শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 553

৩৭৮ অডিটর নিয়োগ দেবে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়

জনবল নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়। এই পদে ৩৭৮ জনকে নেবে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম : অডিটর (গ্রেড-১১)
পদ সংখ্যা: ৩৭৮ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে।
বেতন: ১২,৫০০/- থেকে ৩০,২৩০/-

বয়স: ২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি হিসাবে সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং ২০২০ সালের ২৫ মার্চ হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর হলে আবেদন করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://cga.teletalk.com.bd/-এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ২৭ জানুয়ারি ২০২২ বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

হঠাৎ হাত-পায়ে ব্যথা দেখা দিলে কী করবেন?

শীতকালে শরীরের পুরনো ব্যথাগুলো মাঝেমধ্যেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ভারি জিনিস ওপরে তুললে কিংবা নড়াচড়ার সময়ও কোমর, হাত-পা ও মাংসপেশিতে ব্যথা হয়। হঠাৎ এ ধরনের ব্যথা দেখা দিলে সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। নতুবা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবুল হাসান মুহম্মদ বাশার।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় ‘অ্যাকিউট’ ও ‘ক্রনিক’- দুটো বহুল প্রচলিত শব্দ। অ্যাকিউট মানে স্বল্পমেয়াদ আর ক্রনিক মানে দীর্ঘমেয়াদের ব্যাপার।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া এমন একটা পরিস্থিতি যেখানে ধমনিতে ব্লকের ঘটনা ঘটে সহসা এবং এর বহিঃপ্রকাশ একেবারে নাটকীয়।

ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়াতে এ ঘটনা দীর্ঘমেয়াদি ঘটে ও এর লক্ষণগুলো একটু একটু করে ধাপে ধাপে প্রকাশিত হয়।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার কারণ

আঘাতের কারণে রক্তনালি ছিঁড়ে কেটে বা থেঁতলে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো বাদ দিলে অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার কারণগুলো মোটামুটি নিম্নরূপ—

হার্ট বা হৃৎপিণ্ড

রক্ত তরল অবস্থায় রক্তনালির ভেতর দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে সঞ্চালিত হয়। রক্তনালি বা হৃৎপিণ্ডের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াটা অস্বাভাবিক এবং বিপজ্জনক। বিভিন্ন কারণে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে যেতে পারে।

জমাট বাঁধা রক্তের এ টুকরো রক্তস্রোতের সঙ্গে প্রবাহিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে শরীরের যে কোনো জায়গায় গিয়ে পৌঁছতে পারে এবং সেখানকার রক্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। মস্তিষ্কে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তাকে স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।

হাত বা পায়ের ধমনি বন্ধ হলে ঘটনাটি পরিচিত হয় অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া নামে। হৃৎপিণ্ডের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার অনেক কারণ আছে। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে নিচের কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সুস্থ হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিক অবস্থায় একটা নিয়মিত ছন্দে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। অনেক সময় এ ছন্দের ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। হৃৎপিণ্ডের ছন্দসংক্রান্ত সমস্যাগুলোর অন্যতম হলো অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন।

এতে বাম অলিন্দ নামে হৃৎপিণ্ডের একটা বিশেষ প্রকোষ্ঠ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ও অনিয়মিতভাবে সংকুচিত এবং প্রসারিত হতে থাকে। ফলে এ প্রকোষ্ঠের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

ছন্দের এ ব্যত্যয় বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— মাইট্রাল ভাল্ব (Mitral Valve) নামে হৃৎপিণ্ডের একটি বিশেষ কপাটিকা নষ্ট হয়ে যাওয়া। আমাদের দেশে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর থেকে হৃৎপিণ্ডের মাইট্রাল ভাল্ব নষ্ট হয়ে এ রকম ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।

ভাল্বের সমস্যা ছাড়া উচ্চরক্তচাপ এবং ইশকেমিক হার্ট ডিজিজ বা হার্টের ব্লকজনিত সমস্যাতেও হার্টের এ রকম ছন্দসংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে। হৃৎপিণ্ডের বাইরে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের সবচেয়ে বড় কারণ শরীরে থাইরয়েড হরমোনের আধিক্য বা হাইপারথাইরয়ডিজম।

হৃৎপিণ্ডের কাজে কমতি

হৃৎপিণ্ডের মূল কাজ হল রক্ত পাম্প করে রক্তনালির মাধ্যমে শরীরের বিভন্ন অংশে ছড়িয়ে দেওয়া। বিভিন্ন কারণে হৃৎপিণ্ডের এ কাজে কমতি আসতে পারে। যেমন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশান (Myocardial Infarction) বা হার্টঅ্যাটাক, কার্ডিওমায়োপ্যাথি ইত্যাদি।

এসব ক্ষেত্রে হৃৎপিণ্ড দক্ষতার সঙ্গে রক্ত পাম্প করতে পারে না। ফলে হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে পারে, যা একসময় স্ট্রোক বা অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার কারণ হয়ে ওঠে।

রক্তনালি

মাঝে মাঝে রক্তনালি বা ধমনি নিজেই অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হয়তো ধমনির ভেতরের দেয়ালে আগে থেকেই কোলেস্টেরলের আস্তরণ ছিল। এ আস্তরণ কোনো কারণে ভেঙে গেলে তার ওপর রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে।

একপর্যায়ে এ জমাট রক্ত ধমনির রক্ত চলাচলের পুরো পথটাকেই বন্ধ করে দেয়। পুরো ঘটনাটা ঘটে অতি অল্পসময়ের মধ্যে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ রোগীরা আগে থেকে ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়ার লক্ষণাদি (যেমন হাঁটতে গেলে পায়ে ব্যথা) প্রকাশ করেন যদিও সেই সময় তারা তা টের পান না বা গুরুত্ব দেন না।

অ্যাকিউট অন ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়ার মূল দৃষ্টান্ত হলেন এসব রোগী। কখনও ধমনির ফুলে যাওয়া অংশ বা অ্যানিউরিজম থেকে জমাট রক্ত ছুটে গিয়েও পরবর্তী অংশের ধমনি বন্ধ করে অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার সৃষ্টি করতে পারে।

সারভাইকাল রিব
হাতের অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার ক্ষেত্রে সারভাইকাল রিবের কথা মাথায় না রাখলেই নয়। সারভাইকাল রিব ঘাড়ের নিচের দিকের কশেরুকা থেকে জন্ম নেওয়া একটা বাড়তি হাড় যা কখনও কখনও হাতে রক্ত সরবরাহকারী সাবক্লাভিয়ান ধমনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

এ চাপের ফলে ধমনির ভেতরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে অনেক সময় ধমনির আঘাতপ্রাপ্ত অংশ ফুলে যায় (অ্যানিউরিজম) এবং এর ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এ জমাট রক্ত ছুটে গিয়ে পরবর্তী অংশের ধমনি বন্ধ করে দিয়ে অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার সৃষ্টি করে।

রোগী ঠাণ্ডা হাত, তীব্র ব্যথা ও কালো/নীল আঙুল নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। এসব ক্ষেত্রে রক্তনালির অপারেশনের সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের বাড়তি হাড় কেটে ফেলাও চিকিৎসার অংশ। সারভাইকাল রিব ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের বেশি হয়।

রক্ত
কখনও কখনও রক্তও অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার কারণ হয়ে ওঠে। রক্তের উপদানগত সমস্যা বা কোনো কারণে সাময়িকভাবে রক্তের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেলে (যেমন পানিশূন্যতা) রক্ত ধমনির ভেতরেই জমাট বেঁধে যায় ও রক্ত চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার লক্ষণ

* হঠাৎ করে হাত বা পা ঠাণ্ডা হয়ে গিয়ে তীব্র ব্যথা হওয়া

* হাত-পা দ্রুত ফ্যাকাসে ও নীল হয়ে যেতে শুরু করে

* হাত-পায়ে বোধশক্তি কমে যেতে থাকে

* নাড়াচাড়ার ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে

* আক্রান্ত অংশে নাড়ির স্পন্দন টের পাওয়া যায় না

কী ঘটে

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার বহিঃপ্রকাশও অত্যন্ত নাটকীয়। ক্রনিক লিম্ব ইশকেমিয়াতে একটু একটু করে রক্ত চলাচল কমতে থাকায় শরীর বিকল্প রাস্তা বা কোলেটারাল তৈরি করে নেওয়ার সময় পায়।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়াতে বিকল্প পথ তৈরির সময় পাওয়া যায় না বলে আক্রান্ত অংশ হঠাৎ করে প্রায় পুরোপুরি রক্ত তথা অক্সিজেন ও পুষ্টি বঞ্চিত হয়ে পড়ে। দ্রুত রক্ত সরবরাহ ফিরিয়ে আনা না গেলে এর অবশ্যম্ভাবী পরিণতি অঙ্গহানি।

করণীয়

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া বুঝতে পারাটাই আসল কাজ। রোগীর লক্ষণ দেখে সমস্যার কথাটা মাথায় এলেই রক্ষে। দেখছি, যাচ্ছি এবং যাব করতে থাকলে বিপদ। রোগীর দায়িত্ব সময় নষ্ট না করে কাছের হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যাওয়া।

চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগী নির্ণয় বা আন্দাজ করে দ্রুত রক্তনালি বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো। এ পাঠানো ব্যাপারটা নিয়ে আমাদের দেশে বিরাট সমস্যা দেখা যায়।

প্রথমত রোগ নির্ণয়ে অনেকে ব্যর্থ হন, আবার রোগ নির্ণয় হলেও পাঠাতে বিলম্ব হয়। পথের দূরত্ব যোগাযোগব্যবস্থার বেহাল দশা এ ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী।

সময় কম-কত কম

ধমনি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও হাত বা পা কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে— এ প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া সম্ভব নয়। ব্যাপারটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।

কোন ধমনি বন্ধ হয়েছে, হাত বা পায়ের রক্ত সরবরাহে তার ভূমিকা কতখানি, বিকল্প কোনো ধমনি আছে কিনা— এসবের ওপর নির্ভর করে সময়ের দৈর্ঘ্য।

তবে এ ক্ষেত্রে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলে একটা ধারণা প্রচলিত আছে। এই সময়ের ভেতরে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সাধারণত স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। সময়টা ৬ ঘণ্টা।

পায়ের ক্ষেত্রে হাঁটুর পেছনের পপলিটিয়াল ধমনি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিণতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে এ ক্ষেত্রে পা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ৮০ শতাংশেরও বেশি।

চিকিৎসা

বন্ধ ধমনিকে চালু করাই অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। কয়েকটি পদ্ধতিতে বন্ধ ধমনি চালু করা যায়।

অপারেশন

সাধারণত জমাট রক্ত দিয়ে বন্ধ হয় বলে এম্বোলেকটমি (Embolectomy) নামের এক ধরনের অপারেশনের মাধ্যমে ধমনির ভেতর থেকে জমাট রক্ত বের করে এনে রক্ত সরবরাহ চালু করা যায়। এ কাজে ‘ফগার্টি এম্বোলেকটমি ক্যাথেটার’ নামে সরু এক ধরনের নল ব্যবহার করা হয়।

থ্রম্বোলাইসিস

এ পদ্ধতিতে অপারেশন ছাড়াই স্যালাইনের মাধ্যমে এক বিশেষ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করে ধমনির ভেতরের জমাট রক্ত তরলায়িত করে রক্তপ্রবাহ চালু করা হয়। থ্রম্বোলাইসিসে ব্যবহত ওষুধগুলো আমাদের দেশে এখনও সহজলভ্য নয়, দামও অনেক বেশি।

ক্যাথেটার ডিরেক্টেড থ্রম্বোলাইসিস

এটিও এক ধরনের থ্রম্বোলাইসিস। এখানেও ওপরে বর্ণিত থ্রম্বোলাইসিসে ব্যবহত ওষুধই ব্যবহার করা হয়। পার্থক্য হলো— এ ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ওষুধকে স্যালাইনের মাধ্যমে প্রয়োগ না করে ক্যাথেটারের (সরু নল) মাধ্যমে জমাট রক্তপিণ্ডের ভেতরে সরাসরি প্রয়োগ করা হয়।

এতে করে জমাট রক্ত দ্রুত ও অনেক ভালোভাবে তরলায়িত হয়। জমাট রক্ত পরিষ্কার করে রক্তনালি চালু করার এটিই সর্বাধুনিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে রোগীকে একাধিকবার ক্যাথল্যাবে নিয়ে এনজিওগ্রামের মাধ্যমে চিকিৎসার ফল দেখতে হয়। ফলে সার্বিক চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেড়ে যায়।

থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীর থেকে বড় ধরনের রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ৮ শতাংশ। ৪৩ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ছোটখাটো রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটতে পারে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে স্ট্রোক হতে পারে ২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ার চিকিৎসায় রোগীকে প্রথমেই হেপারিন নামে এক বিশেষ ধরনের ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়, যার কাজ রক্তকে জমাট বাঁধতে না দেওয়া।

অস্ত্রোপচার বা থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসা সম্ভব না হলে বা শুরু করতে দেরি হলে অনেক সময় শুধু এ ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হয়। হেপারিন জমাট রক্তকে তরলায়িত করার ওষুধ নয় এবং এ ওষুধ জমাট রক্ত দিয়ে বন্ধ ধমনি চালু করতে পারে না।

অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়ায় রক্তনালির অপারেশনে যাওয়ার আগে আক্রান্ত অংশ জীবিত নাকি মৃত তা পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। জীবিত থাকলে বা মৃতপ্রায় অবস্থায় পাওয়া গেলেও রক্ত সরবরাহ চালুর অপারেশন করে অঙ্গ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। একেবারে মৃত অঙ্গের ক্ষেত্রে সেটি নিয়ম নয়। সেক্ষেত্রে মৃত অংশ কেটে বাদ দেওয়া উচিত।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়লো বিশাল অজগর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভেতর থেকে ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল এক অজগর সাপ ধরা হয়েছে।

ওই সাপটি পাহাড় থেকে খাবারের সন্ধানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেমে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ১২ ফুট লম্বা ১৮ কেজি ওজনের অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে সাপটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল সাইন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মধ্যে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকে উদ্ধার করে সাপটিকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে চবির নিরাপত্তা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর দুইটার দিকে খবর পেয়ে আমরা সোশ্যাল সাইন্স ইন্সটিটিউটে যাই। তখন সাপটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একটি গ্রীলে পেচিয়ে ছিল। ভেনম রিসার্চ সেন্টারের শিক্ষানবিশ গবেষক রফিকুল ইসলামের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের বন্যপ্রাণী শাখার মাস্টার্সের শিক্ষার্থী এবং ভেনম রিসার্চ সেন্টারের শিক্ষানবিশ গবেষক রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাপটি বার্মিজ পাইথন প্রজাতির। রোদ পোহাতে কিংবা খাবারের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। আমরা সাপটিকে বায়োলজি ফ্যাকাল্টির পেছনে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

মানব-কল্যাণ

-আবুল ফজল

আবুল ফজল (১৯০৩-১৯৮৩) সমাজ ও সমকাল-সচেতন সাহিত্যিক এবং প্রগতিবাদী বুদ্ধিজীবী হিসাবে সমধিক খ্যাত। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনেই যুক্ত হন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনে; অন্যদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ। কথাশিল্পী হিসাবে পরিচিতি অর্জন করলেও তিনি ছিলেন মূলত চিন্তাশীল প্রাবন্ধিক। তার প্রবন্ধে সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে গভীর ও স্বচ্ছ দৃষ্টির পরিচয় বিধৃত। আধুনিক অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, স্বদেশ ও ঐতিহ্যপ্রীতি, মানবতা ও শুভবোধ তার সাহিত্যকর্মের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আবুল ফজলের ‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধটি ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে রচিত। এটি প্রথম ‘মানবতন্ত্র’ গ্রন্থে সংকলিত হয়। এই রচনায় লেখক মানব-কল্যাণ ধারণাটির তাৎপর্য বিচারে সচেষ্ট হয়েছেন। সাধারণভাবে অনেকে দুস্থ মানুষের করুণবশত দান-খয়রাত করাকে মানব-কল্যাণ মনে করেন। কিন্তু লেখকের মতে, এমন ধারণা খুবই সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচায়ক। তার মতে, মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সার্বিক মঙ্গলের প্রয়াস। এ কল্যাণের লক্ষ্য সব অবমাননাকর অবস্থা থেকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থায় মানুষের উত্তরণ ঘটানো। লেখকের বিশ্বাস, মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় পরিকল্পনামাফিক পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা করা সম্ভব।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে

‘মানব-কল্যাণ’ আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কল্যাণমূলক কাজের একটি নাম। এ শব্দটির সঙ্গে অনেক মানুষের আবেগ, ধর্মীয় বিশ্বাস ও মানবিক দিক জুড়ে রয়েছে। কিন্তু ‘মানব-কল্যাণ’ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে প্রাবন্ধিক সহমত পোষণ করেননি। প্রাবন্ধিকের মতে মানব-কল্যাণ হলো সেই কাজ, যা মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণকর এবং চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রে উন্নত করে। প্রাবন্ধিকের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আর্থিক সহযোগিতা করে কিংবা ক্ষুধা মিটিয়ে মানব-কল্যাণের ঠেকুর তোলা প্রকৃত মানব-কল্যাণ নয়। যে কল্যাণে মানুষের চিন্তা ও মননের উন্নয়ন হয়, ব্যক্তির চেতনাগত উন্নয়ন হয়, মর্যাদাগত সমৃদ্ধি হয় এবং তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে তা-ই প্রকৃত মানব-কল্যাণ। তিনি মনে করেন, মানুষের অধিকার আর মর্যাদার প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মূলত মানব অপমান ছাড়া আর কিছু নয়। এ প্রবন্ধটি পড়ার সময় যে বিষয়গুলো ভালো করে পড়তে হবে তা নিচে দেওয়া হলো। মানব-কল্যাণ বলতে আমাদের সমাজে প্রচলিত ধারণা, মানব-কল্যাণ সম্পর্কে প্রাবন্ধিকের ধারণা, প্রকৃত মানব-কল্যাণ যেভাবে হয়ে থাকে, তথাকথিত মানব-কল্যাণ যে কারণে ফলপ্রসূ হয় না। মানব-কল্যাণকে দীর্ঘস্থায়ী ও জনমুখী করার জন্য যেসব করণীয় রয়েছে বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন, মানব-কল্যাণকর্মের সঙ্গে ধর্মীয় আবেগের সম্পর্ক, প্রচলিত মানব-কল্যাণমূলক কাজে যেভাবে সংকীর্ণ মনোভাবে পরিচয় প্রকাশ পায়। প্রকৃত মানব-কল্যাণ করার জন্য মানুষকে যে কারণে মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করা প্রয়োজন ইত্যাদি।

অনুধাবন প্রশ্নগুলো

১. মানব-কল্যাণ কথাটি অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে-কেন?

২. একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়ায় মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয় কীভাবে? বুঝিয়ে লেখ।

৩. ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতার প্রতিফলনকে প্রাবন্ধিক বীভৎস বলেছেন কেন?

৫. মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত-কেন বলা হয়েছে?

৬. রাষ্ট্র জাতির যৌথ জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৭. জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তম দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

৮. কোনো রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না এবং কেন? বুঝিয়ে লিখ।

৯. মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না-ব্যাখ্যা কর।

১০. মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত-বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১১. মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান বলতে কী বোঝানো হয়েছে? অথবা,

মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান রচনাই সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব-ব্যাখ্যা কর।

১২. মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

ইবাদতের জায়গায় ইবাদত, কাজের জায়গায় কাজ: মাহি

পবিত্র ওমরাহ করে এসে ‘কাগজের বউ’ সিনেমায় অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

এতে শোবিজে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন মাহি!

এমন গুঞ্জন চাউর হলে বিব্রত বোধ করেন এ নায়িকা। ভক্তদের আশ্বস্ত করলেন – না, অভিনয় ছাড়ছেন না তিনি। গুজবে কান দিতে মানা করেছেন।

বিষয়টি যে স্রেফ গুজব তার প্রমাণ মিলল গত সোমবার। এদিন ‘বুবুজান’ ছবির শুটিংয়ে অংশ নিতে এফডিসিতে হাজির হন মাহি।

সেখানে সম্প্রতি মুরাদ হাসান ইস্যুর পাশাপাশি নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়েও কথা বলেন মাহি।

মাহিয়া মাহি বলেন, ‘আমি তো কোথাও বলিনি সিনেমা বা শোবিজ ছেড়ে দেয়ার কথা। সিনেমা কেন ছাড়ব? সিনেমা ছাড়ার তো প্রশ্নই আসে না। এমন খবরে খুবই বিব্রত আমি। কেনো এমন কথা ছড়ানো হচ্ছে জানি না। এফডিসিতে আসার পর সবাই একই প্রশ্ন করছে। সিনেমা আমার ভালো লাগার জায়গা। এটা আমার পেশা। এটা আমার রিজিকের জায়গা। ওমরাহ তো ইবাদতের জায়গা। ইবাদতের জায়গায় ইবাদত আর কাজের জায়গায় কাজ। যখন সময় কিংবা পরিস্থিতি তেমন হবে, আমি আমার ডিরেক্টর, প্রডিউসারদের জানাব। তখন সবাইকে জানিয়েই অভিনয় ছাড়ব।’

প্রতিমন্ত্রীর পদ হারানো ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে ফাঁস হওয়া কল রেকর্ড নিয়ে মাহি বলেন, ‘এই রকম ফোন তো একদিন আসেনি, আরও অনেক এসেছে। আমার কাছের মানুষদের সঙ্গে শেয়ার করতাম। তাদের একটা ভয় কাজ করত, চুপ থাকতে বলতেন। এভাবেই পাশ কাটিয়ে গিয়েছি। দেখেন আমি তখন ফেসবুকে লাইভে আসতে পরতাম। হইচই হতো। কিন্তু আমার ইমেজ, পরিবারের ইমেজ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও তো দেখতে হয়। যে খারাপ সে তার শাস্তি পেয়েছে।’

শাপলা মিডিয়ার অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট

রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়া ও শাপলা মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ১০০ জনের মতো অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত শাপলা মিডিয়ার অফিসে ঢুকে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা অপূর্ব রায়।

হামলার পর দুর্বৃত্তরা মানিব্যাগ, নগদ টাকা, মোবাইল, ল্যাপটপ নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

অপূর্ব রায় বলেন, ‘বিকাল ৩টার দিকে প্রায় ১০০ জনের মতো অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত অফিসে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করে। তারা আমাদের চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে অফিসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তারা অফিসের অনেক ডেস্ক, কম্পিউটার ও সার্ভার ভেঙে ফেলেছে। বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর ছবি টানানো ছিল। সেগুলো নামিয়ে ভেঙেছে। অফিসে যাদের পেয়েছে সবার কাছ থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ নিয়ে গেছে৷ অনেক ক্যাশ টাকাও নিয়ে গেছে। এখনো অফিসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।’

হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি অপূর্ব রায়সহ শাপলা মিডিয়ার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তবে এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ছবি ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়াভাই’ নিয়ে যারা বিরোধিতা করেছিল তারাই এই হামলা করেছে বলে ধারণা অপূর্ব রায়ের।

এ ঘটনায় শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৃষ্টিস্নাত প্রথমদিনে দাপট বাংলাদেশের পেসারদের

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে নতুন বছরের প্রথমদিন যে ভেন্যুতে প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ, তার পাশের মাঠে কাল প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে বাদ সাধে বৃষ্টি। দুদিনের ম্যাচের প্রথমদিন খেলা হয়েছে মাত্র ২৭.৩ ওভার। এরপরই বৃষ্টি। তার আগে টসে জিতে প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড একাদশকে ব্যাট ধরিয়ে দেয় সফরকারীরা। ফলও পাওয়া যায় হাতেনাতে। ৭১ রানেই পাঁচ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড একাদশ।

প্রতিপক্ষের পাঁচ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের দুই পেসার। আবু জায়েদ নয় ওভারে ২৭ রানে তিন উইকেট। তাসকিন আহমেদ দুই উইকেট। তিনি ২৬ রান দেন ৮.৩ ওভার বল করে।

নিউজিল্যান্ড একাদশের জ্যাকব ভুলা ২১ রানে অপরাজিত। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা ডেভন কনওয়ে মাত্র দুই বল স্থায়ী হন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হাতে চোট পান কনওয়ে। ভাঙা হাত নিয়ে ছয় সপ্তাহ তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। নিউজিল্যান্ড একাদশের অধিনায়ক কনওয়ে ও নিল ওয়াগনার এই ম্যাচে দুই পরিচিত মুখ।

বিনা উইকেটে আট রান থেকে তিন উইকেটে আট রানে পরিণত হওয়া স্বাগতিকদের ঈষৎ স্বস্তি দেন জ্যাক বয়েল ও মিচ রেনউইক। এরপর আবার বৃষ্টি নামে। ৯.২ ওভারে খেলা থামার পর মধ্যাহ্নবিরতি পর্যন্ত আর খেলা শুরু করা সম্ভব হয়নি।

১ জানুয়ারি বে ওভালে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ক্রাইস্টচার্চে মাঠে গড়াবে ৯ জানুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড একাদশ প্রথম ইনিংস ৭১/৫ (জ্যাক বয়েল ২০, মিচ রেনউইক ১৮, জ্যাকব ভুলা ২১*। তাসকিন আহমেদ ২/২৬, আবু জায়েদ ৩/২৭)।

আদিবাসী বোলার বোল্যান্ডের আগুনে পুড়ল ইংল্যান্ড

এক একটি উইকেট নিচ্ছিলেন আর উচ্ছ্বাস ছাপিয়ে স্কট বোল্যান্ডের চোখেমুখে ফুটে উঠছিল অবিশ্বাস! ৩২ বছর বয়সে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে আগুনঝরা বোলিংয়ে তোলপাড় ফেলে দেবেন রেকর্ড বইয়ে, হয়তো কল্পনাও করেননি তিনি।

বোল্যান্ডের আগুনে পুড়ে ইংল্যান্ড হলো ছাই! পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম তিনটিই জিতে অস্ট্রেলিয়া নিশ্চিত করল অ্যাশেজের বিখ্যাত ছাইদানি থাকছে তাদের কাছেই। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টের স্থায়িত্ব হলো মাত্র দুই দিন ও এক ঘণ্টা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৬৭ রানের পুঁজি নিয়েও অভিষিক্ত আদিবাসী পেসার বোল্যান্ডের সৌজন্যে ইংল্যান্ডকে নিদারুণ লজ্জায় ফেলে অ্যাশেজের তৃতীয় টেস্ট ইনিংস ও ১৪ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

মঙ্গলবার মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয়দিনে ইংল্যান্ড টেকে মাত্র ৮১ বল। আগেরদিন ৩১ রানে চার উইকেট হারানো ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস কাল গুটিয়ে যায় মাত্র ৬৮ রানে। অধিনায়ক জো রুট (২৮) ও বেন স্টোকস (১১) ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি আর কেউ। তাদের শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে ৩০ বলের ব্যবধানে।

১৯০৪ সালের মার্চ মাসের পর অস্ট্রেলিয়ায় এটাই ইংল্যান্ডের সর্বনিু স্কোর। অস্ট্রেলিয়ার ধ্বংসযজ্ঞের মূল নায়ক মেলবোর্নের ঘরের ছেলে বোল্যান্ড। মাত্র চার ওভার বল করেই সাত রানে ছয় উইকেট তুলে নেন ঘটনাচক্রে এই টেস্টে সুযোগ পাওয়া বোল্যান্ড। অভিষেক টেস্টে এক ইনিংসে এত কম রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি নেই আর কারো। সবমিলিয়ে মাত্র চার ওভার বল করে ছয় উইকেট নিতে পারেননি আর কেউ। ছয় উইকেটের প্রথম পাঁচটি তিনি নেন ১৯ বলের ব্যবধানে। তাতে টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম পাঁচ উইকেটের রেকর্ড ছুঁয়েছেন বোল্যান্ড। তার তোপের মুখে মাত্র আট রানে শেষ পাঁচ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। আরেক পেসার মিচেল স্টার্ক ২৯ রানে নেন তিন উইকেট।

মাত্র ১২ দিনের ক্রিকেটে দুই ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজজয়ী অস্ট্রেলিয়া ৮২ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জিতেছে মেলবোর্ন টেস্ট। টেস্ট ইতিহাসে এর চেয়ে কম রানের লিড নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয় আছে আর মাত্র দুটি। অ্যাশেজ খুইয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি নয়টি টেস্ট হারের লজ্জার রেকর্ডে বাংলাদেশের পাশে নাম লিখিয়েছে ইংল্যান্ড। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ হেরেছিল নয়টি টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য এখন সিরিজ ৫-০ করা। চতুর্থ টেস্ট সিডনিতে শুরু হবে ৪ জানুয়ারি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ১৮৫। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ২৬৭। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ৬৮ (জো রুট ২৮, বেন স্টোকস ১১। মিচেল স্টার্ক ৩/২৯, স্কট বোল্যান্ড ৬/৭)। ফল : অস্ট্রেলিয়া ১৪ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : স্কট বোল্যান্ড (অস্ট্রেলিয়া)।

আগুনে ঘরে আটকা পড়ে শাশুড়ির মৃত্যু, পুত্রবধূ দগ্ধ

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘরে আটকে পড়ে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ সময় শাশুড়িকে বাঁচাতে গিয়ে পুত্রবধূ দগ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর মাস্টারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃদ্ধার নাম ফুলো বালা। তিনি ওই গ্রামের অজিন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী। দগ্ধ অঞ্জনা রানীকে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অজিন্দ্রর ছেলে প্রকাশের বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে ওপরে উঠে যায়। এ সময় ঘরে অসুস্থ বৃদ্ধ ফুলো বালা আটকা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পুত্রবধূ অঞ্জনা রানী আহত হন। স্থানীয় লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ওই বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ অগ্নিকাণ্ডে তিন পরিবারের পাঁচটি বসতঘর, ধান-চাল ও নগদ টাকা পুড়ে ছাই হয়। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনটি ছাগলও মারা যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) সারোয়ার আলম ও কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সাহেব ফকিরকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে চরযশোরদী ইউনিয়নবাসী।

বুধবার সকালে চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় মিলনায়তনে গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু আব্দুল্লাহ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর চৌধুরী লাবু, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান চুন্নু শেখ, নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার রিটা, চরযশোরদী ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান সাহেব ফকির প্রমুখ।

১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন চরযশোরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান সাহেব ফকির।