রবিবার ,৩ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 642

মানুষের ভালবাসার প্রতি বিশ্বাস উঠে যেতে পারে: অনুপম

বিয়ে বিচ্ছেদ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অনুপম রায় বলেছেন, যা হয়েছে, তা আমার জীবনের বড় ক্ষতি। সেই জায়গায় মানুষের ভালবাসার প্রতি বিশ্বাস উঠে যেতে পারে। কিন্তু এখন তো আমি দুঃখের সংকীর্ণ লেন্স দিয়ে দেখছি। আমার জীবনে যা ঘটেছে, তা দিয়ে একটা বড় জিনিসকে বিচার করা যায় না।

তিনি বলেন, আমার তো অনেক ভাল দিনও গিয়েছে। আমি ভালবেসেছি। ভালবাসা পেয়েওছি। অনেক স্মৃতি আছে, যেগুলো ভীষণ ভীষণ কাছের। তা হলে কি সেগুলোর কোনও দাম নেই? সেগুলোর তো দাম আছে।

অনুপম রায় বলেন, আজ আমার খারাপ সময় চলছে। একটা বিশ্রী জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। তাই বলে পুরনো সময় মিথ্যা হয়ে যায়নি। একটা দীর্ঘ সম্পর্কে থাকলে সেই মানুষের প্রভাব জীবনে থাকে। তাই আমি ভালবাসার প্রতি আস্থা হারাতে চাই না।

ভিকি-ক্যাটরিনার বিয়েতে অতিথি হবেন কারা?

ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলিউড অভিনেতা ভিকি কৌশল এবং অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কইফের বিয়ের তোড়জোড়। রাজস্থানে পৌঁছে গেছেন ভিকির সহকারীরা। সেখানেই তাদের বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, তাদের বিয়েতে বলিউড তারকাদের মেলা বসতে যাচ্ছে!

ভিকি-ক্যাটরিনার বিয়েতে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় কারা থাকছেন?

শোনা যাচ্ছে, ভিকি-ক্যাটরিনার বিয়ের অতিথির তালিকায় রয়েছেন— করণ জোহর, আলি আব্বাস জাফর, কবীর খান, মিনি মাথুর, রোহিত শেটি, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, কিয়ারা আদবাণী ও বরুণ ধাওয়ানের মতো তারকারা।

রাজস্থানের সাওয়াই মাধোপুর জেলার সিক্স সেন্সেস ফোর্ট হোটেলে বসতে চলেছে বিয়ের আসর। ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধুমধাম করে বিয়ের অনুষ্ঠান চলবে বলে শোনা যাচ্ছে।

বিয়ের জন্যে ইতিমধ্যেই ৭০০ বছরের পুরনো এই দুর্গ হোটেল পুরোপুরি বুকিং করে নেওয়া হয়েছে। কারণ, দুই পরিবারেরই একাধিক আত্মীয় নভেম্বরের শেষেই চলে আসবেন রাজস্থানে। তারা সেখানেই থাকবেন। একাধিক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে নিযুক্ত করা হয়েছে এই বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য।

যদিও এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি ভিকি বা ক্যাটরিনার কেউ।

‘টস’ জয় মানেই চ্যাম্পিয়ন!

রোববার রাতে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড। এ ম্যাচের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়া যাবে।

অতীতে একবার ফাইনালে খেলেও শিরোপা জিততে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম ফাইনালে খেলছে।

এবারের ফাইনাল ম্যাচটি অনেকটা টস ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। কারণ দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সবশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতে জিতেছে পরে ব্যাট করা দল।

তার মানে বোঝাই যাচ্ছে ফাইনালেও টস অনেক বড় ফ্যাক্টর। কারণ টস জয় মানেই ম্যাচ জয় প্রায় নিশ্চিত। বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ফাইনালে যারা টস জিতবে জয়ের পাল্লা তাদের দিকেই ঝুঁকে যাবে। তাদেরই শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা বেশি।

তবে এর ব্যতিক্রমও হতে পারে। টস জয়ী দলই যে শিরোপা জিতবে এটা হলফ করে বলা মুশকিল। হয়তো টস জয়ে ম্যাচ জয়ের দিক থেকে এগিয়ে থাকবে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সও লাগবে। নির্দিষ্ট দিনে যারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারবে তারাই শিরোপা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবে।

ফাইনালের আগে আমাদের কেউ পাত্তাই দেয়নি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের ফাইনালে রোববার নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, আমরা ফাইনালে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। আমার মনে হয়, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি দুর্দান্ত খেলা হতে চলেছে। কারণ ওরা অসাধারণ দল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে কেউই অস্ট্রেলিয়াকে খুব বেশি গুরুত্ব দেয়নি। তার বড় কারণ হলো অজিরা খুব একটা ভালো ছন্দে ছিল না।

এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, আমাদের নিয়ে কেউ কোনো আশা করেনি। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমরা এখানে কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এসেছি। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড দুই দলের দুর্দান্ত ইতিহাস রয়েছে। আমাদের মধ্যে সম্পর্কও খুব ভালো। ফাইনালে খেলাটা রোমাঞ্চকর হবে।

তিনি আরও বলেছেন, ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর আমরা হতাশ হয়েছিলাম। তবে কয়েক দিনের গ্যাপটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা সেই সময়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম।

ফাইনালে টস জয় একটা বড় ফ্যাক্টর হবে। তার কারণ দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সবশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে পরে ব্যাট করা দল ১০ ম্যাচে জয় পেয়েছে।

টস প্রসঙ্গে অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, আইপিএল এবং বিশ্বকাপে রান তাড়া করে জয় পাওয়ারই ট্রেন্ড রয়েছে। কিন্তু ফাইনালে কী সিদ্ধান্ত নেব বা কী হবে- এসব নিয়ে বেশি তাড়াহুড়ো করতে রাজি নই। ফাইনালে যে দল সুযোগগুলো সবচেয়ে বেশি কাজে লাগাতে পারবে, তার ওপর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে।

গাইবান্ধায় নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যকে হত্যার ঘটনায় মামলা

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় নির্বাচিত হওয়ার পর দিন ইউপি সদস্য আব্দুর রউফকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

শনিবার রাত ১১টার দিকে সদর থানায় নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে আরিফ মিয়াকে (৩৮) প্রধান আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে প্রধান আসামি আরিফ মিয়া।

আরিফ মিয়া লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর মাগুরাকুটি গ্রামের হায়দার মিয়ার ছেলে।

সদর থানার ওসি মো. মাসুদার রহমান জানান, রাত ১১টার দিকে সদর থানায় নিহতের বড় বোন মমতাজ বেগম বাদী হয়ে লিখিত এজাহার দাখিল করেন। পরে রাতেই এজাহারটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলার প্রধান আসামি আরিফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে গাইবান্ধার সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই ইউপি সদস্য আব্দুর রউফকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

আব্দুর রউফ ওই এলাকার মৃত ফজলুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নির্বাচন বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয়। তিনি ১নং ওয়ার্ডে মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে আব্দুর রউফ ৭৮৪ ভোট পেয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন।

এরই পর দিন শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আব্দুর রউফ লক্ষ্মীপুর বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে গোবিন্দপুর মসজিদসংলগ্ন সড়কে তার ওপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

সোনারগাঁওয়ে পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল কার্যালয় উদ্বোধন

ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পৌরসভার আদমপুর বাজারে শনিবার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল পৌরসভা কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী।

অনুষ্ঠানে সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট নূরুল হুদা, মোহাম্মদ আলী, সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল সোনারগাঁও উপজেলার সাবেক কমান্ডার সোহেল রানা, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক ছগির আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গাজী মুজিবুর রহমান, নাসরিন সুলতানা ঝরা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার বাতেন মোল্লা, মফিজুল ইসলাম খান, ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল ইসলাম মানিক, পৌর আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফ খোকন, মোতালেব মিয়া স্বপন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির খোকন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সদস্য আলেয়া আক্তার, বিল্লাল হোসেন, মাহফুজুর রহমান, শিপন কাজী, আমিনুল ইসলাম, বাদশা সামস লিটন প্রমুখ।

এ সময় সোনারগাঁও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাসভা শেষে অতিথিরা আদমপুর বাজার ঘুরে দেখেন ও আদমপুর বাজারকে আরও আধুনিক বাজার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

আর্মেনিয়ার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আজারবাইজানের

যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে প্রতিবেশী আজারবাইজানে নতুন করে উসকানিমূলক হামলার অভিযোগ উঠেছে।

আজারবাইজানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, শনিবার আজারবাইজানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে গুলিবর্ষণ করেছে আর্মেনিয়া। খবর আনাদোলুর।

এতে আরও বলা হয়, আর্মেনীয় বাহিনী সীমান্তের ওপার থেকে আজারবাইজানের কালবাজার অঞ্চলে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ৪৪ দিনের যুদ্ধে আর্মেনিয়ার কাছ থেকে বিতর্কিত কারাবাখ অঞ্চল দখল করে নেয় আজারবাইজান।

৩০ বছর এলাকাটি পুনরুদ্ধার করে আজারবাইজান। পরে গত বছরের ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।

হতাশা কাটছে না ছুটিতে থাকা মালয়েশিয়া প্রবাসীদের

হতাশা কাটছে না ছুটিতে থাকা মালয়েশিয়া প্রবাসীদের। সহসা ফিরতে পারছেন না কর্মস্থলে।

করোনাকালে যেসব কর্মী বৈধভাবে নিজ দেশে গিয়েছিলেন, তারা মালয়েশিয়া সরকারের আরোপিত করোনার বিধিনিষেধ শিথিল করায় কেউ কেউ ফিরতে পারলেও অনেকেই মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারছেন না।

আটকেপড়া অসংখ্য কর্মী যাদের বৈধ ভিসা ও পারমিট রয়েছে, তারা মাই এন্ট্রি পাসের মাধ্যমে অনুমতি থাকলেও যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের মাই ট্রাভেল পাস অ্যাপসের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে কখন মালয়েশিয়ায় ফিরতে পারবেন বিষয়টি নির্ভর করছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন ও নিয়োগকর্তার ওপর। কারণ নিয়োগকর্তা যদি ইমিগ্রেশন থেকে অ্যাপ্রুভাল না করে তা হলে মালয়েশিয়ায় ফেরা কঠিন হবে।

কারণ চলমান রিক্যালিব্রেশন প্রক্রিয়ায় দেশটিতে অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে ৩১ ডিসেম্বর। এ প্রক্রিয়ায় অবৈধ কর্মীদের বৈধ করা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে মালিকদের।

এদিকে যাদের বৈধ ভিসা ও পারমিট রয়েছে, তারা মাই এন্ট্রি পাসের মাধ্যমে ১৫ নভেম্বর থেকে সাত দিনের হোটেল ভাড়া বাবদ ১ হাজার ৫০ রিংগিত, করোনার পিসিআর টেস্টের জন্য পাঁচশ রিংগিত এবং বিমান ভাড়া মিটিয়েই দেশটিতে প্রবেশ করতে পারবেন প্রবাসীরা।

ডিমের দাম বৃদ্ধি পুষ্টিতে ঘাটতি

সপ্তাহে তিন দিন ভাঙা মুরগির ডিম কিনতেন সুরুজ মিয়া। পেশায় রিকশাচালক সুরুজ পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর একটি বস্তিতে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কন্যাশিশুর সঙ্গে তার ছয় বছরের এক ছেলেও রয়েছে। ইদানীং তিনি ভাঙা ডিমও কিনতে পারেন না। চার-পাঁচ টাকার ভাঙা ডিম এখন সাত থেকে আট টাকায় বিক্রি হয়।

রংপুর থেকে আসা সুরুজ জানান, ‘হামরা গরিব মানুষ বাহে, এলা ডিম কিনে খাবার মুরদ নাই। ডিমের দাম দেখি-হামার ছোলপোলগুলোও এখন ডিম খাবার চায় না।’

বিক্রেতারা জানান, ডিম এখন দামি, তাজা ডিমের সঙ্গে ভাঙা ডিমের দামও বেড়েছে। সুরুজের সঙ্গে তার স্ত্রী ও সন্তানরাও ডিমের কী উত্তাপ তা টের পাচ্ছে। পুষ্টিবিদরা জানান, পুষ্টির গুরুত্বের দিক থেকে ডিম অন্যতম। ডিমের দাম বাড়লে তো অপুষ্টি মানুষের সংখ্যাও বাড়ে। পুষ্টির ঘাটতির সঙ্গে অসুখ-বিসুখও বেড়ে। অপুষ্টি এখন অধিকাংশ মানুষের নিত্যসঙ্গী।

রাজধানী থেকে বিভাগীয় শহর, মহল্লা থেকে গ্রাম-সর্বত্রই ডিমের বাজার চড়া। যে মুরগির (পোলট্রি) ডিম (একটি) কয়েকদিন আগেও সাড়ে ছয় টাকা থেকে সাত টাকা দরে পাওয়া যেত। সেখানে এখন কোথাও সেটির দাম ১০ টাকা, কোথাও ১১ টাকা। এমন ঊর্ধ্বমুখী দাম কোন পর্যন্ত যাবে তা ভেবে বেশ চিন্তিত মধ্য-নিুবিত্তের মানুষরা।

ভোক্তাদের বক্তব্য, উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও সবজি-নিত্যপণ্যে এখন হাত ছোঁয়ানো যায় না। গরু-খাসি কিংবা মহিষের মাংস তো বহু দিন ধরেই সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাস তিনেক আগেও রাজধানীর কাওরান বাজারের ডিমপট্টির পাইকারিবাজারে এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ছিল ৭৬ টাকা থেকে ৭৮ টাকা।

তবে মাসখানেক আগে আচমকা দাম বেড়েছে বলে জানান ডিমের পাইকারি ব্যবসায়ী বিমল সাহা।

সেগুনবাগিচা এলাকার দোকানদার মিলন শাহ জানান, দেড় মাস আগে এক ডজন ডিম খুচরা বিক্রি করেছেন ৮০ থেকে ৮৫ টাকায়।

গুলিস্তান ফুটপাতের এক ডিমবিক্রেতা (ডিমের রোল) জানান, ‘ম্যালা দিন আগে ডিমের রোল (এগরোল) বেচসি ১২ ট্যাহা থেইকা কুড়ি ট্যাহা। এহন বেচসি ২৫ ট্যাহা থেকে ৩০ ট্যাহা। ডিম বেশি দাম দিয়া কিনি- হেইলাইগ্যা রোল-অ বেশি দামে বেচি।’

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় একটি ব্যাংকে আয়া’র কাজ করেন রহিমা খাতুন। মাস শেষে এক হাজার ৫০০ টাকা পান। কমলাপুরের রেললাইন ঘেঁষা ১০ ফুট বাই ৮ ফুটের একটি ঝুপড়িতে ৫০০ টাকায় দুজন মিলে থাকেন। মতিঝিল কলোনিবাজার থেকে তিনি নামেমাত্র বাজার করেন। ভাজা ডিমের ঝোল তার বেশ প্রিয়। কিন্তু এখন তার ডিম কেনার সাহসই হয় না। আর তার ডিম খাওয়া তো দূরের কথা। এমন চিত্র শুধু রাজধানীতে নয়। দেশের অনেক জায়গায়ও ডিমের খুচরা বাজার দর অনেক চড়া।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, ডিম ব্যবসায়ী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারিকালেও ডিমের বাজার এমন চড়া হয়ে ওঠেনি। উৎপাদন প্রায় শতভাগ হলেও ডিমের দাম বাড়ছে।

খামারি-পাইকারি বিক্রেতারা জানান, পোলট্রি খাদ্যের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এ কারণে বাধ্য হয়েই ডিমের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আবার খুচরা বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছামতো ডিমের দাম বাড়াচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন চার কোটির বেশি ডিম উৎপাদন হয়। এক লাখ পোলট্রি খামারের সঙ্গে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ সম্পৃক্ত।

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) যোগাযোগ ও মিডিয়া উপদেষ্টা সাজ্জাদ হোসেন শাহীন বলেন, পাইকারি বাজারে ১০ নভেম্বর লাল ডিম প্রতিপিসের দাম ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা, সাদা ডিমের দাম ৭ টাকা ৫০ পয়সা। রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরে ডিমের দাম একই দিন কম-বেশি হয়। খুচরা বিক্রেতা ডিমের দাম বেশি রাখলে আমাদের কিছুই করার থাকে না। বর্তমানে উৎপাদন প্রায় শতভাগ। তবে পোলট্রি ফিডের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এতে ডিমের দাম বাড়ে।

ডিম ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গাজীপুর খামার থেকে পাইকারি প্রতিপিস ডিম ৮ টাকা ১০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ৯৭ টাকা ২ পয়সায় এক ডজন বিক্রি হয়েছে। আর রাজধানীতে প্রতিপিস খুচরা ডিম ১০ থেকে ১১ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক ডজন ডিম ১২০ টাকা থেকে ১২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাস দেড়েক আগেও খুচরা ডিমের ডজন ছিল ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে।

রাজধানীর মতিঝিলের একটি বেসরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক নার্গিস আক্তার শিউলি জানান, শুধু রাজধানী নয়, সর্বত্র সন্তানদের ডিম খাওয়াতে অভিভাবকরা পছন্দ করেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর টিফিনে ডিম থাকে। কিন্তু ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকায় এক হালি ডিম কিনতে তাদের অভিভাবকদের চিন্তা বেড়েছে।

মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আমেনা খাতুন জানায়, তাদের ফেলে বাবা অন্যত্র চলে গেছে। একটি বস্তিতে মায়ের সঙ্গে সে থাকে। স্কুলে তার টিফিন আনা হয় না। আগে বাসায় মাঝেমধ্যে ভাজা ডিম দিয়ে ভাত খেতে পেত। এখন তার মা ডিম কেনে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বলেন, ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত উচ্চমানের। ডিম মস্তিষ্ক আর পেশি গঠনে এবং রোজকার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ডিম হলো সবচেয়ে বেশি পুষ্টিতে ঠাসা খাবার। লাল ডিম ও সাদা ডিমে প্রোটিন ও পুষ্টিগুণের কোনো ফারাক নেই। তাই একে ‘সুপার ফুড’-এর শিরোপা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শিশু থেকে বয়স্ক সবার পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিম ও ডিম উৎপাদনে ভর্তুকি এবং প্রণোদনা দেওয়া উচিত। ডিম সব সময় নিুবিত্তদের নাগালের মধ্যে থাকা উচিত। কারণ ডিমের দাম বাড়লে মধ্যবিত্তের ঘরে পুষ্টিতে আঘাত আসে।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অধ্যাপক প্রদীপ কুমার কর্মকার বলেন, বিশ্বের এমন কোনো হাসপাতাল নেই যেখানে রোগীর খাদ্যে ডিম দেওয়া হয় না। সবখানে ডিম থাকবেই।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের প্রফেসর ড. শওকত আরা শাকুর মিলি যুগান্তরকে বলেন, অসুস্থ ব্যক্তিদের অন্যতম পুষ্টিকর খাবার হলো ডিম। চোখ ভালো রাখতেও ডিমের কোনো জুড়ি নেই। একমাত্র ডিমে আছে সঠিক পরিমাণে ক্লোরিনা। তাই বুদ্ধি বাড়াতে আর স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে ডিম উপযুক্ত খাদ্য। ডিমে থাকা লিউটেইন ও জিআক্সানথিন চোখ ভালো রাখে। এ কারণে ডিমের দাম সব মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, কী পরিমাণ ডিম উৎপাদন হলো সেই হিসাব মুখ্য নয়। ডিমের দাম কমিয়ে সবার ক্রয়সীমার মধ্যে রাখাই মুখ্য হওয়া উচিত।

পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো জানান, ডিম নিয়ে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। ডিমের রঙ বদলায় কেবল মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। লাল ও সাদা দুই ধরনের ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায় একই। ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট (দ্রবণীয় মাত্র ১.৫ গ্রাম) থাকে।

তিনি বলেন, কাঁচা ও অতিরিক্ত তেলে না ভেজে সিদ্ধ ডিম প্রতিদিনের মেনুতে রাখা উচিত।

সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে ডিমের দাম রাখা উচিত মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, খুচরা বাজারে ডিমের হালি ৩০ টাকার মধ্যে থাকা উচিত। সাধারণ মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিম উৎপাদনে ভর্তুকি দেওয়া হোক।

পুষ্টিবিশেষজ্ঞরা জানান, ডিমে অনেকটা কোলেস্টেরল আছে। কিন্তু তা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না। বরং হার্টের উপকারী হাই ডেনসিটি কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) পরিমাণ বাড়িয়ে হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। হার্টের অসুখ বা কোলেস্টেরলের ভয়ে যারা ডিম খেতে ইতস্তত করেন তাদের আশ্বস্ত করেছেন পুষ্টিবিদরা।

খালেদা জিয়ার জন্য গান গাইলেন কানাডিয়ান শিল্পী

দীর্ঘদিন যাবৎ রাজনীতি থেকে দূরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ভয়েস ফর বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে কানাডিয়ান শিল্পী ডায়ান হৃদয় বিদারক কণ্ঠে তার মুক্তির আবেদন সুরের মাধ্যমে তুলে ধরেন।

এই বিষয়ে ভয়েস ফর বাংলাদেশ ডেমোক্রেসি অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়াস মাহমুদ বলেন, ডায়ানের গান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে ঝড় তুলেছে। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। ওনার শারীরিক অবস্থার যে অবনতি দিন দিন ঘটছে তার জন্য দরকার উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার। আমরা আশা করি অতি শীঘ্রই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন এবং উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবেন।