শুক্রবার ,১২ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 471

ফেনসিডিলসহ আটক, মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন ছাত্রলীগ নেতা

ফেনসিডিলসহ আটকের পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা। ভ্রাম্যমাণ আদালতে মুচলেকা দিয়ে নিষ্কৃতি পাওয়া ওই ছাত্রলীগ নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলেটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি আনাস আলী।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আটক করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের চকআলমপুর মোড় থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

এ সময় পলেটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৩ জনকে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম এলাকার আব্দুল হকের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা আনাস আলী, বারোঘরিয়ার বরজান আলীর ছেলে নয়ন আলী, মহারাজপুরের মোংলা মন্ডলের ছেলে ইসমাইল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনিছুর রহমান খাঁন বলেন, মাদক বিরোধী নিয়মিত অভিযানে এসআই আসাদের নেতৃত্বে মাদক সেবনের দায়ে তাদেরকে আটক করা। এসময় তাদের কাছ থেকে এক বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার বিকালে এ নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চন্দর কর জানান, আর কখনও মাদক সেবন করবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা মুচলেকা নেয়। মুচলেকা দেওয়ার কারণে তাদরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আটককৃত আনাস আলী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলেটেকনিক ইন্সটিটিউট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাহিদ সিকদার।

তিনি জানান, আনাস ছাত্রলীগের সভাপতি হলেও বাকি দুইজনের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেনসিডিলসহ আটকের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে প্রমাণ পেলে পরবর্তীতে আনাসের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৮ মাস ধরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিয়ের প্রলোভনে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাইনুউদ্দিন মুন্সী (৩৮) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, টানা ৮ মাস ধরে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষন করেছে মাইনুউদ্দিন। এতে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি বৃহস্পতিবার চরমোন্তাজ তদন্ত কেন্দ্রে মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়। পরে রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েই দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সৌদিতে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের আভা বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে ৪ বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হামলা চালায় বলে সৌদি আরবের সরকারি সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে।

আহতদের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি ছাড়াও তিনজন নেপালি, দুজন সৌদি এবং ফিলিপিন্স, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।

তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আভা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা হয়েছিল। তা লক্ষ্যচ্যুত করে দেয় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। তখন শার্পনেলের আঘাতে ১২ জন আহত হন।

হুতি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া রয়টার্সকে বলেন, তারা আভা বিমানবন্দরে সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন হামলা চালায়।

জোট বাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল মালিক বলেন, বিমানবন্দর ব্যবহারকারী বেসামরিক মানুষ এবং বিমানবন্দরের কর্মীরাই ছিল হুতি বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু।

রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিমানবন্দরটি দ্রুতই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে উৎখাত করে রাজধানী সানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর সেই সরকারকে পুনর্বহাল করতে ২০১৫ সাল থেকে দেশটিতে হামলা চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

প্রসঙ্গত, এই সংঘাতে ইয়েমেনের লাখো মানুষ নিহত হয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধারাবাহিক হামলায় ইয়েমেনে দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

মার্কিন নাগরিকদের ইউক্রেন ছাড়ার নির্দেশ

যে কোনো মুহূর্তে রুশ সেনারা ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন এই নির্দেশনা জারি করে। খবর- রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘রাশিয়ার হামলার ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং করোনা মহামারির কারণে ইউক্রেনে এখন কেউ ভ্রমণ করবেন না। আর যারা এখন ইউক্রেনে অবস্থান করছেন তাদের অবিলম্বে বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত উপায়ে ইউক্রেন ত্যাগ করা উচিত।’

তিনি বলেন, যেকোনো সময় সতর্কতা ছাড়াই রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে। সেই সময় ইউক্রেন ত্যাগে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা সহ কনস্যুলার পরিষেবা প্রদান করা মার্কিন দূতাবাসের জন্য কঠিন হতে পারে।

এর আগে জানুয়ারিতে ইউক্রেনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে নিযুক্ত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি ইউক্রেনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদেরও সেসময় দেশটি ছাড়ার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছিল ওয়াশিংটন।

সেসময় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছিল, রাশিয়া ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে তথ্য রয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ‘অনিশ্চিত এবং পূর্বানুমানযোগ্য নয়। আর এ কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেকোনো সময় খারাপ হতে পারে’।

জেট ফুয়েলের দাম আরও বাড়ল

আবারো জেট ফুয়েলের (অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটে ব্যবহৃত) দাম বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ৭৩ টাকা থেকে ৭ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ৮০ টাকা করা হয়েছে। আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকেই নতুন নির্ধারিত এ দাম কার্যকর শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি নতুন এই দাম নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে গত ১৬ মাসে বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম ১২ দফা বাড়ল।

পদ্মা অয়েল জানায়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটার তেলের দাম পড়বে দশমিক ৭৫ মার্কিন ডলার। যা আগে ছিল দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রতি লিটারের দাম ছিল ৪৮ টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সেই দাম বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ৫৩ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ৫৫ টাকা, মার্চে ৬০ টাকা এবং এপ্রিলে ৬১ টাকা। তবে মে মাসে লিটারে ১ টাকা দাম কমানো হয়েছিল। পরে আবার জুনে ৩ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম নির্ধারণ করা হয় ৬৩ টাকা। তারপর জুলাইয়ে আরও বাড়িয়ে ৬৬ টাকা করা হয়। পরের মাস আগস্টে ৬৭ টাকা, অক্টোবরে ৭০ টাকা ও নভেম্বরে আরও বাড়িয়ে ৭৭ টাকা করা হয়। সর্বশেষ দুই ধাপে ৪ টাকা কমানো হয়েছিল জানুয়ারিতে।

অপরদিকে আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি লিটার ৫০ সেন্ট (৪২ টাকা)। তার পরের মাস মার্চেই দাম বাড়িয়ে ৫৫ সেন্ট (৪৬ দশমিক ৭৫ টাকা) করা হয়। তারপর থেকে অব্যাহত থাকে দাম বৃদ্ধি। মে’তে ৫৬ (৪৭ দশমিক ৬ টাকা) সেন্ট, জুনে ৫৯ সেন্ট (৫০ দশমিক ১৬ টাকা), জুলাইয়ে ৬২ সেন্ট (৫২ দশমিক ৭ টাকা), আগস্টে ৬৩ সেন্ট (৫৩ দশমিক ৫৫ টাকা), অক্টোবরে ৬৫ সেন্ট (৫৫ দশমিক ২৫ টাকা) এবং নভেম্বরে ৭৩ সেন্ট (৬২ দশমিক ০৫ টাকা) করা হয়। তবে পরে ৭৩ থেকে কমিয়ে ৬৭ সেন্ট করা হয়।

ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগে বিএসইসির তদন্ত কমিটি

ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ‌্যমে শেয়ার ক্রয় ও অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামুন আজিম নামে এক ব্যক্তিসহ অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

হাইকোর্টের নির্দেশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ‌্যে এ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

৯ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, একই প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. মাসুদ খান।

বিএসইসির জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, মামুন আজিম এবং অন্যদের মাধ্যমে শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে অবৈধ, বেআইনি এবং অসৎ কাজের যে অভিযোগ উঠেছে তা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।

অভিযুক্তরা শেয়ার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ইনসাইডার ট্রেডিং এবং অন্যান্য সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাই সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৭ ক অনুযায়ী মামুন আজিম এবং অন‌্যদের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

তদন্ত কমিটি ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মাধ‌্যমে শেয়ার ক্রয়সহ অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখবে। এ জন‌্য তদন্ত কমিটিতে বিএসইসি ও ডিএসইর কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো। তদন্ত কর্মকর্তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিএসইসিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন ‘এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একসঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি বিএনপির

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। তবে এ লক্ষ্যে গড়ে ওঠা আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও চলছে। এজন্য দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা না থাকলেও ভেতরে ভেতরে কাজ শুরু করেছে হাইকমান্ড।

দলটির নেতারা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার বিষয়ে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। এজন্য তারা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করে এবার অলআউট মাঠে নামতে চায় তারা।

এর আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও পানির দাম বাড়ানোর উদ্যোগের প্রতিবাদে শিগগিরই কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিটি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি করছে হাইকমান্ড। এখন থেকেই তাদের দলীয় কর্মসূচি পালনসহ নানা ইস্যুতে নিজ নিজ এলাকায় থাকার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন তারা। আগামী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

আন্দোলন ও নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরোদমে চলছে দল গোছানোর কাজ। ইতোমধ্যে ৮১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৫২টির পুনর্গঠন শেষ হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত সময়ে বাকিগুলোর কাজ শেষ করা হবে। দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কৃষক দল ও জাসাসের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দ্রুতই পুনর্গঠন করা হবে ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। অঙ্গসংগঠনগুলো মহানগরসহ বিভিন্ন ইউনিটের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন করছে। ঢাকা মহানগরকে আন্দোলন ও নির্বাচনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই সিটির আহ্বায়ক কমিটি প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ড কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আনতে কাজ করছে।

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্বাচনে যাওয়ার মতো প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। তবে আমরা চাই সেই নির্বাচনটা হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। এই মুহূর্তে আমাদের একমাত্র চাওয়া হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। শুধু বিএনপি নয়, দেশের প্রতিটি মানুষের চাওয়াও তাই। সে লক্ষ্যে আমরা বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়েই নিরপেক্ষ সরকারের দাবি প্রতিষ্ঠা করা হবে।

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে দফায় দফায় অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

বুধবার গুলশান কার্যালয়ে জোটের শরিক কল্যাণ পার্টি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় ২০ দলের সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জোটের ৯ শরিকের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এসব বৈঠকে বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে শরিকদের মতামত নেওয়া হচ্ছে। তাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া রয়েছে কিনা তাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বৃহত্তর ঐক্যের ব্যাপারে জামায়াতের ভূমিকা কী হবে সেটা নিয়েও ভাবছে দলটির নেতারা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের সঙ্গে কথা বলতে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করছে বিএনপি। এসব দলগুলোর সঙ্গে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। এরপরই বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। সব দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি রূপরেখা তুলে ধরবে বিএনপি। সেই আলোকেই হবে আন্দোলন।

দলটির নীতিনির্ধাকরা জানান, আগামী নির্বাচন যে প্রক্রিয়ায় হোক সেজন্য দলের প্রস্তুতি প্রয়োজন রয়েছে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে চলছে সেই প্রস্তুতি। দল গোছানোর পাশাপাশি ৩শ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন চূড়ান্তে গোপনে চলছে কাজ। দলের হাইকমান্ড নানা মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে প্রতি আসনে দুজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই করছেন।

তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের সিনিয়র কয়েক নেতার আসনকে এ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সিনিয়র নেতাদের কেউ যদি নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ না করে সেক্ষেত্রে ওইসব আসনে বিকল্প প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া দল গোছানোর প্রক্রিয়াতেও রয়েছে নির্বাচনি প্রস্তুতি। আগামী নির্বাচনে যাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে তাদের জেলা ও মহানগরের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

যারা নির্বাচন করতে আগ্রহী তাদের ভোটের মাঠ গোছাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা মনোনয়নপ্রত্যাশী তারা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে। আন্দোলনে রাজপথে না থাকলে মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হাইকমান্ডের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। প্রমাণ হিসাবে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় তা প্রমাণিত। তাই এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন এ দেশে হবে না। নির্বাচন যে একটা উৎসব সেটা দেশের মানুষ ভুলে যাচ্ছে। আমরা চাই নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার। এ দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। আগামীতে সবাইকে নিয়ে এ আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি বহুদলীয় গণতান্ত্রিক একটি দল। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদলে আমরা বিশ্বাস করি। আমাদের সব সময় নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।

সার্চ কমিটির কাছে শুক্রবার নাম পাঠাবে আ. লীগ, ‘তালিকায় রয়েছেন যারা’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটির কাছে শুক্রবার নাম প্রস্তাব করবে আওয়ামী লীগ।

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।ওই বৈঠকে শুক্রবার সার্চ কমিটির কাছে নিজেদের পছন্দের ১০ ব্যক্তির নাম সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়।

সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ নেতাই সিইসি হিসেবে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে।

সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে নেওয়া নেতাদের কাছে নাম চান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতারা পাঁচটি করে নাম লিখে খামে ভরে দলীয় সভাপতির হাতে জমা দেন। তারা শেখ হাসিনাকে প্রস্তাবিত নাম থেকে চূড়ান্ত করে তা সার্চ কমিটির কাছে প্রেরণের অনুরোধ করেন।

সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ নেতাই সিইসি হিসেবে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে।তাকে ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পছন্দও করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বব্যাংকে বিকল্প নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তাঁর চাকরির মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। অবশ্য নতুন দায়িত্ব পেলে বিশ্বব্যাংকের চাকরি ফেলে আসতে কোনো বাধা নেই।

নেতাদের পছন্দের তালিকায় মোহাম্মদ শফিউল আলম ছাড়াও রয়েছেন- পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক সচিব মোহাম্মদ সাদিক। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সাবেক আইনসচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালও রয়েছেন তালিকায়। সাবেক দুই প্রধান বিচারপতির নামও প্রস্তাব করেছেন কয়েকজন।

এদিকে সার্চ কমিটিতে আওয়ামী লীগ এককভাবে নাম প্রস্তাব করবে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নাম সার্চ কমিটিতে জোটগতভাবে নয়, এককভাবে পাঠাবে আওয়ামী লীগ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সার্চ কমিটিতে নামের তালিকা জমা দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) কান্ট্রি ডিরেক্টর আর্নৌদ হামিলির্সের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

হেরোইন-ফেনসিডিলসহ ৬৩ জনকে গ্রেফতার

হেরোইন, ফেনসিডিল এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ৬৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক সেবন ও বেচাকেনায় জড়িত সন্দেহে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ।

বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় যেসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— ১৪১৯২ পিস ইয়াবা বড়ি, ৩৫৯ গ্রাম ৫৭০ পুরিয়া ৫০ পাতা হেরোইন, ২৭ কেজি ৫২৫ গ্রাম গাঁজা ও ১২০ বোতল ফেনসিডিল।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৫ টি মামলা করা হয়েছে।

মাটিখেকোদের ভয়ংকর থাবা কৃষি জমিতে

ইটভাটা-টাইলস কোম্পানির বিরুদ্ধে উর্বর কৃষিজমির ওপরের মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন এলাকায়। টাকার লোভ এবং অসচেতনতার কারণে কৃষকরা মাটি বিক্রি করে নিজের পায়ে কুড়াল মারছেন। জাতীয় ভূমিনীতিবিরোধী এ কাজে যুক্ত আছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, আইনের অভাবে নেওয়া যাচ্ছে না শক্ত ব্যবস্থা।

চাঁদপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি থেকে কৌশলে ব্যবসায়ীরা ওপরের মাটি তুলে নিচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক আখতার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, এটা খুবই ভয়ংকর বিষয়। ধান আমাদের প্রধান ফসল। ধান গাছের শেকড় ৫-৯ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর এই ৯ ইঞ্চি পর্যন্তই থাকে মাটির মূল পুষ্টিগুণ। তাই ফসলি জমির ওপরের মাটি কোনোভাবেই অন্য কাজে লাগানো যাবে না। তিনি বলেন, অসচেতন কৃষকরা টাকার জন্য এটা করেন। সচেতন কৃষক কখনোই এটা করেন না। এটা বন্ধে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডার যশোর এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে যুগান্তরকে বলেন, ইটভাটার মালিকরা খুব কৌশলে কাজটি করে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অসচেতন কৃষকদের কোনো একজনকে ইটভাটা মালিকদের পক্ষ থেকে প্রথমে বলা হয় বোরো জমিতে চাষের সময় অনেক পানি লাগে। তোমার জমির ওপরের কিছু মাটি বিক্রি করে দাও তাহলে পানি বেশি থাকবে, খরচ কমবে। বিধান কুমার বলেন, একইভাবে পরের বছর পাশের জমি মালিককে বলবে, তোমার জমির পানি তো পাশের নিচু জমিতে চলে যায়, এতে তোমার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। তোমার জমি থেকে আরেকটু বেশি করে মাটি দাও তাহলে তোমার জমিতে পানির খরচ কমে যাবে। অসচেতন কৃষক নগদ টাকা ও পানি খরচ বাঁচানোর লোভে এটা করে। কিন্তু তারা জানে না যে, ওপরের মাটিতে গাছের খাদ্য উপাদানের মূল আধারগুলো থাকে। এই মাটি চলে গেলে উৎপাদন অনেক কমে যায়। ৮-১০ বছরেও আগের অবস্থানে ফেরে না।

জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি-২০০১-এর ৫.৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘উর্বর কৃষিজমি যেখানে বর্তমানে দুই বা ততোধিক ফসল উৎপাদনের জন্য সম্ভাবনাময়, তা কোনোক্রমেই অকৃষিকাজের জন্য যেমন ব্যক্তিমালিকানাধীন নির্মাণ, গৃহায়ন, ইটভাটা তৈরি ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা যাইবে না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি শেষ হওয়া ডিসি সম্মেলনে চাঁদপুরের ডিসির পক্ষ থেকে কৃষিজমির ওপরের মাটি রক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কৃষিজমির মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার ও দুই-তিন ফসলি জমিতে পুকুর কেটে অবাধে মাছ চাষের কারণে প্রতিনিয়ত কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। চাঁদপুরের ডিসি অঞ্জনা খান মজলিস যুগান্তরকে বলেছেন, কৃষিজমির ওপরের মাটি কেটে নিলে ফসল উৎপাদন কম হবে। এটা না জানার কারণে অনেক কৃষক মাটি বিক্রি করে দেন। আবার অনেকে বিক্রি করতে বাধ্য হন। এটা শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, আমাদের জাতীয় খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় পরিবেশ আইনসহ বিভিন্ন আইনের আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। তাই যুগোপযোগী একটি আইনের প্রস্তাব করেছি। যাতে এই অনিয়ম করতে কেউ সাহস না পায়।

ময়মনসিংহ বিভাগের একজন ডিসি যুগান্তরকে বলেন, শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগে এই অনিয়ম বন্ধ করা কঠিন। প্রয়োজন রাজনৈতিক উদ্যোগের। মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফসলি জমি রক্ষায় একাধিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব কাজে যুক্ত থাকায় তা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মধুপুর গড় এলাকার উন্নয়নকর্মী প্রিন্স এডওয়ার্ড মাংসাং যুগান্তরকে বলেন, ভূমিখেকোদের কারণে সাধারণ কৃষক খুব অসহায় অবস্থায় পড়েছে। যারা লোভে জমির মাটি বিক্রি করে দেয় তাদের জন্য সমস্যায় পড়েন পাশের জমির মালিকরা। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় ২০-৩০ ফুট পর্যন্ত গভীর করে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে পাশের জমি ভাঙছে। এতে মাটি বিক্রি না করেও পাশের কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে মধুপুরবাসী কয়েকটি ইটভাটার নাম উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, মেসার্স তাজ ব্রিকস গরিব কৃষকের জমির মাটি কেটে পৌর এলাকার পাশের একটি জায়গায় নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইট প্রস্তুত করছে। এরপর সেই কাঁচা ইট আউশনারা ইউনিয়নের ইটখোলায় নিয়ে পোড়ানো হচ্ছে। ইটখোলার বাইরে ইট প্রস্তুত করার নিয়ম নেই। কিন্তু তাজ ব্রিকস তাই করছে। কৃষিমন্ত্রীর কাছে আরেক অভিযোগকারী তুলা সরকার যুগান্তরকে বলেন, আমার পাশের জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছে। এখন বৃষ্টি হলেই আমার জমির মাটি নিচু জমিতে গিয়ে পড়ছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনি বলেন, মদিনা ব্রিকসের মালিক মুনসুর আলীসহ অন্যরাও বিনাবাধায় এসব কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মুনসুর আলী যুগান্তরকে বলেন, আমরা মাটি নেই ঠিক আছে। কিন্তু উর্বর ফসলি জমির মাটি না নিয়ে অনুর্বর কৃষি জমির মাটি কিনে নিই।

এসব ক্ষেত্রে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। মধুপুর উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। মধুপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলাম খান আবু যুগান্তরকে বলেন, ‘রেকর্ডের জমি থেকে মাটি বিক্রি করলে তো কিছু বলার উপায় নেই।’ তিনি বলেন, আমি কোনো অবৈধ কাজে প্রশ্রয় দিই না।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি জুবায়ের হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কৃষিজমির মাটি কাটার বিষয়ে কোনো অভিযোগ এলে গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তিনি বলেন, বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে আমরাও উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খোঁজখবর রাখি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফসলি জমির সুরক্ষার বিকল্প নেই। জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেন, উর্বর কৃষি জমির ওপরের অংশ কেটে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে আমাদের আরও কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, শিল্পায়ন করতে হলে কিছু বিষয়ে ছাড় দিতে হয়। তবে এক্ষেত্রে উর্বর কৃষিজমি থেকে মাটি না নিয়ে অনুর্বর জমি থেকে মাটি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।