সোমবার ,৪ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 695

কুমিল্লার ঘটনায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিন্দা

কুমিল্লার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান শাইখুল হাদীছ আল্লামা কাজী মুঈনুদ্দীন আশরাফী ও মহাসচিব আল্লামা সৈয়দ মছিহুদৌল্লাহ এক যুক্ত বিবৃতিতে এই নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিদ্যমান ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা এ ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ ও প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

বিবৃতিতে তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে যেন শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট না হয়, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সর্বস্তরের মানুষদের প্রতি সেই আহ্বান জানান

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে উদ্দেশ্যমূলক এ ঘটনা: ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে উদ্দেশ্যমূলক কুমিল্লার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসাইন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

ইসমাইল হোসাইন বলেন, ‘গতকাল কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা নাটক, ষড়যন্ত্র ও দেশের ভেতরে অশান্তি করার জন্য হয়েছে। দেশের ভেতরে কয়েকদিন আগে হেফাজত তাণ্ডব চালিয়েছিল। আরেকটি তাণ্ডব চালাতে এটি ঘটানো হয়েছে ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সরকারকে বিপদে ফেলতে, দেশে অশান্তি তৈরি করতে এটি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রেখে একে অপরের বিপদাপদে এগিয়ে আসাই আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলাম ও রাসুলের (সা.) শিক্ষা। বিদায় হজের ভাষণে মহানবীর (সা.) সুস্পষ্ট ঘোষণা ছিল- মানুষের সঙ্গে মানুষের মাতৃতুল্য সহবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা অশান্তি সৃষ্টি করতে কঠোরভাবে বারণ করে গেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু-মুসলিমসহ সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছিল বলেই আমরা পেয়েছি এই সোনার বাংলা। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলিত রক্তস্রোতের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

কুমিল্লায় ঘটে যাওয়া অপ্রত্যাশিত ঘটনা সম্পর্কে মাওলানা ইসমাইল হোসাইন বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দোসররাই কুমিল্লার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এরা অতীতেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও ফটোশপের মাধ্যমে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। যাদের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে তাদের চিহ্নিত করে, অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ভারত পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে ক্ষুধার্ত কম

ক্ষুধা মেটানোর সক্ষমতায় ভারত পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্ব ক্ষুধা সূচক ২০২১ এ এমন তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই সূচকে দেখা যায় ১১৬ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৭৬, পাকিস্তান ৯২ ও ভারত ১০১ নম্বর অবস্থানে রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নেপালও বাংলাদেশের সমানসংখ্যক ৭৬ পয়েন্ট পেয়েছে। এদিকে, ২০৩০-এর ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের লক্ষ্য থেকে ছিটকে পড়েছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ-সংঘাত, করোনা মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অবস্থা হয়েছে। দ্য হিন্দু, ডয়েচে ভেলে।

গত বছর, শিশু মৃত্যুর হারে ভারত ছিল সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে। শিশু মৃত্যু হলো এমন একটি অবস্থা তীব্র অপুষ্টিকে প্রতিফলিত করে।

ক্ষুধা সূচকে ভারতের পেছনে মাত্র ১৫ দেশ রয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই আফ্রিকার দরিদ্র দেশ। ভারতে পেছনে থাকা দেশগুলো হলো-পাপুয়া নিউগিনি, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া, কঙ্গো, মোজাম্বিক, সিয়েরা লিওন, পূর্ব তিমুর, হাইতি, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, গণতান্ত্রিক কঙ্গে প্রজাতন্ত্র, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ইয়েমেন ও সোমালিয়া।

গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) জানিয়েছে, বিশ্বের ৪৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে কম ক্ষুধা সূচক ইনডেক্স উত্তরণে ব্যর্থ হবে।

এ ইনডেক্সে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ সোমালিয়া। জিএইচআইতে এ দেশটির পয়েন্ট খুব কম, যা উদ্বেগজনক। আরও ৫টি দেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

সে দেশগুলো হলো-গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, মাদাগাস্কার ও ইয়েমেন। জিএইচআই একাধিক সংকটের মোকাবিলায় বিশ্বে ক্ষুধা পরিস্থিতির দিকে নির্দেশ করে।

২০৩০ সালের মধ্যে জিরো হাঙ্গারের দিকে অগ্রগতির লক্ষ থাকলেও এটা ইতোমধ্যেই অনেক ধীর, স্থবির বা এমনকি বিপরীত হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে।

২০২০ সালের বিশ্ব ক্ষুধাসূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৭৫তম। ২০১৯ সালে একই সূচকে ১১৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৮৮। এ সূচকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ছিল ৮৬তম।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষুধা বাড়ছে : বছরের পর বছর চিন্তাভাবনার পর ২০১৫ সালে জাতিসংঘ একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করে।

এ লক্ষ্য অনুযায়ী অপুষ্টির সংখ্যা কমিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়। কিন্তু যুদ্ধ-সংঘাত, করোনা মহামারি ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ২০৩০ সালে লক্ষ্যকে অর্জনযোগ্য বলে মনে করেছিল। কিন্তু সেটা এখন আর সম্ভব নয়। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সেও বিষয়টি উঠে এসেছে।

বেসরকারি সংস্থা ওয়েলথহাঙ্গার লাইফ ও কনসার্ন ওয়ার্লল্ড ওয়াইড জানিয়েছে, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক পতনের কারণে সারা বিশ্বে অনেক মানুষ নতুন করে ক্ষুধার্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা যায়, গত বছর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়নি এমন মানুষের সংখ্যা ৩২ কোটি থেকে বেড়ে ২৪০ কোটি হয়েছে, যা বিশ্বের জনসংখ্যায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এ বৃদ্ধি আগের পাঁচ বছরের সমান।

২৪-৩০ ডিসেম্বর চলবে মানুষ গণনা

অবশেষে নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১ প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের। আগামী ২৩ ডিসেম্বরকে শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ২৪-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সব মানুষকেই আনা হবে গণনার আওতায়। একে বলা হচ্ছে শুমারি সপ্তাহ। এবার পুরো প্রক্রিয়াই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এর আগে গত ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর এ কার্যক্রম চলার কথা ছিল।

কিন্তু করোনা মহামারি এবং ট্যাব কেনায় দেরি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। নতুন তারিখটি নির্ধারণ করতে প্রস্তাব পাঠানো হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে এলেই এটি ঘোষণা দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনশুমারি। ফলে ব্যয় কিছুটা কম হবে। তবে এই পদ্ধতির জন্য ট্যাব কেনায় কিছুটা জটিলতার সৃৃষ্টি হয়। ফলে একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে এই জটিলতায় শুমারির মূল কাজ পিছিয়ে যায়। তবে এখন ট্যাব কেনার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে। আশা করছি নতুন সময়সূচি নির্ধারণ হলে এর মধ্যেই গণনার কার্যক্রম শেষ করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্ট এই প্রকল্পের আওতায় ‘ট্যাবলেট ফর ক্যাপি (কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং) ফর মেইন সেন্সাস’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে।

মাঠপর্যায়ে জনশুমারির তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রকল্পটির আওতায় তিন লাখ ৯৫ হাজার ট্যাবলেট কেনার জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। এ ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া ক্রুটির কথা বলে প্রস্তাবটি ফেরত দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জনশুমারি গৃহগণনা (সাবেক আদম শুমারি) প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রতি ১০ বছর পরপর দেশের প্রতিটি মানুষকে গণনার আওতায় আনা হয়। ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক অনুমোদন পায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর।

এটির মোট ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। প্রকল্পটির শুরু থেকে গত ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৬ দশমিক ২২ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২২ শতাংশ। এই পর্যায়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এই সংশোধনীতে মোট ২১ খাতের ব্যয়ের মধ্যে ১৭টির ব্যয় যুক্তিসঙ্গতভাবে কমানো হয়।

বাকি তিনটি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পায়। একটি খাতে ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। এবারের জনশুমারি ও গৃহগণনা চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এগুলো হলো পর্যায়-১, এর আওতায় শুমারির ব্লক এলাকা প্রণয়ন, জিআইএস পদ্ধতি ব্যবহার করে দেশের সব এলাকা ম্যাপ ও জিও কোডের আওতায় স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায় ২-এর আওতায় শুমারি পরিচালনা দেশের সব খানা (পরিবার), ব্যক্তি এবং আবাসন ইউনিট গণনা করা হচ্ছে।

পর্যায়-৩ এর আওতায় শুমারি পরবর্তী জরিপ পরিচালনা শুমারির গুণগত মান পরিমাপ করা। পর্যায়-৪ এর আওতায় আর্থ-সামাজিক ও জনমিতিক জরিপ পরিচালনা খানা ও জনসংখ্যা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরু ২১ অক্টোবর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) দীর্ঘ ১৮ মাস পর ২১ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. মুহসিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২১ অক্টোবর থেকে সশরীরে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হবে। শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে উপস্থিত হতে হবে।

জানা গেছে, করোনা মহামারি সামলিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম এক ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা হলে উঠেছেন।

শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হলে ওঠার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে। তবে ক্লাস কার্যক্রমে ভ্যাকসিন গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি।

লুৎফর-সিঁথির প্রথম গান ‘কেমন আছো বন্ধু তুমি’

ঘুড়িখ্যাত কণ্ঠশিল্পী লুৎফর হাসানের সঙ্গে নতুন গান নিয়ে আসছেন শিস বালিকাখ্যাত গায়িকা অবন্তী সিঁথি। কিছুদিন আগে এই গানের অডিও-ভিডিও সম্পন্ন হয়েছে। গানের কথা ও সুর শিল্পী লুৎফর হাসানের। সঙ্গীতায়োজন করেছেন আমজাদ হোসেন। গানটির ভিডিও পরিচালনা করেছেন শান সায়েক।

এ গান প্রসঙ্গে লুৎফর হাসান বলেন, দুই সংসারের দুই অসুখী মানুষের হাহাকারের গল্প নিয়ে এই গান। এমন অনেকেই কিংবা প্রায় সবাই এই গোপন ব্যথায় আক্রান্ত, তার মনের মানুষের সঙ্গে হয়ত তার সংসার হয়নি। পৃথক বসবাসের ব্যাকুলতা উঠে এসেছে গানের কথায়। সুরেও রয়েছে সেই বিরহের উপাদান।

অবন্তী সিঁথি এর আগে লুৎফর হাসানের কথায় বিচ্ছিন্নভাবে গাইলেও দ্বৈত গানে এবারই প্রথম। শান সায়েক কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকলেও ভিডিও নির্মাতা হিসেবে যাত্রা শুরু তার এই গানের মাধ্যমেই।

নতুন এ গানটি লুৎফর হাসানের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে অল্প সময়ের মধ্যেই।

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত হয়েছে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা’। এটি পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানের প্রফেসর ড. হানিফ সিদ্দিকী।

সম্প্রতি এই অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ইউটিউব লিংকটি ওপেন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবু রহমানের সঙ্গে আছেন তার মা-বাবা, সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শিশু শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশু রাসেল, জাতীয় চার নেতা, মওলানা ভাসানী, শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুক হক, তোফায়েল আহমেদসহ বেশ কিছু ঐতিহাসিক চরিত্র।

১ ঘণ্টা ৩২ মিনিটের অ্যানিমেশনটিতে উঠে এসেছে শেখ মুজিবুর রহমানের ছেলেবেলা, বাংলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক, গড়ে উঠা, তার মন ও চারপাশের জগতের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মতো বিষয়গুলো।

চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে আগামীল্যাবস। প্রযোজনা সংস্থা জানিয়েছে আগামী প্রজন্ম তথা আজকের শিশু-কিশোর-তরুণসহ সবার কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শন অ্যানিমেশনের মাধ্যমে সহজে উপস্থাপন করাটাই এ চলচ্চিত্রের মূল লক্ষ্য।
অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের ড. হানিফ সিদ্দিকী জানান, এই চলচিত্রটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার “শেখ মুজিব আমার পিতা’’ বইসহ জাতীয় পাঠ্যপুস্তকের অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।

গত বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রটির প্রথম ২২ মিনিট প্রচার হয় একুশে টিভিতে। সেটিরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৭ মার্চ প্রচার হয় আরও ৪০ মিনিট।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুত হয়ে যাবে বাংলাদেশ দল

টি ২০ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ মাঠে নামবে রোববার। তার আগে আজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামীকাল আবুধাবি থেকে আবার ওমানে ফিরবেন মাহমুদউল্লাহরা। শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও বিশ্বকাপের আগে দল পুরো প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে ধারণা প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের।

বুধবার তিনি বলেন, ‘ভালো প্রস্তুতির জন্য আমরা আগেভাগে ওমানে দল পাঠিয়েছি। সব কিছু ঠিকঠাক চলছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, দল ১৫ তারিখের আগে ভালো অবস্থায় চলে আসবে। আমরা ১৭ তারিখে আমাদের মিশন ভালোভাবে শুরু করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে অনেক কিছু দেখা হয়। আমরা ভালো সুযোগ পেয়েছি। পরপর ম্যাচ খেলছি। এত বেশি ম্যাচ সব সময় পাওয়া যায় না। এখন প্রয়োগ করতে পারলেই ভালো।’ তিনি বলেন, ‘ভালো করতে হলে টি ২০ ক্রিকেটে সবাইকে ভালো খেলতে হবে। সেরাটা দিতে হবে। অল্প সময়ের খেলা, ঘাড় ঘোরাতেই সমুদ্রে চলে যাবে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। আমার বিশ্বাস, দল ভালো খেলবে।’

মিনহাজুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোনো ইনজুরির রিপোর্ট আমাদের কাছে নেই। একটু হালকা এদিক-ওদিক আছে। আশা করছি ১৫ তারিখের মধ্যে সবাই সুস্থ হয়ে যাবে। ফিজিওর কোনো রিপোর্টে গুরুতর ইনজুরির খবর নেই।’

পিঠে হালকা চোট পাওয়ায় ওমান ‘এ’ দল ও শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তবে সেটা বাড়তি সতর্কতা হিসাবে। বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহর খেলা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশের প্রাথমিক লক্ষ্য প্রথম রাউন্ডে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সুপার টুয়েলভ পর্বের টিকিট নিশ্চিত করা।

ডাক মারলেন ৪ ব্যাটার, ত্রিপাথির ছক্কায় ফাইনালে কলকাতা

আইপিএলের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের মুখোমুখি হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।

জিতলে দল নাম লেখাবে আইপিএলের ফাইনালে। খেলবে মাহেন্দ্র সিং ধোনির দল চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে। আর হারলে এবারের মতো বিদায়।

এমন সমীকরণে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়েই বুধবার রাতে শারজায় মাঠে নামেন কলকাতা অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

আর টসে হেরে কলকাতার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৩৫ রানের সল্প পুঁজি পায় দিল্লি। এক কথায় টি-টোয়েন্টির এই ধুমধাড়াক্কা ম্যাচে এটি সহজ লক্ষ্য।

আর এই সহজ লক্ষ্যের ম্যাচ খুব কঠিন করে জিতল কলকাতা। শেষ ওভারে এক বল বাকি থাকতে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রাহুল ত্রিপাথি।

তবে কলকাতার দু্ই ওপেনার শুরুর দিকে ভালো না খেললে হয়ত হাসি ফুটত না সাকিবদের মুখে। ১৩৬ রানের সহজ লক্ষ্যের তাড়ায় অনেকটা পথ হেসেখেলেই পার করে দিয়েছেন শুবমান গিল ও ভেঙ্কাটস আইয়ার।

১২.২ ওভার পর্যন্ত খেলে উদ্বোধনী জুটি সংগ্রহ করেন ৯৬ রান। ওভারের দ্বিতীয় ও কাগিসো রাবাদার তৃতীয় বলে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৫৫ রান যোগ করেন ভেঙ্কাটস। জয়ের জন্য ৫২ বলে দরকার পড়ে ৪০ রান। হাতে ৯ উইকেট।

তবে বাকি লক্ষ্য পূরণে টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা উল্লেখযোগ্য কিছু করে দেখাতে পারেনি। উল্টো হারের আশঙ্কায় ডুবিয়েছেন। ভেঙ্কাটসের পরে নামা নিতিশ রানা ১৩ রান করেই সাজঘরে ফেরেন।

দলের দুই সিনিয়র দিনেশ কার্তিক ও অধিনায়ক মরগান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ব্যাট হাতে নেমেই রাবাদার বলে বোল্ড হন কার্তিক। গোটা আইপিএলের বাকি ম্যাচগুলোর মতো ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন মরগানও।

নরজের বলে ডাক মারেন তিনি। অধিনায়কের পথ অনুসরাণ করেন গত ম্যাচের মি. ফিনিশার সাকিব আল হাসানও।

১৮ বল বাকি থাকতে জয়ের জন্য কলকাতার প্রয়োজন পড়ে ১১ রান। হাতে ছিল ৭ উইকেট। দলের স্কোর ৩ উইকেটে ১২৫

কিন্তু ১৯তম ওভারে গিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ১২৯ রান ৫ উইকেটে। ৪ রান করতেই ২ উইকেট হাওয়া।

শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৭ রানের। ৩ বলেই সাকিবকে ফেরান অশ্বিন। পরের বলে নারিনকে আউট করেন শূন্য রানেই।

অর্থাৎ এক ম্যাচেই কলকাতার চার ব্যাটার ডাক মারলেন!

১৩৫ রানের মামুলী পুঁজি নিয়েও শেষ ওভারে টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন অশ্বিন।

শেষ দুই বলে কলকাতার প্রয়োজন পড়ে ৬ রান। এদিকে হ্যাটট্রিকের আশায় বল ছুড়েন অশ্বিন। সেই বলকেই বোলারের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান রাহুল ত্রিপাতি। এক বল বাকি থাকতে পৌঁছে যান জয়ের বন্দরে।

টানটান উত্তেজেনার ম্যাচে ৩ উইকেটে জয় নিয়ে আইপিএল -২০২১ এর ফাইনালে উঠল শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এর আগে টসে জিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ব্যাটিংয়ে পাঠান কলকাতার অধিনায়ক মরগান।

আর মরগানের বোলিং নেওয়ার পরিকল্পনাকে সফল করে কলকাতার বোলাররা।

বরুণ, শিভাম ও সাকিবদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৩৫ রানের সল্প পুঁজি পায় দিল্লি।

দিল্লির দুর্দান্ত ওপেনার পৃথ্বি শকে আজ ১৮ রানেই থামিয়ে দেন পেসার বরুণ চক্রবর্তী। অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান উইকেটে থিতু হয়ে গেলেও সাকিবের তালুবন্দি হয়ে ৩৬ রানে সাজঘরে ফেরেন শিখর। এই গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটিও নিয়েছেন বরুণ।

দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে মার্কুস স্টইনিরে উইকেটে ভেঙে দেন শিভাম। পৃথ্বির সমান ১৮ রান যোগ করতে পারেন তিনি।

দলের সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অধিনায়ক ঋষভ পন্তকে মাত্র ৬ রানেই সাজঘরের পথ দেখিয়ে দেন পেসার ফার্গুসন।

ক্যারিবীয় হার্ডহিটার হেটামায়ারকে ১৭ রানে রানআউট করলে লড়াকু পুঁজি পায়নি দিল্লি।

নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩৫ রানের সল্প পুঁজি নিয়ে মাঠ ছাড়ে দিল্লি। ২৭ বলে ৩০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন শ্রেয়াস আইয়ার।

ম্যাচে ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন বরুণ। একটি করে উইকেট পেয়েছেন শিভাম ও ফার্গুসন।

সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর এপিএস গ্রেফতার

দুই হাজার কোটি টাকা মানি লন্ডারিং মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি, সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা এএইচএম ফুয়াদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিএমপি ভাটারা থানা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ফরিদপুর ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

বুধবার দুপুরে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) জামাল পাশা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এএইচএম ফুয়াদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং, হত্যাসহ মোট আট মামলার মধ্যে সাতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। তিনি ১০ বছর ধরে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন সরকারি অফিস, হাটবাজার নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল, টেন্ডার বাণিজ্য করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ২০১৬ সালের ১২ জুলাই ছোটন হত্যা মামলার আসামি হিসাবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ফুয়াদ সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস ছাড়াও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২০ সালের ৭ জুন ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হলে তিনি এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালায়। গ্রেফতার ফুয়াদ ফরিদপুরের বিলনালিয়া গ্রামের মোজাহারুল হক চোকদারের ছেলে।