রবিবার ,১৬ আগ, ২০২৬
sbacbank
Home Blog Page 414

যেসব কারণে দেরিতে বয়োসন্ধি হয়, কী করবেন?

বালক-বালিকাদের ক্ষেত্রে বয়োসন্ধি একটি অনিবার্য বাস্তবতা। সবাইকে এই স্টেজ পার হতে হয়। এই সময়টায় সন্তানদের প্রতি আলাদা নজর দিতে হয়। তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হয়। তাদের সঙ্গে মিশতে হয়।

বয়োসন্ধিকালে শিশুদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। হরমোনের নানা পরিবর্তনের কারণে শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়।

সাধারণত ১১-১৪ বছর বয়সের মধ্যে বয়োসন্ধি হয়ে থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে দেরিতেও বয়োসন্ধি হয়ে থাকে।

কোনো বালকের যদি ১৪ বছর বয়সেও অণ্ডকোষের আয়তন ৪ মিলিমিটারের বেশি না হয়, অথবা অণ্ডকোষের অনুপস্থিত থাকে; কোনো বালিকার ১৩ বছর বয়সেও যদি স্তন বৃদ্ধিপ্রাপ্ত না হয় এবং উভয়ের ক্ষেত্রে বয়োসন্ধিকালীন পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে, তা হলে বালকের ক্ষেত্রে ১৪ বছরের পর এবং বালিকার ক্ষেত্রে ১৩ বছর পর বিলম্বিত বয়োসন্ধি বলা হবে। এ সময়ের মধ্যেই ৯৫ শতাংশ বালক-বালিকার যৌবনপ্রাপ্তি সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক এবং হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাদা সেলিম।

প্রাইমারি হায়পারগোনাডোট্রপিক হায়পোগোনাডিজম: অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়ের সমস্যার মূল কারণ।

এ ক্ষেত্রে গোনাড (অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়) প্রয়োজনীয় যৌন হরমোন তৈরিতে ব্যর্থ হয়। এর পেছনে ক্রমোজোমাল ত্রুটি (টার্নার সিনড্রোম, ক্লিনেফিল্টার সিনড্রোম ইত্যাদি)-এর সমস্যা থাকতে পারে। টেস্টোস্টেরন হরমোনের ত্রুটিও থাকতে পারে। খুব কম করে হলেও, কিছু বালক-বালিকার গোনাড ঠিকমতো তৈরিই হয় না। শৈশবে কোনো বালক যদি অণ্ডকোষে বড় ধরনের কোনো আঘাত পায় বা অণ্ডকোষটি ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে তা হলেও যৌবনপ্রাপ্তি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

শৈশবে ছেলেদের অণ্ডকোষের প্রদাহ বা মেয়েদের ডিম্বাশয়ের প্রদাহ যৌবনপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ক্যান্সার কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি অনুরূপ সমস্যা তৈরি করতে পারে।
থ্যালাসেমিয়া বা অন্য কোনো কারণে যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয়, তাদের গোনাডে অতিরিক্ত আয়রন জমে এর কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। এর পরেও কিছু কিছু কারণ অজানা থেকে যায়।

হায়পোগোনাডোট্রপিক হায়পোগোনাডিজম : হায়পোথ্যালামাস বা পিটুইটারিতে প্রধান সমস্যাটি থাকে।

সাময়িক বা কিছু মাস বা বছরের জন্য এ ঘটনা বিরাজ করতে পারে। এর মধ্যে পারিবারিক বা বংশধারা একটি প্রভাব প্রকটভাবে বিরাজ করতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে অপুষ্টিজনিত দৈহিক বৃদ্ধিহীনতাও এর একটি কারণ হতে পারে।

তা ছাড়া বাড়ন্ত বয়সে অসংক্রামক রোগ ও দীর্ঘস্থায়ী সংক্রামক রোগের কারণেও এ রকম সমস্যা হতে পারে। শৈশবকালে মাত্রাতিরিক্ত শারীরিক শ্রম বা ব্যায়াম করলে বিলম্বিত বয়োসন্ধি হতে পারে।

এ সমস্যাটি স্থায়ীও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রজনন হরমোনের ঘাটতি প্রধান কারণ। কলমেন সিনড্রোম, প্র্যাডার উইলি সিনড্রোম, প্যানহায়পো পিটুইটারিজম ইত্যাদি। আবার কুসিং সিনড্রোমও কারও কারও থাকতে পারে।

বিলম্বিত বয়োসন্ধিকালে বালক-বালিকারা প্রধানত তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে হরমোন বিশেষজ্ঞ বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে হাজির হন। অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের যৌবনপ্রাপ্তি না হওয়ায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হন এবং চিকিৎসককে তা জানান।
এ ছেলেমেয়েদের অধিকাংশেরই দৈহিক উচ্চতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে অনেক কম থাকে। রোগী নিজে বা অভিভাবকরা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো সমস্যা উপস্থাপন নাও করতে পারেন; বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে।

তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে শারীরিক অন্যান্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঋতুস্রাব শুরু না হওয়াটা নজরে পড়তে পারে। বালক-বালিকা উভয়ের ক্ষেত্রে বয়োসন্ধিকালে প্রবেশে সব পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে। ছেলেদের দাড়ি-গোঁফ গজায় না, দৈহিক গঠনের পুরুষালি ভাব হয় না, লিঙ্গের আকার ছোট থাকে, লোম ও ঘামের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনও অনুপস্থিত থাকে। অণ্ডকোষ মাপলে ৪ মিলিমিটারের কম পাওয়া যায়।
বালিকাদের ক্ষেত্রেও স্তনের বৃদ্ধি হয় না, দেহের নারীসুলভ অন্যান্য পরিবর্তন অনুপস্থিত থাকে, যেমন— নিতম্বের আকার পরিবর্তন, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন ইত্যাদি। উভয় ক্ষেত্রেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণের ঘাটতি থাকবে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
প্রথমেই বর্তমানে বালক বা বালিকাটির দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছে কিনা, সেটি নিশ্চিত হতে হবে। এ ধরনের রোগ অনেক থেকেই বালক বা বালিকাটির দেহে বসবাসে সম্ভাবনা আছে। এর পর পরিবারের অন্য সদস্যদের বিশেষ করে বাবা বা ভাইয়ের দৈহিক বৃদ্ধির সঙ্গে সমন্বয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরিকল্পনা শুরু করতে হবে। বয়োসন্ধিকালের লক্ষণগুলোর অনুপস্থিতি পরিমাপের জন্য পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত পদ্ধতি হলো— ট্যানার স্ট্যাজিং (Tanner Staging)। বালক বা বালিকার দৈহিক উচ্চতার পরিমাপ অবশ্যই নিতে হবে। রক্তের গ্রোথ হরমোন মাপলে অনেক সময় কম পাওয়া যেতে পারে; গ্লুকোকর্টিকয়েড মাপলে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। দেহের ওপর ও নিচের অংশের অনুপাতও জেনে নিতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রক্তের টেস্টোস্টেরন (ছেলেদের জন্য), এলএইচ, এফএসএইচ, ইস্ট্রোজেন ইত্যাদির মাত্রা দেখে নিতে হবে (সকালবেলার নমুনায়)।

অধিকাংশ বিলম্বিত বয়োসন্ধির বালক-বালিকাদের ধীরগতিতে দৈহিক বৃদ্ধি হয় এবং তা একটু দেরিতে হলেও অনেকটা স্বাভাবিকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ঘটনা বেশি ঘটে।

টার্নার সিনড্রোমের বাচ্চারা অন্য অনেক লক্ষণের সঙ্গে বেঁটে আকার নিয়ে উপস্থিত হবে। ক্লিনেফিল্টারে বাচ্চারা লম্বা আকৃতির হবে। ক্যারিও টাইপিং করে খুব সহজেই ক্রমজোমালের ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
চিকিৎসা

রোগ শনাক্ত করে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। পারিবারিক ধীরগতির বৃদ্ধি সংবলিত ছেলেমেয়েদের একটু পরে হলেও বয়োসন্ধিকাল অতিক্রম করার বা যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। দীর্ঘস্থায়ী রোগ যাদের আছে, তাদের ক্ষেত্রেও যথপোযুক্ত চিকিৎসায় যৌবনপ্রাপ্তির সহায়ক হবে। কিন্তু ক্রমোজোমাল ত্রুটি থাকলে, সে ক্ষেত্রে ফল খুব আশাব্যঞ্জক হবে না। তাদের জন্য সাপোর্টিভ বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা নিতে হবে।

একাদশে ভর্তিতে পঞ্চম ধাপের আবেদন শুরু

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পঞ্চম ধাপে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড।

মঙ্গলবার থেকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আবেদন শুরু হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ রাত ৮টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে ১৭ মার্চ ভর্তির সার্ভার বন্ধ থাকবে।

এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, যেসব শিক্ষার্থী আবেদন করেও চতুর্থ ধাপে ভর্তির সুযোগ পায়নি, পঞ্চম ধাপে আজ থেকে তাদের অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে।

এর আগে গত ১ মার্চ একাদশে ভর্তির চতুর্থ ধাপের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়। এই ধাপে ভর্তির জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪৪ জন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু কাল

শিক্ষায় ‘নিউ-নরমাল’ অবস্থায় ফিরছে বাংলাদেশ। করোনার ছোবলে বিগত দুই বছরে দু’দফায় ৫৭২ দিন বন্ধ ছিল দেশের শিক্ষাঙ্গন।

এই সময়ে কেউ অনলাইনে ক্লাস করেছে। কেউ দূরশিক্ষণ বা আপৎকালীন পাঠদানের বিশেষ পন্থায় লেখাপড়া করেছে। আবার কেউ শিক্ষকের সান্নিধ্যই পায়নি। তবে এবার করোনার ভয়কে জয় করে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হচ্ছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। ফলে দুই বছর পর পুরোপুরি আগের রূপে ফিরছে দেশের শিক্ষাঙ্গন।

করোনার আগের স্বাভাবিক কার্যক্রম নতুন করে আগের মতোই শুরু করতে পারার নাম ‘নিউ-নরমাল’ অবস্থা। শিক্ষা বাদে আর সবক্ষেত্রেই এতদিন স্বাভাবিকের মতোই চলে আসছিল।

কিন্তু জানুয়ারিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ শিক্ষাঙ্গনকে পিছিয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে ২১ জানুয়ারি স্কুল-কলেজ বন্ধ করতে হয়েছে। পরে করোনার সংক্রমণের হার নিম্ন হলে ২২ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক আর ২ মার্চ থেকে প্রাথমিক স্তরের আংশিক ক্লাস চলছিল। প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস বন্ধ ছিল।

মঙ্গলবার প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা যেমন ক্লাসে যাবে, তেমনই প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা (২০২০ সালের ১৭ মার্চের আগের সময়ের মতো) পুরা ক্লাস করবে। এর আগে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের মতো দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল। তখন প্রথমে ১৫ দিনের জন্য বন্ধ করা হলেও তা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে ৫৪১ দিনে গড়ায়।

করোনাকালের এই দীর্ঘ বন্ধে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া অনেকটাই অনিয়মিত হয়ে পড়ে। কেবল বার্ষিক পরীক্ষাই নয়, এসএসসি-এইচএসসির মতো পরীক্ষায় ছাত্রছাত্রীরা ‘অটোপাশ’ বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষায় পদোন্নতি পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের এই ফাঁকে হয়েছে অনেক শিখন ঘাটতি। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহল। শিক্ষাজীবন রক্ষায় ইউনিসেফ, ইউনেস্কোর মতো সংস্থা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে বারবার আহ্বান জানিয়ে আসছিল।

শিক্ষাজীবন রক্ষায় পরে আংশিকভাবে খোলাও হয়। এরই মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটেছে। কয়েকদিন ধরে করোনার সংক্রমণ ২ শতাংশের নিচে আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ ইতোমধ্যে ‘প্যান্ডেমিকের’ পরিবর্তে ‘এন্ডেমিকে’ (সাধারণ জ্বর-সর্দি) পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ‘নিউ-নরমাল’ অবস্থায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতারণার মামলা থেকে মুক্তি পেলেন শিল্পা ও তার বোন

প্রতারণার মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেঠি ও তার বোন শমিতা। তবে একই অভিযোগে তাদের মা সুনন্দা এখনও মুক্তি পাননি।

সোমবার শিল্পা ও তার বোন শমিতার নামে করা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন মুম্বাই আদালত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার মুম্বাই সেশন কোর্ট শিল্পা ও শমিতাকে মুক্তি দেন। তবে সুনন্দার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের শুনানি নিম্নআদালতে নিয়মমাফিক চলবে।

২০২১ সালে সুনন্দা এবং তার স্বামী সুরেন্দ্রর কোম্পানির বিরুদ্ধে ঋণ নিয়ে অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগ এক ব্যক্তি মামলা করেন।

আদালত জানান, কোম্পানিটির অংশীদার হিসাবে তাদের নাম থাকলেও অভিযোগের সপক্ষে কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যাতে এ দুই বোনও ওই কোম্পানির অংশীদার। সে জন্য শিল্পা ও শমিতাকে মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে পর্নোগ্রাফি তৈরি এবং অ্যাপের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রা। সেই সময় আইনি ঝামেলায় পড়তে হয় শিল্পাকেও। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকবার পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বিটিভিতে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ধারণ করা হয়েছে কবিতা আবৃত্তির বিশেষ অনুষ্ঠান ‘কবিতায় বঙ্গবন্ধু’।

একুশে পদকপ্রাপ্ত আবৃত্তি শিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত প্রথিতযশা কবিদের কবিতা আবৃত্তি করেছেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, গোলাম সারোয়ার, দেওয়ান সাইদুল হাসান, ড. নিমাই মণ্ডল, আহসানউল্লাহ তমাল, মাসকুর এ সাত্তার কল্লোল, মীর মাসরুর জামান রনি, কাজী মাহতাব সুমন, নাসিমা খানম বকুল ও মম জুয়েল।

সাদিকুল ইসলাম নিয়োগী পন্নীর প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি ১৭ মার্চ বিটিভির অনুষ্ঠান মালায় প্রচার করা হবে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে উইন্ডিজকে পেছনে ফেলল বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই টেস্টে ধীরগতির ওভার রেটের কারণে শাস্তি পেয়েছেন ক্যারিবিয়ানরা।

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিল থেকে তাদের দুই পয়েন্ট কেটে নিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

ক্যারিবিয়ানরা দুই পয়েন্ট হারানোর ফলে পয়েন্ট টেবিলেও বাংলাদেশের নিচে নেমে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মোট ১৪ পয়েন্ট ও শতকরা ২৩.৩৩ পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান এখন আট নম্বরে।

ক্যারিবিয়ানদের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও শতকরা পয়েন্টে (২৫.০০) এগিয়ে থেকে সাত নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পয়েন্ট শতকরা ৭৭.৭৭। দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান এবং তৃতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত আছে টেবিলের চারে। পাঁচে শ্রীলংকা আর ছয় নম্বরে আছে বর্তমান টেস্ট চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। শতকরা ১১.৬৭ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে আছেন ইংলিশরা।

আশরাফুল এখনো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখেন

প্রায় ৯ বছর হলো জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ৩৭ বছর বয়সী সাবেক এই অধিনায়ক এখনো স্বপ্ন দেখেন জাতীয় দলে খেলার।

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা লিগের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল বলেন, সবার জন্যই প্রিমিয়ার লিগ গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেহেতু এখনো খেলছি এবং স্বপ্ন দেখি বাংলাদেশ দলে খেলব। সেদিক থেকে এই লিগটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার জন্য। যদি আরও দুই-তিন বছর আমার ক্যারিয়ারটা ক্যারি করতে চাই, আমার মনে হয় এই লিগে আমার ভালো কিছু করা উচিত।

কোন সংস্করণে দেশের হয়ে খেলতে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে আশরাফুল বলেন, স্বপ্ন তো দেখি সব সংস্করণেই খেলার। কিন্তু এখন যেহেতু সামনে ঢাকা লিগ, ঢাকা লিগ নিয়েই আমি থাকতে চাই। এ জায়গায় ভালো খেলতে চাই, ব্রাদার্সের হয়ে ভালো খেলতে চাই। কিছু কিছু ভালো ইনিংস খেলতে চাই, ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলতে চাই।

২০১৩ সালের মে মাসে সবশেষ দেশের হয়ে খেলেছিলেন আশরাফুল। এরপর ফিক্সিংয়ের দায়ে ৫ বছরের জন্য হন নিষিদ্ধ। শাস্তি কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরলেও জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মতো তেমন কিছু করতে পারেননি তিনি।

আশরাফুল বাংলাদেশ দলের হয়ে ৬১ টেস্টে ছয় সেঞ্চুরি আর আট ফিফটির সাহায্যে ২৪ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৭৩৭ রান। ১৭৭ ওয়ানডেতে তিন সেঞ্চুরি আর ২০ ফিফটির সাহায্যে ২২.২৩ গড়ে আশরাফুল করেন ৩ হাজার ৪৬৮ রান।

আর ২৩ টি-টোয়েন্টিতে দুই ফিফটির সাহায্যে ১৯.৫৬ গড়ে ৪৫০ রান করেন আশরাফুল।

কিশোর চালককে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় কিশোর চালককে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেছে ছিনতাইকারী চক্র।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ডোমরাকান্দি গ্রামসংলগ্ন মেঘনা পার্ক কফি হাউসের পাশে জমি থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শরিফুল (১৪) পার্শ্ববর্তী তেজখালী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের এরশাদ মিয়ার ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, সোমবার সারা দিন অটোরিকশা চালায় শরিফুল। রাত ৮টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তার খোঁজ করেন। পরে ডোমরাকান্দি গ্রামসংলগ্ন মেঘনা পার্ক কফি হাউসের পাশে জমি থেকে তার লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

কিস্তিতে অটোরিকশাটি কিনে একমাত্র ছেলে শরিফুল সেটি চালিয়ে সংসার চালাতেন। ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি রাজু আহমেদ বলেন, ছিনতাইকারী চক্রটি ধরতে আমদের অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘেরে মিলল ৫ কোটি টাকার আইস

কক্সবাজারে টেকনাফ উপজেলায় মৎস্য ঘের এলাকা থেকে এক কেজি ৭৬ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ কোটি ৩৮ লাখ বলে জানিয়েছে বিজিবি।

মঙ্গলবার ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের জিম্বংখালী বিওপির দক্ষিণে নুরুল কবিরের মৎস্যঘের থেকে ওই আইস জব্দ করা হয়। তবে ওই অভিযানে কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।

দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার।

তিনি জানান, গোপন খবর পেয়ে রাতে জিম্বংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা হতে দক্ষিণে নুরুল কবিরের মৎস্য ঘেরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সেখানে তল্লাশি করে এক কেজি ৭৬ গ্রাম আইস জব্দ করা হয়।

অনেক অবস্থানের পরে মালিক নুর কবিরকে না পেয়ে তাকে পলাতক আসামি করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ভ্যাট তুললেও রোজায় মিলবে না সুফল

সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন ও বাজারজাত পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ-সংক্রান্ত এসআরও জারি করে। এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভোজ্যতেলের ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম ১৩৩ ও ১৬৮ টাকার চেয়ে লিটারপ্রতি দুই-তিন টাকা কমতে পারে। এদিকে নিত্যপণ্যের দ্রুত এলসি খুলতে সরকারি ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী ডলারের জোগান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১০ মার্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিত্যপণ্য আমদানিতে এলসি মার্জিন প্রত্যাহার করে। একই সঙ্গে এলসি কমিশনও সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। এর প্রভাবে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পণ্যের দাম কমাতে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ছাড়ের সুবিধা ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে তদারকি বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে বন্দর থেকে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পণ্যমূল্য তদারকিতে সরকার ট্রাস্কফোর্স গঠন ও আদালত সয়াবিন তেল নিয়ে কারসাজি ভেঙে দেওয়ার কথা বলেছেন।

করোনার পর আসন্ন রমজান ঘিরে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। সব ধরনের পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম।

প্রায় প্রতিবছরই রোজায় এ পণ্যের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। ফলে ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এবার পণ্যের দাম কমাতে সরকার থেকে নানামুখী ছাড় ও পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এখনো কমতে শুরু করেনি। তবে পেঁয়াজের দাম সামান্য কমেছে।

এ অবস্থায় সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ছাড়ের সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিন মাস আগে থেকেই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। সরকার আগে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, এমন কথা বলছেন অনেকেই।

তাদের মতে, রোজা শুরুর মাত্র ১৭ দিন আগে সয়াবিন তেলের উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০ দিন আগে এলসি মার্জিন প্রত্যাহার ও এলসি কমিশন কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ সুবিধায় সয়াবিন ও পাম তেল বাজারে আসার আগেই রমজান প্রায় শেষ হয়ে যাবে। কারণ ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে আমদানি করা অপরিশোধিত সয়াবিন তেল কারখানায় পরিশোধন শেষে ডিলার, পাইকারি বাজার ও বিভিন্ন হাত ঘুরে খোলাবাজারে আসতে ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। কাজেই সোমবার যে ভ্যাট প্রত্যাহার হলো তার বিপরীতে তেল বাজারে আসতে এপ্রিল মাসের শেষ দিক চলে আসবে। অর্থাৎ রোজা প্রায় শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে বাজারে যে সয়াবিন তেল রয়েছে সেগুলো ব্যবসায়ীরা আগের দামেই বিক্রি করছে। ভ্যাট কমানোর ফলে নতুন তেল আসতে আরও যে সময় লাগছে এর আগে দাম কমার সম্ভাবনা নেই। সয়াবিন ও পাম তেল আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

উৎপাদন পর্যায়ে যে মূল্য সংযোজন হয় তার ওপর ১৫ শতাংশ এবং উৎপাদনের পর বাজারজাত করলে যে মূল্য সংযোজন হয় তার ওপর ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপিত রয়েছে। এই দুই পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করে সোমবার এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এ সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত মিলবে। কোম্পানিগুলোর মতে, প্রতি লিটারে ২ থেকে ৩ টাকা দাম কমতে পারে। তবে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করলে দাম আরও বেশি কমত বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা যুগান্তরকে বলেন, ভোজ্যতেলের দাম পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করে না। এটি ট্যারিফ কমিশন নির্ধারণ করে দেয়। উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের ফলে বাজারে দাম কেমন হবে তা তারাই ভালো বলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, প্রতি লিটার ভোজ্যতেলে ২৭-২৮ টাকা ভ্যাট দিতে হয়। এর মধ্যে আমদানি পর্যায়েই ২০ টাকা দিতে হয়। বাকিটা উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করলে বাজারে তেলের দাম আরও কমত বলে মনে করেন তিনি।

একই কথা জানিয়ে মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের কারণে বাজারে তেলের দাম কমবে বলে যে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা পুরোপুরি সঠিক নয়।

এক লিটার সয়াবিন তেলে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ১ থেকে দেড় টাকা, যা একেবারেই সামান্য। প্রকৃতপক্ষে আমদানি পর্যায়ে বেশি ভ্যাট দিতে হয়। আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করা না হলে বাজারে প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে না।

এদিকে সরকারি ব্যাংকগুলো কম দামে ডলারের জোগান দিলে, মার্জিন ছাড়া এলসি এবং কমিশন কম নিয়ে যেসব এলসি এখন খোলা হবে, সেগুলোর পণ্য দেশে আসতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

এগুলো বন্দর থেকে খালাস হয়ে কোম্পানিতে যেতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। এ ছাড়া এগুলো উৎপাদন হয়ে বাজারে আসতে আরও ৩৫ থেকে ৪০ দিন সময় লাগবে। সবমিলে এ খাতে ৪ থেকে ৫ মাসের প্রয়োজন।

তবে এর মধ্যে যদি পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করেন, সেগুলোও দেশে আসতে কমপক্ষে ২ মাস সময় লাগবে। সেগুলো বাজারে আসতে আরও কমপক্ষে এক মাস লাগতে পারে। ফলে সয়াবিনের ক্ষেত্রে যেসব ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সুবিধা রোজার মধ্যে পাওয়া কঠিন।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর যুগান্তরকে বলেন, ভোজ্যতেলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা ভোক্তা পর্যায়ে পেতে আরও ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ লাগবে।

সুবিধা পেতে রোজার অর্ধেকের বেশি সময় চলে যাবে। এ সিদ্ধান্ত আরও আগে নেওয়া দরকার ছিল। এতে রাজস্ব আয়ে কিছুটা ক্ষতি হবে। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে সেখান থেকে এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।

এখন পর্যন্ত ভ্যাট প্রত্যাহারের পর ব্যবসায়ীরা মূল্য না কমালে ফোর্স করে কমাতে হবে। ভ্যাট প্রত্যাহারের সুবিধা অবশ্যই ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছতে হবে। এর পরও যদি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্য যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে।

সূত্র জানায়, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, মসলাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ডলার, এলসি মার্জিন ও কমিশনে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে রোজায় সুবিধা পাওয়া কঠিন। তবে পেঁয়াজের দাম কমছে দেশি পেঁয়াজ বাজারে চলে আসার কারণে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন ও বিপণন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করায় কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, ভ্যাট প্রত্যাহারের এ সুবিধা ভোক্তারা পাবে কি না? এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ভোক্তার জন্য সরকারের দেওয়া বিশেষ ছাড়ের সুবিধা যাতে তারা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে তদারকি আরও বাড়ানো হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়ায় ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সরকার প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন ১৬৮ টাকা, খোলা তেল ১৪৩ টাকা ও পামওয়েল ১৩৩ নির্ধারণ করেছে।

এরপর ব্যবসায়ীরা প্রতি লিটারে আরও ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করলে তা নাকচ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও হয়ে যায়।

দামও বেড়ে প্রতি লিটার ২০০ টাকায় ওঠে। এরপর থেকে প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তর অভিযান শুরু করলে দাম বৃদ্ধি রোধ হয়েছে। কিন্তু এখনো বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গত রোববার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি দ্রুত খোলা এবং এগুলো দ্রুত বিদেশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠানোর জন্য।

একই সঙ্গে সরকারি ব্যাংকগুলোয় বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে ডলারের দাম কম। এ কারণে সরকারি ব্যাংকে নিত্যপণ্যের এলসি খুলতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করার জন্য বলা হয়েছে।

সরকারি ব্যাংকগুলোয় এলসি খোলার জন্য ডলারের দাম ৮৬ টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোয় ৮৭ থেকে ৮৮ টাকা। অন্যান্য ফি ও চার্জও সরকারি ব্যাংকে কম।