রবিবার ,১৪ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 430

পিকআপভ্যানচাপায় মা-ছেলে নিহত

বরগুনায় ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে পিকআপভ্যানচাপায় মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন।

সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে আমতলী-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের চুনাখালী কালভার্ট নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— নূরজাহান বেগম (৪০) বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চুনাখালী গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী ও তার ছেলে মো. রাকিব (১৬)।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে নূরজাহান বেগম তার ছেলে রাকিবকে নিয়ে পায়ে হেঁটে একই সড়কের খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সসংলগ্ন এলাকায় ভাই কুদ্দুস পহলানের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। এ সময় আমতলী- পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের চুনাখালী কালভার্ট নামক স্থানে একটি ট্রাক এবং পিকআপভ্যান ওভারটেক করে।

এতে সড়কে পিকআপভ্যানটি (চট্টমেট্রো ন-১১- ৯০৬৩) মা ও ছেলেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যানচালক ও হেলপার ঘটনাস্থলে গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়।

পিকআপভ্যানটি জব্দ এবং মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আমতলী থানায় নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ট্রাককে ওভারটেক করার সময় পথচারী মা ও ছেলেকে চাপা দেয় পিকআপ। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

গোড়াতেই গলদ!

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি বাড়ছে। গত ৩ মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমসে অবৈধ পণ্য আটকের কয়েকটি ঘটনায় বিষয়টির প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন), ব্যবসা নিবন্ধন নম্বর (বিআইএন), আমদানি সনদ (আইআরসি) নিয়ে পণ্য আমদানি করছে চোরাচালান সিন্ডিকেট। কিন্তু এ চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। এসব জালিয়াতির পেছনে প্রত্যক্ষভাবে লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি সনদ দেওয়ার আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ সুযোগে অসাধু চক্র নিরীহ ও অন্য ব্যক্তির নামে নামসর্বস্ব কোম্পানি খুলে সনদ বানিয়ে নিচ্ছে। এজন্য সরকারি সংস্থাগুলোর সনদ দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দেশের প্রচলিত সব আইন অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আমদানি করতে সরকারি একাধিক দপ্তরের সনদ প্রয়োজন হয়। শুরুতে ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এটি নেওয়া লাগে। এরপর টিআইএন নিতে হয় সংশ্লিষ্ট আয়কর অফিস থেকে। একই প্রক্রিয়ায় বিআইএন নিতে ভ্যাট অফিসের আবেদন করতে হয়। ব্যবসাসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য পদ নেওয়ার পর আইআরসির জন্য আমদানি-রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে আবেদন করতে হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র সনদ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদ বিধিবদ্ধ পদ্ধতি অনুসরণ করছে না। সব অনিয়মের উৎপত্তি এই লাইসেন্স থেকেই শুরু। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন তদন্তের পর লাইসেন্স ইস্যুর বিধান থাকলেও লাইসেন্স সুপারভাইজাররা সেটি যথাযথভাবে মানছে না। ফলে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে ব্যবসা করার বৈধতা পাচ্ছে। এই ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে পরে টিআইএন গ্রহণ করছে সংশ্লিষ্ট আয়কর অফিস থেকে। সেখানেও আবেদনকারীর প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত নাম-ঠিকানার ভিত্তিতে টিআইএন ইস্যু করছে। একই অবস্থা ভ্যাটের ক্ষেত্রে। আবেদন জমার পর প্রাথমিক তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের বিধান থাকলেও সেটি মানা হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার মাধ্যমে বিআইএন পাওয়া যাচ্ছে হরহামেশাই।

এ বিষয়ে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যবসাসংক্রান্ত লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে (ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, বিআইএন, আইআরসি) যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে যারা লাইসেন্স দিয়ে থাকে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। চোরাকারবারির পক্ষে একা ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে লাইসেন্স নেওয়া সম্ভব নয়। এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের যোগসাজশ অবশ্যই রয়েছে এবং সেটা অবশ্যই অবৈধ লেনদেনের বিনিময়ে। এ ধরনের ঘটনা যে দপ্তরে ধরা পড়ুন না কেন, ব্যবসাসংক্রান্ত লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনলে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হবে না। পাশাপাশি এক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি বন্ধে কাস্টমসকে সজাগ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে যেসব ঘটনা উদঘাটন হয়েছে, সেগুলো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিজেদেরও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে। এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো চট্টগ্রাম কাস্টমসের এক চিঠিতে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বর বাপ্পু ও আরাফাত এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান কাগজ ঘোষণায় সিগারেটের জাল ব্যান্ডরোল আমদানি করে। এছাড়া মারহাবা ফ্রেশ ফ্রুটস নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠান আপেল ঘোষণায় আপেলের মধ্যে লুকিয়ে সিগারেট আমদানি করেছে। কিন্তু ৩টি প্রতিষ্ঠানের একটিরও সরেজমিন গিয়ে অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে জালজালিয়াতির মাধ্যমে নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, বিআইএন ও আইআরসি নিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

এসব চোরাচালানের ঘটনায় কাস্টমসের নিজস্ব অনুসন্ধানের বর্ণনা দিয়ে চিঠিতে আরও বলা হয়, আমদানিকারক ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে বিআইএন নিয়েছেন। রংমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও সিএনজিচালকের নামে এসব প্রতিষ্ঠান কাগজপত্র বানিয়ে কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। এতে বোঝা যায়, বড় চোলাচালানি চক্র এ কাজে জড়িত। এরা হয়তো প্রলোভন দেখিয়ে নিরীহ লোকজনের নাম, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন, বিআইএন, আইআরসি ও ব্যাংক হিসাব খুলে মিথ্যা ঘোষণা পণ্য আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অপচেষ্টা করছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সুপারিশ : অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে পণ্য আমদানি রোধে চট্টগ্রাম কাস্টমস দুটি সুপারিশ করেছে। প্রথমত, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিআইএন বাতিল এবং আইআরসি-ইআরসি বাতিলের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, আর্থিক সামর্থ্যরে তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সব কাস্টম হাউজে পাঠানো হলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিআইএন নজরদারির আওতায় আনা যাবে। তবে তার আগে সব ভ্যাট কমিশনারেট, শুল্ক গোয়েন্দা ও ভ্যাট গোয়েন্দার মাধ্যমে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ঠিকানা অনুযায়ী সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে অস্তিত্বহীন ও নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি এবং আর্থিক সামর্থ্যরে তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে তালিকা করতে হবে।

এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, অস্তিত্বহীন বাণিজ্যিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যেই দেশের সব ভ্যাট কমিশনারেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কাস্টমস কমিশনারদের সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের কায়িক পরীক্ষা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন অনলাইন আবেদনের প্রেক্ষিতে বিআইএন দেওয়া হয়। তাই সব ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয় না। তবে জাল-জালিয়াতি বন্ধে সরকারের অন্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সমঝোতা চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কার্যকর হলে জালিয়াতি বহুলাংশে কমে আসবে।

চাপ বাড়ছে পণ্য আমদানিতে

করোনার সংক্রমণ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়ও লাগামহীনভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও যুদ্ধের কারণে এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে।

সূত্র জানায়, করোনার পর জ্বালানি তেলের দাম ৮৬ ডলারে উঠেছিল। পরে আবার কমে তা ৬৮ ডলারে নামে। সম্প্রতি যুদ্ধের কারণে এর দাম আবার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে উঠেছে। এছাড়া দেশের প্রধান আমদানি পণ্য গমের দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ, সারের বেড়েছে শতভাগ। এছাড়া শিল্পের যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দামও বেড়েছে। এর প্রভাবে আমদানি ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারিতে আমদানি ব্যয় কমেছিল শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। এর মধ্যে ভোগ্যপণ্যের আমদানি ৫০, শিল্পের যন্ত্রপাতি ৬১, শিল্পের মধ্যবর্তী যন্ত্রপাতি ৫৮, জ্বালানি তেল ৯০, শিল্পের কাঁচামাল ৫৩ এবং অন্যন্য খাতে ৪১ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে।

