বৃহস্পতিবার ,৩০ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 707

আবরার হত্যাকাণ্ডের ২ বছর, বুয়েটে দিনব্যাপী কর্মসূচি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল বুধবার।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে নৃশংসভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।

আবরারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছেন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, চিত্রপ্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, সংগীত, আবৃতি, পথনাট্য, বক্তৃতা, মানববন্ধন ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ।

বৃহস্পতিবার বুয়েটে শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজে (বুয়েটিয়ান) এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘আবরার ফাহাদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আজ সারাদিন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে।

অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে দুটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে আজকের আয়োজন।

প্রথম পর্বটি সকাল ১০টায় বুয়েট অডিটরিয়ামের সামনে থেকে শুরু হবে। এই পর্বে ইন্টারভিউ, লাইভ পেইন্টিং প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণ, সংগীত, আবৃতি, পথনাট্য, বক্তৃতা, মানববন্ধন ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করা হবে। বাদ আসর বুয়েট সেন্ট্রাল মসজিদে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে এই পর্বের সমাপ্তি হবে।

দ্বিতীয় পর্বটি অনলাইনে হবে। সেটি ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করা হবে। এতে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক, উপউপাচার্য, উপাচার্য ও শিক্ষকরা বক্তব্য দেবেন।

এ ছাড়া পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করতে বুয়েটের বিভিন্ন ক্লাব তাদের বিশেষ পরিবেশনা করবে।’

অপর এক ঘোষণায় ‘বুয়েটিয়ান’ পেজে বলা হয়, ‘আবরারের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাঁধন, বুয়েট জোনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাঁধন, বুয়েট জোন রক্তের প্রয়োজনে যোগাযোগ করবে। ঢাকা মেডিকেলসহ আশপাশের হাসপাতাল থেকে কোনো ব্লাডের জন্য খোঁজ এলে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতে হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

এর জের ধরে ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে গিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট তৈরি করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ।

এর পর ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামির মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষও সোচ্চার হন।

সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখনো বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। এখন এই মামলার বিচারে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে। আগামী ২০ অক্টোবর মামলায় পরবর্তী তারিখ রয়েছে।

১৯৯৮ সালের ১৩ মে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবরার ফাহাদ। আবরার প্রথমে কুষ্টিয়া মিশন স্কুল ও জেলা স্কুলে লেখাপড়া শেষ করে ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ তিনি বুয়েটে ভর্তি হন।

আরিয়ানের গ্রেফতার নিয়ে যা বললেন মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব

এনসিপি নেতা ও মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক বলেছেন, আসলে কোনো মাদকই পাওয়া যায়নি বলিউড অভিনেতা শাখরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খানের কাছে!

তিনি বলেন, মহারাষ্ট্র আর মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বদনাম করার জন্যই এসব করছে এনসিবি। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

তার মতে, এসবই ষড়যন্ত্র। তবে মালিকের সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি ও এনসিবি।

রীতিমতো তথ্যপ্রমাণ নিয়েই মাঠে নামলেন নবাব মালিক। সংবাদ সম্মেলনে বললেন, আটক হওয়ার পর আরিয়ান খান এবং তার সঙ্গী আরবাজ মার্চেন্টকে যে দুজন ধরে এনেছেন, তারা এনসিবির অফিসার নন। তাদের একজন বিজেপি কর্মী ও অন্যজন প্রাইভেট গোয়েন্দা।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আরিয়ানকে ধরে এনসিবি অফিসে নিয়ে আসছেন কে পি গোসাওয়ি। তিনি আরিয়ানের সঙ্গে সেলফি তুলে ইতোমধ্যে ভাইরাল।

এনসিবি তখনই জানিয়ে দেয়, এই গোসাওয়ি তাদের কর্মী নন। তা হলে কে? নবাব মালিক জানালেন, গোসাওয়ি হলেন প্রাইভেট গোয়েন্দা। আরবাজকে ধরেছিলেন মনিশ ভানুশালি। তিনি বিজেপি কর্মী।

