সোমবার ,১৫ জুন, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 418

মাত্র ৫ মাসে হাফেজ হলো শিশু রাহাত

মাত্র ৫ মাসে পুরো কুরআন শরীফ হিফজ করার অনন্য গৌরব অর্জন করেছে আল রাহাত নামে এক শিশু।

বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ বছর বয়সী এই শিশুর হিফজ সম্পন্ন হয়। সে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার ঘনশ্যামপুর গ্রামের আযহার মৃধার ছেলে।

আল রাহাত রাজধানীর মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগের জামিয়া মোহাম্মাদিয়া নুরুল কুরআন মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র।

রাহাতের সমাপনী পড়া শোনেন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া লালমাটিয়ার ইফতা বিভাগের প্রধান মুফতি নুরুল আমিন কাসেমি।

এ সময় জামিয়া মোহাম্মাদিয়া নুরুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নুরুজ্জামান কাসেমীসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

মুফতি নুরুজ্জামান কাসেসি বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও হিফজ বিভাগের শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও রাহাতের আন্তরিক প্রচেষ্টায় খুব কম সময়ে হিফজ সমাপ্ত করতে পেরেছে সে।

আল রাহাতের বাবা-মা ও চাচা হাফেজ কারী ইমরান হুসাইনসহ অন্য স্বজনেরা আশা করেন, তাদের ছোট্ট রাহাত একসময় বড় আলেম হবে এবং বিশ্বব্যাপী ইসলামের খেদমত করবে।

বইমেলায় প্রবাসী সাংবাদিক আবুল কাশেমের ‘বঙ্গখ্যাত ৭১ মনীষী’

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় (২০২২) যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক আবুল কাশেম সম্পাদিত ‘বঙ্গখ্যাত ৭১ মনীষী’ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির প্রকাশক ও পরিবেশক বেহুলা বাংলা (স্টল-৫২২, ৫২৩ ও ৫২৪ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)।

সাংবাদিক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।(স্যার) এ, এফ, রহমান হলে আবাসিক ছাত্র থাকা অবস্থায় টুকটাক লেখালেখিতে হাতেখড়ি।

পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও পরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে কর্মরত অবস্থায় ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। নিউইয়র্কে কমিউনিটি সাংবাদিক হিসেবে তিনি পরিচিত। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত।

২০২০ এর শুরুর দিকে বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ এর কবলে পড়ে নাস্তানাবুদ, নিউইয়র্ক তার বড় শিকার। কাজ-কর্ম বন্ধ, স্থবির শহর। রাত-বিরাত নগরজুড়ে সাইরেন বাজিয়ে কেবল রোগীদের জরুরি যানবাহনের ছুটে চলা।

ঘরবন্দি সময় কাটানো যখন অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছিল, ঠিক তখনই তিনি রাজনীতিবিদ, শহীদ বুদিজীবি, সমাজসেবক, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ, কবি, মহাকবি, লেখক, গবেষক, বিজ্ঞানী, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, জমিদার, নওয়াব, স্বাধীনতা সংগ্রামী, শিক্ষ্যাবিদ, ইতিহাসবিদ, বিপ্লবী, দানবীর, চলচ্চিত্রকর, চিত্রকর ও ভাস্করদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে তা সংগ্রহ করেন।

এরপর মনীষীদের জীবনী নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করার চিন্তা তার মাথায় আসে। বইটির মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ৬৫০ টাকা, ৬৫০ রুপি এবং ১০ মার্কিন ডলার।

তরুণদের ভেতরে প্রচণ্ড উৎসাহ

করোনাভাইরাস আমাদের মধ্যে অনেক ক্ষত রেখে গেছে। মানসিকভাবে আমরা অনেক চোট পেয়েছি। শারীরিকভাবেও চোট পেয়েছি। অনেক বন্ধুবান্ধব হারিয়েছি। স্নেহভাজন, শ্রদ্ধাভাজনদের হারিয়েছি। আমাদের ভেতর থেকে অনেকখানি নিঃশেষ করে নিয়েছে করোনা। মহামারির এ দীর্ঘ সময়ে বেশিরভাগ সময় আমরা ঘরে থেকেছি। এ কারণে বাইরে বেরুনোর যে আনন্দ- সেটা এখন আর হচ্ছে না। সেই হই চই ভাবটা নেই। অন্তত আমার। সেই উদ্দীপনা তরুণরা ফিরিয়ে আনতে পারবে। ফিরেও আসবে। এটিই আমি বিশ্বাস করি।

চারদিকে একটা উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। তরুণদের ভেতরে সেই প্রচণ্ড উৎসাহ দেখছি। তাদের ভেতরে লেখার প্রতিও মনোযোগ দেখছি। এ উচ্ছ্বাস সুন্দর। তবে আমি এসব থেকে অনেক দূরে। বয়সের কারণে মেলা থেকে অনেক দূরে। এরপরও অল্প সময়ের জন্য বইমেলায় কয়েকদিন গেছি। দেখেছি প্রচুর লোক বই কিনছেন। তবে কতজন বই পড়ছেন তা আমি জানি না!

অনেক নতুন লেখকের বই বেরিয়েছে। চেনাশোনা মানুষদেরও বই বেরিয়েছে। সব মিলিয়ে একজন লেখকের প্রাণই হচ্ছে বইমেলা। আমিও বারবার মেলায় যেতে চাই, পুরোটা সময় থাকতে চাই। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠে না। তবে যখনই মেলায় যাই- বেশ খুশি লাগে। চারপাশে বইয়ের দোকান। বইগুলো ঘেঁটে ঘেঁটে দেখি।

আমার অন্য একটি উদ্দীপনার কোনো শেষ নেই। এবারের বইমেলায় ঐতিহ্য প্রকাশনী থেকে সৈয়দ শামসুল হকের ৩৫ খণ্ডের রচনাসমগ্র বের হয়েছে। পরিবারের একজন হিসাবে এ নিয়ে আমি ভীষণ উৎসাহিত। ভালো লাগছে, কাজটি আমার জীবদ্দশাতেই সমাপ্ত করে যেতে পারলাম।

সুস্থতার জন্য যেসব খনিজ উপাদান অপরিহার্য

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন মিনারেল বা খনিজ উপাদানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ যেমন- ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি। এগুলো ছাড়া আরও কতকগুলো উপাদান আছে যেগুলো সামান্য পরিমাণে হলেও সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। শরীরের ওজনের মাত্র ০.০১% মাত্রায় বিদ্যমান এই ‘ট্রেস এলিমেন্টগুলো’ শরীরের বিভিন্ন এনজাইম, হরমোন এবং কোষকলার অংশবিশেষ হওয়ায় এগুলোও শরীরের জন্য অপরিহার্য। স্বল্প মাত্রার অথচ পুষ্টিকর এসব উপাদানকেই ‘এসেনশিয়াল ট্রেস এলিমেন্টস’ বলা হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক প্রফেসর ড. জাকিয়া বেগম।

বিভিন্ন কারণে মিনারেল ঘাটতি দেখা দেয়ার কারণ হচ্ছে খাদ্যে অথবা সম্পূরক খাদ্যে প্রয়োজনীয় মাত্রায় এসব উপাদানের অনুপস্থিতি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস যেমন- বেশি পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত বা টিনজাত খাদ্য গ্রহণ, খাদ্য তালিকায় শাক-সবজি বা ফলমূলের পরিমাণ কম থাকা, কম-ক্যালরিযুক্ত বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ, নিরামিষাশী, খাদ্য হজমজনিত কোনো রোগ, কোনো কারণে সঠিক পর্যায়ে খাদ্য শোষণে ব্যর্থতা, বিভিন্ন খাদ্যে অ্যালার্জি বা দুগ্ধশর্করায় (ল্যাকটোজ) অসহনীয়তা ইত্যাদি কারণেও এ ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।

লোহা : লোহা এরূপ একটি ক্ষুদ্র উপাদান যার পরিমাণ শরীরের ওজনের মাত্র ০.০০৪%। রক্তস্থ হিমোগ্লোবিন শরীরের কোষকলাগুলোতে শক্তি ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় কম লোহা থাকলে হিমোগ্লোবিন উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে। শরীরে লোহা অথবা হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিকেই রক্তশূন্যতা বলা হয়। লোহার ঘাটতি থেকে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয় এবং শরীর সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এমনকি এ ধরনের রক্তশূন্যতার কারণে হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। স্বল্প মাত্রার লোহার ঘাটতি থেকে মস্তিষ্কের বুদ্ধিমত্তার ব্যাঘাতও সৃষ্টি হতে পারে। আমাদের দেশে রক্তশূন্যতা গর্ভকালীন মাতৃ মৃত্যুর প্রধান কারণ। পুরুষ ও বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ৮ মিলিগ্রাম এবং অল্প বয়স্ক মহিলাদের জন্য প্রতিদিন ১৮ মিলিগ্রাম লোহার প্রয়োজন হয়। মাংস, কলিজা, সীমজাতীয় সবজি, বাদাম, সম্পূর্ণ শস্যদানা যেমন; বাদামি চাল, ঝিনুক, কলা, আপেল, গাঢ় সবুজ শাক-সবজি ইত্যাদি খাদ্য থেকে আয়রন পাওয়া যায়।

জিঙ্ক বা দস্তা : এই উপাদানটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় পদ্ধতি যেমন আমিষ সংশ্লেষণ, রোগ-প্রতিরোধক কার্যাবলী, ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া, কোষ বিভাজন ও ডিএনএ সংশ্লেষণ, টেসটোসটেরন জাতীয় পুরুষ হরমোন তৈরি, মেলাটোনিন তৈরি ইত্যাদি প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে থাকে। এছাড়া গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের সঠিক বিকাশ ও বৃদ্ধি লাভের ক্ষেত্রে এবং শিশু বয়সে এবং বয়োসন্ধিকালে শরীরের বৃদ্ধি ও পূর্ণতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে স্মৃতিশক্তি হ্রাস, রোগ-প্রতিরোধক ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগা, ডায়রিয়া, ঘুমের সমস্যা, খাদ্যে অরুচি এবং খাদ্যের স্বাদ ও গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, চুল পড়া, ত্বকের ক্ষতি ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। উপাদানটির অতিমাত্রার ঘাটতি থেকে হতবুদ্ধিতা জাতীয় মানসিক প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং যৌন অক্ষমতা দেখা দেয়ার আশংকাও থাকে।

