শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 307

ক্যারিবীয় তারকাকে নিয়ে গাভাস্কারের মন্তব্যে সমালোচনার ঝড়

শুক্রবার আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেটে জিতে গিয়েছে রাজস্থান।

তবে জয়-পরাজয়কে পেছনে ফেলে আলোচনায় সে ম্যাচের ধারাভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার।

রাজস্থানের ক্যারিবীয় তারকা শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে একটি মন্তব্য করেছিলেন গাভাস্কার। আর তাতে চটেছেন ভারতীয়রা। সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন গাভাস্কার।

তার সেই মন্তব্যকে কুরুচিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে।

অনেকে মতে, ভারতের সাবেক অধিনায়ক হয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য শোভা পায় না।

হেটমায়ার সদ্য বাবা হয়েছেন। সেজন্য দিনকয়েক ছুটি নিয়েছিলেন। তারপর আবার আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের শিবিরে যোগ দেন।

শুক্রবার হেটমায়ার যখন ক্রিজে নামেন, তখন বেশ চাপে ছিল তার দল রাজস্থান। হেটমায়ার সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হন। সাত বলে ছয় রান করেই সাজঘরে ফেরেন।

ওই সময় হেটমায়ারের স্ত্রীকে জড়িয়ে গাভাস্কার মন্তব্য করেন, ‘ওর বউ (বাচ্চা) ডেলিভার করেছে। শিমরন হেটমায়ার কি এবার রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে ডেলিভার করতে পারবে?’

গাভাস্কারের এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য পছন্দ হয়নি ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশের।

নেটিজেনরা গাভাস্কারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে অবিলম্বে আইপিএলের ধারাভাষ্য বক্স থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন কেউ কেউ।

একজন টুইট করেছেন, বিশ্বের সেরা লিগে এরকম শব্দ ব্যবহার করছেন ধারাভাষ্যকার? জঘন্য।

‘পিএসজিতে থাকলে রিয়ালকে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য এমবাপ্পে’

টানা এক বছর ধরে নানাভাবে ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছিলেন এমবাপ্পে, পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন না। রিয়াল মাদ্রিদে যাচ্ছেন তিনি।

রিয়াল মাদ্রিদ থেকেও ভেসে আসছিল এমবাপ্পেকে স্বাগত জানানোর সুর।

কিন্তু গত এপ্রিল থেকে ফরাসি ফরোয়ার্ডের কণ্ঠে ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বহু নাটকের পর পিএসজিতেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এমবাপ্পে, এমনটাই এখন ইউরোপের সব ক্রীড়া গণমাধ্যমের খবর।

আর এ খবরে চটেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। জানা গেছে, এমবাপ্পে যদি পিএসজিতে থেকে যান, তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন পেরেজ!

শুনে হাস্যকর ঠেকতে পারে সবার কাছে। কারণ, একজন খেলোয়াড়ের মত বদলিয়ে অন্য ক্লাবে যোগ না দিলে কীভাবে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়? এটা কি উচিৎ!

কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম কাদেনা সারের অনুষ্ঠান কারুসেল দেপোর্তিভোতে তেমনটাই বলা হয়েছে।

এই অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছে, ‘রিয়াল মাদ্রিদের কাছে কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছের ব্যক্তির স্বাক্ষরিত দলিল আছে। সেখানে একটি শর্ত আছে—যদি এমবাপ্পে রিয়ালে যোগ না দেন, তাহলে রিয়াল মাদ্রিদকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে!’

কেন এমন দলিল করা হলো?

জানা গেছে, কিলিয়ান এমবাপ্পের যোগদানের পরিকল্পনায় ক্লাবের অর্থনৈতিক মডেলে পরিবর্তন এনেছেন পেরেজ। ক্লাবের প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড়দের বিক্রি করে তহবিল সংগ্রহ করেছেন। গত দুই মৌসুমে দলবদলের বাজারে প্রায় কোনো খরচ করেননি। এই অবস্থায় এমবাপ্পে ‘না’ বলে দেওয়া মানেই তো সব আয়োজন অযথা বলে প্রমাণিত হওয়া। পেরেজ সেটা মেনে নিতে রাজি নন।

আর এমবাপ্পে যে রিয়ালে যাচ্ছেন না তা নিশ্চিত করেছেন পেরেজ নিজেই।

স্প্যানিশ ক্রীড়া সাংবাদিক গিয়েম বালাগ জানাচ্ছেন, পেরেজ নিজেদের ড্রেসিং রুমে জানিয়ে দিয়েছেন, পিএসজির শেষ প্রস্তাবটাই রিয়ালে যোগ দেওয়ার পথ আটকে দিয়েছে এমবাপ্পের। তিনি মতটা বদলেছেন হঠাৎ করেই।

ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ

রাজশাহী জেলা প্রশাসন এবং ইসলামী ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্যদের মাঝে ১০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান ও সুদমুক্ত ঋণের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৮৭ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে ইসলামী ফাউন্ডেশন রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কল্যাণ চৌধুরী ও পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লসমী চাকমা।

প্রসঙ্গত, ইসলামী ফাউন্ডেশন রাজশাহী জেলার ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকার ঋণ ও আর্থিক সাহায্য প্রদান করছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলা ৮১ জন এবং রাজশাহী মহানগরীর ১২ থানার ৮৪ জনকে ৪ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হলো। পাশাপাশি জেলার ২২ জন ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে ১৫ হাজার টাকা করে বিনাসুদে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

ভারতের সংসদ ভবনে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নতুন সংসদ ভবনে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন ছড়ানোর আগেই স্থানীয় প্রকল্প কর্মীদের চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভারতের কেন্দ্রীয় পূর্ত মন্ত্রণালয়ের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় নির্মানাধীন সংসদ ভবনে ‘ছোট মাপের অগ্নিকাণ্ড’ ঘটে।

খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে তার আগেই সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের কর্মীদের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত রাজপথের দু’পাশের এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্প হাতে নিয়েছে মোদি সরকার। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় করে নির্মিত হচ্ছে নতুন সংসদ ভবন। তারই অদূরে গড়া হচ্ছে নতুন কেন্দ্রীয় সচিবালয়।

রুশ আগ্রাসন ঠেকাতে এই দেশেও অস্ত্র পাঠাতে চায় যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস বলেছেন, মলদোভাকে রাশিয়ার আক্রমণের হুমকি থেকে রক্ষা করতে আধুনিক অস্ত্র পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাজ্য। কাতারভিক্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

লিজ ট্রাস টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা কীভাবে নিশ্চিত করব স্থায়ীভাবে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম এবং কীভাবে আমরা গ্যারান্টি দেব যে এটা ঘটবে? এই মুহুর্তে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।

ইউক্রেনের দক্ষিণপশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত মলদোভা ন্যাটোর সদস্য নয়। লিজ ট্রাস বলেন, মলদোভা যেন ভবিষ্যতে যেকোনো আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য আলোচনা চলছে।

টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, আমি মলদোভাকে ন্যাটোর মানদণ্ডে প্রস্তুত দেখতে চাই। এটা নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘বৃহত্তর রাশিয়া’ গঠন করতে বদ্ধপরিকর। যদিও তার ইউক্রেন আগ্রাসন তাৎক্ষণিকভাবে সাফল্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে

যদি মলদোভাকে অস্ত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে লিজ ট্রাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করে ন্যাটো সদস্যগুলো মলদোভাকে আধুনিক রণসরঞ্জাম দেয়, তাহলে সোভিয়েত যুগের অস্ত্রের বদলে এসব অস্ত্র চালানোর জন্য দেশটির সেনাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হতে পারে।

এখনই গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চেষ্টা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত: এফবিসিসিআই

এখনই গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

শনিবার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে সংগঠনটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান চরম অসময় যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সময় এটা নয়। যে চেষ্টা হচ্ছে, সেটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার শামিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সময় থাকতে সরকারকে তা বুঝতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে জনজীবনের ওপর। এটা চলতে থাকলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার দায়ভার তখন সরকারকে নিতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এর পরও যদি দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপিয়ে বিদ্যুৎ খাতের তহবিল থেকে ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা হোক।’

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, সাবেক সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, বিএসএমএর সভাপতি মনোয়ার হোসেন, বিসিএমএর সভাপতি মো. আলমগীর কবিরসহ প্রমুখ।

অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় গুরুত্ব আ.লীগের

বিএনপিকে এনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার সম্ভাব্য উপায় খুঁজছে সরকার। এক্ষেত্রে দলটির (বিএনপি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সংলাপের পরিবর্তে ‘আলোচনা’কে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এমন উদ্যোগ সবচেয়ে কার্যকর ও সম্মানজনক হতে পারে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

আলোচনা কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা চিন্তাভাবনা করছেন। নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচন কমিশন গঠনে অতীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সংলাপ সফল না হওয়ায় অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকে প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকারে রেখেছেন তারা। আর প্রাথমিক আলোচনা ফলপ্রসূ হলে সবকিছুর চূড়ান্ত রূপ দিতে প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিকতায় যাবে ক্ষমতাসীনরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের নীতিনির্ধারকরা যুগান্তরকে বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক। দরকষাকষির মাধ্যমে সেখানেই নির্ধারিত হতে পারে বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টিও।

গত নির্বাচনের আগে প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে গোপন আলোচনার সূত্রপাত করেছিল সরকার। বিএনপি নেতারা তখন প্যারোলে মুক্তির সম্ভাবনার সংবাদ উড়িয়ে দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াতেই মুক্তি পান খালেদা জিয়া। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে অনড় থাকলেও বিএনপির সঙ্গে আলোচনা শুরু করার পক্ষে সরকার। এই আলোচনা যে কোনো সময় শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন নীতিনির্ধারকরা।

সর্বশেষ ৭ মে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে বিএনপির অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন দলটির সিনিয়র নেতারা।

এ ব্যাপারে সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করতে দেখা গেছে বলে জানান উপস্থিত দলটির নেতারা। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রীও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ওই সভায় বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারকেই উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপির অধিকার। আমরা চাই তারা নির্বাচনে আসুক। তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক যুগান্তরকে বলেন, নিজেদের স্বার্থেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ করা উচিত। তা না হলে দলটির যে ক্ষতি হবে, তা কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চাই, বিএনপি নির্বাচনে এসে তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুক। নির্বাচনের স্বার্থে অতীতে আমাদের সরকার ও নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যদি কোনো আলোচনার প্রয়োজন হয়, তা করতে আমাদের দ্বিধা নেই।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য যা ভালো হবে, তাই করবেন। গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারেও নিশ্চয় তিনি পদক্ষেপ নেবেন।

নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত বছর ডিসেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করেন। কিন্তু বিএনপি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল সংলাপে যায়নি। এবার ভরসা করেননি তারা। যদিও নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এবং ২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আয়োজনে এমন সংলাপ হয়েছিল।

এ দুটি বৈঠকে আমন্ত্রিত সব রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ‘সংলাপ’ হয়। যার মাধ্যমেও একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়নি।

এ কারণে সরকার আর এই ধরনের সংলাপের ব্যাপারে তেমন আগ্রহী নয়-এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য। তিনি যুগান্তরকে জানান, এবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আলোচনা ও সমঝোতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেলের প্রতিনিধি হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান স্টিফেনের সহায়তায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে দীর্ঘ সংলাপ হয়। ওই সংলাপ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়। তেমনই ব্যর্থ হয় জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি অস্কার তারানকোর মধ্যস্থতায় সংলাপ।

২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার অসম্মতির কারণে আনুষ্ঠানিক সেই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। এর আগে ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জলিল-মান্নান ভূঁইয়ার সেই সংলাপও সফল হয়নি।

এ অবস্থায় সরকার গোপন আলোচনায় বিএনপির সঙ্গে একটা সমঝোতায় যাওয়ার ব্যাপারেই বেশি আগ্রহী। সেই সঙ্গে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আনতে কূটনৈতিক উপায়ে চাপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এই কৌশলের অংশ হিসাবে এপ্রিলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের বৈঠকে আগামী নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপি যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়, সে ব্যাপারে চাওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা।

বিএনপি সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়: কাদের

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নয়- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দল বিএনপিই সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চায়।

শনিবার ছাত্রলীগ আয়োজিত টিএসসি অডিটোরিয়ামে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে। কারণ আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস দেশের জনগণ।

দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো শক্তিই আওয়ামী লীগকে পরাজিত করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ের বন্দরে পৌঁছবে, ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশকে শ্রীলংকা, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সঙ্গে তুলনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যতদিন শেখ হাসিনা নেতৃত্বে থাকবেন ততদিন বাংলাদেশ- শ্রীলংকা, আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা নয়, বাংলাদেশকে তুলনা করা হবে আমেরিকা, ইউরোপের সঙ্গে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ অন্ধকার থেকে আলোর পথের যাত্রী, শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশে এসেছিলেন বলেই অবরুদ্ধ গণতন্ত্র আজ শৃঙ্খল মুক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন-অর্জনের চিত্র তুলে ধরে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দেশের মানুষ ভালো আছে বলেই তাদের মন খারাপ।

৭৫ পরবর্তী গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল, সাহসী ও দক্ষ প্রশাসকের নাম শেখ হাসিনা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৩ বছর আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশ এক নয়।কী ছিল বাংলাদেশ আর এখন কী হয়েছে?

গত ১৩ বছরে শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অর্জন বিএনপিকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দেশে এমন কোনো উন্নয়ন করেনি, যা থেকে তারা জনগণের কাছে ভোট চাইবে?

ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক তার বক্তব্যে বিএনপির নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, এদেশে কথা বলার অধিকার নেই বিএনপি মহাসচিবের।

মির্জা ফখরুল অনেক বেশি কথা বলেন, যেগুলোর কোনো যুক্তি নেই উল্লেখ করে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, তাদের দলে গণতন্ত্র নেই। তাই দেশের মানুষ তাদের কথা শুনে না।

তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি

সরকারি কর্মচারীদের অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির মহাসচিব মো. ছালজার রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল প্রদানের পর গত সাত বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ব্যয়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবন যাপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় নতুন জাতীয় বেতন স্কেল প্রদান অত্যাবশ্যক।

সমিতির মহাসচিব মো. ছালজার রহমান বলেন, অবিলম্বে কর্মচারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে স্থায়ী বেতন কমিশন ও স্থায়ী চাকরি কমিশন গঠন করতে হবে। জীবন যাপনের ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অবিলম্বে নতুন (৯ম) জাতীয় কমিশন ঘোষণা ও ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক ঘোষিত বেতন কমিশনের ন্যায় ১০টি বেতন স্কেলে নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনপ্রবর্তন করতে হবে। তৃতীয় শ্রেণির সকল কর্মচারীদের শতভাগ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করতে হবে। সকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আইসিটি সংশ্লিষ্ট জনবলের রেডিয়েশন ভাতা শতকরা ৩০ ভাগ, পাহাড়ি জনবলের পাহাড়ি ভাতা শতকরা ৩০ ভাগ ও কক্সবাজারসহ পযটন এলাকার মূল বেতনের ৫০ পারসেন্ট পযটন ভাতা দিতে হবে।

সমিতির মহাসচিব বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রবর্তন করতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মচারী নিয়োগে আউটসোর্সিং প্রথা বন্ধ করে তৃতীয় শ্রেণির সকল শূন্য পদে অবিলম্বে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

দাবি পূরণে কর্মসূচির ঘোষণা
দাবি পূরণে পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ তৃতীয় শ্রেণি সরকারি কর্মচারী সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২৪ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এর পর আগামী ২৬ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন দপ্তর/প্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক বিভাগ ও জেলাগুলোতে দাবির সমর্থনে কর্মচারি সমাবেশ এবং দাবী বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১১ জুন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান, কার্যকরী সভাপতি নূরুন্নবী, রায়হান চৌধুরী, আসাদুজ্জামান, তাইজুল ইসলাম, হুমায়ূন কবির, সহ-সভাপতি সেলিম মোল্লাহ, মনিরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, খতিবুর রহমান, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

‘দুর্নীতি হ্রাসে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি’

জনগণের ভোগান্তি দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ এবং মামলা কমানোর লক্ষ্যে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করছে। ভূমি সেবা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রতিকারের লক্ষ্যে বিদ্যমান হটলাইনের টোল কমানোর চিন্তা ভাবনা রয়েছে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বর্তমানে ৪২টি ট্রাইব্যুনাল চালু আছে এবং ল্যান্ড ক্রাইম অ্যাক্ট প্রণয়ন কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে। ভূমি প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগসহ মাঠ পর্যায়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন।

শনিবার এফডিসিতে ভূমি সেবা সপ্তাহ ২০২২ উপলক্ষে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ভূমি সচিব আরও বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও দুর্নীতি হ্রাসে ভূমি সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নজরদারি করা হচ্ছে। ভূমির রেজিস্ট্রেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নামজারি দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষে ডিজিটাল তথ্য বিনিময়ের জন্য আইন ও ভূমি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। ভূমির মালিককে চূড়ান্ত সনদ প্রদানের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে ভূমির মালিকানা ও ব্যবহার আইন প্রণয়ন করা হবে। ভূমির মালিকানা স্পষ্টকরণের লক্ষে সারা দেশে ২ লাখ ৭০ হাজার পিলার স্থাপন করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত একটি জটিল প্রক্রিয়া। জমি বেচা-কেনা, রেজিস্ট্রেশন, নামজারি, পর্চা, খতিয়ান, খাজনা, ভূমি জরিপ ইত্যাদি সেবা পেতে প্রায় প্রত্যেকটি স্তরেই ঘুস, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এখনো বিদ্যমান। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সেবা কার্যক্রম শুরু হবার পর জনভোগান্তি কিছুটা কমলেও, ভূমি সেবা প্রদানে সুশাসন নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। দেশের ভূমি অফিসগুলো এখনো পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত নয়।

তবে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা শুরু হওয়ার পর মানুষ ঘরে বসেই অনলাইনে ফি জমা দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর, ই-নামজারি ও খাজনা প্রদান করতে পারছে। অতি সহজেই খতিয়ান বা পর্চা অনলাইনে পেয়ে যাচ্ছে। ১৬১২২ হটলাইনে ৭ দিনই ২৪ ঘণ্টা ফোনের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে পারছে। তবে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষিত জনবলের স্বল্পতা ভূমি সেবা প্রদানে এখনো বড় বাধা।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ভূমি ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করতে ১০ দফা সুপারিশ পেশ করেন।

সুপারিশগুলো হলো- ১. জমি দখল, ভূমি নিয়ে জাল জালিয়াতি, অনিয়ম দুর্নীতি নিরোধসহ ভূমি অপরাধ দমনে ল্যান্ড ক্রাইম অ্যাক্ট প্রণয়ন।
২. ভূমি সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা।
৩. ভূমি ব্যবস্থাপনায় পিএসসির মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার অথবা মাঠ পর্যায়ে নন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা করা।
৪. অতি দ্রুত ল্যান্ড ডাটা ব্যাংক তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
৫. দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের পোষ্যদের হালনাগাদ আয় ও সম্পত্তির বিবরণ প্রকাশ করা।
৬. ভূমি ব্যবস্থাপনায় জনগণের ভোগান্তি নীতি নির্ধারকদের জানানোর লক্ষে গণশুনানির ব্যবস্থা করা।
৭. ভূমি প্রশাসনের দক্ষ জনবল বাড়িয়ে কারিগরি জটিলতা কমিয়ে দালাল নির্ভরতা দূর করা।
৮. জরাজীর্ণ ভূমি সেবা অফিসগুলোর অবকাঠামোর উন্নয়ন করে ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তথ্যপ্রবাহ জোরদারকরণ।
৯. জনসাধারণের সেবার চিন্তা ভাবনা থেকে ভূমি সেবা কল সেন্টারের ১৬১২২ হটলাইনটি টোল ফ্রি করা।
১০. সাব রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত ১৬ হাজারেরও বেশি নকল নবিশদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে তাদেরকে মাস্টার রোল থেকে রাজস্ব খাতে অর্ন্তভুক্ত করা।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে এই প্রতিযোগিতায় আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়।

প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা ও সাংবাদিক উম্মুল ওয়ারা সুইটি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।