শনিবার ,৬ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 308

রিভিউয়ের নামে ফুড ব্লগারদের চাঁদাবাজি

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুড রিভিউয়ের নামে চলছে নীরব চাঁদাবাজি।

অভিযোগ রয়েছে, ফুড ব্লগাররা চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলেই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের নামে শুরু করে নেগেটিভ কনটেন্ট প্রচার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কয়েকটি পেজ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ভিডিও-অডিও তৈরি করে ছোট ছোট অনুষ্ঠান বানিয়ে আপলোড করা হচ্ছে।

এসব কনটেন্টে নিুমানের রেস্টুরেন্টকে উপস্থাপন করা হয় দেশের সবচেয়ে ভালো রেস্টুরেন্ট হিসাবে। অন্যদিকে যারা মান বজায় রেখে ব্যবসা করছেন কিন্তু ফুড ব্লগারদের চাঁদা দিচ্ছেন না, তাদের উপস্থাপন এমনভাবে করা হয়-এই ভিডিও দেখলে কেউ রেস্টুরেন্টে যাবেন না।

ফুড ব্লগাররা নিয়মিত চাঁদার দাবিতে চালাচ্ছে এ কার্যক্রম। রেস্টুরেন্ট মালিকদের সঙ্গে টাকার চুক্তি হয়ে গেলে নেগেটিভ ভিডিও ডিলেট করে পজিটিভ ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। আর এভাবেই চলতে থাকে তাদের নীরব চাঁদাবাজি। জানা গেছে, এসব ফুড ব্লগারের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস নেই কোনো রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর। কারণ প্রতিবাদ করলেই নেগেটিভ ভিডিও ভাইরাল করে ব্যবসার লালবাতি জ্বালিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় প্রতিনিয়ত।

ব্যাপক হারে এ নীরব চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও এর নিয়ন্ত্রণ নেই কারও হাতেই। যার যা মনে আসছে তা-ই ভিডিও বা অডিও আকারে তুলে দিচ্ছে ফেসবুক ও ইউটিউবে। গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব ফুড ব্লগারদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা।

তাদের কাছে জিম্মি হয়ে আছেন এই খাতের প্রায় সব ব্যবসায়ী। ইউটিউব-ফেসবুকের জন্য ভিডিও তৈরি করা চক্রের সদস্যরা একটি ক্যামেরা ও এডিটিং প্যানেল নিয়ে ছোট্ট অফিস খুলে বিজ্ঞাপন এজেন্সির আদলে ব্যবসা খুলে বসেছে। বিনা পুঁজির ব্ল্যাকমেইলিং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সিন্ডিকেট গড়ে তারা চাঁদাবাজি করছে। অন্যদিকে লাইক, শেয়ার ও ভিউ ব্যবসা তো আছেই। পাশাপাশি রেস্টুরেন্ট মালিকদের কাছ থেকেও নিচ্ছে নিয়মিত মোট অঙ্কের মাসিক চাঁদা।

এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। জানতে চাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিরাপত্তা বিশ্লেষক শাহ আসিফুল আবেদ স্বরূপ যুগান্তরকে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউব বা ফেসবুক থেকে আয় করা যায় এ কথা সত্যি। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমাদের দেশের কিছু তরুণ শুধু নিজেদের স্বার্থে ইউটিউব-ফেসবুকে নানা ধরনের হয়রানিমূলক কনটেন্ট প্রচার করছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ বিষয়গুলোকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

সমাজবিজ্ঞানী ড. এম ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘সম্প্র্রতি দেখা যাচ্ছে কিছু ফুড ব্লগার ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ খুলে নানা ধরনের ভিডিও প্রচার করছেন। ভিডিওর ধরন দেখেই বোঝা যায় এগুলো পেইড এবং বিজ্ঞাপনের আদলে তৈরি করা। প্রতিনিয়ত ব্লগাররা তাদের অডিয়েন্সদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

ফেসবুকে ভাইরাল ফুড ব্লগারদের মধ্যে অন্যতম ‘ফুড আপ্পি’র সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। আরেক ব্লগার ‘জোলটান বিডি’র সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সহকারী পরিচয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে টেলিভিশন সাংবাদিক দাবি করে তার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।