এদিকে আমদানি ব্যয় বাড়লেও পণ্যের আমদানি বাড়ছে না। কারণ পণ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে ব্যয় বেশি বাড়ছে। কিন্তু পণ্য আসছে কম। আমদানি ব্যয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থব্যয়ও বেড়েছে। যে কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার থেকে ১০০ কোটি ডলার কমেছে। এদিকে রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় কমেছে ১৬ শতাংশ। আর জুলাই-ফেব্রুয়ারি, আট মাসে কমেছে পায় ২০ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৮৯ দশমিক ২৪ শতাংশ, যেখানে আগের অর্থবছরে এটি ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ নেতিবাচক ছিল। এ কারণে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে আলোচ্য সময়ে বেড়েছে প্রায় ৫৩ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে চলতি হিসাবের ভারসাম্য নেতিবাচক হয়েছে ১ হাজার ৬ হাজার ২০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৫৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি বাড়ায় এ খাতে ঘাটতি হয়েছে। ঘাটতি বেশিদিন থাকলে বৈদেশিক মুদ্রাব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হবে।

দেশে যে পরিমাণ আমদানি হয়, রপ্তানি আয় দিয়ে তার ব্যয় নির্বাহ করা যায় না। আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যয় নির্বাহ করা হয় প্রবাসী আয় দিয়ে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ ব্যাংক তাদের আমদানি ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের সংস্থান করতে পারছে না। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দ্বারস্থ হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করতে গিয়ে চাপ বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। এতে একদিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি চাপে পড়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে পণ্য আমদানির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বিপরীতে আট মাসে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানি বাড়ার চেয়ে রপ্তানি আয় বাড়ছে কম।

আন্তর্জাতিক কারণেই দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেড়েছে: হানিফ

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, আন্তর্জাতিক কারণেই দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেশি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কেউ যেন বাজার নিয়ে কোন কারসাজি করতে না পারে, এ ব্যাপারে সরকার সজাগ।

রোববার বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

এক প্রশ্নের উত্তরে হানিফ বলেন, দ্রব্যমূল্য ইস্যুতে বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে বিএনপি। আন্তর্জাতিক কারণেই দ্রব্যমূল্য কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। অথচ এ নিয়ে বিএনপি অহেতুক রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে। সবকিছুতেই সরকারের সমালোচনা করা বিএনপির রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। এই মুহূর্তে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

হানিফ বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিবে- এমন কোনো কাজ এই দল করেনি। নির্বাচনে জয়লাভের কোনো সুযোগ নেই, বুঝতে পেরেই এ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে বিএনপি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একমাত্র কারণ মন্ত্রীদের দুর্নীতি: ফখরুল

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পাশাপাশি গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির একমাত্র কারণ হল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও আমলাদের দুর্নীতি। তারা দুর্নীতি করে ফুলেফেঁপে ঢোল হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়। কিন্তু বিচার হয় না। আজকে চাঁদপুরের ডিসি বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নামে শিক্ষামন্ত্রীর পরিবারের লোক ৩৬৫ কোটি টাকা লোপাট করেছেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে যে মানুষ আর বাঁচার উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। বেঁচে থাকার জন্য যে ন্যূনতম খাবার প্রয়োজন সেটাও কিনতে পারছে না। তার নিরাপত্তাও নেই।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে তারা মানুষের স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেই বাকশাল শাসন ব্যবস্থাই চালু করেছে আওয়ামী লীগ। গণতন্ত্রের মোড়কে সেই একদলীয় শাসনব্যবস্থাই চালু করেছে।

সমাবেশে বিএনপি ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সর্বাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত রাশিয়া। এই দাবি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ সেনারা সর্বাত্মক আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবর ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলেন, রাশিয়ার বাহিনী যুদ্ধ সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করছে কিয়েভে হামলা করতে। ট্যাঙ্ক-গোলাবারুদ নিয়ে রুশ সেনারা কিয়েভের নিকটবর্তী শহর ইরপিনে অবস্থান নিয়ে আছে। সেখানে কিয়েভ হামলার গ্রাউন্ডওয়ার্ক চলছে।

রাশিয়ান কমান্ডার তাদের বহরগুলোতে বেলারুশ থেকে আসা জ্বালানি সরবরাহ করছে। এসব জ্বালানি চেরনোবিল এলাকা দিয়ে আনা হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার আজ ১২ তম দিন। রাজধানী শহরের প্রবেশ মুখে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার লম্বা সেনাবহর মোতায়েন করে রেখেছে মস্কো।

