সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 420

আ.লীগের সম্মেলন: আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে ওই স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে এ পথে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক আছে।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি ভারতের ব্যবসায়ী নেতাদের চিঠির মাধ্যমে আগেই জানানো হয়েছে। আগামীকাল রোববার সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুনরায় শুরু হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শনিবার আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন, সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা, পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক তাকজিল খলিফা কাজল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সম্মেলন প্রার্থী হয়েছেন।

এ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষে স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকেরা অংশগ্রহণ করবেন। এজন্য বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আখাউড়া কাস্টমস স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা শাহ নোমান সিদ্দিকী বলেন, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।

আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ আব্দুল হামিদ যুগান্তরকে জানান, স্থলবন্দরে বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও দুদেশের পার্সপোটধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ৯ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শনিবার। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তোরণ, ব্যানার-ফেস্টুনে পৌরশহরকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। চাঙ্গা অবস্থা বিরাজ করছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালে। আজ অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে সভাপতি হিসেবে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবেক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীনসহ আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আখাউড়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজলসহ তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নেতাকর্মীরা আরও জানান, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থীরা হলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. জয়নাল আবেদীন ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ বোরহান উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সেলিম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, রেলওয়ে জংশন শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি হানিফ ভূঁইয়া।

এদিকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসাবে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল ছাড়াও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সদস্য আবদুল হালিম হেলাল ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির মোল্লা।

শুক্রবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে উপজেলার আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতি কমিটির কো-চেয়ারম্যান মনির হোসেন বাবুল জানান, উপজেলা পরিষদ মাঠে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মীর বসার জন্য বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান অতিথি থাকবেন।

উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ট্রেন পরিচালক নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে

ট্রেন পরিচালক পদে জনবল নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে ‘গার্ড গেড-২’ পদে ৫৩ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এ পদটির জন্য আবেদন করতে পারবেন আগামী ২ মার্চ সকাল ১০টা থেকেই। আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম: গার্ড গ্রেড-২ (গ্রেড-১৪)

পদ সংখ্যা: ৫৩ জন

যোগ্যতা: যে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস।

বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

চাকরির ধরন: স্থায়ী

কাজের ধরন: ফুল টাইম

বয়স: আবেদনের সময়সীমা ১ মার্চ ২০২২ তারিখের হিসাবে ১৮-৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। আর শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩০ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://br.teletalk.com.bd/ -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: আগামী ৬ এপ্রিল বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

[প্রিয় পাঠক, আপনিও দৈনিক যুগান্তর অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। লাইফস্টাইলবিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য,

২৫ জনকে নিয়োগ দেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়

জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। রাজস্ব খাতভুক্ত ৬ স্থায়ী পদে ২৫ জনকে নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে আবেদন করা যাবে অনলাইনে।

পদের নাম : হিসাবরক্ষক (গ্রেড-১২)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি।
বেতন: ১১,৩০০/- থেকে ২৭,৩০০/-

পদের নাম : সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ৩ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম : কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি।
বেতন: ১১,০০০/- থেকে ২৬,৫৯০/-

পদের নাম : ক্যাশিয়ার (গ্রেড-১৪)
পদ সংখ্যা: ১ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি।
বেতন: ১০,২০০/- থেকে ২৪,৬৮০/-

পদের নাম : অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬)
পদ সংখ্যা: ২ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান ডিগ্রি।
বেতন: ৯,৩০০/- থেকে ২২,৪৯০/-

পদের নাম : অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০)
পদ সংখ্যা: ১৭ জন
আবেদনের যোগ্যতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক বা সমমান পাস।
বেতন: ৮,২৫০/- থেকে ২০,০১০/-

বয়স: আবেদনের বয়সসীমা ১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ হিসেবে ১৮-৩০ বছর। বিশেষ ক্ষেত্রে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা http://ptd.teletalk.com.bd -এ ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দেখুন এখানে—

আবেদনের শেষ সময়: ৯ এপ্রিল ২০২২ বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন হিপ ফ্রাকচার, কী করবেন?

মানুষের শরীরে কোনো অঙ্গের ক্ষতি বা আঘাতের মধ্যে গুরুতর আঘাত হচ্ছে হিপ ফ্র্যাকচার। আর এটি এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে, এতে প্রাণও হারানোর শঙ্কা থাকে। এ সমস্যার ঝুঁকি বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরও বাড়তে থাকে।

মূলত হিপ ফ্রাকচার হচ্ছে কোমরের হাড় ফেটে বা ভেঙে যাওয়া। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে এ সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। কারণ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের হাড় দুর্বল হয়ে যায়। এ ছাড়া একাধিক ওষুধ সেবন, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়া এবং ভারসাম্যের সমস্যাগুলোর কারণে বয়স্ক ব্যক্তিদের পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আর এসব কারণে পড়ে গিয়ে হিপ ফ্র্যাকচার হওয়াটা অন্যতম সাধারণ কারণ।

হিপ ফ্র্যাকচারের জন্য প্রায় সবক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মেরামত বা প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে শারীরিক থেরাপিতেও ভালো হয়।

অনেকেই কোমরে ব্যথা সহ্য করলেও বুঝতে পারেন না যে এটি হিপ ফ্রাকচার কিনা। তাই জানুন যেসব লক্ষণে বুঝবেন হিপ ফ্রাকচার—

১. বসে থেকে উঠতে বা হাঁটতে সমস্যা অথবা অক্ষমতা
২. কুচকিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করা
৩. পায়ের ওপরে ভর দিয়ে থাকতে অক্ষমতা
৪. আহত অঙ্গের চারপাশে ক্ষত বা ফুলে থাকা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এ ছাড়া হিপ ফ্রাকচারের সমস্যা এড়াতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা যেতে পারে। জানুন হিপ ফ্রাকচারের প্রতিকারে কী করবেন—

১. পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ নিয়ম হিসাবে ৫০ বা তার বেশি বয়সিদের দিনে অন্তত ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৬০০ আন্তর্জাতিক ইউনিট ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত।

২. হাড়কে মজবুত ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ব্যায়াম করতে হবে। এ ছাড়া ব্যায়াম আমাদের সামগ্রিক শক্তি বাড়ায় এবং পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম করে তোলে।

৩. ধূমপান করা বা অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ তামাক ও অ্যালকোহল ব্যবহারে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে।

৪. উঠে দাঁড়ানোর সময় ধীরে দাঁড়াতে হবে। তাড়াতাড়ি করে দাঁড়ানোর কারণে বা ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যেতে পারে এবং এর ফলে মাথা ঘোরার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৫. বেশি বয়স হয়ে গেলে ঝুঁকি এড়াতে কোনো লাঠি বা ওয়াকারের সাহায্য নিয়ে হাটতে পারেন।

এসব সচেতনতা মেনে চলাচল করলে হিপ ফ্রাকচার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কম হতে পারে।

তথ্যসূত্র: মায়োক্লিনিক ডট ওআরজি

স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ, কারা ঝুঁকিতে

নারীদের স্তন ক্যান্সার একটি জটিল সমস্যা। আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস ও জীবন-যাত্রার পরিবর্তনের কারণে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ হাজারের বেশি মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ও উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রফিক আহমেদ।

নিম্নে উল্লেখিত নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি-

* যারা নিয়মিত স্ক্রিনিং করান না।

* বয়স ৪০ বছরের বেশি হলে কোনো উপসর্গ ছাড়াই চিকিৎসকের পরামর্শে ছয় থেকে বারো মাস অন্তর সব নারীকে ম্যামোগ্রাম করাতে হবে। রুটিন পরীক্ষা তো করাতেই হবে।

* ১২ বছরের আগে যদি ঋতুস্রাব শুরু হয়।

* কারও ঋতুস্রাব যদি ৫৫ বছরের পরও চলতে থাকে।

* পারিবারিক ইতিহাস অর্থাৎ মা, খালা, বোন, রক্তের সম্পর্ক যুক্ত। পরিবারের একজনের ক্যান্সার হলে অন্যদের মধ্যে ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়।

* প্রথম সন্তান যদি ৩৫ বছরের পর হয়। স্তনে অন্য কোনো রোগ হয়।

* যাদের সন্তান হয় না অর্থাৎ বন্ধ্যা।

* যাদের উচ্চতা ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি।

উপসর্গ

অনেক নারী যাদের বয়স ১৫-৩৫ বছর, বুকের স্তনে বা দুই দিকেই মার্বেলের মতো গোল গোল এক বা একাধিক চাকা অর্থাৎ মাংস দলা থাকতে পারে- যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। এদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মসৃণ, রাবারের মতো, মার্জিন সহজে বোঝা যায়, নড়াচড়া করে ব্যথা থাকে না।

১৫-৪৫ বছর বয়সী মহিলাদের ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার আকৃতির হতে পারে আবার অর্ধ সেন্টিমিটারও হতে পারে। কেন হয় কারণ জানা যায়নি। এটিকে বলা হয় বেনাইন অর্থাৎ শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়।

স্তন ক্যান্সারের সতর্ক সংকেত- যখন চিকিৎসকের কাছে অতি শিগগির যাবেন

* বুকের মধ্যে শক্ত চাকা, ঘন পুরো বা অমসৃণ, একই স্থানে থাকে।

* স্তন ফুলে গেলে গরম অনুভব হলে, লাল হয়ে গেলে অথবা ত্বক কালো হয়ে গেলে।

* স্তনের আকার, আকৃতি যদি দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে।

* স্তনের ত্বকে যদি গর্ত হয় বা কুঁচকে যায়।

* নিপল যদি বেশি চুলকায়, র‌্যাশ হয়, ঘা হয়।

* নিপল যদি হঠাৎ করে ফুলে যায় বা অংশ বিশেষ ফুলে যায়।

* হঠাৎ করেই নিপল দিয়ে রক্ত বা সাদা, যে কোনো তরল জাতীয় আঠালো পদার্থ নিঃসরণ হতে শুরু করে।

* হঠাৎ করেই স্তনের মধ্যে ব্যথা শুরু হয়েছে- তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

এমনটি হলে- তখন আর দেরি নয়, দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন।

কী করবেন

* ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

* কায়িক ও শারীরিক পরিশ্রম করুন। প্রতি দিন ঘাম ঝড়িয়ে ৩০-৪৫ মিনিট ব্যায়াম করুন।

* প্রতিদিন ৪ ধরনের ফল ও সবজি খেতে হবে।

* ধূমপান, মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন।

* জন্ম বিরতিকরণ পিল সেবন থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে যাদের বয়স ৩৫ বছর পার হয়েছে।

* ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর অনেকেই হরমোন থেরাপি গ্রহণ করেন- সেটি থেকে বিরত থাকুন।

* দুগ্ধবতী মায়েরা অবশ্যই বাচ্চাকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ পান করাবেন। কমপক্ষে ২ বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াবেন।

* ওষুধে রোগ সারায় আবার ওষুধেই স্তন ক্যান্সার হয়। যদি কেউ টেমক্সিফেন অথবা রেলক্সিফেন ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করেন।

আবর্জনার ভিড়ে প্রতিভাবান লেখকরা পিছিয়ে পড়ছেন

একজন লেখক হিসাবে আমার কাছে একুশের বইমেলা সারা বছরের সবচেয়ে বড় আকর্ষণীয় জায়গা। আমি বছরের অন্য সময়টা এ মেলাটির জন্য অপেক্ষায় থাকি। মনে আছে, ১৯৮৪ সাল থেকে যখন মেলা ব্যাপকভাবে শুরু হলো, তখন থেকে এমন কোনো বইমেলা নেই যেখানে আমি উপস্থিত থাকিনি।

এমন কী বিদেশে থেকেছি কিন্তু বইমেলার সময় দেশে ফিরে এসেছি। একবার মেলার সময়টাতে জাপানে একটি সাহিত্য বিষয়ক আমন্ত্রণ পেলাম। সেটি আমি পিছিয়ে দিয়েছি শুধু বইমেলার জন্য। বইমেলার প্রতি আমার আকর্ষণটা এরকম।

কিন্তু করোনার কারণে ২০২০ সালে বলতে গেলে মেলা হয়নি। আর গত বছরও যেভাবে হয়েছে তাতে আমি বইমেলায় যেতে পারিনি। কিন্তু খুব দুঃখ হয়েছে, বইমেলা হলো কিন্তু যেতে পারলাম না! তখন অবস্থাও এমন ছিল, ঘর থেকেই বের হওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু এ বছর বইমেলার জন্য ব্যাপকভাবে অপেক্ষা করেছি। যদিও বইমেলা ১৫ দিন পিছিয়ে শুরু হয়েছে আর ওদিকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত বেড়েছে। সবমিলিয়ে এবারের আয়োজন বেশ চমৎকার।

যে কদিনই বইমেলায় গিয়েছি আমার মনটা ভরে গেছে। আরেকটি কথা আমি সবসময় বলি, বইমেলার কোনো খুঁত আসলে আমার চোখে পড়ে না। আমি সবসময় বইমেলাকে বইমেলার মতোই দেখি। ধুলো উড়ছে, ঠিকভাবে মাঠে ইট বিছানো নেই, এটা-সেটা হতেই পারে। এসব নিয়ে না ভেবে বই কিভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় পাঠক-লেখক-প্রকাশক মিলে এ ভাবনাটা জোরদারভাবে করলে ভালো হয়।

লক্ষ্য করেছি, আমাদের প্রকাশকরা সবাই কিন্তু অবস্থাসম্পন্ন নন। করোনার গত দুই বছরে অনেক ছোট প্রকাশক আছেন তারা একদম ‘বসে’ গেছেন। অনেকে এবার মেলায় বই প্রকাশ করতে পারেননি, স্টল নিয়ে মেলায় অংশ নিতে পারেননি। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানাতে চাই, প্রকাশকদের বিষয়ে একটু বিশেষভাবে তিনি যেন চিন্তা করেন।

যারা খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের টিকিয়ে রাখার জন্য সরাসরি প্রণোদনা না দিলেও ৪ থেকে ৫শ কোটি টাকার ভালো ভালো বই যদি সব প্রকাশনা থেকে কেনা হয় এবং সেগুলো বিভিন্ন স্কুল, কলেজ বা সংস্থায় দেওয়া হয় তাহলে প্রকাশকরা খুব উপকৃত হবেন। আর প্রকাশকরা উপকৃত হলে লেখকরা উপকৃত হবেন। কারণ, তারা যদি বই বিক্রি করতে না পারেন তাহলে লেখকদের রয়্যালিটি কিভাবে দেবেন।

আরেকটি বিষয় আমি গত কয়েক বছর লক্ষ্য করছি, মেলায় চার হাজার পাঁচ হাজার করে বই প্রকাশ হয়। নতুন লেখকদের বিষয়ে বরাবরই আমার আগ্রহ। আমি দেখতে চাই তারা কে কী লিখছেন। কিভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন লেখালেখিতে। আমি খুব দুঃখ নিয়েই বলি-এত ভুলভাবে লেখা বই বেরুচ্ছে, বাক্য শুদ্ধ হয় না, বানান ভুল। লেখার কোনো ‘ছিরি-ছাদ’ নেই এরকম প্রচুর বই বের হচ্ছে। তার ফলে যেটা হচ্ছে, যারা প্রকৃত অর্থেই ভালো লেখক, নতুন প্রতিভাবান লেখক তারা আড়ালে পড়ে যাচ্ছেন। তাদের লেখাগুলো আমরা সেভাবে পাই না। অনেক আবর্জনার ভিড়ে তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন। এতে আমাদের সাহিত্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বই প্রকাশের বিষয়টি এখন খুব সহজ হয়ে গেছে। অনেকে নিজের পকেটের টাকা দিয়েও বই প্রকাশ করছেন এবং মেলায় নিয়ে আসছেন। এ ধরনের বইয়ে বাজার ভরে যাচ্ছে। এতে প্রকৃত লেখকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, মেধাবী লেখকরা পিছিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে যেটি করণীয় তা হলো, প্রত্যেক প্রকাশকের এ বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নতুন লেখকদের বই অবশ্যই তারা ছাপবেন। সাহিত্য এক জায়গায় থাকবে না, চলমান প্রক্রিয়াতে এগিয়ে যাবে।

প্রকৃত ভালো লেখকদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নতুনরাও লিখবেন। তাই যে কোনো পাণ্ডুলিপিকে বই আকারে প্রকাশ করা থেকে প্রকাশকদের সরে আসতে হবে। প্রত্যেক প্রকাশনার একটি সম্পাদনা পরিষদ এখন খুব জরুরি হয়ে পড়েছ। সম্পাদকরা যে বই মনোনীত করে দেবেন সেগুলোই ছাপা হওয়া উচিত। এ বিষয়টি আসলে প্রকাশক ছাড়া আর কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।

অনুলিখন : হক ফারুক আহমেদ

ছাত্রলীগের নির্যাতন আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতন আতঙ্কে দিন কাটছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থীদের। ছাত্রলীগের নিয়মিত কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়া, সিনিয়রদের কথা না শোনাসহ ঠুনকো নানা অভিযোগে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

এমন নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের অধিকাংশই বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর অনুসারী বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মার্চে চারটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ৩ মার্চ গেস্টরুমে হলের বড় ভাইদের নাম বলতে না পারায় মীর সাদ নামে দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

১০ মার্চ ক্যাম্পাসে সিগারেট খাওয়ার শাস্তিস্বরূপ মিনি গেস্টরুমে অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তালিবকে ধোঁয়া না ছেড়ে সিগারেট খেতে বাধ্য করা হয়। খেতে না চাইলে তাকে স্টাম্প দিয়ে পেটায় তৃতীয় বর্ষের কয়েক শিক্ষার্থী।

একই দিন ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা ও সিনিয়রের রুমে সিটে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মহিদুল ইসলাম মুকুলকে ছুরি নিয়ে শাসানো হয় এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এছাড়া ৮ মার্চ প্রোগ্রামে উপস্থিত না থাকার অভিযোগে দ্বিতীয় বর্ষের ১০ থেকে ১২ শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য তাদের রুমে ৩০১ (ক) তালা দিয়ে রাখা হয়। ফলে ওই কক্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন হলে ঘুরে ঘুরে রাত কাটান তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মেহেদী হাসান শান্ত হলের সভাপতি হওয়ার পর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল বাদে অন্য এলাকার শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে আবাসিক হলের সিট হারানোর ভয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন এসব শিক্ষার্থী।

এদিকে এসব ঘটনায় জড়িত অধিকাংশ নির্যাতনকারী বঙ্গবন্ধু হলের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর অনুসারী হিসাবে পরিচিত। মেহেদী হাসান শান্ত বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান শান্ত যুগান্তরকে বলেন, আমাদের হলে কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।

একটা পক্ষ আমাদের হলের পরিবেশকে উত্তপ্ত করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। টার্গেট করে ‘বিশেষ এলাকার’ শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হল সভাপতি হওয়ার আগেই আমার সঙ্গে সাতটি এলাকার মানুষ রাজনীতি করত। সেখানে বিশেষ এলাকাকে টার্গেট করার তো প্রশ্নই আসে না।

এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. আকরাম হোসেন শুক্রবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের গেস্টরুমে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এখানে আমরা কোনো ধরনের নির্যাতনের ঘটনা দেখিনি। আমরা চেষ্টা করছি কোনো প্রমাণ পাই কিনা। যাদের ব্যাপারে অভিযোগ এসেছে আমরা বিষয়গুলো আরও ভালো করে দেখব।

নির্যাতিত আবু তালিবের সংবাদ সম্মেলন : শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতনের শিকার বঙ্গবন্ধু হলের শিক্ষার্থী আবু তালিব। তিনি বলেন, ‘১০ মার্চ রাত ১২টার পর আমাকে মিনি গেস্টরুমে ডাকা হয়। সামান্য এক ভুলের কারণে তারা (ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা) আমাকে হাতে না ধরে মুখে সিগারেট খেতে বলে। আমি মুখে নিতে না চাইলে তারা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে আমার হাতে আঘাত করে।

আবু তালিব বলেন, গেস্টরুম রাত একটায় শেষ হওয়ার পর আমি কাপড়-চোপড় গুছিয়ে হল থেকে বের হয়ে যেতে চাইলে বন্ধুরা আমার জিনিসপত্র রেখে দেয়। রাতে আমি হল থেকে বাইরে চলে যাই।

পরে রাত ৩টায় বন্ধুরা আমাকে হলে নিয়ে আসে। সকালে বন্ধুদের মাধ্যমে বাঁধন ও শান্ত (অভিযুক্ত) ঘুম থেকে তুলে আমাকে বাইরে নিয়ে যায়। রাতের ঘটনা যেন বাইরের কাউকে না বলি-এ নিয়ে তারা আমাকে সতর্ক করে।

এ পর্যন্ত ২৫ জন শিক্ষার্থী নির্যাতনের মুখে হল ছেড়েছে বলে দাবি করেন আবু তালিব। হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঢাবির এ শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তি হওয়ার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে আমরা যে স্বপ্ন দেখেছিলাম, সেটি এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

আমাদের নিয়মিত নির্যাতন করে, কিন্তু হল প্রশাসন দেখেও না-দেখার ভান করে। প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর নামে মাত্র প্রশাসন। বাস্তবে তারা পুতুল, ছাত্রলীগের হাতে জিম্মি।

আবাহনীর হোঁচটের দিন কিংসের বিশাল জয়

বসুন্ধরা কিংসের বড় জয়ের দিনে হোঁচট খেয়েছে ঢাকা আবাহনী। পয়েন্ট হারিয়েছে শেখ জামাল ও সাইফ স্পোর্টিংও। নিজেদের হোম ভেন্যু কিংস অ্যারেনায় বসুন্ধরা ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

রাজশাহীতে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ঢাকা আবাহনী। মুন্সীগঞ্জে শেখ জামাল ও সাইফ স্পোর্টিংয়ের ম্যাচ ড্র হয়
২-২ গোলে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার।

বসুন্ধরা কিংসের বড় জয়ে মুখ্য অবদান ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড রবসন দ্য সিলভা রবিনহোর। দুটি গোল করেন তিনি। অপর তিনটি গোল সুমন রেজা, মো. ইব্রাহিম ও এলিটা কিংসলের। আট ম্যাচে ২১ পয়েন্ট শীর্ষে থাকা বসুন্ধরার। চতুর্থ স্থানে চট্টগ্রাম আবাহনী। তাদের ঝুলিতে ১২ পয়েন্ট। ম্যাচে জোড়া গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় যুগ্মভাবে আবারও শীর্ষে উঠে এলেন বসুন্ধরার রবিনহো। তার গোল এখন আটটি।

সমান গোল করে রবিনহোর সঙ্গে শীর্ষে রয়েছেন চট্টগ্রাম আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড পিটার থ্যাঙ্কগড। রাজশাহীতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ। আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন এবং স্বাধীনতার ইকবাল হোসাইন গোল করেন। আট ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আবাহনী। সমান ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে ১১ নম্বরে স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘ।

মুন্সীগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ফ্লাইট লে. মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে এগিয়ে থেকেও জিততে পারেনি সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। উজবেক ফরোয়ার্ড ওতাবেক ভালিজনভের গোলে এগিয়ে যায় শেখ জামাল। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড এমফন উদহের দুই গোলে (একটি পেনাল্টি থেকে) লিড নেয় সাইফ। ম্যাচের শেষ সময়ে গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সুলেমান সিল্লাহর গোলে হার এড়ায় শেখ জামাল। লিগে একমাত্র শেখ জামাল কোনো ম্যাচ হারেনি। আট ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেখ জামাল। সমান ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে সাইফ।

