস এডমিটিস্ট্রেশনে পড়াশোনা করেন।
সেখান থেকে এসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফিরেন। ১৯৬৫ সালে তিনি বড় ভাইয়ের
সাথে ব্যবসায় যোগ দেন। এছাড়া দেশে থাকা অবস্থায় ১৯৫৮ সালে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত
হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। এরপর দেশে ফিরে আবার ১৯৬৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে তাঁর পথ
চলা শুরু। ৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য
নির্বাচিত হন। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। চট্টগ্রামের
রাজনীতিতে তিনি প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের
সভাপতি। জাতীয় সংসদ সদস্য চারবার নির্বাচিত হবার পাশাপাশিও ছিলেন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য।
নবম জাতীয় সংসদে তিনি ছিলেন পাট বস্ত্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত— সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি।
মুক্তিযুদ্ধের মাঝামাঝি তিনি প্রথম লন্ডনে যান সেখান থেকে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর নেতৃত্বে
বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে আমেরিকায় যান। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ)
হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণ পরিষদের সদস্য হন এবং বাংলাদেশের
সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। স্বাধীনতার পর ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ২০০৮ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য
নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত
হন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৭৫
সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু খুন হবার পর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের
নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং পরবর্তীতে দলের পুনরজ্জীবন ও পুনর্গঠনে সাহসী ভূমিকা পালন
করেন। আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি কারা নির্যাতন ভোগ করেন। তিনি দু-দফায় চট্টগ্রাম চেম্বারের
প্রেসিডেন্ট ছিলেন ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠক এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
ওআইসিভুক্ত দেশসমুহের চেম্বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ৭৭
জাতি গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনিই একমাত্র বাংলাদেশী যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ
আন্তর্জাতিক সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু একজন
সমাজহিতৈষী, দানবীর ও জনদরদী ছিলেন। ১৯৬৭ সাল থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত— তিনি হাইলধর ইউনিয়ন
পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। স্বাধীনতার পরেও তিনি হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং
থানা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। আনোয়ারা ডিগ্রী কলেজ, যোগেশ চন্দ্র মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, হাইলধর
বীশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়, বরুমচড়া, বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় ও ঝিবাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের
প্রতিষ্ঠাতাসহ বটতলী মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ, চন্দনাইশ বরমা কলেজ, এনায়েত বাজার মহিলা
কলেজ, এ.জে.চৌধুরী ডিগ্রী কলেজ, রায়পুর উপকূলীয় উচ্চ বিদ্যালয়সহ আনোয়ারা পশ্চিম পটিয়ার ও
চট্টগ্রামে অনেক স্কুল কলেজের প্রতিষ্ঠাতাদাতা সদস্য। এছাড়াও বহু জনহিতকর কাজের সাথে জড়িত ছিলেন
তিনি।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মত এত বড় মাপের মহৎ হৃদয়বান জাতীয় নেতার সহচার্য লাভের যার সুযোগ
হয়েছে, সেই সৌভাগ্যবান। বিশ্বস্ততার সহিত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত— আমরা যারা তাঁর অভিভাবকত্বে তাঁর
সহিত রাষ্ট্রের সেবামূলক কাজ করেছি এবং তাঁর সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তাঁকে কাছ দেখেছি, মিশেছি। সুখ, দুঃখের সঙ্গী হয়েছি। আমরা দেখেছি, তাঁর মধ্যে এক নরম প্রকৃতির হৃদয়, মানুষকে ভালবাসার উদার মন-
মানসিকতা। আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সমস্ত লোভ-লালসার উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নির্মাণের সম্মুখ সৈনিক ছিলেন। তিনি স্বাধীনতা উত্তর কালের সেই সব বিরল
রাজনীতিবিদে অন্যতম যারা আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে হাল ধরেছেন, রাজনীতি করেছেন নিজের অর্থ ব্যয় করে,
বর্ষিয়ান এই আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিল এমনি এক
অসাধারণ মহাপুরুষ। যার সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে বিশাল এক প্রাণবন্ত জগত। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে
২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর)
অর্জন করেন।

বিদেশে পাবলিক কূটনীতি জোরদারের আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিদেশে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়তে পাবলিক কূটনীতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি। পাবলিক কূটনীতির গুরুত্ব নিয়ে মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম।

বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং কোভিড-১৯ মহামারী থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বের কথা তুলে ধরেন। দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রতিক সহিংসতার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে পরিচালিত সব ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে একসঙ্গে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম তার স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গণকূটনীতির ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন স্তরে গৃহীত পাবলিক কূটনীতির প্রচেষ্টা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও এর সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবেলায় দূতাবাস কর্তৃক গৃহিত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক অপপ্রচার মোকাবিলায় অতিরিক্ত জনবল ও সরঞ্জাম দিয়ে প্রেস উইংয়ের সক্ষমতা জোরদার করতে প্রতিমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

‘আজ নতুন একটি জার্সি পরলাম, যার নাম টিম নিউইয়র্ক’

নিউইয়র্কের ১১০তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন এরিক অ্যাডামস। প্রায় ২৮ বছর পর নিউইয়র্কবাসী পেলেন একজন কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। নিউইয়র্কের ১০৬তম প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র ডেভিড এন ডিনকিন্সের পর এরিক দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে তার রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ কার্টিস স্লিওয়ারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন এরিক।

এরিক অ্যাডামস নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক পুলিশ ক্যাপ্টেন। ডেমোক্রেটিক দলের ব্রুকলিন বরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগে রাজ্য সিনেটর হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হওয়ার রেকর্ড গড়লেন।

তিনি নিউইয়র্কবাসীদের একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা এখন অনেক বিভক্ত। আমরা আমাদের বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছি, তাই সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আজ আমরা অন্তর্মুখী জার্সি খুলে ফেলে একটি নতুন জার্সি পরলাম। যার নাম টিম নিউইয়র্ক।

অ্যাডামস আগামী ১ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একটি বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। যখন দেশের বৃহত্তম শহরটি মহামারির স্থায়ী পরিণতিগুলোর সাথে লড়াই করছে, যার মধ্যে একটি অনিশ্চিত এবং অসম অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং অপরাধ এবং গুণমান সম্পর্কে অব্যাহত উদ্বেগ রয়েছে।

অ্যাডামস তার রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ কার্টিস স্লিওয়ার বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লিডারদের সাথে কাজ শুরু করবেন।

মুকুল সিরাজের এগিয়ে চলা

বহুমাত্রিক চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেতা মুকুল সিরাজ। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ‘নাট্যধারা’র হয়ে মঞ্চে অভিনয় করেছেন। মঞ্চে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হচ্ছে- ‘চাঁদের অমাবস্যা’, ‘ঘরামি’, ‘অগ্নিজল’, ‘উই আর লুকিং ফর শত্রুজ’ ইত্যাদি। কিছুদিন আগে তিনি ‘থিয়েটার ফ্যাক্টরি’ নামের আরেকটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তবে এখনো এই দলের হয়ে নতুন কোনো নাটকে অভিনয় করেননি তিনি।

টেলিভিশনে মুকুল সিরাজ প্রথম অভিনয় করেন ২০০৮ সালে গাজী রাকায়েত পরিচালিত ‘রূপান্তর’ ধারাবাহিকে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- ‘ভালোবাসা কারে কয়’, ‘সুখ পাখি’, ‘তরিক আলী হাডারী’, ‘লং মার্চ’, ‘মহাগুরু’, ‘সিদুরের চুপকথার গল্প’ ইত্যাদি। মুকুল সিরাজ বর্তমানে ব্যস্ত আছেন কায়সার আহমেদ’র ‘গোলমাল’, ‘বকুলপুর’, ‘জাদুনগর’, বিপ্লব হায়দারের ‘সুখ পাখি, নিমা রহমানের ‘গুলশান এভিনিউ সিজন টু’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের কাজ নিয়ে।

অভিনয় জীবনে পথচলা প্রসঙ্গে মুকুল সিরাজ বলেন, আমার প্রিয় অভিনেতা হুমায়ূন ফরীদি। তিনি আমার অভিনয়ের অনুপ্রেরণা। তবে আমি কখনই ভাবিনি যে আমি অভিনেতা হব। শখে অভিনয় করতে করতে পেশাদার একজন অভিনেতা হয়ে গেলাম। আমার পরিবারের মানুষের প্রতি, শিল্পী পরিবারের প্রতি, প্রযোজক, পরিচালক ও দর্শকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ যে তারা আমাকে সহযোগিতা করছেন, আমার কাজকে ভালোবাসছেন।

এদিকে মুকুল সিরাজ অভিনীত মীর সাব্বির পরিচালিত ‘রাত জাগা ফুল’ সিনেমাটি এরইমধ্যে আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। এদিকে মুকুল সিরাজ একটি নতুন বিজ্ঞাপনেও মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।

যে কারণে শাহরুখের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাননি কাজল

বলিউডের আইকনিক জুটি শাহরুখ-কাজল। নব্বইয়ের দশকে রোমান্টিক বলিউড সিনেমা মানেই শাহরুখ-কাজল। অনস্ক্রিন রোম্যান্স থেকে তাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বে গড়াতে সময় লাগেনি। বর্তমানে এই জুটিকে সিনেপর্দায় খুব একটা না গেলেও অফস্ক্রিনে তাদের বন্ধুত্ব আজও অটুট। কিন্তু পুরোনো এই বন্ধুর সদ্য পার হওয়া ৫৬ তম জন্মদিনে কোনো শুভেচ্ছা জানাননি কাজল।

কিন্তু কেন? এই প্রশ্নটিই কাজলকে ধুম করে করে বসলেন এক নেটিজেন। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে আস্ক মি এনিথিং সেশন করেছিলেন কাজল। সেখানেই এক ভক্ত এই প্রশ্ন করেন তাকে।
জবাবে কাজল বলেন, আমি আর কি শুভেচ্ছা জানাবো? আমার মনে হয় তার সব আশা সত্যি হয়েছে যখন তার ছেলে বাড়ি ফিরেছে।

প্রসঙ্গত, শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান মাদক মামলায় হাজত খেটে গত শনিবার জামিনে বাড়ি ফিরে এসেছেন। দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে থেকে বাজিগর, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, মাই নেম ইজ খান, কাভি খুশি কাভি গম ও দিলওয়ালের মতো বেশ কয়েকটি সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন শাহরুখ-কাজল জুটি। শাহরুখ প্রযোজিত ওম শান্তি ওম ও জিরোর সিনেমায় অতিথি চরিত্রে উপস্থিতি ছিল কাজলের।

অপরিণত নবজাতকের অন্ধত্বের ঝুঁকি, জেনে নিন করণীয়

রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউর তথা আরওপি হচ্ছে নবজাতকের চোখের একটি সমস্যা যাতে রয়েছে অন্ধত্বের ঝুঁকি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তারিক রেজা আলী জানিয়েছে বিস্তারিত।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রচুর এখন প্রিম্যাচিউর বাচ্চার জন্ম হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের নিওনেটাল কেয়ার দিন দিন উন্নত হচ্ছে। আমাদের দেশে নিউনেটোলজি অনেক উন্নতি হয়েছে। প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের রেটিনার রোগ হতে পারে।

ডা. তারিক রেজা আলী বলেন, প্রিম্যাচিউর (অপরিণত) বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ রোগ আল্লাহ তায়ালা নিজে নিজেই ভালো করে দেন। বাকি ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা রকমের সমস্যা হয়ে থাকে। প্রিম্যাচিউর বাচ্চা বলতে আমরা বুঝি যার জন্ম ৩৫ সপ্তাহের আগেই এবং জন্মের সময় যে বাচ্চাটির ওজন দুই কেজির কম।

বিশিষ্ট এ চক্ষু বিশেষজ্ঞ বলেন, এসব বাচ্চার জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে বাচ্চাকে একজন রেটিনা স্পেশালিস্টের কাছে গিয়ে চোখ পরীক্ষা করাতে হবে যে বাচ্চাটির রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচুরিটি তথা আরওপি আছে কি না।

আর যদি বাচ্চাটি ২৮ সপ্তাহের আগেই জন্মগ্রহণ করে এবং তার ওজন যদি ১৫০০ গ্রামের কম হয়, তখন বাচ্চাটিকে ২০তম দিনে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তখন এই বাচ্চাগুলোর রেটিনাগুলোকে পরীক্ষা করা হয়। তার ভেতরে নানারকম সমস্যা থাকতে পারে, রক্তনালীর সমস্যা থাকতে পারে।

যদি সমস্যা পাওয়া যায়, তখন চোখে কিছুদিনের জন্য একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। তারপর কিছুদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তারপর এ বাচ্চাগুলোকে লেজার করা হয়। ফলে যেখান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে লেজার করে, সে জায়গাগুলোকে বার্ন করে দেওয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয় যাতে করে যতোটুকু নরমাল, ততটুকু দিয়ে বাচ্চাটি সারাজীবন ভালো থাকতে পারে।