একই স্থানে একই সময়ে বিএনপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের সভা আহ্বান করায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙের আশঙ্কায় নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেহেতু আজকে আমাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। তাই আগামীতে অনুমতি ছাড়াই এই নওগাঁতে সমাবেশ হবে। সেই ধরনের মানসিক প্রস্তুতি রাখতে হবে আপনাদের। স্থগিত হওয়া এই সমাবেশ যে কোনো সময় ডাকা হতে পারে। সেই সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ জারির প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ শহরের মল্লিকা ইন কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের শক্তিকে ভয় পায় বলেই বিএনপিকে সমাবেশ আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করছে। নওগাঁ জেলা বিএনপির ডাকা জনসমাবেশে বিপুল পরিমাণ জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে এ সরকার আবার প্রমাণ করল তারা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ২টায় নওগাঁ শহরের নওজোয়ান মাঠে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই সময়ে একই স্থানে জেলা যুবলীগও সভা আহ্বান করে। এরপর জেলা বিএনপি শহরের এ-টিম মাঠে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানে জেলা ছাত্রলীগ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন পুরো পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
তিনি বলেন, সরকারকে বলব, এসবের অর্থ কী, দেশবাসী সব বোঝে। বিএনপির সমাবেশে বিপুল জনসমাগমের উপস্থিতি টের পেয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে নাটক সৃষ্টি করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
সরকারকে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, সময় থাকতে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নিরপেক্ষ সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। তা না হলে পালাবার পথটুকুও পাবেন না। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সেই পথও বন্ধও করে দিতে শুরু করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুল হক চন্দন, নওগাঁ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজমুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার সকালে একই স্থানে একই সময়ে বিএনপি ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের সভা আহ্বান করায় শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কায় নওগাঁ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। সোমবার বিকাল ৩টা থেকে বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত নওগাঁ পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
১৪৪ ধারা জারির পর সোমবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্বঘোষিত স্থানে সমাবেশ আয়োজনের ব্যাপারে অনড় থাকার ঘোষণা দেয় জেলা বিএনপি। তবে মঙ্গলবার সকালে সমাবেশ স্থগিত করার ঘোষণা দেয় জেলা বিএনপি।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নওগাঁ শহরের সাথে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ও অন্যান্য গণপরিবহণ ঢুকতে দেয়নি পুলিশ।


