শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 555

আগামীতে অনুমতি ছাড়াই সমাবেশ হবে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

একই স্থানে একই সময়ে বিএনপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের সভা আহ্বান করায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙের আশঙ্কায় নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু আজকে আমাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। তাই আগামীতে অনুমতি ছাড়াই এই নওগাঁতে সমাবেশ হবে। সেই ধরনের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে আপনাদের। স্থগিত হওয়া এই সমাবেশ যে কোনো সময় ডাকা হতে পারে। সেই সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ জারির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ শহরের মল্লিকা ইন কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার জনগণের শক্তিকে ভয় পায় বলেই বিএনপিকে সমাবেশ আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করছে। নওগাঁ জেলা বিএনপির ডাকা জনসমাবেশে বিপুল পরিমাণ জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে এ সরকার আবার প্রমাণ করল তারা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ২টায় নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই সময়ে একই স্থানে জেলা যুবলীগও সভা আহ্বান করে। এরপর জেলা বিএনপি শহরের এ-টিম মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে জেলা ছাত্রলীগ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন পুরো পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

তিনি বলেন, সরকারকে বলব, এসবের অর্থ কী, দেশবাসী সব বোঝে। বিএনপির সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের উপস্থিতি টের পেয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে নাটক সৃষ্টি করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

সরকারকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, সময় থাকতে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে পালাবার পথটুকুও পাবেন না। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেই পথও বন্ধও করে দিতে শুরু করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক চন্দন, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সোমবার সকালে একই স্থানে একই সময়ে বিএনপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের সভা আহ্বান করায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত নওগাঁ পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

১৪৪ ধারা জারির পর সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্বঘোষিত স্থানে সমাবেশ আয়োজনের ব্যাপারে অনড় থাকার ঘোষণা দেয় জেলা বিএনপি। তবে মঙ্গলবার সকালে সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দেয় জেলা বিএনপি।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নওগাঁ শহরের সাথে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহণ ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।

‘শামীম ওসমানের পায়ে তৈমুর হাঁটে না’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, আমি আল্লাহকে ছাড়া কাউকে পরোয়া করি না। আমাকে শামীম ওসমান, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই নারায়ণগঞ্জ শহরে হাঁটতে হয়েছে। আমি মানুষের ভালোবাসায় প্রার্থী হয়েছি। শামীম ওসমানের পায়ে আমি হাঁটি না নারায়ণগঞ্জ শহরে।

মঙ্গলবার মেয়র পদে হাতি প্রতীক পাওয়ার পর গণমাধ্যমের সামনে এসব কথা বলেন তিনি।

অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেছেন, এ নির্বাচন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের নির্বাচন, ১৮ বছরের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত সিটি করপোরেশনকে মুক্ত করার নির্বাচন। আমি নির্বাচিত হলে নাসিক ভবন হবে জনগণের ভবন, সিটি করপোরেশন হবে সেবামূলক করপোরেশন। যেখানে গরিবের মাথার ছাদ কেড়ে নিয়ে ধনীদের জন্য ফ্ল্যাট বানানো হবে না, সেবা না দিয়ে ট্যাক্স বাড়িয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তকে শোষণ করা হবে না।

তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, হাতি উঠলে কিন্তু নৌকা ডুবে যায়। অনেকে প্রশ্ন করেন- কেন আমি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। আমি জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি করলেও নারায়ণগঞ্জের জনগণের চাহিদা ও তাদের আকাঙ্ক্ষার ব্যাপারে আমাকে সচেতন থাকতে হয়। জনগণের প্রয়োজনেই আমাকে এখানে নির্বাচনে দাঁড়াতে হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সব সিটি করপোরেশনের চেয়ে নাসিকের হোল্ডিং ট্যাক্স সবচেয়ে বেশি। এখানে নাগরিক সুবিধা কম। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ২২ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম নেয় ১৪ শতাংশ। আমি জনগণের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন করছি। জনগণ আমার সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আমি আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু আস্থা রাখতে পারছি না। গত ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নেতারা প্রতীক, প্রার্থীসহ সমাবেশ করেছেন। আমরা ১৬ ডিসেম্বর ২০ হাজার লোকের সমাবেশ ঘটিয়েছি নারায়ণগঞ্জ শহরে, ইসির অনুরোধে আমি সেখানে যাইনি। আমি আইন মেনে চলেছি কিন্তু সরকার দলের প্রার্থী আইন মানছেন না।

তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, এর আগে আমি একটি দল থেকে নির্বাচন করছিলাম। তাই আমাকে বসে যেতে হয়েছে। এবার আমি জনগণের প্রার্থী।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪ জনকে গুলি করে হত্যা, হামলাকারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভার শহরে এক বন্দুকধারীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন।

আহত হয়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত তিনজন। স্থানীয় সময় সোমবার বিকাল ৫টায় এ ঘটনা ঘটে। এর পর পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। খবর সিএনএনের।

পুলিশ জানায়, হামলাকারী দুই নারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলে তাদের মৃত্যু হয়। আহত হন একজন। এর পর ওই হামলাকারী গাড়িতে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় চিজম্যান পার্কে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনিও নিহত হন।

তার পর হামলাকারী ওয়েস্ট ডেনভারের কমিউনিটির ওপর লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

লেকউড শহরে ওই বন্দুকধারী চতুর্থ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে ধাওয়া করে পুলিশ।

এরপর হামলাকারী একটি হোটেলে প্রবেশ করলে পুলিশের সঙ্গে তার গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বন্দুকধারী। গোলাগুলিতে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও হোটেলের কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

এবার দিল্লিতে রাত্রিকালীন কারফিউ

করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রমের বিস্তার ঠেকাতে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত উদ্বেগজনক এই ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার রোধে দিল্লিতে ‘হলুদ সতর্কতা’ হিসেবে নতুন করে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী দিল্লির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অর্ধেক কর্মী নিয়ে কাজ করতে হবে, দোকানপাট ও শপিংমলগুলো জোড়-বিজোড় তারিখের ভিত্তিতে খোলা থাকবে আর বিয়েতে ২০ জনের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারবে না। মঙ্গলবার থেকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যলকর হবে বলে জানা গেছে।

ওমিক্রন ঠেকাতে এর আগে ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে রাত্রীকালীন কারফিউসহ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে, দৈনিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বিশ্বে রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসের আবির্ভাবের দু’বছর পর এবং বিশ্বজুড়ে টিকাকরণ অভিযান শুরু হওয়ার এক বছর পরে আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড মাত্রা ছুঁয়েছে। তবে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা রেকর্ড মাত্রা ছোঁয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন রূপ ওমিক্রনকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওমিক্রন এখনও পর্যন্ত কোভিডের সর্বশেষ পরিবর্তিত এবং সব থেকে সংক্রমণযোগ্য রূপ। এই রূপ বিশ্বব্যাপী দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে, সাধারণ টিকাগুলি ওমিক্রন রূপের উপর কার্যকর নয় বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। গত সাত দিনে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,৪১,০০০। এক মাস আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার ওমিক্রন রূপ প্রথম শনাক্ত হয়েছিল। তখনকার তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

দারিদ্র্য বিমোচনে প্রাধান্য দিয়ে নির্দেশনা

দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের ব্যয়ের আকার পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে থাকবে পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়। তবে উন্নয়ন খাতের প্রস্তাব অবশ্য সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে মিল বা সামঞ্জস্য থাকতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা এবং সম্ভাব্য ব্যয়সীমাও পাঠাতে বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসব তথ্যসহ প্রস্তাব জমা দিতে হবে অর্থ বিভাগে। এসব নির্দেশনা দিয়ে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

 

নিয়ম অনুযায়ী বছরের মধ্যভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী বাজেটের কার্যক্রম শুরু হয়। মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত ব্যয়সীমা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে বাজেট বৈঠক আয়োজন করা হবে। সেখানে ব্যয়সীমা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বাজেট ব্যবস্থাপনা কমিটি। এরপর খসড়া চূড়ান্ত করা হবে নতুন বাজেট কাঠামোর।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অর্থ বিভাগ এরই মধ্যে আগামী বাজেটের একটি সম্ভাব্য কাঠামো প্রণয়ন করেছে। সেখানে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি বাজেটে মোট ব্যয় হলো ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, টাকার অঙ্কে ৭১ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা বাড়ছে আগামী বাজেট। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যয় ৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। চলতি এডিপির আকার ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী অর্থবছরে সরকার মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রার সম্ভাব্য আকার

নির্ধারণ করেছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার

কোটি টাকা। যার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের অঙ্ক ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ১ শতাংশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সোমবার যুগান্তরকে বলেন, আশা করছি আগামী বছরে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক থাকবে। ব্যবসাবাণিজ্যের গতি আরও বাড়বে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভালো হচ্ছে, যা আরও বাড়বে। আমদানি-রপ্তানিতেও গতি ফিরছে। ফলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে। এসব দিক বিশ্লেষণ করে আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধিও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হবে-এমনটি আশা করছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্পদের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ব্যয় পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য নিরসন, নারী উন্নয়ন ও জলবায়ু সংক্রান্ত কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যয়সীমা ২০২২-২৩ নির্ধারণের পাশাপাশি ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নিরূপণ করতে হবে।

রাজস্ব আহরণের প্রসঙ্গে নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যমেয়াদি কী পরিমাণ সম্পদ পাওয়া যাবে, এ সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে হবে প্রস্তাবে। এই সম্পদের ওপর ভিত্তি করে বাজেট কাঠামো প্রস্তুত করতে হবে। সেখানে আরও বলা হয়, ব্যয় প্রণয়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। কারণ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সহায়তা কমলে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, তেমনই বৈদেশিক সহায়তা বাড়লে ওই মন্ত্রণালয়ের ব্যয় কমবে।

সূত্র জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া এরই মধ্যে অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য একটি সম্ভাব্য ব্যয়সীমা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় আকার হচ্ছে ৪ হাজার ৯৭ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে ১ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা এবং নারী উন্নয়নে ৭৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে ৭৩১ কোটি টাকা। তবে এ অর্থের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে কর্মসূচি থাকবে ৬৮১ কোটি টাকার এবং নারী উন্নয়নে থাকবে ২৭৬ কোটি টাকা। একইভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্ভাব্য ব্যয় সিলিং হচ্ছে ১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। এই অর্থের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যয় হবে ৬৯৮ কোটি টাকা এবং নারী উন্নয়ন খাতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি টাকা।

এছাড়া অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় সিলিং হচ্ছে ৪০ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা, আইন ও বিচার বিভাগে সম্ভাব্য ব্যয় সিলিং ১ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা, জননিরাপত্তা বিভাগে ২৪ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয়সীমা হলো ২৮ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা।

পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে সম্ভাব্য ব্যয়সীমা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ১৩৫ কোটি, স্বাস্থ্য বিভাগে ২৮ হাজার ৫০৫ কোটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ৮ হাজার ৯৭০ কোটি, স্থানীয় সরকার বিভাগে ৪১ হাজার ৫৭২ কোটি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ৭১২ কোটি টাকা।

এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ২৯৫ কোটি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার ৮২১ কোটি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ২১ হাজার ৬২১ কোটি, রেল মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ৯৪৭ কোটি, বিদ্যুৎ বিভাগে ২৬ হাজার ৬৬৭ কোটি, স্বাস্থ্যশিক্ষায় ৭ হাজার ৪৯৮ কোটি এবং সেতু বিভাগের জন্য ১০ হাজার ৮০২ কোটি টাকা ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূচকের উত্থানে চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৬ হাজার ৭০১ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৪২১ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৫০৮ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৪৫টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ৫৮টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৪৮৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ওয়ার্কার্স পার্টি

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে ওয়ার্কার্স পার্টির সংলাপ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন পার্টির সদস্যরা।

রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চলমান সংলাপের অংশ হিসেবে আজ বঙ্গভবনে গেল ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন- পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নুর আহমদ বকুল, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান এবং কমরেড নজরুল ইসলাম হাক্কানী প্রমুখ।

মির্জা ফখরুলকে চ্যালেঞ্জ মায়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা বলায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন- বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। তাও আবার নাকি প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো বড় মিথ্যা কথা, একজন কিভাবে বলতে পারে! আজ মির্জা ফখরুলকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই- আপনি মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস খালেদা জিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছেন! তার কমান্ডার কে ছিলেন!

দেশের কোথায় খালেদা যুদ্ধ করেছেন! একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে আপনি মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিলেন। এটা বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মেনে নিতে পারে না। এই মিথ্যাচারের জন্য আপনাকে (মির্জা ফখরুল) বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।

মায়া বীর বিক্রম বলেন, যুদ্ধের সময় তিনি (খালেদা জিয়া) ৯ মাস ক্যান্টনমেন্টে পাক হানাদার বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। সেখানে নিয়াজী-টিক্কা খানের আদরে আরাম-আয়াশে ছিলেন। অথচ আজ তারা (বিএনপি) বলে তিনি (খালেদা জিয়া) না কি দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। এটা মিথ্যা কথা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্য জীবী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর নস্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কার্যকরি সভাপতি সাইফুল আলম মানিক, সহ সভাপতি আাবুল বাশার, গফুর চৌকদ্দার, মোহাম্মদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাঁ, ফিরোজ আহমেদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম শফিক, দফতর সম্পাদক এম এইচ এনামুল হক রাজু প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল। তিনি তাদের মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করেছে। আর আজ মির্জা ফখরুল সাহেব খালেদাকে মুক্তিযোদ্ধা বানালেন।

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপি-খালেদা জিয়ারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করার জন্য ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হত্যা করার জন্য ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ঘটিয়েছিল। তাদের টার্গেট ছিল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যেন আর কোনো দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে। এই নীল নকশা নিয়ে একবার- দুই বার নয়, ১৯ বার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা আজ বেঁচে আছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বুঝতে পেড়েছে- আগুন, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, খুন ও মারামরি করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সড়ানো যায় না। তাই তারা (বিএনপি) খালেদার জিয়ার চিকিৎসার নামে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। অথচ সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেখম খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদার জিয়ার চিকিৎসা সেবা দিতে দিতে বিদেশ নেয়ার নামে বিএনপি নাটক এ দেশের মানুষ মানতে চায় না। মানবেও না।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, মুজিব আমার আদর্শ, চেতনা ও শক্তি। মুজিবের আদর্শের সেই শক্তি সঞ্চয় করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। স্বাধীনতার আগে পড়ে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন করেছে। সব কিছু অর্জন হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে।

তিনি আরও বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিলেন। অথচ সেই বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটিতে হত্যা করা হলো। সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি- বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যের হত্যা করেছে। সেদিন নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকে ঘাতকরা ছাড়েনি। অথচ শেখ রাসেল মায়ের কাছে যাওয়া জন্য বার বার আকুতি করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা ছোট্ট অবুঝ শিশুর আকুতি শোনেননি। ছোট্ট রাসেলকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে লিডার অব হিউম্যানিটি জানিয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বলতে চাই, এই বাংলাদেশ আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল, শেখ হাসিনা হচ্ছে সভ্যতার প্রতিক, মানবতার প্রতিক, বিশ্ব মানবতার মা, শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে লিডার অব হিউম্যানিটি।

সব নদীবন্দর ও জেলায় রেল যোগাযোগ হবে: রেলপথ মন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে রেলে আমূল পরিবর্তন আসছে। নতুন রেললাইন স্থাপন, অত্যাধুনিক রেল ইঞ্জিন-কোচসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নদী ও সমুদ্রবন্দরসহ সব জেলায় রেল যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এজন্য সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে রেলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের সামর্থ্য আরও বাড়াতে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ রেলের জন্য ৫৮০টি মিটারগেজ ওয়াগন ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরআরসি কোম্পানির সঙ্গে। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন চায়নার সিআরআরসি কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাই জিইয়েন।

মন্ত্রী বলেন, রেল ভ্রমণ সবচেয়ে সাশ্রয় ও নিরাপদ। রেল বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতির পিতার স্বপ্নের আত্মনির্ভরশীল, মর্যাদাপূর্ণ দেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের উন্নয়ন এবং দেশের মানুষের নিরাপদ সাশ্রয় যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে রেলকে গুরুত্ব দিয়ে বরাদ্দ বাড়াচ্ছেন। আধুনিক ট্রেন রেলবহরে যুক্ত করছেন। দ্রুতগামী ট্রেনসহ দেশে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।

মন্ত্রী বলেন, ৩১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫৮০টি মিটারগেজ ওয়াগন সংগ্রহের লক্ষ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আগামী ৩০ মাসের মধ্যে ওয়াগনগুলো সরবরাহ করা হবে। চালানো হবে নতুন নতুন ট্রেন। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারতের সঙ্গে ৮টি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের মধ্যে বর্তমানে পাঁচটি চালু করা হয়েছে। আরও তিনটি চালু হচ্ছে কয়েক বছরের মধ্যেই।

আশা করছি আগামী বছর ডিসেম্বরে কক্সবাজার রেললাইন চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। পর্যায়ক্রমে সব মিটারগেজকে ব্রডগেজে রূপান্তর করা হবে। চলমান রেলপথকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া যমুনা নদীর ওপর আলাদা সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে রেলওয়ের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

 

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী, সরদার সাহাদত আলী, কামরুল আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

‘রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার দায় সড়ক বিভাগের’

রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার দায় সড়ক বিভাগের রেলের নয়। সড়ক যান রেললাইন ক্রস করে চলাচল করছে রেল নয়। সড়ক যানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে স্থানীয় সরকার এবং সড়ক বিভাগ। এখানে পৌরসভারও দায়িত্ব রয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রেলভবন মিলনায়তনে বাংলাদেশ রেলের জন্য ৫৮০টি মিটারগেজ ওয়াগন ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সাফ করে বলে দিতে চাই- রেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। সংঘটিত দুর্ঘটনায় দেখা যাচ্ছে- লেভেল ক্রসিংগুলোর দুইপাশে ফেলা লোহার বার ভেঙে সড়ক যান রেলে উঠে যাচ্ছে- ধাক্কা দিচ্ছে। রেলওয়ে আইন অনুযায়ী- লাইনের দুইপাশে ২৪ ঘণ্টায় ১৪৪ ধারা জারি থাকে। যেখানে রেলই অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের রেলপথগুলো ৮০ বছর, ১০০ বছর থেকে ১৫০ বছর আগের। লেভেল ক্রসিংগুলো পূর্বের মতোই চলছে। আমরা এখন যেসব নতুন লাইন নির্মাণ করছি- সেগুলোর ওপর কিংবা নিচে আন্ডারপাস-ওভারপাস দেওয়ার পরিকল্পনা করে কাজ করছি।

লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রেল নিজস্ব পথে চলে- ট্রেন কখনও সড়কে উঠে না। দিনের পর দিন লেভেল ক্রসিংয়ে সড়ক যান উঠে পড়ছে। দুর্ঘটনায় রেলের ব্যাপক ক্ষতিসহ সাধারণ ট্রেন যাত্রীও নিহত হচ্ছে। লেভেল ক্রসিং বৈধ কিংবা অবৈধ যেটাই দুর্ঘটনা ঘটে- সেজন্য রেল দায়ী নয়। রেলকে দায়ী করা হচ্ছে।

এখানে রেলওয়ের কিছুই করার নেই। ট্রেন কখনও লাইন থেকে নেমে সড়ক যানকে ধাক্কা দেয় না- ট্রেনেই সব সড়ক যান ধাক্কা দিচ্ছে দিনের পর দিন।

মন্ত্রী বলেন, লেভেল ক্রসিংগুলোর বৈধ-অবৈধ নিয়ে নানা সময় প্রশ্ন উঠে। আমরা বলতে চাই, এনওসির মাধ্যমে আমরা বৈধতা দেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের পারাপারের দায়িত্ব রেল নেবে। রেল পারমিশন দিয়েছে যে লাইনের উপর দিয়ে যান পার করেন। সেখানে সড়ক যানের লোক দ্বারাই লাইন পার করতে হবে। রেলের নিরাপত্তা ঠিক রেখে আপনি আপনার বাস, ট্রাক, সিএনজি, মানুষ নিয়ে পারাপার হোন, আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন চায়নার সিআরআরসি কোম্পানি লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাই জিইয়েন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মঞ্জুর-উল-আলম চৌধুরী, সরদার সাহাদত আলী, কামরুল আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।