রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 442

খেলাপি কমাতে রূপালী ব্যাংকে নতুন ঋণ পদ্ধতি

খেলাপি ঋণ কমাতে উদ্ভাবনী ব্যাংকিংয়ের দিকে হাঁটছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ তিন স্তরের একটি ঋণ-মডেল উদ্ভাবন করেছেন। এটি বাস্তবায়ন হলে ঋণঝুঁকি অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। লাগাম টানা যাবে ব্যাংকের খেলাপির হারে। রূপালীর এমডি এই ঋণ মডেলের নাম দিয়েছেন ‘থ্রি টায়ার লেন্ডিং সিস্টেম’।

যুগান্তরের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, খেলাপি ঋণ ব্যাংকব্যবস্থার একটি চ্যালেঞ্জ। এটি সামলাতে ঋণব্যবস্থায় পরিবর্তন দরকার। সেটির পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে রূপালী ব্যাংক। থ্রি টায়ার ঋণ পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এই পদ্ধতিতে কাঁচামাল সরবরাহকারী, উৎপাদক ও বাজারজাতকারীদের একই ছাতার নিছে নিয়ে আসা হবে। সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করে একটি প্যাকেজের মাধ্যমে তিন খাতেই ঋণ সরবরাহ করা হবে। ফলে শিল্পোদ্যোক্তা বা বৃহৎ ঋণ গ্রহীতার ওপর চাপ কমে যাবে। এতে কেউ সহজে খেলাপি হবে না। ফলে ব্যাংকের ঋণেও ঝুঁকি কমবে।

শুধু থ্রি টায়ার লেন্ডিং সিস্টেম নয়, আরও অনেক উদ্ভাবনী ব্যাংকিং করছে রূপালী ব্যাংক। এর মধ্যে রয়েছে শূন্য সুদে কৃষিঋণ, দুগ্ধঋণ প্রভৃতি। উদ্ভাবনীয় ব্যাংকিং সম্পর্কে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, রূপালী ব্যাংক নাগরিক ও দেশের মাটির প্রতি দায়বদ্ধ। দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে নিরন্তরভাবে। সেই দায়বদ্ধতা থেকে এ দেশের খেটে খাওয়া কৃষকের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে ব্যাংকটি। আমাদের স্লোগান ছিল ‘মুজিববর্ষে শুভদিন, শূন্য সুদে কৃষিঋণ’। গত দুই বছরে করোনা মহামারির মধ্যে কৃষি ব্যাংক না হয়েও কৃষকের পাশে সবচেয়ে বেশি সহায়ক শক্তি হিসেবে ছিল রূপালী ব্যাংক।

তিনি বলেন, একজন কৃষক যে পণ্য উৎপাদন করে তার সঠিক দাম পায় না। আবার কৃষিভিত্তিক যে শিল্পগুলো আছে তাদের বেশি দামেই পণ্য কিনতে হয়। কোনো পরিশ্রম না করেই বিশাল মুনাফা লুটে নেয় মধ্যস্বত্বভোগীরা। তাদের হাত থেকে কৃষক ও শিল্পোদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে আমরা সরাসরি ঋণ দিচ্ছি। কারখানাকে ঋণ দিচ্ছি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামে পণ্য কেনার জন্য। এতে কৃষক লাভবান হচ্ছে, শিল্পোদ্যোক্তারও প্রফিট (মুনাফা) মার্জিন বাড়ছে।

অভিজ্ঞ এই ব্যাংকার বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় যখন আমচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তখন তাদের ঋণ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক। আমের জুস উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে ঋণ দেওয়া হয়েছে চাষিদের কাছ থেকে নগদ দামে আম সংগ্রহ করার জন্য। এতে দেশের আমচাষিরা ক্ষতি কাটিয়ে উঠে প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। এ ছাড়া দেশকে আদায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পার্বত্য এলাকায় আদা-হলুদ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়েছে রূপালী। কৃষক আদা কোথায় বিক্রি করবে সেটাও আমরা সহায়তা করেছি। কৃষক সরাসরি বিক্রি করতে পারছে তাদের পণ্য। এই ঋণপণ্যের জন্য আমাদের স্লোগান ‘দেশের পাহাড় জাগল বলে বাংলাদেশ আজ ধন্য, আদা-হলুদ করবে আবাদ সারা দেশের জন্য।’

রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, মহামারির মধ্যে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে গরু খামারিদের আমরা ঋণ দিয়েছি। তাদের উৎপাদিত দুধ যাতে মিল্ক ভিটার কাছে সরাসরি বিক্রি করতে পারে সেজন্য আমরা ভূমিকা রেখেছি। তাছাড়া তারা অবিক্রীত দুধ ফেলে না দিয়ে যাতে ঘি বানাতে পারে সেজন্য ঋণ দিয়েছি। এতে করোনাকালে দুগ্ধ খামারিরা পথে বসার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে কাজ করে যাচ্ছেন সেই কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে রূপালী ব্যাংকও সহযাত্রী হয়ে খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই ঋণের জন্য স্লোগান ছিল, ‘করোনাকালে দুধ না ফেলে ঘি বানান, দুগ্ধ খাতে জাগুক প্রাণ’।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ সংস্কৃতির জন্য আমাদের জাতিসত্তার ঋণ-অভ্যাসকে দায়ী করে তিনি বলেন, আমরা অভ্যাসগতভাবেই ঋণ পরিশোধ করতে চাই না। মুদি দোকান থেকে বাকি, বন্ধুর কাছ থেকে বা আত্মীয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে চাই না। এই যে ঋণ নিয়ে শোধ না করার একটা প্রবণতা এ কারণেই আমাদের অধিকাংশ গ্রাহক ঋণ শোধ করতে চায় না বা শোধ করতে সক্ষম হয় না। তাই খেলাপি সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হলে আমাদের সর্বক্ষেত্রেই ঋণ নিয়ে শোধ না করার প্রবণতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এজন্য শিক্ষাবিদ, মনোবিদ, সমাজবিদ, রাজনীতিকসহ যারা মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন ১৪৪টি শাখা পুরোপুরি খেলাপিমুক্ত। নির্দেশ দিয়েছি সব শাখাতে আমানতের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ ঋণ দিতে হবে। একই সঙ্গে খেলাপি মুক্ত থাকতে হবে। যারা ঋণের লক্ষ্য পূরণ করে আবার খেলাপিমুক্ত থাকতে পারবেন তাদের আমরা ডায়মন্ড, সিলভার ও ব্রোঞ্জ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পুরস্কৃত করছি। ব্যাংকের কাজ আরও সহজ করতে সাইবার সিস্টেম নিয়েও আমরা সবচেয়ে বেশি কাজ করেছি। সাইবার সিস্টেম নিয়ে কাজ করা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমরা শ্রেষ্ঠ ব্যাংক হিসাবে পুরস্কৃত। গ্রাহকদের আমানত রক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ইনস্টল করেছি। ভবিষ্যতে রূপালী ব্যাংক হবে শ্রেষ্ঠ আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

ডা. জাফরুল্লাহ বিএনপির কেউ নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্য বিএনপির নয়। তিনি বিএনপির কেউ নয়।

তিনি বলেছেন, অনেকেই বলাবলি করছেন ডা. জাফরুল্লাহ এ নির্বাচন কমিশনকে অনেক ভালো বলেছেন, আপনারাও মেনে নেন। কিন্তু মির্জা ফখরুল সাফ জানিয়ে দেন, ডা. জাফরুল্লাহর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটা তার নিজস্ব মন্তব্য। ডা. জাফরুল্লাহ সবার শ্রদ্ধার মানুষ, জ্ঞানী মানুষ। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি বিএনপির পক্ষে কথা বলার কেউ নন।

সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজারের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, চাল, ডাল তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং টিসিবির মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে সর্বত্র পণ্য সরবরাহের দাবিতে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন যেটাই হোক আমরা তাতে বিশ্বাস করি না। কারণ আওয়ামী লীগ যদি নির্বাচনের সময় সরকারে থাকে, তাহলে কোনো নির্বাচন কমিশনই সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ একটি প্রতারক দল, মিথ্যাবাদী ও অত্যাচারী দল। নির্বাচন কমিশনের তালবাহানা আর মুলা দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।

ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলীর সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ ওয়ারেস আলী মামুন, শরীফুল আলম প্রমুখ।

বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান জাফরি তুহিন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ডা, মাহবুবুর রহমান লিটন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ার, শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদুর রহমান রুবেল, নেত্রকোনা বিএনপির আহবায়ক ডা. আনোয়ার হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক কাজী রানা, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক জাকির হোসেন বাবলু, আলমগীর মাহমুদ আলম, ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, মহানগর যুগ্ম-আহবায়ক শাহ শিব্বির আহমেদ বুলু, একেএম মাহবুবুল আলম, কায়কোবাদ মামুন, অ্যাডভোকেট এমএ হান্নান।

বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে আওয়ামী লীগ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, এরা নির্বাচন করবে কিন্তু মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারে তাও নিশ্চিত করতে। তারা তাদের মতো করে সিল মেরে কিংবা ইভিএম দিয়ে ভোট নিয়ে তাদের সরকার তৈরি করবে। অর্থাৎ তারা ক্ষমতায় থাকবে ঠিকই, শুধু তারা দেখাবে যে নির্বাচন করেছি।

বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকার যা হুকুম দেয় তাদের তাই করতে হয়। বেগম খালেদা জিয়ার মামলা একটি মিথ্যা মামলা। যার কোনো সত্যতা নাই। অথচ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা, সেখানে একটা মামলাও হয় না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দলের এবং অঙ্গ সংগঠনের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত , এমন কোনো নেতা নাই যার বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১৫টা করে মামলা নেই। পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা এলাকা ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে রিকশা-ভ্যান চালায়, হকারি আর নৈশ্যপ্রহরীর কাজ করে।

সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এখনো সময় আছে চাল-ডাল-তেল, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম কমান। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জনগণের হাতে ক্ষমতা দিন। এই দেশের মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষা একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। সরকারে থেকে একটি ইলেকশন দিয়ে ভোট নিয়ে চলে যাবেন সেই কাজ এবার আর হবে না। তিনি আগামী দিনের লড়াই-সংগ্রামে রাজপথে থেকে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে থাকার আহবান জানান।

মার্চের প্রথম প্রহরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মোমবাতি প্রজ্বলন

মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতির ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরপর মোমবাতি প্রজ্বলন করেন তারা।

জানতে চাইলে আফজালুর রহমান বাবু যুগান্তরকে বলেন, এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের অগ্নিঝরা মার্চের কর্মসূচি শুরু হলো। ২ তারিখে আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটির মিটিং আছে। সেখানে মাসব্যাপী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ও একাত্তরের পরাজিত শক্তির সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা অর্জন করেছি। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।

১৪ বছরের আগে কোনো শিশুকে কাজে লাগানো যাবে না

শিশুদের কাজে যোগ দেওয়ার বয়স বিশেষ বিবেচনায় শিথিল করে সর্বনিম্ন ১৪ বছর নির্ধারণ করা শিশুশ্রম বিষয়ক আইএলও সনদের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আইএলও কনভেনশন-১৩৮’ অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয় থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা যোগ দেন।

বৈঠক শেষে আইএলও’র ৭টা কনভেনশন বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সই করেছি। ৭টা মৌলিক কনভেনশন এবং সাবসিডিয়ারি ৩৫টা কনভেনশনও সই করেছে বাংলাদেশ। এখানে ১৩৮ নম্বর যেই কনভেনশনটা এটা একটা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটা ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৩টি দেশ সই করেছে।

‘এখানে তিনটা জিনিস আছে। একটা হলো- বেসিক এডুকেশন করতে ১৫ বছর লাগে। সুতরাং ১৫ বছরের কম বয়সী কাউকে কাজে লাগানো যাবে না।’

‘দুই নম্বরে, আরেকটু রিল্যাক্স করেছে- কোনো দেশের যদি আর্থসামাজিক অবস্থা বিশেষ বিবেচনার পরিপ্রেক্ষিতে বয়স তারা কমাতে চায় তাহলে ১৪ বছর পর্যন্ত কমানো যাবে, এর ওপর না।’

‘তিন নম্বরে বলেছে, ১৪ হোক বা ১৫ হোক এ শিশুদের কোনো অবস্থাতেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাবে না। যেসব কাজে তাদের অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার বা জীবননাশের শঙ্কা আছে, সেসব কাজে কোনোভাবেই এসব শিশুদের ব্যবহার করা যাবে না।’

দেশে আরও দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে

দেশে আরও দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।সেই লক্ষ্যে আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে প্রস্তাবিত ওই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় সভাপতিত্ব করেন। আর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সচিবালয়ে সভায় অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় দুটির একটি নওগাঁয় আর আরেকটি হবে ঠাকুরগাঁওয়ে। এ দুটি বিশ্ববিদ্যালয় হলে দেশে স্বায়ত্তশাসিত ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫২। এ ছাড়া দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে ১০৮টি।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বঙ্গবন্ধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নওগাঁ আইন, ২০২২ এবং ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২২ খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের মতোই হবে এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন।

উল্লেখ্য, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হলো- দেশের প্রত্যেক জেলায় অন্তত একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন জেলায় নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে।

আবু সালেহর ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও রবীন্দ্র-বিতর্ক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

লেখক মোহাম্মদ আবু সালেহ রচিত আগামী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও রবীন্দ্র-বিতর্ক’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় অমর একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমি মঞ্চে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক অসীম সরকার, উপ-সচিব ও লেখক হাবিবুর রহমান, ব্যরিস্টার এম শফিকুল ইসলাম, উপ-সচিব ও লেখক ইফতেখার উদ্দিন শামীম, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার উল্লাহ, লেখক সিরাজুল ইসলাম মুনির, উন্নয়ন কর্মী শওকত আহমেদ, আবদুল কাদের, লেখক, শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকরা।

বইটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতার বহুমুখী ও বিচিত্র কারণগুলো উঠে এসেছে এবং রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক চলমান, তার নির্মোহ বিশ্লেষণ করে তথ্যসূত্র উল্লেখ করে সঠিক জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন লেখক। প্রায় আড়াই বছর লেখক রবীন্দ্র সাহিত্য, রবীন্দ্রনাথের জীবনী ও দিনলিপি, তার পত্রসাহিত্য ও বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যে মিথ বা জনশ্রুতি আছে তার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এই গ্রন্থে। বিশিষ্টজনরা মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথকে ঘিরে এ বিতর্কের অবসানে বইটি অবশ্যই পাঠ করা উচিত।

বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন নির্ঝর নৈঃশব্দ্য। ১২৮ পৃষ্ঠার এ বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২৫ টাকা। বইটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আগামী প্রকাশনীর ১০ নম্বর প্যাভিলিয়নে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া অনলাইনে অর্ডার করতে চাইলে আগ্রহীরা রকমারিতে অর্ডার করতে

বইমেলায় তরুণ কবি পারভেজ চোকদারের ‘নস্টালজিক’

অমর একুশে বইমেলার শেষ সপ্তাহে এলো তরুণ লেখক পারভেজ চোকদারের একক কাব্যগ্রন্থ নস্টালজিক। প্রেম, দ্রোহ আর তরুণ মনের আবেগ দিয়ে কাব্যগ্রন্থটি সাজানো হয়েছে। বইটিতে কবি পারভেজ চোকদারের ৩৩টি কবিতা স্থান পেয়েছে।

শনিবার বইমেলা প্রাঙ্গনে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন সুন্দরবন দস্যুমুক্ত করতে বিশেষ অবদান রাখা জনপ্রিয় সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম। বইটি প্রকাশিত হয়েছে সাগরিকা প্রকাশনী থেকে, প্রকাশক চাষী এস কে খান। কাব্যগ্রন্থটি বইমেলার সন্দেশ (স্টল ৪০২,৪০৩,৪০৪) এবং ম্যাগনাম ওপাস ৫৭৯ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।

বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম বলেন, তরুণরা যে এখন লেখালেখিতে আগ্রহী হচ্ছে বিষয়টা চমৎকার। পারভেজ মানুষ হিসেবে সহজ-সরল এবং প্রাণবন্ত। তার কবিতার মধ্য দিয়ে একজন তরুণের প্রেম-ভালোবাসাকে ঘিরে মনের আবেগ-অনুভূতি উঠে এসেছে।

পারভেজ চোকদার বলেন, এটি আমার প্রথম বই। আশাকরছি সকল শ্রেণীর পাঠকের মনের খোরাক মেটাবে। প্রচলিত ধারার বাইরে লেখা কবিতাগুলো সকলের ভালো লাগবে।

বইটি প্রসঙ্গে পরিচালক সুমন ধর বলেন, নষ্টালজিক একটি কাব্যগ্রন্থ যদিও নিদিষ্ট কোন বিষয়ের ওপর রচনা করা নয় তবুও প্রেম ভালবাসা এবং সমাজকে প্রধান্য দিয়ে রচনা করা হয়েছে। বইটিতে নতুনত্বের ছোঁয়া রয়েছে।

প্রেমের সফর মেরাজ

ইসলামে মেরাজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন ‘তিনি পরম পবিত্র ও মহিমায়, যিনি রাত্রিযোগে আপন বান্দাকে মসজিদুল হারাম (সম্মানিত মসজিদ) থেকে মসজিদুল আকসা (দূরবর্তী মসজিদ) পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, যার চারদিকে আমি বরকতমণ্ডিত করেছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাই, নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত : ১)।

এ আয়াতে বিশ্বনবির (সা.) রাত্রিকালীন সফর সম্পর্কে ব্যক্ত হয়েছে, যা অধিকাংশ তাফসিরকারকের মতে মেরাজ বলে পরিচিত। মেরাজের যে ঘটনা তা নবুওয়্যতের পঞ্চম বা ষষ্ঠ বছরে হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনে ঘটেছিল। এ সময় মহানবির যে মেরাজ সংঘটিত হয়, তাতে তিনি বহু ঊর্ধ্বলোকে উপনীত হয়ে আল্লাহর জ্যোতিগুলোর বিকাশ প্রত্যক্ষ করেন। অপরদিকে মহান আল্লাহর জ্যোতিমালাও তার প্রিয় রাসূল (সা.)-এর দিকে অবতরণ করে। এভাবেই একদিকে আল্লাহর রাসূল (সা.) আল্লাহর দিকে অগ্রসর হন, অপরদিকে আল্লাহও অগ্রসর হন তার প্রিয় রাসূলের (সা.) দিকে। মানুষের পক্ষে যতটা আধ্যাত্মিক-উন্নতি অর্জন করা সম্ভব, তার সবটাই ঘটেছিল রাসূল (সা.)-এর মাঝে।