লাল মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস, ঝিনুক ইত্যাদি প্রাণিজাতীয় ও দুগ্ধজাতীয় খাদ্য, ডার্ক চকলেট, বাদাম, শিম জাতীয় উদ্ভিদ ইত্যাদিতে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। মিষ্টি কুমড়ার বিচি জিঙ্কের একটি ভালো উৎস।

আয়োডিন : থাইরয়েড থেকে নিঃসৃত এই হরমোনটি থাইরয়েড গ্রন্থির সঠিক পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। কোষকলার বিপাকীয় কার্যকলাপ পরিচালনা, খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা, অতিরিক্ত চর্বির বিপাকীয় ব্যবহার, ইস্টোজেন জাতীয় হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করা, শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মানসিক ক্ষিপ্রতা এবং বোধশক্তির উন্নতি সাধন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এই হরমোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণত ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে মহিলাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই হরমোনটির ঘাটতি হতে দেখা যায়। গলগণ্ড রোগটি আয়োডিন ঘাটতির প্রধান লক্ষণ। দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনীয় মাত্রায় আয়োডিন উৎপাদনে ব্যর্থ হলে ‘হাইপোথাইরয়েডিজম’ রোগ দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘাটতি থেকে ‘ক্রিটেনিজম নামক’ বিপজ্জনক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, শিশু শারীরিক এবং মানসিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে পড়ে। ১-৮ বছরের শিশুর প্রতিদিনের চাহিদা ৯০ মাইক্রোগ্রাম, ৯-১৩ বছর পর্যন্ত ১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং ১৪ বছর থেকে আরম্ভ করে বয়স্কদের জন্য তা ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। সামুদ্রিক বিভিন্ন উদ্ভিদ, মাছ ও অন্যান্য খাদ্য, ডিম, দুধ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ আয়োডিনের প্রধান উৎস।

সেলেনিয়াম : সেলেনিয়াম শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অপর একটি ‘ট্রেস এলিমেন্ট’। শরীরের প্রায় দু’ডজনেরও বেশি সেলেনোপ্রোটিনের মধ্যস্থ একটি উপাদান হচ্ছে সেলেনিয়াম যে উপাদানটি প্রজনন ক্ষমতা, থাইরয়েড হরমোনের বিপাকীয় কার্যক্রম, ডিএনএ-র সংশ্লেষণজনিত প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করা ছাড়াও জারণ প্রক্রিয়ায় সংঘটিত কোষকলার ক্ষতি এবং রোগের সংক্রমণ রোধে ভূমিকা রাখে। উপাদানটির অভাবে হৃদপিণ্ডের সমস্যা, মানসিক প্রতিবন্ধতা, মাংসপেশীতে ব্যথা বা মাংসপেশীর দুর্বলতাও দেখা দিতে পারে। প্রতিদিনের চাহিদা ৫৫ মাইক্রো গ্রাম মাত্র। মাছ, গরু-ছাগলের মাংস, হাঁস-মুরগির মাংস এবং ডিম, শস্যদানা, বাদাম এবং বীজজাতীয় খাদ্য থেকেই প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় সেলেনিয়াম পাওয়া যায়। নখ এবং চুল বিশ্লেষণ করে শরীরে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি সেলেনিয়ামের মাত্রা বিশ্লেষণ করা যায়।

তামা : তামা বিভিন্ন প্রকার আমিষ, এনজাইম এবং শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত কোষকলার মধ্যস্থ এনজাইমগুলোর একটি উপাদান যা শারীরিক বিকাশ এবং বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটি রক্তের হিমোগ্লোবিনের লোহা সংযুক্তিতে, ত্বকের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদানে, পরিপাকতন্ত্র, বিপাকীয় কার্যক্রম এবং রোগ-প্রতিরোধক কার্যক্রম পরিচালনায় অবদান রাখে। অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুরা এবং রক্তশূন্যতায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে তামার স্বল্পতা দেখা যায়। উপাদানটির অভাবে রক্তে শ্বেতকণিকার স্বল্পতা, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন, হাড়ের সমস্যা, রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রের সমস্যা এবং চুল ও নখের বৃদ্ধিতে সমস্যা দেখা দেয়। সামুদ্রিক খাদ্য, বাদাম, শিম বা মটরজাতীয় বীজ, শাক-সবজি, ফলমূল, গরু বা খাসির যকৃত ইত্যাদিতে এই উপাদানটি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজন মাত্র ৯০০ মাইক্রোগ্রাম। গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য মাত্রাটা একটু বেশি হওয়া ভালো।

কোবাল্ট : এটি ভিটামিন বি-১২ এর একটি উপাদান হওয়ায় কোবাল্টের ঘাটতি মানে ভিটামিন বি-১২ এরই ঘাটতি। প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় মাত্রা মাত্র ০.০০০১ মিলিগ্রাম। এটি অস্থিমজ্জার কোষকলাকে উজ্জীবিত করে লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে, থাইরয়েড কর্তৃক আয়োডিন শোষণে বাঁধা প্রদান করে এবং বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এটির অভাবে জটিল ধরনের রক্তশূন্যতা, শারীরিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা, কোনো কোনো অঙ্গের বিশেষ করে হাত ও পায়ের দুর্বলতা ও অসাড়তা অনুভব করা, বমিভাব, মাথাব্যথা, মানসিক বিভ্রমতা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, ওজন হ্রাস, থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, স্নায়বিক সমস্যা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিনের ঘাটতি থেকে স্নায়বিক সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়ার আশংকা থাকে। গরু-ছাগলের যকৃতে, ঝিনুক, মাছ, ডিম, সয়া খাদ্য, সামুদ্রিক উদ্ভিদ ও মাছ ইত্যাদি কোবাল্টের ভালো উৎস। ডালজাতীয় উদ্ভিদ, বাঁধাকপি, লেটুস ইত্যাদিতে অল্প মাত্রায় কোবাল্ট পাওয়া যায়।

ম্যাংগানিজ : সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন এনজাইম তৈরিতে এবং এনজাইম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিক্রিয়া ঘটাতে এই উপাদানটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শর্করা, ফ্যাটি এসিড এবং আমিষের বিপাকে, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে, রক্ত জমাট বাঁধার কাজে, হাড় তৈরি, শক্ত ও মজবুত করতে, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র ও রোগ-প্রতিরোধক তন্ত্রের সঠিক পরিচালনা, মাইটোকনড্রিয়াতে বিদ্যমান সুপার অক্সাইড নামক ফ্রি রেডিকেলকে বিশ্লেষিত করে ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত করা ইত্যাদি কাজে এই উপাদানটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে উপাদানটির স্বল্পতা হাড়কে দুর্বল ও ভঙ্গুর করে তোলে। পূর্ণ শস্যদানা, বাদাম, চা-কফি, পাতাবিশিষ্ট সবুজ শাক-সবজিতে এটি পাওয়া যায়।

ক্রোমিয়াম : শরীরের শর্করা, চর্বি এবং আমিষ জাতীয় পদার্থগুলোর বিপাকীয় কার্যক্রম পরিচালনায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই এই উপাদানটির সামান্য স্বল্পতা থেকেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এটি রক্তে এইচডিএল-এর পরিমাণ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। ক্রোমিয়ামের অভাবে রক্তবাহী ধমনি সরু হয়ে ওঠা, উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাওয়া, শরীরের শক্তি কমে যাওয়া, মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়া, শিশুদের শরীরের বৃদ্ধি হ্রাস পাওয়া, সার্জারি থেকে সৃষ্ট ক্ষত বা যে কোনো ধরনের ক্ষত থেকে আরোগ্য লাভ বিলম্বিত হওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাশরুম, ডার্ক চকলেট, পনির, বাদাম, পূর্ণ শস্যদানা, পাকা টমেটো, লেটুস, পেঁয়াজ, গোল মরিচ এবং বিভিন্ন মশলা, ডালজাতীয় শস্য ইত্যাদি থেকে এই উপাদানটি পাওয়া যায়।

ফ্লোরিন : ফ্লোরিনও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপাদান যা বিশেষ করে হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপাদানটির অভাবে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। পানিই ফ্লোরিনের প্রধান উৎস্য তবে সামুদ্রিক মাছ, চা এবং কফিতেও এটি বিদ্যমান। প্রতিদিনের জন্য নিরাপদ মাত্রা ১.৫ মিলিগ্রাম থেকে ৫.০ মিলিগ্রাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তারার মেলা

‘পুরানো সেই দিনের কথা ভুলবি কিরে হায়/ও-সে চোখের দেখা প্রাণের কথা, সেকি ভোলা যায়।’ হারানো অতীতের ধূসর স্মৃতি সতত মধুর। যৌবনের ঊষালগ্নে দাপিয়ে বেড়ানো সেই অমলিন স্মৃতি খুঁজে বেড়াতে শনিবার প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরেছিলেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠার একশ’বর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (ডুয়া) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজন করেছিল শতবর্ষের মিলনমেলা।

সতীর্থ সম্মিলনে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-সচিব, তারকা রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, আইনজীবীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিকরা মিলিত হন এখানে।

এ যেন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের মহামিলন ক্ষণ। দীর্ঘদিন পর প্রিয় বন্ধুকে কাছে পেয়ে তারা হারিয়ে যান তারুণ্যোচ্ছল দিনগুলোতে। ‘কিরে কেমন আছিস’, ‘কতদিন পর দেখা’, ‘ছেলেমেয়েরা কেমন আছে’ কিংবা ‘একদম আগের মতোই আছিস, সেই একইরকম সুন্দরী আছিস’-ইত্যাদি মধুর শুভাশিসে পরস্পরকে সম্বোধন করেন। এরপর প্রাণের কথা আর স্মৃতি রোমন্থন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অ্যালাইমনাই ১৯৫০ ব্যাচের ছাত্র সাবেক সচিব মো. মতিউল ইসলাম। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একে আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি রকীব উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ উদ্যাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল প্রমুখ।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রাতঃরাশের মাধ্যমে সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয়। এ ছাড়া পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ ও শোক প্রস্তাব পাঠ করা হয়। একই সঙ্গে মিলনমেলা উপলক্ষ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন গ্রন্থ মোড়ক উন্মোচন আর ১০০ শিল্পীর ১০০ ছবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রপ্রদর্শনীও উদ্বোধন করা হয়। এ পর্বে শত রঙিন বেলুন উড়ানো হয় নীল আকাশে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মতিউল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে স্বাধীনতার মাসে আয়োজিত এই বছরের অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ তাৎপর্য আছে। তিনি বলেন, ৭০ বছরের এ কর্মজীবনে অসংখ্য অর্জনের মধ্যে আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির এই সম্মান অনেক বড়।

ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মু. সামাদ বলেন, বাঙালি জাতি-রাষ্ট্রের বিকাশ এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত হয়ে আছে মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রাণকেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার শতবছরে এসে প্রায় ৩৩ লাখ গ্রাজুয়েট তৈরি করেছে যা কোনো কোনো দেশের নাগরিকের সংখ্যার চেয়েও বেশি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানে অ্যালামনাইদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যালামনাই সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘শতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল সেখানে আসতে পারেনি। আমরা দেখেছি বিশ্বের ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ র‌্যাংকিংয়ের ভেতরে আনতে আমাদের সংগঠন কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী অর্থাভাবে যথাযথভাবে তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে না। ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন তাদের জন্য কাজ করবে।’

মোট চার পর্বে বিভক্ত ছিল গোটা অনুষ্ঠান।

দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় সাড়ে ১২টার দিকে। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ‘বাংলাদেশের পদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাবেক জিএস বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, লেখক ও রাজনীতিবিদ ইনাম আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হামিদা আখতার বেগম, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির, ডুয়ার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুজ্জামান দুদু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমি নয় বছর ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ছিলাম এবং সেই নয় বছর দেশে সামরিক শাসন ছিল। তখনো কিন্তু ছাত্র সংসদ ছিল। তারপর যখন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এলো তখন থেকে আশ্চর্যের বিষয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন থেমে গেল। ছাত্র সংসদের নির্বাচন ছিল উৎসব। সেখান থেকে মেধাবী নেতৃত্ব বেরিয়ে আসত। মেধাহীন ছাত্ররা কখনো নির্বাচিত হতে পারত না। চৌকস ছেলেরা নেতৃত্বে আসত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিকতা শিখিয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয় সহমর্মিতা শিখিয়েছে, আর্তমানবতার জন্য ক্রন্দন করতে শিখিয়েছে। একাত্তর সালে আমরা দেখেছি এই বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে পাকিস্তানকে তাড়িয়েছিল।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান, ১৯৬৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী সুফিয়া খাতুন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ডাকসুর সাবেক ভিপি ও তারকা রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবীর খোকন, সাবেক এজিএস নাজিমউদ্দিন আলম, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, এই দিনটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আনন্দমুখর দিন। তাদের প্রাণের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এজন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি স্বাভাবিকভাবেই গর্বিত। কেননা এ সময়ে আমরা এদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের সব স্তরে সাফল্যের সঙ্গে অবদান রাখছেন।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। দেশের সব আন্দোলন সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দিয়েছে এবং এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে স্বৈরাচারের অবসান করে বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ই নেতৃত্ব দিয়েছে। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এই বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখছে। আমরা চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় তার পুরোনো গৌরব ফিরে পাক।

রাশেদ খান মেনন বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর দেখেছি, এবার শতবছরও দেখলাম। এই অনুভূতি আনন্দের অনুভূতি। এটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমাদের সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে জাতিকে স্বাধীনতার যুদ্ধের জন্য অনুপ্রেরণা দিতে পেরেছিলাম। তারই পরিণতি আজকের বাংলাদেশ। আমরা এখনো এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এ দেশের পথপ্রদর্শক হিসাবে মনে করি।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় যেমন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ভূমিকা রয়েছে, তেমনি আমাদের ইতিহাস বিনির্মাণেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বড় একটা ভূমিকা রয়েছে। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন কিংবা গণতান্ত্রিক সংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য ভূমিকা রয়েছে। আমি আশা করব সেই অতীত ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে, শতবর্ষের কথা মাথায় রেখে আগামী একশ’ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নেওয়ার কথা ভাবতে হবে।

তৃতীয় পর্বে বিকালে ছিল শতবর্ষের শত গুণীজনকে মরণোত্তর সম্মাননা। এতে ১৬টি ক্যাটাগরিতে বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মাননার জন্য বাছাই করা হয়। অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গুণীদের নির্বাচন করে। ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে সূচনাপর্বের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে সম্মাননার তালিকায় আছেন-প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য স্যার পি জে হার্টগ, সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, খাজা নবাব সলিমুল্লাহ ও শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে সম্মাননার তালিকায় আছেন-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। এ ছাড়া উপাচার্য, ভাষা আন্দোলন, বিভিন্ন আন্দোলনে শহিদ, শহিদ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশিষ্ট নারী এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সাহিত্য, ক্রীড়া, শিল্পকলায় অবদান রাখা ব্যক্তিরা সম্মাননার তালিকায় রয়েছেন। এ বছরই আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ব্যক্তির পরিবারের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সুবিশাল পাঁচটি প্যান্ডেল আর বেশকিছু ছোট তাবু করা হয়। এর একটি ছিল মূল অনুষ্ঠানস্থল আর আরেকটি ভোজনশালা। দুটিতে নারী ও পুরুষদের প্রসাধনাগার ছিল। পঞ্চমটিতে সমাগত দশ সহস্রাধিক অ্যালমানইয়ের রান্না হয়।

সব শেষে সন্ধ্যার পর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রূপা চক্রবর্তী আর নায়ক ফেরদৌসের উপস্থাপনায় এ পর্ব হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। ছিল শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের একক পরিবেশনা। পুরানো দিন আর চিরায়ত গানের পাশাপাশি আধুনিক ও লোকগীতির সুরে বিমোহিত হয়ে সুখ স্মৃতি নিয়ে ফিরে যান দেশের সব স্তরে নেতৃত্ব দেওয়া সাবেক শিক্ষার্থীরা।

জবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জবির টিএসসিতে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে।

এ বিষয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করলে দ্বিতীয় দফায় পুরান ঢাকার মালিটোলা পার্কে আবার দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এ আহতদের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যামবুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হস্তান্তর করা হয়।

আহত ছাত্ররা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১১তম ব্যাচের আব্দুল বারেক, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যচের গাজী শামসুল হুদা, খায়রুল আমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের সায়েম।

আহত ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল বারেক জানান, এমন একটি বিষয় কল্পনাও করিনি এরা আমার গায়ে হাত দিবে। ক্যাম্পাসে ঝামেলা যাতে না হয় সেজন্য আমরা মালিটোলা পার্কে চলে যাই সেখানে গিয়েও আমাদের উপর হামলা করে।

আব্দুল বারেক আরও জানান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১২তম ব্যাচের সিফাত ও ইমরুল কায়েস শিশিরের নেতৃত্বে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের বাবু, ১৪তম ব্যাচের জয়, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের সোহান, ১৫তম ব্যাচের ফাহিম, দর্শন বিভাগের ১৫তম ব্যচের সৈকত আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কয়েকজন কর্মী নবীন শিক্ষার্থীদের দলে ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে সভাপতি গ্রুপের ১৫তম ব্যাচের একজনকে টিএসসিতে মারধর করে। পরে সভাপতি গ্রুপের সিনিয়র কয়েকজন এসে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের দুইজনকে মারধর করে। ঘটনার পর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে মালিটোলায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা মালিটোলায় সভাপতি গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া করলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

এ বিষয়ে জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আকতার হোসাইন বলেন, যারা মারামারি করেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। অনুপ্রবেশকারীরা ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার জন্য ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব কর্মকাণ্ড করছে। ক্যাম্পাসের বাইরে কেউ যদি কোনো ধরনের ঝামেলা করে সে দায়িত্ব তো আমরা নিব না।

জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম ফরাজি বলেন, এখানে ছাত্রলীগের মধ্যে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগকে বিতর্কিত করার জন্য অনুপ্রবেশ কারীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর হামলা করেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

আমার জীবনে একটা সাংঘাতিক কাহিনি আছে: বাপ্পারাজ

১৯৮৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চাপাডাঙ্গার বৌ’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে হাতেখড়ি নায়ক বাপ্পারাজের। প্রথম সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বুঝিয়ে দেন যে, নায়করাজের ছেলে তিনি। অভিনয় তার রক্তে।

১০০টিরও বেশি সিনেমা উপহার দিয়েছেন রাজ্জাকপুত্র, যার বেশিরভাগই ব্যবসা সফল।

কিন্তু কিংবদন্তি বাবার মতো একক নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি বাপ্পা। তবে ব্যর্থ প্রেমের সফল নায়ক হিসেবে নাম্বার ওয়ান তারকা তিনি।

বেশিরভাগ ছবিতেই তাকে ব্যর্থ প্রেমিকের ভূমিকায় দেখা গেছে। প্রেমিকাকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে মরে যেতে তাকে দেখা গেছে অনেক সিনেমায়। যে কারণে এ নায়ককে বাংলা সিনেমার ’ট্র্যাজিক হিরো’ বলা হয়।

গত ১১ মার্চ ছিল এ অভিনেতার জন্মদিন। সেদিন প্রসঙ্গটি টেনে সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন, সিনেমায় ব্যর্থ প্রেমিক বাস্তব জীবনে কি সফল হয়েছেন? নাকি সেলুলয়েডের ফিতার মতো বাস্তব জীবনেও প্রেমকে স্যাক্রিফাইস করেছেন?

সহাস্যে বাপ্পারাজ জানালেন, না, বাস্তব জীবনে সিনেমার মতোই প্রেম কাহিনি আছে তার। চুটিয়ে প্রেম করেই বিয়ে করেছেন তিনি এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও শতভাগ সফল হয়েছেন।

এ নায়ক বলেন, ‘আমি হাত ওপরে রাখতেই ভালোবাসি। হাত পাততে ভালোবাসি না। পাতব কেন? এটা আমার জীবনেও আছে, ছবিতেও আছে। বাস্তবে আমি সফল প্রেমিক। আমার জীবনে তো একটা সাংঘাতিক কাহিনি আছে। আমার প্রেমের কাহিনি তো কেউ জানেই না। বাস্তবে প্রেমের টানে তো প্রেমিকা বিদেশ থেকে চলে এসেছে। এরপর বিয়ে করেছি। তাই বলতে পারি, প্রেমের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল।’

সিনেমার প্রসঙ্গ টেনে এ নায়ক বলেন, ‘আমি ১০০ ছবির মধ্যে ১০–১৫টায় ব্যর্থ প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। বাকিগুলো তো নরমাল চরিত্র করেছি। এত ছবির মধ্যে ওই ১০–১৫টা যখন সবকিছু ছাপিয়ে গেছে, লোকে মনে করে, এই ব্যাটা বুঝি ওটাই—ওটাই তো একজন শিল্পীর সফলতা। বিষয়টি কোনো কষ্ট বা বেদনা নেই আমার। সেটা থাকারই বা কী আছে? ব্যর্থ প্রেমিক হয়েই তো আমি সফল। কজন অভিনেতা এমনটা পারে? আমি পেরেছি। সফল হয়েছি। ছবিতে হিরোকে টপকে গেছি, এটা আমার ক্রেডিট না?’

প্রসঙ্গত, এ পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি সিনেমা উপহার দিয়েছেন নায়ক বাপ্পারাজ, যার বেশিরভাগই ব্যবসা সফল। সিনেমায় এখন অনিয়মিত হলেও ইন্ডাস্টি ছেড়ে যাননি। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘চাঁপাডাঙার বউ’, ‘প্রেমশক্তি’, ‘বিদ্রোহী প্রেমিক’, ‘ঢাকা ৮৬’, ‘জ্বিনের বাদশা’, ‘প্রেমগীত’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘প্রেমের সমাধি, ‘বাবা কেন চাকর’ অন্যতম।

শুধু সানি লিওনিই নন, ঢাকায় এসেছেন আরেক বলিউড অভিনেত্রী

বাংলাদেশে এসেছেন বলিউডের ‘আইটেম গার্ল’ সানি লিওনি। বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজেই সে খবর নিশ্চিত করেন এ বলিউড তারকা।

বিষয়টি নিয়ে যখন দেশে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর তখন জানা গেল, শুধু সানিই নন; একই দিনে এসেছেন বলিউডের আরেক অভিনেত্রী নারগিস ফাখরি। ভারত থেকে বিশেষ এক ফ্লাইটে বিকাল ৪টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

ঢাকায় আসার পর সানি লিওন সোজা চলে যান গানবাংলা টিভির কার্যালয়ে। সেখানে তাকে বরণ করে নেন সংগীতশিল্পী ও গানবাংলার কর্ণধার কৌশিক হোসেন তাপস।

সেখানে একটু বিশ্রাম নিয়েই রাতে রাজধানীর তিনশ ফিট এলাকায় শেফ টেবিল কনভেনশন হলে তাপস-মুন্নির মেয়ের বিবাহপরবর্তী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হাজির হন সানি। সে অনুষ্ঠানের একাধিক ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেখানে সানি ও তার স্বামী ড্যানিয়েলের পাশে নারগিস ফাখরিকেও দেখা গেছে।

বাংলাদেশি শিল্পীদের মধ্যে তাপসের গাওয়া গানে প্রথমবার মডেলও হয়েছিলেন সানি লিওনি ও নারগিস ফাখরি। তখন থেকেই বলিউডের এ দুই তারকার সঙ্গে সখ্যতা তাপস-মুন্নির।

জানা গেছে, রোববার রাতে ঢাকার একটি নামি রেস্তোরাঁয় হবে তাপস-মুন্নির মেয়ের জমকালো এ বিয়ের আয়োজন। সেই অনুষ্ঠানে পারফরমও করবেন সানি লিওন ও নারগিস। আজই ভারতে ফিরে যাবেন তারা।

সাকিবের ‘না’ এখন ‘হ্যাঁ’

সাদা রঙের বিএমডব্লুতে এলেন সাকিব আল হাসান। তার পরনে কালো শার্ট। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান নামলেন সাদা রঙের গাড়ি থেকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুজন কি তাহলে শান্তির বার্তা নিয়ে এলেন? সাংবাদিকদের মধ্যে গুঞ্জন। বার্তাটা কী? সাকিব যা বলবেন, বিসিবি তা বিনা বাক্যে মেনে নেবে! বৃহস্পতিবার দুবাই থেকে ফেরার পর একদফা বৈঠক হয়েছে।

শুক্রবার ফোনে কথা হলো। শনিবার মিরপুরে বিসিবির কার্যালয়ে পরিচালকদের নিয়ে বসলেন নাজমুল হাসান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে সাকিবের ‘না’ হয়ে গেল ‘হ্যাঁ’। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবেন। সেটি আজ রাতে-হঠাৎ সিদ্ধান্তবদল। যেন বরযাত্রী রওয়ানা হওয়ার পর বর যাচ্ছেন। অনিশ্চয়তা, নাটক, সংলাপের মধ্যে বাংলাদেশ দল ছাপিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে আলোচনায় সাকিব। শেষতক মানসিক ও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলো। তিন দিনের মধ্যে তাই সিদ্ধান্তবদল।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ দলের সব ক্রিকেটার ও কোচ চলে গেছেন তিন ভাগে ভাগ হয়ে। সাকিব আজ রাতে উড়াল দেবেন। তার সঙ্গে বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজার, চিকিৎসকসহ তিনজন সঙ্গী হবেন। তিন ফরম্যাটেই খেলা চালিয়ে যাবেন সাকিব।

কাল দুপুরে ঘণ্টাখানেকের বৈঠকের পর সাকিব ও নাজমুল হাসান একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে আসেন। সাকিব প্রথমে জানান, তিনি যাচ্ছেন। এরপর বিসিবি সভাপতি জানান, তিন সংস্করণেই খেলা চালিয়ে যেতে চান সাকিব, সেটির শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে। সাকিব, নাকি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আগে? এখন বলতে পারেন, সাকিব। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেন, তার বাইরে হয় না কিছুই। বিসিবি কড়া মনোভাব দেখিয়ে সুর নরম করে মেনে নিচ্ছে তার কথা। সরাসরি না বললেও পরোক্ষভাবে বিসিবি জানিয়ে রাখল, বিমানে ওঠার আগেও যদি সাকিব না যেতে চান, সেটাও খারাপ কিছু না! এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে তিনি যদি সিরিজের কোনো ম্যাচ খেলতে না চান, সেটিও মেনে নেবে বিসিবি। এক খেলোয়াড়ের জন্য ছাড়ের ছড়াছড়ি।

ছুটি নিয়েও এবার যেতে রাজি হলেও এর আগে তিনবার সিরিজের আগে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন সাকিব। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি প্রথমে বলেন, ‘সাকিবের সঙ্গে পুরো বছরের প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত। সেটা সাকিবের মুখ থেকেই শুনুন।’ সাকিব বলেন, ‘পাপন ভাইয়ের (নাজমুল হাসান) সঙ্গে গত পরশু কথা হয়েছিল। গতকালও (শুক্রবার) কথা হয়েছে, আজ (শনিবার) বোর্ডে আলোচনা হলো। পুরো বছরের পরিকল্পনা আমরা করতে পেরেছি। বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তিন ফরম্যাটেই আছি। এই তিন ফরম্যাটেই পুরোটা সময় আমাকে পাওয়া যাবে। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে, কোন সময় আমাকে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি কিংবা নেওয়া দরকার, বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নেবে, যার শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে আমাকে পাওয়া যাবে।’

বোর্ডের ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখানো সাকিবের জন্য এটাই প্রথম নয়।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর অনেক চাপ। আমাদের এ বছর ১৪টা ওয়ানডে, ১৫টি টি ২০, আটটি টেস্ট আছে। খেলোয়াড়দের মাঝেমধ্যে বিরতি দরকার। কিন্তু সিরিজের আগ মুহূর্তে বললে আমাদের জন্য বিরাট সমস্যা।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের পর বিসিবি সভাপতি জানিয়েছিলেন, সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকা যাচ্ছেন। এরপর দল ঘোষণার পর দুবাইয়ে গিয়ে সাকিব জানান, তিনি শারীরিক ও মানিসকভাবে খেলার মতো অবস্থায় নেই। ছুটি দরকার। বিসিবি দুদিন সময় নেয়। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ঘোষণা করেন, সাকিবকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত-তিনি যাচ্ছেন। নাজমুল হাসান বলেন, ‘সাকিব জানিয়েছিল সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের সবারই কোনো না কোনো সময় এরকমটা হয়। আপনারা এজন্য অনেক কারণ বের করে নিচ্ছেন। সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, এজন্যই সিদ্ধান্ত নিতে একটু সমস্যা হয়েছে। সাকিব সেটা বলেছেও।’ দুবাই থেকে ফিরে সাকিব বিসিবি সভাপতিকে জানান, তিনি খেলতে চান। বিসিবি সভাপতি আবারও দুদিন সময় নিয়েছেন। সিনিয়র ক্রিকেটারদের পক্ষ নিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘দু-একটা সিরিজ যদি কেউ না খেলে, তাতে এত হুলস্থুলের কিছু নেই। বোর্ডও তো কোনো সিরিজের জন্য কাউকে বাদও দিতে পারে। এটা আপনারা খেলোয়াড়ি মনোভাব হিসাবে নিন। এখন আমাদের সবারই উচিত সাকিবকে সমর্থন করা। যেসব আলোচনা, টকশো হচ্ছে, এগুলো কারও জন্যই ভালো না। আমরা সব সময় ওদের পাশে আছি এবং থাকব।’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে যদি সাকিব কোনো ম্যাচে বিশ্রাম নিতে চায়, নিতেই পারে। আমি চাই এই বিতর্কের এখানেই অবসান হোক। আমাদের সঙ্গে কোনো খেলোয়াড়ের সমস্যা নেই।’ সাকিব দলে যোগ দিলে সবার উৎসাহ বেড়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে ক্রিকেটপাড়ায় ফিসফাঁস, আজ যদি দক্ষিণ আফ্রিকার বিমানে না উঠে সাকিব অবারও মানসিক অবসাদকে সামনে নিয়ে আসেন, তখন বিসিবি কী করবে।

লিভারপুলের ২০০০ গোল

দুই লেগ মিলে উতরে গেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি ম্যাচে ইন্টার মিলানের কাছে ১-০ গোলের হার লিভারপুলের অহমে আঘাত হেনেছিল। ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগল না অলরেডদের।

শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনকে ২-০ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ম্যানসিটির সঙ্গে ব্যবধান তিন পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে লিভারপুল। ২৮ ম্যাচ শেষে সিটি ও লিভারপুলের সংগ্রহ যথাক্রমে ৬৯ ও ৬৬ পয়েন্ট। কাল ব্রাইটনের মাঠে ১৯ মিনিটে হেডে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন কলম্বিয়ান উইঙ্গার লুইস দিয়াজ।

৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিসরীয় ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এটি লিভারপুলের ২০০০ তম গোল। আগেরদিন লা লিগায় কাদিজকে ২-১ গোলে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে উঠে এসেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।