অন্যদিকে মস্কোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভ, চেরনিহিভ, সুমি এবং দক্ষিণের মিকোলাইভ শহরকে অবরুদ্ধ করার দিকেই এখন মূল নজর দিচ্ছে রুশ সামরিক বাহিনী।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে প্রেসিডেন্ট পুতিন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে গত ১১ দিন ধরে। এর মাঝে রোববার পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। কিয়েভের প্রতিরোধে মস্কোর ১১ হাজার সেনা মারা গেছেন বলে দাবি ইউক্রেনের।

তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে না

সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

তবে রোববার রাত থেকে পরবর্তী তিন দিনে আবহাওয়ার অবস্থা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। খবর বাসসের।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূহকে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

রোববার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। টেকনাফে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আলোচনা অথবা যুদ্ধ-যেভাবেই হোক লক্ষ্য অর্জন করতে চায় রাশিয়া

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একটি টেলিফোন আলাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আলোচনা অথবা যুদ্ধ- যেভাবেই হোক রাশিয়া তার লক্ষ্য অর্জন করবেই।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাগিদ দেন।

ইউক্রেনের দাবি, রুশ গোলাবর্ষণে জেপোরোজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে গিয়েছিল।

তবে আগুনের ওই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে ক্রেমলিন।

পুতিন আরও বলেন, রোববার মারিওপোল এবং ভলনোভাখা শহরে ‘যুদ্ধবিরতি’ ভেস্তে যাওয়ার কারণ হলো, ইউক্রেনের জাতীয়তাবাদীরা বেসামরিক মানুষজনকে যেতে বাধা দিয়েছে। বরং এ সুযোগে তারা শক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা চালিয়েছে।

এর আগে রেডক্রস জানিয়েছিল, কীভাবে বেসামরিক মানুষজনকে সরিয়ে নেওয়া হবে, তা নিয়ে দুপক্ষ একমত হতে না পারায় তারা কাজ শুরু করতে পারেনি।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে মহান এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।

দলীয় সভাপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর পর সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় ৩২ নম্বর।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ সোমবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা গৌরবের এক অনন্য দিন।

১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহতি কাব্যের কবি শোনান তার অমর কবিতাখানি। তার বজ্রকণ্ঠের নিনাদে বাংলার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হয়েছিল স্বাধীনতার ঘোষণা, যার অঙ্গুলিহেলনে গর্জে উঠেছিল উত্তাল জনসমুদ্র।

লাখ লাখ মানুষের গগনবিদারি স্লোগানের উদ্যমতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে উড়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজের পতাকা। উত্থিত হয়েছিল শপথের লাখো বজ্রমুষ্টি।

তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উত্তাল জনসমুদ্রে বজ্রকণ্ঠে হেঁকেছিলেন— ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যেই নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল আমাদের নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি আজ বাঙালি জাতির জন্য এক বিরল সম্মান ও গৌরবের স্মারক। ’৭৫ থেকে ’৯৬ সাল পর্যন্ত এ দেশে এ ভাষণ প্রচার নিষিদ্ধ ছিল— যেমনটি করেছিল পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী; তারাও সেদিন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ ভাষণ প্রচার করতে দেয়নি। কিন্তু সত্য সর্বদাই অনিরুদ্ধ। তাই নিপীড়িত-নির্যাতিত বাঙালিদের মুক্তির এ মহামন্ত্র শুধু বাংলাদেশেই নয়-বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে, অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।

রমজানের প্রস্তুতি শাবান থেকেই

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহে আমরা শাবান মাসে প্রবেশ করছি, আলহামদুলিল্লাহ। ইসলাম ধর্মে চন্দ্রমাসের মধ্যে শাবান মাস বিশেষ ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। বিশ্বনবি ও রাহমাতুল্লিল আলামিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাস থেকে মাহে রমজানের পূর্ণ প্রস্তুতি নিতেন। এ ছাড়া এ মাস থেকে যেন তার উম্মত কল্যাণমণ্ডিত হতে পারেন সেজন্য তিনি দোয়াও করতেন।

হাদিস পাঠে জানা যায়, শাবান মাস আসার আগেই মহানবি (সা.) দুই হাত তুলে এ দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবাদেরও পড়তে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবাও ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা ইলা শাহরির রমাদান’ (মসনদে আহমদ)। অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দাও এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দাও।

তাই এ মাসকে বলা হয় মাহে রমজানের আগমনী বার্তা। শাবান মাস মূলত পবিত্র মাহে রমজানের প্রস্তুতির মাস। হজরত রাসূল (সা.) শাবান মাসে অন্যান্য মাসের তুলনায় বেশি বেশি নফল রোজা, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজ আদায় করে মাহে রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। উম্মুল মুমিনীন হজরত আয়েশা (রা.) বলেছেন, ‘মহানবি (সা.) কখনো নফল রোজা রাখতে শুরু করলে আমরা বলাবলি করতাম, তিনি বিরতি দেবেন না। আর রোজার বিরতি দিলে আমরা বলতাম যে, তিনি মনে হয় এখন আর নফল রোজা রাখবেন না। আমি মহানবি (সা.) কে রমজান ব্যতীত অন্য কোনো মাসে পূর্ণ এক মাস রোজা পালন করতে দেখিনি। কিন্তু শাবান মাসে তিনি বেশি নফল রোজা রেখেছেন’ (মুসলিম)। অপর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে রাসূলুল্লাহ (সা.) এত অধিক হারে নফল রোজা আদায় করতেন না’ (বোখারি)।

স্রষ্টার পরে মাখলুকের মধ্যে মহানবি (সা.)-এর স্থান প্রথম হওয়ার পরও তিনি রমজানের প্রস্তুতি হিসাবে আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করতেন। বিশ্বনবি (সা.) এ মাসে অধিক হারে নফল ইবাদত-বন্দেগি করতেন। এ সম্পর্কে হজরত আনাস (রা.) বলেছেন, মহানবিকে (সা.) জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনার কাছে মাহে রমজানের পর কোন মাসের রোজা উত্তম?’ তিনি বললেন, ‘রমজান মাসের সম্মান প্রদর্শনকল্পে শাবানের রোজা উত্তম’ (তিরমিজি)।

মাহে রমজানে দীর্ঘ ৩০টি রোজা পালনের কঠিন কর্মসাধনা সহজভাবে আদায় করার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শাবান মাসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কেননা আমরা যদি রমজান শুরু হওয়ার আগেই শাবান মাসে কয়েকটি নফল রোজা রেখে নেই তাহলে রমজানের রোজা রাখতে আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে। এ মাসে বিশেষ কিছু নফল আমল রয়েছে, যা আমল করলে আমরা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করতে পারি এবং জান্নাত লাভের পথ সুগম হবে। এ ছাড়া মুমিন মুত্তাকিরা বরকতপূর্ণ শাবান মাস থেকেই ইবাদতের একটি রুটিন তৈরি করে নেয় যে, পূর্বের রমজান থেকে আগত রমজানে কী কী নেক আমল বেশি করবে।

হাদিসে এসেছে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘মহানবি (সা.)-এর প্রিয় মাসের একটি হলো শাবান। এ মাসে নফল রোজা আদায় করেই তিনি মাহে রমজানের রোজা পালন করতেন’ (আবু দাউদ)।

তাই আমরাও যদি শাবান মাসে বেশি বেশি নফল ইবাদতে অতিবাহিত করি আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে দোয়া করতে শুরু করি, হে পরম দয়াময় আল্লাহ! তুমি আমাকে সুস্থ রাখ, আমি যেন আগত রমজানে আগের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দানখয়রাত, কুরআন পাঠসহ সব পুণ্যকর্ম অধিকহারে করতে পারি। আমরা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে আল্লাহপাকের দরবারে ক্রন্দনরত হয়ে দোয়া করি তাহলে তিনি আমাদের রমজানের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করবেন না।

তাই রমজানের কল্যাণ থেকে কল্যাণমণ্ডিত হওয়ার জন্য এ শাবান মাস থেকেই আমাদের রমজানের জন্য পুরো প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আর না হয় রমজান চলে আসবে আর মনে মনে ভাবব, হায়! রমজান মাস চলে এলো আর আমি এর জন্য তৈরিই হয়নি।

তাই আসুন, পবিত্র মাহে রমজানকে বরণ করতে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে প্রস্তুত করে নিই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে এ বরকতপূর্ণ শাবান মাসের মাহাত্ম্য উপলব্ধি করে নিজেকে পবিত্র মাহে রমজানের জন্য উপযুক্ত করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট