শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 551

এসএসসিতে ফেল, ঘরের ভেতর কিশোরের ঝুলন্ত লাশ

ঢাকার ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষায় পাস না করায় মো. রাশেদুল ইসলাম টিটু (১৭) নামে এক কিশোর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায়।

টিটু ধামরাই হার্ডিঞ্জ সরকারি স্কুল ও কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিল। সে ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

পরিবার জানিয়েছে, টিটু পদার্থ বিজ্ঞানে অকৃতকার্য হয়। এর পর দুপুর ১২টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে আড়ার সঙ্গে রশি বেঁধে ফাঁস নেয়। পরে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

ধামরাই থানার এসআই সাইদুজ্জামান বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হাসপাতালে গিয়ে রাশেদুলের লাশ দেখতে পাই। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মক্কার গ্রান্ড মসজিদে নতুন নিয়ম

সৌদি আরবে মুসলিমদের পবিত্র নগরী মক্কার গ্রান্ড মসজিদে বৃহস্পতিবার নতুন করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম জারি করা হয়েছে। দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক করোনা সংক্রমণের পর এই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম জারি করে কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মক্কার গ্রান্ড মসজিদে কাবাঘরের চারপাশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চিহ্ন চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর সরিয়ে ফেলা হয়। সেই চিহ্ন আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রান্ড মসজিদে মুসল্লিদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম ফের জারি করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন মুসল্লি একসঙ্গে গ্রান্ড মসজিদে প্রবেশ করতে পারবেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে সব ধরনের জন সমাবেশে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ফের বাধ্যতামূলক করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

৩ কোটি ৪০ লাখ জনগোষ্ঠীর দেশ সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৫ লাখ ৫৪ হাজার জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। করোনায় মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৮৭৪ জনের।

হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

নতুন বছরের (২০২২) প্রথম দিন থেকে বাংলাদেশের হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে সৌদি সরকার।

 

ঢাকায় সৌদি দূতাবাস জরুরি এক নোটিশে বুধবার জানিয়েছে, আগামী বছর থেকে সৌদি আরবের ভিসা পেতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন (আঙুলের ছাপ ও মুখমণ্ডলের ছবি) সম্পন্ন করতে হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, ঢাকায় সৌদি আরব দূতাবাসের কনসুলার সেকশন বাংলাদেশের সব হজ ও ওমরাহ অফিসের জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছে যে, হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি (বায়োমেট্রিক সিস্টেম) চালু করার কারণে হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের বায়োমেট্রিক সিস্টেমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোবাইল ফোনে গুগল প্লে অথবা আইওএস থেকে (সৌদি ভিসা বায়ো) অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে, যা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে হজ ও ওমরাহ যাত্রী (আঙুলের ছাপ এবং একটি ছবি) নিবন্ধন করানোর জন্য ইতঃপূর্বে হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলোকে লিংকসহ জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, বছরের প্রথম দিন থেকে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের এ অ্যাপের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন ব্যতীত কেউ হজ ও ওমরাহর জন্য কোনো ভিসা পাবেন না।

হজ ও ওমরাহ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নির্ধারিত লিংকের মাধ্যমে অ্যাপটি ডাউনলোড করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি সরকার।

কয়েদিদের মনোরঞ্জনে নর্তকী ভাড়া!

কারাগারে কয়েদিদের থাকতে হয় কড়া নিয়মকানুনের মধ্যে। সেখানে চিত্তবিনোদনের সুযোগ খুব বেশি থাকে না বললেই চলে। কিন্তু কারাগারে কয়েদিদের মনোরঞ্জনের জন্য এক নর্তকীর নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পর বিব্রত অবস্থায় পড়েছেন কারাগারের কর্তৃপক্ষ।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ব্রাজিলের পারনাম্বুকোর গোয়ানার পাবলিক প্রিজনে বড়দিনের পার্টিতে ধারণ করা হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই পার্টিতে নাচার জন্য দু’জন তরুণীকে ভাড়া করা হয়েছিল। ভাইরাল ভিডিওতে তাদের একজনকে কয়েদিদের সামনে গানের তালে নাচতে দেখা গেছে।

ওই ভিডিওটি কয়েদিরাই তাদের মোবাইলে ধারণ করেন বলে ডেইলি স্টার জানিয়েছে। ঘটনার রাতেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিনের মধ্যে তা ভাইরাল হয়।

ওই অশ্লীল নাচের অংশ বিশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পাওয়ার পর ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্রাজিলের জনপ্রতিনিধি কার্লোস জর্ডি তার ভ্যারিফাইড টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন। এ সময় দেশের কারা ব্যবস্থাকে কটাক্ষ করতেও ভোলেননি তিনি।

এ ঘটনায় কারাগারের এক কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন কয়েদিকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষের ধারণা ওই তিন কয়েদিই নর্তকী ভাড়াসহ পার্টির মূল পরিকল্পনাকারী। ওই কারাগারে মোট ১০৫ জন কয়েদি রয়েছে। তবে ঠিক কতজন ওই পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন তা জানা যায়নি।

আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

 

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের মৃত্যুর কারণে বৃহস্পতিবার বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ করা হয়।

অন্যদিকে আগামীকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতে বন্ধ থাকবে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম। তবে বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং কাস্টমস ও বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক হোসেন ভূঁইয়া ও আমদানি-রপ্তানি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, অসুস্থজনিত কারণে ২৮ ডিসেম্বর আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে বন্দরের ব্যবসায়ীরা শোকাহত। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনস্বরূপ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয়।

আগামীকাল শুক্রবার আখাউড়া স্থলবন্দর সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে। পর দিন শনিবার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ফের শুরু হবে।

আখাউড়া স্থলবন্দর কাস্টমস সুপারিন্টেনডেন্ট মোহাম্মদ কামরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কাস্টমস ও বন্দরের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে দুদিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আব্দুল হামিদ যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

ত্রিমুখী চাপে ছিল দেশের অর্থনীতি

ত্রিমুখী চাপের মুখে পড়েছে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতি। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়েছে সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে ভর্তুকি।

 

এছাড়া বেড়েছে সরকারের সুদ পরিশোধ খাতের ব্যয়। রয়েছে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে মূল্যস্ফীতি ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এসব কারণে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বছরের শুরুতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মহামারি মোকাবিলায় দেশজুড়ে লকডাউনের আঘাত লাগে প্রবৃদ্ধির গতিতে।

যে কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

করোনার কারণে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগেও খুব বেশি আশার সঞ্চার হয়নি। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কম ছিল। রেমিট্যান্স খাতেও নেতিবাচক ধারা বইছে। তবে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি ফিরছে। স্বাভাবিক অবস্থায় চলে আসছে আমদানি ও রপ্তানি। রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিতে বইছে ইতিবাচক ধারা।

কেমন গেল দেশের অর্থনীতি, তা মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বিশ্বব্যাপী পণ্য ও জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। যে কারণে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়াতে হয়েছে।

ফলে এর প্রভাব গিয়ে পড়ছে পণ্য ও সেবা খাতে। এ বছর মূল্যস্ফীতি বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। তবে যে কোনো মূল্যে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এটি সম্ভব না হলে মুদ্রার বিনিময় হার, আমদানি ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার মতে, বিশ্ব অর্থনীতির সবকিছু খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশেও অন্যান্য সূচক কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে। রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ও বাজেট বাস্তবায়ন আগের বছরের তুলনায় ভালো হয়েছে। এখন নজর মূল্যস্ফীতির দিকে।

বছরের শেষদিকে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা গেলেও করোনার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। উৎপাদন, ভোগ, আমদানি-রপ্তানি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যাংক ও আর্থিক খাত, প্রকল্প বাস্তবায়ন, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও মুদ্রাস্ফীতির মতো সূচকে যে প্রত্যাশা ছিল তার চেয়ে অর্জন কম হয়েছে।

সরকারি হিসাবে ২০২১ সালে এক কেজি আটায় ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ, ময়দায় ৩৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ, সয়াবিন তেলে ৩৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, পাম অয়েলে ৪২ দশমিক ৬২ শতাংশ ও মসুর ডালে বেড়েছে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ হারে দাম বেড়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি মানুষগুলোকে চরম ভোগান্তিতে ফেলছে। পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহণ ভাড়া।

এদিকে চলতি বছর মার্চে দেখা দেয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। তা মোকাবিলা করতে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু মহামারিতে ক্ষুদ্র আয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কর্ম হারিয়ে চরম দরিদ্র লোকের সংখ্যা ২২ শতাংশে নিয়ে যায়।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) জরিপে দেখানো হয়, কোভিডের আঘাতে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ মানুষ।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এই প্রণোদনা বড় শিল্প-কলকারখানায় ব্যাংকগুলো সন্তোষজনকভাবে বিতরণ করলেও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তারা নানা জটিলতায় গ্রহণ করতে পারেননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে আড়াই মাসে প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন ৩ শতাংশের কম হয়েছে।

এর মধ্যে শিল্প ও সেবা খাতে বাস্তবায়ন ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও সিএমএসএমই খাতে বাস্তবায়ন ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এদিকে কলকারখানায় উৎপাদন অব্যাহত থাকলেও সেগুলো ১০০ ভাগ সক্ষমতায় চলছে না। শিল্প-কারখানায় নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে খুবই কম। সেজন্য মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিও কম হয়েছে। চালু শিল্প-কারখানাগুলো টিকে থাকার জন্য চেষ্টা করছে।

এদিকে বছরের শেষ ৬ মাসে অর্থনীতি ধীরে ধীরে চাঙা হয়েছে। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাজেট থেকে টাকা খরচ করা হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে ব্যয় হয় ১ লাখ ২৪ হাজার ১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময় খরচের পরিমাণ বেড়েছে ৮ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।

এদিকে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরায় রাজস্ব খাতেও আদায়ের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। জুলাই-নভেম্বর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৪৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এই ঘাটতি মেটাতে এখন সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে ব্যাংকিং খাত থেকে। গত বছর এ সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয় ১২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। অথচ এ বছর সেটি ১৯ হাজার ৭৬২ কোটি টাকায় পৌঁছে গেছে। ঋণ নেওয়া অপর খাত সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।

যা গত বছর ছিল ১৯ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এদিকে বৈদেশিক ঋণ প্রাপ্যতা কমেছে। করোনার কারণে অনেক দেশ আগের মতো ঋণ সহায়তা দিচ্ছে না। কারণ করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি দেশ নিজস্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ব্যস্ত। যে কারণে বৈদেশিক ঋণ কম পাওয়া যাচ্ছে।

জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া পরিমাণ হল ১ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যা আগের বছরে একই সময়ে ছিল ৪ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। চলতি বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও এটি শেষ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে উঠতে পারে এমন আশঙ্কা করছে অর্থ বিভাগ।

১৫ শতাংশ পরিশোধে খেলাপি হবে না বড়রা

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মতো বড় উদ্যোক্তাদেরও বিশেষ ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আওতায় ঋণের যেসব কিস্তি চলতি বছরের মধ্যে পরিশোধের কথা তার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ জমা দিলেই ওই গ্রাহককে আর ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত করা হবে না। আগের নিয়মে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত ছিল।

এক্ষেত্রে আরও ১০ শতাংশ বেশি ছাড় পেল বড় উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই বিধান ওই দিন থেকেই কার্যকর।

 

নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, যেসব বড় উদ্যোক্তা চলতি বছরে প্রদেয় কিস্তির কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করবেন তারা ঋণখেলাপি হিসাবে চিহ্নিত হবেন না। করোনার কারণে সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগুলোতে সাধারণ প্রভিশনের অতিরিক্ত আরও ২ শতাংশ প্রভিশন রাখার শর্ত ছিল।

সিএমএসএমই খাতের ঋণের জন্য এ শর্ত শিথিল করে দেড় শতাংশ প্রভিশন রাখার নিয়ম করা হয়েছে। বড় গ্রাহকের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ২ শতাংশ হারেই প্রভিশন রাখতে হবে।

একইসঙ্গে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হিসাবে ১৫ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করা হলে ব্যাংকগুলোর ওইসব হিসাবে আরোপিত সুদ বা মুনাফার অর্থ আয় খাতে স্থানান্তর করতে পারবে। বড় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনসহ (এফবিসিসিআই) ১১টি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বসে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই নির্দেশনা জারি করেছে।

ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছেরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিটিএমইএ) মোট ১১টি সংগঠন ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের সার্কুলার অনুযায়ী, করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিশেষ ঋণ হিসাবগুলোর মধ্যে চলতি বছরের শেষ কার্যদিবসের মধ্যে যেসব কিস্তি পরিশোধের কথা তার মধ্যে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে তিনি আর খেলাপি হবেন না।

বাকি অর্থ পরে পরিশোধ করতে পারবেন। গত বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেয়।

এর মধ্যে চলতি বছর প্রদেয় কিস্তির ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলেই তারা আর খেলাপি হবেন না। কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে এ সুযোগ ছিল না।

এরই প্রেক্ষিতে বড় শিল্প উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে ছোটদের মতো বড়দেরও ছাড় দেওয়ার দাবি করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তাদেরকেও এ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে বড় উদ্যোক্তাদের পক্ষে আগামী বছরেও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে দাবি জানানো হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আগামী বছর ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব হয়। কেননা ব্যাংক খাতকেও সামনে এগুনোর সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়া ব্যবসায়ীরা রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ সীমা বাড়ানো, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময় বাড়ানোর দাবি জানান। এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ১৫ শতাংশের সুবিধা ছোটবড় সবাইকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। গভর্নর এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ইডিএফ ঋণ সীমা বাড়ানো, স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের সময় সীমাও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছি। তবে এ বিষয়ে তারা পরে জানাবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, চলমান বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এসব বিষয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সার্বিকভাবে বৈঠকের ফলাফল ইতিবাচক।

উল্লেখ্য, করোনার কারণে গত বছর ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়নি। চলতি বছরেও আংশিক ছাড় দেওয়া হয়।

মির্জাপুর উপনির্বাচনে লাঙ্গলের প্রার্থীর নির্বাচনিসভা

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থীর নির্বাচনিসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মির্জাপুর কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা জাতীয় পার্টি এ সভার আয়োজন করে।

উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. আবু আহাম্মেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্র্টির মনোনীত লাঙ্গলের প্রার্থী পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম জহির, উপজেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মো. ছিবার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক সোরহাব সিকদার বাদশা, পৌর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফ আহাম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক মো. গনি মিয়া প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ জাতীয় পার্টির কর্মীরা।

তারুণ্যের উৎসবে পরিণত ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপি সমাবেশ

তারুণ্যের উৎসবে পরিণত হয় ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির মহাসমাবেশ। কাঁপন ধরানো শীতের মধ্যেও শত শত তরুণের উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল সমাবেশস্থল।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার দাবিতে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ৯ দিন সারা দেশের জেলাগুলোতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি।

৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে কর্মসূচি। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁও পাবলিক ক্লাব মাঠে জেলা বিএনপি দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে এক সমাবেশের আয়োজন করে।

এই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতার উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির জনসভায় বয়োবৃদ্ধ ও মধ্যবয়সী মানুষের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি।

তবে তরুণদের উপস্থিতি যেন সমাবেশ হয়ে উঠে মহোৎসবে। সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানও এর সত্যতা মেনে নিয়ে বলেন, জনসভায় প্রায় ৮০ ভাগই ছিল তরুণ।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মামুন উর রশিদ বলেন, বিএনপির জন্ম হয়েছিল তারুণ্যের শক্তি দিয়ে ।অন্যায়ের প্রতিবাদে সাড়া দিয়ে শিকলমুক্ত জীবনের প্রত্যাশায় তরুণরা এসেছিলেন বিএনপির সমাবেশে।

তিনি বলেন, বৈরী আবাহাওয়ায় বয়স্করা আসেননি তেমন একটা ।তবুও আশাহত নয় বিএনপি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, আন্দোলনের উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে।কেউ ঘরে রবে না। সময় হলে নিশি রাতের সরকারের বিরুদ্ধে সবাই রুখে দাঁড়াবেন।

জনসভা দেখতে আসা ঠাকুরগাঁও পৌরশহরে ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা নূর ইসলাম বলেন, উঠতি বয়সি তরুণরা পরিনাম না ভেবে সভায় এসেছিল। বয়স্করা জেনেই বিএনপি থেকে ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ। তবে বিএনপির কোনো নেতাই একথা মানতে নারাজ ।

এত কিছু করার পরও এ প্রশ্ন কেন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তি নিয়ে এতকিছু করার পরও ‘মানবিক বিবেচনার’ প্রশ্ন কেন আবার উঠবে।

 

পালটা প্রশ্ন করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী আদেশে তাকে মানবিক বিবেচনায় সাজা স্থগিত করে মুক্তি দিয়েছেন।

মানবিক বিবেচনা তো সেখানে হয়ে গেছে। কেন আবার এ প্রশ্ন উঠবে যে, আমরা মানবিক হচ্ছি না। আমি যেটা বলেছি, সেটা আইনের দিক থেকে বলেছি। এখন মানবিকতা দেখাতে গেলেও আমাকে আইনেই যেতে হচ্ছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার ঢাকায় কর্মরত বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সংগঠন ওভারসিস করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ওক্যাব) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখন নতুন করে ওই আবেদন বিবেচনার সুযোগ নেই। তাকে আইন অনুযায়ী জেলে গিয়েই আবেদন করতে হবে, এটাই আইনের কথা। এ সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন করে করা আবেদনে আইনের কোনো ধারা উল্লেখ ছিল না বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় শতর্যুক্ত বা শর্তমুক্ত মুক্তির বিষয়টি ছিল। সেই যে দরখাস্ত, সেটি নিয়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে শতর্যুক্ত ছিল। আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাহী আদেশে অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তিতে শর্ত ছিল, খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। বাসায় থাকতে হবে, হাসপাতালে যেতে পারবেন না এমন না। তিনি কিন্তু হাসপাতালে আছেন। তার পরও এখন নতুন করে করা আবেদনে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। এখন কথা হলো, সরকার তো আগের আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। এখন কি নিষ্পত্তি হওয়া আবেদন আবারও পুনর্বিবেচনা করা যায়।

আনিসুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দণ্ড স্থগিত রেখে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সুযোগ দিয়েছেন, এটা কি মানবিক বিবেচনা নয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় দণ্ড স্থগিত রেখে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কিন্তু মানবিক দিকটাই বিবেচনা করেছেন। তার একটু প্রেক্ষাপট আমাকে বলতে হবে।

তিনি বলেন, একজনের দুর্দিন যদি আরেকজনের আনন্দের দিন হয় তবে সেটা স্তিমিতভাবে পালন করা উচিত। দেখুন, এটা স্বীকৃত যে আমরা যে সমাজে বাস করি, সমাজের একটা স্ট্রাকচার আছে, আমরা খুব ভালো করেই জানি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৫ আগস্ট হত্যা করা হয়েছে। এটাও প্রমাণিত যে, খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগস্ট পালিত হয়। এটা কাকে কোন বিষয়টাকে কটাক্ষ করা? বিষয়টি কত ইম্পোর্টেন্ট, সেটা আপনারা বিবেচনা করেন। এটা কোন দিনটিকে কটাক্ষ করে পালন করা হয়, সেটি আপনারাই বিবেচনা করবেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একজন মা হিসাবে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে (আরাফাত রহমান কোকো) যখন মারা যান, তখন তার বাসায় গিয়েছিলেন। যতই শত্রুতা থাকুক, যতই পলিটিক্যাল পার্থক্য থাকুক, তার মুখের ওপরে বাড়ির গেট সেদিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এটা কি মানায়? আইনমন্ত্রী বলেন, সেই অবস্থান থেকেও প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোনো সাংবাদিকের নামে মামলা হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা যাবে না। তদন্তের পর নিতে হবে মামলা। নির্বাচন কমিশন গঠন আইন করাও উচিত। তবে সে আইন করতে দীর্ঘ সময় লাগবে।