বুধবার ,১০ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 498

হাসপাতালে শিশু বদল, এক বাবার মামলায় আরেক বাবা গ্রেফতার

হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর আধুনিক হাসপাতালে নবজাতক বদলের ঘটনায় মেয়ে নবজাতকের বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ছেলে নবজাতকের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাসুম চৌধুরী আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগের বরাত দিয়ে সদর মডেল থানার ওসি মো. মাসুক আলী জানান, হাসপাতালে মাছুমের মেয়ে শিশু জন্ম হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ জন্য তিনি পাশের শয্যায় থাকা ছেলে নবজাতকটি ইচ্ছাকৃতভাবে বদল করেছিলেন। ছেলে নবজাতকের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার মড়রা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার এবং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের মাসুম চৌধুরী স্ত্রী আকলিমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি হন।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টায় ফেরদৌস আক্তার ছেলে শিশু ও তার দেড় ঘণ্টা আগে ভোর ৫টায় আকলিমা বেগম মেয়ে শিশুর জন্ম দেন।

সকালে দুই শিশুকে নবজাতকদের বিশেষ সেবা ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সকাল ৯টায় ছেলেশিশুটি নিজের বলে মায়ের কাছে দুধ খাওয়ানোর কথা বলে নিয়ে যান মাসুম চৌধুরী। পরে ওই ছেলে শিশুর স্বজনরা সেখানে গিয়ে তাকে না পেলে হুলস্থুল শুরু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতালে তুলকালাম কাণ্ড হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে যায়। অবশেষে ঘটনার ৫ ঘণ্টা পর বেলা ২টায় মেয়েশিশুটির মায়ের কোল থেকে ছেলে নবজাতকটি উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই শিশুকে তাদের নিজ নিজ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় ছেলে শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন বুধবার সদর থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় মেয়ে শিশুর বাবা মাসুম চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

‘কমিউনিস্টরা কাউকেই উপরে উঠতে দেয় না’

পদ্মশ্রী নিতে দিল না। উনি শুধু রাজনীতিবিদ নন। তিনি সাহিত্যিকও বটে। শুরুতেই দল বলে দিল, নেওয়া যাবে না। তিনি দলীয় অনুশাসন মেনে চলেন। তাই উনি নিতে অস্বীকার করলেন।

বৃহস্পতিবার নিউটাউনে প্রাতঃভ্রমণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ তিনি এসব কথা বলেন।

জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রসঙ্গ টেনে এনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পদ্মভূষণ প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ।

সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ বলেন, ‘সোমনাথবাবুও একই ঘটনার শিকার। তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে বাড়িতে দলের নেতাদের ঢুকতে দেননি।’

কানাডায় এক বাড়িতে ৪ জনের গুলিবিদ্ধ লাশ

কানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরের একটি বাড়িতে চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার শহরের রিচমন্ড এলাকার একটি বাড়িতে এসব লাশ পাওয়া গেছে। খবর কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের।

লাশ পাওয়ার পর হত্যার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সম্ভবত সোমবার রাত ৭টার দিকের।

তদন্ত দলের সদস্য ডেভিড লির বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই আবাসিক এলাকাটি অনেকটা শান্ত। তবে এই হত্যাকাণ্ডটি ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে মনে করছে। তবে ওই এলাকার অপরাধী দলগুলোর সহিংসতা সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই বলে ধারণা পুলিশের।

কানাডায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ঘটানো হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৩ সালের পর থেকে দেশটির বৃহত্তম শহরগুলোয় অপরাধী দলগুলোর ঘটানো হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২০ সালে দেশটিতে এ ধরনের ২৭৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

আড়ালে থাকতে পারে জাল-জালিয়াতি

করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার থেকে সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বার্ষিক পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে সরেজমিন কোনো শাখা পরিদর্শন করা হচ্ছে না। ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ব্যাংকিং সলিউশনের (সিবিএস) সফটওয়্যারের ভিত্তিতে এ পরিদর্শন কার্যক্রম চলবে।

তবে এভাবে কার্যক্রমের ফলে গত এক বছরে সংঘটিত ব্যাংকিং খাতের জাল-জালিয়াতির ঘটনাগুলো আড়ালে থেকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কেননা ব্যাংকিং খাতের জাল-জালিয়াতির ঘটনার প্রায় ৯৫ শতাংশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে উদ্ঘাটিত হয়। বাণিজ্যিকগুলো সব সময়ই এগুলো আড়াল করার চেষ্টা করে।

আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শন কার্যক্রম চালাত। কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে পরিদর্শন কার্যক্রমে শিথিলতা আনা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনার সময় প্রণোদনার ঋণেও নানা অনিয়মের চিত্র ফুটে উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে কঠোর মনোভাব নিয়ে পরিদর্শন করে প্রকৃত ঘটনা জানা। বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখার স্বার্থে যেখানে ছাড় দেওয়ার দরকার সেখানে দেওয়া হোক। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব বিষয়গুলো জানা দরকার।

তিনি আরও বলেন, ‘নীতি সহায়তায় ছাড়ের কারণে অনেক ব্যাংকই সুদ আদায় না করেই কাগুজে-কলমে আদায় করা সুদ আয় খাতে নিয়ে মুনাফা বাড়িয়েছে। সেগুলো আবার বিতরণও করবে। প্রকৃত আয় না করে টাকা বিতরণ করলে এক সময় ব্যাংকগুলো বসে পড়বে। এটা ভাবতে হবে।’

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরই জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বার্ষিক পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করে। এতে পুরো বছরের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ঋণ বিতরণের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ আড়াল করা হয়েছে কিনা, গ্রাহকদের হিসাব পরিচালনা, সরকারি রাজস্ব আদায়সহ ব্যাংকের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। এ পরিদর্শনেই ব্যাংকগুলোর নানা অনিয়ম উঠে আসে।

কিন্তু করোনা সংক্রমণ বাড়ায় এবার পরিদর্শন কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পরিদর্শকরা এবার আপাতত সরেজমিন কোনো শাখায় যাবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে পাঠানো কোর ব্যাংকিং সলিউশন (সিবিএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি, লাভ-লোকসানের হিসাব নিষ্পত্তি করা ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেওয়ার অনুমোদন দেবে। তবে শর্ত জুড়ে দেবে পরবর্তীকে কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি ধরা পড়লে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ মতো সমাধান করতে হবে। পরিদর্শক দল প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তীতে বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এবার করোনার কারণে ঋণ পরিশোধে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল তার মেয়াদ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধার আওতায় ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা গেছে। লেনদেনটি ২০ জানুয়ারি হলেও এটি ৩১ ডিসেম্বরের লেনদেন বলে গণ্য করা হবে। যে কারণে পরিদর্শন কার্যক্রম পিছিয়েছে। এছাড়া আইনের কারণে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হবে। এ জন্য মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।

সূত্র জানায়, বছরজুড়ে ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন করে তার প্রায় সবই কোর ব্যাংকিং সলিউশনের আওতায়। লেনদেনের এ সফটওয়্যারটিই পাঠিয়ে দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংক। এগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তবে কোনো অনিয়ম পেলে পরবর্তীতে শাখা পর্যায়ে তদন্ত করা হবে। এর মধ্যে ঋণগ্রহীতাদের ফাইল দেখা হয়। কোনো অনিয়ম থাকলে এগুলোতেই ধরা পরে। সফটওয়্যারভিত্তিক লেনদেনে তা ধরা সম্ভব নয়। করোনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে নীতি সহায়তায় বড় ছাড় দিচ্ছে। এ কারণে এক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আটটি পরিদর্শন বিভাগ ও আটটি শাখা অফিস এ পরিদর্শন চালাবে। মঙ্গলবার থেকে প্রধান কার্যালয়ের ৪টি পরিদর্শন বিভাগ কাজ শুরু করে। প্রতিবারের মতো এবারও মোট ঋণের মধ্যে ৬০ শতাংশ রয়েছে এমন সব বড় শাখাগুলো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে বেশিরভাগ শাখাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে। কিছু শাখা অন্যান্য অঞ্চলে। এর মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যের বেশিরভাগ শাখাই পরিদর্শনের আওতায় আসবে।

সূত্র জানায়, ব্যাংকিং খাতে যেসব অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটে সেগুলোর ৯৫ শতাংশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরেজমিন নিয়মিত ও বিশেষ তদন্তে উঠে আসে। ব্যাংকগুলো এসব ঘটনা আড়ালে রাখতে চায়। এমন কি খেলাপি ঋণের ঘটনাও আড়াল করে। ফলে এবারের তদন্তে বিশেষ ছাড় দেওয়ায় জাল-জালিয়াতির ঘটনা উঠে না আসার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা ব্যাংকগুলো কোর ব্যাংকিং সলিউশনে এমনভাবে তথ্য পাঠাবে যাতে কোনো অসংগতি না থাকে।

সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতায় চলছে লেনদেন।

এ সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্সের লেনদেনে ৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৭ হাজার ৩৮ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক কোনো পয়েন্ট না বেড়ে ১৫০৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করে ২৬১০ পয়েন্টে।

এ সময় পর্যন্ত লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৩ কোম্পানির শেয়ারের। দাম কমেছে ১০৮টির এবং দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৭টির।

অন্যদিকে একই সময়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ২০ হাজার ৬২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে শ্রমিক লীগে চরম বিশৃঙ্খলা

শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্বে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগে।

সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু এক মঞ্চে বসেন না।

একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠানও করেন না তারা। এতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে সংগঠনটির কার্যক্রম।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা একাধিকবার সতর্ক করলেও তা কাজে আসেনি। তার মধ্যে এবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।

বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে তাকে সংগঠন থেকে অপসারণ করে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমি সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। আমাকে অপসারণ বা বহিষ্কারের কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি সংগঠনের সভাপতিও নন, চলতি দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র।

তবে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানের দাবি, তিনি সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করেননি। বহিষ্কারের এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে গেল তাও তিনি জানেন না। তিনি বলেন, সাধারণ সম্পাদক কোনো কাজে আমাদের সহায়তা করেন না।

গত ২২ জানুয়ারি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে আলোচনা করেছি। সেখানে তাকে বহিষ্কার বা অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন কোনো লিখিত চিঠি কেউ দেখাতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর করা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে এভাবে কি কেউ বহিষ্কার করতে পারে? চিলে কান নিয়েছে শুনে তিনি আমাকেসহ চারজনকে বহিষ্কার করেছেন বলে শুনেছি। এটা দুঃখজনক।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়ে কাজ করছে শ্রমিক লীগের দুই শীর্ষ নেতা। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও ছিল আলাদা আলাদা কর্মসূচি। বিভক্তির কারণে জাতীয় শোকের মাসেও কর্মসূচি পালন করতে পারেননি তারা। এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ ওবায়দুল কাদের এই নেতাদেরকে ডেকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। এরপরও তাদের একসঙ্গে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত চরম অগোছালো সংগঠনটি।

সূত্র জানায়, গত ২২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তার অনুসারী কয়েকজন নেতাকে নিয়ে ‘কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা’ করেন। ওই সভাতেও উপস্থিত ছিলেন না সাধারণ সম্পাদক ও তার অনুসারীরা। সভার পর ওই দিনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নান সাধারণ সম্পাদক আজম খসরুকে বাদ দিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা তাকে অভিনন্দনও জানাতে শুরু করেন। এ ঘটনার তিন দিন পর গত মঙ্গলবার সাধারণ সম্পাদক সভাপতি নুর কুতুব আলম মান্নানসহ চারজনকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃত অন্য নেতারা হলেন-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিএম জাফর ও দপ্তর সম্পাদক ফজলুল হক।

এদিকে দুই শীর্ষ নেতার এমন আচরণে বিব্রত সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ বিষয়ে সংগঠনটির এক সহ-সভাপতি বলেন, ২০১৯ সালে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিভক্ত হয়ে রাজনীতি শুরু করেন।

তৎকালীন সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর জীবদ্দশায়েও সংগঠনটিতে এই বিভক্তি ছিল। মন্টুর সঙ্গেও বিরোধ ছিল আজম খসরুর। তারাও একসঙ্গে কোনো প্রোগ্রাম করতে পারতেন না। মন্টু মারা যাওয়ার পরে নুর কুতুর মান্নানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরেও একই ঘটনা ঘটতে থাকে।

তারা একে অন্যের মুখ দেখেন না। কেউ কারও সঙ্গে কথাও বলেন না। সংগঠনের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থের দিকেই তারা বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। ফলে সংগঠনের উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রমও হয়নি বললেই চলে।

রাজধানীতে যুবদলের কম্বল বিতরণ

রাজধানীর ৬টি ওয়ার্ডের অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে যুবদল।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র এবং তারেক রহমানের ছোট ভাই মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।‌

ঢাকা ১৬ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত (পল্লবী ও রূপনগর থানা) ৬টি ওয়ার্ডে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহবায়ক শফিকুল ইসলাম মিল্টনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৯২নং ওয়ার্ডের ভোলা বস্তির অসহায় ও দুস্থদের মধ্যে ১২০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়।

এ সময় শফিকুল ইসলাম মিল্টন ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা ১৬ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত পল্লবী ও রূপনগর থানার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতারা।

হেরোইন-ফেনসিডিলসহ ৭৪ জনকে গ্রেফতার

হেরোইন-ফেনসিডিল এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদেরকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বুধবার ভোর ৬ টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬ টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে— ৪২৩ গ্রাম ১২০ পুরিয়া হেরোইন, ৬৬০৫ পিস ইয়াবা বড়ি, ৭০ কেজি ৭১০ গ্রাম গাঁজা ও ১০ বোতল ফেনসিডিল।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে।

চাল আমদানিতে শুল্ক কমছে না

আপাতত চাল শুল্ক কমিয়ে আমদানির দিকে এগোচ্ছে না সরকার। ভরা মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও চালের দাম এখনো বাড়তির দিকে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের শুল্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে নতুন করে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আপাতত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে।

বর্তমানে চাল আমদানিতে শুল্ক নির্ধারণ করা আছে ২৫ শতাংশ। এই শুল্কে চাল আমদানি অনেক আবেদন পড়লেও চূড়ান্ত পর্যায়ে তেমন বেশি চাল আমদানি হয়নি।

এদিকে বাজারে চালের দাম বাড়তির দিকে। এমন অবস্থায় চাল আমদানি শুল্ক কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

কিন্তু এই মুহূর্তে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে সরকারের উচ্চ পর্যায়। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০ শতাংশ শুল্কে চাল আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানার চেষ্টা করলেও খাদ্যমন্ত্রী করোনা আক্রান্ত থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি। খাদ্য সচিব বুধবার সচিবালয়ে অফিস করেননি। তাকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এরপর মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ ও সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাজা আব্দুল হান্নান যোগাযোগ করলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আমার পর্যায়ে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা এখনো আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি কোনো নির্দেশনা এসেও থাকে সেটা মন্ত্রী মহোদয় বা সচিব স্যার জানতে পারেন, আমি জানি না।

সার্বিক বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত চাল মজুত আছে। উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তাই মনিটরিং করার মাধ্যমে নিজেদের চালের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশিত করতে হবে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় চালের দাম মজুতের বিষয়টি দেখভাল করতে পারছে না। প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে বলেছেন।

সূত্র আরও জানায়, করোনার কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত সরকার বিপুল আর্থিক চাপে থাকবে। এই পরিস্থিতিতে চালের শুল্ক কমানো হলে সরকারকে আরও বিপুল টাকা গুনতে হবে। যা এই মুহূর্তে সরকারের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

এদিকে বাড়তি চাহিদা পূরণে গত বছরের বেসরকারি পর্যায়ে ১৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি নিয়ে ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় সেই সময় সাড়ে তিন লাখ টনের বেশি চাল আনা হয়নি।

চলতি সপ্তাহে পাইকারিতে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকা কেজি দরে। আর খুচরা বাজারে এই চাল বিক্রি করা হচ্ছে ৬৩ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে। মাঝারি মানের চাল খুচরা পর্যায়ে বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৬০ টাকায়। এছাড়া আরও সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকা পর্যন্ত। মোটা চাল ৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। যা এই সময়ের অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি।

উল্লেখ্য, চালের মজুতের দিক থেকে সরকার সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বর্তমানে মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টনের বেশি। সম্প্রতি শেষ হওয়া ডিসি সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সম্মতি আসলেই খুব কম শুল্কে চাল আমদানি হবে। কিন্তু সেই সম্মতি না আসায় আরও চাপে পড়ল খাদ্য মন্ত্রণালয়।

সময়ের মাল্লা

সময়ের মাল্লা
জীবনের নিগাদ কালো অন্ধমায়ায়
হারিয়ে যেওনা প্রিয়া,
সময়ের প্রতি সদা সজাগ বন্দনায়
যৌবনে ফুটাও ক্রিয়া।

সময়ের মাল্লা
বৃক্ষের শাখা-প্রশাখার অগ্নিরেখায়
জোয়ারে বাঁধে রিয়া,
কত কাল যুগ কেটে গেল খেলায়
আসেনি ঘরে মিয়া।

সময়ের মাল্লা
নিশান জ্বালিয়ে লক্ষ্যভেদে নিকায়
খবর নেই কোন ধিয়া,
জাগ্রত চেতনায় দলে দলে মাল্লায়
সুর তুলে বলো সিয়া।

সময়ের মাল্লা
আসবে যখন সত্যের জ্যোতি ধরায়
বিজয় মালা পরবে নিয়া।
বুঝবে তখন অবিনাশী প্রাণের তল্লায়
বক্ষ স্মারকে লেখা থিয়া।