মহান আল্লাহর শক্তি ও মহিমার জ্যোতি যতটা মানুষের পক্ষে দেখা সম্ভব, তার সবটাই দেখেছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় এ রাসূল (সা.)। এ মহামানবকে (সা.) যত বেশি করে আঁকড়ে ধরা যাবে, যত বেশি গভীরে যাওয়া যাবে তার শিক্ষার, তত বেশি করে মুক্তির স্বাদ পাওয়া যাবে, পাপ থেকে ততই বেশি মুক্তি পাওয়া যাবে। পবিত্র কুরআনের সূরা নযমে উল্লিখিত মেরাজের ঘটনার বর্ণনা সম্পর্কে যতই আমরা জ্ঞান অর্জন করব, ততই বোঝা সম্ভব হবে মেরাজের মাহাত্ম্য।

মেরাজের বর্ণনা সম্পর্কে মহানবি (সা.) নিজে বলেছেন, ‘একদা আমি কাবার ‘হাতিম’ অংশে সটান হয়ে শুয়েছিলাম। হঠাৎ একজন আগন্তুক আমার কাছে এলেন। তিনি আমার (বুক) এ স্থান থেকে এ স্থান পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন। এ ঘটনার বর্ণনা প্রসঙ্গে হজরত আনাস (রা.) বলেন, তিনি তার পাশে বসা (জনৈক সাহাবি) জারুদকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ স্থান থেকে এ স্থান পর্যন্ত’ এর অর্থ কী? তিনি (তার ব্যাখ্যা দিয়ে) বলেন, হলকুমের নিচ থেকে নাভি পর্যন্ত। অতঃপর তিনি (আগন্তুক) আমার হৃৎপিণ্ডটি বের করলেন। তারপর ইমানে পরিপূর্ণ একটা থালা আমার কাছে আনা হলো, অতঃপর আমার হৃৎপিণ্ডটাকে ধৌত করা হলো। তারপর তাকে ইমানে পরিপূর্ণ করে আবার আগের জায়গায় রাখা হলো। অতঃপর আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট ও গাধার চেয়ে বড় একটি শুভ্র জানোয়ার (বাহন) আমার সামনে হাজির করা হলো। তখন হজরত জারুদ (রা.) হজরত আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আবু হামযা! (আনাসের ডাক নাম) ওটাই কি বোরাক ছিল? হজরত আনাস (রা.) বললেন, হ্যাঁ, তার দৃষ্টি যতদূর যেত, সেখানে সে পা রাখত। অর্থাৎ তার পথ অতিক্রমের গতিবেগ ছিল দৃষ্টিশক্তির গতিবেগের সমান। নবি (সা.) বললেন, অতঃপর আমাকে তার ওপর আরোহণ করানো হলো।

তারপর জিবরাঈল আমাকে সঙ্গে নিয়ে (ঊর্ধ্বলোকে) যাত্রা করলেন এবং নিকটতম আসমানে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো, এ কে? জিবরাঈল বললেন, আমি জিবরাঈল। আবার জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মাদ (সা.)। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, তাকে কি ডেকে পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন বলা হলো, তার প্রতি সাদর সম্ভাষণ। তার আগমন কতই না উত্তম। এরপর দরজা খুলে দেওয়া হলো। যখন আমি ভেতরে পৌঁছলাম, তখন সেখানে দেখতে পেলাম আদম (আ.)কে। বলা হলো, তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ।

অতঃপর জিবরাঈল (আ.) আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বে আরোহণ করতে লাগলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে দরজা খুলতে বললেন।… তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে উঠলেন এবং দরজা খুলে দিতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করলেন এবং চতুর্থ আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে যাত্রা করলেন এবং পঞ্চম আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর জিবরাঈল আমাকে সঙ্গে নিয়ে আরও ঊর্ধ্বলোকে উঠতে শুরু করলেন এবং ষষ্ঠ আসমানে এসে দরজা খুলতে বললেন।…তারপর দরজা খুলে দিলে আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে মূসাকে (আ.) দেখতে পেলাম। জিবরাঈল (আ.) বললেন, ইনি হলেন মূসা (আ.), তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলাম। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার জবাব দিলেন এবং বললেন, নেককার ভাই ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ। অতঃপর আমি যখন তাকে অতিক্রম করে অগ্রসর হলাম তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আমার পরে এমন একজন যুবককে (নবি বানিয়ে) পাঠানো হলো, যার উম্মত আমার উম্মতের চেয়ে অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করবে।

তারপর জিবরাঈল (আ.) আমাকে নিয়ে সপ্তম আসমানে আরোহণ করলেন। অতঃপর জিবরাঈল দরজা খুলতে বললে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বললেন, মুহাম্মদ (সা.)।…তারপর আমি যখন ভেতরে প্রবেশ করলাম, তখন সেখানে ইবরাহিম (আ.)কে দেখতে পেলাম। তিনি বললেন, ইনি আপনার পিতা ইবরাহিম (আ.), তাকে সালাম করুন। আমি তাকে সালাম করলে তিনি তার উত্তর দিলেন এবং বললেন, নেককার পুত্র ও নেককার নবির প্রতি সাদর সম্ভাষণ।

তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত ওঠানো হলো।

জিবরাঈল বললেন, এটাই সিদরাতুল-মুনতাহা। আমি আরও দেখতে পেলাম চারটি নহর। দুটি নহর অপ্রকাশ্য আর দুটি প্রকাশ্য। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! এ নহরের তাৎপর্য কী? তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নহর দুটি হলো জান্নাতে প্রবাহিত দুটি ঝর্ণাধারা, আর প্রকাশ্য দুটি হলো মিসরের নীল নদ ও বাগদাদের ফুরাত (ইউফ্রেটিস) নদী। তারপর আল বায়তুল মামুর ঘরটি আমার সামনে পেশ করা হলো। অতঃপর আমার সামনে হাজির করা হলো এক পাত্র মদ, এক পাত্র দুধ ও এক পাত্র মধু। এর মধ্য থেকে আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। তখন জিবরাঈল (আ.) বললেন, আপনি এবং আপনার উম্মত যে ইসলামরূপী স্বভাবজাত ধর্মের অনুসারী, এটা তারই নিদর্শন।

তারপর আমার ওপর দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলো এবং আমি ফিরে চললাম। হজরত মুসা (আ.)-এর সম্মুখে দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বললেন, কী করতে আদেশ করা হয়েছে? আমি বললাম, দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আপনার উম্মত দৈনিক পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ সম্পাদনে সক্ষম হবে না। আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের পক্ষে নামাজ আরও হ্রাস করার জন্য আবেদন করুন। তখন আমি ফিরে গেলাম এবং ওইভাবে প্রার্থনা জানালে আল্লাহ আমার ওপর থেকে দশ ওয়াক্ত নামাজ কমিয়ে দিলেন।…আমি আবার ফিরে গেলে আমাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হলো। আমি মূসার কাছে আবার ফিরে এলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে সর্বশেষ কী করতে আদেশ করা হলো? আমি বললাম, আমাকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করা হয়েছে। আপনার উম্মত প্রত্যহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সমাপণে সক্ষম হবে না। আপনার

আগে আমি (ইসরাইল) লোকদেরকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করে দেখেছি এবং তাদের হেদায়াতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা ও কষ্ট স্বীকার করেছি। তাই আমি বলছি, আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য নামাজ হ্রাস করার প্রার্থনা জানান। নবি (সা.) বললেন, আমি আমার রবের কাছে এত অধিকবার প্রার্থনা জানিয়েছি, আবার প্রার্থনা জানাতে আমি লজ্জাবোধ করছি। বরং আমি এতটুকুতেই সন্তুষ্ট ও আনুগত্য প্রকাশ করছি। নবি (সা.) বলেন, আমি যখন মূসাকে অতিক্রম করে সামনে অগ্রসর হলাম, তখন জনৈক আহ্বানকারী আমাকে আহ্বান জানিয়ে বললেন, আমার অবশ্য-পালনীয় আদেশটি আমি জারি করে দিলাম এবং আমার বান্দাদের জন্য আদেশটি লঘু করে দিলাম।’ (সহিহ বোখারি, কিতাবুল মানকিব, ৩য় খণ্ড)।

আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মেরাজের প্রকৃত শিক্ষার ওপর আমল করার এবং এর তাৎপর্য বুঝার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট

সাহিত্য সাংবাদিকতায় আলেমদের অবদান

সিপাহী বিপ্লবের পর এ উপমহাদেশে দ্বীন প্রচার, ইসলামি শিক্ষা ও চেতনার প্রসার এবং মুসলিম স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার জন্য আলেমদের হাত ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হয়। এর মধ্যে আলেমদের অন্যতম একটি উদ্যোগ হলো সাংবাদিকতা এবং পত্রিকা প্রকাশ। শুধু বার্ষিক ওয়াজে নয়, আলেমরা জাগরণের বাণী নিয়ে মানুষের দুয়ারে উপস্থিত হতে চেয়েছিলেন প্রতিদিন সকালে। প্রতিদিন না পারলেও তারা চেয়েছিলেন সপ্তাহে একবার, কিংবা মাসে একবার হলেও হাজিরা দিতে। আলেমদের সম্পাদনায় প্রকাশিত এসব পত্রিকার মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন ও শোষণে জর্জরিত মুসলিম সমাজ শুনেছিল আশার বাণী, পেয়েছিল মুসলিম হিসাবে বেঁচে থাকার প্রেরণা।

সিপাহি বিপ্লবের মাত্র কুড়ি বছর পর ১৮৭৭ সালে ইসলাম ধর্মকেন্দ্রিক প্রথম বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করেন মাওলানা কাজী আবদুল খালেক (রহ.)। তার প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম ‘আখবারে মোহাম্মদী’। ১৮৮৯ সালে, বাঙালি মুসলিম সমাজের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরতে কলকাতা থেকে ‘সুধাকর’ নামের একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন মুন্সী মোহাম্মদ রিয়াজুদ্দীন আহমদ (রহ.)। এ ছাড়া তিনি একের পর এক সম্পাদনা করেন ‘মুসলমান’ ‘সওদাগর’ ‘ইসলাম প্রচার’ ও ‘সাপ্তাহিক সোলতান’। জীবনের শেষ পর্যায়েও দক্ষতার সঙ্গে তিনি সম্পাদনা করেন ‘নবযুগ’ ও ‘বয়াতবন্ধু’ পত্রিকা। এসব পত্রিকার বেশিরভাগ লেখকই ছিলেন আলেম সমাজের সদস্য।

মুসলিম জাগরণের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী (রহ.) ১৯০৩ সালে তিনি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঙ্গে ‘সাপ্তাহিক সোলতান’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। কিছুদিন পত্রিকাটি প্রকাশিত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক বছর পর তিনি আবার পত্রিকাটি প্রকাশ করেন। ১৯২৬ সালে ‘সোলতান’ দৈনিক পত্রিকারূপে আত্মপ্রকাশ করে। মাওলানা ইসলামাবাদী ১৯০৬ সালে ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। ১৯১২ সালে তিনি ‘হাবলুল মতীন’ সম্পাদনা করেন। ১৯১৫ সালে ‘আল-ইসলাম’ পত্রিকা প্রকাশে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। ১৯২৯ সালে তিনি ‘দৈনিক আমীর’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া তখন মাওলানা আজিজুর রহমান-এর সম্পাদনায় ‘তাবলিগ’, মাওলানা শেখ আব্দুর রহীম-এর সম্পাদনায় ‘তরজমানুল হাদিস’ ও আরাফাত ইত্যাদি নিয়মিত প্রকাশ হতো।

মওলানা মুহম্মদ আকরম খাঁকে বলা হয় মুসলিম সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তিনি ১৯১০ সালে সম্পাদক হিসাবে যোগ দেন সাপ্তাহিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। ১৯১৩ সালে গঠিত হয় আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাংলা। ১৯১৪ সালে এখান থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘আল ইসলাম’-এর যুগ্ম সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে ‘দৈনিক যমানা’ নামে একটি উর্দু পত্রিকা তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ১৯২১ সালে। একই বছর একই সঙ্গে দৈনিক সেবক সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। এরপর ১৯২৭ সালে সাপ্তাহিক মোহাম্মদীকে আরও রুচিশীল করে প্রকাশের জন্য মাসিক মোহাম্মদী নামে প্রকাশ করেন। ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর দৈনিক আজাদ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশনায় হাত দেন আকরম খাঁ। অবিভক্ত বাংলায় মুসলমানদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ও ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষায় ‘আজাদ’ ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে।

মাওলানা মুহিউদ্দীন খান বাংলাভাষায় ইসলামি সাহিত্য রচনা, সম্পাদনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ছাত্রজীবনেই সাংবাদিকতা ও সহিত্যচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ১৯৬০ সালে ‘মাসিক দিশারী’, ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত ‘সাপ্তাহিক নয়া জামানা’ সম্পাদনা করেন। ১৯৬১ সাল থেকে আমৃত্যু ‘মাসিক মদীনা’ সম্পাদনা করেছেন। এক সময় তার সম্পাদিত ‘আজ’ সাহিত্য মহলে সাড়া জাগায়।

বাংলাদেশের দুটি বহুল প্রচলিত ইসলামি পত্রিকা মাসিক রহমত এবং মাসিক আদর্শ নারী। হজরত মাওলানা মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা মাসিক রহমত ১৯৯১ সালে ডিক্লারেশন পায়। তবে নিয়মিতভাবে তা প্রকাশিত হয়নি। ২০০১ সালে কিছুদিনের জন্য প্রকাশ হয়ে আবার বন্ধ থাকে। তবে ২০০৫ সাল থেকে আবার নিয়মিত প্রকাশ হয়। টানা সাত-আট বছর চলার পর পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী মাসিক আদর্শ নারী প্রতিষ্ঠা করেন। শুরু লগ্ন থেকেই তিনি এ পত্রিকার প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করে আসছেন। ৯০-এর দশকে সর্বমহলে লেখক ও পাঠক তৈরিতে মাসিক আদর্শ নারীর অবদান অনস্বীকার্য।

এখনো নিয়মিত কিছু পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ্ দাওয়ার মুখপত্র হিসাবে মাসিক আল কাউসার প্রকাশিত হয়। মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত পত্রিকাটি আলেম ও মাদ্রাসার ছাত্রদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর সাহেবজাদা মুফতি রুহুল আমীন সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় মাসিক আল আশরাফ। জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর থেকে প্রকাশিত হয় রহমানি পয়গাম; পত্রিকাটি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। জামিয়া আরবিয়া ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিক নেয়ামত। পত্রিকাটি বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন পত্রিকা। মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী (রহ.) নিজ সম্পাদনায় পত্রিকাটির সূচনা করেছিলেন। মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের সম্পাদনায় মাসিক পাথেয় বের হয় নিয়মিত। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম থেকে মাসিক আত-তাওহীদ, হাটহাজারী থেকে মাসিক মঈনুল ইসলাম, ঢাকা যাত্রাবাড়ী থেকে মাসিক আল-জামেয়াসহ এখনো কিছু কিছু পত্রিকা নিয়মিত বের হচ্ছে।

আলেমদের বেসিক সাংবাদিকতার কোর্স-এর গোড়াপত্তন হয় বাংলাভাষায় অগণিত গ্রন্থ প্রণেতা আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর হাত ধরে। ফরিদাবাদ মাদরাসায় ১৯৬৭ সালে শুরু হয় কোর্সটি। কিন্তু দুবছর পর আর্থিক সংকটে থেমে যায় পথচলা। ১৯৮৬ সালে মিরপুরের মুসলিম বাজার মাদরাসায় মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ইউসুফ কর্তৃক দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হয় বিভাগটি। এক বছর না যেতেই অর্থনৈতিক সংকটে এটিও মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে বর্তমানে বিভাগটি মাওলানা মুহাম্মদ সালমান কর্তৃক ১৯৯৮ সালে দারুর রাশাদে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজো টিকে আছে।

দিন যত যাচ্ছে, আধুনিক মিডিয়ায় আলেমদের অংশগ্রহণ তত অনিবার্য হয়ে উঠছে। উম্মাহর কল্যাণে মিডিয়ায় অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি। কাগুজে পত্রিকার জায়গা দখল করছে অনলাইন পত্রিকা। অনলাইনেও এখন জানাতে হবে সরব উপস্থিতি, দেখাতে হবে নিপুণ দক্ষতা। আল্লাহ তৌফিকদাতা।

গুগল ক্রোমের ‘লাইট মোড’ বন্ধ

ক্রোম ব্রাউজারের বিশেষ ফিচার ‘ক্রোম লাইট মোড’-এর সমাপ্তি ঘটাতে যাচ্ছে গুগল। আট বছর আগে ২০১৪ সালে মোবাইল ডিভাইসগুলোয় ক্রোম লাইট মুড নামে ডাটা সেভার চালু করে গুগল। এটি ডিভাইসে ডাউনলোড করার আগে একটি গুগল সার্ভারের মাধ্যমে ওয়েব পেজ ডাইভার্ট করার মাধ্যমে কাজ করে। এভাবে প্রতিটি পেজ অপ্টিমাইজ করা হয়, যাতে করে পেজ দ্রুত লোড হওয়ার জন্য আরও কম ডেটার প্রয়োজন হয়।

কিন্তু আট বছর চলে যাওয়ার পর এখন গুগল মনে করছে ডেটা সেভার প্রয়োজনীয় কিছু নয়। গুগলের পক্ষ থেকেও দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়েছে আগামী ২৯ মার্চ ক্রোম থেকে ফিচারটি মুছে ফেলা হবে। একইদিন ক্রোম এম১০০ রিলিজ হবে; এটি মূলত ক্রোম সাপোর্ট ম্যানেজার। ক্রোম লাইটের অনেকটাই বিকল্প হয়ে উঠবে তা। গুগলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোয় আমরা দেখতে পাচ্ছি অনেক দেশেই মোবাইল ডেটার খরচ কমে গিয়েছে। পাশাপাশি আমরাও ডেটা ব্যবহার কমাতে এবং আরো দ্রুত ওয়েব পেজ লোড করতে ক্রোমে অনেক পরিবর্তন এনেছি। লাইট মোড বাতিল করা হলেও ক্রোমের মাধ্যমে মোবাইলে দ্রুত পেজ লোড করা যাবে এমন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা।