সোমবার ,১১ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 552

পরিচ্ছন্নতা কর্মীর হাত কামড়ে ধরল বাঘ, অতঃপর…

চিড়িয়াখানার এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীর হাত কামড়ে ধরার পর এক বাঘকে গুলি করে হত্যা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এই ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই খবর জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার নেপলস চিড়িয়াখানার এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে বাঘের খাঁচার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেন। ইকো নামে আট বছর বয়সী বাঘটি ওই হাত কামড়ে ধরে। অন্যরা বাঘটিতে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বাঘটি হাত না ছাড়ায় তাকে গুলি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি ছিল না। চিড়িয়াখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি সম্ভবত খাঁচার ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বাঘটিকে আদর করার কিংবা খাবার দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ওই পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে মারাত্মক আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি চিড়িয়াখানার নিয়মিত কর্মী নয়। চিড়িয়াখানার কাজের জন্য বাইরের প্রতিষ্ঠানের কর্মী তিনি।

চিড়িয়াখানার কোনো প্রাণীকে খাওয়ানো কিংবা আদর করা ‘অননুমোদিত এবং বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের’ মধ্যে পড়ে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গুলি খাওয়ার পর বাঘটি তার খাঁচার ভেতর ফিরে যায়। সেখানে যাওয়ার পর বাঘটি অচেতন হয়ে যায়। পরে বাঘটির মৃত্যু হয়।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাইরের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের টয়লেট ও গিফট শপ পরিষ্কার করার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

মাঠ প্রশাসন পরিবর্তনে কঠিন হিসাব-নিকাশ

ডিসি সম্মেলনের আগেই মাঠ প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের চিন্তা করছে সরকার। ডিসিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে মাঠ থেকে তুলে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে।

 

সাধারণত ডিসিদের তিন বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের মধ্যে যারা ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তাদের সময়েই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই নতুন ডিসি নিয়োগের বিষয়ে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ চলছে বলে জানা গেছে।

চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী ও গাজীপুর জেলার ডিসিরা ২০ ব্যাচের কর্মকর্তা। তারা যুগ্মসচিব হিসাবে পদোন্নতি পাওয়ায় অনেক আগেই প্রত্যাহারযোগ্য হয়ে আছেন।

এদের সঙ্গে ২১ ব্যাচের কয়েকজন ডিসিকেও মাঠ থেকে তুলে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ২১ ব্যাচের কর্মকর্তা ও সিলেটের ডিসি কাজী এমদাদুল ইসলামকে সৌদি দূতাবাসে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিগগিরই তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসি সম্মেলনের আগে মাঠ প্রশাসনে পরিবর্তনের একটা প্রথা আছে।

তারই ধারাবাহিকতায় শিগগিরই এ পরিবর্তন হবে। সেই সঙ্গে আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়টাও মাথায় রেখে ডিসিদের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের সময় ডিসিদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডিসিদের নিয়োগ দিয়ে আবার দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে যাতে প্রত্যাহার না করতে হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গত নির্বাচনের আগে আগে বেশ কয়েকজন ডিসিকে প্রত্যাহার করে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এতে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল সরকারকে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই এবারের ডিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে এসব বিষয় খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

মাঠ প্রশাসনের এ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিসি পদের প্রত্যাশীরা নতুন আদেশের অপেক্ষার আশায় আছেন। গাজীপুরের ডিসি তরিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গার নজরুল ইসলাম ও নীলফামারীর হাফিজুর রহমান গত অক্টোবরে যুগ্মসচিব হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন।

উপসচিব পদধারী কর্মকর্তাদের ডিসি হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। মেয়াদ পূর্ণ হলে পদোন্নতি পাওয়ার আগেই ডিসিদের মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে যারা মাঠে থাকতেই যুগ্মসচিব পদোন্নতি পান তাদের দ্রুতই প্রত্যাহার করা হয়।

অন্যদিকে ২১ ব্যাচের কয়েকজন কর্মকর্তা তিন বছরের বেশি সময় ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সিলেটের ডিসি এমদাদুল ইসলাম যিনি ইতোমধ্যে বিদেশে পদায়ন পেয়েছেন।

এর বাইরে পিরোজপুরের ডিসি সাজ্জাদ হোসেন, গাইবান্ধার আবদুল মতিন, ঢাকার শহীদুল ইসলাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হায়াত-উদ-দৌলা খান রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এরা ২০১৮ সালে ডিসি হিসাবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এসব কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তারাও আদেশ হওয়ামাত্র চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিকে মাঠ প্রশাসনে এ পরিবর্তনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ২৪ ব্যাচের ডিসি ফিটলিস্টভুক্ত কর্মকর্তারা। সেই সঙ্গে এ নিয়োগের পরপরই নতুন ফিটলিস্ট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ২৪ ব্যাচের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ডিসি হওয়া যে কোনো কর্মকর্তার জন্য অনেক বড় অর্জন। যদিও এ কাজের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সহজে ছুটি পাওয়া যায় না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ থাকে। রাত-দিন কাজ করতে হয়। তার পরও মাঠ প্রশাসনের এ পদটির বিশেষ সম্মান আছে। যা চাকরি জীবনে পরবর্তী সময়ে বিশেষ যোগ্যতা হিসাবে দেখা হয়।

এদিকে, দুই বছর পর ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা থাকলেও তা হচ্ছে না।

ঠিক কোন তারিখে সম্মেলন হবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের দিকে এ সম্মেলন হতে পারে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্মেলনের আগেই নতুন ডিসিদের পদায়ন করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

