শনিবার ,১৫ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 383

ক্যাম্পাস ছাড়লেও পিছু ছাড়েনি ভোগান্তি, ক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন গোলাম মোস্তফা। ক্যাম্পাসে থাকাকালীন ছাত্র ফেডারেশন শাখার সভাপতি ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্সবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্পাস ছাড়লেও সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ায় সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মামলার ভার বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। এতে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে অর্থ ব্যয়, বিদেশ গমন, চাকরিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি।

শুধু গোলাম মোস্তফাই নন, এই ঘটনায় অন্তত আরও ২৭ জনের নামে চার্জশিট হওয়ায় এখনও এই মামলার ভার বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। পড়াশোনা শেষ করে ক্যাম্পাস ছাড়লেও এখনও নিয়মিত রাজশাহীতে এসে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাদের। আর এ কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে হামলা চালায় পুলিশ-ছাত্রলীগ। এতে সাংবাদিকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এর পরদিনই নগরীর মতিহার থানায় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চারটি মামলা দায়ের করে। মামলায় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীসহ ১৯০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে বেআইনি সমাবেশ, মারামারি, সরকারি কাজে বাধাদান ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২০০ জনকে আসামি করে এবং বিস্ফোরক আইনে আরও ২০০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

একই অভিযোগে ৯০ জনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনকে আসামি করে আরও দুটি মামলা করে মতিহার থানা পুলিশ। এর মধ্যে বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে সবাই বেকসুর খালাস পেয়েছেন। তবে বেআইনি সমাবেশ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় এখনো ভুগতে হচ্ছে অভিযুক্তদের।

পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে উল্লিখিত আসামিরা হলেন- গোলাম মোস্তফা, আহসান হাবিব রকি, উৎসব মোসাদ্দেক, ফারুক ইমন, সরেন, আসাদ, প্রদিপ মার্ডি, আবু সুফিয়ান বকশি, বাসার, দেবাষিষ রায়, সুজন, সজল, সাজু, সিহাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১৭ জন সংগঠক ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সর্বমোট ২৭ জন।

তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের সংগঠক উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেভাবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দমন করা হয়েছে, তাতে এই সময়কাল নিপীড়নের সাক্ষী হয়ে থাকবে। এরকম ক্রমাগত নিপীড়ন অব্যহত থাকলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সম্ভব হতো না। তবে কোনো কিছু দিয়েই ছাত্র আন্দোলন দমানো যাবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও তৎকালীন আন্দোলনের সংগঠক প্রদীপ মার্ডি বলেন, ‘ভিত্তিহীন একটি অভিযোগে আমাদের দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোর্টে হাজিরা দিতে হচ্ছে। কর্মময় জীবনে এসে নিয়মিত সময় করে হাজিরা দেওয়ার চেয়ে কষ্টকর কোনো বিষয় হতে পারে না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন বলেন, ‘২০১৪ সালে খুবই যৌক্তিক দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা নিজেদের শাসক ও শিক্ষার্থীদের প্রজা ভাবেন; যে তারা যা বলবে, শিক্ষার্থীরা তাই শুনবেন। এটির প্রতিফল হিসেবে তৎকালীন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এই মামলা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চাইলেই উঠিয়ে নিতে পারে। আর মতিহার থানার মামলাও চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পন্ন করতে পারেন।’

মামলার আসামিপক্ষের রাজশাহী জর্জ কোর্টে আইনজীবী এস এম জ্যোতিউল ইসলাম সফি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় সাক্ষী দিয়ে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারে। দীর্ঘদিন পর মামলাটি পুলিশ ফাইল থেকে বিচার ফাইলে গিয়েছে। এখন দ্রুতই এটি শেষ হবে বলে আশা করছি। ’

বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সরওয়ার জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা উঠিয়ে নিতে পারে। আগের কিছু ঘটনায় সেটির নজিরও আছে। আর বর্তমানে ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে করা মামলাটি এখন চলমান নেই। আর মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই যেতে হবে।’

ঢাকা কলেজ ও টিটি কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ

ঢাকা কলেজ ও পাশের শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের (টিটি কলেজ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়াপাল্টা-ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সামনে মিরপুর সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যার পর এ সংঘর্ষ বাঁধে বলে জানা গেছে।

এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে বলে ঘটনাস্থলে থাকা অনেকে জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‌শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাঁধার পর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে থাকা নূরে আলম নামের এক বিক্রয়কর্মী একটি গণমাধ্যমকে জানান, সংঘর্ষের সময় সড়কে থাকা তার মোটরসাইকেল থেকে অতিরিক্ত হেলমেটটি নিয়ে যান এক তরুণ। তিনি ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী বলে ধারণা করছেন নূরে আলম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউমার্কেট ট্রাফিক অঞ্চলের সহকারী কমিশনার হারুন উর রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষের ঘটনায় ওপাশ থেকে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যানবাহনগুলোকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সালমান খানকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য বলিউড অভিনেত্রীর

বলিউডের ভাইজানখ্যাত তারকা সালমান খানের প্রেমিকার তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার প্রেমিকা হিসেবে নাম শোনা গেছে সংগীতা বিজলানী, কখনও সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন সোমি আলি রাই তো কখনও ক্যাটরিনা কাইফ।

সম্প্রতি শোনা যায়, বর্তমানে তিনি ইউলিয়া ভান্তুরের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। নাম না করে সালমান খানকে সাবধান করে দিলেন তার সাবেক প্রেমিকা সোমি আলি। সদ্য নিজের সোশ্যাল মিডিয়া সাবেক বলিউড অভিনেত্রী এবং সালমান খানের সাবেক প্রেমিকা সোমি আলি একটি পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি নাম না করে সালমান খানকে সাবধান করে দিয়েছেন। পাশাপাশি টেনেছেন ঐশ্বরিয়া রাইয়ের প্রসঙ্গও।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে সোমি আলি একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে একটি গানের ছবি ব্যবহার করেছেন অভিনেত্রী। ছবিটি সালমান খান, ভাগ্যশ্রী অভিনীত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবির ‘আতে জাতে হাসতে গাতে’ গানের একটি দৃশ্যের।

ছবিটি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন— ‘বলিউডের হারভে ওয়েনস্টেইন, তোমার মুখোশ একদিন খুলে যাবে। যেসব নারীদের সঙ্গে তুমি দুর্ব্যবহার করেছ, তারা একদিন তোমার সব সত্যি ফাঁস করে দেবে। ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের মতো।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সোমি আলির পোস্ট দেখে অনুরাগীরা বুঝতে পেরেছেন, তিনি কাকে ইঙ্গিত করে কথাগুলো লিখেছেন। যদিও নিজের এ পোস্টের কমেন্ট বন্ধ করে রেখেছেন সাবেক বলিউড এ অভিনেত্রী। এখনও পর্যন্ত সোমি আলির এই পোস্টের প্রতিক্রিয়া সালমান খান কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের নাম উল্লেখ করার জন্যও কোনো মন্তব্য করেননি বচ্চন পরিবার।

প্রসঙ্গত নব্বইয়ের দশকে বেশ কিছু সময় সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সোমি আলি। বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি সালমানকে বিয়ে করার জন্যই বলিউডে আসেন। তারা যেহেতু তাদের সম্পর্কে খুশি ছিলেন না, তাই তাদের বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে নানা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেন সোমি আলি। এর আগেও আরিয়ান খান মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হওয়ার পর শাহরুখপুত্রের পাশে দাঁড়ান তিনি।

ক্রিসকে চড় মারায় যে শাস্তি হতে পারে উইল স্মিথের

৯৪তম অস্কার আসরের মঞ্চে সঞ্চালক ক্রিস রককে কষিয়ে চড় মারার ঘটনায় অস্কারজয়ী সেরা অভিনেতা উইল স্মিথের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে অস্কার অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাতে একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে অ্যাকাডেমি কর্তৃপক্ষ। খবর বিবিসির।

অ্যাকাডেমি জানিয়েছে, অভিনেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পদক্ষেপ করা শুরু হয়ে গেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তিস্বরূপ স্মিথকে সাসপেন্ড করা হতে পারে, বহিষ্কার করা হতে পারে; এমনকি হলিউডের অভিনেতা হিসেবে তার প্রাপ্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাতেও লাগাম টানা হতে পারে।

অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৮ এপ্রিল অ্যাকাডেমির বোর্ডের বৈঠক বসতে চলেছে। সেদিনই স্মিথের ‘শাস্তি’ ঘোষণা হতে পারে। কারণ অভিনেতা অ্যাকাডেমির আচার-আচরণ সংক্রান্ত নিয়মনীতি ভেঙেছেন।

এদিকে ৯৪তম অস্কার আসরের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়ে সঞ্চালক এবং অস্কার কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চান উইল স্মিথ।

প্রসঙ্গত হলিউডের ডলবি থিয়েটারে আয়োজিত অস্কার অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের নিয়ে ঠাট্টা করছিলেন ক্রিস রক। একে একে সবার কথা বলতে বলতে তিনি চলে যান উইল স্মিথের স্ত্রী জাডা স্মিথ প্রসঙ্গে। ক্রিস রক বলেন, পরের ‘জি আই জেন’ ছবিতে অভিনয় করবেন জাডা।

উল্লেখ্য ‘জি আই জেন’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ডেমি মুর। সেই ছবিতে তার মাথায় চুল ছিল না। ঘটনাচক্রে জাডার মাথাতেও চুল নেই। কিন্তু সেটি স্টাইলের কারণে নয়। তিনি রোগে আক্রান্ত। সেই কারণেই তার মাথায় চুল নেই।

এই রসিকতায় তীব্র রেগে যান উইল স্মিথ। আসন ছেড়ে উঠে মঞ্চে গিয়ে উইল স্মিথ কষে এক থাপ্পড় মারেন ক্রিসের গালে। পরে বিষয়টিকে হালকা করতে ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন ক্রিস।

আসনে ফিরে চিৎকার করে স্মিথ ক্রিসের উদ্দেশে বলেন, তোমার নোংরা মুখে আমার স্ত্রীর নাম নেবে না।’ অবশ্য পরে এ ঘটনার জন্য একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সহশিল্পীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন স্মিথ।

এদিকে থাপ্পড় খেয়ে হতভম্ব ক্রিস দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, টেলিভিশনের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় রাত হয়ে থাকবে।

ঘটনায় চমকে যান আয়োজক ও উপস্থিত সাংবাদিকরা। শুরুতে ঘটনাটিকে সাজানো বলে মনে করলেও দ্রুত সবাই বুঝে ফেলেন যে এটি পূর্বপরিকল্পিত নয়, বরং এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

ডারবানে যে কীর্তি গড়ার অপেক্ষায় মুমিনুল

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট।

এই টেস্টে টস করার মধ্য দিয়ে নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুমিনুল হক সৌরভ।

দেশের সপ্তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের সাদা পোশাকে ৫০তম ম্যাচ খেলবেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক সৌরভ।

মুমিনুলের মতো একই অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার। তিনিও ডারবানে নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট খেলবেন। আফ্রিকার ২৪তম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন বাভুমা।

গত এক যুগে ডারবানের কিংসমিড হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য দুঃস্বপ্নের এক ভেন্যু। এই মাঠে শেষ আট টেস্টের ছয়টিতেই হেরেছে প্রোটিয়ারা। সবশেষ জয় এক দশক আগে ভারতের বিপক্ষে।

রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে বার্সেলোনা

রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে ৩-১ গোলের জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটাই পরিষ্কার ছিলেন বার্সেলোনার মেয়েরা। তবে দ্বিতীয় লেগে নিজেদের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ১-২ পিছিয়ে পড়ে কিছুটা শঙ্কাই সৃষ্টি হয়েছিল দলটির।

তবে এর পর বার্সেলোনার মেয়েরা রিয়াল মাদ্রিদের মেয়েদের জালে জড়িয়েছে আরও ৪ গোল, তাতে ম্যাচে ৫-২ আর সামগ্রিক লড়াইয়ে ৮-৩ ব্যবধানের জয় নিয়ে নারী চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পৌঁছে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ন্যু ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিলেন অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াসরা। তাদের বরণ করে নিতে প্রায় ৯২ হাজার দর্শক হাজির হয়েছিলেন গ্যালারিতে, যা নারী ফুটবলের ইতিহাসে রেকর্ড। তাদের মাঝে বার্সা পুরুষ দলের কোচ জাভি হার্নান্দেজও ছিলেন।

ম্যাচটা নিয়ে বার্সার আয়োজনের কমতি ছিল না, দর্শকরা ম্যাচ শুরুর আগে মাঠের বাইরে বরণ করে নিয়েছিলেন পুতেয়াসের দলকে। এমন উৎসবমুখর পরিবেশে বাড়তি মাত্রা যোগ করেন মারিয়া পিলার লিওন। ৮ মিনিটে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন তিনি।

তবে রিয়াল মাদ্রিদও ছেড়ে কথা বলেনি। ১৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ওলগা কারমোনার গোলে সমতা ফেরায়। ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যাওয়া রিয়াল দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে এগিয়ে যায় ক্লদিয়া জরনোজার অবিশ্বাস্য এক গোলে। মাঝমাঠ থেকে শট নিয়ে গোল করে বসেন তিনি। ন্যু ক্যাম্পে হাজির বার্সা সমর্থকদের মনে তখন ভর করে বসেছে হারের শঙ্কা।

তবে সে শঙ্কা বার্সার মেয়েরা উড়িয়ে দিয়েছে এর পর পিছিয়ে পড়েই যেন জেগে ওঠে দলটি। ৫২ মিনিটে আইতানা বনমাতির গোলে ফেরায় সমতা। এর ৩ মিনিট পর ক্লদিয়া পিনার গোলে ৩-২ গোলে এগিয়ে যান স্বাগতিকরা।

দলের ব্যালন ডিঅর বিজয়ী ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিয়া গোল করেন ৬২ মিনিটে। ৭০ মিনিটে রিয়ালের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠোকেন ক্যারোলিন গ্র‍্যাহাম হ্যানসেন। তাতে ৫-২ গোলের বড় জয় দিয়ে প্রথম ন্যু ক্যাম্পে খেলার অভিজ্ঞতাটা আরও বেশি স্মরণীয় করেন বার্সার মেয়েরা।

এই জয় দলটিকে তুলে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। শেষ চারের লড়াইটিতে বার্সেলোনা নামবে আগামী ২২ এপ্রিল।

নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ধরে নিয়ে গুলি, যুবক নিহত

মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলায় নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় ধরে নিয়ে প্রতিপক্ষের গুলিতে জুয়েল ফকির (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলায় চরকেওয়ার ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমশুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তার ও আলু তোলা কেন্দ্র করে চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন ফকির ও সাধারণ সম্পাদক মন্টু দেওয়ান গ্রুপের কোন্দল চলে আসছিল।

এর জের ধরে বুধবার রাত থেকে স্থানীয় চরমশুরা-ফকিরকান্দি গ্রামে দুগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও কয়েক দফা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

হারুন ফকিরের চাচাতো ভাই জুয়েল ফকির ভোরে নামাজ পরতে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষে লোকজন তাকে জোর করে ধরে নিয়ে গুলি ও মাথায় আঘাত করে জমিতে ফেলে রেখে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, পূর্ব শত্রুতা এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মন্টু দেওয়ান ও হারুন ফকিরের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে দ্বিতীয় পীরগাছার শশী

৪০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে স্বাস্থ্য ক্যাডারে দ্বিতীয় হয়েছেন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার মেয়ে ডা. মালিহা সামিহা শশী।

৪২তম বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে শশী সহকারী সার্জন হিসেবে বর্তমানে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত রয়েছেন। তার স্বামী মাহে আলমও ৩৭তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে কর্মরত। বর্তমানে তিনি পিজি হাসপাতালে আছেন।

শশী উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের চৌধুরানী (কুতুব্বস) গ্রামের বাংলাদেশ রেলওয়ে ডেপুটি ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার অ্যান্ড চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তার মা সাবেক প্রধান শিক্ষক নাসিমা আখতার। ভাই বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার ছোট ভাই আজমাঈন ফাহিম বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইঞ্জিনিয়ারিং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার নিজের কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ডা. শশী বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, ৪০তম বিসিএসে দ্বিতীয় অবস্থান নিয়ে আবারও সহকারী সার্জন হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। আমার এ অর্জনের জন্য আব্বু-আম্মু আর আমার স্বামী মাহে আলমের অবদান স্বীকার না করলেই নয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা ডা. শশী ছিলেন মমেক-৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০১৮ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি। তিনি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পাস করেন।

এর পর ২০১২ সালে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্স সার্জন্স (বিসিপিএস) থেকে গাইনি অ্যান্ড অবসে পার্ট-১ এবং লন্ডন থেকে এমআরসিওজি পার্ট-১ করেছেন।

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুরে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ফল প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ২১৯ জনকে নিয়োগ সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্য ক্যাডারে নেওয়া হবে ১১২ জনকে।

রুশ আগ্রাসনের পূর্বাভাস না দেওয়ায় বরখাস্ত হন ফ্রান্সের গোয়েন্দাপ্রধান

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। তবে রাশিয়া যে ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে— এমন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেননি এবং এর পূর্বাভাস দেননি ফ্রান্সের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক জেনারেল এরিক ভিদাউদ।

আর এ কারণেই তাকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে দাবি করেছে ফ্রান্সের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ল’অপিনিয়ন। খবর বিবিসির।

ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়ের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে ল’অপিনিয়ন বলেছে, জেনারেল ভিদাউদের বিরুদ্ধে ‘যথাযথভাবে রুশ আগ্রাসনের বিষয়ে জানানো’ এবং ‘বিষয়গুলোতে দক্ষতার অভাব’-এর কারণে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান থিয়েরি বুরখার্ড একটি সাক্ষাৎকারে লে মন্ডের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ভিদাউদ বুঝতে পেরেছিলেন যে ইউক্রেনের রুশ হামলা হতে পারে এবং তিনি সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেননি।

নিজেদের উড়োজাহাজ ভূপাতিত করেছে রুশ সেনারা

‘দুর্ঘটনাক্রমে’ নিজেদের উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করেছে রুশ সেনারা। কখনও কখনও তারা আদেশ মানতে চাচ্ছে না বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সাইবার-গোয়েন্দা সংস্থা।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাইবার-গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ’র পরিচালক স্যার জেরেমি ফ্লেমিং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বক্তৃতা এসব কথা বলেন। খবর বিবিসির।

তিনি বলেন, একটি ব্যাপার স্পষ্ট যে, ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘ব্যাপক ভুল ধারণা’ করেছিলেন। তিনি রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে ‘অতিরিক্ত’ ধারণা করেছিলেন।

স্যার জেরেমি ফ্লেমিং বলেন, ‘রুশ সেনাদের অস্ত্র ও মনোবলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আমরা দেখেছি—তারা আদেশ পালন করতে অস্বীকার করছে; নিজস্ব সরঞ্জাম নষ্ট করছে, এমনকি তারা দুর্ঘটনাক্রমে নিজেদের উড়োজাহাজ গুলি করে ভূপাতিত করেছে।’

এর আগে চলতি সপ্তাহে মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, পুতিনের উপদেষ্টারা ‘তাকে সত্য জানাতে ভয় পান।’ একই কথা বলেন ফ্লেমিংও।

ফ্লেমিং আরও বলেন, ‘ইউক্রেনে কী ঘটছে এবং রাশিয়ার ভুল ধারণা যে কত ব্যাপক, তা অবশ্যই তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।’

এ ছাড়া ফ্লেমিং আরও উল্লেখ করেন—জিসিএইচকিউ মনে করে, রাশিয়া সাইবার-আক্রমণের মাধ্যমে ইউক্রেনে অচলাবস্থা সৃষ্টির লাগাতার চেষ্টা করেছে। আমরা যে ধরনের সূচক দেখেছি, তাতে ভালোভাবেই ধারণা করা যাচ্ছে, রাশিয়ার সাইবারকর্মীরা (হ্যাকার) রাশিয়ার কাজের বিরোধিতাকারী দেশগুলোতে হামলার লক্ষ্যবস্তু খুঁজছে।