অন্যদিকে এনসিবি জানিয়েছে, মনিশ ভানুশালি ও গোসাওয়ি প্রমোদতরী তল্লাশি অভিযানের অন্যতম সাক্ষী। মোট ৯ জন সাক্ষী ছিলেন সেখানে।

এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জ্ঞানেশ্বর সিং বললেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। কারও সমস্যা থাকলে তিনি আদালতে যেতে পারেন।

দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে প্রিয়াংকা গোপ

মৌলিক গানে কণ্ঠ দিয়ে এরইমধ্যে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছেন সংগীত শিল্পী প্রিয়াংকা গোপ। সারা বছর গানে কণ্ঠ দেওয়ার কাজ করলেও বিশেষ উৎসব আয়োজনে রয়েছে আলাদা ব্যস্ততা।

এবারের দুর্গাপূজা উপলক্ষেও তিনি গান নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। পূজায় তার প্রথম কাজটি ছিল বিটিভির। মহালয়া উপলক্ষে তিনি গেয়েছেন ‘শারদ প্রাতে’ নামের বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে। এছাড়া বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলোতেও রয়েছে তার গানের পরিবেশনা। সব মিলিয়ে এবারের পূজায় গান নিয়ে সরব রয়েছেন এই সংগীত শিল্পী।

এ প্রসঙ্গে প্রিয়াংকা গোপ বলেন, সারা বছরই গানের কাজে ব্যস্ত থাকি। তবে উৎসব এলে সেই ব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া মনে আনন্দও কাজ করে। এবারো করোনাকালে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। যতটুকু সম্ভব সচেতন হয়েই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাইছি। আশা করছি সবাই যেন করোনাভাইরাসসহ অন্যান্য বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদে থাকেন।

বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন মালদ্বীপের কোচ

এক জয় ও এক ড্রয়ে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ছয় পয়েন্ট নিয়ে নেপাল শীর্ষে। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ দুবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন স্বাগতিক মালদ্বীপের মুখোমুখি বাংলাদেশ।

মালের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে আজকের হাইভোল্টেজ ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়।

ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ থেকে ৩১ ধাপ এগিয়ে মালদ্বীপ। তা ছাড়া নিজেদের চেনা মাঠে খেলছেন তারা। তাই ম্যাচে ফেভারিট হিসেবেই নামবেন তারা।

তবে এবারের সাফে শ্রীলংকাকে হারিয়ে শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে ১০ জনের দল নিয়েও ভারতকে রুখে দিয়েছে। তাই বাংলাদেশকে কোনোমতেই হালকাভাবে নিতে নারাজ মালদ্বীপের কোচ সুজাইন আলি।

অস্কার ব্রুজোনের দলকে ভিন্ন চোখে দেখছেন সুজাইন আলি। বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করতে গিয়ে অবশ্য বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের কথাই বললেন তিনি।

বললেন, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশ ভালো দল। প্রায় একটা দল থেকেই তাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় এসেছে। কোচও বসুন্ধরা কিংসের। সেখানকার ৯ জন খেলোয়াড় আছে বাংলাদেশ দলে, যারা এখানে এএফসি কাপ খেলেছে। এই ভেন্যুতে তারা যখন খেলতে নামবে, তখন এটা তাদের কাছে মোটেও নতুন নয়। এই টুর্নামেন্টও তাদের কাছে নতুন নয়।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিওবার্তায় এসব কথা বলেন মালদ্বীপের কোচ।

জামাল ভূঁইয়াদের প্রশংসায় তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ দিনের মধ্যে দুই ম্যাচ খেলায় তাদের মধ্যে কিছুটা ক্লান্তি থাকতে পারে কিন্তু এ মুহূর্তে ফলের দিক থেকে তারা দারুণ অনুপ্রাণিত হয়ে আছে। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে ড্রয়ের পর। তারা ভীষণ পরিশ্রম করেছে। ভারতের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়ার কারণও এই পরিশ্রম। প্রথম ম্যাচের পর আমরা বেশি বিশ্রাম পেয়েছি কিন্তু তাই বলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে না।’

মেসির সঙ্গে খেলা দারুণ উপভোগ করি: এমবাপ্পে

লিওনেল মেসির সতীর্থ হতে চান না এমন ফুটবলার পৃথিবীতে নেই বললেই চলে। কিন্তু একজন আছেন, যিনি মেসির সঙ্গে খেলতে চান না।

গুঞ্জন রয়েছে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) মেসির আগমনে অসন্তুষ্ট এমবাপ্পে। পিএসজিতে আর্জেন্টাইন তারকার যোগদানের পর ক্লাবই ছেড়ে দিতে চাইছেন তিনি। নিজেকে মেসির মতো মহাতারকার ছায়ায় হারিয়ে ফেলবেন এমন শঙ্কা রয়েছে।

পিএসজির ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের কথা বলা হচ্ছে তা সবারই জানা। কারণ নতুন চুক্তিতে আগ্রহ না দেখিয়ে ইতোমধ্যে পিএসজি ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছেন এমবাপ্পে। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদও মুখিয়ে আছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে দলে ভেড়াতে।

তবে সেসব ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিলেন ফরাসি এ তারকা। বললেন, ‘মেসির সঙ্গে খেলা দারুণ উপভোগ করেন তিনি।’

ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম আরএমসি স্পোর্টকে সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মেসির প্রশংসা করে এমনটিই জানালেন এমবাপ্পে।

ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলারের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন বিশ্বকাপজয়ী তারকা।

বললেন, ‘মেসির সঙ্গে খেলা খুব সহজ। তিনি ফুটবল খুব ভালো বোঝেন, সবসময় জানেন কী করতে হবে। যদি তাকে ড্রিবল করে সবাইকে কাটিয়ে একটি গোল করতে হয়, তিনি তাই করবেন। আবার যদি এক ছোঁয়াতেই করতে হয়, তাও তিনি করবেন। তিনি সবার সেরা না হলেও অবশ্যই সেরাদের একজন।’

তবে কি পিএসজি ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যোগদানের ইচ্ছার গুঞ্জনটি গুজব ছিল।

এমবাপ্পে স্বীকার করলেন- না, গুজব না, কথাটা সত্যি ছিল। কিন্তু ফুটবলে সিদ্ধান্ত বদলাতে সময় লাগে না বলেও জানান তিনি।

বললেন, ‘গতকালের সত্য আজ বা আগামীকালের সত্য নাও হতে পারে। আমি গ্রীষ্মে চলে যেতে চেয়েছিলাম। আমি আসলে দলবদলের নিয়মিত গুঞ্জন নিয়ে মানুষকে বিরক্ত করতে চাই না। আমি সবসময় বলেছি— ফুটবলে কী হতে পারে তা কেউ জানে না। ছয় মাস আগে আমি জানতাম না যে আমি চলে যেতে চাইব। আমি গ্রীষ্মে (চলে যাওয়ার) সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং এর পর থেকে চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।’

নতুন বিনিয়োগ টানতে পৃথক আইন নয়

নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ই-কর্মাস নিয়ন্ত্রণে পৃথক আইন করবে না সরকার। আইন হলে নানা বিধি-বিধানের ধারায় আটকে উৎসাহ হারাতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়নে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।

এছাড়া সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচারও নতুন আইনে হবে না। মাঝখানে সম্ভাবনাময় এ খাত শুরুতেই স্থবির হয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। এছাড়া গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের অপরাধের দায়ে এ খাতকে বন্ধ করা হবে না। কয়েক লাখ মানুষ জড়িয়ে পড়েছেন ই-কমার্সে। যে কারণে ই-কর্মাস আইন প্রণয়ন থেকে সরকার সরে আসছে।

বিদ্যমান আইনগুলো সংস্কার করেই আগামীতে এ খাত নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন এটি করা সম্ভব। সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বিদ্যমান আইনগুলো সংস্কার করে ই-কমার্সকে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে সরকার গঠিত কমিটি। এ কমিটি জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ও আইসিটি অ্যাক্ট পর্যালোচনা করেছে।

জানতে চাইলে ব্যারিস্টার ড. স্বাধীন মালিক যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো নতুন আইন করা একটি সমস্যা বটে। শুধু আইন করলে হবে না এটি কার্যকর থাকতে হবে। দেশে ২ হাজার ৬০০ আইন রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি আইনে সব মামলা হচ্ছে। ই-কমার্স খাতে প্রতারণা বন্ধ করতে বিদ্যমান আইনে কয়েকটি শব্দ যোগ করে সংশোধন এনে করা সম্ভব।

ফৌজদারি দণ্ডবিধি ৪২০ চিটিং এটি সবাই জানি। এখানে নতুন কয়েকটি শব্দ যুক্ত করলে হবে। সেখানে যুক্ত করা যেতে পারে যেমন-এমএলএম ও ই-কমার্সের মাধ্যমে কাউকে ঠকালে এ আইনের আওতায় পড়বে। আরও সংযুক্ত করা যেতে পারে-ডিজিটাইল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কেউ হ্যাংকিং করলেও এ আইনে অন্তর্ভুক্ত হবে। অর্থাৎ ই-কমার্সের অপরাধগুলো বিদ্যমান আইনে দু-একটি ধারার মাধ্যমে যুক্ত করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, নতুন আইন করলেও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ই-কমার্স খাতে অপরাধ ওই আইনে বিচার হবে না। বিদ্যমান আইনে বিচার হবে।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে দেশে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের অনুমতি দেয়। এরপর গত এক দশকে ই-কমার্স খাতে ব্যবসার গণ্ডি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও পৌঁছে গেছে। বর্তমানে দেশে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ ই-কমার্স সাইট রয়েছে। ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগ রয়েছে দেড় লাখের বেশি। অনলাইনে ব্যবসার ৮০ শতাংশই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুরকেন্দ্রিক। তবে করোনায় খাতটি দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্যমতে, দেশে ই-কমার্স খাতের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ। খাতটির আকার ৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সাল নাগাদ এ খাতের আকার ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে এমন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সম্প্রতি বলেছেন এরই মধ্যে ওই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার যুগান্তরকে বলেন, আমরা পৃথক আইন না করার প্রস্তাব দিয়েছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। কারণ আলাদা কর্তৃপক্ষ ও আইন করলে ই-কমার্স খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এ খাতে নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন। তাদের বাধা দিলে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এজন্য বিদ্যমান আইনগুলো সংস্কার করেই এ খাত পরিচালনা করা সম্ভব। আইনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা কোন জায়গায় ঠিক করার দরকার। হয়তো দীর্ঘ মেয়াদে এ খাতে আইনের প্রয়োজন হবে।

বাজারে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটি চলছে দেওয়ানি আইনের ওপর। ফলে বাজারে কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল আইনে ব্যবস্থা নিতে পারে না। ই-কমার্সের অনিয়মের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুদ্র পরিসরে কাজ করছে। ইভ্যালির বিরুদ্ধে এ প্রতিষ্ঠান মামলা করেছে। কিন্তু ওই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেও আর্থিক দণ্ড ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। এখন নতুন করে আইনটি সংশোধনের প্রস্তাব উঠেছে। এ আইন সংশোধন করে ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রতিযোগী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে-২০১২ সালে। ওই সময় ই-কমার্সের প্রচলন ছিল না। এখন ই-কমার্সে লেনদেন হচ্ছে। ফলে অলনাইন এবং অফলাইন ব্যবস্থায় একটা পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা নেই। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বাজারে প্রতিযোগিতা পরিবেশ নষ্ট করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হয় তাহলে আগামীতে ই-কমার্সের লেনদেনে প্রতারণা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

জানা গেছে, ই-কমার্সের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার প্রতিরোধে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মানি লন্ডারিং আইন ও কোম্পানি আইন সংশোধন করে ই-কমার্সকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদ্যমান আইনে ই-কমার্সের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার খুব বেশি কাভার করে না। সেজন্য আইনটি যুগোপযোগী করা হবে। জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ই-কমার্স সেলের প্রধান মো. হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হলে সেটি দেওয়া হবে। তবে আইনটি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করছে।

 

সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ইতিবাচক ধারায় চলছে লেনদেন।

সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার ডিএসই ও সিএসইসূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইয়ের সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ১৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৩৬৪ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৬০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৭৮৯ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২১৭টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১০৭টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৬৪ পয়েন্ট বেড়ে ২১ হাজার ৫৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পটুয়াখালীর নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুন

পটুয়াখালী শহরে নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুনে অন্তত ৮০ দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে নিউমার্কেট এলাকায় এ আগুনের সূত্রপাত হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক এবিএম মোন্তাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে নিউমার্কেট এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়।

এতে মুদি-মনোহারি, হার্ডওয়্যার, ক্রোকারিজ, স্টেশনারিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান, চালের আড়ৎ এবং অন্যান্য ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানসহ ৮০ দোকার পুড়ে ছাই হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ইজিবাইকে যাত্রী, মিষ্টি খাইয়ে অজ্ঞান করে ছিনতাইচেষ্টা

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ইজিবাইকে যাত্রী সেজে ওঠেন দুজন। এর পর চালককে মিষ্টি খাইয়ে অজ্ঞান করে কুমার নদের পাড়ে ফেলে রেখে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় ইজিবাইকসহ ছিনতাই চক্রের এক নারী সদস্যসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার টেকেরহাট বন্দর থেকে ওই দুজনকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আটক ছিনতাইকারীরা হলো— রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামের মামুনের স্ত্রী শারমিন আক্তার ও মাগুরা জেলা সদরের হাজরাপুর গ্রামের রওশন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৬)।

ইজিবাইকচালক সোহান শেখকে (২০) গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাগুরা সদরের হাজরাপুর গ্রামের হৃদয় নামে এক ব্যক্তি স্ত্রী পরিচয় দিয়ে শারমিনকে নিয়ে রাজৈর উপজেলার চরমস্তফাপুর এলাকা থেকে ইজিবাইক ভাড়া করে টেকেরহাটের দিকে রওনা হয়।

পথিমধ্যে চালক সোহান তালুকদারকে মিষ্টি খাইয়ে অজ্ঞান করে কুমার নদের পাড়ে ফেলে দিয়ে হৃদয় নিজে ইজিবাইক চালিয়ে টেকেরহাটের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জনতা টের পেয়ে ধাওয়া করে হৃদয় ও শারমিনকে ইজিবাইকসহ আটক করে।

পরে জনতা হৃদয়কে গণপিটুনি দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় এবং শারমিন আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গণপিটুনি থেকে রক্ষা পায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে আটক করে।

ইজিবাইকচালক সোহান শেখকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রাজৈর থানার এসআই মীর নাজমুল হোসেন জানান, আটক ছিনতাইকারী নারীসহ দুজনকে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞআদালতে পাঠানো হয়।

বিএনপি এক নেতা এক পদ কার্যকরে কঠোর

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ‘এক নেতা এক পদ’ কার্যকরে আবারও কঠোর অবস্থানে বিএনপি। শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ বিধান কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। একাধিক পদধারী নেতাদের তালিকা করা হচ্ছে।

একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দিতে শিগগিরই তাদের চিঠি দেওয়া হবে। এ নিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা কাজ শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারার বিশেষ বিধান ‘এক নেতা এক পদ’ যুক্ত করা হয়। গঠনতন্ত্রের ১৫-এর ‘ক’ ও ‘খ’ উপধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের কমিটির শীর্ষ দুই পদে থাকতে পারবেন না।

স্থায়ী কমিটি বা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের কোনো সদস্য, জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক অন্য কোনো পদে থাকতে পারবেন না। তবে অনিবার্য কারণে দলের চেয়ারম্যান সাময়িকভাবে ব্যতিক্রম অনুমোদন করতে পারবেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স যুগান্তরকে বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত এখন থেকে একজন নেতা একাধিক পদে থাকতে পারবেন না। এটি কার্যকর হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক পদধারী নেতাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র মেনে সর্বশেষ কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর আগে মহানগরের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার একদিন পরই ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু তাদের আগের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

আমিনুল ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এবং মজনু ছিলেন যুবদল দক্ষিণের সভাপতি। তারেক রহমানের নির্দেশে তারা পদত্যাগ করেন। তবে মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম উভয়েই দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদেরও পদত্যাগ করার কথা। তাদের মতো আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন। তারা আবার জেলা কমিটির শীর্ষ পদে আছেন। কিন্তু এ নিয়ে দলের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নির্বাহী কমিটির কোনো পদ নয়। সেজন্য উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে না।

এছাড়াও গঠনতন্ত্র মেনে মহাসচিব হওয়ার পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কৃষক দল ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির পদ ছেড়ে দেন। কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ রেখে নোয়াখালী জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দেন মো. শাহজাহান। যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছেড়ে দেন যুবদলের সভাপতি পদ। সাংগঠনিক সম্পাদক পদ ছেড়ে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি হন (বর্তমান আহ্বায়ক) ডা. শাহাদাত হোসেন।

এরকম আরও কয়েকজন নেতা নিজ থেকেই একাধিক পদ ছেড়ে দেন। তবে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মজিবুর রহমান সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু মহানগর ও জেলার শীর্ষ পদে এখনো আছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আরও বেশ কয়েকজন নেতা একাধিক পদে রয়েছেন। এসব নেতা বারবার এক পদ রেখে অন্য পদগুলো ছেড়ে দিতে নির্দেশ দেওয়ার পরও তা মানেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিশেষ বিধান এক নেতার এক পদ যুক্ত করা হয়। এতে আরও যোগ্যরা যোগ্য জায়গায় স্থান পাবেন, দল উপকৃত হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চিন্তাভাবনা দলকে এগিয়ে নেওয়ার। সেভাবেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, যেসব নেতা দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন, তাদের উচিত একটি রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেওয়া। এতে দল আরও বেশি গতিশীল হবে, শক্তিশালী হবে।

সূত্র জানায়, এর আগেও একবার এই বিশেষ বিধান কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন একাধিক পদধারী ৪১ নেতার তালিকা হয়। তাদের একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেওয়ার কথা লিখিতভাবে বলা হয়েছিল। বেশ কয়েকজন সেই নির্দেশনা মেনেছিলেন।

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান জানান, চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার আগে ৩০ জনের মতো নেতা এক পদ রেখে বাকি পদ থেকে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তরে। পরে তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। তবে দলের নয়াপল্টনের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পদত্যাগপত্র জমা পড়া ওইসব পদে অন্য কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় পদত্যাগীরা এখনো সেই পদগুলো ব্যবহার করছেন। এতে এক ধরনের বিভ্রান্ত তৈরি হয়েছে।

বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, ‘এক নেতা এক পদ’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতিও রয়েছে। সম্প্রতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীকে সহসভাপতি করা হয়েছে। অথচ কৃষক দলের এই কমিটির সভাপতি যাকে করা হয়েছে তিনি তাদের চেয়ে অনেক জুনিয়র।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে একজন জুনিয়রের নিচে পদ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও বিএনপিতে আলোচনা হচ্ছে। আবার খান রবিউল আলম রবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় তাকে ঢাকা মহানগরের কমিটিতে রাখা হয়নি। অথচ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটিতে বেশ কয়েকজন নেতা আছেন যারা নির্বাহী কমিটিরও সদস্য। আবার আগস্টে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সদস্য সচিব করা হয়েছে কামরুজ্জামান রতনকে। অথচ তিনি দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদকও।