বুধবার ,২৯ এপ্রি, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 672

পাটুরিয়ায় ফেরিডুবি: দ্বিতীয় দিনেও চলছে উদ্ধার অভিযান

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াঘাটে ডুবে যাওয়া ফেরি ও যান উদ্ধারের কাজ আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে।

বৃহস্পতিকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেন ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর কর্মীরা।

এর আগে বুধবার রাত সোয়া ৮টায় অভিযান স্থগিতের আগ পর্যন্ত ডুবে যাওয়া মোট ১০টি ট্রাক ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ১৪টি ট্রাক ও ১৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে রো রো ফেরি আমানত শাহ ডুবে যায়।
দৌলতদিয়া থেকে আসার পর পাটুরিয়া ৫নং ঘাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো যাত্রী বা পরিবহণ শ্রমিক নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ শুরু করে।

এ ঘটনায় নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সুলতান আব্দুল হামিদকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল লতিফ জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ফেরির যাত্রী আবদুর রাজ্জাক জানান, ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহে পানি উঠতে শুরু করে মাঝ নদী থেকেই। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়াঘাট থেকে ফেরিটি যখন মাঝ নদীতে পৌঁছায়, তখনই সামনের দিকে ডান পাশে থাকা একটি ছিদ্র দিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ফেরির ভেতর পানি জমে যায়। এ সময় পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ ১৭টি গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ছিল ফেরিতে।

উল্লেখ্য, ডুবে যাওয়া ফেরি আমানত শাহ ১৯৭৯ সালে আরিচা ফেরি সেক্টরে যোগ হয়। ফেরির মাস্টার শরিফুল ইসলাম লিটন জানান, চার মাস আগে ফেরিটি নারায়ণগঞ্জ থেকে ভারি মেরামত শেষে পাটুরিয়া সার্ভিসে আসে। তবে সম্প্রতি ফেরিটির তলদেশে একটি ফুটো হয়। সেটি মেরামত করার কথা ছিল। সেই ফুটো দিয়েই ফেরির ভেতরে পানি প্রবেশ করে বলে দাবি ট্রাকচালকদের।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তার জানান, ফেরিটি দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেসবিহীনভাবে চলছিল। এ বিষয়ে নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তুরস্কের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা: দেউলিয়া হয়ে গেছে কানাডার প্রতিরক্ষা কোম্পানি

সিরিয়া ও আজারবাইজানে তুরস্কের সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের দেশের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর এ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে কানাডার একটি প্রতিরক্ষা কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে গেছে।

লন্ডনভিত্তিক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ তথ্য জানায়।

তেলেমাস সিস্টেমস ইনক. নামে ওই কোম্পানি আগস্টে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার জন্য আবেদন করেছে। কেননা ২০২০ সালে তুরস্কের ওপর কানাডা সরকারের আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে এই কোম্পানি তার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহক হারিয়েছে।

ওই কোম্পানি সামরিক ড্রোন টিএআই আনকার জন্য তুরস্কের গ্রাহকের কাছে ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স এবং ইলেকট্রনিক সাপোর্ট সিস্টেম বিক্রি করত।

এ বিষয়ে কেপিএমজির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের ওপর সরকারের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার কারণে কোম্পানির পক্ষে কোনো ধরনের মুনাফা অর্জন সম্ভব ছিল না।

তুরস্কের এক কর্মকর্তা জানান, তারা আগেই কানাডাকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা তাদের বলেছিলাম— এ নিষেধাজ্ঞার কারণে তুরস্ক ও কানাডা উভয় দেশের কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের আশা, কানাডার নতুন সরকার দূরদর্শী হবে।

কানাডার সরকার ২০২১ সালের এপ্রিলে আঙ্কারার বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে তেলেমাস সিস্টেমসের বিদ্যমান তুরস্কে অস্ত্রের সরঞ্জাম রপ্তানির পারমিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা কোম্পানিকে চূড়ান্ত ধাক্কা দেয়।