এদিকে, জোলটান বিডি, ফুড আপ্পি, বাংলাদেশি ফুড রিভিউয়ার, মেট্রোমেন, স্ট্রিট ফুড হান্টিং, পেটুক কাপলসহ বিভিন্ন নামের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন কনটেন্টের ফাঁকে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন উপস্থাপন করলেও ঠিকমতো রাজস্ব দিচ্ছে কিনা এবার তাও নজরদারিতে আনার দাবি উঠেছে। ভ্যাট নিয়ে কাজ করা আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর যুগান্তরকে জানান, তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার টেরোরিজমের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হবে।

সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই মূসক গোয়েন্দা এসব লাভজনক পেজের বিভিন্ন কনটেন্ট ও ইভেন্টে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি তদন্ত করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফুড ব্লগিং এবং রিভিউ নামে খ্যাত ‘ফুডআপ্পি’ এবং ‘জোলটান বিডি’র সদস্য সংখ্যা ৮ লাখ ও প্রায় ৫ লাখ। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ফুড ব্লগিং করে এসব পেজে রিভিউ দিয়ে প্রমোটিং করা বর্তমানে একটি রীতি।

এসব ব্লগারদের পজিটিভ রিভিউ অনেক রেস্টুরেন্টের ভাগ্য বদলে দেয় বলে বিশ্বাস গুটিকয়েক রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীর। তাই রেস্টুরেন্ট মালিকরা দিনের বেশিরভাগ সময় নজর দিয়ে বসে থাকেন এসব পেজের দিকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আলবার্টার সাবেক শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী

কানাডার ক্যালগেরির বাংলাদেশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববদ্যালয় আলবার্টার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

টানা দুই বছর করোনা বিরতির পর কানাডায় প্রবাসী বাঙালিরা আবার নতুন করে জেগে উঠেছে। জনসংযোগ ও বন্ধু-বান্ধবের মিলন মেলা দিন দিন বেড়েই চলেছে। আর এরই ফলশ্রুতিতে হঠাৎ করেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক শিক্ষার্থীরা স্বল্প পরিসরে মিলিত হয়েছিল ক্যালগেরির বাংলাদেশ সেন্টারে।

সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশকে হৃদয়ে ধারণ করে ফিরে যান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রজীবনের সেই সোনালি অতীতে। সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সাবেক শিক্ষার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটিয়েছেন গল্পে-আড্ডায়, উল্লাস-আনন্দে ও স্মৃতিচারণায়। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা ছিলেন হুমায়ুন চৌধুরী মিলন ও খালিস আহমেদ তমাল। সার্বিক সহযোগিতায় সুব্রত, মাকসুদা, মুন্নি ও জেবিন। অনুষ্ঠানে শিশুদের নিয়ে পুনর্মিলনী কেক কাটেন বায়াজিদ গালিব।

বরফাচ্ছন্ন কানাডার কর্মময় একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা মিলেছিল এক অন্যরকম মিলনমলায়। অনুষ্ঠানের শেষপ্রান্তে সবার সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২৩ জুলাই পিকনিকের তারিখ ঘোষণা করা হয়।

সুইডেন, ন্যাটো এবং বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি

মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার। জবাব কীভাবে দিবে যদি সঠিক উত্তর জানা না থাকে? মিডিয়া, গণমাধ্যম কী সব সময় সঠিক খবর দিতে পারে? উত্তর হ্যাঁ বা না হতে পারে। গোটা বিশ্ব জানে সুইডেন সামরিকভাবে নিরপেক্ষ দেশ। শুধু কি তাই? যদি বলি দুইশ বছর আগে থেকেই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে চলছে, বিশ্বের অনেকের মত সাধারণ সুইডিশরাও সেটাই বলবে। কিন্তু না, সময় সুযোগ বুঝে সুইডেন অনেক বারই ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে বিশ্ব পলিটিক্সে।

একটি উদাহরণ হয়তো অনেকেরই মনে পড়বে; যেমন- ভিয়েতনাম যুদ্ধে তৎকালীন সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী ওলোপ পালমে কড়া প্রতিবাদ করেছে আমেরিকা যখন ভিয়েতনাম আক্রমণ করে। আজ থেকে দুইশো বছর আগে নর্ডিক রেজিওনে সুইডেনের দাপট ছিল অনেকটা বিশ বছর আগের সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো। সময়ের সাথে পরিবর্তন এবং পরিবর্ধন সুইডেনকে বাধ্য করেছে লেজ গুটিয়ে ঘরে ফিরে আসতে, যেমনটি দেখতে পারছে গোটা বিশ্ব সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং রাশিয়ার দাপটের হ্রাস যা দেখলে মনে করিয়ে দেয় সুইডেনের অতীত এবং বর্তমানকে। সহজ করে বলি বর্তমান রাশিয়ার ইতিহাস অতীতের সুইডেনের প্রতিচ্ছবি। তবে হঠাৎ কেন সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিতে উঠেপড়ে লাগলো এটাই এখন সবাই জানতে চায়! যদি ‘দি লং স্টোরি শর্ট করি’ তবে বলবো রাশিয়ার হঠাৎ ইউক্রেন আক্রমণই মূলত কারণ।

সুইডেন ন্যাটোতে যোগ না দিয়ে পরোক্ষভাবে বা স্যাড়ো টিমে থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে যে সাপোর্ট দিয়েছে, সেটা রাশিয়াসহ গোটা বিশ্বের নজর কেড়েছে। সুইডেন ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনকে নানাভাবে সাহায্য করে আসছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগে ফিনল্যান্ডের ৫৩ শতাংশ ও সুইডেনের ৪১ শতাংশ মানুষ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিল বলে জরিপে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক জরিপে সুইডেনে ন্যাটোতে যোগদানের পক্ষে জনমত ৫০ শতাংশের বেশি হয়েছে। আর ফিনল্যান্ডে এ হার আরও বেশি।

ন্যাটোতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও অনেক আগে থেকেই জোটটির সঙ্গে কাজ করছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সেনাবাহিনী। আফগানিস্তানের ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন দেশ দুটির সেনাসদস্যরা। দুই দেশই সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। হঠাৎ রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ সুইডেনকে পরোক্ষভাবে আক্রমণ করেছে এমনটি মনোভাব পুরো সুইডিশ জাতির। এমতবস্থায় সুইডেন অ্যালিয়ান্স ফ্রি অবস্থায় থেকে ইউক্রেনকে শতভাগ সাহায্য করতে পারছে না বিধায় যৌথভাবে শত্রুর মোকাবিলা এবং গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার প্রতি রেসপেক্ট দেখাতে ‘ওয়াক অ্যাজ ইউ টক কনসেপ্ট’ ব্যবহার করলো।

কথায় বলে ট্রুথ হার্টস যা অনেক সুইডিশকে যন্ত্রণা দিলেও সুইডিশ জাতি তাদের অতীতের ট্রেডিশন ভেঙ্গে সরাসরি বিশ্ব পলিটিক্সে যোগদান করলো। বিষয়টি হয়েছে অনেকটা বাংলাদেশের মতো- বাংলাদেশে অনেকেই সব সময় সরকারের দল করে কারণ তাদের মতে সরাসরি কোনো পার্টির সাপোর্টার না হয়ে বরং সব সময় “সরকার পার্টি” করাই নিরাপদ ও লাভজনক; যা সুইডেন এত বছর ধরে করে এসেছে। দুইশো বছর পর সময়, চাপ এবং তাপ সুইডেনকে “সরকার পার্টি” ছেড়ে সরাসরি বিশ্ব পলেটিক্সে যোগ দিতে বাধ্য করল। Today will be yesterday, tomorrow and tomorrow will never die — সুতরাং সুইডেন তার মনের গভীরে “নেভার অ্যালোন, আলওয়েজ অ্যালোন কনসেপ্ট” থেকে শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতার হাত ধরে নতুন জার্নি শুরু করলো। এদিকে হঠাৎ সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা সমর্থন করছে না তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। মূলত যে ৩০টি দেশ বর্তমান ন্যাটোতে রয়েছে তুরস্ক তার মধ্যে একটি, সেক্ষেত্রে তুরস্কের ভেটো দেবার অধিকার রয়েছে। এটা করার পেছনে তুরস্কের অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে।

সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অতিথিশালা। এ পরিস্থিতিতে আমরা তাদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা সমর্থন করতে পারিনা।’ তবে তিনি বলেননি যে এসব সন্ত্রাসী কে বা কারা তৈরি করেছে এবং কেনই বা তারা তাদের নিজ দেশ ছেড়ে (তুরস্ক তার মধ্যে অন্যতম) সুইডেন, ফিনল্যান্ডসহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে আশ্রিত হয়েছে! এখন দেখা যাক পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কোথায় গিয়ে থামে!

প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয় কেন, কী করবেন?

প্রোস্টেট গ্রন্থির সমস্যায় অনেকেই ভুগেন। অহেতুক লাজ-লজ্জায় কাউকে বলেন না। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে।

প্রোস্টেট পুরুষদের ইন্টারনাল অর্গানের মধ্যে গুরুত্বর্পূণ অঙ্গ। এটি একটি সুপারির মতো মাংসপিণ্ড, যা পুরুষের মূত্রথলির নিচে মূত্রনালিকে ঘিরে থাকে। এর প্রধান কাজ শুক্রাণুর জন্য খাদ্যের যোগান দেওয়া।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. এস এম আব্দুল আজিজ।

বৃদ্ধির কারণ : বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেহের হরমোনেও কিছু কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে। হরমোনের এই পরিবর্তনকেই প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। পঞ্চাশ ঊর্ধ্বো প্রায় সব পুরুষের প্রোস্টেট বড় হতে থাকে কিন্তু সবার উপসর্গ দেখা দেয় না।

বৃদ্ধির ফলাফল : প্রথমত, মূত্রনালির চারদিকে প্রোস্টেটের কোষ সংখ্যা বেড়ে মূত্রনালিকে চেপে ধরে।

দ্বিতীয়ত, প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যভাগ বৃদ্ধি পেয়ে মূত্রনালির বাহির পথকে আটকে দেয়। ফলে মূত্রথলি থেকে সহজে প্রস্রাব বের হতে পারে না।

উপর্সগ : ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব করার পরও প্রস্রাবের থলি খালি না হওয়া, প্রস্রাবের বেগ আটকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়, প্রস্রাবের গতি দুর্বল ও মাঝপথে বন্ধ হয়, প্রস্রাবের থলি বেশি ভরে ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব হয় ও অনেক সময় প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়।

প্রস্রাব একেবারে আটকে যাওয়া বা আটকানোর মতো হয়। হঠাৎ করে প্রস্রাব আটকে গেলে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও প্রচণ্ড প্রস্রাবের চাপ অনুভূত হয়। প্রোস্টেটজনিত সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বিশেষত রাতে।

চিকিৎসা : চল্লিশোর্ধ্বে পুরুষদের বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি প্রোস্টেট-পরীক্ষা করানো উচিত। প্রোস্টেট গ্রন্থি বাড়লে অনেক সমস্যা হতে পারে। প্রোস্টেটের সমস্যাকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। এই গ্রন্থটি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায়। এই বৃদ্ধি কারও কারও ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা সৃষ্টি করে না বা সামান্য অসুবিধা সৃষ্টি করে।

ক্ষেত্রবিশেষ প্রোস্টেট বৃদ্ধিজনিত উপসর্গগুলো মেডিসিন প্রয়োগের মাধ্যমে উপশম লাভ করা যায়। ওষুধ প্রোস্টেটের মাংশপেশিগুলো শিথিল করে প্রস্রাবের বাধা দূর করে।

রাবির ‘এ’ ও ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় ‘এ’ ইউনিট তথা মানবিক বিভাগ ও ‘বি’ ইউনিট তথা বাণিজ্য বিভাগের পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে ৮০টি প্রশ্ন থাকবে। বৃহস্পতিবার প্রোভিসি প্রফেসর ড. সুলতান-উল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১-২২ সেশনের ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার সময়সীমা হবে ১ ঘণ্টা। যেখানে মোট প্রশ্ন থাকবে ৮০টি। বহুনির্বাচনি প্রতিটি প্রশ্নের মান হবে ১ দশমিক ২৫।

‘এ’ ইউনিটে বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান অংশ থেকে প্রশ্ন হবে। যেখানে বাংলা ৩৫, ইংরেজি ৩৫ ও সাধারণ জ্ঞান ৩০ নম্বরসহ মোট ১০০ নম্বর নির্ধারিত থাকবে। তবে সংগীত; নাট্যকলা; চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র; মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য এবং গ্র্যাফিকস ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগসমূহের ব্যবহারিক পরীক্ষার পূর্ণমান হবে ১০০। ইংরেজি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্র বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

এদিকে ‘বি’ ইউনিটে শুধু বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য হওয়া প্রশ্নের ধরন হবে— বাংলা ১০, ইংরেজি ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২৫, হিসাববিজ্ঞান ২৫, আইসিটি ১৫ মিলে মোট ১০০ নম্বর।

অন্যদিকে ‘বি’ ইউনিটে অবাণিজ্যিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের ধরন হবে— বাংলা ২০, ইংরেজি ৩০, সাধারণ জ্ঞান ২৫, আইসিটি ২৫ মিলে মোট ১০০ নম্বর হবে। ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এ ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজিতে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এ ছাড়া বাণিজ্য গ্রুপের পরীক্ষার্থীদের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ২৫ নম্বর এর মধ্যে ন্যূনতম ১০ নম্বর এবং অবাণিজ্য গ্রুপের পরীক্ষার্থীদের ৩০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ১২ নম্বর পেতে হবে।

প্রসঙ্গত, ‘বি’ ইউনিটে বাণিজ্য ও অবাণিজ্য (বিজ্ঞান ও মানবিক) উভয় গ্রুপের শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবে। ৪ শিফটে হওয়া অনুষ্ঠিত ১৮ হাজার ভর্তিচ্ছু মিলে ৭২ হাজার শিক্ষার্থী ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে।

প্রশ্নফাঁস: মাউশির নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে মাউশি পরিচালক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণের কথা উল্লেখ করা না হলেও এতে বলা হয়েছে, ১৩ মে অনুষ্ঠিত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের লিখিত পরীক্ষা (এমসিকিউ) অনিবার্য কারণে বাতিল করা হলো।

গত শুক্রবার (১৩ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগের জন্য ঢাকার ৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৫১৩টি পদের বিপরীতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৮৩ হাজার।

ইডেন কলেজ কেন্দ্র থেকে ওইদিন প্রশ্নপত্রের উত্তরসহ চাকরি প্রার্থী সুমন জোয়ার্দার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার প্রবেশপত্রের পেছনে ৭০ নম্বরের উত্তর লেখা ছিল। এরপর এই ঘটনায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

দুই বছর পর ধারাবাহিক নাটকে শানু

লাক্স সুন্দরী শানারেই দেবী শানু নাটকের পাশাপাশি সিনেমাতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন। তবে করোনাকাল শুরু হওয়ার পর অভিনয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে আবারো অভিনয়ে নিয়মিত হয়েছেন। এবার একক নয়, ধারাবাহিক নাটক দিয়েই বিরতি ভাঙলেন শানু। নাটকটির নাম ‘ রঙের মানুষ ঢঙের খেলা’।

ইবনে হাসান খানের গল্পে নাটকটি লিখেছেন ইউসুফ আলী খোকন। পরিচালনা করেছেন সোহেল হাসান। আগামী ১৭ মে থেকে নাটকটি চ্যানেল আইতে প্রচার হবে।

এতে অভিনয় প্রসঙ্গে শানু বলেন, আমি দীর্ঘ একটি সময় ধরে অভিনয়ে সেভাবে নেই। করোনাকাল এবং লেখালেখির ব্যস্ততার কারণে অভিনয়ে মনোনিবেশ করতে পারি নাই। এই নাটকটির গল্প এবং আমার চরিত্র দুটোই বেশ ভালো লাগার কারণে এতে অভিনয় করছি। আশা করছি নাটকটি সবার ভালো লাগবে।

এদিকে একটি সিনেমাতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছেন তিনি। যেটির কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শানু। সর্বশেষ তিনি খিজির হায়াত খানের পরিচালনায় ‘মি. বাংলাদেশ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন লেখক হিসেবেও পরিচিতি তৈরি হয়েছে শানুর। প্রতি বছর একুশের গ্রন্থমেলায় তার উপন্যাস ও কাব্য গ্রন্থ প্রকাশ হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ‘শিমু’ সিনেমার প্রদর্শনী

পোশাক শিল্পে জেন্ডারভিত্তিক সমতা এবং নারী শ্রমিকের ওপর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্লাস্ট, ক্রিশ্চিয়ান এইড ও নারীপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ‘সজাগ’ কোয়ালিশন ২০১৭ সাল থেকে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কিংবা মে দিবস উপলক্ষে ২০ ও ২৭ মে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘শিমু’ ও পথনাটক ‘অধিকার’ প্রদর্শনের আয়োজন করেছে ‘সজাগ’ কোয়ালিশন ।

দৃঢ়চেতা নারী পোশাক শ্রমিকদের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্পের চলচ্চিত্র ‘শিমু’ ২০ মে বিকাল ৪টায় প্রদর্শিত হবে আশুলিয়ার বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কাস সলিডারিটির কার্যালয়ে এবং সন্ধ্যা ৭টায় প্রদর্শিত হবে জিরাবো নিশ্চিন্তপুর দেওয়ান ইদ্রিস উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। এছাড়া ২৭ মে বিকাল ৪টায় টঙ্গীর সাতাইশ স্কুলে প্রদর্শিত হবে চলচ্চিত্র শিমু।

শ্রমিকনেত্রী ডালিয়া আক্তারের জীবনের সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘শিমু’ প্রতিকুলতাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলা প্রতিটি সংগ্রামী মানুষের গল্প। সমতার প্রশ্নে ‘শিমু’ একজন সম্মুখযোদ্ধা।

ছবিটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ১১ মার্চ বাংলাদেশের সিনেমা হলে মুক্তি পায়। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, নভেরা রহমান, দীপান্বিতা মার্টিন, পারভীন পারু, মায়াবি মায়া, মোস্তফা মনোয়ার, শতাব্দী ওয়াদুদ, জয়রাজ, মোমেনা চৌধুরী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও সামিনা লুৎফা প্রমুখ। দুটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিতা চৌধুরী ও ভারতের শাহানা গোস্বামী।

মুমিনুলের আফসোস পেসারদের নিয়ে

পঞ্চমদিনের এক ঘণ্টা বাকি থাকতে চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র। শ্রীলংকা প্রথমদিন থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল যে, ম্যাচ ড্র হবে। সেটা করতে পেরে তারা খুশি।

কিন্তু প্রথম টেস্ট হওয়ায় তিনি খুশি কি না, এ নিয়ে কিছু বললেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। জানালেন, চট্টগ্রামের উইকেট এমনই হয়। ২৩ মে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দ্বিতীয় শেষ টেস্ট।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘চট্টগ্রামের উইকেট সব সময় এরকই থাকে। এর আগেও তো এমন উইকেটে এই সময়ে স্পিনাররা কোনো সহায়তা পায়নি। এবার কিছুটা সাহায্য পেয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এমন উইকেটে টিকে থাকা যায়, কিন্তু অস্থির হলে বিপদ। লিটন ওই সময়ে আউট না হলে হয়তো আমরা ভালো একটা সুযোগ নিতে পারতাম। কিছু রান বাড়াতে পারতাম।’ শ্রীলংকার পেসাররা ভালো করলেও বাংলাদেশের পেসাররা মোটেই ভালো করতে পারেননি। মুমিনুলের আফসোস সেখানেই। পেসাররা ভালো করলে মুমিনুলও খুশি হতেন। তিনি বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমরা সবাই ভালো খেলতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এটাই দরকার। সবাই যখন ভালো খেলি, তখন দলের উপকার হয়। তবে পেসাররা যদি আরেকটু ভালো বল করতে পারত…। তাদের ওপর প্রত্যাশা বেড়েছে, তারা ভালো করলে আরও খুশি হতে পারতাম।’

ঢাকায় কেমন উইকেট হবে সেটা দুদলই অনুমান করতে পারছে। মুমিনুল বলেন, ‘ঢাকায় কেমন উইকেট হয় সেটা আমরা জানি। সেখানে টার্ন বেশি থাকবে, বল বেশি জোরে আসবে। ভেতরে ঢুকলে কীভাবে খেলতে হবে সেটার জন্য মানসিকভাবে আমরা প্রস্তুত।’ লংকান মিডল অর্ডার ব্যাটার ধনঞ্জয়া ডি সিলভা বলেন, ‘ঢাকার উইকেটে স্পিনারদের জন্য অনেক কিছু থাকে। আমরা যদি প্রথমে ব্যাট করতে পারি, তাহলে ২৭৫-৩০০ করার চেষ্টা করব। স্বাগতিকদের ১৫০ রানের মধ্যে অলআউট করার চেষ্টা করব। তাহলে আমাদের জয়ের সুযোগ তৈরি হবে।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলংকার আগের জয় আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ধনঞ্জয়া মনে করছেন বাংলাদেশ ঢাকা টেস্টে এগিয়ে থাকলেও তাদের পেস আক্রমণ ভালো। তিনি বলেন, ‘হয়তো বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে। কিন্তু আমাদের পেসাররা তাদের চেয়ে ভালো করেছে। এদিক থেকে আমাদের বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় রয়েছে।’

এই গল্প ‘সিংহ’ ও ‘টাইগারের’

চরম অর্থনৈতিক সংকটে দিশেহারা শ্রীলংকা। তাতে ‘সিংহ’ গায়ান সেনানায়কের কিছু আসে-যায় না। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে এসেছিলেন চট্টগ্রামে।

এদিকে ‘টাইগার’ শোয়েব আলীর মানবিক গুণাবলি সবার মন ছুঁয়ে যাচ্ছে। বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিতদের সাধ্যমতো সাহায্য করে যাচ্ছেন শোয়েব। কম দামে তরমুজ কিনে লঞ্চে অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিলেন তিনি।

শোয়েবের তরমুজ বিতরণের ভিডিও দেখে এক সাংবাদিক বলেন, ‘শোয়েব তরমুজ নিয়ে এসো।’ শোয়েব তরমুজ নিয়ে হাজির। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথমদিনের খেলা শেষে অপেক্ষায় ছিলেন স্টেডিয়ামের বাইরে। সেই তরমুজ তুলে দেন সাংবাদিকের হাতে।

গায়ান প্রথম বাংলাদেশে আসেন ২০০৬ সালে। এ নিয়ে সপ্তমবার এলেন। দেশের প্রতি তার প্রচণ্ড ভালোবাসা। শোয়েবের একটি লাইভ ভিডিওতে গায়ান বলেন, ‘শ্রীলংকায় অনেক পাহাড়, বন, সমুদ্রবন্দর আছে। অনেক সুন্দর দেশ শ্রীলংকা।’ এই ক্রিকেট সমর্থক জানালেন, দেশের পরিস্থিতি যতই ভয়াবহ হোক, তিনি দেশকে সমর্থন দিয়ে যাবেন।

দেশের জন্য হৃদয় কাঁদে শোয়েবেরও। পেশায় তিনি গাড়ির মেকানিক। করোনার সময় নিজের স্বল্প আয় থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নিয়মিত রান্না করে নিয়ে হাজির হয়েছেন। কারও কষ্টে তার পাশে দাঁড়ান। কারও ছেলে-মেয়ে ছেড়ে চলে গেছেন, এমন ব্যক্তিদের বাবা-মা বলে জড়িয়ে ধরেন। শোয়েবের ভাষায়, তার হৃদয়ে বাংলাদেশ। ক্রিকেট দলকে ভালোবেসে মাঠে থাকেন। একইসঙ্গে অসহায় মানুষের সাহায্যে নিজেকে উজাড় করে দেন। সাধারণ দর্শকদের মতো শোয়েব-গায়ানদের মাঠে যাওয়া শুধু আনন্দের জন্য নয়, দেশকে তারা হৃদয়ে ধারণ করেন।