শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 384

দুর্নীতির দায়ে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের এএমডি বরখাস্ত

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) তুহিন রেজাকে অপসারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটির পারিচালনা পর্ষদ। অনিয়ম-দুর্নীতি করে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ মার্চ কমিশন বাণিজ্য বন্ধে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বরাবর একটি নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনায় বলা হয়, কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান আমানত সংগ্রহ করতে দিচ্ছে কমিশন, দেখাচ্ছে উন্নয়ন ব্যয় বা ব্যবসা উন্নয়ন খরচ। এই খরচগুলো অনৈতিক ও অগ্রহণযোগ্য। এর ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যয় ‘অযৌক্তিকভাবে’ বাড়ছে বলে ঋণ বা বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফার হারও বেড়ে যাওয়ার কথা নির্দেশনায় বলা হয়। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক তুহিন রেজার বিরুদ্ধে ব্যবসা উন্নয়ন খরচে নয়ছয় ও আমানত সংগ্রহে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে রয়েছে ব্যক্তিগত সিআইবি তথ্য গোপন, কোনো বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে ২২ জন কর্মকর্তা/কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সার্ভিস রুলের ব্যত্যয় ঘটানের অভিযোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের ৩৩৪তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশ মোতাবেক ৩৩৭তম বোর্ড সভায় চলতি বছরের ৬ মার্চ ফার্স্ট ফাইন্যান্সের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তুহিন রেজাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। জারি করা হয় কারণ দর্শানোর নোটিশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ মার্চ অভিযোগের উত্তর হিসাবে একটি লিখিত জবাব দেন তুহিন রেজা। লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে এবং অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চলতি মাসের (মার্চ) ২৪ তারিখ ডিসমিস বা চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া কমিশন বাণিজ্য বাবদ প্রাপ্ত ৮০ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেয় বোর্ড।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান খান মোহাম্মদ মইনুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, হ্যাঁ, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ তুহিন রেজাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করেছে। কারণ তিনি আমানত সংগ্রহে কমিশন দিয়েছেন। কিন্তু আমানত আনতে পারেননি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল শেষে ফার্স্ট ফাইন্যান্সের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ৮৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৭৪২ কোটি। সুতরাং ঋণের ৮৩ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। একই সময়ে ১৫৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। এতে উচ্চঝুঁকিতে রয়েছেন আমানতকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্স্ট ফাইন্যান্স দীর্ঘদিন ধরে জেড ক্যাটাগরিতে রয়েছে। তালিকাভুক্তির পর থেকে কোনো বছরই বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। দিয়েছে বোনাস। তবে ২০১৫, ১৬, ১৭, ও ১৮ সালে কোনো লভ্যাংশই দিতে পারেনি ফার্স্ট ফাইন্যান্স। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ফেসভ্যালুর চেয়ে কমে ৬ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

ঋণের সুদ মওকুফ ২৩ হাজার কোটি টাকা

যে ব্যাংক আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারে না, সেই ব্যাংক আবার সুদও মওকুফ করে। ঘটনাটি ঘটেছে চতুর্থ প্রজন্মের একটি ব্যাংকে। শুধু গত ২১ মাসেই ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করেছে ব্যাংকটি। এ চিত্র শুধু এক ব্যাংকে নয়, পুরো ব্যাংক খাতের। গত ১০ বছরে ব্যাংক খাতে এ ধরনের সুদ মওকুফ করা হয়েছে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক ব্যবসার মূল উৎস জনগণের আমানত। সাধারণ মানুষ থেকে আমানত সংগ্রহ করে তা ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সুদ অথবা মুনাফা নামে আয় করে। যে কোনো ব্যাংকের মোট আমানতের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে। সে অর্থে ব্যাংকের প্রকৃত মালিক আমানতকারীরা-এমন মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের।

তাদের মতে, যদিও বাস্তবে তার কোনো স্বীকৃতি নেই। উলটো ১০ শতাংশ শেয়ারধারীই ছড়ি ঘুরান সব সময়। ক্ষেত্রবিশেষ আমানতকারীরা তাদের জমানো টাকাও ফেরত পান না। সুদ মওকুফ সুবিধার কারণে ব্যাংকের নিট আয় এবং আমানতকারীদের সুদ আয় কমে যায়। এতে ডিভিডেন্ড (লভ্যাংশ) কম হয়, পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা সুদ মওকুফের সুবিধা খুব বেশি পান না। এখানেও প্রভাবশালীদের হাত। এ সুবিধার বেশিরভাগই ভোগ করেন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা। এতে আমানতকারীরা লোকসানে পড়েন।

বিশেষজ্ঞদের আরও অভিমত-সব সময় বড় ঋণখেলাপিরা বেশি সুদ মওকুফ-সুবিধা পান। ক্ষুদ্র ও মাঝারি গ্রাহকরা এ সুবিধা থেকে অনেক দূরে থাকেন। কারণ তারা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন না। এ প্রক্রিয়ার একটি কুফল হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি। তাই ঋণের সুদ মওকুফের একটি নীতিমালা থাকা জরুরি। এতে বোঝা যাবে, কে এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য আর কে যোগ্য নন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ২৩ হাজার ১৬৬ কোটি ১২ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করেছে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে সরকারি ব্যাংকে ১৪ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা এবং বেসরকারি ব্যাংকে ৮ হাজার ৫৮৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা রয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালে ২৮ হাজার ৯০৮টি হিসাবের বিপরীতে সুদ মওকুফ করা হয়েছে ১ হাজার ৩২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এরপর ধারাবাহিকভাবে ২০১৩ সালে ৩৪ হাজার ৮৪২টি হিসাবের বিপরীতে ৯৬৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ২০১৪ সালে ৪৪ হাজার ৪১৬টি হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ২৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ২০১৫ সালে ৩৭ হাজার ২৫৪টি হিসাবের বিপরীতে ১ হাজার ৩৮০ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সুদ মওকুফের সুবিধা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা পান না। এটা মূলত প্রভাবশালীদের কাজ। যাদের প্রতি ব্যাংকের দুর্বলতা আছে, এমন গ্রাহকই সাধারণত এ ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন। এতে ব্যাংকের ক্ষতি। ব্যাংকের আয় কমে যায়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের খতিয়ে দেখা উচিত।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, ২০১৬ সালে ৩৩ হাজার ৯৭১টি হিসাবের বিপরীতে সুদ মওকুফ করা হয়েছে ৯৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে সুদ মওকুফ করা হয় ১ হাজার ৯০০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। ২৮ হাজার ৭৬৮টি হিসাবের এই সুদ মওকুফ করা হয়েছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১৮ সালে ২১ হাজার ৭৭৫টি হিসাবের বিপরীতে ২ হাজার ২৩৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

তবে গত তিন বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই কয়েক বছর সুদ মওকুফের অংক আগ্রাসীভাবে বেড়েছে। তথ্যানুযায়ী, ২০১৯ সালে ২১ হাজার ৬৪০টি হিসাবের বিপরীতে সুদ মওকুফ করা হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার, ২০২০ সালে মাত্র ১৭ হাজার ৭৭৫টি হিসাবের বিপরীতে ৪ হাজার ৯২১ কোটি ৫৭ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে ২২ হাজার ২০৬টি হিসাবের বিপরীতে ৪ হাজার ৮৭৭ কোটি ২১ লাখ টাকার সুদ মওকুফ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যে প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের সঞ্চিত আমানত ফেরত দিতে পারে না। আবার বিতরণ করা ঋণের সুদও আদায় করতে পারে না, যা শেষ পর্যন্ত মাফ করে দেওয়ার অবস্থায় চলে যায়; সে প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রেখে কী লাভ? কারণ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসানের ঘানি টানতে টানতে শেষ হয়ে যায়। এতে উপকারের পরিবর্তে অপকারই বেশি হয়।

জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সুদ মওকুফের বিধান আছে। বৈশ্বিকভাবে এর চর্চা হয়। তবে এটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পেয়ে থাকেন প্রভাবশালীরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হন। এখানে ভারসাম্য থাকা উচিত।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শফিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, সুদ মওকুফ টাকা আদায়ের একটা প্রচলিত পন্থা। তবে মনে রাখতে হবে-এ সুবিধা যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভালো উদ্যোক্তাদের বাইরে না যায়।

জানা গেছে, ব্যাংকের মুনাফায় আঘাত আসে বলে ব্যাংকার সুদ মওকুফ করতে চান না। তবে পরিচালনা পর্ষদ চাইলেই সুদ মওকুফ করতে পারে। সাধারণত গ্রাহকের মৃত্যু, সিকিউরিটিবিহীন ঋণ, অপর্যাপ্ত সিকিউরিটির ঋণ, দীর্ঘদিন যাবৎ খেলাপি ঋণ, দীর্ঘদিনের মামলাধীন, বারবার চেষ্টার পরও নিলামে সিকিউরিটি বিক্রিতে ক্রেতার অভাব, ত্রুটিপূর্ণ ডকুমেন্টেশনসহ বিভিন্ন কারণে সুদ মওকুফ করা হয়। কিন্তু কোন পর্যায়ে কতটুকু সুদ মওকুফ করা যাবে, তার কোনো বিধিবিধান বর্তমানে নেই। তাই ব্যাংকের ব্যবস্থাপক যখন আলাপ-আলোচনায় (নেগোসিয়েশন) বসেন, তিনি কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।

ব্যাংকিং কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা-৪৯ (চ)-তে বলা হয়েছে, ‘ঋণ শৃঙ্খলার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণভাবে সব ব্যাংক-কোম্পানি বা কোনো বিশেষ ব্যাংক-কোম্পানি বা বিশেষ শ্রেণির ব্যাংক-কোম্পানির জন্য ঋণ শ্রেণিকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণ, ঋণ মওকুফ, পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা পুনর্গঠনসংক্রান্ত বিষয়সমূহে বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণীয় নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।’ ওই বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক ১৯৯১ সালের ৭ অক্টোবর এক নির্দেশনায় বলে, প্রত্যেক ব্যাংক তাদের নিজস্ব নীতিমালার মধ্যে সুদ মওকুফ করতে পারবে, তবে আসল (প্রিন্সিপাল) মওকুফ করা যাবে না।

এ নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজন মোতাবেক সুদ মওকুফ করে আসছে। কোনো কোনো ব্যাংক শ্রেণিকৃত ঋণের কিংবা মামলাধীন ঋণের স্থগিত সুদের অর্ধেক মওকুফ করে এবং ক্ষেত্রবিশেষে স্থগিত সুদের পুরোটাই মওকুফ করে। কিছু ব্যাংক বিশেষ বিবেচনায় আয় খাতে আকলিত সুদ মওকুফ করলেও বেশিরভাগ ব্যাংক পারতপক্ষে তা করে না। অনেক ক্ষেত্রে সহায়ক জামানতের (কোলেটারেল সিকিউরিটি) বাজারমূল্য ঋণের অঙ্কের চেয়ে বেশি হলে সে ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুদ মওকুফ-সুবিধা দেওয়া হয় না।

উচ্চ আদালতে রিটের কারণে ব্যাংকের মামলা যদি বেশ কয়েক বছর যাবৎ নিষ্পত্তি না হয়, শেষ পর্যন্ত গ্রাহক যদি সুদ মওকুফ পেয়ে আসল দিতে রাজি হন, তখন ব্যাংকার মামলার কষ্টের কথা বিবেচনা করে মওকুফ সুবিধা প্রদান করেন। আর যে গ্রাহক নানা প্রতিকূলতার কারণে ঋণ শোধ করতে পারেন না, কিন্তু ব্যাংকের ঋণ শোধে তার আন্তরিকতা আছে বলে মনে হয়, সে ক্ষেত্রে ব্যাংকার তাকে সুদ মওকুফ সুবিধা দিয়ে দায় থেকে রেহাই দেন।

‘বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত এক মায়ের পেটের তিন ভাই’

বিএনপি, জামায়াত ও হেফাজত একই মায়ের পেটের তিন ভাই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে। জামায়াত এখন গর্তে ঢুকেছে। বিপদ দেখলেই তারা গর্তে ঢুকে। বিপদ কেটে গেলে গর্ত থেকে বের হয়ে আবারো ষড়যন্ত্র শুরু করে।

বুধবার রাজধানীর মুগদায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ইউনিট আওয়ামী লীগের সম্মেলনে জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন আসলেই বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে যায়। তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়। ষড়যন্ত্রের জাল বোনে। তাই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।

নানক বলেন, মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গেলে হেরে যাবে দেশের স্বাধীনতা, হেরে যাবে মানবতা। দেশের মানুষের জীবন অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই নেতাকর্মীদের সর্তকতা নিতে হবে। দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল আলম শামিমের সভাপতিত্বে ও খায়রুজ্জামান খায়রুলের পরিচালনায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহীদ সেরনিয়াবাত, সহ-সভাপতি খন্দকার এনায়েতুল্লাহ প্রমুখ।

তৃণমূলের গোপন ব্যালটে একনায়কতন্ত্রের অবসান

বিএনপির কাউন্সিলের পর এক বলয়ে হতাশা, আরেক বলয়ে আনন্দের উচ্ছ্বাস। কেউ বলছেন এটা গণতন্ত্রের সুফল আবার কেউ বলছেন অবাধ গণতন্ত্রের কুফল। এভাবেই কাউন্সিলকে মূল্যায়ন করছেন বিএনপির দুই বলয়ের নেতারা। তবে তৃণমূলের এক সুর-গোপন ব্যালটে একনায়কতন্ত্র ও স্বেচ্ছাচারের পতন হয়েছে।

তাদের দাবি, রহস্যজনকভাবে হঠাৎ বিএনপি পরিবারে বিরাট আধিপত্যের অধিকারী হয়ে ওঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে। আব্দুল মুক্তাদির বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, কাউন্সিলের বিজয়ী-বিজিত সবাই আমার নিকটজন। আমরা একই দলের। একসঙ্গে রাজনীতি করি। তবে গোপন ব্যালটে পরাজিত খন্দকার মুক্তাদিরের পছন্দের প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, কাউন্সিলে যে ফল দেখেছেন তা অবাধ গণতন্ত্রের কুফল। প্রতি ইউনিটে আমরা ৫ জন করে কাউন্সিলর ঠিক করেছিলাম। পরে ১০১ জন করায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। তবে এই কমিটি বেশিদিন টিকবে না। তারা রাজপথের আন্দোলনেও ব্যর্থ হবে। ঢাকার বাসিন্দা সিলেটের রাজপথের আন্দোলন করবে কীভাবে? রাজনীতি এত সহজ বিষয় না।

কাউন্সিলে ক্ষমতার হাতবদল ও ফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে আলোচনা-সমালোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে বেশ কয়েকটি বিষয়। বলা হচ্ছে-এই ফলাফল তৃণমূলের বঞ্চিত, নিপীড়িতদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এতে মুক্তাদির বলয়ের শামীম ও আলী বলির পাঁঠা হয়েছেন। গণতান্ত্রিক দল বিএনপিতে সিলেটে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে এটা তৃণমূলের বড় একটা বিপ্লব। কেন্দ্রের নতুন নির্দেশনা মাঠে বুমেরাং হয়েছে!

জানা যায়, সিলেটের জেলা, পৌরসভা, উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন বিএনপির মুক্তাদির বলয়ের নেতারা। এমনকি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটির গঠনেও সক্রিয় ছিলেন এই বলয়ের নেতারা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী, জেলা বিএনপিতে থাকা ওই এলাকার নেতাদের এলাকায় কমিটি গঠনের সময় ওই এলাকার নেতাদের পাত্তাই দেওয়া হয়নি।

এই ইস্যুতে সিলেট বিএনপির সাইফুর-ইলিয়াস বলয় একাত্মা হয়। মুক্তাদির বলয় অনুসারী জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিএনপির প্রতিটি ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ ৫ পদেই মুক্তাদির অনুসারীদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ধারণা করা হয়েছিল প্রতি ইউনিটের ভোটারই তাদের। অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পদ-পদবিও পান তার অনুসারীরাই। ফলে অন্য বলয়গুলোর ত্যাগী, পরীক্ষিতরা বাদ পড়েন।

কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে গিয়ে ১০১ সদস্যের ইউনিট কমিটির বাকি ৯৬ জনও ভোটার হন জেলার কাউন্সিলে। ফলে যোগ্যতা অনুযায়ী যোগ্য পদ না পাওয়া দলের ত্যাগী, বঞ্চিত, পরীক্ষিতরা চরম খ্যাপে যান মুক্তাদির বলয়ের ওপর। প্রতিটি ইউনিটের বিগড়ে যাওয়া এসব ভোটার মুক্তাদির বলয় হটাতে একজোট হয়। কাউন্সিলের গোপন ব্যালটে ভোট বিপ্লব ঘটিয়ে এর প্রতিফলন ঘটান তারা।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মুক্তাদিরের সঙ্গে বনাবনি নেই সিলেটের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফের। এবারের কাউন্সিলে জেলা বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার আশা নিয়ে সভাপতি প্রার্থী হন আরিফ। এরপর প্রতিটি ইউনিটের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের পাশে ভেড়ান। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ছাড়াও জেলার বঞ্চিত নেতারা আরিফকে সমর্থন দেন।

কিন্তু প্রার্থিতা ঘোষণার পর থেকে শুরু হয় নাটকীয়তা। স্থগিত করা হয় নির্বাচন। নির্বাচন থেকে সরতে বাধ্য করা হয় আরিফকে। জেলার নেতাদের অনিয়ম তদন্তের জন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জুনিয়র নেতাদের দিয়ে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। এসব বিষয় একের পর এক বিষিয়ে তোলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের। সবকিছুর দায় পড়ে মুক্তাদির বলয়ের ওপর। সর্বশেষ এর বলি হোন সভাপতি প্রার্থী আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আলী আহমদ।

এদিকে মুক্তাদির বলয় প্রতিটি ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পদের ৫ সদস্য পেলেও সংখ্যার আধিক্য বিরোধীদের। ফলে প্রায় প্রতিটি ইউনিটেই ৫ জনের বিপরীতে ৯৬ জন এবং সেই সংখ্যাধিক্যের ভোটে জেলার নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় মুক্তাদির বলয় জেলায় এখন অনেকটা কর্তৃত্বশূন্য। কাউন্সিলের আগেই জোর করে নির্বাচন থেকে সরানো হলেও এই হিসাব কষে ফুরফুরে মেজাজে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে ৮৬৮ ভোট পেয়ে সভাপতি নিবাচিত হন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কাহের শামীমের প্রাপ্ত ভোট ৬৭৫। সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আহমদ পেয়েছেন ৫৭৪ ভোট। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী অপর প্রার্থী আব্দুল মান্নান ৮১ এবং আ ফ ম কামাল পান ৭২ ভোট।

অনলাইন ডেলিভারির নামে প্রতারণা হচ্ছে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ই-কমার্স বিশেষ করে অনলাইনে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি অপব্যবহারও বাড়ছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতারক চক্র অনলাইন ডেলিভারির নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এখানে সম্ভাবনা ও প্রতারণা দুটোই হাতে হাত ধরে চলে। কাজেই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার সন্ধ্যার পর কিশোরগঞ্জে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান পরবর্তী আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। বিশ্বের প্রায় ৮০টিরও বেশি দেশে বাংলাদেশের তৈরি সফটওয়্যার ও আইটি সেবা রপ্তানি হচ্ছে। আইটিখাতে আয় এক দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে এ আয় পাঁচ বিলিয়নে ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, বাংলাদেশ ডিজেল প্লান্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. রফিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ।

এর আগে বিকালে রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জ উপজেলা সদরের শোলমারা এলাকায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

ইয়াবা-হেরোইনসহ ৩৭ জনকে গ্রেফতার

বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনার অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার একই সময় পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- ১৫৫৪ পিস ইয়াবা বড়ি, ৮০ গ্রাম ১১১ পুরিয়া হেরোইন, ৫৪ কেজি ৪৪৫ গ্রাম গাঁজা ও ৬০ বোতল ফেন্সিডিল।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২৭টি মামলা করা হয়েছে।

কেউ ভালো নাই

কষ্টে কষ্টে কাটাচ্ছে দিন
হাজার হাজার প্রবাসী ভাই,
সুখে খরা দুখে ভরা
এই সময়ে কেউ ভালো নাই।

এলোমেলো হয়ে গেল
এই করোনা আসলো যখন,
কিছু কিছু কোম্পানির কাজ
বন্ধ করে দিল তখন।

তবে কিছু কোম্পানিতে
কাজে এখন আছে যারা,
মাসের পরে মাস চলে যায়
বেতন পাচ্ছে না যে তারা।

থাকা-খাওয়ায় কষ্ট করে
কষ্ট করে আবার কামে,
সুখের দেখা দেখবে বলে
তাদের শরীর ভিজায় ঘামে।

এই করোনায় এলোমেলো
করে দিল গোটাবিশ্ব,
আমরা প্রবাসে আছি যারা
হয়েছি আজ সবাই নিঃস্ব!

এক বছরে ইউরোপের নাগরিকত্ব পেলেন ৮৬৮৫ বাংলাদেশি

এক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশ এবং সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, লিচেনস্টাইন ও আইসল্যান্ডসহ ইউরোপের দেশগুলোতে আট হাজার ৬৮৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০২০ সালের পরিসংখ্যানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬৬১ জন বাংলাদেশি ২০২০ সালে ইতালিয়ান নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ৭৬৬ জন নিয়ে রয়েছে স্পেন এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বর্তমান সময়ের অভিবাসীদের পছন্দের গন্তব্য পর্তুগাল যেখানে ৬৭৮ জন বাংলাদেশি পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পেয়েছেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশিদের হিসেবটা এখানে যুক্ত না হওয়ার পরেও তা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ ২০১৯ সালে সর্বমোট ৮ হাজার ৫৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। এরমধ্যে যুক্তরাজ্যেই ছিল ৩৭৮০ জন।

আয়তন এবং জনসংখ্যার বিচারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের অধিক সংখ্যক প্রবাসী ইউরোপে বসবাস করলেও তাদের নাগরিকত্ব হার খুব বেশি নয়। একই সময়ে ভারতের ১৬ হাজার ৪০০ জন এবং পাকিস্তানের ১৬ হাজার জন ইউরোপের নাগরিকত্ব পান।

ইউরোপের অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশিরা নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফ্রান্সে ৪৯৭ জন, সুইডেনে ৪৩২, জার্মানিতে ২৫৫, নেদারল্যান্ডে ৯৬, ফিনল্যান্ডে ৭২, নরওয়েতে ৬৭, সুইজারল্যান্ডে ও অস্ট্রিয়াতে ৫১ জন।

ইউরোপের এই দেশগুলোতে একই সময়ে সর্বমোট ৭ লাখ ২৯ হাজার বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। সর্বোচ্চসংখ্যক নাগরিকত্ব অনুমোদনকারী দেশ সুইডেন, অতঃপর পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডস যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

পর্তুগালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী উদযাপন

পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে ২৮ মার্চ সমুদ্র উপকূলীয় দৃষ্টিনন্দন শহর কাশকাইসের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সমাপনী ও ৫১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান ও তার সহধর্মিণীসহ দূতাবাসের দুজন দ্বিতীয় সচিব আব্দুল্লাহ আল রাজী এবং আলমগীর হোসেন সস্ত্রীক আমন্ত্রিত সকল অতিথিদের স্বাগত জানান। ৪০ জনেরও বেশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ পর্তুগিজ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বরত ব্যক্তি এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ এবং পর্তুগালের জাতীয় সংগীত বাজানোর মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অতঃপর রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার ইতিহাস ও স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তথা মানবতার প্রতীক হিসেবে ১০ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় প্রদান করার বিষয়টি উপস্থিতিদের উদ্দেশে তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম পর্তুগালে নিযুক্ত চায়না রাষ্ট্রদূত জাও বেনতাং এবং ভারতের নিযুক্ত পর্তুগালের রাষ্ট্রদূত মানিশ চৌহান অংশগ্রহণ করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা দুজনই প্রতিবেদককে জানান, বাংলাদেশ আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র, আমরা খুব কাছ থেকেই বাংলাদেশের এই উন্নতি লক্ষ্য করছি এবং তার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গানের সাথে প্রবাসী সংগীত শিল্পী সাদিয়া নৃত্য পরিবেশন করেন একই সাথে একটি চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রাতের খাবারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। উপস্থিত পর্তুগিজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় বিভিন্ন অতিথিরা সুন্দর আয়োজনে যুক্ত হতে পেরে উষ্ণ মনোভাব প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে খুব শীঘ্রই একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সন্দেহপ্রবণ মানুষের আয়ু কম হয়: গবেষণা

সন্দেহপ্রবণ মানুষের আয়ু কম। সুইডেনের স্টকহোম ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষক ২৪ হাজার মানুষের ওপর গবেষণা করে এ তথ্য দিয়েছেন। খবর ডেইলি মেইল।

ওইসব মানুষের মধ্যে ৩৭ ভাগ অন্যকে বিশ্বাস করে। ৫৮ ভাগ অন্যকে বিশ্বাস করে না। আর ৫ ভাগ কোনো উত্তর দিতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের মৃত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে দেখা যায়, জীবদ্দশায় যারা পজিটিভ চিন্তাভাবনা করতেন, তারাই বেশি দিন বেঁচে থেকেছেন।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সন্দেহপ্রবণ মানুষের তুলনায় যারা অন্যকে বিশ্বাস করেন, তারা বেশি দিন বাঁচেন। যারা অন্যকে ক্ষমা করেন, তারাও বাঁচেন বেশি দিন।

এতে আরও দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সে মানুষ বেশি আশাবাদী হয়। যারা অন্যকে বিশ্বাস করেন তাদের হার্ট ভালো থাকে। তাদের হৃদযন্ত্রজনিত রোগও প্রায় ১৩ ভাগ কম।

স্টকহোম ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলেন, অন্যের প্রতি বিশ্বাস জীবনের উন্নতিকে অনেক সহজ করতে পারে।
তাই সুন্দর জীবনযাপন ও দীর্ঘায়ুর জন্য সন্দেহপ্রবণ মনোভাব দূর করতে হবে এবং মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে।

তবে গবেষক আলেকজেন্ডার মেথিন দ্বিমত পোষণ করে বলেন, খুব সহজেই অন্যকে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কেননা মানুষ বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করতে পারে।