শনিবার ,১৩ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 448

কী কারণ দেশ ছাড়ার পেছনে

ইদানীং অনেকেই দেশ ছাড়ছেন। যারা দেশ ছেড়ে বিদেশে যাচ্ছেন এদের মধ্যে দুটি দল রয়েছে। একটি দলের দেশ ছাড়ার পেছনে যে কারণগুলো রয়েছে সেটা জিজ্ঞাসা করলে তারা উত্তরে বলছেন- “মূলত সন্তানের কথা বিবেচনা করে যেমন- তাদের লেখাপড়া, জীবনের নিরাপত্তা এবং সুন্দর পরিবেশ পেতে দেশ ছেড়ে বিদেশে যেতে হচ্ছে, তবে আমরা দেশকে ভালোবাসি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই ইত্যাদি।”

অন্যদিকে আরেকটি দল দেশ ছাড়ছে কারণ দেশে কর্মসংস্থানের কোন উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। হতাশা এবং বেকারত্বকে দূর করতে শেষে বাড়ির জমিজমা যা আছে সেগুলো বিক্রি করে বা ধার নিয়ে কর্মের সুবাদে পরিবার, সন্তান বা বাবা-মা, ভাই-বোন রেখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এই দুটি দলের একটি দল সুবিধাবাদী আরেকটি দল সুবিধা বঞ্চিত, সত্ত্বেও তাদের গ্রহণযোগ্য যুক্তি রয়েছে, নিজ নিজ জায়গা থেকে।

এখন আমি দুটো বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে চাই আমার ভাবনা থেকে। বেকারত্ব এবং পেটের তাগিদে প্রতিনিয়ত দেশ ছাড়ছে দেশের অনেক নতুন প্রজন্ম, যেতে যেতে পথে অনেকে ঝরে পড়ছে সাগর বা মহাসাগরের মাঝে। আবার অনেকে প্রতারকের কবলে পড়ে সব হারিয়ে রাস্তার ফকির হচ্ছে। কেউ কেউ কোন এক দেশে সুযোগ পেয়ে সবকিছু ছেড়ে দূরপরবাসে কঠিন সময় পার করছে। অনেকে ভালোও আছে। এই দলের মানুষেরা দেশের অর্থনৈতিক খাতে তাদের অবদান রেখে চলছে। এরা সত্যিকারে বাংলাদেশের প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি অন্য যে দলটি দেশ ছাড়ছে তারা কিন্তু দেশের সকল সুবিধাগুলো পুরোপুরি ভোগ দখল করার পর দেশের সঞ্চিত অর্থ (হালাল বা হারাম তা জানিনে) নিয়ে দেশ ছাড়ছে এবং দেশের বাইরে বসবাস করছে। আজ যদি দেশের এসব সুবিধাবাদীরা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার না করত, ঠিক মত ট্যাক্স দিত এবং এভাবে দেশ না ছাড়ত, বরং তারা যদি বেকারত্ব এবং পেটের তাগিদে প্রতিনিয়ত যারা দেশ ছাড়ছে তাদের মত সঞ্চিত অর্থ দেশে পাঠাত তাহলে কাউকেই দেশ ছাড়া লাগত না।

আমার এ মন্তব্যে ঘাবড়ে গেলে চলবে না বরং আসুন জেনে নেই কি বোঝাতে চেয়েছি আমি। যে অজুহাত দেখিয়ে বড় লোকেরা দেশ ছাড়ছে যেমন নিরাপত্তার অভাব, সুশিক্ষার অভাব, সামাজিক ব্যবস্থা খারাপ ইত্যাদি, এর সব কিছুই রাষ্ট্র কিন্তু পারত গড়ে তুলতে যদি সততা, ন্যায় নিষ্ঠা এবং দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ হতো। গত পঞ্চাশ বছরে যে সুযোগগুলো বাংলাদেশ পেয়েছে, তাতে সবার মহৎ প্রচেষ্টা থাকলে কাউকেই দেশ ছাড়া লাগত না। তবে জ্ঞান অর্জনে ভালো চাকরির সুবাদে অবশ্যই দেশের মানুষ অন্য দেশে যাবে যেটা পশ্চাত্যের মানুষেরাও করে। কিন্তু দেশের অর্থ বিদেশে নিয়ে বেগমপাড়া বা বিলাস বহুল প্রাসাদ গড়া বাঙালি জাতি, এরা কখনোও দেশকে ভালোবাসেনি, এরা জাতির কাছে রাজাকারই থেকে যাবে। কুকিলের মত এরা সুধু বসন্তের সৌন্দর্যই উপলব্ধি করে গেল। এরা জন্মেছে সোনার চামচ মুখে দিয়ে এবং যাবার বেলা সময় সুযোগ মত বসন্ত শেষে সব কিছু নিয়ে চলে চলে গেল, অভাগা দেশের কোন উন্নতি হলো না।

