মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 676

তুরস্ককে নিয়ে এবার সুর পাল্টালো পশ্চিমারা

তুরস্ক ইস্যুতে এবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে পশ্চিমা বিশ্ব। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং নেদারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে এবং ডেনমার্ক তুরস্কের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন এক বিবৃতিতে এই তিনটি দেশের দূতাবাস “Vienna Convention on Diplomatic Relations” এর ৪১ নম্বর ধারা মেনে চলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

“Vienna Convention on Diplomatic Relations” এর ৪১ নম্বর ধারায় বলা হয় যে বিদেশী রাষ্ট্রদূতরা সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।

এরদোয়ানের হুমকি কি আসলেই কাজে লেগেছে?

এই একই বিবৃতি দিয়েছে অন্য দেশগুলোও। এখনও পর্যন্ত জার্মানি এবং ফ্রান্স বাদে বাকি ৮টি দেশ এই একই বিবৃতি দিয়েছে।

পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তন করে তুরস্কের সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়ায় আনন্দিত এরদোয়ান তাদের এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে এই রাষ্ট্রদূতদের আর বহিষ্কার করা হবে না।

প্রত্যেক কর্মীকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ও বিমান টিকেট উপহার দিলেন বস

কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেওয়ার জন্য একজন বসের কিছু গুণ থাকা আবশ্যক। একজন ভালো বস কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে অনেক কঠিন কাজও করিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি একজন ভালো বস কর্মীদের একজন ভালো মানুষ হওয়ার ব্যাপারেও অনুপ্রাণিত করতে পারেন।

আর একজন বস যখন কর্মীদের সমস্যাগুলো মন দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেন তখন কর্মীদের জীবন সহজ হয়ে যায় বৈকি।

সেদিক থেকে সারা ব্ল্যাকলির অফিসের কর্মীরা সৌভাগ্যবান বটে। অবশ্য সারার বস হয়ে ওঠার পেছনের পথটা মোটেও মসৃন ছিল না।

বাড়ি বাড়ি ফ্যাক্স মেশিন বিক্রি করে স্বনির্ভর জীবন কাটাতে শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সারা ব্ল্যাকলি। তবে ব্যবসায় নাম লেখানোর পর শুরু হয় তার ভাগ্য বদল। ব্যবসার মাধ্যমেই সাফল্য ছুঁড়ে ফেলেন তিনি।

তবে আজও যে তার পা মাটিতেই রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিলেন নিজের সংস্থার অংশীদারিত্ব বিক্রির টাকা হাতে পাওয়ার পর। নিজের হাতে তৈরি সংস্থা স্প্যানক্স এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার লাভ করার পর লভ্যাংশের একটা বড় অংশ ভাগ করে দিলেন সংস্থায় কর্মরত সব কর্মীর মধ্যে।

প্রত্যেককে দিলেন বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা করে। পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দিলেন বিমানযাত্রার দু’টি প্রথম শ্রেণির টিকিট।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের সবার জন্য দুটি প্রথম শ্রেণির বিমান টিকিটের অর্থ উপহার দিচ্ছি। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে আপনারা এই টিকিটে বেড়াতে যেতে পারবেন। আর বেড়াতে গিয়ে ভালো কোথাও খাওয়া-দাওয়া করবেন, খুব ভালো হোটেলে থাকবেন। তাই বিমান ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি আমরা প্রত্যেককে ১০ হাজার ডলার উপহার দেব।
এই কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন সারা।

এই ঘোষণার পরেই আনন্দে ফেটে পড়েন সারার অফিসের কর্মীরা। সারা বলেন, আপনারা এই মুহূর্ত উপভোগ করুন। সারাজীবন মনে থাকবে এমন এক মুহূর্ত তৈরির সুযোগ আমরা দিলাম। ২১ বছরের পথ চলা আমাদের সংস্থার, সেটিকে উপভোগ করুন।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের লাভের বিষয় ঘোষণার সময় সারা তার সব কর্মীদের ডাকেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আসল ঘোষণাটি করেন। সেই ঘোষণার মুহূর্ত নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন সারা। ভিডিওটি আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গে নেটমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়। এই উদ্যোগ দেওয়ার জন্য সারাকে প্রসংশায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা।

শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা

শেয়ারবাজারে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। কিছু শেয়ারের দাম নজিরবিহীন উত্থানের পর এবার চলছে টানা দরপতন। গত ১০ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক ৪৮২ পয়েন্ট কমেছে। আর বাজারমূলধন কমেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। একক দিন হিসাবে সোমবার সূচক ১২০ পয়েন্ট কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। কোনো কোনো হাউজে ফোর্সড সেল (ঋণ সমন্বয়ে বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রি) হচ্ছে। দরপতনের প্রতিবাদে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে সোমবার বিনিয়োগকারীরা মানববন্ধন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের এই পতন অপ্রত্যাশিত হলেও অস্বাভাবিক নয়। কারণ এর আগে বাজার চাঙ্গা করতে স্বাভাবিক শক্তিতে চলতে না দিয়ে, অসাধু সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভরশীল ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই সিন্ডিকেট অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। এছাড়া ব্যাংকগুলোও বিভিন্নভাবে বাজারে সক্রিয় হয়। কিন্তু বাজারের এই অস্বাভাবিক উত্থানকে মেনে নিতে পারেনি অপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এই অস্থিরতার আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এছাড়া বাজারের টেকসই উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বিএসইসি বলছে, দরপতন নয়, বাজারে এটি স্বাভাবিক মূল্য সংশোধন।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, বাজার নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। কারণ গত এক বছরে সূচক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছে। সেখান থেকে কিছু মূল্য সংশোধন খুব স্বাভাবিক। তিনি বলেন, সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের পরে বাজারে কোনো মূল্য সংশোধন হয়নি। এতে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা করেছে। সেই মুনাফা তারা তুলে নিচ্ছে। সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে, মূল্য সংশোধনের শেষ সীমায় (বটম লাইনে) চলে এসেছে বাজার। এখান থেকে দ্রুতই সামনে যাবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ অক্টোবর ডিএসইর মূল্যসূচক ছিল ৭ হাজার ৩৬৭ পয়েন্ট। আর সোমবার পর্যন্ত তা কমে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ১০ কার্যদিবসে সূচক কমেছে ৪৮২ পয়েন্ট। বাজারমূলধন ৫ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে বাজারমূলধন কমেছে ২৭ হাজার কোটি টাকা। লেনদেন কমে ১ হাজার ৪শ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে বাজারে। কোনো কোনো জায়গায় অন্তত দুটি সিন্ডিকেটের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের একজন অধ্যাপক। বিশেষ করে বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে যুগান্তরের হাতে। অথচ শেয়ারবাজার নিয়ে গণমাধ্যমে মানুষকে জ্ঞান দিচ্ছেন তিনি।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে চলতি বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাসে বাজারের অস্বাভাবিক উত্থান হয়েছিল। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর বাজারমূলধন ৭০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। আর মূল্যসূচক ১ হাজার বেড়েছিল ১ হাজার পয়েন্টের বেশি। লেনদেনও ছিল উচ্চ। কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম ৫ গুণ বেড়েছে। বাজার যে গতিতে বাড়ছিল, তা যে কোনো বিবেচনায় অস্বাভাবিক। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই লেনদেন স্বাভাবিক ছিল না। এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ কম। কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পরিকল্পিতভাবে বাজার চলছে। কোম্পানি ধরে ধরে এরা দাম বাড়ায়। স্টক এক্সচেঞ্জের সার্ভিল্যান্সের রিয়েল টাইম ডাটা চলে যাচ্ছে তাদের হাতে।

যুগান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েকটি গেম্বলার গ্রুপকে অলিখিতভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিস্থিতি একটু খারাপ হলেই কমিশন থেকে বড় হাউজ এবং কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারীকে শেয়ার কিনে বাজার সাপোর্ট দিতে বলা হয়। আর এই সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে মার্জিন ঋণের ১ :০.৮ করা হয়। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারীর ১ লাখ টাকা থাকলে তাকে আরও ৮০ হাজার টাকা ঋণ দেওয়া হবে। ফলে এই সিন্ডিকেট অনেকটা বেপরোয়া। কোনো কোনো ব্রোকারেজ হাউজ ওই সীমাও লঙ্ঘন করে ঋণ দিয়েছে। তবে বর্তমানে সিন্ডিকেটগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে।

সিন্ডিকেটের অনেকেই বর্তমানে অনেকেই উচ্চ দামে বিমা খাতের শেয়ার কিনে আটকে গেছে। অন্যতম একটি কোম্পানি প্রভাতী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এই কোম্পানির প্রায় ৬০ শতাংশ শেয়ার বড় একটি সিন্ডিকেটের কাছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপক। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানির পর্ষদে আছেন। পাশাপাশি নিজেকে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রতিনিধি বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে তার বিও অ্যাকাউন্টে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের মাত্র ৬৯ হাজার শেয়ার রয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় হোটেল পূর্বাণীতে একটি বিমা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একইভাবে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টায় একই হোটেল দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। বৈঠকে কোম্পানি কর্মকর্তাদের বিকল্প একটি প্রস্তাব দেন। প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার বড় একটি গ্রুপ অব কোম্পানির কাছে বিক্রি করবে তারা। এরপর ওই গ্রুপকে পর্ষদে নিতে হবে। না হলে বার্ষিক সাধারণ পুরো কোম্পানি দখল করে নেবেন। বিষয়টি নিয়ে বাজারে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন ২০১০ সালে বাজারে বিপর্যয় হয়েছে। ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান বাজারের বেশ কয়েকটি জায়গার মিল রয়েছে। সে সময় বাজারে মার্জিন ঋণ ছিল সীমাহীন। ভালো কোম্পানির সংখ্যা ছিল কম। কোম্পানির মৌলভিত্তি নয়, বিনিয়োগ ছিল গুজবনির্ভর। সূচকের উত্থান ছিল খুব দ্রুত। দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। অর্থনীতির অন্যান্য সূচকের সঙ্গে পুঁজিবাজারের উত্থানের মিল ছিল না। বর্তমানে এর সবই বাজারে রয়েছে। উলটো করোনার কারণে বর্তমানে বেশি কিছু কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি অত্যন্ত আশঙ্কার। এছাড়া বাজারের এই অস্বাভাবিক উত্থানকে ভালোভাবে নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, করোনার শুরুতে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। এরপর ফ্লোর প্রাইস (নিম্নসীমা) দিয়ে পতন ঠেকানো হয়। পরবর্তীকালে লকডাউনের কারণে ৬৬ দিন লেনদেন বন্ধ থাকে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত বছর থেকে বাজারে লেনদেন এবং মূল্যসূচক বাড়তে থাকে। শুরুতে বিভিন্ন মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছড়িয়ে বিমা কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় একটি চক্র। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। পর্যায়ে ক্রমে শুরু হয়, খাতভিত্তিক দাম বৃদ্ধি। এভাবে বাজারের উত্থান হয়।

সোমবারের বাজার : একক দিন হিসাবে সোমবার ডিএসইতে ৩৭৬টি কোম্পানির ৩১ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে বেড়েছে ৪৭টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ৩০৭টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ডিএসই ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে সোমবার ১২০ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৫৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৬৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস শরীয়াহ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৬৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সোমবার যে সব হাউজ বেশি শেয়ার বিক্রি করেছে এগুলো হলো ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট, ব্র্যাক ইপিএল এবং সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল অন্যতম।

শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে সোমবার যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হলো-ডেল্টা লাইফ, বেক্সিমকো লিমিটেড, ফরচুন সুজ, ওরিয়ন ফার্মা, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মা, জেনেক্স ইনফোসিস, আইএফআইসি, লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট এবং এনআরবিসি ব্যাংক। একই দিন ডিএসইতে যেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হলো-শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, ফু-ওয়াং সিরামিকস, সোনালি পেপার, ফরচুন সুজ, ন্যাশনাল ফিডস, ম্যাকসন স্পিনিং, বিবিএস কেবলস, মেট্রো স্পিনিং এবং ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। অন্যদিকে যে সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হলো-ওএএল, সামিট পাওয়ার, ডিএসএসএল, ইসলামিক ফাইন্যান্স, টুংহাই ইন্ডাস্ট্রিজ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, মেঘনা পিইটি, তাল্লু স্পিনিং, এস আলম কোল্ড এবং জাহিন স্পিনিং।

চার দেশে বিপুল অর্থ পাচার

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম আমজাদ হোসেন চার দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। আমেরিকা, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এই টাকা আত্মসাৎ করেন। চারটি দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। প্রতিবেদনগুলো দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৌঁছেছে।

আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দুদকে নতুন করে ৪৩০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির আরেকটি অভিযোগ এসেছে। শুরু হয়েছে এর অনুসন্ধান। এ পর্যায়ে আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ৯ কর্মচারীর নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ তুলে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এখন অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে মামলার জোর প্রস্তুতি চলছে। এদিকে বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমজাদ হোসেন ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৯৩৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের (অবরুদ্ধ) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ ওই অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন। দুদক সূত্র যুগান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানতে চাইলে দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান যুগান্তরকে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই আমজাদ হোসেন ও অন্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে একটি মামলাও হয়েছে। এমতাবস্থায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ ও ক্রোকের আবেদনসহ নানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রহণ করবেন।

বিদেশে অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমজাদ হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

৯৩৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ : আমজাদ হোসেন ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৯৩৫টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে অধিকাংশ হিসেবেই বর্তমানে টাকা নেই। হিসাবগুলোর মধ্যে ৬৭৯টিতে ব্যালেন্স শূন্য। বাকি ২৫৬টি অ্যাকাউন্টে জমা ৫৫ কোটি টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে। শূন্য এসব অ্যাকাউন্টের প্রতিটিতেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। শতকোটি টাকার ওপর লেনদেন হয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যাও অনেক।

চার দেশে অর্থ পাচারের প্রমাণ দুদকের হাতে : বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) আমজাদ হোসেনের বিদেশে অর্থ পাচারের তথ্য চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিএফআইইউ আমেরিকা, কানাডা, দুবাই, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও জাপানসহ বেশ কয়েকটি দেশের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে চিঠি দেয়। এতে আমজাদ হোসেনের অর্থ পাচার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

এসব দেশের মধ্যে আমেরিকা, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারতের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট তাদের জবাব বিএফআইউর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে, যা বিএফআইইউ ইতোমধ্যেই দুদকের কাছে হস্তান্তর করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, আমেরিকায় আমজাদ হোসেনের পাঁচটি বাড়ি ও গাড়িসহ একাধিক ব্যাংকে বড় অঙ্কের বিনিযোগ রয়েছে। রাশিয়ার কয়েকটি ব্যাংকে বড় অংকের টাকা জমা রয়েছে তার। আর সিঙ্গাপুরেও রয়েছে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ।

এ ছাড়া ভারতের কলকাতায় আজমাদ হোসেনের একটি চিংড়ি রফতানি প্রসেসিং কোম্পানি রয়েছে। সেখানে তার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। এর আড়ালে তিনি অর্থ পাচার করেছেন। ইমিগ্রেশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আমজাদ হোসেন বছরজুড়েই কলকাতা, দুবাই, আমেরিকা ও সিঙ্গাপুর ঘনঘন যাতায়াত করতেন, যা স্বাভাবিক যাতায়াত নয় বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

৪৩০ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির নতুন অভিযোগ : আজমাদ হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতির আরেকটি অভিযোগ দুদকে এসেছে। এতে জনতা ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ৪৩০ কোটি টাকা আত্মসাতের কথা বলা হয়েছে। পুরাতন অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করে এটি অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকে চিঠি দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কিছু কাগজপত্রও দুদকের হাতে এসেছে।

কর্মচারীর নামে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ : দুদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যানুসারে ৯ জন কর্মচারীর নামে ঋণ তুলে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন আমজাদ হোসেন। সিকিউরিটি অভার ড্রাফ্ট (এসওডি) ঋণের নামে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। কর্মচারীদের নামে ঋণ নিলেও ঋণের অর্থ আমজাদ হোসেন ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। মডগেজের বিপরীতে ৮০ শতাংশ ঋণের নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে ৫০০ শতাংশ ঋণ দেওয়া হয়েছে।

এ জালিয়াতির প্রধান সহায়ক ছিলেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি)খুলনা ব্রাঞ্চের সাবেক ম্যানেজার ইকবাল মেহেদী। এর আগে তিনি সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে চাকরি করেছেন। ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের মুখে সেখান থেকে মেহেদীকে নিজ ব্যাংকে বড় পদে নিয়োগ দেন আমজাদ হোসেন।

ফলে প্রধান কার্যালয় ও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া ঋণ দেওয়া থেকে শুরু করে মেহেদী সব ধরনের সুবিধা আমজাদ হোসেনকে দিয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানেও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা করার জোর প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আমজাদ হোসেনের ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাতের প্রধান সহযোগীও ছিলেন ওই ইকবাল।

ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ২১ অক্টোবর আমজাদ ও ইকবালসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। চলতি বছরের মাঝামাঝি আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতিসহ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ১৯ আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ করে কমিশন।

কেবিনে নেওয়া হয়েছে খালেদা জিয়াকে

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে একটি অস্ত্রোপচারের পর আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে এভারকেয়ার হাসপাতালে তার অস্ত্রোসম্পন্ন হয়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার একটি মাইনর অপারেশন করা হয়েছে। এখন তিনি আইসিইউতে আছেন।

ডা. জাহিদ বলেন, ‘ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) ছোট একটি বায়োপসি করা হয়েছে। অপারেশনের পরে তার সঙ্গে ছেলে তারেক রহমান কথা বলেছেন। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারও কথা বলেছেন। ছোট ছেলের স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিথি কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, এখন তিনি (খালেদা জিয়া) ভালো আছেন।

আগামীতে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকবে ঢাকা উত্তর বিএনপি: আমিনুল হক

তৃণমূল সংগঠিত ও শক্তিশালী হলেই রাজপথের আন্দোলন সফল হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি বলেন, সেই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকবে ঢাকা মহানগর উত্তর। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সোমবার রাজধানীর দারুস সালাম থানার অর্ন্তগত ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা, স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনের মাধ্যমে এই ওয়ার্ডের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, বর্তমান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির লক্ষ্যই হচ্ছে তৃণমূলকে সংগঠিত করা। সকল পর্যায়ের নেতৃত্ব হবে তৃণমূল কর্তৃক নির্বাচিত। দল, দেশ ও জিয়া পরিবারের কাছে বিশ্বস্ত নেতৃত্বকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এ সিদ্দীক সাজুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান। আরও উপস্থিত ছিলেন, মিরপুর জোনের সাংগঠনিক টিম প্রধান ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর বিএনপির সদস্য আবুল হোসেন আব্দুল, হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ, তুহিনুল ইসলাম তুহিন, আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান, হাফিজুল হাসান শুভ্র।

কর্মী সম্মেলনে ৯ ও ১০নং ওয়ার্ডের বিএনপির নেতৃবৃন্দ তাদের নিজ নিজ সাংগঠনিক পরিচয় তুলে ধরেন। নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন পর নিজ নিজ ওয়ার্ডের কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা সৌরভ, বাচ্চু, ইকবাল, জিয়া, ফারুক, দীপু, মামুন, সোহেল খান, ভূট্টো, জহির ও রতন বক্তব্য দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই কর্মী সম্মেলন হলো তৃণমূলের জাগরণ। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি হবে আন্দোলন সংগ্রামের মডেল ইউনিট। একটি সফল আন্দোলনের জন্য দরকার নেতা কর্মীদের ইস্পাতকঠিন ঐক্য। অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সকল সময় তৃণমূল কর্মীদের পাশে আছে এবং থাকবে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে সরকারকে বাধ্য করতে তৃণমূলকে সংগঠিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ফের ইলিশ ধরা শুরু

মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সোমবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। মধ্যরাত থেকেই চাঁদপুরের মেঘনায় ইলিশ ধরা শুরু করেছে জেলেরা। বরিশাল ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন মৎস্য ঘাটেও জেলেরা নদী-সাগরে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে এসব এলাকার জেলেপল্লি, মাছ বাজার ও মৎস্য ঘাট।

মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, এবার ৯০ শতাংশ মা ইলিশ রক্ষা করা গেছে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালেও চাঁদপুরে ইলিশ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের পাঁচটি উপজেলায় ও মহানগরীর একাধিক ঘাটে সোমবার থেকে জেলেরা সাগরে নামার প্রস্তুতি নেন। এসব ঘাটের মধ্যে রয়েছে ফিশারি ঘাট, রাসমনি ঘাট, আনন্দ বাজার ঘাট, উত্তর কাট্টলি, দক্ষিণ কাট্টলি ও আকমল আলী ঘাট। আজ থেকে এসব ঘাট দিয়ে জেলেরা সাগরে যাত্রা করবেন। এ ছাড়াও জেলার বাঁশখালী, মীরসরাই, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ ও সীতাকুণ্ডের উপকূল এলাকায় বিভিন্ন ঘাট থেকে বিপুলসংখ্যক জেলে সাগরে ইলিশ ধরতে যাবেন। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে চট্টগ্রামে ১৭ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল সাহায্য দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর : সোমবার মধ্যরাত থেকেই চাঁদপুরের মেঘনায় জেলেদের ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। অনেক ইলিশের পেটে ভরপুর ডিম রয়েছে বলে জানায় জেলেরা। এবার মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় জেলেরা সরকারের চাল সহযোগিতা পেয়েও নদীতে মাছ ধরেছে। চাঁদপুর সদর, হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার পদ্মা-মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকার জেলেরা আইন অমান্য করে ইলিশ শিকার করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত জেলে নদীতে নেমে ইলিশ শিকার করেছে। রাতের অন্ধকারে নদীর পাড়েই বিক্রি হয়েছে ইলিশ। গ্রামে ঢুকে ফেরি করেও ইলিশ বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইলিশ কেনার জন্য নদীপাড়ের চিহ্নিত স্থানগুলোতে মানুষের জটলা থাকত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত।

বরিশাল : বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় বিভাগের ৬১৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুস সালেহীন বলেন, এবার অভিযান ছিল বেশ কড়াকড়ি। তাই জেলেরা নদীতে কম নেমেছে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, তাদের ধারণা এবার ৯০ শতাংশ মা ইলিশ রক্ষা করা গেছে। তাদের কঠোরতার কারণে এমন সফলতা। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাকালে হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জে প্রশাসনের ওপর যে হামলার ঘটনা ঘটেছে এর সঙ্গে কেবল জেলে নয়, মৌসুমি জেলে ও স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বাররাও জড়িত।

হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির যুগ্ম মহাসচিব ইকবাল হোসেন মাতুব্বর বলেন, বিশাল মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা শত শত মাছঘাট স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে। নিষেধাজ্ঞা চললেও মেঘনা তীরের মাছঘাটে ইলিশ বেচাকেনা হয় নিয়মিত। জাতীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, মেঘনা তীরের ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যান-মেম্বররা প্রত্যেকে মাছঘাটের মালিক। তাদের ছত্রছায়ায় মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ নিধন ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

আইসের ভয়াবহতা শিউরে ওঠার মতো

আইস। ইংরেজি শব্দ। অর্থ বরফ। এই আইস দেখতে বরফের মতো হলেও আসলে বরফ নয়। এটি এখন মাদকের সর্বশেষ সংস্করণ। এক ভয়ংকর মাদকের নাম ‘আইস’। আবার এর পরিচিতি রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন নামে। অভিজাত শ্রেণির কাছে ‘স্কোর’, কেউ বলেন, ‘স্টাফ’। কারও কাছে আবার সাদা নামে পরিচিত। তবে গোপন যোগাযোগের সময় অনেকেই ডাকেন ‘বরফ’ নামে। স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণহীন বলে বহির্বিশ্বে পরিচিত ‘ক্রিস্টাল মেথ’ হিসাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদক হিসাবে আইসের ভয়াবহতা শিউরে ওঠার মতো। এটি ইয়াবার চেয়ে শতগুণ শক্তিশালী। আইসের জালে একবার জড়ালে একমাত্র মৃত্যুই হতে পারে মুক্তির উপায়। কারণ একবার আইসসেবনে অন্তত ৩০টি ইয়াবাসেবনের চাইতেও বেশি ক্ষতি হয়। এ কারণে আইসে আসক্ত হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ব্যক্তির কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

শতগুণ ভয়ংকর : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা ও আইসের মূল উপাদান একই। মিথাইল অ্যামফিটামিন বা মেথা অ্যামফিটামিন। বড় আকারের একটি ইয়াবায় অ্যামফিটামিনের সর্বোচ্চ মাত্রা ৫ থেকে ১৫ শতাংশ। কিন্তু আইসে অ্যামফিটামিন থাকে ৯৬ শতাংশ বা তারও বেশি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা যুগান্তরকে বলেন, মিথাইল অ্যামফিটামিন একধরনের স্টিমুলেটিং এজেন্ট। এটি মানবদেহের কেন্দ্রীয় নার্ভ সিস্টেমকে ক্ষণিকের জন্য আন্দোলিত করে তোলে। ফলে সেবনকারী প্রফুল্লতা অনুভব করেন। চারপাশের সবকিছু তার কাছে রঙিন মনে হয়। কিন্তু নেশার ঘোর কেটে গেলে শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। মাদকাসক্ত ব্যক্তি ক্রমশ বিমর্ষ হয়ে পড়েন। গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। টানা কয়েক মাস আইসসেবনের ফলে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ড্যামেজ হয়ে যায়। তখন কেবলই মৃত্যুর হাতছানি।

জেনেশুনে বিষপান : আইস ব্যয়বহুল নেশা। এক গ্রাম আইসের বাজারমূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবে আইসের ব্যবহার হচ্ছে ধনাঢ্য শ্রেণির মধ্যে। এখন পর্যন্ত আইস-সংশ্লিষ্টতায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই কোটিপতির সন্তান। কেউ কেউ নামকরা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করেও নাম লিখেয়েছেন নেশার জগতে।

সূত্র বলছে, গত বছর ৬ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেফতার হন আফিফ আফতাব খান সুহৃদ নামের এক ধনাঢ্য যুবক। অভিজানের সময় সৃহৃদ কথা বলছিলেন ইংরেজিতে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি উচ্চতর ডিগ্রিধারী। স্ত্রীও উচ্চশিক্ষিত এবং রাজধানীর একটি নামকরা কলেজের অধ্যাপক। বাবা ছিলেন জেলা রেজিস্ট্রার। পরিবারের অন্য সদস্যদের সবাই উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। দুই ভগ্নীপতির একজন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এবং অপরজন একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। ঢাকায় একাধিক বাড়ি এবং ফ্ল্যাট ছাড়াও তাদের পরিবারের রয়েছে অঢেল সম্পদ। সুহৃদ ছাড়াও আইসসহ গ্রেফতার হন বাড্ডার হোসেন মার্কেটের মালিকের ছেলে রহিত। তিনি মালয়েশিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারী। ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার হন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইভান।

ঢাকায় আইস ছড়িয়ে পড়ার একেবারে শুরুর দিকে একাধিক অভিযানে নেতৃত্ব দেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আইস হচ্ছে ‘পার্টি ড্রাগ’। এটি সব সময় কয়েকজন মিলে গ্রুপে সেবন করা হয়। ফলে হাই সোসাইটির পার্টি সংস্কৃতির মধ্যে আইস সহজেই ঢুকে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, আইসসেবনে বেশি পরিমাণে এনার্জি পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া বিদেশি সিনেমা ও সিরিয়াল দেখেও অনেকে আইসের মতো ভয়াবহ নেশার জগতে পা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ নামের একটি বিদেশি সিরিয়াল দেখে আইসসেবনে প্রলুব্ধ হচ্ছে অনেকে।

অ্যাপস গ্রুপে কেনাবেচা : সূত্র বলছে, আইস পার্টি অনুষ্ঠিত হয় কঠোর গোপনীয়তায়। বিশেষ লিংক ছাড়া আইস পার্টিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ বন্ধুর পরিচিত বন্ধু এবং তার বন্ধু-এভাবে বাছাই করা লোক নিয়ে আসর বসে। গোপনীয়তা বজায় রাখতে পার্টির স্থান, টাইম প্রভৃতি সম্পর্কে কথাবার্তা হয় ø্যাপচ্যাট নামের বিশেষ অ্যাপে। এতে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায়। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কেউ গ্রেফতার হলেও চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় না।

এছাড়া আইসের বেচাকেনা হচ্ছে টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বেশ কয়েকটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে আইস পার্টির আয়োজন হচ্ছে অভিজাত এলাকা গুলশান, ধানমন্ডি ও বারিধারায়। এছাড়া ভাটারা এলাকার একটি বৃহৎ আবাসিক এলাকায় বসছে আইস পার্টি। মাদকসেবনের কার্যক্রম শুরু হয় গভীর রাতে, চলে শেষ রাত অবধি। আইস পার্টি করতে গভীর রাতে অনেকে গাড়িবহর নিয়ে ছুটছেন ঢাকা মাওয়া এক্সপ্রেস রোডে।

সূত্র বলছে, রাজধানীতে আইস চক্রে জড়িত সন্দেহে অন্তত ৩০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। কেউ কেউ আছেন শোবিজ জগতের গ্ল্যামার গার্ল। এর মধ্যে গুলশান এলাকায় আইসের প্রধান ডিলার হিসাবে জাবির খান নামের এক ধনাঢ্য যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক সামসুল কবির যুগান্তরকে বলেন, জাবির খানকে ধরতে পারলে রাজধানীর আইস নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তাকে ধরতে ইতোমধ্যে কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তিনি পলাতক। তবে অচিরেই তিনি ধরা পড়বেন।

সূত্র বলছে, প্রযুক্তির সহায়তায় কথোপকথনের সূত্র ধরে রাজধানীতে আইস চক্রের সদস্য হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ইয়াসির, রাসেল ও উর্মিলা নামের এক তরুণীকে। এছাড়া গুলশানের আইস পার্টিতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন তরুণীর ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এদের মধ্যে আজমিন সারিকা, পুনম, ম্যাকরনা আলম, আমান এশা ও ইডেন ডি সিলভা অন্যতম। আইস পার্টির গডফাদারের ভূমিকায় আছেন গুলশানের বাসিন্দা জায়েদ। এছাড়া রাজধানীর উত্তরা এলাকায় প্রাইভেট আইস পার্টির আয়োজক হিসাবে নারকোটিক্সের নজরদারিতে আছেন এক শ্রীলংকান তরুণী। অন্তত ৬ মাস তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জান্নাত ওরফে ইমু নামে এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মাধ্যমে আইস নেটওয়ার্ক চালাচ্ছেন তিনি।

লুফে নিচ্ছে ইয়াবার বাজার : দিনদিন আইসের বিস্তার বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আইসপ্রবণ প্রতিষ্ঠান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইস ছড়াচ্ছে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। বনানী এলাকার কয়েকটি সিসা লাউঞ্জ আইস পার্টির পিকআপ পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বনানীর আল গিসিনো, ঢাকা ক্যাফে, টিজিএস এবং কিউডিএস সিসা লাউঞ্জে আড্ডা শেষে আইস পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, দেশে ব্যবহৃত মাদকের ৪৫ শতাংশ ইয়াবার দখলে। বাকিটা হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন নেশা উপকরণ। তবে ধীরে ধীরে ইয়াবার বাজার চলে যাচ্ছে আইসের দখলে। এক বছরের মধ্যে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক সুমনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, মাদক হিসাবে ‘আইস’ হালের ক্রেজ। মাদক বিস্তারের ক্রমধারা বিশ্লেষণ করলে সহজেই বোঝা যায় অল্পদিনের মধ্যেই হয়তো এটি ইয়াবার স্থলাভিষিক্ত হবে। কারণ একসময় দেশে হেরোইনের বিস্তার ছিল। এরপর মহা ধুমধামে আসে ফেনসিডিল। ফেনসিডিলের চাপে হেরোইনের বাজার কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। আবার ইয়াবার বিস্তার শুরু হলে ফেনসিডিলের বাজার সীমিত হয়ে পড়ে।

বর্তমানে আইসের বিস্তার বাড়ছে। একপর্যায়ে হয়তো ইয়াবার বাজার পুরোটাই আইসের দখলে চলে যাবে। এজন্য এখনই আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক হতে হবে। আইসের ক্রমবর্ধমান বিস্তার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের (ঢাকা) সহকারী পরিচালক রিফাত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মাদকের জগতে নেশাগ্রস্তরা নিত্যনতুন মাদকের সন্ধান করে। কারণ একটি মাদক নিতে নিতে দেহে সহনশীলতা তৈরি হয়। তখন পুরোনো মাদকে নেশা হয় না। এ কারণে আগে যারা দীর্ঘদিন ইয়াবা নিতেন, এখন তাদের অনেকেই আইসের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া ধানাঢ্য শ্রেণির অনেকেই ক্রেজ সৃষ্টির জন্য আইসের দিকে ঝুঁকছে। অভিজাত শ্রেণির কেউ কেউ আবার বিকৃত রুচি থেকেও জড়িয়ে পড়ছেন আইসের নেশায়।

গাছে পেরেক দিয়ে দোয়া লাগানো কি জায়েজ?

প্রশ্ন: গাছে পেরেক ঠুকে তাসবিহ, জিকির, দোয়া ইত্যাদি লিখে প্রচার করা যাবে কি?

উত্তর: বর্তমানে কোনো কোনো এলাকায় সড়কের দুপাশে গাছের মধ্যে নানা ধরনের দোয়া ও জিকিরসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পথচারীদের আল্লাহতায়ালার কথা স্মরণ ও দোয়া পড়তে উদ্বুদ্ধ করতেই মূলত এ উদ্যোগ।

কেননা নিজে দোয়া পাঠ ও জিকির করা যেমন পুণ্যের কাজ ঠিক একইভাবে অন্যকে ভালো কাজ স্মরণ করিয়ে দেওয়াটাও প্রশংসনীয়।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আপনি স্মরণ করিয়ে দিন, কেননা স্মরণ করিয়ে দেওয়া মুমিনদের উপকৃত করে।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৫)।

তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে গাছে ঝুলন্ত জিকির ও দোয়াসংবলিত এসব প্লেট সাধারণত টিন বা এ জাতীয় বস্তু দিয়ে তৈরি। যেগুলো পেরেক ঠুকে গাছের শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করে লাগানো হয়। তাই এতে উদ্দেশ্য ভালো হলেও প্রক্রিয়াটি শরিয়তের দৃষ্টিতে গর্হিত।

কেননা গাছে পেরেক লাগানোর ফলে গাছের ক্ষতি হচ্ছে। একটি জীবের ক্ষতি করে দোয়া প্রচার ও ভালো কাজ করার অনুমতি ইসলামে নেই।

গাছ আল্লাহতায়ালার গুণগান করে। তার ধ্যানে সর্বদা মত্ত থাকে, সিজদা করে। পরিপূর্ণভাবে প্রভুর হুকুম মেনে চলে।

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে— ‘তুমি কি দেখ না, আল্লাহকে সিজদা করে যা কিছু আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে, সূর্য, চন্দ্র নক্ষত্রমণ্ডলী, পর্বতরাজি ও বৃক্ষলতা, জীবজন্তু ও মানুষের মধ্যে অনেকে। ’ (সুরা হজ, আয়াত:১৮)

অপ্রয়োজনে মানুষকে ছায়া ও ফল দেয়, প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা এমন গাছ কাটার ব্যাপারে শরিয়তে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত আছে।

নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বিনাপ্রয়োজনে গাছ কাটবে, আল্লাহ তার মাথা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। ’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫২৪১)

তবে যদি আমরা এমনটি করতেই চাই তাহলে গাছের মালিকের অনুমতি সাপেক্ষে পেরেকের বদলে সুতা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিলে তা প্রশংসনীয় হবে।

লেখক: আরবি প্রভাষক, দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসা, ঢাকা

১১ পদে জনবল নেবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

শূন্যপদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এতে ১১টি ভিন্ন পদে ১৬ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

পদের নাম: সিস্টেম অ্যানালিস্ট (গ্রেড-৬)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ৩৫,৫০০/- থেকে ৬৭,০১০/-
বয়সসীমা: ৪০ বছর

পদের নাম: আইন কর্মকর্তা (গ্রেড-৭)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ২৯,০০০/- থেকে ৬৩,৪১০/-
বয়সসীমা: ৩৫ বছর

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (এস্টেট, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব, গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: সহকারী প্রকৌশলী (গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ২ জন
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: সহকারী নগর পরিকল্পনাবিদ (গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ২২,০০০/- থেকে ৫৩,০৬০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: ইমারত পরিদর্শক (গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ২ জন
বেতন: ১৬,০০০/- থেকে ৩৮,৬৪০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: উপসহকারী প্রকৌশলী (গ্রেড-১০)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ১৬,০০০/- থেকে ৩৮,৬৪০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: পিএ/সেকশন অফিসার (গোপনীয়, গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: সার্ভেয়ার (গ্রেড-১৫)
পদ সংখ্যা: ১ জন
বেতন: ৯,৭০০/- থেকে ২৩,৪৯০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-৯)
পদ সংখ্যা: ৪ জন
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-
বয়সসীমা: ৩০ বছর

বয়স: আগ্রহী প্রার্থীর বয়স ২০২১ সালের ২১ অক্টোবর হিসাবে হতে হবে।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://coxda.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে

আবেদনের শেষ সময়: আগ্রহীরা ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদনপত্র পাঠাতে পারবেন।