দেউলিয়া হওয়ার বিষয় নিয়ে কোম্পানিটির একটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, চলতি বছরের ৩১ জুলাই কার্যক্রম বন্ধ করার আগে ২০২০ সালে কোম্পানির তিন লাখ ৬০ হাজার ডলার ও ২০২১ সালে ১.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট ক্ষতি হয়েছে।

অটোয়া চলতি বছর তুরস্কে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত সব ধরনের পণ্য রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার যুদ্ধে কানাডার প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে— তদন্তে এমন তথ্য পাওয়ার পর কানাডার সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ২০১৯ সালে তুরস্কের ওপর প্রাথমিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কানাডা। পরে ২০২০ সালের জুনে তুরস্ক ও কানাডার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঙ্কারায় ড্রোনের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম বিক্রির অনুমতি দেয় অটোয়া।

এর পর নাগরনো-কারাবাখ যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনে কানাডার তৈরি ওয়েসক্যাম থাকায় সে বছরের অক্টোবরে ফের তুরস্কে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বন্ধ করে অটোয়া।

ভারতে কৃষক আন্দোলনকারী তিন কৃষাণী ট্রাকচাপায় নিহত

রাজধানী দিল্লির টিকরি সীমান্তে কৃষক আন্দোলনে যোগ দিতে আসা তিন কৃষাণী বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকচাপায় নিহত হয়েছেন। ঘটনার পরই ঘাতক ট্রাকচালক পলাতক।

গত প্রায় ১১ মাস ধরে কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরোধিতা করে দিল্লি-হরিয়ানা সীমানার টিকরিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা। খবর এনডিটিভির।

সেই বিক্ষোভে অংশ নিতে টিকরি এলাকায় গিয়েছিলেন পাঞ্জাবের বাসিন্দা ওই তিন কৃষাণী। বুধবার বাড়ি ফেরার পথে তারা একটি রোড ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়ে অটোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

সেই সময় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঠে পড়ে রোড ডিভাইডারের ওপর। এতে ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় আরও এক নারীর। ঘাতক ট্রাকের চালক পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, নিহত ওই নারীরা পাঞ্জাবের মানসা জেলার বাসিন্দা। নিয়মিত টিকরি সীমানায় এসে তারা কৃষকদের অবস্থানে অংশ নিতেন।

সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে পুঁজিবাজারে লেনদেন

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে লেনদেন।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ২৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৩৯ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ১৪৭৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ২৬৪৬ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭১ কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১৬৪টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৫২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

প্রণোদনার ঋণ নিয়েও বড় জালিয়াতি

করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেওয়া প্রণোদনার ঋণ নিয়ে বেশকিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বড় জালিয়াতি করেছে। তারা শর্ত ভঙ্গ করে কম সুদে ঋণ নিয়ে বেশি সুদের ঋণ পরিশোধ করেছে।

এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বেআইনি কর্মকাণ্ডে সহায়তা দিয়েছে। এছাড়া প্রণোদনার ঋণ মূল হিসাব থেকে ৪/৫ দফা স্থানান্তরের পর নগদ আকারে তুলে নেওয়ার ঘটনাও আছে। এসব অর্থ অণ্যের নামে পে-অর্ডার করে স্থানান্তর হয়েছে।

এ খাতের অনেক টাকা কোথায় কীভাবে নেওয়া হয়েছে, এর কোনো হদিস মিলছে না। প্রণোদনার ঋণ অপব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৮টি পরিদর্শন বিভাগ ও ৮টি শাখা অফিস থেকে এসব তদন্ত হয়েছে। এ তদন্তে সিসিটিভির ফুটেজও ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম, বরিশাল, রাজশাহী বগুড়া, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলোয়ও তদন্ত হয়েছে। প্রণোদনার ঋণের অর্থ অপব্যবহার হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এলে তারা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়া পরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি যৌথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে তদন্ত শুরু করে। এসব তদন্ত প্রতিবেদন সমন্বয় করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরু হলে গত বছরের এপ্রিল থেকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এখন পর্যন্ত ২৩টি প্যাকেজের আওতায় দুই দফায় আড়াই লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা দেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ঋণনির্ভর প্রণোদনাই প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। বাকি টাকা অন্যান্য খাতের জন্য বরাদ্দ হয়।

প্রণোদনার শর্ত অনুযায়ী ঋণের টাকা শুধু চলতি মূলধন হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের’ প্রণোদনার তহবিল থেকে কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্পে মেয়াদি ঋণ দেওয়া যাবে। কিন্তু কোনো প্রণোদনার অর্থেই আগের ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। একই সঙ্গে কোনো খেলাপি গ্রাহককে ঋণ দেওয়া যাবে না। প্রণোদনার টাকা স্বচ্ছভাবে ব্যবহার করতে হবে। এসব অর্থ কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয় ব্যাংকগুলোকে। কিন্তু ব্যাংক এবং প্রণোদনার ঋণগ্রহীতাদের একটি বড় অংশই এসব শর্ত মানেনি।

প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ৪ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণের বাকি ৫ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভর্তুকি হিসাবে দিচ্ছে। এ ঋণ নিয়ে ৯-১৪ শতাংশ সুদের আগের বিভিন্ন ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে বেআইনিভাবে। যারা অনিয়ম করেছে, তারা শর্ত অনুযায়ী প্রণোদনার সুবিধা পাবে না। তাদের ৯ শতাংশ সুদ পরিশোধ করতে হবে।

একই সঙ্গে যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা এ ধরনের জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার পর অনেকে অর্থ নগদ আকারে তুলে নিয়ে অন্য গ্রাহকের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে জমা করেছে। ঋণের অর্থ ছাড় হওয়ার পর তা ৪/৫ দফায় বিভিন্ন ব্যাংকের একাধিক হিসাবে স্থানান্তরের পর তা নগদ আকারে তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু গ্রাহক প্রণোদনার অর্থ কোন খাতে নিয়েছেন, এর কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, গ্যালিকো স্টিল বিডি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৩৩ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়ে অন্য ব্যাংকে তার ঋণ বেআইনিভাবে সমন্বয় করেছে। তারা প্রণোদনার ঋণ নিয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে। এ ঋণ তারা তুলে নিয়ে ক্যাশ ক্রেডিট বা সিসি হিসাবে জমা করেছে। সেখান থেকে নিয়ে গ্রাহকের বেশি সুদের অন্য ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণের বিপরীতে সুদের অর্থও নিয়মিত পরিশোধ করেনি।

এলকো ওয়্যার কেমিক্যালস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান ৩ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়ে অন্য ব্যাংকের বেশি সুদের ঋণ শোধ করেছে। ব্যাংক থেকে প্রথমে টাকা তুলে ৩/৪ দফায় টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করেছে। পরে তা দিয়ে গ্রাহকের অন্য একটি ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক বিষয়টি জানার পরও নীরবতা পালন করেছে। এছাড়া গ্রাহক যে পরিমাণ ঋণ পাবে তার চেয়ে বেশি ঋণ দিয়েছে ব্যাংক। কিন্তু বাড়তি এ ঋণ সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তা করা হয়নি।

সিলমো ইলেকট্রোস লিমিটেড নামের এক প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার ঋণ নিয়েছে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব ঘুরিয়ে গ্রাহকের অন্য ঋণ পরিশোধ করেছে। ওই টাকা তারা প্রথমে নগদ আকারে তুলে নেয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটে (বিএফআইইউ) প্রতিবেদন দিয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী কোনো একক হিসাব থেকে একদিনে ১০ লাখ টাকার বেশি অর্থ নগদ আকারে তোলা হলে বিএফআইইউতে ক্যাশ ট্রানজেকশন রিপোর্ট (সিটিআর) দিতে হয়।

প্রণোদনার ঋণ ছাড় হওয়ার পর ১০ লাখের বেশি অর্থ একসঙ্গে তোলার কারণে ব্যাংক বিএফআইইউতে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছে। তদন্তের সময় পরিদর্শক দল এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। পরে গ্রাহক সেগুলো নগদ আকারে জমা দিয়ে পে-অর্ডার করেছে। এক্ষেত্রে অন্যের নামে পে-অর্ডার করে সেগুলো জমা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন হিসাবে। এ ঘটনায় ব্যাংকের সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যে ব্যক্তি টাকা তুলেছেন, তিনি ওই টাকা জমা দেননি। জমা দিয়েছেন অন্য কোনো ব্যক্তি।

পূরবী অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। ঋণের অর্থ তারা প্রণোদনার শর্ত অনুযায়ী ব্যবহার করেছে কি না, সে তথ্য ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দলকে দেখাতে পারেনি।

বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম প্রণোদনা বাবদ ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে একই ব্যাংকে তাদের চলতি হিসাবে স্থানান্তর করেছে। পরে তা নগদ আকারে তুলে নিয়ে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তর করে। এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে ব্যবহার করেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঋণের মধ্যে ৩ কোটি টাকা নগদ আকারে তুলে ১ কোটি টাকা করে ৩টি পে-অর্ডার করেছে। সেগুলো বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে জমা করেছে। পরে ওইসব অর্থ নগদ আকারে তুলে নিয়েছে। কিন্তু ওখান থেকে ওইসব টাকা কোথায় গেছে, এর হদিস পাওয়া যায়নি। ঋণের মধ্যে আরও ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা তারা নগদ তুলে নিয়েছে।

স্টোন ব্রিকস প্রণোদনা বাবদ ৪ শতাংশ সুদে ৯ কোটি টাকা নিয়ে বেশি সুদের অন্য ঋণ বেআইনিভাবে সমন্বয় করেছে।

রশিদ ব্রিকস ৮ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ নিয়ে ৭ কোটি টাকা দিয়েই অন্য ঋণ সমন্বয় করেছে। বাকি ১ কোটি টাকা নগদ তুলে নিয়েছে। এসব টাকা কোথায় গেছে, তদেন্ত এর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপর এক তদন্তে দেখা যায়, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রণোদনা বাবদ ৪ শতাংশ সুদে যেসব ঋণ দেওয়া হয় তার একটি বড় অংশই বেশি সুদের অন্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রংপুর অফিস থেকে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঋণের অঙ্ক ছোট ছোট। বিশেষ করে কৃষি ফার্ম ও অ্যাগ্রো প্রসেসিং শিল্পের উদ্যোক্তারা এসব কর্মকাণ্ড করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিস থেকে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় প্রণোদনার অর্থ ব্যবহারে নানা অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে অনেক গ্রাহক প্রণোদনার কম সুদে ঋণ নিয়ে আগের বাণিজ্যিক ঋণ পরিশোধ করেছেন। এদের সহায়তা করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রামের বড় একটি শিল্প গ্রুপ প্রণোদনা বাবদ ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তা দিয়ে আগের বাণিজ্যিক ঋণ পরিশোধ করেছেন। প্রণোদনার ঋণের সুদের হার সাড়ে ৪ শতাংশ। আর বাণিজ্যিক ঋণের সুদের হার ১২ শতাংশ।

সূত্র জানায়, প্রণোদনার ঋণের অংশ যেগুলো নগদ আকারে বা পে-অর্ডার আকারে নেওয়া হয়েছে সেগুলোর একটি অংশ শেয়ারবাজারে স্থানান্তর হয়েছে। তবে নগদ টাকা ও পে-অর্ডার কোথা থেকে কীভাবে অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সে বিষয়ে কোনো তদন্ত করেনি। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। এজন্য তারা শুধু ৪-৫ ধাপ অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা পরিদর্শন করেছেন। এর বেশি অনুসন্ধান করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া প্রণোদনার অর্থ অপব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের সহযোগিতা রয়েছে। যেসব গ্রাহক আগের ঋণ পরিশোধ করেছেন তাদেরকে ব্যাংক কর্মকর্তারা বেআইনিভাবে সহযোগিতা করেছেন। কেননা ব্যাংকাররা চেয়েছেন যে কোনোভাবেই হোক আগের ঋণ পরিশোধ হোক। এতে ব্যাংক ঋণ আদায় দেখাতে পারবে। এ কারণে অনেক ব্যাংক গ্রাহকের প্রণোদনার অর্থ নগদ আকারে তুলে নিয়ে ঋণ শোধের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, অ্যাসোসিয়েট স্টিল একটি ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা প্রণোদনার ঋণ ৩ দফায় বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করেছেন। পরে তা নগদ আকারে ১ কোটি টাকা করে তিন দিনে তিন কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। সেগুলো অন্য একটি ব্যাংকে নিয়ে ৬টি পে-অর্ডার করেছেন। পরে সেগুলো একই গ্রাহকের ঋণ শোধে জমা দিয়েছেন।

মাঠ ঘোলা করতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: ইনু

মাঠ ঘোলা করতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়েছে মন্তব্য করে সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যর্থতা ছিল। এজন্য প্রশাসনে থাকা উদ্দেশ্যমূলক নিষ্ক্রিয় কর্মচারীদের খুঁজে বের করে ও জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়াটাই এখন বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৩২ হাজার মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা হলেও ৫০টি এলাকায় হামলার ঘটনা প্রশাসন ঠেকাতে পারেনি। এর ব্যর্থতার দায়ভার তাদের নিতে হবে। তবে হামলাকারীদের অনেককে ত্বরিতগতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং জাসদের ৪৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হাসানুল হক ইনু। এর আগে তিনি সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিকালে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় তিনি শহরে এক মশাল মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এ সময় তার সঙ্গে জাসদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

হাসানুল হক ইনু বলেন, প্রশাসন বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার চেষ্টা করলেও বারবার এ ঘটনা ঘটছে।

কখনো হিন্দু মন্দিরে কখনো বৌদ্ধ মঠে, কখনো মসজিদের ইমাম বা পীরের মাজারে হিন্দুপাড়ায় বা আহমাদিয়াদের ওপর এমন সব ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ করে ইনু বলেন, জাতির কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামীতে আর কোনো সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গি হামলা হবে না, সেই গ্যারান্টি। প্রশাসনের মধ্যে ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয়দের খুঁজে বের করতে হবে।

প্রধান অতিথি হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, সব সাম্প্রদায়িক শক্তি ও জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় বিএনপি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং শেখ হাসিনার সাংবিধানিক সরকারের পদত্যাগের প্রস্তাব মাঠে আসার পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হয়েছে। দুর্গাপূজাকে উছিলা হিসাবে গ্রহণ করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠ ঘোলা করার লক্ষ্যেই এই সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি এ প্রস্তাব যতদিন মাঠে থাকবে ততদিন এই দেশে সাম্প্রদায়িক অপঘাত চলতেই থাকবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় এ আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে নিরীহ মানুষ এবং মিডিয়াকর্মী যাতে এর হয়রানির শিকার না হন সেজন্য আইনটি পর্যালোচনা করে সংশোধন করা দরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যে কারণে ১৪ দল গঠন হয় তা এখনও বলবৎ রয়েছে।

কোনো দলই এর বিলুপ্তি চায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ১৪ দল এখনো মাঠে আছে। তবে করোনার কারণে কার্যক্রম কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও নতুন করে তা বেগবান হবে। এ ১৪ দলই একমাত্র আদর্শ রাজনৈতিক জোট যারা সব সাম্প্রদায়িকতাকে রুখে দিতে পারে।

প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, ক্ষমতাবাদীর নামে দলের মধ্যে গুণ্ডাবাজি চলছে এবং দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এরা ভিতরের লোক আর বাইরের শক্তি হচ্ছে জঙ্গিবাদ। এই দুই শক্তিকে প্রতিহত করার আহবান জানান তিনি।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে জবাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনু আরও বলেন, জিয়া ও এরশাদ সংবিধান বহুভাবে কাটছেঁড়া করেছেন। আমরা ১৫ দফা সংশোধনের মাধ্যমে কিছু সাম্প্রদায়িক ও সামরিক সিদ্ধান্ত বাদ দিতে পেরেছি।

এখন সংবিধান পর্যালোচনার সময় এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, অসাম্প্রদায়িক প্রশাসন এবং অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক অঙ্গন ও অসাম্প্রদায়িক সংবিধান দরকার।

জেলা জাসদ সভাপতি ওবায়দুস সুলতান বাবলুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট রবিউল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী রিয়াজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিউদ্দিন মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল্লাহিল কাইয়ুম, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, কৃষক জোট সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই এলাহী, জাকির হোসেন লস্কর শেলী, মো. আহসানউল্লাহ, শরিফুজ্জামান বাপী, মো. সালেহিন, সোহেল আহমেদ প্রমুখ।

ভোটের আগে মাঠ খালি করতে মামলা: মির্জা ফখরুল

সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সহিংসতার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয়। মামলার উদ্দেশ্যে হচ্ছে, বিএনপিকে হয়রানি করা। রাজনীতি থেকে দূরে রাখা। যেহেতু বিএনপি আসন্ন নির্বাচন করতে চায়, তাই নির্বাচনের পূর্বেই দলের নেতাকর্মীদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে চায় তারা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এবার আমরা নির্বাচন নয়, সরকারের পতন নিয়ে চিন্তা করছি। এই সরকারকে চলে যেতে হবে। তাদের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচন হতে হবে। এটাই ফাইনাল। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মন্দির ভাঙা বিষয়ে মোট মামলা হয়েছে ৬০টা। আসামি সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৬ জন। আপনারা যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন তারা ইতোমধ্যে জেনে গেছেন এই ঘটনার পেছনে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ আছে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য, ক্ষমতায় টিকে থাকতে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে সরকার। আমাদের দলের উচ্চ পর্যায়ের টিম সরেজমিন ঘটনাস্থল দেখে এসেছেন। বরকত উল্লাহ বুলুসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে তারা কেউ এর (পূজামণ্ডপের হামলার ঘটনা) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না।

তিনি বলেন, বুলুর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও ১৬৪ ধারায় নির্যাতন করে যে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে-এটা একটা মিথ্যা প্রয়াস। অবিলম্বে এসব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, কুমিল্লার ঘটনায় যে ইকবালকে পাওয়া গেছে, তা বিশ্বাসযোগ্য না এই কারণে যে, সরকারই একবার বলে উন্মাদ, ভবঘুরে, পাগল। ইকবাল যতটা না পাগল, তার চেয়ে বেশি পাগল হলো সরকার। পাগল দিয়ে যদি এমন একটা দুর্ঘটনাকে এড়িয়ে যাওয়া যায়, বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চাপিয়ে পার পাওয়া যায়, তারা সে চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু সে পাগলামিটা তো বিশ্বাসযোগ্য না।

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভারের পিলারে ফাটল ও পাটুরিয়ায় ফেরি ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে এসব ঘটনা ঘটছে।

গণটিকার দ্বিতীয় ডোজ আজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে যাদের করোনার টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে আজ ।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত গণটিকার দ্বিতীয় ডোজের ক্যাম্পেইন চলবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে গণটিকাদান কর্মসূচি চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। দুদিনে ৮২ লাখের বেশি মানুষকে চীনের সিনোফার্মের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, গণটিকাদান কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ টিকা যে কেন্দ্র থেকে নেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজও সেখান থেকেই নিতে হবে। আমরা এ বিষয়ে সবখানে নির্দেশনা পাঠিয়ে দিয়েছি। আর যেসব কেন্দ্রে রুটিন টিকাদান কার্যক্রম চলে, সেখানে ওইদিন টিকা না দিয়ে অন্য একদিন টিকা দিতে বলেছি।

তিনি জানান, কিছু এলাকায় আরও দুই-এক দিন সময় লাগতে পারে এই ডোজ দিতে। কেউ টিকা নিতে না পারলে পরবর্তীতে তিনি আমাদের মূল কেন্দ্রে গিয়ে দিতে পারবেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, চলতি মাসেই আমরা চার কোটির মতো মানুষকে টিকার দুই ডোজ দিতে পারব। বৃহস্পতিবার টিকা ক্যাম্পেইনের প্রায় ৮২ লাখ মানুষ দ্বিতীয় ডোজ পাবেন। আর নভেম্বর মাসে অন্তত পাঁচ কোটি মানুষকে দুই ডোজ পূর্ণ টিকা দিতে পারব।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বেলজিয়াম

রোহিঙ্গা ইস্যু রাষ্ট্রীয় নয়, আঞ্চলিক সমস্যা। বেলজিয়াম রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি থিওডোরা জেন্টজিস এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

ব্রাসেলসে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি থিওডোরা জেন্টজিসের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশকে ‘রেড জোন’ থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বেলজিয়ামের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।

বৈঠকে বেলজিয়ামের ফরেন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ সভার অনুষ্ঠানের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এ ছাড়া কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কোনো জাতীয় ইস্যু নয়, এটি আঞ্চলিক সমস্যা। বেলজিয়াম রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয় উভয়পক্ষ।

চতুর্থ বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়ন কূটনৈতিক পরামর্শ সভায় যোগ দিতে বেলজিয়ামে রয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

গাছে থাকাবস্থায় বাগানের ফল বিক্রি করা কি বৈধ?

আমাদের দেশের মানুষ ফলফলাদি যেমন নিজেরা খাওয়ার জন্য উৎপাদন করে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবেও উৎপাদন করে থাকে।

আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, সুপারি, লটকান ইত্যাদি প্রায় সব ধরনের ফলই বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়। এসব ফল কখনও গাছে থাকাবস্থায় বিক্রি করে দেওয়া হয়, আবার কখনও তা পেড়ে বিক্রি করা হয়।

গাছের ফল বিক্রির প্রচলিত পদ্ধতি

গাছের ফল বিক্রির বিভিন্ন পদ্ধতি আমাদের সমাজে চালু আছে। যেমন— ১. বাগান মালিকদের অনেকে অগ্রিম টাকার জন্য কাঁচাফলই গাছে থাকাবস্থায় বিক্রি করে দেন। যাতে অগ্রিম টাকা পেয়ে তারা অন্য কোনো কাজ করতে পারেন। আর পাইকাররাও গাছের কাঁচাফল কিনে রাখেন। এতে তারা ফল পাকার পর বিক্রি করে বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে কিছু বাগান বিক্রি হয় মুকুল বের হওয়ার পর। আর কিছু বাগান বিক্রি হয় ফল মাঝারি আকারের হওয়ার পর।

২. অনেকে একসঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কয়েক বছরের জন্য বাগানের ফল আগাম বিক্রি করে দেন। বড় বড় অনেক বাগান দুই-তিন বছর কিংবা তার অধিক সময়ের জন্য অগ্রিম বিক্রি হয়ে যায়।

৩. কেউ কেউ গাছে ফল আসার আগেই ফল ব্যবসায়ীদের কাছে খালি বাগান বিক্রি করে দেন।

৪. অনেকে আবার পাইকারদের কাছে এক বা একাধিক বছরের জন্য বাগান ইজারা বা লিজ দেন। বেপারিরা নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে বাগান ইজারা নিয়ে ফল উৎপাদন করেন।

গাছের ফল বিক্রির শরয়ী বিধান: গাছে থাকা ফল বিক্রির প্রচলিত এসব পদ্ধতির হুকুম এক রকম নয়। এগুলোর মধ্যে কোনোটি বৈধ আবার কোনোটি অবৈধ। নিম্নে প্রত্যেকটির হুকুম পৃথকভাবে উল্লেখ করা হলো—

১ম পদ্ধতির হুকুম: গাছে ফল আসার পর কাঁচা থাকতেই তা বিক্রি করা বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী জায়েজ। যদিও ফল তখনও খাওয়ার উপযোগী না হয়। আর ফল পাকা পর্যন্ত বিক্রেতার অনুমতিক্রমে গাছে রেখে দেওয়াও বৈধ। তবে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির সময় ফল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত গাছে রেখে দেওয়ার শর্ত করলে অনেকে তা নাজায়েজ বলেছেন।

কিন্তু কোথাও এ ধরনের শর্তের প্রচলন হয়ে গেলে গবেষক আলেমদের অনেকে তা জায়েজ বলে ফতোয়া দিয়েছেন। সুতরাং ওই প্রচলনের ভিত্তিতে শর্ত করে গাছে ফল রেখে দেওয়া নাজায়েজ নয়।

অতএব গাছে যখন ছোট ছোট ফল আসবে, তখনই পুরো মৌসুমের ফল বিক্রি করা যাবে। এর পর ক্রেতা সুবিধামতো সময়ে ফল পেড়ে নিতে পারবেন। এভাবে প্রতি বছর গাছে ফল আসার পর তা বিক্রি করতে পারবেন।

২য় পদ্ধতির হুকুম: একত্রে কয়েক বছরের জন্য গাছের ফল অগ্রিম বিক্রি করে দেওয়া জায়েজ নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের ক্রয়-বিক্রয় থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

হযরত জাবির রাজি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের ফল কয়েক বছরের জন্য অগ্রিম বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫৩৬)

অতএব প্রচলিত এ ধরনের লেনদেন পরিত্যাগ করা অত্যাবশ্যক।

৩য় পদ্ধতির হুকুম: গাছে ফল আসার আগেই তা অগ্রিম বিক্রি করা জায়েজ নয়। এটি অনুসৃত সব মাজহাব মতেই নাজায়েজ। কারণ গাছে ফল আসার আগে তা বিক্রি করা মূলত বাইয়ে মা‘দুম তথা অস্তিত্বহীন জিনিস বিক্রি করা।

আর হাদিস শরিফে এ ধরনের অস্তিত্বহীন বস্তুর বেচাকেনা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। তা ছাড়া এতে ক্রেতার ধোঁকাগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে কোনো বছর গাছে ফল না আসারও সম্ভাবনা থাকে। আর ফল এলেও কখনও বেশি আসে আবার কখনও কম আসে। আর বিক্রিতব্য পণ্যের মধ্যে এ ধরনের অনিশ্চয়তা থাকলে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হয় না।

হজরত আবু হুরায়রা রাজি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথর নিক্ষেপের মাধ্যমে কেনাবেচা এবং ধোঁকা ও প্রতারণামূলক ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।’
[সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৫১৩]

অতএব গাছে ফল আসার আগে সমাজে তার ক্রয়-বিক্রয়ের প্রচলন হয়ে গেলেও এমন লেনদেন করা জায়েজ হবে না। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : ফিকহুল বুয়ূ ১/৩২৬-৩৩২)

৪র্থ পদ্ধতির হুকুম: ফল গ্রহণের উদ্দেশ্যে ফলের গাছ বা বাগান ভাড়া দেওয়া ও নেওয়া জায়েজ নয়। সুতরাং বাগান মালিকদের জন্য বাগান ইজারা দেওয়া এবং ব্যবসায়ীদের জন্য তা ইজারা নেওয়া বৈধ হবে না।

বাগানের ফল গ্রহণ করতে চাইলে বিক্রির চুক্তি করতে হবে। অর্থাৎ বাগান মালিকরা বাগানগুলো নিজে পরিচর্যা করবে। অতঃপর যখন গাছে মুকুল আসবে ও ফল ধরবে, তখন তা বিক্রি করে দেবে।

এরপর ক্রেতা সুবিধামত সময়ে ফল পেড়ে নিতে পারবে। এভাবে প্রতি বছর যখন গাছে ফল আসবে তখন নির্দিষ্ট দাম ধরে বিক্রি করতে পারবে। (ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১৬/৫৫৯, ৫৮১; ফাতাওয়া দারুল উলূম যাকারিয়া ৫/১৯৪-১৯৭)

লেখক: মুশরিফ- ফতোয়া বিভাগ, জামেয়া হাকীমুল উম্মত, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।