বিমানে সহযাত্রীকে ঘুসি, থুথু ছুড়লেন নারী

বিমান যাত্রীদের নানা উদ্ভট কর্মকাণ্ড প্রায়ই গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়। তবে এই নারী মধ্য আকাশে বিমান চলাকালে এক সহাযাত্রীর ওপর চড়াও হন। শুধু ঘুসি দিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি, ওই যাত্রীর ওপর থুথুও ছুড়েছেন।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টাম্পা থেকে আটলান্টাগামী একটি ফ্লাইটে প্যাট্রিসিয়া কর্নওয়েল নামে ওই নারী টয়লেট থেকে ফিরছিলেন। করিডরে এক বিমানকর্মী পানীয়াবাহী ছোট টেবিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই বিমানকর্মী প্যাট্রিসিয়াকে টেবিলটি সরিয়ে নেওয়া পর্যন্ত সামনের একটি আসনে অপেক্ষা করতে বলেন।

ব্যস এতেই রেগে যান প্যাট্রিসিয়া। রেগে তিনি বলেন, জানেন আমি কে? আমি রোসা পার্কস। রোসা পার্কস যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের আন্দোলনের একজন সক্রিয়কর্মী ছিলেন, যিনি ১৯৫৫ সালে শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির জন্য বাসের আসন ছাড়তে অস্বীকার করেছিলেন।

এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তি বলেন, আপনি কৃষ্ণাঙ্গ নন, এটা আলাবামাও নয়, বাসও নয়।

এতে আরও ক্ষেপে যান প্যাট্রিসিয়া। একপর্যায়ে তিনি ওই ব্যক্তিকে ঘুসি মারেন ও তার দিকে থুথু ছোড়েন।

২৩ ডিসেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও তার সহযাত্রীরা ধারণ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে প্যাট্রিসিয়া সহাযাত্রীকে মাস্ক না পরার জন্য ধমক দিচ্ছেন বলেও দেখা যায়। যদিও প্যাট্রিসিয়ার নিজের মাস্ক তখন তার থুতনিতে নামানো ছিল।

এই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই প্যাট্রিসিয়াকে গ্রেফতার করেছে

আনোয়ারা-শওকত ট্রাস্ট ও ভরসা ইন্সটিটিউট-এর শুভ উদ্বোধন

ঢাকা, বাংলাদেশঃ সময়ের পথে যাত্রা শুরু করলো আনোয়ারা-শওকত ট্রাস্ট ও ভরসা ইন্সটিটিউট। ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, বুধবার উৎসব হল, রেডিসন বøু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে সমাজ- কল্যাণমূলক এই প্রতিষ্ঠান দু’টির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য উদ্যোক্তা টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির-এর প্রতিষ্ঠাতা ও স্বত্বাধিকারী মিজ মনিরা এমদাদ। পরিবার ও ক্যারিয়ার
পাশাপাশি সামলে কীভাবে তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তায় পরিণত হলেন – সেই এগিয়ে চলার প্রেরণার গল্প শোনান তিনি তাঁর বক্তব্যে। অনুষ্ঠানে আনোয়ারা-শওকত ট্রাস্টের চেয়ারপার্সন মিজ আঞ্জুমান আজিজ খান তাঁর স্বপ্নের কথা বলেন। তিনি বলেন, গৃহসেবা ও কর্মদক্ষতা তৈরির মাধ্যমে নারী ও তরুণসমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে চাকুরি কিংবা স্বাধীন পেশাজীবী জনশক্তি গড়ে তোলাই ভরসা ইন্সটিটিউটের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ভরসা ইন্সটিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গৃহসেবা, বৃদ্ধ ও শিশুর যত্ন সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকারী ও সেবা প্রদানকারীদের ওপর পরিচালিত বেইজলাইন সার্ভের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর মিজ মিরা মিত্র জরিপ থেকে পাওয়া মূল উপাত্তসমূহ তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মজীবী অভিভাবক, বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে উদ্ভ‚ত গৃহসেবা, বৃদ্ধ ও শিশুর যত্নের জন্য যোগ্যতাসম্পন্ন দক্ষ গৃহ-ব্যবস্থাপকের চাহিদার উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। জনাব মোঃ আবির মজুমদার, কনসালটেন্ট, শুভংকর অ্যান্ড কোম্পানি তাঁর বক্তব্য উপস্থাপনায় বলেন, “একটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্লাটফর্ম হিসেবে ভরসা ইন্সটিটিউট নিজেকে দাঁড় করাতে চায় যা শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষক এবং চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে নানাধরনের পরীক্ষামূলক গবেষণা, শ্রেণিকক্ষ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রদর্শন কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে এবং সমাজের চাহিদাকে পূরণ করবে। ভরসা ইন্সটিটিউট আনোয়ারা-শওকত ট্রাস্টের একটি উদ্যোগ যা সমাজের নিচের স্তরের মানুষের মাঝে পেশাজীবী দক্ষতা তৈরির মাধ্যমে তাদেরকে একটি সম্মানজনক পেশার সুযোগ করে দেয়। ফলোশ্রুতিতে গৃহসেবা, বৃদ্ধ ও শিশুর যতœ নেয়ার জন্য সমাজে উদ্ভ‚ত প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও পেশাজীবী গৃহ-ব্যবস্থাপকের চাহিদা তারা পূরণ করতে পারবে। আনোয়ারা- শওকত ট্রাস্ট ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট অ্যাক্ট দ্বারা নিবন্ধিত একটি মানবকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান যা মূলত বিভিন্ন সামাজিক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পলা’র গল্প

অনেকটা বেকায়দা সময়ে মারা গেলেন জোহরা বেগম। ঠিক মাগরিবের নামাজের পর পর। একে তো গ্রাম, তার ওপর আবার শীতকাল। সন্ধ্যা হতেই চারদিকে অন্ধকার হয়ে যায়। সঙ্গে তীব্র শীত। পলা পড়ল ভীষণ বিপদে। ঘরে বলতে গেলে পলা একাই। বিধবা জোহরা বেগমের চার সন্তানের কেউ এখানে থাকে না। এখন এ মৃত বাড়িতে পলার এক মাত্র সঙ্গী হলো তুতু। তুতু ওর পোষা কুকুর। তুতুকে বসিয়ে রেখে পলা গেল প্রতিবেশীদের খবর দিতে। মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়েই রওনা দিয়েছে জবা। জবা জোহরা বেগমের বড় মেয়ে। পাশের গ্রামেই জবার শ্বশুরবাড়ি। এত কাছে থাকে জবা। তবু বিধবা মাকে দেখতে আসার সময় হয় নাই এতদিন!

জোহরা বেগমের আরেক মেয়ে বকুল। থাকে জেলা শহরে। সে সাত দিনের পোয়াতি। যদিও বকুলের স্বামী তাকে যেতে বলেছিল! কিন্তু বকুল বাজখাই গলায় প্রতিবাদ করেছে-এ অবস্থায় আমি কীভাবে যাই মরা বাড়িতে? যদি বাচ্চার অমঙ্গল হয়? এই বলে কাঁদতে থাকে বকুল। বকুলের স্বামী আর দেবর আসবে মাটি দিতে। জোহরা বেগমের ছোট মেয়ে পারুল। ইঞ্জিনিয়ার স্বামীর সঙ্গে সে সিরাজগঞ্জ থাকে। এখন ডিসেম্বর মাস তাই সামনে ছেলেদের বার্ষিক পরীক্ষা। অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামীসহ রওনা দিয়েছে পারুল। দিনাজপুরে আসতে আসতে তার অনেক রাত হবে। সবাইকে ফোন দিয়ে পলা শেষে ফোন দেয় ছোটনকে। জোহরা বেগমের আদরের ছেলে ছোটন। ছোটন ঢাকায় থাকে। অনেক বড় চাকরি করে ছোটন।

-তুমি রাইতের ট্রেন ধইরা চইলা আসো ছোটন। না হইলে ছোট আম্মারে মাটি দিতে পারবা না। এই বলে ঝরঝর করে কেঁদেছিল পলা। এরপর আর একটিবারের জন্য কাঁদেনি পলা। আসলে কান্নার সুযোগটাই বা পেল কোথায় সে? এক হাতে সবকিছু করছে পলা। দাফন, কাফন, জানাজা আয়োজন সবকিছু। তাই মরা বাড়ির মরা কান্নায় গতি আসে না। অবশেষে জবা আসাতে কিছুটা রক্ষা। জবা মেয়েলি কান্নায় মরা বাড়ির পরিবেশ ভারী করে রাখল।

পলা একটা হ্যাজাক বাতি ভাড়া করে উঠানে ঝুলিয়ে দিল। হ্যাজাকের আলোতে আলোকিত হলো জোহরা বেগমের বসতবাটি। বাড়ির দুই দিকে প্রাচীরের মতো টানা বাংলাঘর। পেছনে রান্নাঘর। দেউড়িতে দুটি অশ্বথগাছ ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির সামনে একটা পুরোনো খানকাঘর।

খানকাঘরে মুসল্লিরা জড়ো হয়েছে। বড় হুজুর পলাকে বললেন,

-কখন দাফন করবা ঠিক করলা কিছু পলা? আরও রাত করলে কবর দেওয়ার মতো মুসল্লি পাওয়া যাবে না।

-ছোট আম্মার শেষ ইচ্ছা ছিল ছোটনকে দেখবে। ছোটন আসার আগে লাশ দাফন করি কেমনে হুজুর? মাঝরাতের ট্রেনে ছোটন আসবে।

-সবই আল্লাহর ইচ্ছা। কাল বাদ ফজর মুর্দার মাটি হবে।

হুজুরের এক ঘোষণায় খানকাঘর খালি হয়ে গেল। বাড়ির ভেতরে যে প্রতিবেশী দুই-একজন মহিলা ছিলেন তারাও চলে গেলেন। জোহরা বেগমের খাটিয়াটি রাখা হয়েছে বাংলাঘরের বারান্দায়। পলা, জবা আর শেফালির স্বামী থাকল লাশ পাহারায়। কিছুক্ষণ আগে জবাও চলে গেল কোনো এক অজুহাতে। জবা চলে যেতেই মরা বাড়ির মরা কান্না একেবারে থেমে গেল। সারা বাড়ি নিশ্চুপ নির্জন। একটু আগে স্টেশনের ঘড়িতে রাত বারোটার বেল বাজল। ঢং ঢং ঢং।

এখন বারান্দায় লাশ নিয়ে বসে আছে পলা আর বকুলের স্বামী। বকুলের স্বামীর চোখ ঘুমে ঢুলুঢুলু করছে। বকুলের দেবরকে বাংলাঘরে শুতে দেওয়া হয়েছে। বকুলের স্বামীকেও পলা বলেছিল শুয়ে পড়তে। বকুলের স্বামী বলেছিল

-লাশ বাইরে রেখে কিসের ঘুম পলা ভাই? দেখতে দেখতেই সকাল হয়ে যাবে। কিন্তু কিছুক্ষণ আগে পলা একটু জোরাজুরি করতেই বাংলাঘরে গিয়ে শুয়ে পড়েছে বকুলের স্বামী। পলা এখন একা। সবাই চলে যাওয়াতে পলার অবশ্য খারাপ লাগছে না। একটু পর দেউড়িতে কিসের যেন শব্দ শুনতে পায় পলা। গলা খাঁকারি দিয়ে পলা বলে-ছোটন আইলা?

না, ছোটনের কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। তার পরিবর্তে তুতুর ঘেও ঘেও শব্দ কানে আসে। দেওড়ি পেরিয়ে দুটি জ্বলজ্বলে চোখ এগিয়ে এসে আশ্রয় নেয় পলার কোলে। পলা পুরোনো কাশ্মীরী শালটা জড়িয়ে দেয় তুতুর গায়ে। এ অনাহুত দুটি প্রাণী আজ এ বাড়ির আপনার চেয়েও আপন হয়ে উঠেছে। তুতু পলার পাশে বসে লেজ নাড়াতে থাকে। কি এক অব্যক্ত কথার তাড়নায় কুঁইকুঁই করতে থাকে তুতু। রান্নাঘর থেকে খড়ের বিচালি এনে আগুন জ্বালায় পলা। আগুনের ওম নিতে থেকে ওরা দুটি প্রাণী। নীলগঞ্জে এবার যেন শীত অনেক বেশি পড়েছে! সেবারো অনেক শীত পড়েছিল। যেদিন পলা এ বাড়িতে এসেছিল। খালি পায়ে কাঁপতে কাঁপতে কখন যে এ বাড়ির চৌহদ্দিতে পা দিয়েছিল পলা, আজো তা মনে করতে পারে না।

সকালে যখন জোহরা বেগম ওকে পেলেন তখন ওর হাত ভর্তি ছিল কুড়ানো শিউলি ফুল। পা খালি। নাক ভর্তি সিনকি।

সঙ্গে ছিল একটি কুকুর ছানা। তুতুর দাদার দাদা হবে হয়তো!

জোহরা বেগম পলাকে জিজ্ঞেস করলেন,

-এই ছেলে তুই কে রে? কই থাইকা আইলি? নাম কী তোর?

পলা পিটপিট করে শুধু তাকিয়ে ছিল জোহরা বেগমের দিকে। আর বলেছিল..

-আম্মা, আম্মা। আম্মার কাছে যাব।

বাজা বৌ জোহরা বেগম একটানে বুকে তুলে নিয়েছিলেন।

সেদিন থেকে আজ অবধি পলা এ বাড়িতেই রয়ে গেল।

পালক ছেলে বলে নাম হলো পলা। এরপর বছর ছয় ঘুরতেই বাজা জোহরা বেগম মা হলেন। একে একে ঘরে এলো তিন মেয়ে আর এক ছেলে। ততদিনে জোহরা বেগমের আদরে পলা তার নিজের মায়ের কথা ভুলে গেছে। জোহরা বেগমের ছেলেমেয়েরা বড় হতে থাকে। একদিন হুট করে মারা যায় জোহরা বেগমের স্বামী। সংসারের জোয়াল এসে পলার কাঁধে অনিবার্যভাবে আশ্রয় নেয়। আর সংসার পাতা হয় না পলার।

পলার প্রতি এহেন অবিচারে জোহরা বেগমের বুক কাঁপে। কোনো এক নির্জন বিকালে হয়তো পলা বসে থাকে জোহরা বেগমের শিয়রের কাছে। জোহরা বেগম বলেন,

-তুই আমাকে মাফ করে দিস পলা। আমি তোর প্রতি অবিচার করেছি।

-ছি ছোট আম্মা।

-আমি তরে দশ কানি জমি লিখে দিলাম পলা। আমি তরে বিয়া দিমু। এই জমিতে তুই নতুন সংসার পাতবি।

-আমি জমি দিয়ে কী করব ছোট আম্মা? আপনি তো আছেন। আমার আর কিছু লাগবে না ছোট আম্মা।

-তোর আম্মা কি আমার চেয়েও তরে বেশি সোহাগ করত রে পলা?

পলা এ কথার কোনো উত্তর খুঁজে দেখেনি। তবু বিষণ্ন কোনো সন্ধ্যায় পলার চোখে নিজের মায়ের মুখটা যেন ভেসে ওঠে। নোলকপড়া গাঁয়ের বধূ শুধু পলাকে ডেকে যায়। সে গাঁয়ের ঠিকানা পলা জানে না। শুধু জানে সেই গ্রামে সকালে সূর্য উঠে, পাখি ডাকে। আর নোলকপড়া বধূটা পলাকে সোহাগ করে কোলে তুলে নেয়। যার বুকজুড়ে আছে সর্ষে ফুলের হলুদ ঘ্রাণ। সে নোলক দুলিয়ে পলাকে ডাকে… আয়-আয় আয়। কিন্তু পলা যেতে পারে না জোহরা বেগমের মায়া ছিঁড়ে।

হুম, আজ রাতেও পলা জোহরা বেগমকে রেখে শুতে যেতে পারেনি। জোহরা বেগমের লাশ নিয়ে বারান্দায় বসে থাকে সে। একটু পরে খানকাঘরের সামনে বড় মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায়। ঘেউ ঘেউ করে বাইরে বেরিয়ে আসে তুতু। পারুল এসে নামে বাড়িতে। মায়ের মুখ দেখে কাঁদতে থাকে পারুল। পারুলের কান্নায় এ মাঝরাতে কেমন একটা ঘোর লাগে পলার। তবে এক সময় পারুলের হিসেবি কান্নাও শেষ হয়ে যায়। চোখ মুছে বলে, তোমাদের জামাই উপজেলার ডাকবাংলো বুকিং করেছে। আজ রাতে তোমাদের জামাই দুই বাচ্চা নিয়ে ওখানেই থাকবে। পলা নিচু স্বরে বলে, তুমিও যাও পারুল।

-কিন্তু?

-কিন্তু আর কী পারুল? আমি আছি তো!

এই বলে পলা ওদেরকে আবার গাড়িতে তুলে দিল।

ভেতর বাড়িতে এসে হ্যাজাকের গ্যাস পাম্প করে পলা আবার বসল খাটিয়ার পাশে। বসে বসে তন্দ্রার মতো হলো পলার। পলা যেন দাঁড়িয়ে আছে ছাতিমগাছটার নিচে। হাতে কুড়ানো শিউলি ফুল। সঙ্গে একটা কুকুর ছানা। আম্মা আম্মা করে সমানে কেঁদে চলছে পলা। নোলকপড়া গ্রাম্য মহিলাটা যেন একটানে বুকে তুলে নিতে চায় পলাকে। আয়-আয়-আয়…

এ সময় হুইসেলের শব্দে তন্দ্রা কাটে পলার। শেষ রাতের ট্রেন এসে লাগে স্টেশনে। পলার বুকটা হু হু করে ওঠে।

আরও কিছুক্ষণ পর খানকাঘরের পেছনে রিকশার টুংটাং শব্দ শোনা যায়।

-ছোটন এলি?

খানকাঘরের সামনে একটা রিকশা দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু হ্যারিকেনের টিমটিমে আলোয় আরোহীকে চিনতে পারে না পলা।

-আপনি কে?

-আমি মাসুদ আলী। জহীরুল ইসলাম স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন।

-কে? জহীরুল? আমাদের ছোটন?

-জ্বি। আসলে, স্যার একটা জরুরি কাজের জন্য আসতে পারেননি।

-কী বললেন! ছোটন আসে নাই?

-না। এই খামটা রাখেন। বিশ হাজার টাকা আছে।

-টাকা?

-স্যার দিয়েছেন খালাম্মার কুলখানির জন্য। তিনি বলেছেন সময় পেলেই কবর জিয়ারত করতে আসবেন।

পলার চোখে আবার পানি এলো। নিজেকে সামলে নিল সে। টাকাগুলো ফিরিয়ে দিয়ে লোকটাকে বাংলাঘরে শুতে দিল।

আবার লাশের পাশে এসে বসে পলা। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান হলো। জানাজা শেষে কবর দেওয়া হলো জোহরা বেগমকে। সবাই কবরে মাটি দিয়ে চলে গেল। জোহরা বেগম তার রক্তের কারও হাতের মাটি পেলেন না। মাটি শেষে দেউড়ির শিউলি তলায় এসে দাঁড়ায় পলা। আনমনে শিউলি ফুলে মুঠি ভরে ফেলে সে। লেজ নাড়তে নাড়তে পাশে এসে দাঁড়ায় তুতু। এ যেন সেই সকাল। সেই ভোর। সেই শিউলি ফুল হাতে ছোট্ট পলা। শুধু মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে পলার জীবনের অনেকটা সময়। কিন্তু আজ পলাকে কোলে তুলে নেওয়ার জন্য জোহরা বেগম নেই! শুধু নোলকপড়া গ্রামের বধূটা সুদূর থেকে যেন ডেকে যায় পলাকে,

…আয়-আয়-আয়

ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে শঙ্কা

তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির এ সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি অন্যতম আলোচিত একই সঙ্গে সমালোচিত নাম। যদিও এ কারেন্সি কোনো সরকার বা রাষ্ট্র উৎপাদন বা সরবরাহ করে না। বিভিন্ন জটিল সব অ্যালগোরিদম, ব্লক এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি অনুসরণ করেই একেকটি কয়েন বানাতে হয়। এবং এই কারেন্সি শুধু ভার্চুয়াল দুনিয়াতেই ব্যবহার করা সম্ভব।

ভার্চুয়াল এ মুদ্রার ঊর্ধ্বমুখী ‘গতি’ নিয়ে গভীর শঙ্কায় ভুগছে ‘ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড (আইএমএফ)’। ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং এর বাজার এত দ্রুত বিস্তার লাভ করছে যে এর সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না আইনপ্রণেতা ও নীতিনির্ধারকরা। জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ক্রিপ্টো সম্পদের বাজারমূল্য আগের বছরের তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

ডিজিটাল মুদ্রা খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতার অভাব, গ্রাহক ঝুঁকি আর সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থি কর্মকাণ্ডে এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে শঙ্কিত আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি।

এ প্রসঙ্গে অক্টোবর মাসেই আইএমএফ-এর সহকারী বিভাগ প্রধান ইভান পাপ্পাজিওর্জিও বলেছেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার নজর কাড়ার মতো বেড়েছে-পুরো প্রক্রিয়াটি উল্লেখযোগ্য স্থিতিশীলতা দেখাচ্ছে কিন্তু বেশ কিছু কৌতূহল উদ্দীপক স্ট্রেস টেস্টও হয়েছে।’ ডিজিটাল মুদ্রার যে বিষয়গুলো নিয়ে আইএমএফ শঙ্কিত তার মধ্যে প্রথমেই আছে এই খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সাম্প্রতিক সময়ে যারা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাঠে নেমেছেন তাদের ‘ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকি মোকাবিলার’ ক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।

পরিস্থিতি জটিল করছে ‘ইনফ্লুয়েন্সাররা’

ক্রিপ্টো খাতের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সংশ্লিষ্টতাই বর্তমান পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করে তুলছে। ‘প্রতারকরা সামজিক মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের আর্থিক সুবিধা দিয়ে জল্পনা-কল্পনার ভিত্তিতে নতুন টোকেনের দাম বাড়িয়ে আবার বেচে দিয়ে মুনাফা লুটে নিচ্ছে নিয়মিতভাবে। কিছু ইনফ্লুয়েন্সার এমন ক্রিপ্টো কয়েন নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন যে পরে দেখা যায় তার অস্তিত্বই নেই।’-সেপ্টেম্বর মাসেই এই বক্তব্য দিয়েছিলেন এফসিএ প্রধান চার্লস র‌্যান্ডাল।

কিম কারদাশিয়ানের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ২০ কোটির বেশি। বছরের শুরুতেই ‘ইথেরিয়ামম্যাক্স’ নামের এক ক্রিপ্টোমুদ্রার বিজ্ঞাপনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়াও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার আরও ইনফ্লুয়েন্সার।

সমাধান কী?

ভার্চুয়াল এ মুদ্রার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে বিজ্ঞাপনী প্রচারণার ওপর নজর রাখা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের পরিষ্কার তথ্য দেওয়া উচিত নীতিনির্ধারকদের। এক দিনের ব্যবধানে আকাশ-পাতাল পরিবর্তন আসছে এই ডিজিটাল মুদ্রার বাজারে। এ খাতে তরুণদের আগ্রহ নিয়েও বিপাকে পড়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

নির্বিচারে ডিজিটাল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রয়োজন নেই। তবে তার লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) মুখ্য অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ। ‘নিষেধাজ্ঞা জারির পরিবর্তে বিশ্বজুড়ে ভার্চুয়াল সম্পদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে একটি আন্তর্জাতিক নীতি প্রণয়ন করা উচিত।’ উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দেহসত্তায় আল্লাহর সাক্ষ্যের বিস্ময়কর আয়োজন

তোমার বদান্যতার মর্ম বুঝতে চাইলাম। নিজের ভেতর থেকে অনুসন্ধান শুরু করলাম। আমার সবকিছুই তো জারি আছে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধারায়। সেখানেই দেখতে পেলাম বিরতিহীন অনুগ্রহ ও করুণায় তোমার প্রকাশ!

একটি মিনিট চলে গেলো। প্রায় ১৮ বার শ্বাস নিয়ে থাকবো। উচিত ছিলো কমপক্ষে ১৮ বার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ।

একটি ঘন্টা চলে গেলো। প্রায় ১ হাজার ৮০ বার শ্বাস নিয়ে থাকবো। উচিত ছিলো ১ হাজার ৮০ বার শুকরিয়া আদায়।

একটি দিন চলে গেলো।প্রায় ২৫ হাজার ৯২০ বার শ্বাস নিয়ে থাকবো। উচিত ছিলো ২৫ হাজার ৯২০ বার তোমাকে স্মরণ করা।

একটি শ্বাসের পেছনে দেহে এবং দেহের বাইরে তোমার যে আয়োজন, তুমি চাইলেই তা বন্ধ করে দিতে পারতে। এ শ্বাস গ্রহণের মধ্যে মানুষে মানুষে রয়েছে তারতম্য।

একেবারে ছোট্ট শিশুরা শ্বাস নেয় সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। প্রতি মিনিটে তারা শ্বাস নেয় ৩০-৬০ বার। একটু বড় বাচ্চারা মিনিটে ২০-৩০ বার শ্বাস নেয়। কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্করা মিনিটে নেয় ১২-২০ বার ।
সক্রিয় শারীরিক তৎপরতা ও বিশ্রামকালে আমাদের শ্বাসগ্রহণে দেখা যায় ভিন্নতা। বিশ্রামে একজন বয়স্ক মানুষ দিনে শ্বাস নিতে পারে ১৭ থেকে ত্রিশ হাজার বার। কাজের মধ্যে প্রতিদিন শ্বাস গ্রহণের পরিমাণ ৫০ হাজার বারে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিনিয়ত শ্বাসগ্রহণের পাশাপাশি শরীরে ঘটছে কতো ঘটনা। প্রতি মিনিটে দেহে মারা যাচ্ছে ৩০ লাখ কোষ, জন্ম নিচ্ছে আরো ত্রিশ লাখ। একেক কোষ একেক সেল বা কক্ষ। জীবদেহের কার্যগত ও গঠনগত একক হচ্ছে কোষ। অর্ধভেদ্য বা প্রভেদক ভেদ্য পর্দা দ্বারা সে বেষ্টিত, প্রোটোপ্লাজম দ্বারা নির্মিত, সে স্বপ্রজননশীল।

কোষগুলোর আবার আছে গঠনগত পার্থক্য, আকৃতিগত ভিন্নতা এবং কাজেরও স্বাতন্ত্র। সবার কাজ এক রকম নয়। চরিত্রও আলাদা। প্রতি সেকেন্ডে ঘটছে ৫০ হাজার কোষের মৃত্যু আর ৫০ হাজার নতুন কোষের জন্ম।

স্নায়ুগুলোর মাধ্যমে দেহ থেকে মস্তিষ্কে এবং মস্তিষ্ক থেকে দেহে সংকেত আসা যাওয়া করছে প্রত্যহ, সর্বোচ্চ প্রতি ঘন্টায় ২৬৮ মাইল গতিতে।

প্রায় ৩৭ লক্ষ কোটি কোষ আছে মানব শরীরে। প্রতিটি কোষেই আছে জীবন। এর মানে শুধু কোষকেন্দ্রিক প্রায় ৩৭ লাখ কোটি জীবন জারি আছে আমার সক্রিয় থাকার প্রয়োজনে!

কতো রহস্যময় কাজ রয়েছে কোষবিন্যাসে! নিতান্তই ক্ষুদ্র এসব কোষ! একটি সূচের মাথায় মানবদেহের প্রায় দশ হাজার কোষ স্থাপন করা যায়। কিন্তু এসব কোষের আছে শাখা-প্রশাখা।

একটি কোষে থাকে প্রধানত তিনটি অংশ। কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস। এগুলোকে একত্রে প্রোটোপ্লাজম বলতে পারি।

এই প্রোটোপ্লাজম হচ্ছে জীবের জীবনের ভিত্তি। এটি যে কোষে থাকে না, সে মরে যায়। জীবিত কোষ মানেই একেকটা প্রোটোপ্লাজম। যার আছে চেতনা ও বংশবিস্তার।

এসব কোষের উপরই নির্ভর করে জীবদেহের সকল কাজ! মানে আমার প্রতিটি কাজের পেছনে কাজ করছে কোটি কোটি জীবন।

শরীরে সক্রিয় আছে রক্তপ্রবাহ, একজন প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরাগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ হবে ১ লাখ মাইল!রক্ত নামের অস্বচ্ছ লাল তরল পদার্থটি শরীরের জ্বালানি এবং অভ্যন্তরীণ এক পরিবহন মাধ্যম।শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করছে, দেহের অন্য সব তরল পদার্থে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করছে, দেহ রোগ্রক্রান্ত হলে জীবাণুর বিরুদ্ধে গড়ে তুলছে প্রথম প্রতিরোধ।
তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো, শিরা বা ধমনীর মধ্য দিয়ে দেহের প্রতিটি টিস্যুতে খাবার ও অক্সিজেন পৌছে দেয়া । টিস্যু বা কোষগুচ্ছসমূহের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ক্ষয়রোধের জন্যে এ খাবার ও অক্সিজেন অপরিহার্য।

এর পাশাপাশি রক্ত টিস্যুর বর্জ্যগুলো বের করে দিচ্ছে,কার্বন-ডাই-অক্সাইডকে বয়ে নিচ্ছে ফুসফুসে; দেহের বাইরে বের করে দিতে, বাড়তি উপাদানগুলোকে বয়ে নিচ্ছে কিডনিতে, অবাঞ্চিত অংশ সেখান থেকে দেহের বাইরে চলে যাওয়া নিশ্চিত হবে।

দেহের বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নিঃসরিত হরমোন রক্তের মাধ্যমেই পৌঁছে যায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, নিশ্চিত করে ওই অঙ্গের কর্মক্ষমতাকে।

রক্তে রয়েছে নানা উপাদান। প্রত্যেক উপাদানের কাজ বিচিত্র।এক ফোঁটা রক্তে থাকে ২৫০ মিলিয়ন বা ২৫ কোটি লোহিতকণিকা, চার লাখ শ্বেতকণিকা ও ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি প্লাটিলেট তথা অণুচক্রিকা, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য জরুরী। এ কণিকগুলো ডুবে থাকে তরল প্লাজমার মধ্যে। প্লাজমা রক্তের অনুজ্জ্বল হলদে জলীয় অংশ। রক্তের প্রধান অংশ এই প্লাজমা।

লোহিতকণিকা আপন কাজ করছে। সে ফুসফুস থেকে হৃৎপিণ্ড হয়ে সারা দেহে অক্সিজেন বয়ে নিয়ে যায় এবং সারা দেহের কোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

শ্বেতকণিকা জানে তার কাজ। সে শরীরে হানাদার জীবাণুর সাথে লড়াই করে, তাকে ধ্বংস করে। প্লাটিলেট জানে আপন কাজ। রক্তকে জমাট রাখছে সে। নতুবা এর ক্ষরণ হতো দ্রুতই। দেহ জখমী হলে সে জখমস্থানে রক্তকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করছে।

প্লাজমা এসব রক্তকণিকাগুলোকে সারা দেহে বয়ে নিয়ে বেড়ায়। পাশাপাশি রাসায়নিক পদার্থ ও পুষ্টি সরবরাহ করে দেহের বিভিন্ন অংশে।

একটি প্রাপ্তবয়স্ক মানব দেহে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন লোহিত রক্তকণিকা কাজ করে। এরা জন্ম নেয় এবং ৪ মাস বাঁচে। এসব রক্তকণিকায় থাকে হিমোগ্লোবিন নামের রঞ্জক পদার্থ, যা দেহের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।এই কণিকার পরিমান কমে গেলে জন্ম নেবে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা। যা শরীরকে করে দিতে পারে অচল, ডেকে আনতে পারে মৃত্যুও!

অনুরোপ সক্রিয় আছে শ্বেত রক্ত কণিকা। যাদের সংখ্যা ২৫০ কোটি । এরা জন্ম নেয় এবং মাত্র ১২ ঘন্টা বাঁচে। রক্তে শ্বেতকণিকা কম থাকলে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।
আর এ কণিকা মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে গেলে ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে যাবে। একটি সুস্থ্ দেহে ঘন্টায় ৭ মাইল বেগে চলাচল করে রক্ত। রক্তের এ সঞ্চালন যদি ৫ মিনিট বন্ধ থাকে, মারা যায় মানুষ।

একজন স্বাভাবিক স্বাস্থ্যবান মানুষের দেহে জাগ্রত অবস্থায় ২৪ ঘন্টায় ৭,৫০০ লিটার রক্ত পাম্প হয়, হৃৎপিণ্ড ১,৩০,৬৮০ বার স্পন্দিত হয়, তার মাথার মগজের ৭০ লক্ষ কোষ কোন না কোন কাজ করে।
তার মধ্যে প্রত্যহ জন্ম নিচ্ছে অনুভূতি। স্নায়ুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে অনুভূতি ঘন্টায় ২০০ মাইল বেগে প্রবাহিত হয়। দেহে ও মনে অনুভূতি আসলে তা মস্তিষ্কে পৌছাতে তার সময় লাগে মাত্র ০.১ সেকেন্ড।
দেহের দুটি কিডনি প্রতি মিনিটে ১.৩ লিটার রক্ত ছাঁকছে এবং এর ফলাফল প্রস্রাব আকারে বের হয়। সেগুলোর মধ্যে কোথাও না কোথাও জটিলতা দেখা দিতে পারতো যে কোনো মুহূর্তে!

আমার দেহের মোট ওজনের মাত্র ১ শতাংশের সম পরিমাণ পানির ঘাটতি হলেই পিপাসা অনুভব করি। সেই ঘাটতি যদি মোট ওজনের ৫ শতাংশের সমপরিমাণে চলে যায়, অজ্ঞান হয়ে যাবো, আর ১০ শতাংশের সমান হলে পানি শুন্যতায় আমি মারা যেতাম।

একটু ভাবলে অনেক কারণ সামনে আসবে, যা আমার অস্তিত্বকে বিপন্ন করতো যে কোন মুহূর্তে। কিন্তু আমি বেঁচে আছি তোমার ব্যবস্থাপনায়। কিন্তু তোমাকে স্মরণ করলাম কই?

আমি একটি বারও নিজের প্রয়োজন ছাড়া তোমাকে ডাকিনি। জ্ঞাপন করিনি শুকরিয়া। কিন্তু দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর নির্বিঘ্নে শ্বাস নিতে দিচ্ছো। রক্তপ্রবাহ জারি রাখছো। এসবের সকল উপাদান সরবরাহ করে চলছো অবিরল।

তোমার দানশীল গুণের প্রকাশ আমার প্রতিটি স্পন্দনে। শুধু কোষের ক্রিয়া, শ্বাসের ধারা কিংবা রক্তসঞ্চালনের কৃতজ্ঞতা আদায়েই একজীবন যথেষ্ট নয়। তাহলে কথার, চলার, শোনার, বুঝার, ঘুমের, জাগরণের, খাদ্যের, পানীয়ের, সংসারের, সন্ততির, সুস্থতার এবং আরো অগণিত অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা আদায় কি কেউ করতে পারে? কোনো জীবনে?

কেউই পারে না। তবু তুমি দান করে চলো। সবাইকে। নিরন্তর। বিনিময়হীন। স্বার্থ ও শর্তহীন। নিখিলব্যাপী এমনতরো করুণাধারা ঐশ্বরিক না হয়ে পারে?

তোমার সেই দানশীলতা তোমার প্রমাণ। আমার বেঁচে থাকায় তোমার প্রদর্শনী সারাক্ষণ চলমান। কিন্তু আমি তো তোমাকে বুঝতে অলীক যুক্তির পেছনে হাঁটি।

কতোটা দৌড় যুক্তির? যুক্তিশীল মস্তিস্কে তোমার যে লীলা, সেটাই আয়ত্ত করতে যুক্তির জীবন ফুরিয়ে যায়! তুমি যুক্তির অধিক। কেননা যুক্তির অস্তিত্ব তোমার সৃজনের একটি প্রকাশ! এটি মস্তিস্কের সাজানো ধারাপাত। মানবমেধার অধিকে সে যেতে পারে না।

কিন্তু তুমি তো সকল মেধার উর্ধে। কোন মেধা তোমাকে আওতায় আনবে, যেখানে মেধা নিজেই তোমার করুণার ভিক্ষুক? তোমার অনুদান ছাড়া মস্তিস্ক একটি মুহূর্তও সচল থাকতে পারে না!

যদি শুধু অক্সিজেন বন্ধ হয়ে যায়, দশ মিনিটেই মস্তিস্ক অকেজো হয়ে যাবে! আমার মস্তিষ্ক বুঝে জীবনের আয়োজন। কিন্তু আয়োজক তোমাকে বুঝলো কি? বুঝছে কি?

লেখক: কবি, গবেষক, চেয়ারম্যান, ইসলামিক হিস্ট্রি এন্ড কালচার অলিম্পিয়াড

পর্তুগালে সাধারণ নির্বাচনে আগাম ভোট প্রদানে নিবন্ধন

পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ প্রশাসন মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে যেসব নাগরিক ৩০ জানুয়ারি ২০২২ সালের জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানে অক্ষম, ওই সব ব্যক্তিদের জন্য আগাম ভোট প্রদানে নিবন্ধনের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেছে।

যেসব নাগরিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং জেলখানায় আটক রয়েছেন তারা ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। যারা আগাম ভোট দিতে ইচ্ছুক তারা ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২২ এর মধ্যে, যেসব নাগরিক করোনা আক্রান্ত বা সংস্পর্শে আসার কারণে বাধ্যতামূলকভাবে আইসোলেশন থাকবেন অথবা ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অক্ষম এবং যারা বৃদ্ধনিবাসে বসবাস করেন তারা ২০ থেকে ২৩ জানুয়ারি ২০২২ সালের মধ্যে আগাম ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

এছাড়া যেসব পর্তুগিজ নাগরিক ভোটার হয়েছেন এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছেন তারাও এই নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারবেন এই সংক্রান্ত একটি লিফলেট প্রকাশ করা হয়েছে। পর্তুগিজ প্রবাসী নাগরিকদের স্থানীয় দূতাবাস বা কনস্যুলেট অফিসে ১৮ থেকে ২০ জানুয়ারি পর্তুগিজ জাতীয় পরিচয়পত্র সহকারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে এবং নির্দেশিকা অনুযায়ী এটি ডাকযোগে পর্তুগালের উদ্দেশ্যে পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য পর্তুগিজ নির্দিষ্ট কনস্যুলেটে বা দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে পর্তুগিজ জাতীয় সংসদে ২০২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হলে বর্তমান কোয়ালিশন সরকার তাদের সহযোগী এবং বিরোধী দল থেকেও সমর্থন হারায় অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ সোশ্যালিস্ট পর্টি বাদে বাকি শরিক দলগুলো বিই, পিসিপি, পিইভি এই বাজেটকে প্রত্যাখ্যান করে; তবে দুটি দল ভোট প্রদানে বিরত থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে পর্তুগালে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয় এবং তা সমাধানে সব দলের সাথে আলোচনাক্রমে পর্তুগিজ রাষ্ট্রপতি আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২২ সালে আগাম সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেন।

অ্যারিজোনায় অমর একুশে উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি

একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তঝরা দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করার লক্ষ্যে ২০ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনা ‘অমর একুশে উদযাপন কমিটি’ এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানটি নানা কর্মসূচি দিয়ে অসম্ভব আকর্ষণীয় ও পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে থাকছে- শহিদ মিনারে পুষ্প অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন, ছোটদের নাচ-গান ও নাটক, স্থানীয় শিল্পীদের গান ও কবিতা আবৃত্তি, স্বদেশ থেকে আগত শিল্পীর কবিতা আবৃত্তি। আরও থাকবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষা দিবস উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য।

৩৮ সদস্য নিয়ে গঠিত অ্যারিজোনা অমর একুশে উদযাপন কমিটি বিরামহীন শ্রম ও তাদের অর্থায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আরও সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে তোলার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে সব বাংলাদেশিদের অনুষ্ঠানে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন।

এ আহ্বানে অ্যারিজোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা আন্তরিকভাবে সাড়া দিয়েছেন। এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই তাদের মাঝে অসম্ভব উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে ৫ ভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ

জনবল নিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। এতে পাঁচ ভিন্ন পদে ১৫ জনকে নিতে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামীকাল ২৯ ডিসেম্বর থেকে আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

 

পদের নাম : সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ৩ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম : কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার পরিচালনা ও লিখনে দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম : ক্যাশিয়ার (গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

পদের নাম : ক্যাশ সরকার (গ্রেড-১৭)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের ডিগ্রি। কম্পিউটার পরিচালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।
বেতন: ৯,০০০/- থেকে ২১,৮০০/-

পদের নাম : অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ৯ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমানের ডিগ্রি।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

বয়স: ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসেবে ১৮-৩০ বছর হলে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://mos.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ২৭ জানুয়ারি ২০২২ বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।