এই না হবার পেছনে যে কারণগুলো জড়িত তা নিম্নরূপ বলে আমি মনে করি। কারণ একটি দেশ ধ্বংস করতে রাষ্ট্রের প্রশাসন, ঘুমন্ত জনগণ এবং তেলবাজ সাংবাদিকই যথেষ্ট। যেমন শিক্ষা অর্জন করার পরও যদি আমাদের নৈতিকতা, বিবেক, মূল্যবোধ না থাকে। যদি সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিঁথ্যা বলার হিম্মত হারিয়ে ফেলি তবে আমরা সমাজের আবর্জনা ছাড়া কিছুই না এবং আমাদের পুরো শিক্ষাই কু-শিক্ষা। যে দেশে সবাই দুর্নীতি করে সে দেশে থেকে ভালো কিছু আশা করাও বোকামি। আমরা বলি আমাদের সবার বাবা-মা ভালো, তাহলে দুর্নীতিগুলো করে কাদের বাবা-মা? রাজনীতি করা মানে জনগণের জন্য কাজ করা আর চাকুরী করা মানে জনগণের সেবা দেওয়া। চাকুরীতে দরকার সু-শিক্ষা এবং সুদক্ষের, রাজনীতিতে দরকার জনদরদির, আর আইনে দরকার ন্যায় বিচার, আছে কি সেটা? যেমন বলা হচ্ছে, মেয়েদের ধর্ষণ থেকে রেহাই পাবার একমাত্র উপায় ঘর থেকে না বের হওয়া কিন্তু কঠিনভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে না পুরুষদের এ কাজ করতে।

যেদিন রাজনীতিতে দুর্নীতি বন্ধ হবে সেদিন দেখবেন দেশের ৯৫% মানুষ রাজনীতি ছেড়ে কাজে যোগ দেবে এবং যেদিন দেশে ন্যায়বিচারের প্রশাসন চালু হবে সেদিন থেকে দেশের পরিকাঠামো যেমন মজবুত হবে সেই সাথে দেশের মানুষ “শান্তিতে”থাকতে পারবেন।

গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যান্সার হলে কী করবেন?

স্তন ক্যান্সার বর্তমানে একটি পরিচিত রোগ। মধ্যবয়সি বহু নারী এই জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকের গর্ভকালে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ে। তখন জটিলতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. আরমান রেজা চৌধুরী।

গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে এর চিকিৎসা কিছুটা জটিল। প্রথমে আসি রোগ নির্ণয়ের ব্যাপারে। গর্ভাবস্থায় স্তনে যে স্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে তা অনেক সময় স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক নির্ণয়ের জন্য বাধার সৃষ্টি করে।

চামড়া পুরু হয়ে যাওয়ায় বোঝা যায় না ছোট চাকা বা দলা রয়েছে কিনা। গর্ভাবস্থায় ম্যামগ্রাফি করা যাবে না; কারণ এটি মায়ের পেটে থাকা ভ্রূণের ক্ষতি করতে পারে। কাজেই আল্ট্রাসনোগ্রামই ভরসা।

এর পর কোর বায়োপসি করে নিশ্চিত করতে হবে এটি ক্যান্সার। এবার স্টেজিং বা পর্যায় নির্ধারণের পালা। স্টেজিং বা পর্যায় নির্ধারণের জন্য সিটিস্ক্যান বা এক্স-রে করা যাবে না। কারণ এটি ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকারক। কাজেই এখানেও আল্ট্রাসনোগ্রামই ভরসা। খুব বেশি প্রয়োজন হলে কন্ট্রাস্টবিহীন এমআরআই করা যেতে পারে।

চিকিৎসা
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে— সার্জারি বা অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি এবং হরমোন থেরাপি ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থাকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায় ১ম ট্রাইমেস্টার (প্রথম ৩ মাস), ২য় ট্রাইমেস্টার (মাঝের ৩ মাস) এবং ৩য় ট্রাইমেস্টার (শেষের ৩ মাস)।

এ তিন ভাগের যে কোনোভাগেই অপারেশন করানো সম্ভব। তবে অপারেশনের ধরন নিয়ে কথা রয়েছে।

সম্প্রতি স্তন ক্যান্সারের অত্যন্ত জনপ্রিয় সার্জারি হচ্ছে ‘ব্রেস্ট কনজারভেটিভ সার্জারি’ অর্থাৎ পুরো স্তন কেটে না ফেলে শুধু টিউমার বা ক্যান্সার অংশটুকু কেটে ফেলা। সাধারণত টিউমার ছোট আকার এর হলে এ পদ্ধতিতে অপারেশন করানো হয়। কিন্তু এ পদ্ধতিতে সার্জারি করলে অবশ্যই অপারেশনের পর রেডিওথেরাপি দিতে হবে।

গর্ভাবস্থায় রেডিওথেরাপি দিলে তা গর্ভে থাকা মানব ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকারক। তাই গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যান্সার হলে ম্যাসটেকটমি অর্থাৎ পুরো স্তন কেটে ফেলার অপারেশন নিরাপদ।

অ্যালার্জির কারণে ত্বকে র‌্যাশ হলে করণীয়

অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে ত্বকে র‌্যাশ হলে অ্যালার্জির কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইউনাইটেড হাসপাতালের ডার্মাটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. জিনাত মেরাজ।

তিনি বলেন, সমস্যা চিহ্নিত না করে ওষুধ দিলে বা স্টেরয়েড দিলে ত্বক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকই স্টেরয়েড লাগিয়ে আরাম পান; তারা এটা শুধু ব্যবহার করতেই থাকেন। আমরা হয়তো প্রেসক্রাইব করি, স্টেরয়েড এক সপ্তাহ, ১০ দিন বা দুই সপ্তাহ ব্যবহার করতে। কিন্তু অনেকেই এটা দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত ব্যবহার করে। এমন অনেকেই আছে, যারা ১০ বছর ধরে স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন।

অধ্যাপক ডা. জিনাত মেরাজ বলেন, স্টেরয়েড ব্যবহারের অভ্যাসটা অনেকটা মাদকাসক্তের মতো। যারা একবার স্টেরয়েডে আসক্ত হয়ে যান, তাদের কিন্তু আর কিছুতেই শান্তি হয় না। তারা বারবার স্টেরয়েডে ফিরে যেতে চান।

তিনি বলেন, স্টেরয়েডে অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। স্টেরয়েডের কারণে ত্বক নষ্ট হয়ে যায়। ত্বক কালো হয়ে যায়। যেখানে স্টেরয়েড লাগানো হয়, সেখানকার লোম উঠে যায়। এজন্য অ্যালার্জি হলে তার কারণটা খুঁজে বের করতে হবে। এরপর চিকিৎসা করাতে হবে।

স্থূলতায় ডেকে আনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, কী করবেন?

আবহাওয়া ও জীবন যাপনে পরিবর্তনের কারণে স্থূলতা বাড়ছে দিন দিন। আগে মধ্যবয়সীদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলেও বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর মূল কারণ অতিমাত্রায় জাঙ্ক ফুড নির্ভরতা এবং শুয়ে বসে অলস সময় কাটানো। শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা হলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয়।

দৈহিক স্থূলতার কারণে শরীরে যেসব মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম।