‘সাকিব নিজে সরে না গেলে তাকে সরানো কঠিন’

দুদিন ধরে ক্রিকেটপাড়ায় আলোচনায় সাকিব আল হাসান। বিসিবি ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরের দিন তিন সংস্করণেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার ঘোষণা দেয়।

এ নিয়ে কাল প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখান, ‘সাকিব অনেক বড় মাপের খেলোয়াড়। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। তার কাছে সব সময় আমরা সেরাটা চাই। সেজন্যই চুক্তিতে তিন সংস্করণেই রাখা হয়েছে তাকে।’

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আরেক নির্বাচক আবদুর রাজ্জাকও অভিন্ন সুরে বললেন, ‘সাকিব সেই মাপের খেলোয়াড়, যে নিজে কোনো সংস্করণ থেকে সরে না গেলে তাকে সরানো কঠিন।’

কিন্তু বাস্তবতা হলো, নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর মাত্র তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। এ সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে সব মিলিয়ে নয়টি টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে সাকিবের সরে যাওয়াটাকে প্রধান নির্বাচক যদিও মনে করেন দলের জন্য বিপর্যয়, রাজ্জাক বলেন, ‘সাকিব নিজে না চাইলে তাকে বাদ দেওয়া কঠিন।’ প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘পরিকল্পনা সাজিয়ে যে কোনো সিরিজের দল দেওয়া হয়। তার (সাকিব) না যাওয়াটা বিপর্যয়। না গেলে তো আর জোর করে খেলানো যাবে না। যারা আছে তাদের সেরাটা দিতে হবে।’ বৃহস্পতিবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা পাঁচ ক্রিকেটারের মধ্যে সাকিবও তিন ফরম্যাটেই আছেন। মিনহাজুল বলেন, ‘৩০ এপ্রিলের পর সাকিব খেলতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘এক বছরে সাকিবের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স আশা করছি।

তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলব।’

রাজ্জাক বলেন, ‘সাকিব এখনো কোনো ফরম্যাট থেকে সরে যায়নি। তাকে নিয়ে হুট করে কোনো কথা বলা ঠিক হবে না।’ উলটো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাজ্জাক বলেন, ‘আপনি যদি নির্বাচক হতেন কী করতেন? সাকিবকে বাদ দিতেন, না রাখতেন?’ হাবিবুল বাশার দলের সঙ্গে কাল দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়াল দেওয়ার আগে বলেন, ‘সাকিবকে অবশ্যই মিস করব। সাকিব থাকলে দলের ভারসাম্য অনেক ভালো হয়। লম্বা সময় ধরে সে আমাদের অন্যতম সেরা পারফরমার। তবে এখন আমি এ নিয়ে ভাবছি না। আমাদের যে দলটা আছে সেটা নিয়েই ভাবছি। আমাদের বিশ্বাস, এই দলটা নিয়েই আমরা ভালো পারফর্ম করব।’

ন্যাটো-রাশিয়া সংঘর্ষ হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ: বাইডেন

ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হলে সেটি হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যা প্রতিরোধে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

শুক্রবার মস্কোর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।

বাইডেন বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না।’

তিনি বলেন, আমি বুদ্ধিমত্তার বিষয়ে কথা বলছি না, তবে রাশিয়া যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তবে তাদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

রাশিয়ার অনুরোধে ইউক্রেনে জৈবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগে শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলোর মতো ইউক্রেনে লাখ লাখ ডলারের অস্ত্র যেমন অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট এবং অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপনাস্ত্র পাঠাচ্ছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে।

কিন্তু বাইডেন আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের আবেদন সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনী সেখানে যুদ্ধ করবে না।

বাইডেন জানান, মার্কিন সরকার এর আগেও দেখেছে যে— রাশিয়ার সরকার ২০২০ সালে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি ওপর ‘স্লো পয়জনের’ প্রয়োগ এবং ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডে থাকা সের্গেই ও ইউলিয়া স্ক্রিপালের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।

প্রসঙ্গত, ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। আজ হামলার ১৭ তম দিন।