শুক্রবার ,১৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 209

২৭ ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ

ভ্রমণ কোটার বিপরীতে বছরে একজনের নামে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় তথা এন্ডোর্স করতে পারে ব্যাংক ও মানিচেঞ্জারগুলো। তবে এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ২৭টি ব্যাংক ৭১ জন গ্রাহকের বিপরীতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগের তদারকিতে বিষয়টি ধরা পড়ায় সম্প্রতি এসব ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে এসব চিঠি দেওয়া হয়। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ (২) ধারায় কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। এরই মধ্যে অনেক ব্যাংক ব্যাখ্যা দিয়েছে। বেশিরভাগ ব্যাংক জানিয়েছে, ভুলবশত এমন ঘটেছে। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সতর্ক করেছেন।

 

 

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ভ্রমণ কোটার অতিরিক্ত ডলার ছাড় করায় ২৭টি ব্যাংককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমাতিরিক্ত এসব ডলার ছাড় হয়েছে তেমন না। ২০২১ ও ২০২২ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন পদ্ধতিতে ব্যাংকগুলোর আপলোড করা তথ্যের ভিত্তিতে যা বের হয়। মূলত ডলার সঙ্কটের এই সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সীমাতিরিক্ত ডলার এন্ডোর্সমেন্টের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মানিচেঞ্জারগুলোর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান আছে।

মানিচেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বিএফআইইউর বৈঠক

মানিচেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোববার বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বিএফইইউর প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন মানিচেঞ্জারের প্রতিনিধি ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সব ধরনের নিয়ম মেনে যেন এসব প্রতিষ্ঠান লেনদেন করে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ডলার কেনাবেচার মধ্যে সর্বোচ্চ দেড় টাকা পার্থক্য রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়মে যুক্ত ২৭টি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব, ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত এবং লাইসেন্স ছাড়াই ডলার বেচাকেনা করায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দেওয়া হয়।

জানা গেছে, আজকের বৈঠকে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডলার ক্রয় ও বিক্রির মধ্যে দেড় টাকা ব্যবধান রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা কার্যকরে অ্যাসোসিয়েশনও চেষ্টা করছে। সবাই যেন যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যবসা করে সে বিষয়েও সতর্ক করা হচ্ছে। তবে বারবার অভিযানের কারণে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অবশ্য নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না বলে বৈঠক থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়।

পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কের অবসান চান উদ্যোক্তারা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সে দেশে বাংলাদেশের পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। ভারত সরকারকে এ ব্যাপারে অনুরোধ জানানোর জন্য একাধিক পক্ষের উদ্যোগ রয়েছে। অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক্কের কারণে ভারতে পাটপণ্য রপ্তানিতে কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে, সে ব্যাপারে বেসরকারি রপ্তানিকারকদের মতামত নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) পক্ষ থেকেও আলাদা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, রপ্তানিকারকের কাছ থেকে প্রকৃত অবস্থাটা শুনতে চায় প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে আজ সোমবার তাঁদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

উৎপাদন মূল্যের তুলনায় কম মূল্যে বাংলাদেশের পাটপণ্য ভারতে রপ্তানি হচ্ছে- সে দেশের উৎপাদকদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের পাটপণ্য আমদানিতে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিস (ডিজিটিআর)। প্রতি টন পাটপণ্যে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়। পাঁচ বছর পর মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। এর অংশ হিসেবে ‘সানসেট রিভিউ নোটিফিকেশন’ বা চূড়ান্ত পর্যালোচনা নোটিশ জারি করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। গত ১১ থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত ঢাকায় এসে ভারতের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ট্যারিফ কমিশনের সহকারী প্রধান আবদুল লতিফ সমকালকে বলেন, বাংলাদেশের পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই সানসেট রিভিউ করছে ভারত।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি পাঠানো বিজেএমএর চিঠিতে জানানো হয়, মোট রপ্তানির অন্তত ৬০ শতাংশ যায় ভারতে। পাঁচ বছর আগে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করায় উৎপাদিত পণ্য নিয়ে বিপাকে পড়ে যান উদ্যোক্তারা। কোনো কোনো মিল উৎপাদন কমিয়ে আনে। টিকতে না পেরে কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। গত পাঁচ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এ শুল্ক প্রত্যাহার করেনি ভারত। বরং পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষে আরও পাঁচ বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি।

 

 

এ পরিস্থিতিতে বিজেএমএ চায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারত সরকারকে পাটপণ্যে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হোক। এ বাধা দূর হলে ভারতে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার পাটপণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া চিঠিতে বিজেএমএ বলেছে, অ্যান্টিডাম্পিংয়ের কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লোকসানের কারণে চালু মিলগুলোও ঋণে জর্জরিত। অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারে প্রয়োজনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) আপিল করারও অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে দাবি করে আসছে বাংলাদেশের মিলগুলো। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা কোন যুক্তিতে উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে পাট রপ্তানি করতে যাবে। বিজেএমএর চেয়ারম্যান আবুল হোসেন গতকাল সমকালকে জানান, প্রমাণ ছাড়াই অন্যায়ভাবে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রেখেছে তারা। প্রতিবেশী হিসেবে এটি অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্ত। ১২০টি দেশে তারা পাটপণ্য রপ্তানি করে। অথচ কোনো দেশ থেকে এ ধরনের অন্যায় সিদ্ধান্ত আসেনি।

বিজেএমএ মহাসচিব আব্দুল বারেক খান সমকালকে বলেন, সংশ্নিষ্ট খাতের বেশির ভাগ দেশীয় পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেই কেবল এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে কোনো দেশ। কিন্তু ভারত বাংলাদেশকে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা না দিয়েই অন্যায়ভাবে অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।

গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের অন্যান্য খাতে রপ্তানি অনেক বাড়লেও ভারতের সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ১১৩ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে; যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩ শতাংশ কম।

লোকমান হোসেন বিডার নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন সাবেক সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। তিনি মো. সিরাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বিডার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিডায় যোগ দেওয়ার আগে লোকমান হোসেন মিয়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (প্রশাসন), ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি জনপ্রশাসন পদক-২০১৯ অর্জন করেন। তিনি চলতি বছরের ১৪ জুন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেন। গত ২৩ আগস্ট সরকার তাঁর অবসরোত্তর ছুটি বাতিল করে বিডার পরবর্তী নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

গতকাল তিনি যোগ দেন। আগামী তিন বছর মেয়াদে তিনি সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

ই-মানি স্থানান্তরের সুযোগ এমএফএস ডিস্ট্রিবিউটরদের

সাপ্তাহিক বা অন্য ছুটির দিনে এক ডিস্ট্রিবিউটর আরেক ডিস্ট্রিবিউটর থেকে নগদ অর্থের বিপরীতে ই-মানি স্থানান্তর করতে পারবে। এ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থানান্তর করা যাবে। গতকাল রোববার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

বিদ্যমান নিয়মে এমএফএস প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ জমার বিপরীতে ডিস্ট্রিবিউটররা ই-মানি নিয়ে (লিফটিং) থাকে। আবার কারও কাছে অতিরিক্ত ই-মানি থাকলে তা ফেরত (রিফান্ড) দিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করে। তবে সাপ্তাহিক বা অন্য ছুটির দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় ই-মানি লিফটিং বা রিফান্ড বন্ধ থাকে। এতে করে ছুটির দিনে কোনো ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে ই-মানি না থাকলে তিনি তাঁর আওতাধীন এজেন্টদের চাহিদা থাকলেও দিতে পারেন না। আবার কারও কাছে বেশি ই-মানি থাকলে বন্ধের দিনে তা অকেজো পড়ে থাকে। এ রকম পরিস্থিতিতে শুধু সাপ্তাহিক বা অন্য ছুটির দিনে এক ডিস্ট্রিবিউটর আরেক ডিস্ট্রিবিউটরকে ই-মানি স্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, শুধু ছুটির দিনে ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকা অবস্থায় আন্তঃডিস্ট্রিবিউটর ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত লেনদেন করা যাবে। এ ধরনের সব লেনদেন করতে হবে ডিজিটালি। নগদ বহন ও অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে লেনদেন ১১ মাসে সর্বোচ্চ

শুরুটা হয়েছিল বড় উত্থানে। তবে শেষ হয় সূচকের পতন দিয়ে। টানা তিন সপ্তাহের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় চতুর্থ সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বাড়ে। প্রথম দেড় ঘণ্টায় প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৭৬ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। কিন্তু পরের পৌনে তিন ঘণ্টায় ব্যাপক দরপতনে ওই অবস্থান থেকে ১১০ পয়েন্ট হারায়। তবে ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে সূচক থামে ৬৪৮৯ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কম। এরই মধ্যে ১১ মাসের সর্বোচ্চ শেয়ার কেনাবেচা হয়। এমন ছিল গতকাল রোববার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর লেনদেন চিত্র।

গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে মোট ৩৭৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে ৯৫টির দর বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়। বিপরীতে দর হারায় ২১৭টি এবং অপরিবর্তিত থাকে ৬৩টির দর। গতকালের দরপতনে ফ্লোর প্রাইসে নামা শেয়ার সংখ্যা বেড়ে ৫১টিতে উন্নীত হয়েছে।

শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘ফ্লোর প্রাইস’ তুলে দেওয়া হচ্ছে- এমন একটি গুঞ্জন লেনদেনের শেষের দিকে দরপতনের অন্যতম কারণ ছিল। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সমকালকে জানান, এমন কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।

 

 

লাগাতার পতন ঠেকাতে গত ২৮ জুলাই ফের সব শেয়ারের দরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি, যা কার্যকর হয় গত ৩১ জুলাই। ‘অতি স্বল্প সময়ের’ ঘোষণা দিয়ে ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর এরই মধ্যে পাঁচ সপ্তাহ পার হয়েছে। গতকালের সর্বোচ্চ অবস্থান বিবেচনায় ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর সূচক বেড়েছিল ৬০৫ পয়েন্ট। ক্লোজিং পয়েন্টের হিসেবে সূচক বেড়েছে ৫০৯ পয়েন্ট।

এদিকে দরপতন হলেও ডিএসইর লেনদেন গত ১১ মাসের সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৯৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর তুলনায় বেশি লেনদেন হয়েছিল গত বছরের ৭ অক্টোবর। ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৪৯৭ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার।

লেনদেন বৃদ্ধিতে খাতওয়ারি সর্বোচ্চ অবদান ছিল প্রকৌশল খাতের। এ খাতের ৪১ কোম্পানির ৩৭১ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের তুলনায় ১৬৩ কোটি টাকা বেশি। একক সর্বোচ্চ ১১৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে বেক্সিমকো লিমিটেডের।

জুলাইতে বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের (২০২২-২৩) প্রথম মাস জুলাইতেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। মূলত রপ্তানি আয়ের সঙ্গে আমদানি ব্যয়ের বড় পার্থক্যই এ ঘাটতির মূল কারণ। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, জুলাই মাসে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫৮৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই মাসের চেয়ে যা ২৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে পণ্য রপ্তানি করে আয় এসেছে ৩৮৮ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। আলোচ্য মাসে বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ১৯৮ কোটি ডলারের। অন্যদিকে সেবা বাণিজ্যে ২৮ কোটি ডলারের ঘাটতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ইতিবাচক দিক হলো, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১২ শতাংশ। রেমিট্যান্স বাড়লেও চলতি হিসাবে ঘাটতি আছে, যার পরিমাণ ৩২ কোটি ডলার। সংশোধিত হিসাবে গত বছরের জুলাই মাসে ২৯ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বৈদেশিক লেনদেনে বড় চাপের মধ্যে থেকে গত অর্থবছর শেষ হয়। চলতি হিসাবে প্রায় ১৯ বিলিয়ন এবং সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি ছিল। আমদানি নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি কমবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অন্যদিকে রেমিট্যান্সে গত দুই মাসে প্রবৃদ্ধি রয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত অর্থবছরে রেমিট্যান্সে পতনের কারণে বৈদেশিক লেনদেন বেশি চাপে পড়ে।

জুলাইতে চলতি হিসাবের মতো আর্থিক হিসাবেও ঘাটতি রয়েছে। এ সময়ে বিদেশি ঋণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে। আর্থিক হিসাবে ঘাটতির কারণ ট্রেড ক্রেডিট বা বাণিজ্য ঋণে ঋণাত্মক পরিস্থিতি। এর মানে জুলাই মাসে এ ধরনের ঋণ যে পরিমাণ নেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে পরিশোধ করা হয়েছে অনেক বেশি। সব মিলিয়ে সামগ্রিক লেনদেনে জুলাই মাসে ১০৮ কোটি ডলারের ঘাটতি হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে এ ক্ষেত্রে ৩২ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার ও চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

এক শোক বার্তায় তথ্যমন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তিকামনা করেন এবং তার শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’, একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল’ এমন অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা গীতিকবি সংঘের আজীবন সদস্য মাজহারুল আনোয়ার ২০০২ সালে একুশে পদক এবং ২০২১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

ধারদেনায় চলছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

কৃষক বাবার সন্তান রাজিব (ছদ্মনাম) পড়েন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগে। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর আর্থিক সংকটে তাঁর পড়াশোনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। টিউশনি করে পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়ার আশা ছিল তাঁর। তবে শুরুতেই ধাক্কা খান রাজিব, হলে সিট না মেলায় ওঠেন মেসে।

পরে এক বড় ভাইয়ের সহায়তায় টিউশনি পান রাজিব। এ আয় দিয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন। মেসের ভাড়া, খাবার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাসে অন্তত দেড় হাজার টাকা বাড়তি লাগছে। এর জন্য ধার-দেনা করতে হচ্ছে বন্ধুবান্ধব, চেনা-পরিচিতজনদের কাছ থেকে। ঋণ শোধ না করতে পারছেন না। কয়েক মাসের মেস ভাড়াও পড়েছে বাকি। এতদিন লড়াই করে আসা রাজিবের গলায় এখন হতাশার সুর, ‘সবকিছুর এত দাম! এখন মনে হচ্ছে টাকার অভাবে আমার আর পড়াশোনাই করা হবে না। টিউশনির টাকা দিয়ে আগে চলতে পারতাম। আর সম্ভব হচ্ছে না। মা-বাবাকেও কিছু বলতে পারছি না। তাঁরাই বা টাকা দেবেন কোত্থেকে?’

একই প্রভাব কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষার্থীর জীবনেই পড়েছে। গণিত বিভাগের ছাত্র ফয়সাল ইসলাম থাকেন শহরের একটি মেসে। তিনি বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও ১ হাজার ১০০ টাকা মেস ভাড়া দিয়েছি। এখন সেই ভাড়া দেড় হাজারে ঠেকেছে। অন্যান্য বিল তো আছেই।’

 

 

ইংরেজি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থীও রাজিবের মতো টিউশনি করে খরচ চালান। তাঁর ভাষ্য, বেতন বাড়াতে বলার পর টিউশনি ছেড়ে দিতে বলেছে। যেখানে পড়ান, সেই বাসা থেকে বলা হয়েছে, তাঁদের পক্ষে বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র জানান, দাম বাড়ার পর থেকে দু’বেলা খাবার খাচ্ছেন। সকালের নাশতা বাদ দিয়েছেন। সকাল-দুপুরের খাবারটা একসঙ্গেই সেরে নিচ্ছেন তিনি।

২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বর্তমানে অধ্যয়নরত। তাঁদের জন্য হল রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে ছেলেদের তিনটি ও মেয়েদের দুটি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৪৪৮ ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। বিপরীতে গাদাগাদি করে থাকছেন পাঁচ শতাধিক। কাজী নজরুল ইসলাম হলে ১৬০ জনের জায়গায় প্রায় ২৫০ জন, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ১৪৪ জনের জায়গায় থাকতে হয় প্রায় ৩০০ ছাত্রকে।

এ ছাড়া নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে ১৯৭ জন ছাত্রীর আসন রয়েছে। থাকতে হচ্ছে ২৪২ জনকে। গত ৩১ জুলাই উদ্বোধন করা হয় দ্বিতীয় ছাত্রী হল ‘শেখ হাসিনা হলে’ ২৫৬ জনের আসন থাকলেও এরই মধ্যে ৩৭০ শিক্ষার্থীকে বরাদ্দ দিয়েছে হল প্রশাসন। পাঁচ হল মিলে গাদাগাদি করে থাকতে পারছেন মোট শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। বাকি ৭৫ শতাংশ ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকা অথবা শহরে মেস ভাড়া নিয়ে থাকছেন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সুযোগ ছাড়েননি মেসমালিকরা। ভাড়াও বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। আগে এলাকা ও বাসাভেদে প্রতি শিক্ষার্থীকে মেস ভাড়া গুনতে হতো ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। এখন গুনতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র আবদুল মালেক থাকেন মেসে। তিনি জানান, আগে তাঁর মেসে মিলরেট (প্রতি বেলা খাবারের মূল্য) আসত ৩২ থেকে ৩৫ টাকা। আগস্টে এসেছে ৪৩ টাকা। শুধু খাবারের পেছনেই তাঁর মাসিক খরচ বেড়েছে ৫০০ টাকা।

হলে থাকা শিক্ষার্থীদেরও থাকতে হয় গাদাগাদি করে। হলের ডাইনিং ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকি নেই। সেখান থেকেও উচ্চমূল্যে খাবার কিনতে হয়।
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, হলের মিলরেটও ৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এ খাতে ভর্তুকি থাকলেও কুবি প্রশাসন খাবারে কোনো ভর্তুকি দেয় না।

শায়লা রহমান চৈতী থাকেন নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে। তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে আমার খরচও বেড়েছে। কিন্তু পরিবার থেকে দেওয়া টাকার পরিমাণ তো বাড়েনি। হাত খরচ কমিয়ে মৌলিক ব্যয় বহন করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় অন্তত ১০ জন নিয়মিত গ্রাহকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মুরাদুল ইসলাম বলেন, ক্যাফেটেরিয়াতেও খাবারের দাম বাড়ানো হলেও স্বাদ আগের মতোই বিস্বাদ। এখানে নিয়মিত খেয়ে অরুচিতে ভুগছেন।

ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক মান্নু মজুমদারের দাবি, বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও খাবারের দাম বাড়াননি। আগের দামেই সবকিছু বিক্রি করছেন।
তবে লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র তানভীর আহমেদ বলেন, ক্যাফেটেরিয়া দাম না বাড়ালেও পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। মাছ-মাংসের টুকরোও ছোট করে ফেলা হয়েছে। প্রয়োজনমতো তেল-মসলা না দেওয়ায় খাবারের স্বাদ আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে।

একই রকম মন্তব্য করে নৃবিজ্ঞানের ছাত্র কামাল উদ্দিন জানান, আগে দুটি পরোটায় নাশতা সারতেন। এখন চার-পাঁচটা পরোটায়ও ক্ষুধা মেটে না।
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, খাবারে ভর্তুকিসহ শিক্ষার্থীদের দাবি নানা সময় প্রশাসনকে জানিয়েছেন। তাঁরা দাবি না শুনে উল্টো ঊর্ধ্বতন মহলে তাঁর নামে নালিশ করেছে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য বৈশ্বিক সংকটকে দায়ী করে বলেন, এখানে তো সরকারের কিছুই করার নেই।

তবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সরকারের মেগা দুর্নীতির কারণেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। যা শিক্ষার্থীসহ জনগণকে ভোগ করতে হচ্ছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনকে কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও মন্তব্য জানা যায়নি। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে হলে ভর্তুকির জন্য আলাদা বরাদ্দ দেওয়া হয় না। আবাসন সংকটের বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের নতুন ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে কয়েক গুণ বড় হল নির্মাণ করা হবে। তখন আবাসন সংকট কমে যাবে।’

৪ দিনের সফরে আজ ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইট সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

ফ্লাইটটি দুপুর ১২টায় (বাংলাদেশ সময়) নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতের রেল ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান অভ্যর্থনা জানাবেন।

 

 

এদিকে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা। ভারতের কূটনীতিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলছেন, দু’দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক রাজনীতি গুরুত্ব পেতে পারে, এই সফরে।

নয়াদিল্লির পথে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ সোমবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যায়। এটি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় নয়াদিল্লির পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে অবতরণ করার কথা।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, অভিন্ন নদ-নদীর পানি বণ্টন ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের দ্বিতীয় দিনে ৬ সেপ্টেম্বর হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং একান্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার আগে রাজস্থানের খাজা গরীব নওয়াজ দরগাহ শরীফ, আজমির (আজমির শরীফ দরগাহ) এবং ৫ সেপ্টেম্বর ভারত সফরের প্রথম দিনে দিল্লিতে নিজামুদ্দিন আউলিয়া দরগাহ পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।