ওবেসিটি হল শরীরের এমন একটি অবস্থান যে অবস্থায় শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়। হিপোক্রেটিস বলেছেন স্থূলতা অবশ্যম্ভাবীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর দুর্যোগপূর্ণ পরিণতি বয়ে আনে। এ অবস্থায় শরীরে অতিরিক্ত স্নেহ বা চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা হয় এবং স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে, ফলে আয়ু কমে যেতে পারে এবং একই সঙ্গে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বডি মাস ইনডেক্স (বিএমাই) হল শরীরের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার, যা দিয়ে বোঝা যায় যে কোনো ব্যক্তি মাত্রাধিক ওজন (মরবিড ওবেসিটি) বিশিষ্ট কিনা। যদি কারও বডি মাস ইনডেক্স ২৫ কেজি/মি২ থেকে ৩০ কেজি/মি২ এর মধ্যে থাকে তখন তাকে স্থূলকায় বা মোটা বলা যেতে পারে, আর যখন বডি মাস ইনডেক্স ৩০ কেজি/মি২ বেশি থাকে তখন তাকে অতি স্থূলকায় বা অতিরিক্ত মোটা বলা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার হিসাব মতে ২০১৬ সালে ১৯৭৫ সালের চেয়ে ৩ গুণ দৈহিক স্থূলতা রোগী ছিল। এ সময় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ১.৯ বিলিয়ন (৩৯ শতাংশ) মানুষ দৈহিক স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। এর মধ্যে ৬৫০ বিলিয়ন ছিল ওবেস (১৩ শতাংশ)। ৫ বছরের কম বয়সী ৪১ বিলিয়ন শিশু ও এই সময়ে দৈহিক স্থূলতায় আক্রান্ত ছিল। ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ৩৪০ মিলিয়ন শিশু-কিশোর স্থূল দেহী ছিল।

বডি মাস ইনডেক্স-ই এর সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং আরও মূল্যায়ন করতে গিয়ে দেখা গেছে, কোমর-নিতম্বের অনুপাত মেনেই এই চর্বি বা স্নেহ পদার্থ সারা শরীরে ছড়িয়ে থাকে এবং এর ফলে হৃদ-ধমনীর রোগ দেখা দিতে পারে। বডি মাস ইনডেক্স শরীরের স্নেহ পদার্থের শতকরা হার ও শরীরের মোট স্নেহ পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

মৃত্যুহার

স্থূলতা এমন একটা রোগ, যাকে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে খাড়া করা যেতে পারে, তবে একে ঠেকানোও যেতে পারে। আমেরিকা ও ইউরোপের অনেকেই সমীক্ষা করে দেখেছেন যে, বডি মাস ইনডেক্স যাদের ১৮.৫, ২২.৯ কেজি/মি২ এবং ধূমপায়ী নন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কম এবং যে ধূমপায়ীদের বডি মাস ইনডেক্স ২৩.০ থেকে ২৬.৯ শম/স২ তাদের ধীরে ধীরে এই ঝুঁকির মাত্রা বাড়ে। বিশেষ করে ষোলো বছরের বেশি বয়স, ঋতুচক্র হয়ে গেছে এমন মেয়েদের বিএমআই ৩২-র বেশি হলে, তাদের মৃত্যুহার অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

অসুস্থতা

স্থূলতার কারণে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানির আশঙ্কা থাকে। মূল সমস্যার পাশাপাশি আরও বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যেমন মেটাবলিক সিনড্রোম বা কার্ডিওভাসকুলার রোগ ও মধুমেহ বা ডায়াবেটিস রোগ, উচ্চরক্তচাপ, রক্তে বেশি কোলেস্টরল ও উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দৈহিক স্থূলতার কারণ

* পরিমাণে বেশি বা বেশি ক্যালরি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ

* শ্রমবিমুখ বা কম পরিশ্রম করা

* জীনগত

জনস্বাস্থ্য

বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার অনুমান অতিওজন ও স্থূলতা খুব শিগগিরই হয়তো কমপুষ্টি (আন্ডার নিউট্রিশন) ও সংক্রামক ব্যাধির (খারাপ স্বাস্থ্যের জন্য যা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কারণ) মতো প্রথাগত জনস্বাস্থ্য সমস্যার জায়গা নেবে। তার বিস্তার, খরচ ও স্বাস্থ্যে তার প্রভাবের কারণেই স্থূলতা হল একটা জনস্বাস্থ্য ও নীতি সম্পর্কিত সমস্যা।

শিশু বয়সের স্থূলতা

শিশুর বয়স ও লিঙ্গের সঙ্গে সুস্থ বডি মাস ইন্ডেক্স (বিএমআই) ক্রমবিন্যাস ওঠানামা করে। বিএমআইর ৯৫তম পার্সেন্টাইলের শিশুদের ও বয়ঃসন্ধিকালের স্থূলতার সংজ্ঞা ঠিক করা হয়। এ পার্সেন্টাইলগুলোর ভিত্তি হল ১৯৬৩ থেকে ১৯৯৪-এর মধ্যবর্তী সময় এবং স্থূলতার হারের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির দ্বারা তা প্রভাবিত হয় না। একবিংশ শতাব্দীতে শিশু বয়সের স্থূলতা মহামারীর আকার নিয়েছে, উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব উভয় জায়গাতেই এ হার বেড়েছে। কানাডার কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার ১৯৮০-এর দশকে ১১% থেকে ১৯৯০-এর দশকে ৩০%-এর ওপর বেড়ে গেছে। এই একই সময়কালে ব্রাজিলের শিশুদের মধ্যে এই হার ৪ থেকে বেড়ে ১৪% হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার পাশাপাশি শিশু বয়সের স্থূলতার হার বাড়ার সঙ্গে বহু বিষয় জড়িয়ে আছে। সাধারণ খাদ্য বদল ও শারীরিক কসরত কমে যাওয়াকেই সাম্প্রতিককালে এই হার বেড়ে যাওয়ার পেছনে দুটি মূল কারণ বলে মনে করা হয়। কারণ শিশু বয়সের স্থূলতা বড় বয়সেও প্রায়ই থেকে যায় অসংখ্য কঠিন ব্যাধিকে সঙ্গী করে। যেসব শিশু ভীষণ মোটা প্রায়ই তাদের পরীক্ষা করে দেখা গেছে এদের হাইপারটেনশন (উচ্চরক্তচাপ), ডায়াবেটিস (মধুমেহ), হাইপারলিপিডেমিয়া ও চর্বিযুক্ত লিভার থাকে। এসব শিশুদের চিকিৎসা হল প্রাথমিকভাবে লাইফস্টাইল বা জীবনধারণের ধরনে হস্তক্ষেপ ও আচার-আচরণ প্রণালি পরিবর্তন।

মেডিকেলে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে মেডিকেলে ভর্তির আবেদন শুরু হবে। ১০ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে মেডিক্যাল ভর্তির আবেদন নেওয়া শুরু হবে। ১০ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি ১ হাজার টাকা। ১১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে। ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে।

১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশি নাগরিক যারা বিদেশি শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের সার্টিফিকেট সমতাকরণ করতে হবে। এজন্য দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) বরাবর আবেদন করতে হবে।

ভর্তি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের আলোকে অনুষ্ঠিত হবে। আগের বছরের ন্যায় এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিক্যাল, ডেন্টাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের আগে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না।

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসাবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ’র জন্য ৭৫ নম্বর এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর জন্য ১২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। কেবল কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকাসহ ফল প্রকাশ করা হবে।

পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১০ নম্বরের (মোট ১০০) প্রশ্ন থাকবে

জবির নতুন আবাসিক হলে সিট বরাদ্দ পেলেন ১২০০ ছাত্রী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) নবনির্মিত আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ পেয়েছেন ১২০০ ছাত্রী।

বৃহস্পতিবার রাতে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তালিকাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিকতা লাভের জন্য ছাত্রীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সিট বরাদ্দের তালিকা প্রকাশ করা হলো।

এতে আরও বলা হয়েছে- যারা হলে সিটের বরাদ্দ পেয়েছেন এসব ছাত্রীদের কাগজপত্র (আবেদন ফর্ম, নগদ কিংবা রকেট অথবা শিউরক্যাশের মাধ্যমে ৫ হাজার ২৬৫ টাকা পরিশোধকৃত জমার রশিদ, হলে বসবাসের শর্তাবলীর অভিভাবক ও ছাত্রীর স্বাক্ষরিত কপি, অঙ্গিকারনামা ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি) জমা দিতে হবে।

আগামী ২ মার্চ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে হলের হাউজ টিউটরের নিকট জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ ।

এই বিষয় এ হল প্রভোস্ট ড. শামিমা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর হল চালু হতে যাচ্ছে। আমরা ১২০০ ছাত্রী তালিকা প্রকাশ করেছি। আগামী ১৭ মার্চ আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে ছাত্রীরা হলে উঠবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ অক্টোবর বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে আসন বরাদ্দের জন্য ছাত্রীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে আবেদন চলে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। ১৬তলা বিশিষ্ট এই হলটির ১৫৬টি কক্ষে ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। হলের নিচতলা ও দোতলায় রয়েছে লাইব্রেরি, ক্যান্টিন ও ডাইনিং। অবশেষে দীর্ঘ ১৭ বছর পরে অনাবাসিক তকমা মুছে মেয়েদের একটা হলের ব্যবস্থা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

শ্রীদেবীকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট জাহ্নবির

চার বছর হয়ে গেছে মারা গেছেন বলিউড অভিনেত্রী শ্রীদেবী। ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনাবশত পানিতে ডুবে মৃত্যু হয় কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীর। রেখে গেছেন দুই কন্যা জাহ্নবি-খুশি কাপুর এবং স্বামী বনি কাপুরকে।

মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবি কাপুর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাকে নিযে হৃদয়স্পর্শী পোস্ট করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়ের জন্মদিনে নিজের ইনস্টাগ্রামে শ্রীদেবীর সঙ্গে ছোটবেলার ছবি পোস্ট করেছেন জাহ্নবি কাপুর।

মায়ের সঙ্গে ছোটবেলার ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী লিখেছেন— তোমাকে ছাড়া নয়, তোমার সঙ্গেই আমি বহু বছর কাটাব। কিন্তু আমি সেসব দিনকে ঘৃণা করি, যেগুলো তোমাকে ছাড়া কাটাব। ঘৃণা হয় আমার জীবনে আরও একটা বছর যোগ হলো তোমাকে ছাড়া। আশা করি মা তোমাকে আমরা গর্বিত করতে থাকব। কারণ এখন এটিই একমাত্র করণীয়। অনেক ভালোবাসি তোমায়।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারিতে মারা যান শ্রীদেবী। জানা যায়, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি পরিবারের অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভাগ্নের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। সেখানেই বড় মেয়ে জাহ্নবির জন্মদিনের কেনাকাটা করার জন্য আরও কয়েক দিন থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় সেখানে ছিলেন না বনি কাপুর। তিনি লখনউয়ে একটি মিটিং করে স্ত্রীকে অবাক করে দেওয়ার জন্য আচমকাই দুবাইয়ে হাজির হন। বনি কাপুর যাওয়ার পর দুজনে বেশ কিছুক্ষণ গল্প করে কোথাও বেরোনোর জন্য তৈরি হতে থাকেন। শ্রীদেবী তৈরি হওয়ার জন্য স্নান করতে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় তাকে ডাকাডাকি করতে থাকেন বনি। সাড়া না মেলায় বাথরুমে গিয়ে শ্রীদেবীকে দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে খবর দেওয়া হলে ডাক্তার অভিনেত্রীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

রাশমিকাকে বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন বিজয়

বলিউডে চলছে বিয়ের মৌসুম। একের পর এক তারকা বসেছেন বিয়েরপিঁড়িতে। এরই মাঝে গুঞ্জন উঠেছে দক্ষিণী তারকা বিজয় দেভেরাকোন্ডা ও রাশমিকার মান্দানা বিয়ে করছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দি ছবি লাইগারের জন্য মুম্বাইয়ে রয়েছেন বিজয়, অন্যদিকে মুম্বাইয়ে নতুন বাড়ি কিনেছেন রাশমিকা। তাই তাদের বিয়ে ঘিরে জল্পনা এখন তুঙ্গে। অনস্ক্রিন অফস্ক্রিন তাদের রসায়ন অনুরাগীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

শোনা যাচ্ছে— এ বছরেই গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন এই জুটি। দুটি ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। গীত গোবিন্দম ও ডিয়ার কমরেড, দুটি ছবিই ছিল সুপারহিট। তাদের জুটিকেও পছন্দ করেছিল দর্শক। এখন শোনা যাচ্ছে পর্দার সেই রসায়নই বাস্তবে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তবে শুধু মুম্বাইয়ে ডেটিং নয়, এ বছরের শুরুতেই গোয়ায় একসঙ্গে কাটিয়েছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। শুধু বিজয় নয়, সেখানে ছিলেন বিজয়ের ভাই আনন্দও। এমনকি বিজয়ের মায়ের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাশমিকার।

রাশমিকা ও বিজয়ের সঙ্গে বিয়ের খবর যখন ছড়িয়ে পড়েছে, তখন বিয়ে প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বিজয় দেভেরাকোন্ডা। তিনি টুইটে লিখেছেন— খবরটা ভিত্তিহীন, তবে খবরটা পছন্দ হয়েছে।

অনুরাগীদের নিরাস করে আপাতত বিয়ে করছেন না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিজয়।

দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যর্থ তামিম

গত ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর থেকেই বাংলাদেশের দলের টপঅর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কোচ ডমিঙ্গো ও নির্বাচকরা।

প্রথম ম্যাচে টপঅর্ডারের ভয়াবহ ব্যর্থতার পরও তাদের ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজম্যান্ট, ভাঙেনি উইনিং কম্বিনেশন।

শুরুটা ভালো করলেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজেই।

আউট হয়ে গেলেন ১২ রান করেই। দলীয় সপ্তম ও নিজের ৪র্থ ওভারে গিয়ে সফল হলেন প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ত্রাস ফজল হক ফারুকি।

ওভারের দ্বিতীয় বলে তামিমকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। যদিও আউটসাইড অব দ্যা পিচ ডেলিভারি হওয়ায় আবেদনে সাড়া দেননি মাঠের আম্পায়ার। পরে রিভিউ নিয়ে সফল হন আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি।

২৪ বল খেলে ২ বাউন্ডারিতে ১২ রান করে সাজঘরে ফিরলেন ওপেনার তামিম।

তার জায়গায় ব্যাট হাতে নেমেছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। নেমেই চার হাঁকালেন।

খেলার এই পর্যায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ ওভারে ৫০ রান। ১৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত ওপেনার লিটন, সাকিব খেলছেন ৭ বলে ৬ রানে।

সেঞ্চুরির আশায় বাংলাদেশ, ৩ পরিবর্তন নিয়ে নামল আফগানিস্তান

প্রথম ওয়ানডেতে ইতিহাস গড়েছেন আফিফ-মিরাজ। ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে আগের দিন জয়ের মুকুট পরান তারা।

মাত্র ৪ রানের জন্য জুটির বিশ্বরেকর্ডও গড়া হয়নি। তাতে কী! দল জেতানো জুটি গড়া যে বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও অমূল্য।

এমন দুর্দান্ত জয়ের পরও আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও যে প্রশ্ন থাকছে। টপঅর্ডারের ব্যাটাররা কি আজকেও ব্যর্থ হবেন? তামিম, লিটন, সাকিব, মুশফিকের ব্যাট আজ কথা বলবে তো?

তাদের পারফরম করতেই হবে, ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের মাটিতে বাংলাদেশই যে সেরা, সেটি প্রমাণ করে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিততে চান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

আজ জিতলেই সবার আগে বিশ্বকাপ সুপার লিগে প্রথম দল হিসেবে ১০০ পয়েন্টের ঘরে প্রবেশ করবেন টাইগাররা।

সেই লক্ষ্যে টসে জিতে ব্যাট হাতে নামলেন তামিম-লিটন। সিরিজ জেতার মিশনে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজেদের একাদশে কোনো পরিবর্তন আনেনি বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে টপঅর্ডারের ভয়াবহ ব্যর্থতার পরও তাদের ওপর আস্থা রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট, ভাঙেনি উইনিং কম্বিনেশন।

তবে সমতায় ফিরতে আজ তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছে আফগানিস্তান। বাদ পড়েছেন ইব্রাহিম জাদরান, গুলবাদিন নাইব ও ইয়ামিন আহমেদজাই। তাদের বদলে খেলছেন রিয়াজ হাসান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ফরিদ আহমেদ মালিক।

বাংলাদেশ একাদশ

তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), ইয়াসির আলি রাব্বি, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

আফগানিস্তান একাদশ

রহমানউল্লাহ গুরবাজ (উইকেটরক্ষক), রিয়াজ হাসান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহিদি (অধিনায়ক), নাজিবউল্লাহ জাদরান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ফজলহক ফারুকি।