শনিবার ,১৬ মে, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 549

যেসব কারণে শহুরে কিশোর-কিশোরীরা মারাত্মক মানসিক চাপে

বাংলাদেশের ১৩-১৯ বছর বয়সী শহুরে ছেলে-মেয়েদের ৬০ শতাংশের বেশি মাঝারি থেকে তীব্র মানসিক চাপে ভোগে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে। এই স্ট্রেস বা মানসিক চাপের ফলে তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যেমন- নাগরিক এই কিশোর-কিশোরীদের একটি বড় অংশ স্থূলতা এবং বিষণ্ণতা বা অবসাদে ভোগে।

এ ছাড়া শহুরে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে নিয়মিত খেলাধুলা এবং কায়িক পরিশ্রমের কাজ করে মাত্র আড়াই শতাংশের কিছু বেশি কিশোর-কিশোরী। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন, পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি সংস্থার করা যৌথ এই গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানদের এ ধরনের মানসিক চাপের ব্যাপারে পরিবারে বা অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম। ফলে মানসিক চাপ সামলাতে পরিবার এবং স্কুলের সহায়তাও খুবই কম পায় তারা।

কী নিয়ে মানসিক চাপে থাকে কিশোর-কিশোরীরা?

গবেষণার একজন সহ-গবেষক আমব্রিনা ফেরদৌস বিবিসিকে বলেছেন, জরিপটি মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালে ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে পরিচালনা করা হয়েছে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল বিএমআরসি গবেষণা নিবন্ধটি অনুমোদন দিয়েছে।

গবেষণাটি ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী সাড়ে চার হাজারের বেশি কিশোর-কিশোরীর সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে পরিচালনা করা হয়েছে। বয়ঃসন্ধিকালে সারা পৃথিবীতেই ছেলে-মেয়েরা নানা রকম মানসিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। আর হরমোনের নানা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবার ও সমাজের প্রত্যাশার চাপ। ভালো স্কুলে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া, ভালো ফলসহ শিক্ষা কার্যক্রমে সাফল্য এমন নানাবিধ চাপ তৈরি হয় ছেলে-মেয়েদের ওপর।

ফেরদৌস বলেছেন, গবেষণায় দেখা গেছে ছেলে-মেয়েরা সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ বোধ করে পড়াশোনা নিয়ে। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, স্কুলের পারফরম্যান্স এবং রোমান্টিক সম্পর্কের কারণেও মানসিক চাপে পড়ে তারা।

আবার নিজেদের শারীরিক অবয়ব মানে তাদের কেমন দেখাচ্ছে, তা নিয়েও এ বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে একটা বিরাট স্ট্রেস তৈরি হয়। এর একটা কারণ হচ্ছে, শহুরে ছেলে-মেয়েদের খাদ্যাভ্যাসে জাঙ্কফুড খাওয়ার প্রবণতা বেশি। আর খেলাধুলার সুযোগও কম, ফলে তাদের মধ্যে ওবেসিটির (স্থূলতা) সমস্যা প্রকটভাবে রয়েছে।

কারণ কী এই মানসিক চাপের?

সহ-গবেষক ফেরদৌস বলেছেন, তারা দেখতে পেয়েছেন কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মঙ্গে মা-বাবার মানসিক দূরত্ব, নাগরিক জীবনে একক পরিবার কাঠামোর কারণে একাকিত্ব, স্কুলে বা অবসর সময়ে সমবয়সীদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বুলিয়িং – এসব কারণে মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়।

মানসিক চাপের কারণে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে। প্রায়শই তারা নিজেদের সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে না।

কতটা ব্যাপক এই সমস্যা?

গবেষণায় পাওয়া তথ্য বলছে, ২৬ শতাংশের বেশি শহুরে কিশোর-কিশোরীর ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। এ ছাড়া ৩০ শতাংশের বেশি ছেলে-মেয়ে দিনের বড় সময়টি বাড়ির ভেতরেই থাকে। এ ছাড়া ঘরের বাইরে খেলাধুলা এবং কায়িক পরিশ্রমের কাজ করে মাত্র ২.৬ শতাংশ কিশোর-কিশোরী।

শহর এলাকায় খোলা জায়গার অভাব এবং ইনডোর গেমের প্রতি আকর্ষণের কারণে ওবেসিটির সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

সমস্যা চিহ্নিত করে, একে এড়িয়ে না গিয়ে সমাধানের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গবেষণায়।

সূত্র : বিবিসি বাংলা।

২০২২ সালের অর্থনীতি: সামনে চার বড় চ্যালেঞ্জ

করোনা অতিমারি অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। করোনা সংক্রমণ শ্লথ হলে অর্থনীতির কোনো কোনো খাত ঘুরেও দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় ২০২২ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অন্তত চারটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগোতে হবে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা এর মধ্যে অন্যতম। বাকি তিন চ্যালেঞ্জ হলো—আন্তর্জাতিক বাজারে মুদ্রা বিনিময় হার, সরকারের ভর্তুকিসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণ ও আর্থিক খাতে সংস্কার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই চার খাতে যদি সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠে অর্থনীতি সচল রাখা যাবে। এর মধ্যে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে সামনের দিনগুলোতেও।

kalerkantho

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.০২ শতাংশ। পরের ছয় মাসে কখনো তা বেড়েছে, আবার কখনো কমেছে। তবে নতুন (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রথম মাস থেকে মূল্যস্ফীতির গতি ঊর্ধ্বমুখী। জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৩৬ শতাংশ। সর্বশেষ নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৫.৯৮ শতাংশ।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী গতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর লাগাম টানা জরুরি। তা না হলে মানুষের জীবন-জীবিকায় বড় প্রভাব পড়বে। এ জন্য শুরুতে দরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ।’

এই অর্থনীতিবিদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি। সহসা খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমবে না। কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাহিদা কম, জোগান বেশি এমন পরিস্থিতি হয়নি। তবে এ অবস্থা খুব বেশি দিন থাকবে না বলেও তিনি মনে করেন।

আবার রপ্তানি আয় নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, করোনার ক্ষতি কত দিনে কাটিয়ে ওঠা যাবে তা বলা মুশকিল। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির যে গতিবিধি, তা সন্তোষজনক; বিশেষ করে রপ্তানি আয়। তবে শুধু রপ্তানি আয় দিয়ে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা যাবে না। এর জন্য সরকারকে নানামুখী পদক্ষেপ, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কাজগুলো করতে হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বরে) এক লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ কোটি টাকা পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪.২৯ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৭৪৭ কোটি ডলার। অবশ্য শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩.২৭ শতাংশ রপ্তানি বেশি হয়েছে।

মুদ্রানীতি ও ভর্তুকি নীতিমালার বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই দুটি বিষয় আগামীর অর্থনীতির জন্য খুব জরুরি। সরকারকে এ নিয়ে ভেবেচিন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বাড়ছে, টাকার মূল্য কমছে। সরকার ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। এরপর হয়তো সারের দাম, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে। তাই সরকারকে এখন থেকে ভেবেচিন্তে ভর্তুকির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি আর্থিক খাতের সংস্কারের পরামর্শ দেন।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমও মনে করেন, আগামীর অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসবে, তার মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো দেশের ব্যাংকগুলোকে সংস্কার করা। বিশেষ করে ব্যাংকের ঋণদান প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থাপনা পর্ষদের ভূমিকা না রাখা। যদি এই সংস্কারগুলো সঠিকভাবে করা যায়, তাহলে দেখা যাবে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে যাবে। অন্য আর্থিক খাত বেশি সচল থাকবে।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আর্থিক খাতকে সচল রাখতে রাজস্ব বোর্ডেরও সংস্কার দরকার। বিশেষ করে ডিজিটাইজেশন করাসহ নানা পদক্ষেপ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এনবিআরের কর আহরণ বাজেটের লক্ষমাত্রার তুলনায় কম। তাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর জন্য আরো কাজ করতে হবে। মূল কথা, রাজস্ব আহরণে সরকারকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে।

সিপিডির এই গবেষণা পরিচালক বলেন, বিশ্বে ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ছে। এবার স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতেই হবে। পাশাপাশি সরকারকে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেশি বিনিয়োগ করে। কারণ বিনিয়োগ বাড়লে অর্থনীতির চাকা সচল হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে। সর্বোপরি অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে।

নতুন বছরে ক্যাশ আউট চার্জ কমাল ট্যাপ

গ্রাহকদের লেনদেন আরো সাশ্রয়ী করতে নতুন বছরে ক্যাশ আউট চার্জ কমাল মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ট্রাস্ট আজিয়াটা পে বা ‘ট্যাপ’। এখন থেকে ট্যাপ জেনারেল অ্যাকাউন্টের গ্রাহকরা অ্যাপ দিয়ে দেশের যেকোনো এজেন্ট পয়েন্ট থেকে প্রতি হাজারে মাত্র ১৪ টাকা ৭০ পয়সা (১.৪৭%) খরচে ক্যাশ আউট করতে পারবেন।

গ্রাহক সুবিধার্থে এ চার্জের মধ্যেই ভ্যাটসহ সব খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকবে, বাড়তি আর কোনো খরচ করতে হবে না।

এ ক্যাম্পেইন বিষয়ে ট্যাপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দেওয়ান নাজমুল হাসান বলেন, ‘যাত্রার শুরুতে আমরা দেশের ৬৪ জেলায় এ ট্যাপের সেবা ছড়িয়ে দিয়েছি। নতুন বছরে নতুন প্রত্যয়ে আমরা গ্রাহকদের জন্য ক্যাশ আউট চার্জ কমিয়েছি। একই সঙ্গে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ডিজিটাল লাইফস্টাইল ছড়িয়ে দিতে আমরা অঙ্গিকারবদ্ধ। তার ধারাবাহিকতায় আমরা এ সাশ্রয়ী ক্যাশ আউট চার্জ এনেছি।’

উল্লেখ্য, দেশের ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে নতুন মাত্রা যোগ করতে এবং গ্রাহকদের নিরাপদ সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে গত ২৮ জুলাই ট্যাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ট্রাস্ট আজিয়াটা ডিজিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

ট্যাপের বিশেষত্ব হচ্ছে গ্রাহকরা শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র ও সেলফির মাধ্যমে সেবাটি গ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। ট্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বীমার কিস্তি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি, সেনাবাহিনীর নিয়োগ সংক্রান্ত ফি, রেমিট্যান্স গ্রহণ, মার্চেন্ট পেমেন্ট, ইন্টারনেট বিল, টিভি/ডিটিএইচ বিল, ইন্ডিয়ান ভিসা ফি, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন ফি ও ডোনেশন প্রদানসহ সকল মোবাইল ফোন অপারেটরের রিচার্জ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

ট্যাপ, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং আজিয়াটা ডিজিটাল সার্ভিসেস-এর যৌথ উদ্যোগে গঠিত একটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস।

যেভাবে দলে দলে মুসলমান হয় আরববাসী

দশম হিজরিতে মক্কা বিজয় ছিল এমন একটি যুগান্তকারী ঘটনা, যা মূর্তিপূজার মূলকে সম্পূর্ণরূপে উৎপাটিত করে এবং আরবে মিথ্যাকে অপসৃত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে। ইসলামের বিজয় গৌরবে আরববাসীদের মনের সব ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায় এবং তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করতে থাকে।

আমর বিন সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা এক ঝরনার ধারে বসবাস করতে ছিলাম। সেই স্থানটি ছিল বাণিজ্য কাফেলার গমনাগমনের পথ। বাণিজ্য কাফেলা যখন সেই পথ দিয়ে গমনাগমন করত, তখন লোকজনকে জিজ্ঞেস করতাম, লোকেরা সবাই কেমন আছ? ওই লোক, অর্থাৎ নবী করিম (সা.)-এর অবস্থা কেমন? তারা বলত, তিনি মনে করেন যে আল্লাহ তাঁকে নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে ওহি আসে। আল্লাহ তাঁর কাছে এ বিষয়ে ওহি অবতীর্ণ করেছেন। আমি তাদের কথা এমনভাবে স্মরণ করে রাখতাম যে সেগুলোকে যেন আমার সিনা (স্মৃতিপট) চিমটে ধরে রাখত।

ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় লাভের জন্য পুরো আরব জাহান মক্কা বিজয়ের অপেক্ষায় ছিল। তারা বলত, তাঁকে [মহানবী (সা.)] ও তাঁর দলকে (সাহাবায়ে কিরাম) ক্ষমতা পরীক্ষার জন্য ছেড়ে দাও। যদি তিনি কুরাইশ ও তাদের মিত্রদের ওপর বিজয়ী হন, তাহলে বুঝতে হবে যে তিনি প্রকৃত নবী। কাজেই যখন মক্কা বিজয়ের ঘটনা সংঘটিত হলো, তখন বিভিন্ন গোত্রের লোকজন ইসলাম গ্রহণের উন্মুখতা নিয়ে মদিনা অভিমুখে অগ্রসর হলো। আমাদের গোত্রের মানুষের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আমার বাবা বেশ তাড়াহুড়া করলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণের পর ফিরে এসে বলেন, ‘আল্লাহর শপথ! একজন সত্য নবীর কাছ থেকে আমি তোমাদের কাছে এসেছি। তিনি [রাসুল (সা.)] বলে দিয়েছেন, অমুক অমুক সময় সালাত আদায় কোরো। যখন সালাতের সময় হবে তোমাদের মধ্য থেকে একজন আজান দেবে এবং কোরআন যার ভালো জানা আছে, সে সালাতে ইমামতি করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৩০২)

এ হাদিস দ্বারা স্পষ্টত প্রমাণিত হয় যে মক্কা বিজয়ের ঘটনা ঘটনাপ্রবাহের মোড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, ইসলামকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে, আরব অধিবাসীদের নীতি নির্ধারণের ব্যাপারে এবং তাদের বহুত্ববাদের ধারণাকে মন-মস্তিষ্ক থেকে অপসারণ করে ইসলামের কাছে আত্মসমর্পণ করার ব্যাপারে কত ব্যাপক ও গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষ করে তাবুক অভিযানের পর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এ অবস্থার বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। এর প্রমাণ হিসেবেই এটা প্রত্যক্ষ করা যায় যে নবম ও দশম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণেচ্ছু বিভিন্ন দলের মদিনা আগমন একের পর এক অব্যাহত থাকে এবং তারা দলে দলে আল্লাহর দ্বিনে প্রবেশ করতে থাকে।

এ সময় আরববাসী বেশিসংখ্যক হারে ইসলামে দীক্ষিত হতে থাকে, তার উত্কৃষ্ট প্রমাণ সেনাবাহিনী। মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে যে ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীতে সেনাসংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজার, সে ক্ষেত্রে একটি বছর অতিবাহিত না হতেই মুসলিম বাহিনীর সেনাসংখ্যা উন্নীত হয় ৩০ হাজারে। এর অল্পকাল পরেই বিদায় হজের সময় এই বাহিনীর সেনাসংখ্যা উন্নীত হয় এক লাখ ২৪ হাজার অথবা এক লাখ ৪৪ হাজারে। শ্রাবণ প্লাবনের মতো উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে ইসলামের সেনাসংখ্যা। বিদায় হজের সময় এই বিশাল বাহিনী নবী করিম (সা.)-এর চারপাশে এমনভাবে লাব্বাইক, তাকবির, হামদ ও তাসবিহ ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকে যে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর একত্ববাদের ঐকতানে গোটা উপত্যকা মুখরিত হয়ে ওঠে।

(আর-রাহিকুল মাখতুম অবলম্বনে)

নতুন বছরে নতুন জীবনের স্বপ্ন

জীবন একটাই। তবে জীবনকে নতুন করে সাজানো যায় এবং অতীতের ভুল শুধরে নেওয়া যায়। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নব উদ্যমে জীবনের কার্যক্রম শুরু করা যায়। ইসলামে এর সুযোগ রয়েছে। জীবনের যে বয়সেই ইসলাম কবুল করা হোক না কেন, ইসলাম আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়। যত অন্ধকার থেকেই তাওবা করা হোক না কেন, তাওবা জীবনকে আলোকিত করে দেয়। কাজেই নতুন বছরে জীবনকে নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার চিন্তা করা জীবনসচেতনতার অন্যতম অংশ।

ঈমানকে নবায়ন করা : মহান আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়। যথাযথভাবে ইবাদত ও জিকির দ্বারা আল্লাহকে স্মরণ করা যায়। আল্লাহর স্মরণে জীবন পরিচালিত হলে ঈমান নবায়ন হয়। ফলে জীবন-মৃত্যু প্রশান্তিপূর্ণ ও সৌভাগ্যময় হয়। নতুন বছরকে ঈমান নবায়নের সূচনায় পরিণত করা যেতে পারে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমানকে নবায়ন করো। সাহাবারা জানতে চাইলেন, কিভাবে ঈমান নবায়ন করব? হে আল্লাহর রাসুল! তখন তিনি বলেন, বেশি বেশি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে থাকো। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৮৭১০)

এ ছাড়া আল্লাহর কাছে ঈমান নবায়ন করার প্রার্থনা করতে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, অবশ্যই তোমাদের হৃদয়ে ঈমান জীর্ণ হয়, যেমন জীর্ণ হয় পুরনো কাপড়। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো, যাতে তিনি তোমাদের হৃদয়ে তোমাদের ঈমান নবায়ন করে দেন। (মুসতাদরাক হাকেম, হাদিস : ৫)

গুনাহ থেকে তাওবা : অতীত মন্দকাজের জন্য বিশেষভাবে অনুতপ্ত হওয়াকে তাওবা বলে। বিশুদ্ধ তাওবা হলো—১. কৃত গুনাহর জন্য অনুশোচনা করা; ২. আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ৩. ভবিষ্যতে এসব গুনাহ না করার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়া। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো—বিশুদ্ধ তাওবা; সম্ভবত তোমাদের রব তোমাদের মন্দকাজগুলো মোচন করে দেবেন এবং তোমাদের প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত।’ (সুরা : তাহরিম, আয়াত : ৮)

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তাওবাকারী ওই ব্যক্তির মতো, যার কোনো গুনাহ নেই। (বায়হাকি, হাদিস : ২০৩৫০)

আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা : নতুন বছরের আগমনে মহান আল্লাহর কাছে ইহকালীন ও পরকালীন সুখ, শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ কামনা করা যেতে পারে। আল্লাহই বান্দার সুখ, শান্তি, সফলতা এবং কল্যাণ প্রদান করেন। আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে অন্যদের উপাস্যরূপে গ্রহণ করব? করুণাময় যদি আমাকে কষ্টে নিপতিত করতে চান, তবে তাদের সুপারিশ আমার কোনো কাজে আসবে না এবং তারা আমাকে রক্ষাও করতে পারবে না। এরূপ করলে আমি প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হব।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ২৩-২৪)

জীবনের হিসাব : আল্লাহ তাআলা মানুষকে সুনির্দিষ্ট একটি সময়কাল দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। এই সময়কালের কোনো হেরফের বা কমবেশি হয় না। যার জন্য যতটুকু সময় নির্ধারিত, ততটুকু ফুরিয়ে গেলেই জীবন শেষ হয়ে মৃত্যুর ডাক এসে যায়। কাজেই পরকালে আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশের মুখোমুখি হওয়ার আগে পৃথিবীতেই জীবনের হিসাব-নিকাশ করে নিতে হবে। উমর (রা.) বলতেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের হিসাব করে নাও তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৫৯)

 

অতীত থেকে শিক্ষা লাভ : নতুন বছর আগমনকালে বিগত বছরের পর্যালোচনা করা খুবই যৌক্তিক বিষয়। অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে নতুন বছরে নির্ভুল এবং পাপমুক্ত জীবন কাটানোর জন্য প্রত্যয়ী হওয়া উচিত। মানব ইতিহাসে সংঘটিত সব ঘটনাই মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। মানুষের উচিত অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। আল্লাহর অবাধ্য ব্যক্তি বা জাতিকে এ জগতেই কোনো না কোনোভাবে প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করতে হয়েছে। কোরআনে বিভিন্ন নবী-রাসুল ও অতীত অনেক জাতির ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। এগুলোর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে অতীত ইতিহাসের সত্য ও শিক্ষার দিকে ধাবিত করা। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ঘটনায় বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আছে শিক্ষা।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১১১)

নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা : নতুন বছর আগমনকালে নতুন বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা সফলতার পথ দেখায় আর সঠিক নিয়ত কাজের গতি বৃদ্ধি করে। কাজের শুরুতে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (বুখারি, হাদিস : ১)

নতুন বছর সামনে রেখে নিয়ত ঠিক করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। ঈমানদারদের প্রথম পরিকল্পনা হওয়া চাই আমল ও আখলাক নিয়ে। বছরের প্রথম দিন থেকে নামাজ-রোজাসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদতগুলো যথার্থভাবে আদায়ের পরিকল্পনা, কোরআন তিলাওয়াত ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের পরিকল্পনা, পরোপকার, দান-সদকা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা ইত্যাদি। আল্লাহ বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতা করুক।’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ২৬)

পরিশেষে বলা যায়, নতুন আরেকটি বছরের আগমন জীবনকে সংকুচিত করে দেয়। কাজেই বিগত বছরের ভুল শুধরে নিয়ে নতুন বছরে ঈমানবান্ধব কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করা উচিত।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, আরবি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

মুমিনুলের স্পিনে কাবু সেঞ্চুরিয়ন কনওয়ে

আজ থেকে শুরু হয়েছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যকার দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে টসে হেরে ব্যাট করছে নিউজিল্যান্ড দল। ডেভন কনওয়েরে দুর্দান্ত শতকে ভালো অবস্থানেই রয়েছে তারা।

প্রতিবেদন লেখার সময় নিউজিল্যান্ডের স্কোর ৪ উইকেটে ২৩৩ রান। হেনরি নিকোলস ২১ ও টম ব্লুনডেল ১ রানে ব্যাট করছেন। ১২২ রান করা কনওয়েকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ দলপতি মুমিনুল হক।

এর আগে দলীয় ১ রানে লাথামকে (১) ফিরিয়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। এরপর ১৩৮ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়ং ও কনওয়ে। ৫২ রান করে রানআউট হয়ে সাজঘরে গেছেন ইয়ং। রস টেলরের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান।

বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম দুটি উইকেট নিয়েছেন। ৩ ওভার স্পিন বোলিং করে মাত্র ৫ রান দিয়ে কনওয়ের উইকেটটি নিয়েছেন মুমিনুল।

২০২২ সালের ক্রীড়া ক্যালেন্ডার

জানুয়ারি

৫-৯ : ক্রিকেট, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, চতুর্থ টেস্ট, সিডনি

৯ : ফুটবল; আফ্রিকা নেশনস কাপ শুরু, ক্যামেরুন

১১-১৬ : ব্যাডমিন্টন; ইন্ডিয়া ওপেন, দিল্লি

১৪-১৮ : ক্রিকেট; অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, পঞ্চম টেস্ট, হোবার্ট

১৭-৩০ : টেনিস, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, মেলবোর্ন

২১ : ক্রিকেট; বিপিএল শুরু, ঢাকা

ফেব্রুয়ারি

৪-২০ ফেব্রুয়ারি : শীতকালীন অলিম্পিক, বেইজিং, চীন

৫ : রাগবি; সিক্স নেশনস শুরু, ইংল্যান্ড-আয়ারল্যান্ড-ফ্রান্স-ইতালি

৬ : ফুটবল; আফ্রিকা নেশনস কাপ ফাইনাল, ক্যামেরুন

১৮ : ক্রিকেট; বিপিএল, ফাইনাল, ঢাকা

মার্চ

৪ : ক্রিকেট; মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু, নিউজিল্যান্ড

৪-১৩ : শীতকালীন প্যারালিম্পিক, বেইজিং, চীন

১৯ : ৫ : রাগবি; সিক্স নেশনস ফাইনাল

এপ্রিল

১ : ফুটবল; ফিফা বিশ্বকাপ ড্র, দোহা, কাতার

২ : ক্রিকেট; আইপিএল শুরু

৩ : ক্রিকেট; মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল, নিউজিল্যান্ড

৭-১০ : গলফ; মাস্টার্স, জর্জিয়া, যুক্তরাষ্ট্র

১৬ : স্নুকার; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শুরু, ইংল্যান্ড

মে

২ : স্নুকার; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, ইংল্যান্ড

১৩-২৯ : সুতার; ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপ, জাপান

১৯-২২ : গলফ; ইউএস পিজিএ, তুলসা, ওকলাহোমা

২২ : টেনিস; ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু, প্যারিস

২৫ : ফুটবল; ইউরোপা কনফারেন্স লিগ ফাইনাল, তিরানা, আলবেনিয়া

২৬ : ফুটবল; ইউরোপা লিগ ফাইনাল, গদানস্ক, পোল্যান্ড

২৮ : ফুটবল; চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল, পিটার্সবুর্গ, রাশিয়া

জুন

৩ : ক্রিকেট; আইপিএল, ফাইনাল

৫ : টেনিস; ফ্রেঞ্চ ওপেন ফাইনাল, প্যারিস

৬-৯ : অ্যাথলেটিকস; এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ, দ. কোরিয়া

২৭ : টেনিস; উইম্বলডন শুরু, লন্ডন, ইংল্যান্ড

জুলাই

১০ : টেনিস; উইম্বলডন ফাইনাল, লন্ডন, ইংল্যান্ড

১-২৪ : সাইক্লিং; ট্যুর ডি ফ্রান্স, ফ্রান্স

১৫-২৪ : অ্যাথলেটিকস; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, ইউজিনি, যুক্তরাষ্ট্র

২৮ : কমনওয়েলথ গেমস শুরু, বার্মিংহাম, ইংল্যান্ড

আগস্ট

২-৭ : অ্যাথলেটিকস; অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, কলম্বিয়া

৭-১৪ : জুডো; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, উজবেকিস্তান

৮ : কমনওয়েলথ গেমস; সমাপনী অনুষ্ঠান, বার্মিংহাম, ইংল্যান্ড

২৬ : ছেলেদের ভলিবল; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শুরু, রাশিয়া

২৯ : টেনিস; ইউএস ওপেন শুরু, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

সেপ্টেম্বর

১১ : ছেলেদের ভলিবল; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ, ফাইনাল, রাশিয়া

১১ : টেনিস; ইউএস ওপেন, ফাইনাল, নিউ ইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

৯-১১ : রাগবি সেভেন; ওয়ার্ল্ড কাপ সেভেনস, দক্ষিণ আফ্রিকা

১০-২৫ : এশিয়ান গেমস; হাংজু, চীন

১৯-২৫ : গলফ; প্রেসিডেন্টস কাপ, নর্থ ক্যারোলিনা

২৩ : মেয়েদের ভলিবল; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ শুরু, নেদারল্যান্ডস-পোল্যান্ড

অক্টোবর

১৫ : মেয়েদের ভলিবল; বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল, নেদারল্যান্ডস-পোল্যান্ড

১৫ : রাগবি লিগ; বিশ্বকাপ শুরু, ইংল্যান্ড

১৬ : ক্রিকেট; ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু, অস্ট্রেলিয়া

নভেম্বর

১৩ : ক্রিকেট; ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল, অস্ট্রেলিয়া

১৯ : রাগবি লিগ; বিশ্বকাপ ফাইনাল, ইংল্যান্ড

২১ : ফুটবল; ছেলেদের বিশ্বকাপ শুরু, কাতার

ডিসেম্বর

১৭-২২ : সাঁতার; ফিনা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, রাশিয়া

১৮ : ফুটবল; ছেলেদের বিশ্বকাপ ফাইনাল, কাতার

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল জানুয়ারিতে সিরিজ খেলবে নিউজিল্যান্ডে, মার্চে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়, জুনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জুলাইতে যাবে জিম্বাবুয়ে। এ ছাড়া আফগানিস্তান আসবে ফেব্রুয়ারিতে, অক্টোবরে আয়ারল্যান্ড আর নভেম্বরে বাংলাদেশে আসবে ভারত।

জাতীয় ফুটবল দল এশিয়া কাপ বাছাইয়ে অংশ নেবে জুনে।

সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে

ইউএনডিপির শুভেচ্ছা দূত হলেন জয়া আহসান

আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)’র শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান । ১লা জানুয়ারি ২০২২ থেকে তা কার্যকর হবে।

বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশগ্রহণের কারণে এরইমধ্যে অনেকবার প্রশংসিত হয়েছেন জয়া আহসান। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জনে সবার সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন ইউএনডিপির শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন জয়া আহসান।

এ বিষয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘আমি ইউএনডিপির শুভেচ্ছাদূত হতে পেরে একদিকে যেমন আনন্দিত আরেকদিকে ইউএনডিপির সাথে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পারব ভেবে নিজেকে সম্মানিত মনে করছি। আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী রক্ষার জন্য যেই লক্ষ্যমাত্রা যা এসডিজি নামে পরিচিত, নির্ধারণ করা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সেটি অর্জন করতে হলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। আর আমি আমার কাজের মধ্যে দিয়ে এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করব, যেন আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশসহ বিশ্বকে আরো সুন্দর, সহনশীল করে গড়ে তুলতে পারি।’

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি, সুদীপ্ত মুখার্জি বলেন, ‘এ পৃথিবীকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলা আমাদের সবার অঙ্গীকার, আর এই অঙ্গীকার রক্ষা করতে হলে আমাদের সবাইকে যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই কেবল এসডিজি অর্জন করা সম্ভব হবে। জয়া আহসানের মতো একজন, যিনি শুধু জনপ্রিয় শিল্পী নন, পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এমন একজন ইউএনডিপির শুভেচ্ছা দূত হওয়াতে আমরা সৌভাগ্যবান। তার মাধ্যমে আমাদের কথা এখন দেশ ও দেশের বাইরে মানুষকে আরো বেশি করে পৌঁছানো যাবে, যেন আমরা সবাই মিলে সুন্দর, সুখী এবং সবার জন্য সমান একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।’

ইউএনডিপির সাথে এসডিজি ছাড়াও, অন্যান্য বিষয় যেমন, দারিদ্র্য, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন, সহনশীলতা, পরিবেশ, জ্বালানি এবং লিঙ্গ সমতা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করবেন জয়া আহসান।

২০২১ সালের সেরা ১০ ভারতীয় ওয়েব সিরিজ

করোনাকালে মানুষ ছিলো ঘরবন্দি। আর প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণ সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল। এই ছোঁয়া লেগেছে বিনোদনের ক্ষেত্রেও। এরপর থেকে ওয়েব সিরিজ দেখার প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। শুধু ভারতীয় ওটিটি প্লাটফর্মে নয়, ওয়েব সিরিজের দর্শক বাড়ছে বাংলাদেশী প্লাটফর্মেও। গত দুই বছরে পরপর বেশ কয়েকটি ওটিটি প্লাটফর্ম যাত্রা শুরু করেছে। আর গেলো এক বছর বেশ কয়েকটি ভারতীয় ওয়েব সিরিজ মানুষের মন কেড়েছ।

দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২:
প্রথম সিজনে ম্যাঙ্গো পিপলের মন জয় করে নিয়েছেন ফ্যামিলি ম্যানের মনোজ বাজপায়ী। শ্রীকান্ত তিওয়ারি বরাবরই স্পাই হিসেবে ওয়ার্ল্ড ক্লাস। দেশের জন্য ঝুঁকি নিতে একবারও ভাবতে হয়না তাকে। এ বছরই মুক্তি পেয়েছে দ্যা ফ্যামিলি ম্যান সিজন-২। সামনেই আসবে সিজন-৩।

আরিয়া সিজন ২:
রাজস্থানের বড়লোক পরিবারে জন্ম নেওয়া সহজ সরল আর্যার ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, সন্তানদের রক্ষাকবচ হয়ে ওঠার দুর্দান্ত গল্প বলে আরিয়া। ২০২০ সালে প্রথম সিজনের চূড়ান্ত সাফল্যের পর দর্শকদের বেশি অপেক্ষা করালেন না নির্মাতারা, নিয়ে এলেন সিজন ২। অভিনয় দিয়ে মাত করলেন সুস্মিতা সেন।

মহারানি:
৯০ বএর দশকে বিহারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি এই ওয়েব সিরিজে নজর কাড়া পারফর্মেন্স দিয়েছেন হুমা কুরেশি।

তাণ্ডব:
ভারতীয় রাজনীতির অন্ধকার গলির টানটান গল্প তাণ্ডব। নেতিবাচক চরিত্রে যে তিনি কতটা পারফেক্ট তা আরও একবার প্রমাণ করে দিয়েছেন সাইফ আলি খান।

মুম্বাই ডায়েরিজ ২৬/১১:

এবছরের অন্যতম চর্চিত ওয়েব সিরিজ মুম্বাই ডায়েরিজ। বহুদিন পর পর্দায় এসেছে কঙ্কনা সেনশর্মা। তার অভিনয়ের ম্যাচিওরিটি মুগ্ধ করেছে ভক্তহৃদয়।

স্পেশাল ওপস ১.৫:

স্পেশাল ওপস-এর প্রথম সিজনে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন হিম্মত সিং। কিন্তু ইন্টেলিজেন্সের অফিসার হওয়ার আগে হিম্মত সিংয়ের জীবন কেমন ছিল? তারই ঝলক পাওয়া গেল স্পেশাল ওপস ১.৫-এ। দ্বিতীয় সিজন নিয়ে কৌতূহল আরও খানিকটা বেড়ে গেল।

আরণ্যক:
ব্ল্যাক উইডোর পর ফের একবার হিন্দি ওটিটিতে ফিরেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। পুলিশের ভূমিকায় পর্দায় ফিরলেন রবিনা ট্যান্ডন। এই ওয়েব সিরিজ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

ইনসাইড এজ ৩:
তৃতীয় সিজনেও দর্শকের মন ধরে রাখতে পারল রিচা চড্ডা ও বিবেক ওবেরয় অভিনীত ওয়েব সিরিজ ইনসাইড এজ। ক্রিকেট দুনিয়ার অন্দরমহলের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজে।

ক্যান্ডি:
আরও একটি ওয়েব সিরিজে দারুণ অভিনয়ে মন জিতে নিলেন রিচা চড্ডা। সাথে ছিলেন রনিত রায়ও। হিমালয়ের প্রেক্ষাপটে এই মার্ডার মিস্ট্রিতে ছিলো টানটান উত্তেজনা।

ইললিগাল ২:
নেহা শর্মা, পীযূষ মিশ্র, পারুল গুলাটি অভিনীত একটি কোর্টরুম ড্রামা। প্রথম সিজনের সাফল্যের পর সিকেন্ড সিজনেও দর্শকের আশা মেটাতে পেরেছে এই ছবি।

খাবার কিনতে মেয়েকে বিক্রি করেছে বাবা, মায়ের আহাজারি

আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলের ঘটনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের কুঁড়েঘরের বিস্তীর্ণ বসতিতে বাস্তুচ্যুত মানুষদের বসবাস। সেখানকার একজন নারী তার ১০ বছরের মেয়ে কান্দি গুল’কে সম্পূর্ণভাবে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

আজিজ গুল নামের ওই নারীর স্বামী ১০ বছরের মেয়েকে বিক্রি করে দিয়েছেন। জানা গেছে, পরিবারের সদস্যদের মুখে আহার তুলে দেওয়ার জন্য নিরুপায় ওই বাবা তার মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে কিছু অর্থ পেয়েছেন।

আজিজ গুলের স্বামী হামিদ আবদুল্লাহর মতো আফগানিস্তানের অনেকেই অভাবের কারণে এ ধরনের হৃদয় বিদারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন। মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যদের বিশৃঙ্খল প্রত্যাহারের মধ্যে গত বছরের আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে তালেবান যখন ক্ষমতা দখল করে, তখনই সাহায্য-নির্ভর দেশটির অর্থনীতি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে ২০ বছর আগে তালেবানের শাসনামলে বর্বরতার অভিজ্ঞতা থেকে এবার তালেবান সরকারের সাথে কাজ করতে অনিচ্ছুক আন্তর্জাতিক মহল। সে কারণে আফগানিস্তানে বিদেশি সাহায্যও স্থগিত রয়েছে।

যদিও খুবই অল্পবয়সী মেয়েদের বিয়ের ব্যবস্থা করা পুরো অঞ্চল জুড়ে একটি নিয়মিত অভ্যাস। সেখানে বরের পরিবার প্রায়শই দূরের আত্মীয়রা হয়ে থাকে। বিয়ের ব্যাপারে চুক্তি করার জন্য অর্থ প্রদান করে তারা। কন্যাশিশুটি সাধারণত তার বাবা-মায়ের সাথে থাকে তার বয়স কমপক্ষে ১৫ বা ১৬ বছর না হওয়া পর্যন্ত।

এমনকি মেয়ের বয়স ১৫ কিংবা ১৬ বছর হওয়া পর্যন্ত অনেক পরিবার অপেক্ষা করতে পারে না। কারণ, এতোদিন পর্যন্ত মেয়েকে বাড়িতে রেখে খাওয়ানোর মতো সামর্থ্য তাদের নেই।

এ ধরনের পরিবার ছোট্ট বরের পরিবারকে বলে, আপনারা আমাদের মেয়েকে নিয়ে যেতে পারেন। এমনকি এ ধরনের পরিবার নিরুপায় হয়ে তাদের ছোট ছেলেদেরও বিক্রি করার চেষ্টা করছে।

পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজে মেয়েকে সম্পূর্ণভাবে ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন গুল। তিনি বলেছেন, ১৫ বছরের আগে আমার মেয়েকে কেউ নিয়ে গেলে আত্মহত্যা করবো।

গুল আরো বলেন, দুই মাস আগে আমার মেয়েকে আমার স্বামী বিক্রি করেছে। ওই ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা খেতে পারছে। তবে মেয়েকে কোনোভাবেই এতো অল্প বয়সে হারাতে চান না তিনি।

গুল বলেন, স্বামীর কাছে জিজ্ঞেস করেছি- খাবার কেনার টাকা সে কোথায় পেল। পরে জানতে পারি, সে আমার মেয়েকে বিক্রি করেছে বিয়ে দেওয়ার জন্য।

তিনি আরো বলেন, কথাটি শুনে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। আমার বারবার মনে হচ্ছিল, ওই সময় মরে গেলেই ভালো হতো। কিন্তু আল্লাহ হয়তো এখনই আমার মৃত্যু দিতে চায় না।

তিনি আরো বলেন, স্বামীর কাছে জানতে চেয়েছি, কেন সে এমন করল। সে শুধু বলেছে, একজনকে হারিয়ে বাকিদের বাঁচানোর চেষ্টা করেছে। আমি বলেছি, তুমি যা করেছ, তার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো ছিল। আমি এই খাবার খেয়ে বাঁচতে চাই না।
সূত্র: দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।