বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 507

হত্যা মামলার আসামি রয়েল ইয়াবাসহ গ্রেফতার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় হত্যা, অস্ত্রসহ চার মামলার এক আসামিকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম একলাশপুর গ্রামের রেলগেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আব্দুল করিম রয়েল (৩০) উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একলাশপুর গ্রামের ছায়েধন ভূঁইয়াবাড়ির রেজাউল হক ধনু মিয়ার ছেলে।

নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৫৫ পিস ইয়াবাসহ আসামি রয়েলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে দুটি, হত্যা মামলা একটি ও অন্যান্য আইনে একটি মামলাসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা করা হয়েছে।

রোববার সকালে আসামিকে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়।

জামিনে বের হওয়া ধর্ষককে আদালতে গুলি করে হত্যা

জামিনে বের হওয়া কিশোরী মেয়ের (১৬) ধর্ষককে সামনে পেয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না সাবেক সেনাসদস্য (৫২)। আদালতের সামনেই গুলি করলেন অভিযুক্ত ওই যুবককে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর দেওয়ানি আদালতের সামনে গত শুক্রবার। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবসরপ্রাপ্ত জওয়ান ভগবৎ সিং তার মেয়ের ধর্ষণ মামলার আসামি দিলশাদ হুসাইনকে (২৫) গুলি করে হত্যা করেছেন।

শুক্রবার গোরক্ষপুরের দেওয়ানি আদালতের প্রবেশপথে নিজের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র দিয়ে গুলি চালান বিএসএফের সাবেক ওই জওয়ান।

নিহত যুবক ওই জওয়ানের মেয়েকে ২০২০ সালে অপহরণের পর ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ আছে। অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে ওই যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বিচারাধীন।

নিহত যুবক বিহারের মুজাফফরপুরের বাসিন্দা। অপহরণ ও ধর্ষণের ওই মামলায় তিনি শুক্রবার গোরক্ষপুর দেওয়ানি আদালতে শুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য এসেছিলেন।

এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আদালতে আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেন।

পরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক অখিল কুমার ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তদন্তের পর আদালতের নিরাপত্তাব্যবস্থা লঙ্ঘনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর সোয়া ১টার দিকে দেওয়ানি আদালতের প্রবেশপথে নিজের আইনজীবী শঙ্কর শরণ শুকলাকে ডাকেন ধর্ষণের মামলার আসামি দিলশাদ হুসাইন।

৯৪ বার হেরেছেন, হারতে চানও আরও ছয়বার!

কথায় আছে, একবার না পারিলে দেখ শতবার। তবে এই ব্যক্তি জেতায় আশায় নয়, হারার রেকর্ড গড়তে শতবার চেষ্টার পণ করেছেন। ইতোমধ্যে ৯৪ বার হেরেছেন তিনি। আরও ছয়বার হারার লক্ষ্য রয়েছে তার।
বিষয়টা একটু খোলাসা করা যাক। বলা হচ্ছে ভারতের উত্তর প্রদেশের হাসনুরাম আম্বেদকারির কথা। ৭৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির ইচ্ছা ১০০ বার হারের রেকর্ডের। এজন্য উত্তরপ্রদেশের আগ্রার খেরাগড় আসন থেকে ৯৪ বার নির্বাচন করেছেন তিনি।
পেশায় দিনমজুর আম্বেদকারির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি লিখতে পারেন তিনি।
আম্বেদকারি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই প্রতিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
১৯৮৫ সাল থেকে আম্বেদকারি লোকসভা, রাজ্যসভা এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এমনকি ১৯৮৮ সালে প্রেসিডেন্ট পদের জন্যও মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আগ্রা ও ফতেহপুর সিক্রি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। ২০২১ সালে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।
তার সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার রেকর্ড ৩৬ হাজার। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফিরোজাবাদ আসন থেকে এই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়েছেন তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য উত্তর প্রদেশের রাজ্যসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন তিনি। স্ত্রী আর সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটও চাইছেন তিনি।
আম্বেদকারি বার্তা সংস্থা আইএএনএস’কে বলেন, আমি হেরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। বিজয়ী রাজনীতিবিদরা জনগণকে ভুলে যান। আমি ১০০ বার নির্বাচনে হারার রেকর্ড গড়তে চাই। আমরা প্রতিন্দ্বন্দ্বী কারা, সেই বিষয়টি আমি আমলে নেই না। বরং আমি যেসব ভোটার আম্বেদকারির আদর্শে বিশ্বাস করে তাদের বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমার এজেন্ডা সবসময়ই নিরপেক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন এবং সমাজের প্রান্তিকদের কল্যাণের।
আম্বেদকারি বলেন, ১৯৮৫ সালে আমাকে যখন নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় আমি বলেছিলাম আমার স্ত্রীও আমাকে ভোট দেবে না। আমি গভীরভাবে হতাশ ছিলাম এবং তারপর থেকে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছি।

নাসিকের সঙ্গে তুলনা হয় না জাতীয় নির্বাচনের

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তুলনা হতে পারে না। নাসিক নির্বাচনে সরকারি দলের ভালো প্রার্থী আছেন, জয়ী হওয়ার ভালো সম্ভাবনা আগে থেকেই ছিল।

যে কারণে নির্বাচনে সরকার কোনো প্রভাব বিস্তার করেনি। আর নির্বাচনে হারলেও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো না। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

কিন্তু এই নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনকে বিচার করা ঠিক হবে না। জাতীয় নির্বাচনের জন্য ওই সময়ের সরকার খুব গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এখনই ভাবতে হবে।

শনিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘সদ্যসমাপ্ত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন : জনপ্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল সংলাপে এসব কথা বলা হয়।

সিপিডির চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, আওয়ামী লীগের সংসদ-সদস্য আরোমা দত্ত, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, বিএনপির সংসদ-সদস্য রুমিন ফারহানা ও নাসিকের তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো রওনক জাহান।

মূল প্রবন্ধে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ইসি, সরকার, দল ও প্রার্থী চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। নারায়ণগঞ্জে এটি হয়েছে। খুলনা বা গাজীপুরের মতো নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন এখানে হয়নি। এখানে ইভিএমে জালিয়াতি হয়েছে বলে বিশ্বাস করি না।

তবে এটা যাচাইয়ের সুযোগ নেই। এটি একটি জঘন্য ইভিএম। ইসি যা তথ্য দেবে, তাই বিশ্বাস করতে হবে। এখনকার ইসি তো প্রশ্নবিদ্ধ। এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা উচিত হবে না-এটি জাতিকে আরও সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, জয়ী হওয়ার মতো নিজেদের প্রার্থী থাকায় নারায়ণগঞ্জে সরকার প্রভাব বিস্তার করেনি। সুষ্ঠু নির্বাচন করায় সরকারের কোনো ঝুঁকি ছিল না। আইভীর জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল ছিল। হারলেও সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দেওয়া যাবে।

নারায়ণগঞ্জে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের বার্তা দিলেও জনগণ তা বিশ্বাস করবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এমন বার্তা ২০১৩ সালেও পাঁচ সিটি নির্বাচনে সরকার দিয়েছিল। কিন্তু পরের অভিজ্ঞতা খুব খারাপ। এসব কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করা মোটেই ঠিক হবে না। জাতীয় নির্বাচকে জাতীয়ভাবেই ভাবতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনও জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে এটি দেখা গেছে। তাই সব ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের ভূমিকা আছে। সরকারের সঙ্গে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ইসিকে যৌথভাবে ভূমিকা রাখতে হবে। এজন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তেব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব ধরনের অভিযোগ ভাসিয়ে নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বিতর্কমুক্ত নির্বাচনের আয়োজন করা সম্ভব।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো সেলিনা হায়াৎ আইভী জয়লাভ করেছেন তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও দলীয় ইমেজের কারণে। আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, অনেক অভিযোগ আছে।

তবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সব অভিযোগে ভাসিয়ে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জে নির্বাচন হয়েছে একটি আনন্দিত পরিবেশে, নিরাপদ ব্যবস্থাপনায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণ হয় দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন হওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের ব্যবহার না হলে নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়, নারায়ণগঞ্জে সেটাই প্রমাণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে ব্যতিক্রমের মধ্যে না রেখে সব নির্বাচন এমনই হওয়া উচিত। তাহলে নির্বাচনব্যবস্থা প্রশ্নের বাইরে থাকবে।

বিএনপির সংসদ-সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ইভিএম নিয়ে অভিযোগ আরও শক্ত ভিত্তি পেয়েছে। কারণ সরকারদলীয় বিজয়ী মেয়রও ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জের অভিজ্ঞতা বলছে, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সুযোগ নেই।

কেননা এটি গ্রহণযোগ্যতা ইতোমধ্যে হারিয়েছে। ইভিএমে কারচুপি যাচাই করা যায় না। এখানে কী হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের আশঙ্কা কম থাকায় জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার সুষ্ঠু ভোট দেখিয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তুলনা করা যায় না। ইসির চেয়েও সরকার গুরুত্বপূর্ণ।

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু চাইলে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ একতরফা জয় পেলেও কাউন্সিলর পদে একতরফা জয় পায়নি।

বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। ব্যক্তিগত ভাবমূর্তির কারণে মেয়র পদে তাদের সবার ভোট পেয়েছেন আইভী। দুই মূল দলের মেয়র প্রার্থী শক্তিশালী হওয়ায় ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। একক প্রভাব ছিল না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জয়ী হওয়ার মতো নিজেদের প্রার্থী থাকায় নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনে সরকারের সহযোগিতা ছিল। কোনো পক্ষ থেকে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হয়নি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যদি সরকারের এমন ভূমিকা থাকে, তাহলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নির্বাচন করতে পারবে ইসি।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, এবারের নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন খুবই ষড়যন্ত্রমূলক ছিল। আমাকে চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে। ষড়যন্ত্রে পড়লেও জনগণের আস্থা আর ভালোবাসার কারণে সেখান থেকে বের হতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচন কঠিন ছিল। তিনটি মেয়র নির্বাচন করেছি। তিন নির্বাচনের ফ্লেভার তিন রকম ছিল। কোনো নির্বাচনেই ষড়যন্ত্রের বাইরে ছিলাম না। সব বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে নির্বাচন করেছি। যদিও আমার দল আওয়ামী লীগ সরকারে ছিল, কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হয়ে সাধারণ জনগণকে আস্থায় এনে নির্বাচনে জিততে হয়েছে।

আইভী আরও বলেন, ইভিএমের কারণে ভোট কম পড়েছে-এটা সত্য। এমন নয় যে ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি। আমার অসংখ্য ভোটার ফেরত গেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হন আইভী।

খালেদা জিয়া হাসপাতালেই থাকছেন

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার স্থায়ী উন্নতি হয়নি। শনিবারও অল্প পরিমাণে রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে রিপোর্টে এসেছে। এদিন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক হয়। এতে করোনার কারণে শঙ্কা থাকলেও খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এখনই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ছাড়া নতুন আরও কয়েকটি পরীক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাকে আরও এক সপ্তাহ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। মোটামুটি ঝুঁকিমুক্ত হলেই বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। শনিবার রাতে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক এ তথ্য জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) আগের মতোই আছেন। এখন কিছুটা স্থিতিশীল বলা যায়। কেবিনে স্থানান্তরের পর বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হয়নি। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশে তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, করোনা বাড়ছে, এ বিষয়ে চিকিৎসকরা অবগত আছেন। তাদের সিদ্ধান্ত ছাড়া তো তাকে বাসায় নেওয়া সম্ভব নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান, প্রথমবার ‘ম্যাডাম’ করোনা পজিটিভ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে হাসপাতাল থেকেই আবার তার করোনা সংক্রমিত হয়। এজন্যই এবার ভয় কাজ করছে। হাসপাতালে প্রচুর কোভিড রোগী আসা যাওয়া করছে। কেবিনেও নার্স, স্টাফ, আয়া, ক্লিনারসহ অনেকেই যাচ্ছেন। তাদের কাছ থেকে সংক্রমিত হতে পারেন। মেডিকেল বোর্ড এজন্যই খালেদা জিয়াকে বাসায় রেখে চিকিৎসার চিন্তা করেছিল। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত- তার অবস্থা আজ ভালো তো কাল খারাপ। সবচেয়ে ভয়ের কারণ রক্তক্ষরণ যা শনিবারও অল্প পরিমাণে হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। রক্তের হিমোগ্লোবিন হু-হু করে কমে যায়। আবার সময় নিয়ে একটু বাড়ে।

তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের ডায়াবেটিসও কখনো নিয়ন্ত্রণে ছিল না। ইনসুলিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। এজন্য কেবিনে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিইউর সাপোর্টও রাখা হয়েছে। ইলেকট্ররাইল ইমব্যালেন্স অর্থাৎ খনিজে অসমতা দেখা দিচ্ছে মাঝেমধ্যে। এজন্য শরীর প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়। রুচি কমে যায়।

মেডিকেল বোর্ডের ওই সদস্য আরও জানান, ‘ম্যাডাম’ হাসপাতালে থাকতে চান না। তিনি বাসায় যেতে চাচ্ছেন। আর এই বয়সের একজন মানুষকে টানা হাসপাতালের বিছানায় থাকা ভীষণ যন্ত্রণার। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না করে বাসায় নেওয়া হলে তো আবারও হাসপাতালে নিতে হবে। তাই বারবার আনা-নেওয়া তার জন্য খুব ক্ষতি। কারণ করোনা বাড়ছে চার দিকে। তাকে দেখভাল করেন এমন একজন সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও ম্যাডামের নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ পাওয়া গেছে। শনিবার বোর্ডের বৈঠকের পর খালেদা জিয়ার কেবিনে চলাচল একেবারে সীমিত করা হয়েছে। কেবিনে প্রবেশের আগে নার্স ও স্টাফদেরও তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হচ্ছে। বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আসলে দেশের বাইরে নিয়ে যত দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে, ততই তার জন্য মঙ্গল। দেশে যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব তা দেওয়া হয়েছে। তার সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে উন্নত সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এটি আমরা পরিবারকে বারবার এড্রেস করছি।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়াকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর ওইদিন তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার তার শরীরে রক্তক্ষরণ হয়। দীর্ঘদিন সিসিইউতে থাকার পর গত ৮ জানুয়ারি তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন ৭৬ বছর বয়সি সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

হেরোইন-ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫৪

হেরোইন-ইয়াবা বড়ি এবং অন্যান্য মাদকসহ রাজধানী থেকে ৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শনিবার ভোর ৬ টা থেকে রোববার ভোর ৬ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় তার মধ্যে রয়েছে-১৯৮ গ্রাম হেরোইন, ২৮৩০ পিস ইয়াবা বড়ি ও ৮ কেজি ৫৪০ গ্রাম ৫১ পুরিয়া গাঁজা।

তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।

যমুনা টিভির সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক আল আমিন হক ও ভিডিও জার্নালিস্ট আহসান উল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ১১টায় বাঘর এলাকা থেকে প্রধান আসামি আমির হোসেন বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আমির হোসেন বাবু রূপগঞ্জ ইছাপুরা কুমারটেক এলাকার ইয়ার উদ্দিন ছেলে।

শনিবার বাণিজ্য মেলা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক আল আমিন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।

এ ঘটনায় আল আমিন হক বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ বলেন, মামলার প্রধান আসামি আমির হোসেন বাবুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ইসলামে রুচিবোধ ও সৌন্দর্যচর্চা

ইসলামে রুচিবোধ ও সৌন্দর্যচর্চার গুরুত্ব অত্যধিক। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জীবন, সুরুচির অনুপম অনুশীলন ইসলামকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থার আসনে সমাসীন করেছে।

মানুষের আচার আচরণ, জীবন ধারণের বৈচিত্র্য, খাবার-দাবারসহ সব কিছুতেই রয়েছে সৌন্দর্য ও রুচিবোধের সমন্বয়। ইসলাম ব্যক্তির বাহ্যিক ও আত্মিক জীবনে সৌন্দর্য অর্জন, সুরুচির অনুশীলন, সর্ববস্থায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ওপর অটল থাকার ব্যাপারে জোর তাগিদ দিয়েছে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন। (সূরা আল বাকারাহ : আয়াত : ২২২)।

তিনি আরও বলেন, ‘হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য প্রস্তুত হইবে, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করিবে এবং তোমাদের মাথা মসেহ্ করিবে এবং পা গ্রন্থি পর্যন্ত ধৌত করিবে; যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে বিশেষভাবে পবিত্র হইবে। তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান হইতে আসে, অথবা তোমরা স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত হও এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করিবে এবং উহা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ্ করিবে। আল্লাহ্ তোমাদের কষ্ট দিতে চান না; বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করিতে চান ও তোমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করিতে চান; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।’ (সূরা আল মায়েদা : আয়াত : ০৬)।

ইসলাম ব্যক্তির বাহ্যিক পোশাক পরিচ্ছদে সৌন্দর্য প্রকাশ ও রুচির সমন্বয়কে দারুণভাবে উৎসাহ প্রদান করেছে। আল্লাহপাক বলেন, ‘তোমার পোশাক পরিচ্ছদ পবিত্র রাখ।’ (সূরা আল মুদ্দাসসির : আয়াত: ৪)।

তিনি আরও বলেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যেরও উপকরণ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নির্দেশনাবলির অন্যতম, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা আল আরাফ : আয়াত : ২৬)। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৯১)।

ইসলামি শরিয়তে নারী-পুরুষের পোশাক পরিচ্ছদের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে, সে মোতাবেক নারী-পুরুষের পোশাক ও পরিচ্ছদের মাধ্যমে রুচিবোধ ও সৌন্দর্য প্রকাশ করা। উল্লেখ্য, পোশাকের মাধ্যমে আভিজাত্য প্রকাশের নামে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার কিংবা অপচয় করা কিংবা অহংকার প্রদর্শন করা, এসব কিছুকে ইসলাম হারাম তথা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করেছে।

এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘বিলাসিতা পরিহার করো। আল্লাহর নেক বান্দারা বিলাসী জীবনযাপন করে না।’ (মুসনাদে আহমাদ : হাদিস : ২২১০৫)।

ব্যক্তি জীবন সম্পর্কিত এমন কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোতে সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিক সৌন্দর্য ও রুচিবোধ স্পষ্ট হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেন : ‘স্বভাবজাত বিষয় পাঁচটি। খাতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ খাটো করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা।’ (সহিহ বুখারি : হাদিস : ৫৮৯১)।

রাসূল (সা.) আরও বলেছেন : ১০টি বিষয় স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। গোঁফ খাটো করা, দাড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, অঙ্গের গিরাগুলো ঘষে মেজে ধৌত করা, বগলের পশম উপড়িয়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করা তথা ইসতিনজা করা। যাকারিয়া বলেন, মাস’আব বলেছেন : আমি দশ নম্বরটি ভুলে গেছি। সম্ভবত তা হলো কুলি করা। (সহিহ মুসলিম : হাদিস : ২৬১)।

এ হাদিস দুটির পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, যে দশটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে তা ব্যক্তির জন্য সৌন্দর্য ও রুচিবোধের অন্যতম নিয়ামক। প্রত্যেক ব্যক্তি যদি নিয়মিত এ দশটি আমল যথাযথভাবে পালন করে তাহলে ওই ব্যক্তির পোশাকের অভ্যন্তরীণ জীবন কত যে সুন্দর ও রুচিকর তা সহজেই বোধগম্য। ইসলাম সত্যিকার অর্থে তার সব অনুসারীকে এ দশটি ফেতরাতের ওপর আমলের নির্দেশনা দিয়েছে।

মানুষের চালচলনে, কথাবার্তায় সৌন্দর্য ও রুচিবোধ ফুটে ওঠে। একেবারে দ্রুতবেগে হাঁটা, কিংবা কুঁজো বুড়োর মতো খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা, অথবা হেলে দুলে হাঁটা এগুলো সুরুচি নয় বরং দৃষ্টিকটু। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত জামাকাপড় নাড়াচাড়া করা, এদিক-ওদিক তাকানো, অপ্রয়োজনে বকবক করা, যত্রতত্র নিজেকে পণ্ডিত জাহির করা, বাচালতা প্রকাশ করা, যত্রতত্র আঞ্চলিক ভাষার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ করা, ধূমপান কিংবা পান-জর্দা চিবিয়ে পানের পিক যত্রতত্র ফেলা, যত্রতত্র থুথু কফ ফেলা, কথায় কথায় রাগ করা, কাউকে ভর্ৎসনা করা, কারও সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা কিংবা অশ্লীল গালমন্দ করা, এসব একবারেই দৃষ্টিকটু শ্রুতিকটু অসুন্দর ও অরুচিকর। ইসলাম এসব বিষয়ে তার সব অনুসারীকে সতর্ক করে নির্দেশনা দিয়েছে।

নবি (সা.) বলেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সে-ই প্রকৃত মুসলিম। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, সে-ই প্রকৃত হিজরতকারী। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। নবি করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়, মেহমানের সম্মান করে এবং কথা বলার সময় উত্তম কথা বলে অথবা চুপ করে থাকে। (সহিহ বোখারি : হাদিস : ৬০১৮)।

পরিশেষে, মহান আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ভালো আচার-আচরণ পালন, সুন্দর আখলাক, উত্তম রুচিবোধ ও সৌন্দর্যচর্চার মাধ্যমে ব্যক্তিত্ববোধ সম্পন্ন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, নোয়াখালী কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা, সোনাপুর, সদর, নোয়াখালী

ঐশী আলোয় আলোকিত হোক আমাদের মসজিদ

মসজিদকে আল্লাহর ঘর বলা হয়। কিন্তু আল্লাহপাক রাব্বুল আলামিন স্থান-কালের ঊর্ধ্বে কিংবা কোনো ঘরে অবস্থান করা আল্লাহপাকের শান নয়।

দুনিয়ার প্রথম মসজিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত খানায়ে কাবাকেও বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর বলা হয়। এরূপ বলার পেছনে কারণ বহুবিধ-প্রথমত মসজিদে দৈনিক পাঁচবার জামাতের সঙ্গে সালাত আদায় করা হয় এবং দ্বিতীয়ত মসজিদে তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ও হাম্দ-নাতের মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহর জিকির করা হয়।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট স্থান হচ্ছে মসজিদ এবং সর্বনিকৃষ্ট স্থান হচ্ছে বাজার। উম্মুল মুমিনিন মা আয়শা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাদের বাসগৃহের মধ্যেও মসজিদ অর্থাৎ নফল নামাজ পড়ার বিশেষ জায়গা তৈরি করা এবং তাকে পবিত্র রাখার জন্য আদেশ করেছেন। (কুরতুবি)।

মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মসজিদ সমাজের অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। বছর বছর দেশে মসজিদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটলেও মসজিদ আবাদকারী তথা মুসল্লিদের কিংবা মসজিদ পরিচালনাকারীদের গুণগত প্রবৃদ্ধি ঘটেনি। পরিদর্শন করলে এবং ঈদের নামাজ কিংবা সাপ্তাহিক জুমার নামাজের হিসাব বাদ দিলে দেখা যাবে, গড়ে বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে পাঞ্জেগানা নামাজির সংখ্যা হাতেগোনা।

শহরাঞ্চলে কিঞ্চিত প্রবৃদ্ধি লক্ষ করা গেলেও গ্রামাঞ্চলে এ দৃশ্য আরও করুণ। কোথাও কোথাও এমনও দেখা গেছে, মাত্র ২০০ গজের ব্যবধানে কিংবা পুকুরের দুপাড়ে দুটি বিশালাকার মসজিদ গড়ে তোলা হয়েছে। যুক্তির খাতিরে ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এ দৃশ্য মেনে নিলেও গ্রামাঞ্চলে মোটেও কাম্য নয়, বরং উদ্বেগজনক।

খোঁজ করলে দেখা যাবে, গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিতভাবে এসব মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পেছনে ধর্মীয় গুরুত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত, গোষ্ঠীগত, ভিন্ন মতবাদগত এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রাধান্য লাভ করে। যে যেখানে খুশি এবং যার যার ইচ্ছামতো যত্রতত্র মসজিদ গড়ে তুললে মসজিদ প্রতিষ্ঠার মূল তাৎপর্য ব্যাহত হয়। এরূপ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা যে আদৌ ইসলামসম্মত নয় তা অনেক আলেম ওলামাও বুঝতে চান না। রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশায় এরূপ অসৎ উদ্দেশ্যে মসজিদে জিরার নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে কুরআনিক নির্দেশ এবং রাসূল (সা.)-এর আদেশে ওই মসজিদ ধ্বংস ও ভস্মীভূত করা হয়েছে।

মসজিদের ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ইসলাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। পবিত্র কুরআন মজিদে রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর মসজিদগুলোতে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে তারচেয়ে বড় জালেম আর কে?

এদের পক্ষে মসজিদগুলোতে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। (সূরা : বাকারা, আয়াত : ১১৪)।

রাসূল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, কোনো মসজিদের মোকাবিলায় তার কাছাকাছি অন্য মসজিদ নির্মাণ করা হলে এবং এর পেছনে যদি মুসলমানদের বিভক্তিকরণ ও পূর্বতন মসজিদে মুসল্লি হ্রাস পায় তবে নতুন মসজিদ নির্মাতারা বিভেদ সৃষ্টি ও মুসল্লি হ্রাসকরণের অপরাধে গুনাহগার হবে। এ জন্য অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হজরত উমর ফারুক (রা.) তার শাসনামলে এক আদেশে বলেছিলেন, এক মসজিদের পাশে অন্য মসজিদ নির্মাণ করবে না যাতে পূর্বতন মসজিদের জামাত ও সৌন্দর্য হ্রাস পায়। (কাশশাফ)।

বাংলাদেশেও মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে মসজিদ প্রতিষ্ঠা, কার্যকরীভাবে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করা দরকার। মসজিদ পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্মীয় চেতনা যেমন দরকার, তেমনই দরকার রাজনীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বলয় থেকে মসজিদকে মুক্ত রাখা। বাংলাদেশের অনেক মসজিদেই পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিরা ধর্মীয় জ্ঞানহীন, অসৎ, দুর্নীতিপরায়ণ ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অর্থ ও রাজনৈতিক দাপটে ঘুরেফিরেই তারা পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়, মসজিদ ফান্ডে ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন বাবদ অর্থ প্রদান করে। কাজেই মাস শেষে বেতন নেওয়ার স্বার্থে ইমাম মুয়াজ্জিন একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের হুকুম পালনে বাধ্য হয়।

বাংলাদেশে মসজিদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়নের জন্য জাতীয় সংসদে মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৬ পাশ হয়েছে কিন্তু ওই নীতিমালা বাস্তবায়ন জরুরি। আমরা আশা করি, ওই নীতিমালার আলোকে সারা দেশের মসজিদ ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানো হবে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন থেকে শুরু করে ইমাম মুয়াজ্জিনের বেতন কাঠামো ও তাদের প্রশিক্ষণ, মসজিদ ফান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বারা সারা দেশে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক দক্ষ ও কার্যকর মসজিদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

অ্যাপলের বিরুদ্ধে এরিকসনের মামলা

মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সুইডেনের টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি এরিকসন। আইফোনে ফাইভজি ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহারের রয়্যালিটি পেমেন্ট ইস্যুতে এ মামলা করেছে এরিকসন। ইতোমধ্যেই উভয় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

২০১৫ সালে শুরু হওয়া সাত বছরের টেলিকম পেটেন্ট নবায়নে সমঝোতা না হওয়ায় উভয় কোম্পানি একে অপরকে দোষারোপ করে এই মামলা করে। অক্টোবরে সর্বপ্রথম এরিকসন মামলা করে। তারা দাবি করে, অ্যাপল অযৌক্তিকভাবে রয়্যালিটি রেট কর্তন করার চেষ্টা করছে। এরপর গত ডিসেম্বরে অ্যাপল তাদের করা মামলায় অভিযোগ করে, সুইডিশ কোম্পানিটি পেটেন্ট নবায়নে নিজেদের জোর খাটাচ্ছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে পেটেন্ট মামলা খুবই সাধারণ ঘটনা। কারণ এক ডলারও বাঁচাতে পারলে চুক্তির মেয়াদকালীন সেটি বড় সংখ্যা হিসাবে রূপ নেয়। এরিকসন প্রত্যেকটি ফাইভজি হ্যান্ডসেটের জন্য আড়াই থেকে পাঁচ ডলার রয়্যালিটি ফি নিয়ে থাকে।