মঙ্গলবার ,৫ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 671

বিদ্রোহীরাই আ.লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বেপরোয়া। দলের হাইকমান্ডের একাধিকবার কঠোর নির্দেশনার পরও থেমে নেই তারা।

প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও অধিকাংশ ইউপিতেই মাঠে রয়েছেন দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীরা (বিদ্রোহী)। এতে তৃণমূলে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরা একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন।

বিভিন্ন স্থানে ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আর আহত হয়েছেন অসংখ্য।

এমন অবস্থায় একরকম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। কারণ পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করবেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু আগের মতোই দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে এখনই তাদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থায় যাচ্ছে না।

এক্ষেত্রে একরকম ‘ধীরে চলো নীতি’ অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহীরাই। সরকারি দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা যায় এসব তথ্য।

আরও জানা যায়, টানা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এবং বিএনপি দলীয়ভাবে অংশ না নেওয়ায় প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। এখনো একক প্রার্থী দিতে তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাবি-স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রুপিং এবং কেন্দ্রে নাম পাঠানোর সময় স্বজনপ্রীতি ও মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা কারণে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এ কারণে নিজেদের ‘অধিক জনপ্রিয়’ দাবি করে মাঠ ছাড়ছেন না তারা।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, বিদ্রোহীদের বিষয়ে আমাদের অবস্থান কঠোর। এবার কিন্তু আমরা আগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিইনি।

এবার যারা নির্বাচন করছেন, তারাও আর ভবিষ্যতে দলের মনোনয়ন ও দলীয় বড় কোনো পদ পাবেন না। এই বার্তা ভালো কাজ করেছে। তিনি আরও বলেন, এখনো যারা বিদ্রোহী আছেন, আমরা চেষ্টা করছি তাদের বসাতে। আমাদের জেলা-উপজেলার নেতারা তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।

তাদের বোঝাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এবার আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী বেড়েছে। বিএনপি নির্বাচনি মাঠে থাকলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আরও ঐক্যবদ্ধ থাকত বলেও মনে করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম যুগান্তরকে বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া আছে। সুতরাং কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিতে হয়। চাইলেই সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া যায় না। কিন্তু কেউ যদি বিশৃঙ্খলা করে বা সংঘর্ষে জড়ায়, তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা একক প্রার্থী নিশ্চিতে কাজ করছি। এখনো সময় আছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত কেউ চাইলে সরে দাঁড়াতে পারে।

দলীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে আাওয়ামী লীগের কেন্দ্রে। এসব অভিযোগে মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিয়েছেন। এরপরও নানা কৌশলে ‘বিতর্কিতরা’ দলের মনোনয়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগ করে আসছেন অনেক বঞ্চিত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচিও পালিত হয়েছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যেন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে, সেদিকে শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন দলটির নীতিনির্ধারণী মহল। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ-বিক্ষোভ যা-ই থাকুক সবাইকে নৌকার পক্ষে কাজ করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া এর মধ্যে ৮৯টি ইউপিতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। প্রথম ধাপের ৮টি ও দ্বিতীয় ধাপের ৮১ ইউপিতে নৌকার কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে এই ৮৯ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা।

পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপে অন্তত ১৬ জন প্রার্থী পরিবর্তন করেছিল আওয়ামী লীগ। এত কিছুর পরও বিদ্রোহীদের নির্বাচনি মাঠ থেকে সরাতে পারেনি দলটি।

জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশে ৮৪৬টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৯৪৬ জন বিদ্রোহী প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন মাত্র আড়াইশর মতো প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।

অন্যদিকে ৮১ ইউনিয়নে প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তারা প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত এসব ইউনিয়ন পরিষদ বাদ দিলে বাকি ৭৬৭ ইউপিতে এখনো প্রায় সাত শ বিদ্রোহী মাঠে রয়েছেন। অন্যদিকে প্রথম ধাপে ২৮৬ ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছিলেন শতাধিক।

রাজশাহীর ১৬ ইউপিতে ৪২ প্রার্থী : রাজশাহী ব্যুরো জানান, গোদাগাড়ী ও তানোরের ১৬ ইউপিতে মোট প্রার্থী ৫৫ জন। মনোনয়ন কারসাজির ফলে ইতোমধ্যে গোদাগাড়ীর চর আষাড়িয়াদহ, পাকড়ি এবং তানোরের সরনজাই ইউপিতে নৌকার প্রার্থী নেই। ১৬ ইউপিতে মনোনয়নবঞ্চিত আওয়ামী লীগের অন্তত ৪২ জন নেতাকর্মী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মাঠে রয়েছেন।

তাদেরকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরাতে সমানে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ইউপিতে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল করিম শিবলী। সেখানে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহেল রানা। তার দাবি, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে তিনি বিপুল ভোটে জিতবেন। কিন্তু তাকে ভোট থেকে সরাতে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে।

গোদাগাড়ীর বাসুদেবপুর ইউপিতে শফিকুল ইসলাম বেকায়দায় পড়েছেন বিদ্রোহীর চাপে। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম। তিনি জানান, তৃণমূল নেতাকর্মীদের একচেটিয়া সমর্থন তার পক্ষে।

রিশিকুল ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী মোখলেসুর রহমান মুকুলকেও প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। মুকুল জানান, ভোটে কারচুপি না হলে তিনি বিপুল ভোটে হারাবেন মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম টুলুকে।

তানোর উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে কামারগাঁও ইউপির প্রার্থী ফজলে রাব্বী ফরহাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিনকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরাতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোসলেম উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আমার জয় সুনিশ্চিত। আমার নেতাকর্মীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার কলমা ইউপিতে বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খাদেমুন্নবী বাবু চৌধুরী।

পাঁচন্দর ইউপিতে বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম। শরিফুলের দাবি, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে তিনি নৌকার প্রার্থীর চেয়ে দ্বিগুণ ভোটে জিতবেন।

নওগাঁয় ২০ ইউপিতে ৪২ বিদ্রোহী : নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলার ২০টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৪২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ২৭ জন, রানীনগর ৮টি ইউনিয়নে ১৫ জন।

রানীনগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন-খট্টেশ্বর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা নজমুল হক, কাশিমপুর ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান। গোনা ইউনিয়নে আব্দুল অরিফ রাঙ্গা, সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান, আবু শাহিন।

পারইল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মজিবর রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য সুজিত কুমার সাহা ও আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল হক। বড়গাছা ইউনিয়নে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মহসিন মল্লিক। কালিগ্রাম ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব চাঁদ। একডালা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আজিজার রহমান, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিন। মিরাট ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল আলম ও আওয়ামী লীগ নেতা ফাকরুল হাসান।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, দলীয় মনোনয়ন প্রদানে অনেক ইউনিয়নে হয়তো তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে। এ কারণে মনোনয়নপত্র দাখিল করা বিদ্রোহী প্রার্থী সংখ্যা আমাদের দলে বেশি। তবে দলের মনোনয়ন বোর্ড যাদের মনোনীত করেছেন, তাদেরকেই মেনে নিয়ে কাজ করতে হবে।

যশোরের ২০ ইউপিতে বিদ্রোহী ২৭ : যশোর ব্যুরো জানান, যশোরের চৌগাছার দুটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ২০টির মধ্যে ১৫টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ২৭ জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের একজন বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বাকিরা বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেন্দ্রের নির্দেশ অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।’

জানা যায়, চৌগাছা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৩৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে আছেন। এদের মধ্যে নৌকার প্রার্থী ফুলসারা ইউনিয়নে মেহেদী মাসুদ চৌধুরী ও চৌগাছা সদর ইউনিয়নে আবুল কাশেম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ করে ভোটের মাঠে আছেন ১৩ বিদ্রোহী প্রার্থী।

পাশাপোল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী অবাইদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে লড়ছেন সাবেক চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা শাহীন রহমান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতলেব।

সিংহঝুলি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী রেজাউর রহমান রেন্দুকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা মোহাম্মদ বাদল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আব্দুল হামিদ মল্লিক। ধুলিয়ানী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী এসএম আব্দুস সবুরকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের এসএম মোমিনুর রহমান ও আলাউদ্দীন। জগদীশপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী তবিবর রহমান খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আজাদুর রহমান খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার সিরাজুল ইসলাম।

স্বরুপদাহ ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সানোয়ার হোসেন বকুলকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কদর, বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আনোয়ার হোসেন ও রফিকুল ইসলাম খোকন। নারায়ণপুরে ইউনিয়ন নৌকার প্রার্থী শাহিনুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা আবু হেনা মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎ। সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান হবি। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মাকাপুর বল্লভপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম। বিগত ইউপি নির্বাচনেও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন।

অপরদিকে, ঝিকরগাছার ১১ ইউনিয়নের ৮টিতে ১৪ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে নৌকার আমিনুর রহমানের বিদ্রোহী বদর উদ্দীন, শহিদুল ইসলাম, আতাউর রহমান ঝন্টু ও শাহেদুর রহমান। মাগুরা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাকের বিদ্রোহী ওবায়দুর রহমান ও একেএম গিয়াস উদ্দীন। যদিও বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে নৌকার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন।

শিমুলিয়া ইউনিয়নে নৌকার মতিয়ার রহমান সরদার বিদ্রোহী জহুরুল হক। গদখালী ইউনিয়নে আশরাফ উদ্দীনের নৌকার বিদ্রোহী প্রিন্স আহম্মেদ, শাহাজান আলী ও সহিদুল ইসলাম। পানিসারা ইউনিয়নে নওশের আলীর নৌকার বিদ্রোহী জাকির হোসেন।

ঝিকরগাছা সদর ইউনিয়নে আমির হোসেনের নৌকার বিদ্রোহী শহিদুল ইসলাম ও মো. বারিক। নির্বাসখোলা ইউনিয়নে খায়রুজ্জামানের নৌকার বিদ্রোহী নজরুল ইসলাম এবং হাজিরবাগ ইউনিয়নে আতাউর রহমান মিন্টুর নৌকার বিদ্রোহী নুরুল আমীন মধু। আগামি ১১ নভেম্বর ঝিকরগাছা- চৌগাছার ২২ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দে য়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা।

মেহেরপুরে ৯ ইউনিয়নে বিদ্রোহী ২২ : মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার মুজিবনগর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে দলীয় চার প্রার্থীর বিপরীতে দলের ১২ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। অপরদিকে গাংনী উপজেলার পাঁচটি ইউপিতে ১৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একজন প্রার্থী বিএনপির এবং একজন জাতীয় পার্টির। সব মিলিয়ে ৯ ইউপিতে দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে ২২ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

মুজিবনগর উপজেলায় বাগোয়ান ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন ও বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। মোনাখালী ইউনিয়নে চারজন প্রার্থী।

এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম গাইন, বর্তমান চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম মোল্লা এবং মাহবুবুর রহমান ডাবলু।

দারিয়াপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোস্তাকিম হক খোকন, বর্তমান চেয়ারম্যান তৌফিকুল বারী বকুল, মাহবুবুল আলম রবি, মোয়াজ্জেম হোসেন নাবুল, মনজুরুল হক এবং আবুল কাশেম। মহাজনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউর রহমান নান্নু, বর্তমান চেয়ারম্যান আমাম হোসেন মিলু, মিসকিন আলী এবং তোফাজ্জল হোসেন চঞ্চল। গাংনীর কাথুলী ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী গোলজার হোসেনের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, আবুল বাকার ও সাহাব উদ্দিন।

সাহারবাটি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মশিউর রহমান। বিদ্রোহী প্রার্থী রাকিবুল ইসলাম টুটুল, জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন বাবুল হোসেন। বামুন্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ওবায়দুর রহমান কমল। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন হবিবর রহমান হবি, আজিজুল হক বিশ্বাস, আবদুল আওয়াল ও সম্রাট বিশ্বাস। তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন বিএনপির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হুদা। মটমুড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল হাসেম বিশ্বাস। বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সোহেল আহমেদ।

মাগুরায় ১৩ ইউপির ৭টিতে ১০ বিদ্রোহী : মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরায় দ্বিতীয় ধাপে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ নভেম্বর। নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি (কুচিয়ামোড়া, জগদল, আঠারখাদা, মঘি, কছুন্দি, বেরইল পলিতা ও রাঘবদাইড়) ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থি হিসাবে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কুচিয়ামোড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন দুজন। তারা হলেন-গতবারের চেয়ারম্যান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদার এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা টিপু সুলতান।

জগদল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তার হলেন-ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম এবং জাহিদ হাসান। আঠারখাদা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন সাবেক চেয়ারম্যান বেনজির হোসেন এবং অমরেশ চন্দ্র বিশ্বাস। মঘি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান রনজু। রাঘবদাইড় ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তালেব নান্টু। কছুন্দি ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা যুবলীগ নেতা বাকি বিল্লাহ সান্টু। বেরইল পলিতা ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এনামুল হক রাজা।

ফুলবাড়িয়ায় ১৩ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ১৬ বিদ্রোহী : ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, আ.লীগের ১৩ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ১৬ জন। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীরা সরে না দাঁড়ালে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবি হবে বলে মনে করছেন আ.লীগের নেতাকর্মীরা। নাওগাঁও ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আ.লীগের কাউন্সিলর মো. মোজাম্মেল হোসেন। পুটিজানা ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. ময়েজ উদ্দিন তরফদার, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আলীম আব্দুল্লাহ।

কুশমাইল ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী শামছুল হক, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আব্দুল বাতেন পুলু। দেওখোলা ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম বাবলু, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন। ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. রুহুল আমীন, বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আ.লীগ নেতা জয়নাল আবেদিন বাদল, মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. আতাহার আলী, আ.লীগ নেতা সিরাজুল হক।

বাকতা ইউনিয়নে আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হক সোহেল, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নে আ.লীগ প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মির্জা মো. কামরুজ্জামান, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের উপদেষ্টা শাহজাহান সিরাজ, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। এনায়েতপুর ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. বুলবুল হোসেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ওয়ার্ড আ.লীগ সভাপতি মো. আ. সালাম।

কালাদহ ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মো. ইমান আলী, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছে সাবেক উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম মাস্টার, আ.লীগ নেতা মো. নজরুল ইসলাম। রাধাকানাই ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী উপজেলা আ.লীগের কোষাধক্ষ মো. গোলাম কিবরিয়া তরফদার, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সারওয়ার আলম।

ভবানীপুর ইউনিয়নে আ.লীগের প্রার্থী আ.লীগ নেতা মো. জবান আলী সরকার, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মো. আজহারুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা ডা. কামরুজ্জামান। উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কেবিএম আমিনুল ইসলাম খাইরুল বলেন, দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে যারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আজমিরীগঞ্জে সব ইউনিয়নে বিদ্রোহী : হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে মোট ১৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মাঝে প্রতিটি ইউনিয়নেই নৌকার গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা। জানা গেছে, সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন মো. মোবারুল মিয়া।

এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মো. স্বাধীন মিয়া। বদলপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সুষেনজিৎ চৌধুরী। এখানে বিদ্রোহী হিসাবে লড়ছেন নীলকমল চৌধুরী ও অসীম কুমার চৌধুরী। জলসুখা ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পান রোখসানা আক্তার শিখা। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসাবে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়েজ আহমেদ খেলু।

কাকাইলছেও ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন মিজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী মো. আশরাফ উদ্দিন। শিবপাশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মো. তফছির মিয়া। এখানে বিদ্রোহী হিসাবে নির্বাচনে লড়ছেন মো. আলী আমজাদ তালুকদার, জাহাঙ্গীর আলম ও নলিউর রহমান তালুকদার।

বড়াইগ্রামের পাঁচ ইউনিয়নে ৬ বিদ্রোহী : বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বড়াইগ্রামের পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুজন বর্তমান চেয়ারম্যানসহ মোট ছয়জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। গোপালপুরে আ.লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আবু বক্কর সিদ্দিক। এখানে দুজন বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম খান এবং ইউনিয়ন আ.লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ। চান্দাই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহনাজ পারভীন। এখানে বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন।

নগর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা মহিলা আ.লীগের সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন। আর বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জোহা। বড়াইগ্রাম ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ.লীগের সম্পাদক মমিন আলী।

এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মাসুদ রানা মান্নান। জোনাইলে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আ.লীগের সহ-সভাপতি তোজাম্মেল হক, ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করছেন। জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের ২০টি ইউপিতে বিদ্রোহী ১২ : টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের তিন উপজেলার ২০ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১২ বিদ্রোহী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ আলম, যদুনাথপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী খলিলুর রহমান, পাইস্কা ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আরশেদ আলী ও জাহাঙ্গীর আলম, দেলদুয়ার উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী আবু তাহের তালুকদার বাবলু, আতিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সাজ্জাদ হোসেন ও সিরাজুল ইসলাম মল্লিক, এলাসিন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মানিক রতন, ডুবাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী রফিকুল ইসলাম। সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গোলাম ফেরদৌস, কাকড়াজান ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুলাল হোসেন, বহুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নূরে আলম মুক্তা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচনে দ্বিতীয় ধাপে ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৭টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন।

তারা হলেন-পালং ইউনিয়নে আজহারুল ইসলাম খান, আংগারিয়া ইউনিয়নে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, তুলাসার ইউনিয়নে মো. জাহিদ ফকির, রুদ্রকর ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান ঢালী, ডোমসারে মাস্টার মজিবুর রহমান খান, মাহমুদপুর ইউনিয়নে মো. শাজাহান ঢালী, শাহীন তালুকদার, আলী হোসন, শৌলপাড়া ইউনিয়নে ইয়াসিন হাওলাদার, আব্দুল মান্নান খান ভাসানী।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, জেলার সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের মরহুম সাধারণ সম্পাদক হানিফ আলী শেখের ছেলে নজরুল ইসলাম ডন ও আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ হাসান আকবর।

চাকরি ছাড়ছেন ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টরা

বর্তমান বাস্তবতায় সরকারি চাকরি ‘সোনার হরিণ’। কিন্তু কারা অধিদপ্তরে দুটি পদের ক্ষেত্রে বিষয়টি উলটা। সেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্ট পদ বছরের পর বছর শূন্য রয়েছে।

এসব পদে বারবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পদগুলো পূরণ হয়নি। আর এসব পদে প্রতিবছর যতসংখ্যক লোক যোগ দিচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি চাকরি ছাড়ছেন। দেশের কারাগারগুলোয় ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টের ১৭৩টি পদ আছে। এর ১২২টিই শূন্য।

পদোন্নতি না পাওয়া এবং বদলিসহ নানা ক্ষেত্রে হয়রানির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, কারা অধিদপ্তরে ১০৬টি ডিপ্লোমা নার্সের পদ আছে। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৩৫ জন। ফার্মাসিস্টের পদ আছে ৬৭টি। কিন্তু কর্মরত আছেন ৪৫ জন।

২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে স্বারষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠি অনুযায়ী কারাগারগুলোয় ৫৩টি ডিপ্লোমা নার্স, ১২টি মহিলা ডিপ্লোমা নার্স এবং ৩৩টি ফার্মাসিস্টের পদ খালি ছিল। ওই পদগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

এদিকে কারা অভ্যন্তরে বন্দিদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত সহকারী সার্জনদের বেশির ভাগ কারা এলাকায় অবস্থান করেন না। থাকেন কারা এলাকার বাইরে। অথচ জেলকোড অনুযায়ী কারা অভ্যন্তরে অবস্থান করে বন্দিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহকারী সার্জনদের দায়িত্ব।

কারণ বন্দিরা যে কোনো সময়ই অসুস্থ হতে পারেন। তাদের অসুস্থতা ও মৃত্যুর হার বেশির ভাগই রাতের বেলায়। সহকারী সার্জনদের অনুপস্থিতিতে ওই সময় অসুস্থ বন্দিদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেন ডিপ্লোমা নার্স বা ফার্মাসিস্টরা।

জানা যায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত ডিপ্লোমা নার্স হামিদুর রহমানের কক্সবাজারে বদলির আদেশ হয়েছে দুই বছর আগে। ওই বদলির আদেশ বাতিল বা স্থগিত করা হয়নি। কিন্তু এখনো তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

কাশিমপুর-৩ হাই সিকিউরিটি কারাগারে কর্মরত ডিপ্লোমা নার্স আবুল বাসারের তিনি বছর অতিক্রান্ত হয়েছে গত জুনে। স্বাভাবিকভাবে তার অন্যত্র বদলির আদেশ হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো তিনি সেখানে কর্মরত আছেন।

সূত্র আরও জানায়, জেলকোড অনুযায়ী অনেক বিষয়ের সঙ্গে সহকারী সার্জনদের সংশ্লিষ্টতা আছে। এ কারণে তাদের প্রতি সহনশীল থাকেন জেলার বা জেল সুপাররা। বন্দিদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে তারাই রিপোর্ট দেন। বন্দিদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টিমান থাকে না। এমনকি তাদের খাবারে মাছ, মাংস বা অন্যান্য উপদান যে পরিমাণে থাকার কথা, তা থাকে না।

এক্ষেত্রে সহকারী সার্জনরা যেন নেতিবাচক প্রতিবেদন না দেন, সেজন্য জেলার বা জেল সুপাররা তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেন। যেহেতু ডিপ্লোমা নার্স বা ফার্মাসিস্টরা কোনো ধরনের রিপোর্ট দেওয়ার সঙ্গে জড়িত না। তাই কর্মক্ষেত্রে তারা অনেকটা বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার।

ডিপ্লোমা নার্সরা দশম গ্রেডে ও ফার্মাসিস্টরা ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তা হিসাবে যোগদান করেন। অপরদিকে ডেপুটি জেলাররা ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পেতেন। বর্তমানে ১১তম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

ফার্মাসিস্ট ও ডেপুটি জেলাররা একই গ্রেডে যোগ দিলেও ডেপুটি জেলাররা পদোন্নতি পেয়ে জেল সুপার হয়ে যান। কিন্তু ডিপ্লোমা নার্স বা ফার্মাসিস্টদের পদোন্নতি হয় না। এমন প্রেক্ষাপটে তারা চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। গত বছরও চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছেন ১৬ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিপ্লোমা নার্স যুগান্তরকে বলেন, ‘অমরা সব সময় কারাগারের ভেতরে থেকে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু আমাদের কোনো ঝুঁকি ভাতা দেওয়া হয় না। অথচ ডেপুটি জেলাররা এ ভাতা পান। ঝুঁকি ভাতা না পাওয়া, পদোন্নতিবঞ্চিত করা, অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং জেল কর্তৃপক্ষের বিমাতাসুলভ আচরণসহ নানা কারণে ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টরা চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।’

জানতে চাইলে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কারাগারগুলোয় ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টের যেসব পদ শূন্য রয়েছে, সেগুলো পূরণের চেষ্টা করছি। নিয়ম অনুযায়ী একটি কারাগারে ফার্মাস্টি ও ডিপ্লোমা নার্স দুটিই থাকার কথা।

জনবল কম থাকায় আমরা সব কারাগারে ফার্মাসিস্ট অথবা ডিপ্লোমা নার্স যে কোনো একটি রাখছি। কোনো কারাগার একেবারে খালি রাখছি না। কোনো কারাগারে দুটিই (ফার্মাস্টি ও নার্স) আছে। তিনি আরও বলেন, দেশে কারাগারের সংখ্যা ৬৮টি। কিন্তু আমাদের নিজস্ব সহকারী সার্জন মাত্র পাঁচজন।

ওই পাঁচজন সার্বক্ষণিক কারা অভ্যন্তরেই থাকেন। বাকি কারগারগুলোয় দায়িত্ব পালন করেন সরকারের অন্য দপ্তর থেকে আসা সহকারী সার্জনরা। তাই অফিস টাইম শেষে তারা চলে যান। এ কারণে সরকারি ছুটির দিন বা অফিস টাইমের বাইরে তাদের পাওয়া যায় না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিপ্লোমা নার্স হামিদুর রহমানকে কক্সবাজারে বদলি করার পর তিনি তার সন্তানের পরীক্ষার কথা বিবেচনায় আরও কিছুদিন বর্তমান কর্মস্থলে থাকার আবেদন জানিয়েছলেন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মাসছয়েক সেখানে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। অনুমতির মেয়াদ অনেক আগেই শেষে হয়ে গেছে। শিগগিরই এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বদলি পদায়নে আভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে ডিআইজি (প্রিজন্স) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনেও পদোন্নতি না হওয়াসহ নানা কারণে ডিপ্লোমা নার্স ও ফার্মাসিস্টরা চাকরি ছাড়ছেন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের নলেজে আছে। শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে চায় বিপিসি

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করতে চায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান কমাতে ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কথা ভাবছে সংস্থাটি। বিপিসি বলছে, সরকার নির্ধারিত আগের দরে ডিজেল বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি লিটারে ১৩-১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতের বাজারের চেয়ে বাংলাদেশের বাজারে তেলের দাম কম হওয়ায় পাচারের আশঙ্কার কথাও ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানিয়েছে বিপিসি। চিঠিতে বিপিসি ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। শুধু তাই নয়, বিপিসি অন্য জ্বালানি তেলের মতো ডিজেল, অকটেন, কেরোসিন ও পেট্রোলের দাম নির্ধারণের ক্ষমতাও চাচ্ছে। লোকসান এবং পাচার রোধে প্রতিমাসে দাম সমন্বয় করতে চায় তারা।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের বিকল্প নেই। আগের দামে বিক্রি করতে গিয়ে বিশাল লোকসান হচ্ছে। পৃথিবীতে তেলের দাম বেড়ে গেছে। কয়েক গুণ বেড়েছে। খুব খারাপ অবস্থা।

করোনা মহামারির প্রকোপ কমার সঙ্গে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ৮৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন্স ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহদী হাসান যুগান্তরকে বলেন, তিনি মাস আগে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ৭০ ডলার ছিল, তখন থেকেই আমাদের লোকসান শুরু হয়েছে। দেশে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। তাতে লিটারে ১৩ থেকে ১৪ টাকা লোকসান হচ্ছে। মেহদী হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৭০ ডলার পর্যন্ত হলে দেশে ৬৫ টাকা লিটার ডিজেল বিক্রি করে ‘ব্রেক ইভেনে’ থাকা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর চেয়ে দাম কমলে লাভ থাকে, বাড়লে লোকসান হয়। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নেস অয়েলের দাম চলতি মাসেই ৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৯ টাকা করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন ডিজেল ও ফার্নেস তেল বিপণনে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। তেলের দাম আরও বাড়লে লোকসানটাও বাড়বে। বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চাহিদা পূরণে প্রতিবছর ৪০ লাখ টন ডিজেল আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। আকটেন আমদানি করা হয় এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার টন। প্রায় সমান পরিমাণ পেট্রোল উৎপাদন করা হয় দেশীয় উৎস থেকে। বিপিসি জানিয়েছে, আগে পেট্রোল ও অকটেন বিপণনে তাদের মুনাফা হতো। এখন লোকসান হচ্ছে।

সরকার সর্বশেষ ২০১৬ সালে যখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৬৫ টাকা ঠিক করে দেয়, তখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ ডলারের আশপাশে। তবে ডিজেলের লোকসানই বেশি ভাবাচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার হয়, এর ৭৩ শতাংশের বেশি ডিজেল। সড়ক ও নৌপরিবহণ, কৃষির সেচ পাম্প এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত ইতোমধ্যে দুইবার বাড়িয়েছে। আমাদের সঙ্গে তারতম্য থাকলে বর্ডার এলাকা থেকে তেল স্মাগল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

২০১৩ সালে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়। ২০১৬ সালে এসে দাম কমানোও হয়। ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের সময় প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রোল ৯৬ টাকা, কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ২০১৬ সালে লিটারপ্রতি ডিজেল ৬৫, কেরোসিন ৬৫, অকটেন ৮৯ ও পেট্রোলের দাম ৮৬ টাকা করা হয়। গত ২০ অক্টোবর আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলার। আর বাংলাদেশে লিটারপ্রতি এই ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। বিপিসির হিসাবে তাদের লোকসান হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৩ দশমিক ৭৭ টাকা। একইভাবে ফার্নেস অয়েলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৪৮৭ দশমিক ২১ ডলার, দেশে বিক্রি হচ্ছে ৫৯ টাকা, এতে লোকসান হচ্ছে ৫ দশমিক ৭৩ টাকা।

বিপিসি জানায়, গত ২৪ অক্টোবর ভারতে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৯৯ দশমিক ৪৩ পয়সা, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২৩ টাকা ২৪ পয়সা। সে হিসাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ডিজেলের দামের ব্যবধান লিটারপ্রতি প্রায় ৫৮ টাকা ২৪ পয়সা। এ কারণে বাংলাদেশের সরকারের ভর্তুকিতে দেওয়া কম দামের ডিজেল ভারতে পাচারের আশঙ্কা দেখছে বিপিসি। বিপিসির এক কর্মকর্তা জানান, এখন ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি বিভাগ। তবে আগে থেকেই জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল ও মেরিন ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করে বিপিসি। তিনি বলেন, একদিকে লোকসান এবং অন্যদিকে পাচারের কথা চিন্তা করে প্রতিমাসে দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন।

ফের আন্দোলনে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা, ভবনে তালা

সেমিস্টার, হল ও পরিবহন ফি হ্রাস এবং বিভাগ উন্নয়ন ফি বাতিলসহ ৭ দফা দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

বুধবার সকালে ৯টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন সমাবেশ করে। এ সময় তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে ৭ দফা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একপর্যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এছাড়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল রাজু বুধবার সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন।

আবদুল্লাহ আল রাজু বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি চলবে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এবং যতদিন শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস সৃষ্টি না হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও প্রক্টর নতুন উপাচার্য আসার পর আমাদের দাবি মানা হবে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আমরা দেখলাম আমাদের কোনো দাবিই মানা হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি ছিল হলের ভাড়া ৩৫০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা, পরিবহন ফি ৬০০ টাকার বদলে ৩০০ টাকা করা এবং ডিপার্টমেন্ট উন্নয়ন ফি ১৫০০ টাকা বাতিল করতে হবে। আগে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ ঘোষণার পর আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবিসহ একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের হেয়প্রতিপন্ন করে, আমাদের অবজ্ঞা করে কর্তৃপক্ষ তার পর দিনই আবার বর্ধিত ফিসহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাই এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না।

বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য ড.একিউএম মাহবুব বলেন, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ফি সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান করবো। ইতোমধ্যে আমরা করোনাকালের পরিবহন ফি এবং হল ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করেছি। এছাড়া আরও কিছু ফি কমানো হয়েছে। এরপরও শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি থাকলে আমি সেগুলো শুনবো। এসব বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড ও মন্ত্রণালয়ে যেসব নির্দেশনা আছে তাদের জানাবো। আমি একা কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি না।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. মোরাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মঙ্গলবার নতুনভাবে নির্ধারিত ফিসমূহ প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তি দেখার পর শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন শুরু করেন।

সেগুনবাগিচায় আবাসিক হোটেলে মিলল ঢাবি ছাত্রের লাশ, পাশে সুইসাইড নোট

নিখোঁজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর লাশ মিলল রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে। বুধবার রাত দেড় টার দিকে কর্ণফুলী আবাসিক হোটেলের দরজা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পাশে পড়ে ছিল সুইসাইডাল নোট।

ওই ছাত্রের নাম আদনান সাকিব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। মাস্টার্স করছিলেন অন্য একটি বিভাগে। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলে। তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারির ডিমলার সোনাখুলিতে। বাবার নাম আবদুল মালেক।

মঙ্গলবার থেকে সাকিবকে পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় জিডি করেন। পরে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং করে হোটেল কর্নফুলীর ১০৭ নম্বর কক্ষ থেকে বুধবার রাত দেড় টায় লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ধারণা করছে সাকিব আত্মহত্যা করেছেন। মৃত্যুর আগে তিনি সুইসাইডাল নোট রেখে যান। সেখানে তিনি লেখেন, তার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নন।

পুলিশ কর্ণফুলী হোটেরের রেজিস্ট্রার খাতা ঘেটে দেখে, গত মঙ্গলবার ওই রুম ভাড়া নেন সাকিব।

শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ সাহা যুগান্তরকে বলেন, বুধবার রাত ৯টায় সাকিবের স্ত্রী নুসরাত আফরিন থানায় এসে জানান তার স্বামীকে দুদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। পরশুদিন দুপুরে শেষ কথা হয়, এরপর আর পাওয়া যায়নি। তিনি শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং- ১৯৫৪) করেন। আমরা সাকিবের মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাকিং করি। সেখানে দেখা যায়, সেগুনবাগিচা এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে তার অবস্থান দেখাচ্ছে। পাশের কর্ণফুলী আবাসিক হোটেলে খোঁজ নিলে তার সন্ধান মেলে। আমরা ১০৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করলেও তিনি দরজা খুলেনি। পরে দরজা ভেঙে দেখি তিনি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, সাকিব একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছে। সেখানে লিখেছেন- তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। তিনি স্ত্রীকে ভালো বলে গেছেন। তার স্ত্রীকে দোষারোপ না করার কথা লিখেছেন। সুইসাইড নোটে ১২ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তার কাছে ১ সেকেন্ড ১ বছরের মতো মনে হয় বলেও লেখা আছে।

পুলিশ জানায়, সাকিবের স্ত্রী নুসরাত আফরিনকে লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনা হয়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, লাশটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

এখনো অন্তরালে পপি

একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়িকা পপি করোনাকালেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিনয়ে নিয়মিত ছিলেন। মাঝে মধ্যে নাটকেও অভিনয়ে দেখা যেত তাকে। কয়েক মাস আগে নিয়মিত অভিনয়ের ফাঁকেই আকস্মিক অন্তরালে চলে যান তিনি।

প্রথমদিকে পপির এ অনুপস্থিতিকে স্বাভাবিক মনে করেছিলেন মিডিয়া সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সময় যতই এগোতে থাকে ততই ধোঁয়াশা তৈরি হতে থাকে। বিশেষ করে চ্যানেল আই প্রযোজিত এবং রাজু আলীম ও মাসুমা তানি পরিচালিত ‘ভালোবাসা প্রজাপতি’ নামের একটি ছবির শুটিং অর্ধসমাপ্ত রেখেই নিরুদ্দেশ হন পপি। এটি ছাড়া আরও কিছু কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পপি। কিন্তু সবাইকে অপেক্ষায় রেখে অন্তরালবাসী হন এই চিত্রনায়িকা।

তার এ অনুপস্থিতির কারণে মিডিয়ায় নানা মুখরোচক কথা চাউর হয়েছে। কেউ বলছেন তিনি বিয়ে করে সংসারি হয়েছেন। আবার অনেকেই বলছেন যে পপি সন্তানসম্ভবা। যারা কারণে তার বর্তমান সময়ের অবয়ব কাউকে দেখাতে চাইছেন না। তাই একেবারে লুকিয়ে জীবনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবারের লোকদের সঙ্গেও থাকছেন না তিনি এবং পরিবার থেকে নাকি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন পপি। কিন্তু তাকে নিয়ে এত আলোচনা সমালোচনা চললেও এখন পর্যন্ত মিডিয়ায় কিংবা ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজের বর্তমান অবস্থান নিয়ে মুখ খোলেননি পপি। কিছুদিন আগে জানা গিয়েছিল তিনি গাজীপুরের এক বাগান বাড়িতে বসবাস করছেন। কিন্তু বর্তমানে এ খবরটিরও সত্যতা নির্ণয় করা যাচ্ছে না।

কেউ কেউ আবার বলছেন যে, পপি হয়ত দেশান্তরী হয়েছেন। তবে তার ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের হয়ত পপির ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। কিন্তু আদৌ তিনি মিডিয়ার সামনে আসবেন কিনা তা নিয়েও শঙ্কা আছে অনেকের মনে।

এক গানেই শাকিলার বাজিমাত

কারও ভাগ্য এমন, অনেক বেশি কাজ লাগেনা আলোচনায় আসতে। এই প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় তারকা মডেল অভিনেত্রী শাকিলা পারভীনের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি গানে মডেল হিসেবে কাজ করেই তিনি আলোচনায় জায়গা করে নেন তিনি। ‘তোর মন পাড়ায়’ শিরোনামের গানে মডেল হয়েই মূলত আলোচনায় চলে এসেছেন শাকিলা। জিসান খান শুভর লেখা ও সুরে অয়ন চাকলাদারের সঙ্গীতায়োজনে মাহাদী সুলতানের গাওয়া ‘তোর মন পাড়ায়’ গানটিই শাকিলার ক্যারিয়ারের শুভসূচনা। এখনো তাকে এ গানের প্রাসঙ্গিকতা দিয়েই সবার মাঝে খুব সহজেই পরিচিত হতে হয়। গানটি প্রকাশ পায় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। এখন পর্যন্ত গানটি ইউটিউবে ১১ কোটি ৫৭৬ লাখেরও বেশি ভিউয়ার্স উপভোগ করেছেন। দিন দিন এ গানের ভিউ বেড়েই চলেছে। অবশ্য এর মধ্যে শাকিলা নতুন আরও কিছু মিউজিক ভিডিওর মডেল হিসেবে কাজ করেছেন। কিন্তু কোনটাই এ গানের জনপ্রিয়তাকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে শাকিলা বলেন, তোর মন পাড়ায় গানটি আমার ক্যারিয়ারের জন্য ছিল আশীর্বাদ। এ গানটিই মূলত শ্রোতা দর্শকের মধ্যে আমাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আমি ভীষণভাবে কৃতজ্ঞ তোর মন পাড়ায় গানটির পুরো টিমের কাছে। গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করেছেন সাইফুল ইসলাম রিমন। বেশ যত্ন নিয়ে তিনি এটি নির্মাণ করেছিলেন।

এরই মধ্যে অনুপমের ইউটিউব চ্যানেলে নতুন করে গাওয়া ‘বুক চিন চিন করছে হায়’ গানে মডেল হয়েও আলোচনায় এসেছেন শাকিলা। জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ন্যান্সির গাওয়া ‘ভুল’ গানেও মডেল হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ধ্রুব মিউজিক স্টেশনে প্রকাশিত ‘সোনা বন্ধুরে’ গানেও মডেল হয়েছেন তিনি। তবে শাকিলার খুব ইচ্ছে তাহসানের কোন গানে মডেল হিসেবে কাজ করার। বলা যায় এটা তার অনেক দিনের স্বপ্ন। শাকিলা প্রথমবারের মতো সিনেমাতে অভিনয় করেছেন। জসীম উদ্দিন জাকির পরিচালিত ‘কলিজায় দাগ লেগেছে’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগে উইন্ডিজ দলে দুঃসংবাদ

বিশ্বকাপ মিশনে এসে একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে ক্যারিবীয় শিবিরে। প্রস্তুতি ম্যাচের আগে চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছিলেন দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার ফাবিয়ান অ্যালেন।

এবার চোটে পড়েছেন দলটির বাঁহাতি পেসার ওবেড ম্যাককয়।

সুপার টুয়েলভে ২৯ অক্টেবর বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে দেখা যাবে না ম্যাককয়কে।

ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে ম্যাককয়ের ডান পায়ে চোট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২৪ বছর বয়সি এই পেসার কবে ও কীভাবে চোট পেয়েছেন, তা অবশ্য জানানো হয়নি। তবে গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে পারেননি তিনি।

গত শনিবার সুপার টুয়েলভে খেলেছিলেন ম্যাককয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে হেরে যান ক্যারিবীয়রা।

ওই ম্যাচে দুই ওভার বল করে ১২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন ম্যাককয়।

ম্যাককয়ের চোটের কারণে নিজেদের পরের ম্যাচের আগে দলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তার জায়গায় স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এতদিন রিজার্ভ হিসেবে দলের সঙ্গে থাকা অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার।

ম্যাককয়ের বদলিতে হোল্ডারকে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটি।

সে অর্থে বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ক্যারিবীয়দের হয়ে এখন পর্যন্ত ২৭টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২৯ বছর বয়সি জেসন হোল্ডার। ২০ ওভারের সংস্করণে দেশের হয়ে সবশেষ গত আগস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি।

তথ্যসূত্র: ক্রিকবাজ

চাকরি হারালেন বার্সা কোচ কোম্যান

দীর্ঘ কয়েক মাস জল্পনা-কল্পনার পর বার্সেলোনায় কোম্যান যুগের অবসান ঘটল। ‘ছাঁটাই’ করা হলো তাকে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৪টায় বার্সেলোনার টুইটার অ্যাকাউন্টে লেখা ভেসে উঠল— ‘মূল দলের কোচের দায়িত্ব থেকে রোনাল্ড কোম্যানকে মুক্তি দিয়েছে বার্সেলোনা।’

কোম্যানের অধীনে বেশ কিছু দিন ধরে ব্যর্থ সময় পার করছিল বার্সা।

এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে বার্সার অর্জন ৩ পয়েন্ট। আর লিগে ১০ ম্যাচে অর্জন মাত্র ১৫ পয়েন্ট!

কাতালান ক্লাবের এই ম্লান পারফরম্যান্সের পর কোচ কোম্যানের ওপর আর আস্থা রাখতে পারেননি কর্মকর্তারা।

বুধবার দুর্বল দল রায়ো ভায়োকানোর কাছেও ১-০ গোলে হেরে বসে বার্সেলোনা।

এর পরই কোচ হিসেবে কোম্যানের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

কোম্যানকে অব্যাহতি দিয়ে বৃহস্পতিবার বার্সার ওয়েবসাইটে এক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে— ‘মূল দলের কোচের দায়িত্ব থেকে রোনাল্ড কোম্যানকে মুক্তি দিয়েছে বার্সেলোনা। রায়ো ভায়োকানোর কাছে হারের পর ক্লাবের সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা তাকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। সিউতাত এস্পোর্তিভায় বৃহস্পতিবার দলের খেলোয়াড়দের বিদায় বলবেন রোনাল্ড কোম্যান। ক্লাবকে সেবা দেওয়ার জন্য বার্সেলোনা তাকে ধন্যবাদ দিতে চায় এবং তার পেশাদার ক্যারিয়ারের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।’

কোম্যানের অধীনে বার্সেলোনা ৬৭ ম্যাচ খেলেছে। এতে ৩৯টি জয়, ১২টি ড্র রয়েছে। ১৬টি ম্যাচে হেরেছে বার্সা। গত মৌসুমে কোম্যানের অধীনে কোপা দেল রে জিতেছে বার্সেলোনা। কিন্তু এই মৌসুমে বার্সার অবস্থা শোচনীয়। ১৩ ম্যাটে জয় ৫টিতে। হেরেছেও ৫টিতে। যে কারণে চাকরিচ্যুত হলেন এই ডাচ কোচ।

তথ্যসূত্র: এফসি বার্সেলোনা

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ-গোলাগুলি, ২ যুবক নিহত

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দুপক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— একই এলাকার হিরণ মিয়া (৪৮) ও সাজিব (২০)।

রায়পুরা থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কাচারিকান্দিতে আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে বড় শাহ আলম গ্রুপ ও ছোট শাহ আলম গ্রুপের মধ্যে টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে ছোট শাহ আলম পক্ষের দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন। আহতদের রায়পুরা ও ভৈরব উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।