মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 682

‘সমালোচনা অবশ্যই হবে, কিন্তু একেবারে ছোট করে ফেলা ঠিক নয়’

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পর সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে।

ঘরের মাঠে মিরপুর গ্রাউন্ডে দুই শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়কে নিয়েও সমালোচনা করা হয়।

শত শত তীর্যক বাক্যের তীরে বিদ্ধ হয়েছেন। ট্রলডও হয়েছেন। তবে ওমানের বিপক্ষে ২৬ রানের জয়ের পর সেই সমালোচনায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে। এর দুর্বল পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৮৪ রানের বিশাল জয় দিয়ে সমালোচকদের সমুচিত জবাব দিলেন মাহমুদউল্লাহ।

যদিও এবারের সমালোচনা বেশ খেপিয়ে তুলেছে মাহমুদউল্লাহদের। এতোদিন এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন।

তবে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত হওয়ার পর মুখ খুললেন। স্মিথভাষ্যে জানালেন, এবারের সমালোচনা মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। রীতিমতো অস্বাস্থ্যকর। এসব সমালোচনা ক্রিকেটারদের মনে ক্ষত তৈরি করে।

সংবাদ সম্মেলনে চোয়াল শক্ত করেই এসব কথা জানালেন মাহমুদউল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে এসে কেমন যেন ক্ষেপাটে দেখা গেল তাকে।

বিষয়টি নজর এড়ায়নি সাংবাদিকদের। একজন জিজ্ঞেস করলেন, আগের সংবাদ সম্মেলনেও ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসানকে তেমন একটা বিনয়ী দেখা যায়নি। আজ আপনার থেকেও রাগ ঝরে পড়ছে। কেন?

সাংবাদিকের এমন মন্তব্য অস্বীকার করলেন না মাহমুদউল্লাহা। আক্ষেপের সুরে বললেন, ‘সমালোচনা অবশ্যই হবে, খারাপ খেলেছি। কিন্তু একেবারে ছোট করে ফেলা ঠিক নয়।সব জায়গা থেকেই সমালোচনা হয়েছে। ক্রিকেটে ও ক্রিকেটের বাইরে থেকেও। টি-টোয়েন্টির মতো সংস্করণে কোনো দল ফেবারিট থাকে না। ছোট দলও বড় দলকে হারিয়ে দিতে পারে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপক্ষের গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৭

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপক্ষের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজন হয়েছে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। তাদের মধ্যে চারজনকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে উখিয়ার ১৮নং ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— আজিজুল হক (২২), ইব্রাহিম (১৭), মো. আমিন (৩০), মো. ইদ্রিস (৩২), হাফেজ নুর হালিম (৪৫), মৌলভী হামিদুল্লাহ (৫০) ও নুর কায়সার (১৫)।

এ ঘটনায় অস্ত্রসহ মুজিবুর রহমান নামে একজনকে আটক করেছেন ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।

৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের এসপি শিহাব কায়সার খান যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে সাতজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ বেশ কয়েকজন ক্যাম্পের এমএসএস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এসপি শিহাব আর বলেন, কী কারণে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অস্ত্রসহ একজনকে আমরা আটক করেছি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক আছে।

হিলি সীমান্তে স্বর্ণের বারসহ আটক ১

দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ৪টি স্বর্ণের বারসহ নজরুল ইসলাম নজু (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে বিজিবি।

রায়ভাগ সীমান্তের ২৮৬/১৪ সাবপিলারের কাছ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

নজরুল ইসলাম রায়ভাগ গ্রামের আতাবুদ্দিনের ছেলে।

জয়পুরহাট বিজিবি ২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ভারতে পাচারকালে স্বর্ণের বারসহ মোটরসাইকেল আরোহী নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়।

আবহাওয়া খবরের মাঝে একি দেখলেন দর্শক

টেলিভিশনে চলছিল আবহাওয়ার খবর। এমন সময় হঠাৎ পর্দায় অনাকাঙিক্ষত দৃশ্য দেখে থমকে গেলেন দর্শকরা। কারণ আর কিছুই নয়।

ভুলে আবহাওয়ার খবরের মাঝেই একটি পর্নগ্রাফির ভিডিও সম্প্রচার করে ফেলেছিল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের স্পোকেনে কেআরইএম নামের একটি স্থানীয় সংবাদ চ্যানেলে সন্ধ্যা ছয়টার খবর প্রচারের সময় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহাওয়াবিদ মিশেল বস যখন আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছিলেন তখন হঠাৎ করেই তার পেছনের পর্দায় অপ্রীতিকর ওই ভিডিও ভেসে ওঠে।

তবে তিনি বা তার সহকর্মী কডি প্রক্টর, কেউই বিষয়টি লক্ষ্য করেননি। তারা তাদের মতো সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছিলেন।

পরে অবশ্য জানা যায়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংক্রান্ত যে গ্রাফিক্যাল ভিডিও সম্প্রচারের কথা ছিল তার পরিবর্তে ভুলক্রমে ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সম্প্রচার করা হয়।

পরে অবশ্য রাত ১১টার খবরে ওই ‘অপ্রীতিকর’ ভিডিওর জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে কেআরইএম কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, এই ঘটনার পর দর্শকদের মধ্যে অনেকেই পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

বিমান থেকে মনুষ্যবর্জ্য পড়ল ব্যক্তির মাথায়

বিমান থেকে মনুষ্যবর্জ্য পড়েছে এক ব্যক্তির মাথায়। ওই ব্যক্তি তখন তার বাগানে কাজ করছিলেন। শুধু ওই ব্যক্তিই নয়, তার পুরো বাগানেই এই ‘অযাচিত’ আবর্জনায় ভরে যায় বলে বৃহস্পতিবার একটি আন্তর্জানিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর শহরে এই ঘটনা ঘটে। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কাউন্সিলর কারেন ডেভিস উইন্ডসর এবং মেডেনহেডের অ্যাভিয়েশন ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করলে তা শিরোনামে আসে।

কারেন বলেন, উড়ে যাওয়া বিমান থেকে ফেলা মনুষ্যবর্জ্য ওই ব্যক্তির পুরো বাগান, বাগানের ছাতা, এমনকি উনার শরীরেও লেগে যায়।

বিবিসিকে কারেন বলেন, আমি জানি বিমান থেকে প্রতিবছর হিমায়িত মনুষ্যবর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এই মনুষ্যবর্জ্য মোটেও হিমায়িত ছিল না। ওই ব্যক্তির পুরো বাগান একদম অপ্রীতিকরভাবে মনুষ্যবর্জ্যে মাখামাখি হয়ে যায়।

ওই ব্যক্তি তার বাগান থেকে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরেন বলেও জানিয়েছেন কারেন।

বিমানে সাধারণ বিশেষ ট্যাংকে মনুষ্যবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় এবং বিমান অবতরণের পর সেগুলো অপসারণ করা হয়।

অনেক সময় হিমায়িত করেও উড়ন্ত বিমান থেকে মানুষ্য বর্জ্য অপসারণ করা হয়। তবে গরম আবহাওয়ার কারণে হিমায়িত না হয়েই ওই ব্যক্তির ওপর মানুষ্য বর্জ্য পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর জন বাউডেন। এই রকম ঘটনা কোটিতে একবার ঘটে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিন হাজার কোটি টাকা বিদেশে বিনিয়োগ

বাংলাদেশ আগে বিদেশ থেকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বা ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আকর্ষণে নানামুখী উদ্যোগ নিত।

এর আলোকে বেশকিছু এফডিআই দেশে আসত। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারাও বিভিন্ন দেশে এফডিআই করা শুরু করেছেন।

গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন দেশে এফডিআই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় তিন হাজার (২ হাজার ৮২৮) কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে দেশ থেকে বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক মুদ্রায় বিনিয়োগ নিয়ে যাওয়া ও বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার অংশ দেশে আনা এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানিতে ঋণ নেওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আলোচ্য তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিদেশে নেওয়া পুঁজির পরিমাণ। এর বাইরেও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অনেক বিনিয়োগ রয়েছে, যেগুলোর তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে নেই।

কেননা ওইসব উদ্যোক্তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে বিদেশে পুঁজি স্থানান্তর করেননি। তারা দেশ থেকে অর্থ পাচার করে বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ড. মইনুল ইসলাম বলেন, দেশ থেকে বৈধভাবে বিদেশে পুঁজি নেওয়ার পরিমাণ খুবই কম। পাচার করেই বেশি পুঁজি নেওয়া হয়েছে। বৈধভাবে নেওয়া পুঁজির বিপরীতে যৎসামান্য মুনাফা এলেও পাচার করা পুঁজি থেকে কোনো মুনাফা আসছে না। দেশ থেকে টাকা পাচার বন্ধ করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে থেকে বিদেশে পুঁজি নেওয়ার পরিবর্তে তা দেশেই বিনিয়োগ করার ব্যবস্থা করলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দরিদ্রতা কমবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বৈধভাবে বিদেশে কোনো পুঁজি নেওয়ার সুযোগ নেই। বৈধভাবে যারা বিদেশে বিনিয়োগ করেছেন তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে করেছেন। আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ধরনের কোনো অনুমোদন দিত না। কেননা আগে রিজার্ভ ছিল কম এবং এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ত।

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত রিজার্ভ বাড়ার গতি অব্যাহত রয়েছে। রিজার্ভ বাড়ার কারণে সরকার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ কারণে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে ২০১৫ সাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া শুরু করে সীমিত পরিসরে। ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি পুঁজি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলার জন্য। এরপরই রয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য।

এদিকে দেশ থেকে বিদেশে নেওয়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এর একটি খসড়া তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে মতামতের জন্য। এর আলোকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করা হবে।

সংশোধিত আইনে বলা হয়, দেশের উদ্যোক্তাদের বিদেশে রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরে সীমিত পরিসরে এক্সচেঞ্জ হাউজ খোলার জন্য পুঁজি নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। অবশ্য এর আগে থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউস খোলার জন্য পুঁজি নেওয়া হতো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, ছোট অঙ্কের পুঁজি বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বড় অঙ্কের পুঁজির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিদেশে বিনিয়োগের নীতিমালা চূড়ান্ত হলে তখনো প্রথমদিকে ছোট অঙ্কের পুঁজি নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সেগুলো দেশে মুনাফা আসা শুরু করলে তখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমবে। তখন বড় অঙ্কের পুঁজির বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৬ সালে বিদেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের স্থিতি ছিল ২১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। যা ২০১৫ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। ২০১৭ সালে ছিল ৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। ২০১৮ সালে ছিল ৩১ কোটি ৮ লাখ ডলার। যা আগের বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ কম ছিল। ২০১৯ সালে ছিল ৩২ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে ৩২ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে দাঁড়ায়। যা আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

২০১৯ সালে দেশ থেকে মোট বিনিয়োগ হয়েছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। এর মধ্যে আগের বিনিয়োগ থেকে মুনাফাবাবদ ফেরত এসেছিল ২ কোটি ১১ লাখ ডলার। নিট বিনিয়োগ ছিল ২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে মূলধন হিসাবে নেওয়া হয়েছে ৯৭ লাখ ডলার। আগের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগ করা হয় ২ কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানাধীন এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানি (আন্তঃকোম্পানি) কোনো নতুন ঋণ নেয়নি। বরং আগের ঋণ বাবদ ৬২ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে।

২০২০ সালে দেশ থেকে মোট বিনিয়োগ নেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ১১ লাখ ডলার। আগের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফা বাবদ ফেরত আনা হয়েছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। নিট বিনিয়োগ করা হয় ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে পুঁজি হিসাবে নেওয়া হয়েছে ৯২ লাখ ডলার। আগের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার অংশ পুনরায় বিনিয়োগ করা হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির নেওয়া ঋণ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ডলার।

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মোট বিনিয়োগ নেওয়া কমেছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার। মুনাফা আনার পরিমাণ কমেছে ১৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। দেশ থেকে মূলধন নেওয়া কমেছে ৫ লাখ ডলার। মুনাফার অংশ থেকে পুনরায় বিনিয়োগ কমেছে ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আগের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১ কোটি ১১ লাখ ডলার। নিট বিনিয়োগ কমেছে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সূত্র জানায়, করোনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা থাকায় ২০১৯ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দেশ থেকে নতুন বিনিয়োগ নেওয়া যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে বিদেশ থেকে অর্জিত মুনাফা দেশে আনার পরিমাণ। তবে শর্ত অনুযায়ী এক কোম্পানি থেকে অন্য কোম্পানির ঋণ পরিশোধ বেড়েছে। বিদেশে বিনিয়োগ থেকে মুনাফা আসার হার এখনো অনেক কম। যেসব মুনাফা আসছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক খাত থেকে। অন্য খাত থেকে এখনো মুনাফা তেমন একটা আসছে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, দেশ-বিদেশে বৈধভাবে পুঁজি নেওয়ার পরিমাণ খুবই কম। বিনিয়োগের পরিবেশ আরও ভালো করলে দেশেই বাড়ানো সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে। এতে কর্মসংস্থান, জিডিপি ও রপ্তানি বাড়বে।

প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গিয়েছে নেপালে ৭১ লাখ ডলার। ওই দেশ থেকে মুনাফা বাবদ ফেরত এসেছে ৬০ হাজার ডলার।

কেনিয়াতে বিনিয়োগ হয়েছে ৫৮ লাখ ডলার, ভারতে ৪৪ লাখ ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৩৬ লাখ ২০ হাজার ডলার। এসব দেশ থেকে এখনো কোনো মুনাফা ফেরত আসেনি। ওমানে বিনিয়োগ হয়েছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ডলার। মুনাফা এসেছে ৩ লাখ ডলার।

আলোচ্য পাঁচ দেশে মোট বিনিয়োগ করা হয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার। মুনাফা এসেছে ৩ লাখ ডলার।

দেশ থেকে নেওয়া পুঁজি সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে আর্থিক খাতে ২ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ খাত থেকে মুনাফা এসেছে ১ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। এছাড়া রাসায়নিক ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ৫৮ লাখ ডলার। খনিজসম্পদ অনুসন্ধান খাতে ৪৪ লাখ ডলার। গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম খাতে বিনিয়োগ ৭০ হাজার ডলার। এসব খাত থেকে কোনো মুনাফা আসেনি।

পুঁজিবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী

সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন চলছে।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

এদিন বেলা ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনে ডিএসইএক্স সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৩২ পয়েন্টে। এ ছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১৫০৬ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬৫৮ পয়েন্টে।

এ পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৮টি কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১২৭টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৫টির।

অপরদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৫২৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

‘রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের নেই। বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় স্পষ্ট করে লিখিত আছে, ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’ সংবিধানের প্রথম ভাগে সন্নিবেশন করা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।’

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত প্রয়াত সংসদ সদস্য দ্বীপবন্ধু মোস্তাফিজুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার গঠনের পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বে গৃহীত সংবিধান পুনঃপ্রবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনেরে উদ্দেশ্যে সিনিয়র পার্লামেন্টেরিয়ান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবতার নিরিখে এবং পরহেজগার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন বিবেচনায় নিয়ে মোট ২৭টি বৈঠক করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রস্তাবনা পেশ করেছেন।

‌‌‘বিশেষ কমিটির সুপারিশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সংসদে উপস্থাপন করা হয়। পরে প্রবীণ পার্লামেন্টেরিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক চুলচেরা বিশ্লেষণের পর জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী হিসেবে পাশ করে আইনে পরিণত করা হয়েছে। রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র এবং রাষ্ট্রধর্ম ও সকল ধর্মের মর্যাদার বিষয়টি পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মীমাংসিত। এই বিষয়ে নতুন করে পানি ঘোলা করার অবকাশ নেই।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান আতা, সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা। উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মিশনের পরিচালনায় অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

‘সাম্প্রদায়িক হামলার দায় এড়াতে পারে না রাজনৈতিক নেতারা’

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায় রাজনৈতিক নেতারা এড়িয়ে যেতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

বৃহস্পতিবার বিকালে নোয়াখালী সার্কিট হাউস মিলনায়তনে নোয়াখালীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের এক মতবিনিয়ম সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি বলেন, চৌমুহনীতে মন্দিরে হামলা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে বুঝা গেলে দেশে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শক্তির বিকাশ ঘটছে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তারা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ১৪ দল এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করা না গেলে এ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় ১৪ দল নেতারা চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিকভাবে তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান।

নোয়াখালী সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য মোস্তফা লুৎফুল্লা এমপি, জাসদের যুগ্ম সম্পাদক মো. মহসীন, জেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক খায়রুল আনম সেলিম, যুগ্ম আহবায়ক শহিদ উল্লাহ খানসহ হিন্দু ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে ১৪ দল নেতারা নোয়াখালীর চৌমুহনীতে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের খোঁজখবর নেন।

প্রায় দুই বছর পর করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখল ঢাকা

দেশে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর ১৮ মাসের মধ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো মৃত্যুহীন দিন পার করেছে ঢাকা বিভাগ। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৩ এপ্রিল করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখেছিল বাংলাদেশ। দেশে প্রায় দুই বছর ধরে চলা করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি দৈনিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিবেচনায় ঢাকায় মৃত্যু না হওয়াকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, বুধবার ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনায় মোট ছয়জন মারা গেছেন। তবে এদিন ঢাকা বিভাগের কেউ মারা যাননি। এর আগে ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা বিভাগে করোনায় কোনো মৃত্যু হয়নি। এদিকে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৬৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিন মোট আক্রান্তের ২৪৩ জনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। যা দিনের মোট শনাক্তের দুই তৃতীয়াংশের বেশি ছিল। আর এ সময় দেশে করোনামুক্তি ঘটেছিল ৪৮১ জনের। আগের দিন মঙ্গলবার সারা দেশে সাতজনের মৃত্যু হয়। আর ৪৬৯ জনে করোনা শনাক্ত হয়। সে তুলনায় বুধবার শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দুটোই কমেছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ১০ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের তিনজন, চট্টগ্রামের চারজন, খুলনার একজন, বরিশালের একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন রয়েছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ চারজন ও নারী ছয়জন। এ নিয়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৭ হাজার ৮০১ জনে। ১০ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে আটজন এবং বেসরকারি হাসপাতালে দুজন মারা যান। মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে চল্লিশোর্ধ তিনজন, পঞ্চাশোর্ধ দুজন, ষাটোর্ধ্ব তিনজন ও সত্তরোর্ধ্ব দুজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৮৩২টি ল্যাবরেটরিতে ১৫ হাজার ৬০৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে পূর্বে জমা কিছু স্যাম্পলসহ মোট ১৬ হাজার ৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ২৪৩ জন রোগী শনাক্ত হয়। এ নিয়ে দেশে করোনায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৯০৭ জনে দাঁড়াল। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

দেশে গত বছরের অর্থাৎ ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার ভিত্তিতে রোগী শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৩৪ জন। এ নিয়ে দেশে করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৮৩ জনে।

বাংলাদেশে করোনার প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে গত বছরের ৮ মার্চ। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ আসে প্রথম মৃত্যু খবর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে বলে ধরা হয়। বাংলাদেশে প্রায় এক মাস ধরে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ হিসাবে বর্তমানে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন