শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 449

বৈঠক চলাকালে বিএনপি নেতাকে খুন করল আ.লীগ নেতা

আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে বগুড়ার শিবগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতার ছুরিকাঘাতে বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম (৫০) খুন হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কিচক বন্দরে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে শহিদুলকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মারা যান। শিবগঞ্জ থানার ওসি দীপক কুমার দাস এ বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত শহিদুল ইসলাম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের পালিহার কেকারপাড়া গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপির কিচক বন্দর কমিটির সভাপতি ও আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন কিচক বন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

নিহতের চাচাতো ভাই বগুড়া বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছেদ ও অন্যরা দাবি করেন, সংগঠনের পদ নিয়ে শহিদুলের সঙ্গে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কিচক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ইয়াকুব আলীর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। তারা শহিদুলকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে কিচক বন্দরে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংগঠনের পদপদবি নিয়ে সভা চলছিল। এ সময় মতানৈক্য দেখা দিলে আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ তার (শহিদুল) পেটে ছুরিকাঘাত করেন। রক্তাক্ত শহিদুলকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করলে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এ ছুরিকাঘাতের পর কিচক বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

শিবগঞ্জ থানার ওসি দীপক কুমার দাস বলেন, নিহত শ্রমিক নেতা শহিদুল বিএনপি ও অভিযুক্ত আবু সাঈদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে হত্যাকাণ্ডটি তাদের শ্রমিক সংগঠনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ মর্গে আছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

প্রথম স্ত্রী বাড়িতে আসায় স্বামীকে কোপাল দ্বিতীয় স্ত্রী

প্রথম স্ত্রী বাড়িতে আসায় স্বামী হাফিজুল শেখকে (৩৫) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে দ্বিতীয় স্ত্রী আয়শা বেগমের (২৫) বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের চরপ্রসন্নদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত হাফিজুল শেখকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগম (৩০) তার সাড়ে ৪ বছরের একটি ছেলেসন্তানকে নিয়ে এক বছর পর বাবার বাড়ি ঢাকার টঙ্গী থেকে তিন দিন আগে স্বামীর বাড়ি চরপ্রসন্নদী গ্রামে আসে। এ ঘটনা কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দ্বিতীয় স্ত্রী আয়শা বেগমের সঙ্গে স্বামী হাফিজুলের কথাকাটাকাটি হয়।

এর একপর্যায়ে দ্বিতীয় স্ত্রী আয়শা বেগম ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে হাফিজুলকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠায় ও দ্বিতীয় স্ত্রী আয়শাকে আটক করে রাখে।

মুকসুদপুরের সিন্দিয়াঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুস সালাম বলেন, আমরা ঘটনা শুনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেব।

বৈদেশিক সহায়তা ১৭৭৭৪ কোটি টাকা কাটছাঁট

চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কাটছাঁট করে ২ লাখ ৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। সংশোধিত এডিপির (আরএডিপি) খসড়ায় এ বরাদ্দ নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এক্ষেত্রে বাদ যাচ্ছে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। যার পুরোটাই বৈদেশিক সহায়তার অংশ। ফলে এ অংশে বরাদ্দ কমছে ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

তবে মূল এডিপির আকার হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে সার্বিক বরাদ্দ কমছে ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আরএডিপিতে খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হচ্ছে পরিবহণ ও যোগাযোগে। প্রকল্পভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। পরিকল্পনা কমিশনের সভায় বুধবার আরএডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা সচির প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে জানান, ২ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে সংশোধিত এডিপির বরাদ্দ প্রস্তাব। প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে এটির অনুমোদন দেওয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ কেন এত কমছে, সেটি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। তবে এটুকু বলা যায়, এর পেছনে যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, মূল এডিপিতে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ আছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এই বরাদ্দ প্রায় একই থাকছে। বৈদেশিক সহায়তা অংশে বরাদ্দ আছে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ছেঁটে ফেলে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা।

সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ খাত : প্রস্তাবিত সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০টি খাত হচ্ছে-পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে ৫৫ হাজার ৮২৭ কোটি ৩৬ টাকা, অর্থাৎ ২৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ৩৯ হাজার ২১৪ কোটি টাকা, গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলিতে ২৩ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষায় ২০ হাজার ৮২৪ কোটি, স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়নে ১৫ হাজার ৫০২ কোটি, স্বাস্থ্যে ১৩ হাজার ৭৯৭ কোটি, পরিবেশ-জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদে ৯ হাজার ৮৪ কোটি, কৃষিতে ৭ হাজার ২৯৭ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৪ হাজার ৫৩৭ কোটি এবং জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ৩ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ প্রকল্প : সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০টি প্রকল্প হচ্ছে-রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বরাদ্দ প্রস্তাব ১৪ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৬ হাজার ১১৩ কোটি টাকা। এছাড়া পর্যায়ক্রমে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা, মেট্রোরেলে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ২ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা। সাসেক রোড সংযোগ প্রকল্প: এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ২ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ২ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। এছাড়া সাপোর্ট টু ঢাকা-সিলেট-তামাবিল সড়ক প্রকল্পে ২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

মোট প্রকল্প : সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা থাকছে ১ হাজার ৭৫৪টি। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ১ হাজার ৫০৭টি, কারিগরি ১৪০টি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার প্রকল্প রয়েছে ১০৭টি।

বাজেট প্রণয়নে তথ্য ও স্বচ্ছতার অভাব

দেশের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে তথ্য-উপাত্তে ঘাটতি রয়েছে। এক্ষেত্রে কোথাও কোথাও আইনের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। এসব কারণে বাজেটে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।

এছাড়াও প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ আয়োজিত সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান সাবের হোসেন চৌধুরী, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, আইন ও বিচারসংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত সচিব রনজিত কুমার চক্রবর্তী এবং এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটিটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সরকারের আর্থিক খাতের তথ্য-উপাত্ত সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। যথাসময়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যায় না। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা জানা যায় না।

এতে বলা হয়, রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে অর্থ বিভাগ ও এনবিআরের মধ্যে গরমিল রয়েছে। ব্যাংক ঋণের তথ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি আছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আইএমইডির (সরকারের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অর্থ বিভাগের তথ্যে মিল নেই। তিনি বলেন, অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো প্রকাশ হয় না।

বাজেটে যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তার তথ্য জানা গেলেও প্রকৃত খরচ জানা যায় না। তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি হলে সরকারের নীতি গ্রহণে অসুবিধা হয় বলে মনে করেন জনপ্রতিনিধিরা। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।

ড. রেহমান সোবহান বলেন, পলিসির সুফল পেতে গুণগত মানসম্পন্ন ডেটা জরুরি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকারি খাতের বাইরে থেকে ডেটা নিতে হয়। ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা পাওয়া যায় না। এতে জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ জিডিপির প্রবৃদ্ধির অর্ধবার্ষিক হিসাব প্রকাশের পরামর্শ দেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বলেন, ‘এটা করা হলে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং জিডিপির হিসাব নিয়ে যে বিতর্ক দেখা দেয়, এর অবসান ঘটবে।’ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বাজেটকে আরও স্বচ্ছ হতে হবে এবং বাজেট প্রণয়নে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘শুধু বাজেট প্রণয়ন করলেই হবে না, এমপিদের দায়িত্ব হচ্ছে বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা।’ আর্থিক খাতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ না হলে এবং সহজভাবে সরবরাহ না করা গেলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নীতিনির্ধারকদের সমস্যা হবে। এজন্য তথ্য-উপাত্ত কীভাবে সহজভাবে সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আব্দুস শহীদ বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত একটি বড় ইস্যু এবং চ্যালেঞ্জও বটে। পর্যাপ্ত ডেটা না থাকলে কোনো কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এর অভাবে বাজেট প্রণয়ন ব্যাহত হবে।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘সরকারি আয়-ব্যয়ের ডেটা উন্মুক্ত না। এখানে যথেষ্ট অস্বচ্ছতার ঘাটতি আছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আমার নির্বাচনি এলাকায় যত গরিব লোক আছে, বাস্তবে তার চেয়ে বেশি। ‘গত সাড়ে তিন বছরে কেউ আমাকে বলেনি, আপনার এলাকায় বাজেট কত, কত খরচ হলো।’ জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে ৩০০ এমপির তেমন কোনো ভূমিকা থাকে না। আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। বাজেট তৈরিতে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, জনপ্রতিনিধিদের সম্মতি ছাড়া কোনো করারোপ করা যায় না। অথচ এটা নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয় না।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, ‘উন্নয়ন বেশি করতে চাইলে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ সহজ করতে হবে।’ সাবেক অতিরিক্ত সচিব রণজিৎ কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আর্থিক খাতের প্রায় সবক্ষেত্রেই অটোমেশন হচ্ছে। এর ফলে আশা করা যাচ্ছে তথ্য সরবরাহ আরও সহজলভ্য হবে।’ তিনি বলেন, ‘ইতিবাচক দিক হচ্ছে বাজেট সিস্টেমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে বাজেট আরও স্বচ্ছ হবে।

ইউক্রেন পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউক্রেইনের যুদ্ধ পরিস্থিতি ‘উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ’ করছে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সব পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি, পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে আজকের তফাৎ হল, মিলিটারি মুভমেন্ট দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে শাহরিয়ার আলম বলেন, যে কোনো রিজিওয়নে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং সেটা কেবল ওই অঞ্চলের জনগণের জন্যই নয়। এটাকে নিশ্চিত করতে পারে ডায়ালগ। এবং দুপক্ষে বা বহু পক্ষ হলে তাদের যে প্রত্যাশা, তার সমাধান আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে।

ইউক্রেন সংঘাতে বিবাদমান বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান সরকারের কাছে ব্যাখ্যা করেছে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, লার্জলি আমাদের পজিশন হল, নন ইন্টারফেয়ারেন্স। বিশ্বে যখন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়, দুটি পক্ষ তৈরি হয়ে যায়, তখন দুপক্ষ এসে শুধু বাংলাদেশ নয়, সবদেশের কাছে তাদের অবস্থানগুলি স্পষ্ট করবেন।

বিশেষ করে যে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত নিরপেক্ষ পজিশন মেইনমেইন করে, তারই ধারাবাহিকতায় তারা কথা বলেছে, নাথিং রং।

ইউক্রেনে সম্প্রতি সংঘাত বাড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই ধরনের সংঘাত পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে আমরা এখন পর্যন্ত এমন অবস্থানে নেই যে, বিশেষ কোনো বিষয়ের ওপর কমেন্ট করতে পারি।

সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও বাংলাদেশ পর্যালোচনা করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সংকটের সমাধানের ওপর অঞ্চল ও এর বাইরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নির্ভর করে, যা কেবল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে মস্কো ও পশ্চিমা বিশ্ব এখন মুখোমুখি অবস্থানে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার সৈন্য সমাবেশ নিয়ে পশ্চিমাদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে গত ১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে ‘আলোচনার ভিত্তিতে’ সমস্যার সমাধান করতে সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল বাংলাদেশ।

পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ককে রাশিয়া স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছায়।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর এর মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মত ইউরোপে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের বড় ধরনের কোনো যুদ্ধের সূচনা হল।

বৃহস্পতিবার আরেক বিবৃতিতে ইউক্রেনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

সেখানে বলা হয়, ইউক্রেইনে সম্প্রতি সংঘাত বাড়ার ঘটনায় বাংলাদেশ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ কারণে আমরা সবপক্ষকে সর্বোচ্চ মাত্রার সংযম, দ্বন্দ্ব নিরসন এবং সংকট সমাধানে কূটনীতি ও সংলাপের পথ ফেরার প্রচেষ্টা নেওয়ার আহ্বান জানাই।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীন হওয়া ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোতে যোগ দিতে চায়, যা নিয়ে রাশিয়ার ঘোর আপত্তি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্ররা ইউক্রেনকে সমর্থন দিচ্ছে, তাতে ওই অঞ্চলের উত্তেজনার উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বিশ্বময়।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইউক্রেনের ওপর স্থল, নৌ ও আকাশ পথে হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের বাহিনীও লড়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।

সিন্ডিকেট করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। দুর্নীতির কারণে এখন এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০-২৮ শতাংশ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বাজারের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়েছে। তারা কৃত্রিমভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। চরম দুর্নীতির প্রভাব বাজারে গিয়ে পড়ছে এবং জনগণকে তার মাশুল দিতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং উপজেলা পর্যায়ে ন্যায্যমূল্যে পর্যাপ্ত দ্রব্যসামগ্রি বিক্রির দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি মহাসচিব। কর্মসূচিগুলো হলো-বিএনপির উদ্যোগে আগামীকাল শনিবার রাজধানীতে (মহানগর উত্তর-দক্ষিণের উদ্যোগে) ২৮ ফেব্রুয়ারি বিভাগীয় সদর ও মহানগরে, ২ মার্চ জেলা পর্যায়ে এবং ৫ মার্চ উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

৬ মার্চ ছাত্রদল, ৮ মার্চ যুবদল, ৯ মার্চ স্বেচ্ছাসেবক দল, ১০ মার্চ কৃষক দল, ১৪ মার্চ মহিলা দল ও ১৫ মার্চ তাঁতী দলের উদ্যোগে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এ ছাড়া ১২ মার্চ বিএনপির উদ্যোগে সারা দেশে ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে হাট-বাজারে হাটসভা-পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।

এসব কর্মসূচিতে দেশবাসীকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মাঠ পর্যায়ে এসব কর্মসূচি নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দেশবাসীকে সম্পৃক্ত করতে যাচ্ছি। কর্মসূচিতে দলের সিনিয়র নেতারা অংশ নেবেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রকৃতপক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য চাল-ডাল-তেলসহ পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে বাংলাদেশের মানুষ আর্থিক দিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের প্রকৃত আয় অনেক কমে গেছে। মানুষ মধ্যবিত্ত থেকে নিুবিত্তে চলে গেছে, যা বেশিরভাগ মানুষ বলতে পারেন না-এটাই বাস্তবতা।

গত মঙ্গলবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয় বলে জানান মির্জা ফখরুল।

এর আগে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সব সাংগঠনিক জেলায় সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ের প্রথম ধাপে ২৩ জেলায় সমাবেশও করে দলটি। প্রতিটি সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হয়। পরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির পরিপ্রেক্ষিতে ১৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৩২ জেলায় দলের নির্ধারিত সমাবেশ না করে তারিখ পুনর্র্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। জানা গেছে, এখন জনসম্পৃক্তমূলক কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকতে চাইছে বিএনপি। এসব কর্মসূচি শেষে আবারও জেলায় জেলায় সমাবেশ করার চিন্তা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পিলখানা হত্যা মামলা

আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহের (পিলখানা ট্র্যাজেডি) ১৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে বিপথগামী সদস্যরা কিছু দাবি-দাওয়া আদায়ের নামে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও নির্মম হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে তাণ্ডব চালায়। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

হত্যা মামলার বিচার ১৩ বছরেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি এখন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। আসামিপক্ষ বলছে, শুনানির জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আর রাষ্ট্রপক্ষ বলছে এখনও আপিলের পূর্ণাঙ্গ কাজ সম্পন্ন হয়নি। হলেই শুনানির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২০২০ সালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর খালাস চেয়ে ২০৩ আসামি আপিল করেছে। আর ৮৩ জনের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে লিভ টু আপিল করা হয়েছে।

এখন আপিল শুনানির উদ্যোগ নিলে বিচারের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হবে। যদিও এরপর রিভিউ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করা ছাড়া আর কোনো সুযোগ থাকবে না।

আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ‘২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আবেদন করার পর সত্যায়িত কপি পাই ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর। রায়টি ৩০ হাজার পৃষ্ঠার, রেডি করতে অনেক সময় লেগেছে। এক সেট রায়ের কপি তুলতে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা জমা দিতে হয়েছে আমাদের।’

তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী ৯ আসামির পক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ আপিল করেছিলাম ৩০ দিনের মধ্যে। এতে সব মিলিয়ে ১৭ লাখ থেকে ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়। এ আপিলটি ছিল ৬৬ হাজার পৃষ্ঠার।

এত টাকা খরচ করে গরিব আসামিদের পক্ষে আপিল করা সম্ভব নয় মর্মে পরে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করলে সেটি মঞ্জুর হয়। পরে রায়ের কপি ছাড়াই শুধু আবেদন দিয়ে ২০৩ জন আসামির পক্ষে ৪৮টি আপিল করি। এই ২০৩ জনের মধ্যে ৮২ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং অন্যরা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড থেকে যারা খালাস পেয়েছেন, এবং মৃত্যুদণ্ড থেকে যারা যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং যারা নিু আদালতে খালাস পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, সব আপিল দায়ের সম্পন্ন হলে উভয়পক্ষকে সার সংক্ষেপ জমা দিতে হবে। আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ হলে আসামিপক্ষ থেকে সারসংক্ষেপ জমা দেওয়া হবে। এরপর আপিল শুনানির জন্য চেম্বার জজ আদালত হয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে যাবে। প্রধান বিচারপতি একটা বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। সেখানেই হবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।

এ ঘটনায় প্রথমে রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এদের কয়েকজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬১ জনকে।

সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদ সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ আসামি। সাজা হয় ৫৬৮ জনের। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরা জেল আপিল ও আপিল করেন। ৬৯ জন খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়। শেষ হয় ৩৭০তম দিনে ১৩ এপ্রিল।

খালাসপ্রাপ্ত ৭৫ জনসহ ৮৩ আসামির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল : হাইকোর্টে খালাস পাওয়া ৭৫ জন এবং সাজা কমে যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত ৮ আসামি মিলিয়ে ৮৩ জনের ক্ষেত্রে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর হাইকোর্টে খালাস পাওয়া চারজনের ক্ষেত্রে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর অপর ৭৯ জনের ক্ষেত্রে ২২ ডিসেম্বর পৃথক ১৯টি লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, সব আপিল দায়ের সম্পন্ন হলে উভয়পক্ষকে সার সংক্ষেপ জমা দিতে হবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে লিভ টু আপিল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনও বিচারাধীন : হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাহিনীর নিজস্ব আইনের পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে দুটি মামলা হয়। ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে এ দুটি মামলা হয়। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখন সাক্ষ্য পর্যায়ে রয়েছে। এ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় ১২৬৪ সাক্ষী রয়েছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ২০০ জনের সাক্ষ্য হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যাপারে।

বিজিবির নানা কর্মসূচি : নিহতদের স্মরণে শুক্রবার শাহাদতবার্ষিকী পালন করবে বিজিবি। দিনটি পালনের উদ্দেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শাহাদতবার্ষিকীতে দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী শহিদ ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে পিলখানার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তরসহ সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় খতমে কুরআন, বিজিবির সব মসজিদ এবং বিওপি পর্যায়ে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একত্রে) শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সব স্থাপনায় বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সব সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবেন। এছাড়া বিজিবির সব সেক্টর ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বিশেষ দরবার অনুষ্ঠিত হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) বাদ জুমা পিলখানার বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা সেক্টর মসজিদ এবং বর্ডার গার্ড হাসপাতাল মসজিদে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রিত অতিথি, শহিদ ব্যক্তিদের নিকটাত্মীয়, পিলখানায় কর্মরত সব অফিসার, জুনিয়র কর্মকর্তা, অন্যান্য পদবির সৈনিক এবং বেসামরিক কর্মচারী স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অংশগ্রহণ করবেন।

আমাদেরকে রাশিয়ার মুখে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে: ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট

রাশিয়ার সর্বাত্মক আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেনকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়া কিয়েভে হামলা চালানোর পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একথা বলেন তিনি।

কিয়েভে রুশ হামলায় প্রথম দিনে ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এরপর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার বড় ধরনের হামলার বিপরীতে দেশ রক্ষায় আমাদেরকে একা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের হয়ে লড়ার কে আছে? আমি তো কাউকে দেখি না। ইউক্রেনকে ন্যাটোভূক্ত করার নিশ্চয়তা কে দেবে? সবাই রাশিয়ার আগ্রাসী ভূমিকায় ভীত।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হামলার শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩৭ জন ইউক্রেনিয়ান নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩১৬ জন।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার বাহিনী রাজধানী কিয়েভে ঢুকে পড়েছে। তারা নগরবাসীকে ভয় দেখাচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি এবং তার পরিবার এখনও ইউক্রেনেই রয়েছেন। রাশিয়া তাকে এক নম্বর টার্গেটে রেখেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘ইউক্রেনকে সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য করতে আমি ২৭ জন ইউরোপীয় নেতাকে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কেউই কোনো উত্তর দেননি। সবাই ভীত।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম ইউরোপের প্রথম দেশ হিসাবে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ এবং সমুদ্রপথে ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় হামলা শুরু করেছে। একসঙ্গে তিন দিক দিয়ে হওয়া এই হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির মতো পড়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের চেরনিহিভ, খারকিভ এবং লুহানস্ক সীমান্ত পেরিয়ে হাজার হাজার রুশ সৈন্য স্থলপথে দেশটিতে ঢুকে পড়েছে।

শুক্রবার ইউক্রেনের বড় বড় স্থাপনায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে কিয়েভে আরেকটি রুশ বিমান ভূপাতিত করার খবরও পাওয়া গেছে।

মিয়ানমার আজ আবারও যুক্তি তুলে ধরবে

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর হত্যা-নির্যাতনের অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাকে গাম্বিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে। মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করার জন্য গাম্বিয়ার আইনজীবীরা জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিজেতে মিয়ানমার যুক্তি দেখায়-কোনো সংস্থার প্রক্সি হয়ে অন্য কেউ মামলা করতে পারে না।

বুধবার মিয়ানমারের আপত্তির শুনানিতে গাম্বিয়া জানায়, উত্থাপিত আপত্তিগুলো এর আগেই আদালত নাকচ করে দিয়েছিলেন এবং এবারও তা প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

আজ মিয়ানমার দ্বিতীয় দফায় যুক্তি পেশের মাধ্যমে গাম্বিয়ার বক্তব্যের জবাব দেবে। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি গাম্বিয়া দ্বিতীয় দফায় বক্তব্য তুলে ধরবে। খবর এপি ও রয়টার্সের।

২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়া রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলাটি করে। গাম্বিয়ার যুক্তি-২০১৭ সালের অভিযানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর যে নিপীড়ন চালায় তা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের শামিল।

অভিযানটি অবশ্যই গণহত্যার মতো মারাত্মক অপরাধ এবং এজন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ওই সময় জাতিসংঘের একটি মিশন তথ্য সংগ্রহ করে জানায়, দমন অভিযানের সময় ‘গণহত্যামূলক কাজ সংঘটিত হয়েছে।’

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা মামলা খারিজ করতে মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের যুক্তি- পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার মামলাটি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সদস্য দেশের করা মামলাই শুধু আন্তর্জাতিক আদালত আমলে নিতে পারে।

মিয়ানমারের এ দাবির দুদিন পর তা প্রত্যাখ্যান করতে গাম্বিয়ার আইনজীবীরা জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেন। বুধবার আইসিজের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বিচারপতি জোয়ান ডনহিউয়ের সভাপতিত্বে শুনানি শুরু হলে গাম্বিয়ার পক্ষে প্রথমে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালো। তিনি বলেন, আদালতের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে পরিবর্তন করার জন্য মিয়ানমার কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি দেখাতে পারেনি। তাই দ্রুততার সঙ্গে মিয়ানমারের প্রাথমিক আপত্তি নাকচ করা উচিত।

২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি আইসিজের আদেশের ধারাবাহিকতায় এবারও ওই সব আপত্তি নাকচ করা উচিত বলে গাম্বিয়া যুক্তি দিয়েছে। গত বছরের এপ্রিলে লিখিতভাবে মিয়ানমারের সব দাবির দফাওয়ারি অসারতা তুলে ধরে গাম্বিয়া জবাব দিয়েছে।

সোমবার রাতে আইসিজের ওয়েবসাইটে এসব প্রকাশও করা হয়। মিয়ানমারের মামলা খারিজ করার আবেদনের রায় দিতে বিচারকদের কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। মিয়ানমারের আপত্তির ওপর শুনানি হচ্ছে হাইব্রিড পদ্ধতিতে। কিছুটা আদালতে সশরীর অংশগ্রহণ করে। আর বাকিটা অনলাইনে।

আদালতে গাম্বিয়ার প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন দেশটির বিচারমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল দাওদা জালো, সলিসিটর জেনারেল হুসেইন থমাসি। আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী পল এস রাইখলার, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক ফিলিপ স্যান্ডস, ব্রাসেলসের অধ্যাপক পিয়ের দেজা, নিউইয়র্কের আসলাম সুলেমানসহ আরও কয়েকজন।

মিয়ানমারের আইনি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রী কো কো হ্লাইং। গত বছর সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সুচির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন হ্লাইং।

উপন্যাস-প্রবন্ধ আর কবিতায় ‘করোনা’

করোনা মহামারি মানবসমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তছনছ করেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এখনো নানাভাবে করোনা তার ক্ষতচিহ্ন রেখে যাচ্ছে। আর সেসব কথাই উঠে এসেছে সাহিত্যের নানা শাখার লেখায়। লেখকরা উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা এমনকি কৌতুকেও তুলে এনেছেন আড়াই বছর ধরে চলা করোনা মহামারিকে।

গত বছর বইমেলায় করোনা মহামারি নিয়ে কিছু বই প্রকাশ হলেও তা সেই অর্থে আলোয় আসতে পারেনি। কারণ বইমেলাই পড়ে গিয়েছিল মহামারির বাস্তবতায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয় মেলা। এবারের বইমেলা সেদিক থেকে অনেক ভালো অবস্থায় থাকার কারণে করোনা ও করোনা মহামারিবিষয়ক লেখা বইগুলো সবার সামনে আসছে। অনেক পাঠক সেগুলো আগ্রহ ভরে কিনছেনও।

বৃহস্পতিবার বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে করোনা ও কারোনাকালবিষয়ক বেশকিছু বইয়ের সন্ধান পাওয়া যায়। গত বছর সময় প্রকাশন থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রচিত ‘করোনাকালে’ শিরোনামে বই প্রকাশ করেন। এই বইয়ে করোনকালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নানা বিষয় উঠে এসেছে। বইটি এবারও পাওয়া যাচ্ছে।

আগামী থেকে এবারের বইমেলায় অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী রচিত ‘করোনাভাইরাসের সঙ্গে মাদক ও তামাকের সম্পর্ক’ বই প্রকাশ হয়েছে। প্রথমা থেকে প্রকাশ হয়েছে ‘কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস : যা জানা দরকার’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ বই। ড. মাইকেল মোসলি রচিত বইটি ভাষান্তর করেছেন আবুল বাসার। জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের দুইটি বইয়ে এবার উঠে এসেছে করোনা ও করোনাকাল। শিশুদের জন্য তার গুড্ডুবুড়া সিরিজের ‘গুড্ডুবুড়ার করোনার প্রতিরোধক আবিষ্কার’ প্রকাশ হয়েছে একই প্রকাশনী থেকে। পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশ হয়েছে লেখকের ‘করোনাকালের কৌতুক’ শিরোনামের আরেকটি বই। প্রথমা থেকে এসেছে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর রচিত ‘যুদ্ধোত্তর কাল থেকে করোনাকাল : বাংলাদেশের পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ বই।

বাংলানামা থেকে প্রকাশ হয়েছে ওয়াদুদ খানের ‘করুণাহীন করোনার দিন’ শিরোনামে উপন্যাস। প্রকাশনাটির দাবি, করোনাভাইরাসের প্রেক্ষাপটে লেখা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস এটি। অবসর থেকে প্রকাশ হয়েছে খসরু পারভেজ সম্পাদিত ‘করোনাকালের কবিতা: আরও এক বিপন্ন বিস্ময়’ শিরোনামে কবিতার বই। একই প্রকাশনা থেকে বের হয়েছে আবু মো. দেলোয়ার হোসন রচিত ‘করোনাকালীন ভাবনায় সেকাল-একাল’ বইটি। ঐতিহ্য নিয়ে এসেছে স্লাভোয় জিজেক রচিত ‘প্যানডেমিক ২ : ক্রনিকলস অব অ্যা টাইম লস্ট’ বই। বইটি অনুবাদ করেছেন ড. মাসুদ আলম। গত বছর ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের লেখা ‘করোনা কাহিনী’ বইটি এবারের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে ভোরের কাগজ প্রকাশনের স্টলে। এদিকে বৃহস্পতিবারের বইমেলা ছিল গত কয়েক দিনের মতোই জমজমাট। সন্ধ্যার পর প্রচুর মানুষের সমাগম, আড্ডা আর বই কেনার মধ্য দিয়েই মেতে ছিলেন সবাই।

মঞ্চের আয়োজন : এদিন বিকাল গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফউজুল আজিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সাহিদা বেগম এবং কুতুব আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খুরশীদা বেগম।

প্রাবন্ধিক বলেন, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের লক্ষ্য ছিল এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। কিশোর বয়সে একটি সেবা সংগঠনের মাধ্যমে দেশসেবার যে ব্রতের সঙ্গে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন-আন্দোলন, সংগ্রাম, জেল-জুলুম, দাঙ্গা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদি নানা রকম সংকটপূর্ণ জীবন অতিক্রম করে যে অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন। তার সফল প্রতিফলন ঘটেছে ১৯৭২ সালে গৃহীত ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’র সংবিধানে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সংবিধান বাঙালি জাতির আত্মজীবনী আর সেই আত্মজীবনীর রূপকার আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন রাশেদ রউফ এবং মজিদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, নুরুন্নাহার শিরীন এবং চঞ্চল শাহরিয়ার। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল আলম পাপ্পু, মীর মাসরুর জামান রনি এবং সুপ্রভা সেবতি। সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মৈত্রী শিশুদল’র পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা, সালাউদ্দিন আহমেদ, এমএম উম্মে রুমা ট্রফি, মো. মেজবাহ রানা এবং একেএম শহীদ কবীর পলাশ।

ভাষাশহিদ মুক্তমঞ্চের অনুষ্ঠান : বিকালে এই মঞ্চে শুরু হয় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ। স্বরচিত কবিতাপাঠে অংশ নেন ২৫ জন কবি। পরে প্রদর্শিত হয় নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

বইমেলায় শিশুপ্রহর আজ : শুক্রবার মেলার প্রথম শিশুপ্রহর। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে এই শিশুপ্রহর।

নতুন বই : বৃহস্পতিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১০৬টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে অন্বেষা প্রকাশন এনেছে জিল্লুর রহমানের উপন্যাস ‘ঘোর’, কথাপ্রকাশ এনেছে আনিসুল হকের কিশোর গল্প ‘ছোটদের বকুলমালা ভূত এবং হাসির গল্প’ ও সালেক খোকনের ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী বিষয়ক বই ‘সমতলের বারো জাতি’, চিরদিন প্রকাশনী এনেছে এসএম জাকির হোসেনের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ‘একাত্তরে বিদেশি সুহৃদ-দুঃসময়ের সারথি’, বাংলা একাডেমি এনেছে মুস্তাফা মজিদের ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিচয়’, সময় প্রকাশন এনেছে শওকত ওসমানের প্রবন্ধ ‘সমুদ্র নদী সম্পর্কিত’, অন্যপ্রকাশ এনেছে সাদাত হোসাইনের উপন্যাস ‘প্রিয়তম অসুখ সে’, বিদ্যাপ্রকাশ এনেছে জাকিয়া খানের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই ‘যুদ্ধদিনের স্মৃতি’, পুথিনিলয় এনেছে যতীন সরকারের প্রবন্ধ ‘প্রাকৃতজনের জীবন দর্শন’।