শনিবার ,২ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 715

সূচকের পতনে শেষ হলো পুঁজিবাজারে লেনদেন

এ সপ্তাহের সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্রে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৭ হাজার ৩২৭ পয়েন্টে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে এবং ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক অপরিবর্তিত থেকে যথাক্রমে অবস্থান করে ২৭৬৫ ও ১৫৯৩ পয়েন্টে।

এদিন ডিএসইতে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে দর বেড়েছে ৪৮টির, দর কমেছে ২৯৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কোম্পানির।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। সিএসই সার্বিক সূচক ৩৬ পয়েন্ট কমে ২১ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে লেনদেন।

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার ডিএসই ও সিএসইসূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইয়ের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৩৯১ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৬০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৭৭৫ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২২টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ২০১টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৫৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

জিয়ার ১২০০ সামরিক কর্মকর্তা হত্যা, গণহত্যার শামিল: হানিফ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ১৯৭৭ সালে ২ অক্টোবর ১২০০ সামরিক কর্মকর্তাদের জিয়াউর রহমান হত্যা করেছিল, তা ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। এই সেনাদের পরিবাররা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর যে বিচার দাবি করছে, তা যৌক্তিক। অথচ সেদিন জিয়াউর রহমান জাপান এয়ারলাইন্স বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদেরকে সামরিক আদালতে ফাঁসি কার্যকর করেছিল, যা ছিল গণহত্যার সামিল।

রোববার বিকেলে চাঁদপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সেদিন জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই হয়েছিল। কিন্তু এটির সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সম্পর্ক ছিল না। অথচ সেদিন জিয়াউর রহমান মিথ্যা মামলা দিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে তাদেরকে সামরিক বিচার আদালতে তুলে তাদের ফাঁসি কার্যকর করেছিল, যা ছিল গণহত্যার সামিল। জিয়া তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যই এই জঘন্য কাজটি করেছিলেন। এই ঘটনায় পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে যেই দাবি করা হয়েছে, তা যৌক্তিক। আমাদেরও সেই দাবির সঙ্গে একাত্মতা রয়েছে।

হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাসে রেকর্ড নেই বন্দুকের নল দিয়ে ক্ষমতায় আসা। যারা এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসেছে, তারাই বলছে আওয়ামী লীগ এভাবে ক্ষমতায় থাকবে। অথচ এই প্রক্রিয়ায় বিএনপির জিয়া এবং তার দল ক্ষমতায় এসেছিল। আজও সেইভাবে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। ২০০৬ সালে বিএনপি দলের তাদের রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল কিন্তু জনতার রোষানলে তা করতে ব্যর্থ হয়।

এর পরে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাহবুবউল আলম হানিফ ও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ডা. দীপু মনি।

এছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন।

নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা, অভিযোগের প্রমাণ পায়নি পিবিআিই

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। রোববার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক ফরিদা পারভীন লিয়া এই তথ্য উল্লেখ করেন।

ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদনটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফেসবুক লাইভে ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ মন্তব্যের অভিযোগে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস সাম জগলুল হোসেনের আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী নুরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ১২ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার সময় নুর তার ফেসবুক আইডি থেকে বাদিকে চরিত্রহীন বলে স্ট্যাটাস দেয়, যা একটি মেয়ের জন্য খুবই অপমানজনক। আসামি ফেসবুক লাইভে এসে এরকম কথা বলায় বাদির সুনাম নষ্ট ও মানহানি হয়। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫(১)/ক, ২৯(১) ও ৩১(২) ধারায় অপরাধযোগ্য।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, নুরের ফেসবুক আইডি ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করে মতামত নেওয়া হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, নুরুল হক ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বাদিকে উদ্দেশ করে ‘ছি! আমরা ধিক্কার জানাই এত নাটক যে করছে সে দুশ্চরিত্রাহীন। ধর্ষণের নাটক করছে স্বেচ্ছায় একটি ছেলের সাথে বিছানায় গিয়ে’ নামে যে বক্তব্যটি প্রচার করেছেন বলা হয়েছে, এমন কোনো বক্তব্য তার ফেসবুকে পাওয়া যায়নি। এ জন্য নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫ (১)ক, ২৯(১) ৩১(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

পরীমনির মাদক মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে, প্রতিবেদন শিগগিরই

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে বনানী থানায় করা মাদক মামলার তদন্তকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এ মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পরীমনির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ। এ সংক্রান্ত পুলিশ রিপোর্ট খুব দ্রুত আদালতে জমা দেওয়া হবে।

পুলিশ রিপোর্টটি চার্জশিট হিসেবে দাখিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি এখনই বলা যাবে না। পুলিশ রিপোর্ট যে কোনো কিছু হতে পারে। এটি চার্জশিট বা অন্য কিছুও হতে পারে।

গত ৪ আগস্ট বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। বাসা থেকে বিদেশি মদের খালি বোতল, বোতলভর্তি মদ, ইয়াবা, আইস ও এলএসডি জব্দ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক মামলা করে র্যাব। একই দিন র্যাব পরীমনির ঘনিষ্ঠজন ও প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার ও মাদক জব্দ করে। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়।

মাদক মামলায় পরীমনিকে তিন দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

বনানী থানায় পরীমনির বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন র‌্যাব ১-এর কর্মকর্তা মজিবর রহমান। এজাহারে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে, বনানীর একটি বাসায় পরীমনি সহযোগী আশরাফুল ইসলাম দীপুর মাধ্যমে বিদেশি মদ সংগ্রহ করে বাসায় সংরক্ষণে রেখেছেন। তার শয়নকক্ষের একটি কাঠের ফ্রেমের ভেতর থেকে ১৯ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। প্রতি বোতল মদের দাম ৯ হাজার টাকা। এ ছাড়া চার গ্রাম আইস ও একটি এলএসডি ব্লট উদ্ধার করা হয়। একই মামলায় কবির নামে আরেকজনকেও আসামি করা হয়।

প্রথমে মামলাটির তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

টানা ১২ মাসের বেশি বেতনভাতা বকেয়া থাকলে পৌরসভা বাতিল

যেসব পৌরসভা ঠিকমতো বেতনভাতা পরিশোধ করতে পারবে না, সেগুলোর পরিষদ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইনের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানেই নতুন ওই বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

সভাশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা একটানা ১২ মাসের বেশি বকেয়া থাকলে সেসব পৌরসভা বাতিল করা যাবে। তবে বর্তমানে ৮০ শতাংশ পৌরসভা নিজস্ব আয় থেকে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে বলে জানান তিনি।

আইনে বলা হয়েছে, দেশের পৌরসভাগুলোতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখনকার মতো অতিরিক্ত সময় থাকতে পারবেন না। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা না গেলে ছয় মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে সরকার। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কর্মকর্তা বা সরকার যদি কাউকে যোগ্য মনে করে, তা হলে তাদের প্রশাসক নিয়োগ করবে। এই ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আগের নির্বাচিতরাই পৌরসভা চালান। এতে বিভিন্ন ইস্যুতে মামলা করে কেউ কেউ ৮, ১০ বছর— এমনকি ১৬ বছর পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন। এ জন্য আইনটি সংশোধন করে ছয় মাসের প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করা হয়েছে ।

প্রসঙ্গত বর্তমানে সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের ব্যবস্থা আছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশোধিত আইন পাস হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ পদক্ষেপ নিয়ে যেখানে জটিলতা রয়েছে সেখানে প্রশাসক বসাবে। ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা পরিষদ আইনও সংশোধন করা হবে। এ ছাড়া পৌরসভার ‘সচিব’ পদ পরিবর্তন করে ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে আইনের খসড়ায়।

টুইটার অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে আদালতে ট্রাম্পের আবেদন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে ফ্লোরিডার ফেডারেল জজ আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন।

তিনি শুক্রবার আদালতে গিয়ে টুইটার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ইনজাংশন জারির অনুরোধ করেছেন। খবর সিবিএস নিউজের।

এ বছরের শুরুতে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে টুইটার কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছিল। গত ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের প্রাণঘাতী হামলার পর ওই হামলার প্রশংসা করে টুইটারে পোস্ট দিয়েছিলেন সাবেক এ প্রেসিডেন্ট। টুইটার বিষয়টিকে তাদের অনুসৃত নীতির মারাত্মক লঙ্ঘন বলে বিবেচনা করেছিল।

ক্যাপিটল হিলের হামলায় এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছিল। ট্রাম্পের সেই সময়কার ভূমিকায় ফেসবুকও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে।

‘ফিরে দেখা বৈশাখী মেলা’য় প্রবাসীদের ঢল

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও উৎসবে মেতে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। করোনায় ঘরবন্দি একগুয়েমিতা দূর করতে ভার্জিনিয়ার ম্যাসন ডিষ্ট্রিক্ট পার্কে আয়োজন করা হয় ‘ফিরে দেখা বৈশাখী মেলা’। স্থানীয় ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আয়োজনে বৃহস্পতিবার মেলায় নাচ গানে মেতে উঠে প্রবাসীরা।

ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির পরিচালক আবু রুমির পরিচালনায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠান এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন বিরতিতে প্রবাসীরা একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।

ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আয়োজনে এই প্রথম করোনা মহামারি পরবর্তী ফিরে দেখা বৈশাখ ‘বৈশাখী মেলা ১৪২৯’। মেলায় গান করেন নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসিসহ বাংলাদেশ হতে আগত শিল্পীরা।

দর্শক মাতানো গান পরিবেশন করেন নিউইয়র্ক হতে আগত শিল্পী শাহ মাহমুদ, আরজিন কামাল, কালা চাঁদ, ইশরাত চৌধুরী, সামিনা দেওয়ান। বাংলাদেশ হতে আগত মারিয়া মরিও ও মেট্রো বাউল শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে গানে গানে দর্শকও কণ্ঠ মিলিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

মেলায় শিল্পী রোজারিওর পরিচালনায় নৃত্যে দর্শকের মনে দোলা দেন আলি জাবেদ পালমা। নাচে আরো অংশ নেয় রুপান্তি এবং কাইনাত। জাকজমকপূর্ণ মেলায় মহসিমা রিমি ও তৌহিদুল ইসলাম এর সঞ্চলনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার।

ফিরে দেখা বৈশাখ অনুষ্ঠান থেকে অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় রোকেয়া হায়দার, সিমা খান, তমাল ঠাকুর, মহসিমা রিমি ও তৌহিদুল ইসলামকে। বিশাল এই অনুষ্ঠান সফল করতে আবু রুমির নেতৃত্বে যারা অগ্রভাগে ছিলেন, তারা হলেন, নুরুল আমিন, করিম সালাউদ্দিন, রোকসানা পারভিন, রবিউল ইসলাম শিশির, সামশুন চৌধুরী।
এছাড়াও নৃত্য পরিবেশনা করেছেন মেহদি জাহান ইশাল, আর্দি বড়ুয়া, মাহিব্বা হাসান নিয়েনটি। কোরিওগ্রাফি রোকেয়া হাসি, মারিয়া মরিয়ম, আর্জুন কামাল, অনিমা ডি-কস্টা। তবলায় ছিলেন আশিষ বড়ুয়া, নাল-আতিকুর রহমান, অক্টোপ্যাড-কেনি বিশ্বাস, কিবোর্ড-স্যামি, বাশি নাফি ফারহান, গিটার-শুভ হাসান, তুর্গো দাস ও ঢোলে ছিলেন মোহা. শফিক।

ওয়াজ হোক, আওয়াজ নয়

আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে ওয়াজ মাহফিলের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ওলামায়ে কেরামের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা আর কারিদের সুমধুর তিলাওয়াত ছাড়া শীতের মৌসুম যেন কল্পনাই করা যায় না।

এ সময়টাতে মাদ্রসার ছাত্র-শিক্ষকের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের মাঝেও এক ধরনের উচ্ছ্বাস বিরাজ করে। সাধ্যের সবটুকু উজাড় করে তারা আয়োজন করেন ওয়াজ মাহফিল। করোনার অযাচিত প্রাদুর্ভাব না থাকলে এ বছরও হয়তো শিগ্গির ওয়াজ মাহফিলের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে।

সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে ওয়াজ মাহফিলের ভূমিকা অপরিসীম। বাস্তবিক অর্থে প্রকৃত বক্তা বা আলোচকই পারেন হৃদয়ছোঁয়া কথামালার মাধ্যমে ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তুলতে। বিবেক জাগানিয়া আলোচনা করে ঝিমিয়ে পড়া সমাজকে প্রাণবন্ত করতে।

দীপ্তিময় ভাষণ দিয়ে হীনমন্য জাতির অন্তরে সাহসের সঞ্চার করতে। নিশ্চয়ই তারা পারেন, কুফুরের অন্ধকারে আচ্ছন্ন কলবে ইমানের আলো জ্বালতে। সুতরাং ওয়াজ মাহফিলের প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যিকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

যে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ কাজকে সার্থক ও ফলপ্রসূ করতে হলে যথাযথ নীতিমালার অনুসরণ অপরিহার্য। ওয়াজ মাহফিলও এর ব্যতিক্রম নয়। কেবল জমকালো আয়োজন আর বড় মাপের কালেকশনই সফলতার মানদণ্ড হতে পারে না।

মৌলিক লক্ষ্য সাধন করতে না পারলে বাহ্যিক আড়ম্বরের কোনো মূল্য থাকে না। জ্ঞানগর্ভ আলোচনার পরিবর্তে সুরসর্বস্ব আলোচনা দিয়ে সমাজ সংস্কার করা যায় না। এসব বিষয়ে লক্ষ রাখা মাহফিল কর্তৃপক্ষের জন্য একান্ত জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ার ফলোয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে আলোচকের মান যাচাই না করে ইলমি মাকাম ও আমলি মানের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

এ কথা সত্য যে, শারীরিক চিকিৎসায় যেমন মানসম্মত ডাক্তারের বিকল্প নেই তেমনি আত্মার চিকিৎসায়ও মুত্তাকি, পরহেজগার আলেমের বিকল্প নেই। হজরত মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রহ.) বলেন, নিশ্চয়ই কুরআন হাদিসের ইলম অর্জন করা দ্বীনের অংশ।

অতএব, যার কাছ থেকে দ্বীন অর্জন করবে তাকে পরখ করে নিও (মুকাদ্দামা মুসলিম)। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ইলমে দ্বীন অর্জনের আগে শিক্ষক নির্বাচন করা যেমন অপরিহার্য তেমনি ওয়াজ মাহফিলের আলোচকের ক্ষেত্রেও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের প্রতি লক্ষ রাখা আবশ্যকীয়।

একজন আলোচকের মাঝে যেসব বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয় তা হলো; ইলম, আমল, আকিদা, আদর্শ এবং চারিত্রিক গুণাবলি। আল্লাহ পাক নবী কারিম (সা.)কে সম্বোধন করে বলেন, বলে দিন, এটাই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীরা আল্লাহর পথে আহ্বান করি। পরিপূর্ণ ইলম ও বিশ্বাসের সঙ্গে। আল্লাহ পূতপবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই (সূরা ইউসুফ-১০৮)।

অন্যত্র এরশাদ করেন, কেন প্রতিটি সম্প্রদায় থেকে একদল লোক বের হয় না? যাতে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে স্বজাতির কাছে ফিরে এসে তাদেরকে সচেতন করে। যেন তারা বাঁচতে পারে (সূরা তাওবা-১২২)। ওই আয়াতদ্বয় থেকে প্রতীয়মান হয় যে, দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া ও ধর্মীয় আলোচনা করার আগে অবশ্যই উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন করে নিতে হবে। যেন আলোচক নিজেই তদসংশ্লিষ্ট সমূদয় আপত্তির সমাধান দিতে পারেন।

রাসূলে আকরাম (সা.) বলেন, আল্লাহতায়ালা বান্দার অন্তর থেকে সহসা ইলম ছিনিয়ে নেবেন না। বরং ওলামায়ে কেরামকে উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। অতঃপর এমন একটি সময় আসবে যখন প্রকৃত আলেম বলতে কেউ থাকবে না।

তখন লোকজন মূর্খ ব্যক্তিদের ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করবে। তাদের কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তারা মূর্খতাপূর্ণ ফতওয়া দিয়ে নিজেদের সঙ্গে সমাজেরও সর্বনাশ ঘটাবে (বুখারি, মুসলিম)। এ হাদিসে রাসূল (সা.) কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের দৃশ্যায়ন করতঃ জ্ঞানবহির্ভূত ফতওয়া প্রদানের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন।

এ থেকে বোঝা যায় যে, একজন আলোচক ও ধর্মীয় প্রদর্শকের জন্য দ্বীনের গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করা কতটা জরুরি। আমলের ব্যাপারে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন, তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের আদেশ দাও এবং নিজেদের বেলায় ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর?

তোমরা কি চিন্তা করো না? (সূরা বাকারা-৪৪)। অপর আয়াতে বলছেন, মুমিনগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা তোমরা কর না? তোমরা যা কর না তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক (সূরা সাফ-২,৩)।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, শেষ জামানায় একদল লোক বের হবে, যারা হবে বয়সে অল্প, বিদ্যায় অপরিপক্ব। তারা কুরআনের কথা বলবে কিন্তু এর প্রভাব নিজ কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না। (অর্থাৎ বাস্তব জীবনে এর ওপর আমল করবে না।) তারা দুনিয়াবাসীর মধ্যে সবচেয়ে চমৎকার চমৎকার কথা বলবে। অথচ ধনুক থেকে তীর ছোটার গতিতে তারা দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে (তিরমিযী)।

এ হাদিসে আমলহীন আলোচকের ব্যাপারে সতর্ক করার পাশাপাশি তাদের ভয়াবহ পরিণামের কথাও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং, দ্বীনি আলোচক নির্বাচনে অবশ্যই তার ফিকহি প্রজ্ঞার সঙ্গে সঙ্গে আমলি হালচাল জেনে নেওয়া আবশ্যকীয়।

আর চারিত্রিক সৌন্দর্য এমন একটি বিষয় যা ছাড়া কেউ ইসলামের প্রকৃত দাঈ বা মুবাল্লেগ হতে পারে না। ওয়াজ মাহফিলের আলোচকও প্রকৃতপক্ষে একজন দাঈ ও মুবাল্লেগ। বাস্তবিক অর্থে যিনি ওয়াজ-নসিহত করেন, হেদায়াতের কথা বলেন তিনি হলেন নবীওয়ালা কাজের উত্তরাধিকারী। সুতরাং অবশ্যই তাকে চারিত্রিক মাধুর্য ও আদর্শিক গুণাবলির অধিকারী হতে হবে।

রাসূল (সা.) বলেন, প্রশংসনীয় গুণাবলিতে পূর্ণতার রূপ দেওয়ার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি। হজরত মুয়ায (রা.) বর্ণনা করেন, আমি যখন উটের পাদানিতে পা রাখি তখন রাসূল (সা.) সর্বশেষ যে নসিহত করেছিলেন তা হলো, হে মুয়াজ! তুমি মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে (মুয়াত্তা মালেক)।

সুতরাং, কেউ নিজেকে রাসূলের অনুসারী ও উত্তরাধিকারী বলে দাবি করবে অথচ চারিত্রিক গুণাবলিতে তার আনুগত্য করবে না, তা হতে পারে না। সুতরাং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক চলাফেরায় সর্বত্র নববী আদর্শের বাস্তবায়ন অপরিহার্য।

আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণেও সতর্কতা কাম্য। এ ব্যাপারে হজরত আলী (রা.) বলেন, সাধারণ মানুষের সামনে এমন বিষয় আলোচনা করো যা তারা অনুধাবন করতে পারে। তোমরা কি চাও আল্লাহ ও তার রাসূল কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক? (বুখারি)।

অর্থাৎ এমন বিষয় আলোচনা করো যা তাদের ধারণক্ষমতার মধ্যে হয়। কেননা যদি তারা অনুধাবন করতে না পারে তাহলে আল্লাহ ও রাসূলকে অস্বীকার করে বসবে! এ ব্যাপারে হজরত ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন, তুমি যদি শ্রোতার ধারণক্ষমতার ঊর্ধ্বের কোনো বিষয় আলোচনা করো তাহলে তা ফিতনার কারণ হবে (মুসলিম)।

সারকথা হলো, ওয়াজ নসিহত করার ব্যাপারটি যেমন সম্মানজনক তেমন স্পর্শকাতরও। যে কেউ তা করতে পারে না। করা উচিতও নয়। সে জন্য নির্ধারিত নিয়মনীতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণাগুণ বাস্তবায়ন পূর্বক ওয়াজে অংশগ্রহণ করা জরুরি। তা না হলে হেদায়াতের পরিবর্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। অনাস্থা ও অবিশ্বাস জন্ম নেবে। সাধারণের সঙ্গে আলেমদের দূরত্ব বাড়তে থাকবে। যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। যদিও বিগত কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিল নিয়ে এক ধরনের নাটকীয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে।

যে মাহফিলগুলোয় ইলম ও আমলের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল সেখানে চলছে সার্কাসের অভিনয়। যেখান থেকে ইসলামি জাগরণ সৃষ্টি হওয়ার কথা সেখান থেকে বিদ্বেষ ও বিদ্রোহের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। যে বয়ান শুনে অমুসলিমরাও ইসলামের দিকে ধাবিত হওয়ার কথা ছিল সেই বয়ান কেবল বিদ্রুপেরই উদ্রেক করছে। তাই এ থেকে সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই।

আমাদের দেশে শীতকালীন ওয়াজ মাহফিলের সূচনা ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছে জানা নেই। তবে যে বা যারা যখন থেকেই শুরু করেছেন, নিশ্চয়ই সাধারণ জনগণের দ্বীনি উপকারের কথা বিবেচনা করেই শুরু করেছেন। ঢাউস কালেকশন বা প্রসিদ্ধি অর্জন তাদের লক্ষ্য ছিল না। ছিল না রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কোনো উদ্দেশ্য। তাই তো পূর্বেকার মাহফিলগুলোয় আলোচনা করতেন আত্মার চোখ খোলা ওলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দ্বীন ও ইলমের সাগরতুল্য ব্যক্তিবর্গ।

যাদের কথায় সাহিত্যের ঝংকার, সুরের মূর্ছনা বা ভরাট কণ্ঠের তর্জন গর্জন ছিল না। ছিল না কথায় কথায় মসনদ উলটিয়ে দেওয়ার হুমকিও। তারা কথা বলতেন সাদামাটা। ভাষা হতো মার্জিত, নম্র ও হৃদয়ছোঁয়া। দলাদলি, গালাগালি বা অহমিকা প্রদর্শন করতেন না। যা বলতেন ইখলাসের সঙ্গে বলতেন। ফলে তাদের বয়ান শুনে বেআমলিরা আমলি হতো। ইলমপিপাসুরা পিপাসা মেটাত। দ্বীনহীনরা পেত হেদায়াতের আলো।

দেখতে দেখতে সেই সময়টা হারিয়ে গেল। ওয়াজ হয়ে গেল নিরেট আওয়াজসর্বস্ব। মাহফিলগুলো রূপ নিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। বয়ানের পেছনে শোনা যেতে লাগল টাকা-পয়সার ঝনঝনানি। ইলম, আমল বা রুহানিইয়াত তো দূর কী বাত!! মাঠ জমাতে পারাই হয়ে গেল আলোচকের একমাত্র বৈশিষ্ট্য!!!

যার ফলে নবম, দশম শ্রেণি পাশ নাবালেগ ছোকরারাও দাওয়াত পেতে লাগল। অথচ সুর না থাকার দরুন শায়খুল হাদিস বা প্রধান মুফতি সাহেবও অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে লাগলেন।

প্রকৃত আলেমরা রয়ে গেলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। এ সময় কেবল বাকপটুতার যোগ্যতা বলে একদল আলেম নামধারী প্রবচকের উত্থান হয়। যাদের আলোচনার একমাত্র প্রতিপাদ্য ছিল মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা। নাটকীয় অঙ্গভঙ্গি করে বিনোদন দেওয়া। ফলে অল্প দিনের ব্যবধানে দ্বীনদরদি মানুষের অন্তরে ওয়াজ মাহফিলের আবেদন কমতে থকে।

পূর্বেকার মান-মর্যাদা হারিয়ে পরিণত হয় নিছক নাট্যমঞ্চে। সাম্প্রতিক সময়ে আলেমদের ওপর এক ট্র্যাজেডি বয়ে গেছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদিও অনেকের জন্য তা পীড়াদায়ক ছিল। তথাপি জাতীয় প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এর উপকারিতা কম নয়। নামসর্বস্ব ওয়ায়েজদের লাগামছাড়া কথাবার্তায় আবেগী তরুণদের অন্তরে বিদ্রোহাত্মক যে মনোভাব তৈরি হয়েছিল এখন তা থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে জাতি।

এখন প্রেক্ষাপট বদলেছে। এখনই সচেতন হই। ওয়াজের নামে আওয়াজ ব্যবসাকে না বলি। সত্যিকার ওলামায়ে কেরামরা যেভাবে এসব মাহফিলের সূচনা করেছিলেন তাকে আবারও সেই মানদণ্ডে উন্নিত করি। সর্বোপরি, ওয়াজকে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয় বরং আত্মসংশোধনের মাধ্যম মনে করি। তাহলে নিশ্চয়ই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ওলামায়ে কেরামের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তৈরি হবে আলেম সমাজ ও সাধারণ জনগণের মাঝে অভূতপূর্ব মেলবন্ধন।

মুকতাদি ইমামের সঙ্গে না, পরে সালাম ফেরাবে?

প্রশ্ন: ইমামের সঙ্গে নামাজ আদায়কারীরা নামাজ শেষে কখন কীভাবে সালাম ফেরাবে?

উত্তর: কোনো ব্যক্তি যখন নামাজে কারও পেছনে ইকতিদা (অনুসরণ) করে; তখন সে নামাজের আমলগুলো ইমামের অনুসরণে তথা তার পেছনে পেছনে করা ওয়াজিব। আগে করা মাকরুহে তাহরিমি। তবে সেটি ঠিক কীভাবে হবে; এ নিয়ে ফকিহদের বিভিন্ন মত রয়েছে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও তার সমমনা ফকিহদের মত হলো— ইমামের সঙ্গে সঙ্গে আমলগুলো আদায় করবে। অর্থাৎ ইমাম যখন কোনো আমল করতে শুরু করে, মুকতাদিও সেটি করতে শুরু করবে। এটিকে আরবিতে المتابعة علي وجه المقارنة বলা হয়।

পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামের মত হলো— সঙ্গে সঙ্গে নয়; বরং ইমাম যখন এ আমলে পৌঁছে যাবে, তার পর মুকতাদি আমলে যাওয়া শুরু করবে। এটিকে আরবিতে المتابعة علي وجه المعاقبة বলা হয়।

ফকিহদের এ মতবিরোধ মূলত এ সংক্রান্ত হাদিসগুলো ব্যাখ্যা ও সমন্বয়ে তারতম্যের কারণে হয়েছে। নিজস্ব মত থেকে নয়।

যেমন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) মনে করেন— হাদিসে বর্ণিত إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا،

হাদিসটিতে ‘ফা’ (ف) হরফটি তা’কিব তথা সঙ্গে সঙ্গে বা পর পরই আদায় করা বোঝানোর জন্য এসেছে। এখানে বিলম্ব করার সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ হাদিসটি ও তার তরজমা এমন— আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত: একদা রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘোড়ায় সওয়ার হন এবং ঘোড়ার পিঠ থেকে নিচে পড়ে গিয়ে তিনি ডান পাঁজরে ব্যথা পান। ফলে তিনি কোনো এক ওয়াক্তের নামাজ বসে আদায় করেন। আমরাও তার পেছনে বসে নামাজ আদায় করলাম।

নামাজ শেষে তিনি বললেন— ইমাম এ জন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন তার অনুসরণ করা হয়। ইমাম দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে তোমরাও তখন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে। ইমাম রুকু করলে তখন তোমরাও রুকু করবে। ইমাম মাথা উঠালে তোমরাও তখন মাথা উঠাবে।

আর ইমাম ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বললে তোমরা বলবে, ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’। আর ইমাম বসে নামাজ আদায় করলে তোমরা সবাই বসে নামাজ আদায় করবে। (সুনানে আবু দাউদ- হাদিস নং ৬০১, হাদিসটি সহিহ)

পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমাম নিম্নোক্ত হাদিসকে তাদের মতের পক্ষে দলিল হিসাবে উল্লেখ করেন: মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— আমার পূর্বে তোমরা রুকু ও সেজদা করবে না। আমি যখন তোমাদের পূর্বে রুকুতে যাব এবং তোমাদের পূর্বে (রুকু হতে) মাথা তুলব, তখন তোমরা আমার অনুসরণ করবে। কেননা আমি তো এখন কিছুটা ভারি (স্থুল) হয়ে গেছি। (সুনান আবু দাউদ: হাদিস নং- ৬১৯)

এ জন্য বহু সাহাবা (রা.) নবীজি যখন রুকুতে বা সিজদাতে পৌঁছে যেতেন; তখন তারা যথাক্রমে রুকু ও সেজদায় যেতেন।

এ হাদিসের ব্যাপারে হানাফি ফকিহদের ব্যাখ্যা হলো— এটি নবীজি (সা.) এক বিশেষ ওজরের কারণে বলেছেন; বৃদ্ধ বয়সে যখন তার শরীর মুবারক ভারি হয়ে গিয়েছিল, তিনি তখন ধীরে ধীরে নামাজের রুকনগুলো আদায় করতেন। যুবক ও শক্তিমানরা যেন তার আগে রুকু-সেজদা না করে ফেলে; সে জন্য তিনি তার সঙ্গে আমলে যেতে বারণ করেছেন।

তাদের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো— এ হাদিসে ইমামের আগে যেতে বারণ করা হয়েছে; সঙ্গে যেতে বারণ করা হয়নি। আর ইমামের আগে মুকতাদি যাওয়া কোনোভাবেই জায়েজ নয়, এ ব্যাপারে হানাফি ফকিহদের দ্বিমত নেই।

মোটকথা— ইমামের পেছনে পেছনে মুকতাদি রুকনগুলো আদায় করুক, অথবা পরে আদায় করুক উভয়টি সুন্নাহসম্মত।

প্রশ্নে বর্ণিত সালাম ফেরানোর মাসআলাটিও অনুরূপ। আপনি যদি ফিকহে হানাফি অনুসরণ করে থাকেন, তা হলে আপনি ইমামের পেছনে পেছনে সালাম ফেরাতে থাকবেন। যখন তিনি ডান দিকে সালাম ফেরাবেন, আপনিও সেদিকে সালাম ফেরাবেন । আর যখন তিনি বাম দিকে সালাম ফেরাবেন, তখন আপনি বাম দিকে সালাম ফেরাবেন।

কিন্তু আপনি যদি অন্য কোনো ফিকহের অনুসারী হন, তা হলে ইমাম সম্পূর্ণ সালাম শেষ করার পর আপনি সালাম ফেরাবেন। উভয় পদ্ধতিই সুন্নাহসম্মত। এ নিয়ে বিতর্ক করার কিছু নেই।

উল্লেখ্য, এ মতবিরোধটি কেবল মুস্তাহাব/সুন্নাত হওয়া নিয়ে। অর্থাৎ কোনটি উত্তম বা সুন্নাত; সেটি নিয়ে। কাজেই একটি সুন্নাতে জায়েদা নিয়ে ঝগড়াবিবাদ করে ফরজ নষ্ট করা কোনো মুমিনের শান হতে পারে না। এক মুসলমান অপর মুসলমানের সম্মান রক্ষা করা ফরজ।