কর্মীদের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নেওয়ার জন্য একজন বসের কিছু গুণ থাকা আবশ্যক। একজন ভালো বস কর্মীদের অনুপ্রাণিত করে অনেক কঠিন কাজও করিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি একজন ভালো বস কর্মীদের একজন ভালো মানুষ হওয়ার ব্যাপারেও অনুপ্রাণিত করতে পারেন।
আর একজন বস যখন কর্মীদের সমস্যাগুলো মন দিয়ে শোনেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করেন তখন কর্মীদের জীবন সহজ হয়ে যায় বৈকি।
সেদিক থেকে সারা ব্ল্যাকলির অফিসের কর্মীরা সৌভাগ্যবান বটে। অবশ্য সারার বস হয়ে ওঠার পেছনের পথটা মোটেও মসৃন ছিল না।
বাড়ি বাড়ি ফ্যাক্স মেশিন বিক্রি করে স্বনির্ভর জীবন কাটাতে শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সারা ব্ল্যাকলি। তবে ব্যবসায় নাম লেখানোর পর শুরু হয় তার ভাগ্য বদল। ব্যবসার মাধ্যমেই সাফল্য ছুঁড়ে ফেলেন তিনি।
তবে আজও যে তার পা মাটিতেই রয়েছে, তা বুঝিয়ে দিলেন নিজের সংস্থার অংশীদারিত্ব বিক্রির টাকা হাতে পাওয়ার পর। নিজের হাতে তৈরি সংস্থা স্প্যানক্স এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার লাভ করার পর লভ্যাংশের একটা বড় অংশ ভাগ করে দিলেন সংস্থায় কর্মরত সব কর্মীর মধ্যে।
প্রত্যেককে দিলেন বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা করে। পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দিলেন বিমানযাত্রার দু’টি প্রথম শ্রেণির টিকিট।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের সবার জন্য দুটি প্রথম শ্রেণির বিমান টিকিটের অর্থ উপহার দিচ্ছি। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে আপনারা এই টিকিটে বেড়াতে যেতে পারবেন। আর বেড়াতে গিয়ে ভালো কোথাও খাওয়া-দাওয়া করবেন, খুব ভালো হোটেলে থাকবেন। তাই বিমান ভাড়া দেওয়ার পাশাপাশি আমরা প্রত্যেককে ১০ হাজার ডলার উপহার দেব।
এই কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন সারা।
এই ঘোষণার পরেই আনন্দে ফেটে পড়েন সারার অফিসের কর্মীরা। সারা বলেন, আপনারা এই মুহূর্ত উপভোগ করুন। সারাজীবন মনে থাকবে এমন এক মুহূর্ত তৈরির সুযোগ আমরা দিলাম। ২১ বছরের পথ চলা আমাদের সংস্থার, সেটিকে উপভোগ করুন।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের লাভের বিষয় ঘোষণার সময় সারা তার সব কর্মীদের ডাকেন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আসল ঘোষণাটি করেন। সেই ঘোষণার মুহূর্ত নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন সারা। ভিডিওটি আপলোড করার সঙ্গে সঙ্গে নেটমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়। এই উদ্যোগ দেওয়ার জন্য সারাকে প্রসংশায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা।


