বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তিযোদ্ধা বলায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম।
তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন- বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। তাও আবার নাকি প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো বড় মিথ্যা কথা, একজন কিভাবে বলতে পারে! আজ মির্জা ফখরুলকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই- আপনি মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ৯ মাস খালেদা জিয়া কোথায় যুদ্ধ করেছেন! তার কমান্ডার কে ছিলেন!
দেশের কোথায় খালেদা যুদ্ধ করেছেন! একজন অমুক্তিযোদ্ধাকে আপনি মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিলেন। এটা বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মেনে নিতে পারে না। এই মিথ্যাচারের জন্য আপনাকে (মির্জা ফখরুল) বিচারের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।
মায়া বীর বিক্রম বলেন, যুদ্ধের সময় তিনি (খালেদা জিয়া) ৯ মাস ক্যান্টনমেন্টে পাক হানাদার বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন। সেখানে নিয়াজী-টিক্কা খানের আদরে আরাম-আয়াশে ছিলেন। অথচ আজ তারা (বিএনপি) বলে তিনি (খালেদা জিয়া) না কি দেশের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা। এটা মিথ্যা কথা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর গুলিস্থানে বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্য জীবী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়ীদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন শেখ আজগর নস্করের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কার্যকরি সভাপতি সাইফুল আলম মানিক, সহ সভাপতি আাবুল বাশার, গফুর চৌকদ্দার, মোহাম্মদ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাঁ, ফিরোজ আহমেদ তালুকদার, প্রচার সম্পাদক শফিউল আলম শফিক, দফতর সম্পাদক এম এইচ এনামুল হক রাজু প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল। তিনি তাদের মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানিত করেছে। আর আজ মির্জা ফখরুল সাহেব খালেদাকে মুক্তিযোদ্ধা বানালেন।
আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপি-খালেদা জিয়ারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করার জন্য ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের হত্যা করার জন্য ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা ঘটিয়েছিল। তাদের টার্গেট ছিল স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি যেন আর কোনো দিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে। এই নীল নকশা নিয়ে একবার- দুই বার নয়, ১৯ বার জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আল্লাহর রহমতে শেখ হাসিনা আজ বেঁচে আছেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বুঝতে পেড়েছে- আগুন, সন্ত্রাস, হত্যা, গুম, খুন ও মারামরি করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সড়ানো যায় না। তাই তারা (বিএনপি) খালেদার জিয়ার চিকিৎসার নামে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। অথচ সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেখম খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খালেদার জিয়ার চিকিৎসা সেবা দিতে দিতে বিদেশ নেয়ার নামে বিএনপি নাটক এ দেশের মানুষ মানতে চায় না। মানবেও না।
অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, মুজিব আমার আদর্শ, চেতনা ও শক্তি। মুজিবের আদর্শের সেই শক্তি সঞ্চয় করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। স্বাধীনতার আগে পড়ে বাংলাদেশের যা কিছু অর্জন করেছে। সব কিছু অর্জন হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর যুদ্ধ বিধস্ত দেশকে পুনর্গঠনের সুযোগ পেয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিলেন। অথচ সেই বঙ্গবন্ধুকে বাংলার মাটিতে হত্যা করা হলো। সেদিন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি- বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল সদস্যের হত্যা করেছে। সেদিন নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেলকে ঘাতকরা ছাড়েনি। অথচ শেখ রাসেল মায়ের কাছে যাওয়া জন্য বার বার আকুতি করেছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা ছোট্ট অবুঝ শিশুর আকুতি শোনেননি। ছোট্ট রাসেলকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে লিডার অব হিউম্যানিটি জানিয়ে দলটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী বলেন, বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে বলতে চাই, এই বাংলাদেশ আজকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রোল মডেল, শেখ হাসিনা হচ্ছে সভ্যতার প্রতিক, মানবতার প্রতিক, বিশ্ব মানবতার মা, শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর কাছে লিডার অব হিউম্যানিটি।


